নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্বঘোষিত দার্শনিক

সাড়ে চুয়াত্তর

আমার লেখার মাঝে আমার পরিচয় পাবেন

সাড়ে চুয়াত্তর › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিছু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও ডাক্তার যে খারাপ কাজ গুলি করে - বুঝে বা না বুঝে

১৬ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:১৮


ডাক্তারি পেশা একটি অত্যন্ত সম্মানিত পেশা। কিন্তু অনেক ভালো ডাক্তারদের ভীরে গুটি কয়েক খারাপ ডাক্তারের কারণে অনেক সময় এই পেশার দুর্নাম হয়। এছাড়া কিছু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনেক বেআইনি ও অনৈতিক কাজ করছে। সারা বিশ্বেই কম বেশী এই সমস্যাগুলি আছে। কিন্তু বাংলাদেশে মনে হয় দুর্নীতি ও নজরদারির অভাবে বেশী হচ্ছে। Encyclopedia of World Problems and
Human Potential এর তথ্যের উপর ভিত্তি করে আমি নীচের লেখাটি লিখেছি। ব্লগাররা আলোচনার জন্য আমন্ত্রিত।

১। অতিরিক্ত ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখাঃ
অতিরিক্ত ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখা সারা বিশ্বে একটি বিশাল জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক ওষুধের মিথস্ক্রিয়া ওষুধের কার্যকারিতা কমাতে পারে এমনকি স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ওষুধ কম্পানির চাপ , রোগীর প্রত্যাশা, ওষুধটার প্রতি ডাক্তারের অপ্রয়োজনীয় ভালো ধারণা ইত্যাদি কারণে ডাক্তাররা অনেক সময় অতিরিক্ত ওষুধ দিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন যে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিতে ৪.২৫ বিলিয়ন প্রেসক্রিপশনের (গড়ে প্রতিটিতে ৩০ টি বড়ি) বিপরীতে ওষুধ বিক্রি হয়েছে। এর অর্থ হ'ল আমেরিকানরা বার্ষিক প্রায় ১২৭ বিলিয়ন পিল খায়। কেউ কেউ একদিনে কয়েক মুঠো বড়ি গিলে খায়, বয়স্কদের মধ্যে এটি আরও বেশি বোঝা যায়: বয়স্কদের ৪০% দিনে পাঁচ বা ততোধিক ওষুধ গ্রহণ করে যা গত দুই দশকে ৩০০% শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বয়স্কদের প্রায় ২০% দিনে দশটি ওষুধ গ্রহণ করে।
অনুমান করা হয় যে আমেরিকার রোগীরা যা ওষুধ খায় তার মাত্র ৫০% চিকিত্সাগতভাবে ন্যায়সঙ্গত। চিকিত্সকরা সর্দির রোগীদের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক লিখে থাকেন যদিও তারা জানেন যে এগুলি সাধারণ সর্দিগুলির বিরুদ্ধে অকার্যকর। এই ধরণের অতিরিক্ত ওষুধ বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং নতুন রোগের মহামারী তৈরি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এধরণের ওষুধসৃষ্ট রোগের দ্বারা মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি বছর ৩০,০০০ থেকে ১৩০,০০০ এর মধ্যে অনুমান করা হয়। অনুমান করা হয় যে ড্রাগ Resistance এর কারণে ব্যাকটিরিয়ার দ্বারা বছরে প্রায় ১ লাখ রোগীর মৃত্যু হয়। কিছু রোগ সনাক্ত করা হচ্ছে যা ২০ বা ৩০ বছর আগের চিকিৎসা জনিত কারণে ( অতিরিক্ত ওষুধ সৃষ্ট) সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি রোগীর মায়ের চিকিত্সার কারণে বাচ্চা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০ বছর আগে গর্ভাবস্থায় যদি তার মায়ের diethylstilbestrol দ্বারা চিকিত্সা করা হয়ে থাকে তবে সন্তানেরও (মহিলা) জরায়ুর ক্যান্সার হতে পারে।
২। সার্জিকাল ভুলঃ
সার্জন এবং anaesthetists দের দ্বারা অপারেটিং থিয়েটারের ত্রুটির ফলে যুক্তরাজ্যে বছরে কমপক্ষে ১০০০ রোগী মারা যায়। অপারেশনের সময় ভুল বা অপারেশনের আগের প্রস্তুতির ভুলের জন্য সাধারণত এরকম ঘটে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, সিনিয়র সার্জনের তদারকি ছাড়াই জুনিয়র ডাক্তার কর্তৃক অপারেশন করা বা জুনিয়র চিকিৎসক কর্তৃক তার বিশেষত্বের বাইরে অস্ত্রোপচার। রোগীর শরীরের মধ্যে যন্ত্রপাতি, স্পঞ্জ ইত্যাদি রেখে দিয়ে অপারেশন শেষ করার ঘটনা একদম বিরল না। অনুমান করা হয় যে পেটের অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রতি ১৫০০ জনে এরকম ঘটনা ১ টা ঘটনা ঘটে থাকে। অপারেশনের ভুল কয়েক রকমের হতে পারে। যেমন রোগীর দেহের ভুল জায়গায় অপারেশন করা, ভুল রোগীকে অপারেশন করা ( অনেক সময় দুর্ঘটনার একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে ), ভুল পদ্ধতিতে অপারেশন করা।
৩। ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে প্রেসক্রিপশনের বিনিময়ে অর্থ গ্রহনঃ
এ ধরণের ঘটনা অন্য দেশে ঘটে কিনা জানি না তবে আমাদের দেশে অনেক ডাক্তার এভাবে টাকা নিয়ে থাকেন। এটাকে অনেক ডাক্তার অনৈতিক মনে করেন না। আবার অনেকে এটা থেকে বিরত থাকেন।
৪। প্যাথলজিকাল টেস্টের রোগী পাঠিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে টাকা নেয়াঃ
৩ নং পয়েন্টের মত এটাও শুধু আমাদের দেশেই সম্ভবত চলছে। এটাকেও অনেক ডাক্তার অনৈতিক মনে করেন না। আবার অনেকে এটা থেকে বিরত থাকেন।
৫। রোগীর অনুমতি না নিয়ে রোগীকে শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য ব্যবহারঃ
১৯৯৩ সালের এক সমীক্ষায় জানা গেছে যে ঐ বছর যুক্তরাজ্যের টিচিং হাসপাতালগুলিতে অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার চেতনাহীন মহিলাকে তাদের অজান্তেই শিক্ষার্থীদের শেখার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের একটি জরিপে দেখা গেছে ৬৫% ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দ্বারা নারীদের গোপন অঙ্গের পরীক্ষার সময় রোগীর অনুমতি নেয়া হইনি। এধরণের ঘটনা আমাদের দেশেও অনেক ঘটে।
৬। লাইফ সাপোর্টের নামে ব্যবসাঃ
আমাদের দেশে অনেক বড় বড় হাসপাতাল মৃত্যু জানার পরও তা গোপন করে আরও কয়েকদিন সেই মৃত দেহকে লাইফ সাপোর্টের নামে আইসিইউতে রাখে ও মোটা অংকের বিল করে।
৭। সাইকোথেরাপিতে অনৈতিক চর্চাঃ
একটি সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয় যে ৭০% সাইকোথেরাপিস্ত বলেছেন যে তারা তাদের পেশা জীবনে অন্তত ১ জন রোগী পেয়েছেন যে আগের থেরাপিসট কর্তৃক যৌন হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। এই ধরণের যৌন হয়রানকারীর মধ্যে 96% ছিলেন পুরুষ সাইকো থেরাপিস্ত।
আশা করি আইন প্রয়োগ ও নৈতিকতার চর্চা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববাসী এ সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি পাবে।
সূত্রঃ Encyclopedia- UIA

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৪৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


এটা একটা সিষ্টেম, যা কাজ করছে না।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৫৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ঠিক বলেছেন আপনি। ধন্যবাদ প্রথম মন্তব্যের জন্য।

২| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৭

ঢুকিচেপা বলেছেন: বেশ ভাল কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।

৩| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৪২

নেওয়াজ আলি বলেছেন: এইসব নিয়ে কথা বলতেও ঘৃণা হয়। চোরের মার বড় গলা ।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৪৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ঠিক বলেছেন। মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।

৪| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




অভগা বাংলাদেশ! অভাগা জনগণ! আর কিছুই বলার নেই।

১৬ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ভালো মন্তব্য করেছে। কবে যে আমাদের অবস্থার পরিবর্তন হবে কে জানে।

৫| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমাদের দেশের মানুষ গুলো হৃদয়হীণ আর অমানবিক হয়ে উঠেছে।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৩৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ঠিক বলেছেন। কিভাবে যে এটা থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে ভাবছি।

৬| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৪৯

কবিতা পড়ার প্রহর বলেছেন: মৃত্যু নিয়েও চলছে ব্যবসা।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৪০

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: জি, সত্যিই দুঃখ জনক।

৭| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ২:১৩

পগলা জগাই বলেছেন: এখন ২টি অল্পের উপরে সবচেয়ে মজার ব্যবসা হচ্ছে
স্কুল আর হাসপাতাল

১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৪১

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ঠিক বলেছেন। অথচ আগে মানুষ সবচেয়ে বেশী সম্মান করত ডাক্তার আর শিক্ষকদের।

৮| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৮

কল্পদ্রুম বলেছেন: ১। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে প্রেসক্রিপশনের বাইরে অতিরিক্ত ড্রাগ খাওয়াটাই বেশি সমস্যা।দেশের একটা বিরাট অংশ ফার্মাসি থেকে ঔষধ খাওয়ার প্রবণতা আছে।গ্রামের দিকে মুদি দোকানকারের কথা শুনে ঔষধ খাওয়ার মতো মানুষও আছে।
২। সার্জিক্যাল ভুল সাধারণ মানুষের পক্ষে ধরা কঠিন।এজন্যে বিচার ব্যবস্থা কাজ করলে মানুষ অন্তত তার অভিযোগ জানিয়ে সঠিক তদন্তের ব্যবস্থা করতে পারতো।
৩। এটা আসলে খোদ আমেরিকাতেও আছে।ইউরোপেও চালু আছে বলে আমি জানি।তবে ভারতীয় উপমহাদেশে এই ব্যাপারটা অতিরিক্ত পর্যায়ের দৃষ্টিকটু।এখানে ব্রান্ড নাম না লিখে ডাক্তাররা জেনেরিক নেম লিখলে কোম্পানিগুলো অসুস্থ প্রতিযোগিতা করতো না।তবে সেক্ষেত্রে ফার্মাসিগুলোতে গিফটের বহর পড়ে যেতো।সেটা আরো বিপদজনক।ব্যাপারটার সমাধান আসলে কমপ্লেক্স।
৪। ঠিক আমাদের দেশেই না।পুরো ভারত,পাকিস্তান,বাংলাদেশ মিলায়ে সমস্যা।অন্য দেশে ডায়গোনস্টিক সেন্টার এভাবে যত্রতত্র তৈরি হয় না বলে টাকাটা একটু ঘুর পথে সার্কুলেট করে।
৫। আমাদের দেশে এটা কোন সমস্যা না।
৬। এইটা আমাদের দেশে প্রথম সারির সমস্যাগুলোর ভিতরে একটা।
৭। আমাদের দেশে এটা কোন সমস্যা না।

এসবই আমার ব্যক্তিগত মত।

১৭ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:১৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: উন্নত দেশে কিছু কমন ড্রাগ ছাড়া ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা যায় না। আমাদের দেশে মানুষ তার খুশি মত ওষুধ কেনে। ওভার দ্যা কাউন্তার ড্রাগের কেনার হার প্রেসক্রিপশন ড্রাগের চেয়ে বেশী বাংলাদেশে। এব্যাপারে কিছু কেমিস্ট ও হাতুড়ে ডাক্তার সাহায্য করে। উন্নত দেশে ডাক্তাররা প্রচুর মামলার শিকার হন। কারণ মানুষ সচেতন। তিন নম্বর ও চার নম্বর সম্ভবত আমাদের দেশের আইন ও ডাক্তারদের আচরণ বিধির লঙ্ঘন। একজন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এরকম বলেছিলেন। ৫ নম্বরের ব্যাপারটার গুরুত্ব আমাদের দেশের মানুষ মনে হয় বোঝেই না। কারণ সচেতনতা নাই ও মানুষ অসহায়। ৬ নম্বরটা সম্ভবত উন্নত দেশে ঘটে না। এটা আমাদের একটা বড় সমস্যা। ৭ নম্বরটার প্রয়োগ আমাদের দেশ কম তাই এ ধরনের ঘটনা খুব বিরল মনে হয়। কিন্তু অন্য অনেক দেশে এটা একটা সমস্যা মনে করা হচ্ছে। আপনি আপনার ব্যক্তিগত মত বললেও সবাই তা মানবে আমার মনে হয়। ধন্যবাদ বিস্তারিত মতামতের জন্য।

৯| ২৯ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৪৫

পারভীন শীলা বলেছেন: মাঝে মাঝে ভাবতে অবাক লাগে এই সোনার বাংলার সোনার ছেলে মেয়েদের কতটা দুর্বুদ্ধি।

২৯ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৪৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ঠিকই বলেছেন। দুরবুদ্ধির বদলে সুবুদ্ধি হলে দেশ নিশ্চয়ই অনেক এগিয়ে যেত। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.