| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আন্নোন-রাকিব
...... আজ শুয়ে পড়ল রায়হান খুব তাড়াতাড়ি। ঘরের জালানা দিয়ে আকাশ তা খুব পরিস্কার দেখা যায়। তাই ঘুমানর আগে সেই আকাশে তাকাতে কখনও ভুলে না ওর।
কিন্তু আজ কেন যেন অন্য রকম মনে হচ্ছে ওকে। কিছু না নিশ্চুপ, কিছু তা চিন্তিত। ত্রিরিং ত্রিরিং...... হটাৎ ফোন টা বেজে উঠল।ফোন তা বাঝতে বাঝতে কেটে গেল। বেশ কিছু বের ফোন তা বাঝল। অবশেষে খুব বিরক্ত হয়ে ফোন তা ধরল।
নাম্বারটি পরিচিত ছিল না তাই ধরলে ইচ্ছা করছিল না। কিন্তু কি আর করা। ধরতেই হল। ফোন তা ধরে কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলে উঠল কিছু শুন্সিস
কে? কি শুনবো?
আজব এত বড় একটা ম্যাটটার র তুই এখনও কিছুই জানশ না!
আরেহ হইসে তা কি??
মায়শার ত বিয়ে ঠিক হয়ে গেসে।। আর একটু আগেই গ্রামের বাড়িতে চলে গেল। কাল নাকি বিয়ে। মাত্র আমাকে একটা টেক্সট করল। কেন তকে কোন টেক্সট দেয়নি?
ততখনে বুঝতে পারলন এতখন যার সাথে কথা বলছে, সে নয়ন। কিন্তু ওর কথা শুনে রায়হান কিছু বলতে পারল না। কিছু তা অবাক কারন এত কিছু হয়ে গেল আর মাইশা তাকে কোন খবর দেয় নি কেন? একটা বার তো ফোন অর টেক্সটও দিতে পারত।
মায়শা, যাকে অনেক আগে থেকেই পছন্দ করে রায়হান। অনেকবার বলেও ছিল কিন্তু কোন লাভ হইনি। মায়শা অনেক ভাল বন্ধু ভাবত কিন্তু তার ছেয়ে বেশি ভাবতে পারে নি। আর অন্যদিকে রায়হান ওকে বন্ধু থেকেও বেশি ভাবতে শুরু করে যা পরে কোন দিন কমাতে পারেনি চেষ্টা করেও।
এই কি হল??? কথা বলস না কেন? চুপ করে কেন রইলি??
ততখনে সেই পুরানো সমস্যা শুরু হয়ে গেল রায়হানের। যখন খুব বেশি কষ্ট পায়, সহ্য করতে পারে না তখনি শ্বাস আটকে যায় ওর। শুধু মাত্র ও ছাড়া ওর এই সমস্যাটি ওর কিছু বন্ধু জানত। নয়নের বুঝতে বাকি ছিল না রায়হানের নিশ্চয় আবারও এই সমস্যা হয়েছে। যদিও রাত তখন ১টা, তাও সে রায়হানের বাসায় উপস্থিত হয়ে দেখতে পেল যা ভেবেছিল তাই। সাথে সাথেই নিয়ে যাওয়া হয় হসপিটালে।
সেইদিন রাতে আর চোখ খুলতে পারে নি রায়হান। পরের দিন সকালে চোখ খুলে দেখে সে হসপিটালের ব্যাডে শুয়ে আছে। যদিও অনেক ক্লান্ত ছিল কিন্তু সে শেষ বারের মত মায়শাকে দেখতে চায়। দেখতে যে ওর হবেই।
কিন্তু রুম থেকে বের হয়ে দেখে ওর পরিবাররের সবাই আছে। আছে ওর অন্য আরও বন্ধু নিয়াজ, নাবিল, নয়ন, নেয়াজ। কিন্তু অবাক হয়েছে যখন দেখতে পেল সাদিয়া, আয়শা ও ছিল তখন। এই দুইজন ছিল মায়সার বন্ধু। নয়ন কে ডাক দিয়া কথা বলা তা তার বেশি দরকার ছিল। সব কিছু জানার পর সে মায়শার গ্রামের বাড়ি যেতে চায়। কিছুটা অবাক হয় নয়ন। কিন্তু এইটাও জানত সে রায়হানের তখন কেমন অবস্থা। নিজেকেও যে এমনি অবস্থা দিয়ে যেতে হয়ে ছিল একদিন।
কোন ভাবে পরিবারকে বুঝিয়ে বের হতে চাইলেও পারল না। কিন্তু সব বন্ধুরা যখন সাথে যেতে চাইল, তখন রায়হান যাওয়ার অনুমতি পেল।
বন্ধুদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে হতাৎ করে পরে যায় রায়হান। ঠিকই ত আছে পরবেই না কেন? সারা রাত যে বিছানায় জ্ঞানহীন ছিল সেও ত আর যাই হোক অন্যদের মত বলবান নয় তখন। কিন্তু হতাৎ করে সেন্স হারিয়ে ফেলায় খুব চিন্তিত হয়ে পরে ওর বন্ধুরা। ফেরত নিয়ে যেতে ছাই হসপিটাল এ কিন্তু সেটা করলেও পরে রায়হান খুব রেগে যাবে সেটা জানা ছিল তাদের। কিন্তু কিছুখন পর নিজের হোশ ফিরে পায় ও।
কিন্তু ভাগ্য টাও খারাপ রায়হান এর। আজ সকাল-সন্ধা হরতাল। তাই কোন বাস পাবে না ও। তাই বাধ্য হয়ে ট্রেন করে যেতে হবে... ট্রেন এ সময় বেশি লাগবে বলে প্রথমে যেতে ছায়নি কিন্তু ওর কাছে কোন রাশ্ত ছিল না।
ট্রেনে সবাই ছিল।এক বন্ধুর বাবা, নয়ন, নাবিল, নিয়াজ, সাদিয়া, আয়শাস সবাই কেমন যেন একটু চুপচাপ হয়ে আছে। মনে হচ্ছে কেউ মনে হয় মারা গেছে এমন অবস্থা সবার মধ্যে। বন্ধুর বাবা সব কিছু জানার পর কিছু টা চমকিত আবার বুঝানোরও চেষ্টা করছে সে।
হতাৎ করে আয়শার ফোন বেঝে উঠল। ফোন দিয়েছে আনুশা । জানালো মায়শার খবর পেয়ে এর আগের ট্রেনে করে চলে গিয়েছে সে। তাই এখন কিছুটা সস্তিবোধ করল রায়হান। তাও কিছুটা চিন্তা এখনও রয়েই যায়। আয়শা ফোন দিয়ে জানাতে থাকবে সব।
ট্রেন এর শেষ প্রান্তে গিয়ে দাড়িয়ে আছে রায়হান। পাশে এসে দাঁড়াল সাদিয়া। এর আগেও অনেক বার বুঝানর চেষ্টা করেছে কিন্তু কখনও কাজ হয়নি। কিন্তু আজ বুঝাতে না পাশে দাঁড়াতে এসেছে কারন আজ হয়ত সে জানে রায়হান আলাদা হয়ে আছে সবার থেকে। দুইজনই বাইরের প্রকৃতি দেখতে থাকে। কারো মুখে কোন কথা নেই।
আবার ফোন দিল আনুশা । সে এখন মায়শার বাড়ির অনেক কাছেই আছে। আর কিছুক্ষণ পড়ি জানাতে পারবে কি হচ্ছে সেখানে। কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে ৩০মিনিট যখন পার হয়ে গেল।তখন কেন যেন চিন্তা বেড়ে গেল রায়হানের। তাই এইবার আনুশাকে নিঝে ফোন দিল। কিন্তু ফোন বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যে অবাক এবং চোখে পানি এসে পড়ল ওর। বুঝতে বাকি ছিল না ওর। বন্ধুরা বুঝাতে এগিয়ে আস্তে চাইলেও সাদিয়া বাধা দিয়ে রায়হানকে একা ছেড়ে দিতে বলল। রায়হানকে সাদিয়াই বেশি চিনে। তাই হয়ত বুঝতে পারে ওকে।
বন্ধুদের মধ্যে মায়শার বাড়ি চিনত আয়শা। তাই যেতে কোন সমস্যায় পড়তে হল না ওদের। কিন্তু বাড়ির সামনে গিয়ে রায়হান ভেতরে ঢুকল না। বাড়িটি দেখেই কেন যেন ওর মনে ভয়। কিন্তু বিয়ে হচ্ছে অথচ বাড়ির মধ্যে কোন সাজ নেই। বাড়ির সামনে একটি ব্রিজে দাড়িয়ে রইল।
ভেতরে গেল অন্যরা। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও কারোও কোন খবর পাওয়া গেল না। কিছুক্ষণ পর রায়হান দেখতে পেল মায়শা আর সাদিয়া। দেখে কিছুতা চমকিত হল রায়হান। আজ না ওর বিয়ে? তাহলে ও এখানে কি করে তা আব্র স্বাভাবিক সাজে! ইত্যাদি ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন জাগে মনে।
কাছে এসে দাঁড়ায়ে মায়শা। ওকে এখানে দিয়ে চলে গেল সাদিয়া। মায়শাকে আগেই সব জানিয়ে দিয়েছিল। রায়হান কিছু বলার আগেই রায়হানের এমন পাগলামি দেখে জড়িয়ে ধরল মায়শা। বলে উঠল, “ পাগল তুমি? কে বলেছে আমার বিয়ে? বিয়ে হলে কি অন্যদের জানাতাম না? আর তোমার এমন অসুত্থ শরীর নিয়ে কেউ এইভাবে আসে?
কিছুই বুঝল না রায়হান। তাহলে বিয়ে কার?-চমকিত স্বরে।
বিয়ে আমার ফুপাত বোনের। ও আম্র ফোন দিয়ে ওর বয়ফ্রেন্ড কে টেক্সট করতে গিয়ে ভুলে নয়নকে করেছে।
একটু পর মায়শা বুঝতে পারল রায়হান ওর শরীর পুরোটাই ছেড়ে দিচ্ছে। মায়শা ওর দিকে তাকাতেই দেখল ওর মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। কিছুই যেন বুঝতে পারছিল না মায়শা।
“ কি করেছ তুমি?”
“কিছুনা”- ছোট একটি উত্তর দিলেও বুঝা বাকি ছিল না তখন আর।
পদক্ষেপ টি তো অনেক আগেই নিয়েছিল কিন্তু কেউ বুঝতে পারেনি।
খানিক্ষন পর মায়শার চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে এলো বাকিরাও। ততক্ষণে রায়হানের জীবন টা হারিয়ে যায় যেখান থেকে মায়শা চাইলেও এখন আর ফিরিয়ে আনতে পারবে না। শুধু একটা জিনিস সবাই দেখল রায়হান এখনও মায়শার দিকেই তাকিয়ে আছে, চোখ বন্ধ হইনি ওর।
সবাই যেন নিস্তবভ হয়ে দাড়িয়ে রইল ওদের দুইজনকে ঘিরে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৪০
কালীদাস বলেছেন: গল্পটা সাবলিল