| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
‘www.somewhereinblog.net’-কে ভালোবেসে ব্লগাররা নাম দিয়েছেন ‘সামু’। আর এই সামুতেই আমার ব্লগ নিক - ‘সত্যপথিক শাইয়্যান’। সামুতে আসার আগেও লিখতাম, কিন্তু সত্যিকারের লেখার নেশাটা যেন সামুর উঠোনেই এসে পাকাপোক্ত হলো। একটা পোস্ট লিখি, কেউ মন্তব্য করে; মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আরেকটা পোস্টের আইডিয়া মাথায় আসে; সেই পোস্ট লিখতে গিয়ে আবার তিনটা নতুন চিন্তা! এভাবেই কখন যে লেখার খাতা মহাভারতের আকার ধারণ করেছে, টেরই পাইনি। সামুর হিসাব বলছে পোস্ট ১০৫৬টি। কিন্তু ড্রাফটের অন্ধকার ঘরে লুকিয়ে থাকা লেখাগুলো যোগ করলে আমার আসল পোস্ট সংখ্যা প্রায় ১৭০০টি! অর্থাৎ, আমার লেখা কম নয় - আমার লেখার নিজেরই একটা ছোটখাটো জনসংখ্যা আছে!
তারপর হঠাৎ প্রশ্ন জাগে - এতো লেখা যাবে কোথায়? একটা ব্লগ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু একটা ওয়েবসাইট বন্ধ হয় না; তার সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে মানুষের চিন্তা, হাসি, রাগ, অভিমান, তর্ক, প্রেম, পর্যবেক্ষণ আর রাত জেগে লেখা হাজার হাজার বাক্য। একজন ব্লগার পোস্ট লেখেন হয়তো এক ঘণ্টায়, কিন্তু সেই পোস্টের পেছনে থাকে বছরের অভিজ্ঞতা। তাই সামু বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে আমার কাছে শুধু একটা সাইট বন্ধ হওয়া নয় - এ যেন একটা বিশাল ভার্চুয়াল লাইব্রেরির দরজায় তালা ঝোলানো! আর সেই লাইব্রেরির ভেতরে আমার ১৭০০টি বই দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে - “সত্যপথিক! আমাদের উদ্ধার করো!” আমি বলছি, “ভাই, আগে আমিই তো উদ্ধার হই!”
তখন আমার মাথায় আরেকটা ভয়ংকর সন্দেহ আসে - ভার্চুয়াল জগত কি আসলে খুব পেটুক? আমরা ভাবি, ইন্টারনেট সবকিছু সংরক্ষণ করে। আসলে সে মাঝে মাঝে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যে, একদিন দেখি - ওয়েবসাইট নেই, সার্ভার নেই, লিংক নেই, পোস্ট নেই! যেন ডিজিটাল দানব এসে বলছে, “আর কিছু আছে? দাও, দাও! তোমার পুরোনো পোস্টগুলোও দাও!” এই পেটুকের সামনে ব্লগার তখন অসহায়। তাই তাকে বলি -
“ওরে ভার্চুয়াল, হোঁতকা পেটুক,
খাস শুধু ডেটা, নেই কোনো লুক!
পোস্ট আমার খাবি কেন ভাই?
ব্যাকআপ রেখে তবে পেটটা ভরাই!”
শেষ কথা হলো - সামু শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়; বহু মানুষের লেখক হয়ে ওঠার শৈশব, কৈশোর আর তারুণ্যের স্মৃতির ভাণ্ডার। আমার মতো অনেকেরই হয়তো সেখানে শত শত, হাজার হাজার লেখা পড়ে আছে। সেগুলো নিছক কয়েক কিলোবাইটের ডেটা নয় - সেগুলো সময়ের দলিল। তাই সামুকে ভালোবেসে একটি আবদার থাকেই: যদি কখনো দরজা বন্ধ করতেই হয়, অন্তত লেখাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন না! আমাদের লিখিত স্মৃতিগুলোকে বাঁচতে দিন। কারণ লেখক চলে যায়, সময় চলে যায় - কিন্তু লেখা থেকে যায়। আর ভার্চুয়াল জগত, তোমাকেও বলছি - হোঁতকা পেটুক, একটু সংযমী হও! মানুষের লেখা খেও না; বরং ব্যাকআপ নিয়ে হজম করো!
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আমাদের ডাক সামুকে শুনতেই হবে যে!!!
এভাবে সামু হারিয়ে যেতে পারে না।
শুভেচ্ছা নিরন্তর।
২|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৯
এইচ এন নার্গিস বলেছেন: চমৎকার ভাবের প্রকাশ।
৩|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২০
নাহল তরকারি বলেছেন: লেখাটিতে ভার্চুয়াল জগতের প্রতি মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও লেখালেখির মূল্য খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। একটি প্ল্যাটফর্মে লেখা শুধু ডেটা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের সময়, চিন্তা ও জীবনের নানা স্মৃতি। তাই পুরোনো লেখাগুলো সংরক্ষণ ও ব্যাকআপ রাখার বিষয়টি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৫
অপ্সরা বলেছেন: না না সামু এমন নির্দয় হবে না মোটেও!!
হোৎকা পেটুক হোক অন্য সাইটগুলো! আমাদের সামু রেখে দেবে আমাদের স্মৃতি ধরে বহু বহু কাল!!!