নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজের মনকে শান্তির নীড়ে রাখ দেখবে সব কিছু সুন্দর লাগবে

শান্তির দূত২৪

শান্তির দূত২৪ › বিস্তারিত পোস্টঃ

শিক্ষানীয় গল্প

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৫৩

আমার স্ত্রী প্রাইমারি টিচার। রাতে ডিনারের শেষে আমার স্ত্রী ক্লাস ওয়ানের খাতা দেখছিলো। খাতা দেখতে দেখতে আমার মিসেসের চোখ দুটো ছলছল করে করে উঠেছে। আমি কাছেই বসে টিভি দেখছিলাম। মিসেসের দিকে নজর যাওয়াতে দেখি
আমার স্ত্রী চোখের জল মুছছে। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি
হয়েছে কাঁদছো কেনো!!! আমার মিসেস বললো.. ক্লাস ওয়ানের পরীক্ষায় এক রচনা এসেছে। "my wish" তো কাঁদার কি হলো!! সব খাতা গুলো দেখলাম। সবাই ভালো
লিখেছে। --তো? একজনের খাতা দেখে আর নিজেকেসামলাতে পারলাম না। চোখ দুটো জলে ভরে উঠলো। আচ্ছা বলো কি লিখেছে ওই বেবি।
মিসেস রচনা পড়তে শুরু করলো.....আমার ইচ্ছা আমি স্মার্টফোন হবো।
আমার বাবা মা স্মার্টফোন খুব ভালোবাসে। কিন্তু আমায় ভালোবাসে না।
যেখানে যায় আমার বাবা তার স্মার্টফোন সঙ্গে করে নিয়ে যায়। কিন্তু আমায় সঙ্গে
করে নিয়ে যায় না। ফোন এলে আমার মা তাড়াতাড়ি গিয়ে ফোন ধরে। কিন্তু আমি কান্না করলেও আমার কাছে আসে না মা।
আমার বাবা স্মার্টফোনে গেম খেলে।কিন্তু আমার সাথে খেলে না। আমি
বাবাকে বলি আমায় একটু কোলে নাও না বাবা। কিন্তু বাবা আমায় কোলে নেয় না।
স্মার্টফোনটাই সব সময় বাবার কোলে থাকে। মা কে গিয়ে বলি, মা মা চলো না আমার
সাথে একটু খেলবে। কিন্তু আমার মা আমার উপর রেগে গিয়ে বলে, দেখতে পাচ্ছিস না
আমি এখন তোর মামার সাথে চ্যাটে কথা বলছি। আমার বাবা মা রোজ স্মার্টফোন টাকে যত্ন করে মোছামুছি করে। কিন্তু আমায় একটুও আদর করে না। আমার মা যখন বাবার সাথে ফোনে কথা বলে তখন মা স্মার্টফোনে বাবাকে পাপ্পি দেয়। কিন্তু আমায় একদিনও পাপ্পি দেয়নি মা। আমার বাবা মাথার কাছে স্মার্টফোন নিয়ে ঘুমায়। কিন্তু আমায় কোনোদিনও জড়িয়ে ধরে ঘুমায় না। আমার মা রোজ চার পাঁচবার স্মার্টফোন
টিকে চার্জ দেয়। কিন্তু মাঝে মাঝে আমায় খাবার দিতে ভুলে যায় মা। কিন্তু
স্মার্টফোন টিকে চার্জ দিতে ভুলে না আমার মা। তাই আমি স্মার্টফোন হবো।
আমার ইচ্ছা স্মার্টফোন হয়ে বাবা মায়ের সাথে সবসময় থাকতে চাই।
স্ত্রীর মুখে লেখাটি শোনার পর আমি খুব ইমোশনাল হয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম..
কে লিখেছে এই রচনাটি ? আমাদের সন্তান। আমি স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম কিছুক্ষন।
অনেক কিছুই ভেবে চলেছি। আমার আর আমার স্ত্রীর চোখে তখন জলের ধারা
নামতে শুরু করেছ।(সংগ্রহ)

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৫৯

আহলান বলেছেন: এখন বাচ্চারাও স্মার্ট ফোনে ডুবে থাকে। যদিও বিষয়টি অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিৎ। চোখের বারোটা বেজে যাচ্ছে ....

২| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:০৫

আজীব ০০৭ বলেছেন: সময় উপযোগী লিখা.......

বাস্তবতা আমাদের কে এতটাই মোহাচ্ছন করে রেখেছে যে, আমরা আমাদের সন্তানদের কে ভালো মত সময় দিই না, ফলাফল আমরা সর্টকাটে যে রকম চাই বাচ্চারা সেটা বুঝে না, আবার বাচ্চারা যে রকম চায় সেটা আমরা বুঝার চেস্টা করিনা।

সবাই যেন ব্যপার টা উপলব্দি করে বুঝতে পারেন আগামী সুন্দরের জন্য........।

ভালো থাকবেন সবাই, শুভ কামনা রইল সবার প্রতি।

৩| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সত্যিই গল্পটা খুব করুণ, এবং শিক্ষণীয়। ডিজিটাল লাইফ আমাদের কত কিছু কেড়ে নিয়েছে তা আমরা টেরও পাচ্ছি না।


কেমন আছেন সাইফুল ভাই?

৪| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১২

অাকাশ কালো বলেছেন: অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত কারন সন্তানরা সারা রাত স্মার্ট ফোনে Facebook ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকে যার কারনে ঘুম হয় না। দুপুর ১২ টার সময় ঘুম থেকে ওঠে।

৫| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৪৭

সুমন কর বলেছেন: বাচ্চাটি কি আর করবে বলুল, যা দেখবে তাইতো লিখবে !!

৬| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৫৬

নতুন নকিব বলেছেন: যদিও গল্প, একেবারে বাস্তবতাহীন নয়। বরং ক্ষেত্রবিশেষে এরকমটাই বাস্তবে ঘটে চলেছে।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে প্রযুক্তির অকল্যান থেকে হেফাজত করুন।

সুন্দর গল্পটির জন্য ধন্যবাদ এবং আমার ব্লগ-কুটির আপনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

৭| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৪:১৭

ফ্রিটক বলেছেন: গল্প হলেও সত্যি।

৮| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: হাঁ, শিক্ষণীয় অবশ্যই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.