| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সোহেল রহমান ব্রিজ এশিয়া
Me? I am nobody.
এই যে সবার লাইসেন্স চেক করা হচ্ছে, এই লাইসেন্সেরই বা কি মূল্য! আমি নিজেও একজন ড্রাইভার। আমি যখন গাড়ি চালানো শিখি তখন শুধু ওস্তাদ শিখিয়েছে কিভাবে স্টিয়ারিং ঘোড়াতে হয়। রাস্তার কোনোই নিয়ম কানুন শেখায়নি। লাইসেন্সের যখন পরিক্ষা দিতে যাই, শুনলাম কিছুই লাগবেনা শুধু ৫/৬ হাজার টাকা দিলেই পাশ। আবার টাকা না দিলে হাজার পরিক্ষা দিলেও পাশ হবেনা। কে যায় ঝামেলায় জড়াতে। দিলাম টাকা, আমাকে বলা হল শুধু খাতায় সাইন করে চলে আসতে। আসলাম খাতায় সাইন করে। পেয়ে গেলাম এক আধ্যাতিক ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স।
অথচ রাস্তার নিয়ম কানুন কি? লাল বাতিতে থামতে হয় না যেতে হয়? গিভ ওয়ে কি? কিভাবে কখন ওভার টেক করতে হয় বা হয়না? কোথায় থামাতে হয় বা হয়না? কোথায় কত জোরে চালাতে হয় বা হয়না? ওয়ান ওয়ে কি? ইত্যাদি ইত্যাদি কিছুই জানা হলোনা। ডিজিটাল লাইসেন্স নিয়ে হয়ে গেলাম ড্রাইভার।
পরে এক্সিডেন্ট করে এবং বিদেশে গাড়ি চালিয়ে চালিয়ে শিখলাম ব্যাসিক নিয়ম কানুন। বিদেশে গাড়ি চালিয়ে বিরাট বিরাট এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে আসছি, বেঁচে আসার পর অনুধাবন করেছি যে ড্রাইভিং এর কিছুই জানিনা।
এবার ওই বাস ট্রাক সিএনজি ড্রাইভারদের কথা একবার চিন্তা করে দেখেন! লাইসেন্স থাকা বা না থাকা তো একই কথা। কেউ কিছুই জানেনা। লাইসেন্স থাকলেই কি বা না থাকলেই কি!
পৃথিবীর যে কোন দেশে রাস্তার মোড়ে গাড়ি থামানো হারাম। আর আমাদের দেশে মোড় গুলোতে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড, রিক্সাস্ট্যান্ড। কতবড় বেকুব জাতী আমরা একবার ভেবে দেখেন। কি কাজ করে আমাদের দেশে ট্রাফিক যারা মেইনটেইন করে ভাবেন একবার।
বাসগুলো শ শ যাত্রী নিয়ে একজন আরেকজনের সাথে পাল্লাপাল্লি করে অথচ দেশের বাইরে উন্নত দেশগুলোতে যাত্রী বহনকারী ড্রাইভারের ট্রেইনিং, মোটিভেশন এবং লাইসেন্স সবই আলাদা এবং স্পেশাল। তাহলে আপনি কাকে দোষ দিবেন এবার বলেন। আজ যখন মানুষ মরে পচে যাচ্ছে তখন নীতি নির্ধারকদের হুঁশ হচ্ছে।
অথচ আমার জানা মতে এসব বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এসব জানার জন্য বিদেশে ট্রেইনিং এর ব্যাবস্থা করা হয়। আর সেখানে গিয়ে সাধারনত আমাদের বেশিরভাগ ভাইয়েরা কি করেন সেগুলো নিয়ে সিনেমা বানালে সুপার ডুপার হিট সিনেমা হবে।
তাহলে এইসব কাজের জন্য যারা আমাদের দেওয়া ট্যাক্স থেকে বেতন নিচ্ছে, যাদের উপর দায়িত্ব ছিল তারা কোন লেভেলের একবার ভাবেন। শুধু ড্রাইভারদের দোষ না তো, দোষ ওই স্যারেদেরও সমানে সমান।
তবে এই আমরাই যখন বেশি দূর না, ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে চলি, আমাদের হুঁশ তখন চালু হয়ে যায়। সেটাই বা কেন হয়?
এখন দেশের আসল ভবিষ্যতরা রাস্তায়, কিসের জন্য আন্দোলন করে? স্বাভাবিক মৃত্যুর।
এর থেকে লজ্জার আর কি থাকতে পারে আমাদের।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, লজ্জা ব্যাপারটাই আমাদের শেখায় নাই কেউ। তাই তো আমরা কোথায় কাদতে হবে আর কোথায় হাসতে হবে সেই নুন্যতম জ্ঞানটুকুও অর্জন করতে পারিনি। হয়ে গেছি নেতা। হয়ে গেছি মন্ত্রী। 
©somewhere in net ltd.