| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এই তো সেদিনের কথা,
গেলাম নতুন পরিচিত এক জনের মেয়ের জন্মদিনের
অনুষ্ঠানে। কমিউনিটির সবাই নিমন্ত্রিত অনেকেই
উপস্থিত ছিলো সবার সাথেই আলাপ পরিচয় হলো। কারো
সাথে আগেই ভাল সম্পর্ক ছিলো কারো সাথে নতুন ভাবে
সম্পর্ক হলো। খুব ভালই সময় কাটছিলো। অনুষ্ঠানে কিছু
দাড়ি টুপি জোব্বাধারী ও দেখলাম পরিচিত হলাম ভালই
লাগছিলো।
যথারীতি কেক কাটা হলো বিপুল খানা পিনার
আয়োজন। সবার সাথে বসে খাওয়া দাওয়া করছি তখনই
জোব্বাধারী একজন বলল,শরিয়ত অনুযায়ি এই সব জন্মদিন
বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠান করা ঠিক না ,তারপরও অনেকে
করে । তাছাড়া উনি নও মুসলিম, পূর্ব পুরুষের রক্ত এখনো
শরীরে আছে। এতো তাড়াতাড়ি শোধরাবে না। সময়
লাগবে আস্তে আস্তে সব শিখে যাবে।
বুঝলাম যার মেয়ের অনুষ্ঠানে এসেছি ওনি নও মুসলিম
মানে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।
সেদিনের মতো চলে আসলাম, তারপর প্রায়ই ওনার
(নওমুসলিম) সাথে দেখা হয় আলাপ হয় বসে চা কফিও
খাওয়া হয়, অনেকটাই ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম।
একদিন কথা প্রসঙ্গেই জানতে চাইলাম,শুনলাম আপনি নও
মুসলিম, তা কোন ধর্ম হতে কনভার্ট হয়েছেন? কি কারনে
হলেন?
ওনি বলল আমরা গোড়া ব্রাম্মণ, হিন্দু ধর্ম হতেই কনভার্ট
হয়েছি। কারণ আর কি সবার যা কারন আমারও তাই।
কিন্তু এতোদিন ওনার কথাতে যা বুঝলাম ওনি বৈষয়িক
মানুষ,টাকাপয়সা ব্যাবসা বানিজ্য সহায় সম্পদ নিয়েই ব্যস্ত
থাকেন বেশী। ধর্মের ধার ধারেন না ধর্ম নিয়ে এত
ভাবেনও না এমনকি নামজ পড়তেও দেখিনি কোনদিন।
তাহলে ধর্মান্তরিত হলেন কেন? একটু খটকা লাগলো
চাপাচাপির এক পর্যায়ে বললেন তার কাহিনী আমার
কাছে।
তার পূর্বপুরুষরা জমিদার ছিলো অঢেল সম্পদের মালিক
এখনো আছে। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন
হিন্দু পরিবারের পক্ষে এই বিপুল সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব না।
তাই প্রতিনিয়তই ওনাদের জায়গা জমি বেদখল হয়ে
যাচ্ছে। যেহেতু সংখ্যালঘুর ট্যাগ মারা সেহেতু কোথাও
কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেনা। যদিও পরিবার
অনেক বড় তারপরও সাহস করে কিছু করতে পারছিলেন না।
অবশেষে সবার সম্মতিক্রমেই মুসলমান হয়ে গেলেন। ওনার
ভাষ্যমতে এখন নামের আগে একটা লাইসেন্স লাগিয়ে
নিয়েছি "মোঃ"। এখন আর কোন সমস্যা হচ্ছে না। দখলকৃত
জমিগুলোও ফেরত আসছে।
বাহ চমৎকার, সবই হয়েছে ওনার ইসলামের সুশীতল
ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়ার ফলে। আর ওনার ছায়া তলে
ওনার পরিবার শান্তিতে দিনাতিপাত করছে।এতেই
প্রমাণিত হয়ে যায় ইসলাম শান্তির ধর্ম, তারপরও যদি কেউ
বলে ইসলাম শান্তির ধর্ম না,তবে তার কল্লা কাটলে দোষ
কি?
এখন আসি সেই জোব্বাধারী হুজুরের কথায়।-
গুগলে সার্চ দিলেই পাওয়া যায় হাজার হাজার নও
মুসলিমের কাহিনী। কেন তারা মুসলমান হয়েছে(কাহিনী
গুলো কতটা সত্য কতটা মিথ্যা সেই প্রসঙ্গে যাবো
না)তাদের কাহিনী গুলো পড়ে মনে হতে পারে সেই নও
মুসলিমটিকে হয়তো মুসলিমরা মাথায় তুলে নাচছে। আদতে
কিন্তু তা নয়, নওমুসলিমটিকে মডেল করে ইসলামের প্রচার
করছে। জোব্বাধারী হুজুরের কথায় যেটা বুঝা
যাচ্ছিলো, নও মুসলিমদের মুসলমানরা পুরো মুসলিম ভাবতে
পারে না। হয়তো মুখে খুব খাতির করে আদতে তাদের
ভিন্নধর্মী হতে একটু উপরে আর মুসলিম হতে অনেক নিচু
ভাবে। সত্যিকার অর্থে নও মুসলিমদের পূর্ণ মুসলমান হতে
আরো হয়তো এক বা দুই প্রজন্ম আপেক্ষা করতে হবে।
পরিশেষে ছোট্ট একটা ঘটনা দিয়েই শেষ করি।
সেদিন গেলাম সব্জিবাজারে, তো দোকানী চিৎকার
করে গলায় রক্ত তুলে ফেলছে,"নিয়ে যান ভাই নিয়ে যান
লম্বা বেগুন মোটা বেগুন"।জানতে চাইলাম ,ভাই বেগুন
কেমন হবে ভাল?
দোকানী বলল,"ভাই আমি খারাপ মাল বেচি না, নিয়া
যান লম্বা আর মোটা বেগুন মজা পাইবেন শান্তিও
পাইবেন"।পাশে দাড়াঁনো এক ভদ্রমহিলাকে দেখিয়ে
বলল,"বিশ্বাস না হইলে আপারে জিগান কাইল নিছিলো
আপা মজা পাইছে কিনা"।
মহিলার দিকে তাকিয়ে দেখলাম মহিলা পুরাই অপ্রস্তুত।
আমি আবার দোকানীকে বললাম একটু ধমকের সুরে ,"ওই
মিয়া এইসব কি বলেন,কিসের মজা কিসের শান্তি"?
দোকানী হেসে বলল,"ভাই খাইয়া মজা পাইবেন মনে
শান্তিপাইবেন,এইটাই বলছি আবার ভুলে অন্য কিছু ভাইবা
বইসেন না"।
প্রিয় পাঠক ,আপনারাও বেগুন বিক্রেতার সাথে ইসলাম
প্রচারকদের গুলিয়ে ফেলবেন না।
আর বেগুনের শান্তির সাথে ইসলামের শান্তি এক করে
ফেলবেন না।।
২|
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:১৩
শ্মশান বাসী বলেছেন: হারামজাদার পরে কি?? "মিহির সাহার" বাপ হবে?
৩|
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১০
সিপন মিয়া বলেছেন: উস্কানি ছাড়া আর কিছুই কি লিখতে পারেন না?
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:৪৫
মিহির সাহা বলেছেন: হারামজা------