নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নীতির রাজাই রাজনীতি

রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাসের নামে দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না।

ছাত্রনেতা

রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাসের নামে দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না।

ছাত্রনেতা › বিস্তারিত পোস্টঃ

রসিকতা নয়, সন্ত্রাস। প্রসঙ্গঃ র‍্যাগিং।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৪২

ইদানীং একটি বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি হলো র‍্যাগিং। খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় যে এক শ্রেণীর লোক একে নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে রসিকতা বা মজা কিংবা ফ্রী হওয়ার মাধ্যম বলে মনে করছেন। তারা একে অবৈধ বলে মানতে নারাজ। কিন্তু আমার মতে র‍্যাগিং সন্ত্রাস বৈ আর কিছুই নয়।

আপনারা এটা কি বলেন? র‍্যাগিং ছাড়া কি নতুনদের সাথে ফ্রী হওয়া যায় না? আমি র‍্যাগিং কে কেন সন্ত্রাস বলে অভিহিত করলাম তার প্রমাণ নিচে দিচ্ছি।

যা ত্রাস সৃষ্টি করে তাই সন্ত্রাস। র‍্যাগিং এর ফলে একজন নতুন ছাত্র বা ছাত্রী এই মনে করে সবসময়ই আতংকবস্থায় বা উৎকণ্ঠায় থাকে কখন যে কি হয়ে যায়। যেখানে একজন ছাত্র বা ছাত্রী নতুন ভর্তি হয়ে নতুন পরিবেশ, নতুন শিক্ষা কারিকুলামের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালায় এবং নানামুখী চাপে থাকে সেখানে র‍্যাগিং নামের এক নতুন চাপ এসে যুক্ত হয় সেই শিক্ষার্থীর জীবনে।

র‍্যাগিং শুধু প্রচলিত অর্থে একটি সন্ত্রাস নয়, বহুমুখী সন্ত্রাসের একটি নাম হলো র‍্যাগিং। বহুমুখী সন্ত্রাস বললাম কারণঃ

র‍্যাগিং এর সময় যদি কোনো শিক্ষার্থী উক্ত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায় তবে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় যা একটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এমন কি অনেক সময় নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুবরণ করে যা একটি স্পষ্ট হত্যাকান্ড।

অনেক সময় সিনিয়র ব্যাচের ছাত্র কর্তৃক জুনিয়র ব্যাচের ছাত্রী র‍্যাগিং এর শিকার হয়। এতে অশ্লীল বাক্য ছুঁড়ে দেয়া হয় ঐ ছাত্রীটির উপর যা স্পষ্ট ইভটিজিং। আর র‍্যাগ দেয়ার সময় সিনিয়র ছাত্রদের কথা না শুনলে অনেক সময় ছাত্রীরা ধর্ষনের শিকার পর্যন্ত হয় কিংবা মারধর করা হয় যা স্পষ্টভাবে নারী নির্যাতন

উপরের এই অপরাধ গুলো ছাড়াও নিত্য নতুন পদ্ধতিতে নির্যাতনের স্টীম রোলার চালানো হয় অসহায় ও নিরাপরাধ নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের উপর।

যারা বলেন র‍্যাগিং মানে রসিকতা কিংবা নতুনদের সাথে ফ্রী হওয়ার একটি মাধ্যম আসলে তারা একটি বহুমুখী সন্ত্রাসকে বৈধ করে নিতে চাচ্ছেন। র‍্যাগিং না করেও ফ্রী হওয়া যায়।

আমাদের এক বড় ভাইকে দেখেছি। তিনি তো কাউকে র‍্যাগ দেয়া দূরে থাক কারো সাথে কোনো দিন তুই বলেও কথা বলেননি। কিন্তু তাকে দেখলেই সকল ছাত্র এগিয়ে গিয়ে কথা বলতো। পড়ালেখা থেকে শুরু করে পারিবারিক সব সমস্যার কথা ছাত্ররা তার সাথে শেয়ার করতো একেবারে ফ্রী ভাবে। কই তিনি তো কাউকে কোনো দিন র‍্যাগ দেননি। সুতরাং বুঝা যায় র‍্যাগিং কোনো ফ্রী হওয়ার মাধ্যম নয়।

আবার অনেকে মনে করে নিজ দলের রাজনীতিতে ভিড়াতে র‍্যাগিং একটি অন্যতম হাঁতিয়ারভুল ভেবেছেন। সে সাময়িক ভয়ে হয়তো আপনার দলে যোগ দিবে কিন্তু তার মনের মধ্যে যে ক্ষোভ চাপা দিয়ে রেখেছে তা হয়তো একদিন উথলে পড়বে আপনারই উপর।

আপনি নতুন শিক্ষার্থীর সাথে ভালো ব্যবহার করুন, তার সমস্যার খোঁজ খবর নিন, আপনার সাধ্যমতে তার সমস্যার সমাধান করুন, নতুন শিক্ষা কারিকুলাম বুঝতে সহায়তা করুন দেখবেন সে আপনাকে ছাড়া আর কিছু বুঝবে না। নিজের বড় ভাই কিংবা বোনের মত শ্রদ্ধা করবে আপনাকে।

শেষে একটা কথা বলি, আপনি একটা নতুন, ভদ্র, ভালো শিক্ষার্থীকে র‍্যাগ দিলেন মানে আপনি আগামীর একটা বেয়াদপ, সন্ত্রাসী তৈরী করে দিলেন। কারণ আজকে সে ভালো কিন্তু র‍্যাগিং এর ফলে সে একটি খারাপ বিকৃত রুচি আয়ত্ব করলো। আর সে রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটবে আপনারই কোনো আত্নীয় বা আত্নীয়ার উপর। সুতরাং র‍্যাগিং বন্ধ হোক।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:১৬

উবু বলেছেন: সুন্দর লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:১৯

ছাত্রনেতা বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

২| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০২

স্বাধীকার বলেছেন:
যেকোনো বিবেচনাতেই র‌্যাগিং অপরাধ।

যেকোনো পন্থাতেই র‌্যাগিং হোকনা কেন, তা অগ্রহনযোগ্য।

খোলামেলা, ফ্রি হওয়া, আন্তরিকতা বাড়ানো, জড়তা কাটানো-এসব ফালতু যুক্তির মাধ্যমে র‌্যাগিংকে কখনোই বৈধতা দেওয়া যায়না। যখন র‌্যাগিংকে নতুনরা চরমভাবে অসহায় করে তোলে। র‌্যাগিংকে সব সময় ঘৃণা।

পরিচিত হওয়া, জড়তা কাটানোর জন্য র‌্যাগিংকারীদের কে দায়িত্ব দিয়েছে? সময়ের প্রয়োজনে এমনিতেই পরিচিত হওয়া যায়। তাছাড়া র‌্যাগিংকারী শয়তানদের সাথে পরিচিত না হওয়াই ভালো, ফ্রি হওয়াতো পরের কথা। কেবল বিকৃত অলস মস্তিস্ক থেকে এ ধরণের ফালতু অপরাধী চিন্তাধারা উৎপন্ন হতে পারে। যেকোনো স্থানে, যেকোনো বিবেচনাতেই র‌্যাগিংকে আমরা ঘৃণা জানাই, এটির সমূলে অবসান চাই।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:২২

ছাত্রনেতা বলেছেন: স্বাধীকার বলেছেন: যেকোনো স্থানে, যেকোনো বিবেচনাতেই র‌্যাগিংকে আমরা ঘৃণা জানাই, এটির সমূলে অবসান চাই।



আপনার সাথে শর্তহীনভাবে একমত। ধন্যবাদ।

৩| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৫৫

মেহের আবদুল্লাহ বলেছেন: একজন শিক্ষার্থীর কাছে র‍্যাগিং কাম্য নয়। আমরা চাই র‍্যাগিং বন্ধ হোক। ধন্যবাদ।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:২৬

ছাত্রনেতা বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.