![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
The woods are lovely, dark and deep, But I have promises to keep, And miles to go before I sleep, And miles to go before I sleep.---Robert Frost
পর্ব ১ view this link এবং পর্ব ২ view this link এর পর...
চমৎকার আবহাওয়া আজ। ওল্ড ক্যুবেক সিটিতে পায়ে হাঁটা পথে আমরা অভিযাত্রীরা চলে এলাম The Cathedral-Basilica of Notre-Dame de Québec ( "Our Lady of Quebec City" )। ১৬৪৭ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাথলিক চার্চটি এ পর্যন্ত দুইবার আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। জীবনে এই প্রথম কোন ক্যাথলিক চার্চ-এ ঢুকলাম আমি। আর তার ওপর এত বড় চার্চের দামী কারুকার্য দেখে আমরা অভিযাত্রীরা সত্যিই বিমুগ্ধ। view this link চার্চে ছবি তোলা যদিও নিষেধ ছিল। তারপরেও দেখলাম বাকী সব ভিজিটর ছবি তুলছেন। আমিও তাই আর দেরী না করে 'সেল ফোনের ক্যামেরা' দিয়ে দ্রুত কিছু ছবি তুলে নিলাম। চলুন তাহলে দেখে নেই চার্চের ভেতরের কিছু ছবি:
ক্যুবেক সিটির লোয়ার টাউন থেকে আমাদের ফেরী ছাড়লো দুপুর দুইটায়। এখন পর্যটকদের সিজন কেবল শুরু হয়েছে। তাই দিনে মাত্র একবার এই ফেরী ছাড়বে। নির্ধারিত সময়ে ফেরীতে 'বোর্ড' করার পর ফ্রন্ট ডেকে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে মাইকে ফেরীর কর্তব্যরত এক ভদ্রলোকের বর্ণনায় শুনলাম ক্যুবেক শহরের ইতিহাস। আমাদের ফেরী ক্যুবেক শহরকে পেছনে ফেলে চললো মো মরেন্সি ফলসের ( Montmorency Falls ) উদ্দেশ্যে। যদিও পরদিন আমাদের প্ল্যান ছিল 'বাই রোড' Montmorency Falls দেখতে যাওয়া। কিন্তু সেন্ট লরেন্স নদীর বুকে থেকে Montmorency Falls এর সৌন্দর্য্য অবলোকন করার লোভ সামলাতে পারলামনা। একঘন্টা ত্রিশ মিনিটের এই রিভার ক্রুজ শেষে আবার ফিরে এলাম ক্যুবেক শহরের লোয়ার টাউনে। জনপ্রতি ৪০ ডলার করে নিল অসাধারণ এই নদীভ্রমণে।
ফেরী ছাড়ার স্থান
এখান থেকেই ফেরী ছেড়ে যাবে
এই যে আমাদের ফেরী
ফেরীর ভেতরে ফ্রন্ট ডেকে
ফেরীর ভেতরে ফ্রন্ট ডেকে
ওই ভদ্রলোকের মুখেই শুনছিলাম ক্যুবেক শহরের ইতিহাস
ফ্রন্ট ডেকে বসে চমৎকার আবহাওয়ায় ফেরী জার্নি
ফেরী থেকে দেখা শাঁত্যু ফন্টনেক
ফেরী থেকে দেখা ক্যুবেক সিটি
ফেরী থেকে দেখা মো মোরেন্সি ফলস
ফেরী থেকে দেখা মো মোরেন্সি ফলস
ফেরী থেকে দেখা মো মোরেন্সি ফলস
ফেরী ভ্রমণ শেষে ফিরে চলেছি ওল্ড ক্যুবেক সিটির উদ্দেশ্যে
ফেরী ভ্রমণ শেষে ফিরে এসেছি ওল্ড ক্যুবেক সিটির লোয়ার টাউনে
ফেরীতে নদী ভ্রমণ শেষে পায়ে হেঁটে চলে এলাম ফারমার্স মার্কেটে। এখানে ক্যুবেকের কৃষকরা দূর-দূরান্ত থেকে তাদের স্থানীয় পণ্যসামগ্রী নিয়ে আসে বিক্রির উদ্দেশ্যে।
ফারমার্স মার্কেটের ভেতরে ক্যুবেকের গ্রামে তৈরি ওয়াইন
ফারমার্স মার্কেটের ভেতরে ক্যুবেকের গ্রামে তৈরি ওয়াইন
এই দোকান থেকেই চকোলেট কিনেছিলাম
চকোলেট-এর দোকান
ফারমার্স মার্কেট থেকে আবারও পায়ে হেঁটে চলে এলাম ওল্ড সিটির লোয়ার টাউনে। পুরনো আমলের বাড়িঘর দেখতে দেখতে গলির ভেতর দিয়ে হাঁটছিলাম আনমনেই। হঠাৎ বান্ধবী রেবেকার চিৎকারে ওদের কাছাকাছি গিয়েতো আমিতো পুরোই বাকরূদ্ধ। ভালো করে তাকিয়ে দেখি চোখের সামনে বড় উঁচু এক বিল্ডিং-এ এক বিশাল ম্যূরাল চিত্রকর্ম।
ওল্ড সিটির আপার আর লোয়ার টাউনে পায়ে হেঁটে বেড়ানোর মজাই আলাদা পুরো যেন ইউরোপিয়ান ফ্লেভার। মনে হবে যেন পুরনো কালের কোন ইউরোপিয়ান শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ক্যুবেকের এই পুরনো শহরটির সাথে মডার্ন কানাডার শহরগুলোর কোন মিল খুঁজে পাইনি আমি। চলুন এই ফাঁকে দেখে নেই ক্যুবেক পার্লামেন্টের কিছু ছবি:
এবার আপার টাউনে শাঁত্যু ফ্রন্টনেকের সামনে Dufferin Terrace এর কিছু ছবি:
আরও কিছু ছবি:
আপার টাউন Dufferin Terrace থেকে দেখা সেন্ট লরেন্স রিভার
পার্লামেন্ট থেকে ব্যাটল ফিল্ডে যাবার পথে
পার্লামেন্ট থেকে ব্যাটল ফিল্ডে যাবার পথে
হাঁটতে হাঁটতে আবিষ্কার করলাম আমরা লোয়ার টাউনের Place Royale এর সামনে এসে হাজির। ফ্রেঞ্চ -আমেরিকার জন্মস্থান হিসেবে খ্যাত একটি চতুষ্কোণ স্থানের নাম Place Royale, যেটি ইতিহাসে ভরপুর। ১৬০৮ সালে Samuel de Champlain এই স্থানটিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলে পরিণত করেন। সতেরশ' এবং আঠারশ' শতকে ক্রমেই এই স্থানটি শহরতলী এবং ক্যুবেক শহরের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি জনসাধারণের সামাজিক মিলনস্থল এবং পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচ্য।
Place Royale এর ছবিগুলো:
Place Royale দেখা শেষে আমরা সবাই ক্লান্ত। ঠিক করলাম লোয়ার টাউনের ফিউনিকুলার দিয়ে আপার টাউনে উঠে সোজা হোটেলে ফিরে যাব। কিন্তু আরও চমক অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্যে। হঠাৎ দেখি অ্যালেক্স নেই আমাদের সাথে। খুঁজতে খুঁজতে তাকে পেলাম কাঠের তৈরি অবিশ্বাস্য সব ভাস্কর্যের এক দোকানের ভেতর। দোকানের নাম Flamand Sclupture। এখানে ৬ জন কারিগর দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করে চলেছেন অদ্ভূত সুন্দর সব ভাষ্কর্য। যদিও আগুন দাম প্রায় সবগুলোর। তারপরও আমরা টুকটাক কিছু কেনাকাটা করে নিলাম এখান থেকে।
চলুন দেখে নেই সম্পূর্ণ হাতে তৈরি কাঠের ভাস্কর্যের কিছু ছবি:
সারাদিনের পরিশ্রম শেষে আমরা ক্লান্ত অভিযাত্রীরা ফিরে এলাম আমাদের সেন্ট অ্যানি রোডে'র জাখ দাঁ হোটেলে। রাতের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিলাম পরদিনের ভ্রমণের জন্যে। ওল্ড ক্যুবেকতো দেখা হলো। এবার আমাদের টার্গেট ক্যুবেক শহর ছেড়ে দূরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে অভিযান চালানো। ক্যুবেক অভিযানের পরের দিনগুলোর অভিজ্ঞতা আসলেই জীবনের স্মরণীয় দিনের খাতায় লেখা থাকবে।
পর্ব ৪ view this link
১৫ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২২
পয়গম্বর বলেছেন: ধন্যবাদ মইনুল ভাই। পরের পর্বে আশা করি সাথেই থাকবেন।
২| ১৫ ই মে, ২০১৫ দুপুর ২:২৭
মায়াবী রূপকথা বলেছেন: দারুন ছবিব্লগ। ভালোলাগা রইলো।
১৫ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৩
পয়গম্বর বলেছেন: মায়াবী রূপকথা'কে ধন্যবাদ।
৩| ১৫ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৩
তাহসিন মামা বলেছেন: আপনার ছবি গুলো ছবির মতই সুন্দর। পোস্টে ভালোলাগা..
১৫ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৫
পয়গম্বর বলেছেন: মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। ছবিগুলো আমার কাঁচা হাতের তোলা। জায়গাগুলো সুন্দর বলেই ছবিও সুন্দর এসেছে। এখানে আমার নিজের কোন ক্রেডিট নেই।
৪| ১৫ ই মে, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩৭
মানস চোখ বলেছেন: আপনার সাথে কুইবেক ভ্রমণ ভালোই হচ্ছে !!!!!!
পোষ্টে অনেক ভালোলাগা জানবে্ন !!!!!
১৫ ই মে, ২০১৫ রাত ৯:৪৮
পয়গম্বর বলেছেন: ব্লগে সাথে থাকার জন্যে মানস চোখ কে ধন্যবাদ।
৫| ১৬ ই মে, ২০১৫ সকাল ১০:৩৯
আমিনুর রহমান বলেছেন:
ওয়াও ! সত্যি অসাধারণ লেগে পোষ্টের বর্ননা আর ছবি। জীবন্ত মনে হচ্ছিল সব। ভ্রমণটা আমি করছি মনে হচ্ছিল।
১৬ ই মে, ২০১৫ সকাল ১০:৪৪
পয়গম্বর বলেছেন: চেষ্টা করেছি ছবিগুলোর ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে।মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
৬| ০৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:৩৭
নুরুল পলাশ বলেছেন: মনে হচ্ছে মোট ৫ জন অভিযাত্রী। অাপনাদের ৪ জনের সাথে অদৃশ্য অামিসহ ৫জন। অসাধারন ! এরপর কি ?
০৮ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:১৩
পয়গম্বর বলেছেন: কানাডা আসলে আশাকরি সত্যি সত্যিই আপনি আমাকে সাথে নেবেন কোথাও ঘুরতে গেলে। কি, নেবেন তো?
৭| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:০৯
অপেক্ষায় নাজির বলেছেন: ভাই, এরা মানুষ না আমরা? এরা পারলে আমরা কেন পারিনা ?!!!
৮| ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:১২
অপেক্ষায় নাজির বলেছেন: পলাশ ভাই, মোট ৬ জন অভিযাত্রী, আমাকে বাদ দিলেন কেন? পিএফ ধরাইয়া দেবো কিন্তু
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মে, ২০১৫ দুপুর ১:৫৬
মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন: আপনার সাথে শত বছরের পুরোনো স্থানগুলো দেখে চোখ জুড়ালো। সেন্ট লরেন্স নদী ও মো মোরেন্সি ফলসের রূপ দেখলাম। ছবিগুলো সবমিলিয়ে একটি ভিডিও হয়ে যাবার কথা!