নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তুমি কেমন করে গান করো হে গুনী, আমি অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি ।।

ঠাকুরমাহমুদ

sometimes blue sometimes white sometimes black even red, even golden ! yes dear - its me - i am sky ! color your life, than your life will be colorful

ঠাকুরমাহমুদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি শোক সংবাদ - কিংবদন্তি গণসংগীত শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর আমাদের মাঝে আর নেই।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ ভোর ৬:০৬



-:একটি শোক সংবাদ:-

কিংবদন্তি গণসংগীত শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর গতকাল শুক্রবার ২৩শে জুলাই ২০২১ইং রাত ১০ টা ৫৬ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। পরম করুণাময় আল্লাহপাকের কাছে উনার আত্মার মাগফিরাত প্রার্থনা করছি। ৭১এর মুক্তিযোদ্ধা ৭১ বছর বয়সে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ ডায়াবেটিস ছিলো বলে জানা যায়।

ফকির আলমগীর ষাটের দশক থেকে সংগীতচর্চা শুরু করেন। তিনি বাঁশীবাদকও ছিলেন। দেশের আন্দোলন-সংগ্রামে গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এবং ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।

ফকির আলমগীর ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৫০ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা মো. হাচেন উদ্দিন ফকির ও মাতা বেগম হাবিবুন্নেসা। ফকির আলমগীর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করতেন তিনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান, গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান, আমার কথা, যাঁরা আছেন হৃদয়পটে’ সহ বেশ কয়েকটি বই রয়েছে তাঁর।

ফকির আলমগীর ও তাঁর সময়ের কয়েকজন শিল্পী শুরু করেছিলেন প্রথম বাংলা পপ ধারার গান। তাঁর কণ্ঠের প্রায় সবগুলো গান জনপ্রিয় এবং কিছু গান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বিপুল জনপ্রিয় হিসেবে গণ্য হয়। তাঁরমধ্যে ‘সখিনা, শান্তাহার, জুলেখা অন্যতম।

বাংলার আকাশের এক চিরো উজ্জল নক্ষত্রের চিরো বিদায়ে আমরা মর্মাহত ও গভীর শোকাহত। আমৃত্যু বঞ্চিত মানুষের পক্ষে গান গেয়েছেন এই গণসংগীত শিল্পী। ভূবন ভুলানো দরাজ কণ্ঠের শিল্পী - শত সহস্র মানুষের ভীরে যার কন্ঠ শুনে বলে দেয়া যেতো এটি ফকির আলমগীরের কণ্ঠ! চলার পথে আর কোনো দিন তাঁর সাথে দেখা হবে না! আর কোনো দিন তিনি গান গাইবেন না! গভীর ঘন কালো চোখে দূর দিগন্তে তাকিয়ে আর কখনো বলবেন না - শান্তাহার! ফকির আলমগীরের মতো আরেকটি শিল্পী বাংলার মাটিতে না কখনো আর জন্ম নিয়েছেন - না কখনো আর জন্ম নিবেন! তাঁর শূন্যস্থান চিরোকাল শূন্যই থেকে যাবে।




সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ।
গণসংগীতের মঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন ফকির আলমগীর

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: সামহোয়্যারইন ব্লগ। নির্বাচিত পোষ্টে “উক্ত লেখাটি” স্থান দেওয়াতে সামহোয়্যারইন ব্লগ কর্তৃপক্ষকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।





মন্তব্য ৩৬ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৩৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ ভোর ৬:৩১

চাঁদগাজী বলেছেন:



আরেকজন মুক্তিযোদ্ধার জীবনের সমাপ্তি ঘটলো, সন্মান রলো উনার জন্য।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ ভোর ৬:৫৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




২৩শে জুলাই ২০২১ ইং শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে কোভিড ইউনিটে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। কয়েক দিন ধরে তিনি জ্বর ও খুসখুসে কাশিতে ভুগছিলেন। পরে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন, করোনা পজিটিভ। এছাড়া তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ ডায়াবেটিস ছিলো।

একজন উজ্জল নক্ষত্র ও একজন মুক্তিযোদ্ধার ইন্তেকালে তাঁর প্রতি সম্মান রইলো।

২| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ ভোর ৬:৫২

কামাল১৮ বলেছেন: গভীর শোক প্রকাশ করছি।অনেক অনুষ্ঠানে তার গান শুনেছি । গণসংঙ্গীত গাইতেন।ভরাট কন্ঠছিল তার।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ৭:২০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ভূবন ভুলানো দরাজ কন্ঠের শিল্পী - শত সহস্র মানুষের ভীরে যার কন্ঠ শোনে বলে দেয়া যেতো এটি ফকির আলমগীরের কণ্ঠ! এমন ভরাট কন্ঠ বাংলার মাটিতে আর নেই। আর হবেও না। তাঁর প্রতি থাকবে অনন্ত ভালোবাসা ও চিরোশান্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা।

৩| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ ভোর ৬:৫৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আমরা হারালাম একজন গুণী সংগীতশিল্পীকে।একই সঙ্গে হারালাম একজন বীর সন্তানকে।
বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি।

আশাকরি ভালো আছেন প্রিয় ঠাকুরমাহমুদ ভাই। শুভেচ্ছা আপনাকে।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ৭:২৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



বাংলার মাটিতে এমন শিল্পী আর হবেন না। তাঁর মতো বড় মনের বড় মাপের শিল্পীর শূন্যস্থান কখনো পূরণ হবে না। আমি ভালো আছি। গণসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের জন্য দোয়া প্রার্থনার জন্য অনুরোধ রইলো।

৪| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ৮:১৩

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: এ বিগ হার্টেড ম্যান। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন কন্ঠযোদ্ধা । ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী ফকির আলমগীর এক জন ভালোলাগার মানুষ। করোনা আক্রান্ত হয়ে পরপারে চলে গেলেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:০৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ফকির আলমগীর খুবই বড় মনের ও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। এবং জীবনে তিনি প্রচুর কষ্ট করেছেন - নিজের জন্য অপরের জন্যও। মানুষটি উচ্চগ্রামে কথা বলতে পছন্দ করতেন। বড় ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

৫| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ৮:৫৬

শেরজা তপন বলেছেন: ফকির আলমগীরের সাথে আমার দু'বার মুখোমুখি সাক্ষাত হয়েছিল- তবে সেটা প্রফেশনাল সাক্ষাত! সবসসময় হাই পিচে গান গাওয়ার জন্য তাঁর পারমানেন্টলি ভোকালে সমস্যা ছিল।
নেলসন ম্যান্ডেলার নামের সাথে পরিচয় তাঁর হাত ধরে।
তাঁর সখিনা সিরিজ - ও সখিনা গ্যাছস কিনা ভুইল্যা আমারে বা সখিনা সখিনা কই গেলি জানিনা
নব্ববুইয়ের দশকে আড্ডা জমানোর গান ছিল।
মুক্তিযোদ্ধা ও গুণী এই শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:০৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



উঁচু পর্দায় বাঁধা স্বর বা কণ্ঠ - ফকির আলমগীরের গানগুলো উচ্চগ্রামে গাওয়া। আপনি সঠিক - ফকির আলমগীর উচ্চগ্রামে কথা বলতেন এবং গানও গাইতেন উচ্চগ্রামে আর তাই তাঁর পারমানেন্টলি ভোকালে সমস্যা ছিলো অথবা উনার রাশভারী কন্ঠই হয়তো এমন ছিলো।

শান্তাহার গানটি আমার খুবই প্রিয়। ফকির আলমগীর খুবই বড় মনের ও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। এবং জীবনে তিনি প্রচুর কষ্ট করেছেন - নিজের জন্য অপরের জন্যও। মানুষটি উচ্চগ্রামে কথা বলতে পছন্দ করতেন। বড় ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

৬| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ৯:৫৯

শাহ আজিজ বলেছেন: যেই আই সি ইউ র কথা শুনলাম অমনি মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল । আমরা খুব কাছাকাছির মানুষ ছিলাম , শিল্পজগতের আত্মজ । বিদায় স্বজন ।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:১৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




দুঃখ এই, অত্যন্ত বড় হৃদয়ের মানুষটি বলা নেই কওয়া নেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তাঁর সাথে আর কখেনো দেখা হবে না। কথা হবে না। এক সাথে পথ চলা হবে না। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

৭| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:১৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
উনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই নন, আজম খানের মত উনিও দৃঢ় ভাবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধরণ করতেন।
যুদ্ধাপরাধী আলবদরদের সর্বচ্চ শাস্তির দাবিতে সবসময়েই সোচ্চার ছিলেন।
ওনাকে লাল সালাম।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:২১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ফকির আলমগীর, আজম খান, ফিরোজ শাঁই, লাকি আকন্দ, হ্যাপি আকন্দ বাংলাদেশের গানের জগতের রাজা ছিলেন। ফকির আলমগীর খুবই বড় মনের ও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। এবং জীবনে তিনি প্রচুর কষ্ট করেছেন - নিজের জন্য অপরের জন্যও। মানুষটি উচ্চগ্রামে কথা বলতে পছন্দ করতেন। বড় ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

৮| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:৪৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: মহা তারকার মহা প্রয়াণ :((

দরাজ গলায় মাটি মানুষের কাছে গান গেয়ে সকলের হৃদয়ে স্থায়ী আসন আছে উনার।
আল্লাহ উনার বিদেহী আত্মাকে শান্তি দান করুন
মুক্তির প্রার্থনা রইলো

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১১:০২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




সত্যি সত্যি ফকির আলমগীর মাটির মানুষ ছিলেন। উদার, বড় মনের এবং বড় মাপের মানুষ ছিলেন। তাঁর প্রতি থাকবে অনন্ত ভালোবাসা ও চিরোশান্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা।

৯| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:০৭

রাজীব নুর বলেছেন: এই করোনা কালের আগের কথা।
আমি আমার বাসার কাছে বড় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। তখন গাড়ি করে ফকির আলমগীর যাচ্ছিলেন। ফুটপাতে একটা ৬/৭ বছরের বাচ্চা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। দেখলাম- তিনি গাড়ি থামিয়ে বাচ্চা মেয়েটার সাথে খুনসুটি করলেন। মেয়েটা খিল খিল করে হাসলো।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৩:২৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




নিরহংকারী ফকির আলমগীর মানুষের সাথে সহজে মিশতেন এবং দূর থেকে তাঁর কথা শোনা যেতো কারণ তিনি উচ্চগ্রামে কথা বলতেন। খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর প্রতি থাকবে অনন্ত ভালোবাসা ও চিরোশান্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা।

১০| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:২৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সরি ভাই। প্রথম কমেন্টে বিষয়টি উল্লেখ করা দরকার ছিল।

ওনার মাগফিরাত কামনা করছি।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৩:২৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




শিল্পীর প্রতি আপনার ভালোবাসা সব সময় অগ্রগণ্য। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। তাঁর প্রতি থাকবে অনন্ত ভালোবাসা ও চিরোশান্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা।

১১| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:৪৫

চাঁদগাজী বলেছেন:





শেখ হাসিনার গুডবুকে ছিলেন তিনি?

২৪ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৩:৩০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

ফকির আলমগীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। এ ছাড়া বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি, জনসংযোগ সমিতির সদস্যসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। সংগীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘একুশে পদক’, ‘শেরেবাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদ্দীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘গণনাট্য পুরস্কার’, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক মহাসম্মাননা’, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার’সহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। - (সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ)

২৪ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১০:৩১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



জ্বী তিনি গুডবুকে ছিলেন। তিনি গুডবুকে থাকার মতোই মানুষ ছিলেন। ফকির আলমগীর সাহেব কখনো দল বদল দলাদলি কানামাছি খেলেননি তাই বাংলার রাজনীতি তাঁকে ছুতে পারেনি। তিনি তাঁর ঋষজ দল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি সকল সরকারের সময়ই সম্মানের ব্যক্তি ছিলেন। অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মানী পেয়েছেন।

১২| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১:২৫

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

দিন পাঁচেক আগে আমার জেঠা (বাবার বড় ভাই) করনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। করনা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে খুব, আমরা গা করছি না।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৩:৩৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আপনার জেঠা ও ফকির আলমগীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। করোনা প্রকোপ বাংলাদেশে কোন দিকে মোড় নিবে তা আগামী ১০-১৫ দিনে বোঝা যাবে। ঈদে লক্কর ঝক্কর লকডাউন আর ভীর করে বাড়ি ফেরা ও ঢাকা ফেরা উৎসব আমাদের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে। জানিনা পরিস্থিতি কি হবে।

১৩| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ২:১৪

নিঃশব্দ অভিযাত্রী বলেছেন: খুব উচু দরের একজন শিল্পী ছিলেন তিনি।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৩:৩৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




তিনি শুধু শিল্পী হিসেবে নন একজন মানুষ হিসেবেও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

১৪| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ২:৩৩

হাসান জাকির ৭১৭১ বলেছেন: বিনম্র শ্রদ্ধা।
উনি আমার এলাকার লোক।
তার গান সরাসরি অনেক শুনেছি।
আমার খুব প্রিয় মানুষদের একজন।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৩:৪১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




তাঁর সাথে যে কথা বলেছেন তিনিই তাঁকে মনে রাখবেন। অত্যন্ত দড়াজ গলার মানুষ ছিলেন এবং বড় হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। তাঁর গাওয়া “শান্তাহার” গানটি আমার খুবই প্রিয় একটি গান। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

১৫| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ বিকাল ৫:২৭

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ফকির আলমগীর খুবই বড় মনের ও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। এবং জীবনে তিনি প্রচুর কষ্ট করেছেন - নিজের জন্য অপরের জন্যও। মানুষটি উচ্চগ্রামে কথা বলতে পছন্দ করতেন। বড় ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

১৬| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।
ফকির আলমগীরের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

তাঁর এই চির বিদায় ক্ষনে স্মৃতির দোয়ারে ভেসে উঠে কিছু মধূর ক্ষনের কথা,
আশির দশকের প্রথমদিকে দ্রুতযানে আমরা কয়েকজন কলিগ একত্রে
ঢাকা হতে ময়মনসিংহ এগ্রি ভার্সিটিতে যাচ্ছিলাম একটি কৃষি কর্ম বিষয়ক
প্রশিক্ষনে, আমি তখন বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রনালয়ের একজন
গবেষক হিসাবে কামলা গিরিতে নিযুক্ত ছিলাম। ট্রেনে আমাদের এয়ার কন্ডিশন
কামড়ায় হুরমোর করে উঠলেন ফকির আলমগীর তাঁর ব্যন্ড পার্টি নিয়ে ।
ঢাকা ভার্সিটিতে পড়াকালে আগেই তার সাথে ছিল পরিচয় । তাঁর
ও তাঁর দলের আগমনে আমরা বেজায় খুশী । প্রায় তিন ঘন্টার
জার্নিতে মাঝে মধ্যেই হয়েছিল অলোচনার ফাকে ফাকে
কিছু গানা বাজনা । তিনি যে কত অমায়িক ও বন্ধু বৎসল
ছিলেন তা তার পরিচিত সকলেই জানেন ।

পরে তার কন্ঠে গাওয়া গান শুনতাম নিয়মিতই ।
মনে পড়ে কোন এক ১লা মে'র আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে
ঢাকা শহড়ের উন্মুক্ত পার্কে বিশাল জনসমাবেশে
তাঁর কন্ঠে গাওয়া ( মুল গানটি হেমাঙ্গ বিশ্বাসের)
নাম তার ছিল জন হেনরি- গানটির কথা ও সুর এখনো মনে আছে ।
জন হেনরি, জন হেনরি
নাম তাঁর ছিল জন হেনরি
ছিল যেন জীবন্ত ইন্জিন
হাতুড়ির তালে তালে শিল্পী
খুশিমনে কাজ করে রাত দিন
হো হো হো হো
খুশিমনে কাজ করে রাত দিন

এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে
কোনও এক ভোরে, সুড়ঙ্গের ভেতর শ্বেতাঙ্গ ঠিকাদার ও শ্রমিক সর্দারদের সামনে শুরু হয়েছিল
মানুষের সঙ্গে মেশিনের লড়াই। লুইস টানেলের পাথর খুঁড়ে গভীর থেকে আরও গভীরে যাবার লড়াই
করে চলেছিলেন একজন হার না মানা কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জন হেনরি। হাজার হাজার কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকের জীবনে
অরুণ প্রভাত আনার লড়াই। বাধার বিন্ধ্যাচল সরানোর লড়াই। টানেলের ডানদিকে পাথর কাটছিলেন
জন হেনরি। বাঁদিকে পাথর কাটছিল শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক চালিত স্টিম-ড্রিল মেশিন। সুড়ঙ্গের বাইরে অপেক্ষা
করছিল ম্লান মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকেরা। গালে হাত দিয়ে পাথরে বসে ছিলেন হেনরির স্ত্রী
মেরি ম্যাকডেলিন। ভয়ে থরথর করে কাঁপছিলেন তিনি। কান পেতে শুনছিলেন, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে
ভেসে আসা হেনরির হাতুড়ির শব্দ.ঠক.ঠক.ঠক।
'অগ্নিগিরি হল রুদ্ধ, থেমে গেল হাতুড়ির শব্দ.।'

(মেশিনের সাথে লড়াই এ শেষ পর্যন্ত জিতেছিলেন জন হেনরী )
তেমনি ২৩ শে জুলাই ২০২১, রাত ১১ টায় স্তব্দ হলো বাংলার আরেক শক্তিমান
মানবদরদি ফকির আলমগীরের দরাজ সুরেলা কন্ঠ, হাসপাতাল বেডে লড়াই করে
নিয়তির কাছে নীজকে সমর্পন করেও বিজয়ী হয়েছেন নির্যাতিত মেহনতি শ্রমিক জনতার কাছে।


নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) কেবিনের বাইরে অপেক্ষমান তার স্থ্রী ও সন্তানেরা শুনতে পেয়েছেন
তাদের প্রিয় মানুষটির জীবনের স্পন্দন হয়ে গেছে চিরতরে স্তব্ধ । সংবাদ শুনে আমারাও হয়েছি ব্যথাতুর।
শোক সন্তপ্ত্ তাঁর পরিবার পরিজনদের প্রতি রইল সমবেদনা ।

এই মর্মান্তিক দু:সংবাদে মনটা হয়ে গেছে বিষাদগ্রস্ত । আমরা আর শুনবনা জীবন্ত ফকিরের কন্ঠে
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান, প্রতি বছর ১লা মে'তে ফকির আলমগীরের কণ্ঠে বাজবেনা
আর হেনরীদের মত নিগৃহীত শ্রমিকদেরকে নিয়ে গাওয়া আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের গান ।
গণসংগীতের বর্তমান হয়তবা হয়ে যাবে অতীত, অথচ গনসঙ্গিতের অতীতকে তিনিই টেনে নিয়ে
এসেছিলেন বর্তমানে । ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ তার গানের গানের খাতা ও কথা চিরভাস্কর
হয়ে থাকবে বাংলার বুকে। এমন আরেকজন ফকিরের আশায় আমাদের হয়তবা চেয়ে থাকতে
হবে অনেকদিন এ প্রজন্মের মেধাবী শক্তিমান জনদরদী গনসঙ্গিত গায়কের আগমনি পথের
দিকে চেয়ে চেয়ে ।

অপনার প্রতিও রইল শুভেচ্ছা





২৪ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১১:২২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ভাই সাহেব, ফকির আলমগীর পথ চলার মানুষ ছিলেন আর তাই হয়তো তাঁর সাথে পথ চলতে চলতে পরিচয়। আমার সাথেও অনেকটা পথ চলতে চলতেই পরিচয় - চলার পথেই পরিচয়। মানুষটি বড় ভালো মনের মানুষ ছিলেন। নিরহংকারী ও আলাপপ্রিয়। শিল্পী সমাজের একটি বড় দোষ আছে অহংকার! কিন্তু ফকির আলমগীর কখনো অহংকারী ছিলেন না। অসংখ্য মানুষের সাথে ফকির আলমগীরের পরিচয় সেগুন বাগিচা প্রেসক্লাবে অথবা সচিবালয়ের ক্যান্টিনে। ক্যান্টিনে দরাজ কন্ঠে কেউ একজন ক্যান্টিন বয়কে বলছেন “সেলিম বাবা আমারে ডাল দিবা না, নাকি আরেক বাটি তরকারি দিবা” গলার স্বর শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখা গিয়েছে বাবরি চুলে রঙিন শার্টের হাতা গুটিয়ে ভাত খাচ্ছেন আমাদের সকলের প্রিয় ফকির আলমগীর।

তাঁর সবগুলো গান বাংলার মাটি ও মানুষের জন্য। তাঁরমধ্য তিনি জন হেনরি ও নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়েও গান করেছেন। বাংলার মাটিতে ফকির আলমগীর একজনই ছিলেন। আর কোনোদিন তাঁর সাথে চলার পথে দেখা হবে না। আর কোনোদিন পথচলা হবে না একসাথে। মাটির মানুষ মাটিতে শুয়েছেন চিরোনিদ্রায়।

শোক সন্তপ্ত তাঁর পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা রইলো। ও তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত চেয়ে প্রার্থনা করছি।

১৭| ২৪ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৯:২৪

রানার ব্লগ বলেছেন: আমার প্রীয় একজন শিল্পি যার গান রক্তে আগুন ধরায়, দোলা দেয় বিদ্রোহী মনে।

২৪ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১১:৪৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ফকির আলমগীর মাটির মানুষ ছিলেন। আজ মাটিতে চিরোনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। চিরোবিদায় ফকির আলমগীর। উনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

১৮| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৩৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: করোনার করাল গ্রাসে আরেকটি জীবনের করুণ অবসান!

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রখ্যাত লোকশিল্পীর জীবনাবসানে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি এবং তার মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি গণমানুষের গান গাইতেন, এজন্য তার গানগুলোও গণমানুষের মুখে মুখে থাকতো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.