| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বেশ রকমের পয়সাওয়ালা সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মেছি আমি, বড় যত্নের চরণ আমার।
না, তা নয়। হলে কী করতাম, জানি না। অতটা যত্নের চরণ আমার নেই। তাই পায়ে হেটেই চলাচল করি।
এই ব্যবধান-গভ© শহরে প্রতিদিন যা চোখে পড়ে- (রেল লাইনের পাশে টিন দিয়ে ঘেরা ছোট্ট কুড়েঘরে বাবা, মা, প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে ও মেয়ে সহ প্রায় ৫-৭ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের বাস যেখানে নেই কোন পানি কিংবা পায়খানার মত অপরিহায© ব্যবস্থা, ব্যস্ত পথচারীর পায়ের ধুলি ওড়া ফুটপাতে পড়ে মৃতদেহের মত জীবীত দেহের ক্লান্তি ঝরানো নিদ্রা, ডাষ্টবিন থেকে তুলে পঁচা খবার দিয়ে পেটের আগুন নিবারণ, বয়সের ভারে হাত-পা কাঁপা ৭৪ বছর বয়সী বৃদ্ধের রিক্সা চালানো—ইস!!!!) তা যদি কোন রকমে মাথা থেকে সরিয়ে না দেই তাহলে বুকটা ভারি হয়ে ওঠে।পাষাণ হয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে বাধ্য হই। কিন্তু অনুভূতিকে কতক্ষণ আর সান্তনা দিয়ে রাখা যায়। আজ আর পারছি না। কেউ কি আছে আমাকে একটু সান্তনা দেয়ার?
প্রতিদিনের প্রতি মুহূর্তের অভাবের নিস্পেষনে আর নিষ্ঠুরতার আঘাতে আজ বিপন্ন তার জীবন। বাস্তব জীবনের কোন পাওয়াই তাকে আশ্রয় দেয়নি। রাস্তার দুপাশে সারি সারি দোকান। দূর দূর পয©ন্ত কোন ফাঁকা নেই। দোকানের সামনে ফুটপাথ। তারপর রাস্তা। ফুটপাথ আর রাস্তার নিচু জায়গাটাতে ময়লাজড়ানো কাপড় পরা মহিলাটি শুয়ে ছিল।
আজ ঈদের দিন। পুরো শহরের চেহারা উচ্ছলতায় পরিবর্তিত। কিন্তু তার শহরটি একই চেহারায় ছিল। আমি দেখলাম- হঠাৎ সে উঠে বসল। পাগল নয় সে। পাগল হলে পরনে যেটুকুই নোংরা কাপড় ছিল তা দিয়ে শরীরটা কোনমতে ঢেকে রাখার একরকম ব্যাথ© চেষ্টা আমার চোখে পড়ত না। এবং তার আচরণও তাই সাক্ষ্য দেয়।
উঁচু ফুটপাথের সাথে একান্তভাবে মিশে গিয়ে আস্তে করে নীচ থেকে সে তার আবরণটুকু এমনভাবে এতটুকু পরিসরে সরিয়ে নিল যে, প্রবাহিত পানির ধারা চোখে না পড়লে বোঝা যাবে না যে, সে কিছু একটা করছে। আমি আবার বলছি, আমি তাকে যেভাবে যেটুকু দেখেছি তাতে আমি নিশ্চিত, সে কোন পাগল নয়।
ব্যক্তিত্ত্ব, ইজ্জত, নিরাপত্তা ও লজ্জার পশ্নে সৃষ্টিগতভাবেই নারীর জন্য এমন অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনের মুহূত© ও পরিবেশটা কতটা নিজ©ন ও গোপন হতে হয় তা সবারই জানা আছে। কিন্তু এই নারী প্রাণটি কোন নারী অধিকারটুকু ভোগ করছে জানি না। বেশ, বাদ দিলাম ওসব এবং এখানেই শেষ করতে পারতাম। কিন্তু তারপর যা ঘটল, কীভাবে সেটা শুরু করি আর শেষ করি-
মহিলাটির প্রয়োজন শেষ হতে পারেনি, এরই মধ্যে কোন এক ভদ্রলোক (বড় কোন ব্যবসায়ী) পরিচ্ছন্নতার দাবীতে একখানা পাথর টুকরা ছুরে মারে। “মা” বলে একটি চিৎকার দিয়ে দৌড়ে সরে যায় সে।
আহ! একী! একী দেখলাম আমি! হায় পৃথিবী! হায়রে মানুষ!
তারপর কীভাবে যে বাকী পথটুকু অতিক্রম করেছি, কখন পথ শেষ হয়ে গেছে, সত্যি কোন খেয়াল আমার ছিল না। এমন আর কত! আর কত !!!!
১৬/১০/১৩
©somewhere in net ltd.