নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একাকীত্ব যার নিত্য সঙ্গী, তার সমপর্কে কিবা কথা থাকতে পারে বলুন?

রিপভ্যান উইংকল

ভার্চুয়াল জগতে একসময় সারাদিন পড়ে থাকতাম।সময়ের বিবর্তনে সব ছেড়ে দিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে এলার্জি আছে আমার। সময় কাটাতে এখানে আসলাম। কিছু জানতে,শিখতে,সেয়ার করতে। এইতো

রিপভ্যান উইংকল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্ষনকাল

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০৪

সকাল গড়াইয়া,দুপুর হইয়া গিয়াছে।সুর্যটাকে ক্রমশ পশ্চিম আকাশে ঠেলিয়া,বিকেল বানানোর ব্যার্থ চেস্টা করিতেছিলো প্রকৃতি। গত রাত্রি হইতে আমার জ্বর বিন্দু মাত্র কমিবার বালাই নেই। ডাক্তার আসিয়া সাধ্যমত চেষ্টা করিয়া গোটা কয়েক ওষুধ লিখিয়া গিয়াছেন।আর তাহার ব্যাবস্থা মোতাবেক আমার পরিচর্যা চলিতেছিল।তাহাতে আমার অবস্থার উন্নতি হইতেছিলো বলে আমার মনে হইতেছিলোনা।পুর্ব দিন তাহার সহিত ইস্কুলে বৃষ্টিতে ভিজিয়াছিলাম।সে বারংবার না করিয়াছিলো।কিন্তু কে শুনে কার কথা।

বন্ধু মারফত শুনিয়াছি তাহার জ্বর আসিয়াছে।কিন্তু ইহা আমার জ্বরের নিকট তুচ্ছ মাত্র। আরো শুনিয়াছ গত কাল হইতে নাকি রোজা রাখিয়াছে আমার জ্বর ভালোর জন্য।যাহোক,বোধ হয় সে আমাকে বড্ড রকম ভালোবাসিয়া ফেলিয়াছিল।

সেদিন কাটিয়া গেল।আমার অবস্থার সামান্য পরিবর্তন বোধ হয় ঘটিয়াছিল। না হইলে কি আর মস্তিস্ক ঠিক মত কাজ করে?

আমার জন্য সে খুব উতলা হইয়া পড়িল। শুনলাম সে আমাকে পরের দিন দেখিতে আসিবে। কিন্তু তাহার আগমন বার্তা শুনিয়া আমার ভয় ঠেকিয়েছিল।যদি মাতা জননী কে বলিয়া দেয়, আমি অকারনে ছাতা ফেলিয়া বৃষ্টিতে ভিজিয়াছি তাহলে আমার অবস্থা বেগতিক হইবে।

যাহোক দুপুরের দিকে সে আসিলো।একা নয় বান্ধবি সমেত।বিবাহের পুর্বে একা আসা ঠিক নয়। লোকে নানান কথা বলিবে।অবশ্য আসাই ঠিক নয়।কিন্তু মনের টানের নিকট যেন মানব সমাজ এই যাইগায় মার খাইয়াছে। নাহলে কি লাইলী মজনুর নিকট,শিরি ফরহাদের নিকট, ছুঁটিয়া চলে?

সে আসিয়া আমার পাশে বসিলো।মাতা জননী তাহার নিকট আমার যত দোষ বর্ননা করিতে লাগিলো।ইহা শুনিয়া সে চুপি চুপি হাসিতে লাগিলো।কারন সেও সমান অপরাধী। আমার এই অন্যায়ের সেও সমান ভাগিদার।

মাতা যখন রান্না করিতে ব্যাস্ত তখন আমার বান্ধবি গন ঠাট্টা তে মশগুল।এভাবেই কতক্ষন কাটিয়েছি আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্ক তাহা আন্দাজ করিতে পারেনাই

খাবার সময় আমার খাবার অরুচি,বাছিয়া বাছিয়া খাবার ব্যাপারে আরেক ধাপ দোষ বর্ননা করিয়া মাতা জননী ক্ষান্ত হইলেন।

অবশেষে বিদায় নেবার পালা। তাহার চোক্ষু জলে ভরিয়া উঠিল।তাহা কিঞ্চিত খেয়াল করিলেই দেখা যাইতো।যাইবার কালে আমার পকেটে কয়েক খানা চকলেট গুজিয়া দিয়া দ্রুত প্রস্থান করিল।

আজ সে মারা গিয়াছে। আমার নিকট সে মৃত।কিন্তু চকলেট গুলা আজো মরে নাই।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.