| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এসব কোন ব্যাপার না। রাজনীতিতে এসব হয়ই। এদের উপর আমার আস্থা এরকমি।
গণজাগরণ মঞ্চের শুরুটা যেভাবে হয় তা আমাদের সবারই জানা। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শুরু হওয়া একটা গন আন্দোলন সারা জাগিয়ে দেয় পুরো দেশকে। সমাজের প্রায় সমস্ত মহল তাকে সাধুবাদ জানায়। দল-মত নির্বিশেষে, এমনকি বিএনপির পক্ষ থেকেও আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জানানো হয় তখন। হবে না কেন, আন্দোলনটা শুরু হয়েছিল সরকারের বিরুদ্ধে। বিএনপির উচিত ছিল, আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিচারের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আওয়াজ তোলা। তাহলে আর জনমনে প্রশ্ন জাগতোনা। যাইহোক, তারা কিন্তু সংহতি প্রকাশ করতে যায়নি। ভয়টা ছিল জামাতকে ফেলে ভোটের বা ক্ষমতার রাজনীতিতে যদি হেরে যাই। অনেক চিন্তা করে, দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করে ঘুরে দাঁড়ালেন শাহবাগ বিমুখে। ঘটনা শুরু হল তখনই। ক্ষমতাসীন সরকার লুফে নিল মঞ্চটি। যেহেতু বিএনপি নাই, সেহেতু মঞ্চে দেখা যায়, লীগ, লীগ মাইন্ডেড, বাম
ইত্যাদিদের। নামকরন হয়ে যায়, এটা সরকারি মঞ্চ। এই আন্দোলনের হাজার হাজার কর্মীর মধ্য থেকে রাজীব নামক এক কালপ্রিটকে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করা হয়। এবং প্রমান করা হয় এই আন্দোলনে যারা
জড়িত তারা সবাই রাজীব। রাজীব হত্যার কারণ ছিল যে, সে ইসলাম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়। অবাক ব্যাপার হল যে, রাজীব বা তার দোসররা দীর্ঘ দিন ধরে এই জাতীয় লেখা লিখে আসছিল। আমি প্রায় এক দের বছর আগে থেকে দেখে আসছি ফেসবুক বা ব্লগে এই জাতীয় লেখা। এমনকি শিবিরেরাও এ বিষয়ে আবগত ছিল, যা কিনা তাদের কমেন্ট থেকে দেখা যায়। আমার যদি এসব কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেখে বুক কেঁপে ওঠে,
তবে জামাত শিবির বা তাদের গণমাধ্যম কেন দীর্ঘদিন নীরব ছিল। তাদের কি কষ্ট হচ্ছিল না, নাকি ট্রাম কার্ড চালার সময় হয়েছিল না। আমার মনে হয় গণজাগরণ মঞ্চ না হলে বা যুদ্ধাপরাধীর বিচার না চাইলে, কেউ এ বিষয় আমলেই নিত না। ব্লগের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারন লোকের কানে দেয়ার কেউ কোন প্রয়োজন মনেই করত না। উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দেশপ্রেম বা ধর্মীয় অনুভূতি শুন্যের কোঠায়। এরা শুধু দেখে যে জনগণের অনুভূতি কোথায় আছে, আমরাও সেখানে আছি।
অদ্ভুত ব্যাপার যে আজ এ দেশে ইউটিউব বন্ধ। কারন, সরকার কি খুব ধার্মিক? না তানা। বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ ইউটিউব ব্যাবহার করছে, শুধু মাত্র যেই পেইজগুলতে ধর্ম অবমাননাকারী চিত্র আছে সেগুলো বন্ধ করে। আর আমরা পুরোটাই বন্ধ রেখেছি। এদিকে আমারদেশ পত্রিকা ধর্ম অবমাননার রগরগে উপস্থাপন তুলে ধরল তাতে কিছু হলনা। একবারও ভাবলোনা এভাবে বললে ধর্মপ্রান মুসলিমের মনে আঘাত পরবে।
সব টিভি চ্যানেল গুলতে কোন রক্ত বা কাটা ছেরা মানুষের ছবি থাকলে তা ঘোলা করে দেখানো হয় যেন মানুষের মনে আঘাত না পরে। গণমাধ্যমের রুচিবোধ যদি উস্কানি মুলক হয় তা খুব ভয়ংকর। আজ যদি প্রভার স্ক্যানডাল ভিডিও বা সাইদীর সাহেবের ফোনালাপ সারাদিন টিভিতে পুরপুরি দেখানো হয়, তখন জাতীয় লজ্জা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? আসুন আমরা রাজীবের ঘটনা পুরপুরি তুলে ধরতে, ধর্ম অবমাননা নিয়ে একটা বিজ্ঞাপন বা নাটক বানাই, এবং ঘরে ঘরে সে নাটকের চর্চা করি, ডায়ালগ মুখস্ত করি, শিশুদের শিখাই, আরও কত কি!
আমি সরকারের সাফাই গাইবো না। সরকারের দূরদর্শিতা এবং নীতিবোধের অভাবের কারনে আজ এই দশা। ভোটের রাজনীতি যারা করে একটু লোকের ভিড় দেখলেই তারা ধান্দা খোঁজার চেষ্টা করে। বিএনপির অনুপস্থিতির কারনে গণজাগরণ মঞ্চের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তা নিজেদের কৃতিত্ব বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালায় সরকার। আজ ধর্ম জড়িত হয়ে প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই এদের পক্ষ ছেড়ে দিলেন। আবারও
ভোটের রাজনীতি। হয়তো বিএনপি আবার এদের পক্ষ নেবে বা নেবেনা বা সবাই মিলে এই আন্দোলনকে ভুয়া বলবে বা কালের গহবরে হারিয়ে যাবে এই আন্দোলন, কিন্তু সেইযে প্রথম পাঁচদিন, হাজার হাজার মানুষের স্বতস্ফুর্ত চেতনা নিয়ে বোকা সেজে গিয়েছিল, সেই চেতনা মরবার নয়, থেকে যাবে যতদিন বাংলাদেশ আছে, আবার আসবে, হয়তো এ প্রজন্মে নয় পরবর্তী প্রজন্মর কোন এক বসন্তে......
২|
০২ রা এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৯:৫৬
কালবৈশাখীর ঝড় বলেছেন:
শাহাবাগ ফুরিয়ে যায় নি, যেতে পারে না।
কৌশলগত কারনেই বিএনপির হরতালে মুখমুখি থাকা এড়িয়ে চলা হচ্ছে, তাই সমাবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। শাহাবাগে নেক্সট বড় সমাবেশ হবে শুক্রবার বা সুবিধাজনক সময়ে। এরপর হয়তো আবার বিরতিতে যাবে।
এর মানে এইনা যে আমরা ভুলে যাব ফাঁসির দাবির কথা।
আবার উল্টা পাল্টা রায় আসলে আরেকটা শাহবাগ তৈরী হতে ১ ঘন্টার বেশি লাগবে না।
জয় বাংলা।
Click This Link
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৯:৫২
আসাদুজ্জামান সোহাগ বলেছেন: শাহবাগ হতে পারতো আমাদের ভবিষ্যত রাজনীতির পথপ্রদর্শক সে মাঝখানে পথ হারিয়ে আমাদেরকে অবিশ্বাসের পথে নিয়ে গেছে। আমাদেরকে দ্বিধা বিভক্ত করেছে শুধু মাত্র শাসক শ্রেনীর কিছু পাচাটা গোলামদের কারনে। আফসোস আমরা আবার পিছিয়ে যাচ্ছি। এই তরুণ সমাজের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এরকম করে আর এক হতে পারবো কিনা আমার জানা নেই। শুধু মাত্র আমাদের ভূল নেতৃত্বের কারনে আমরা হয়তো আরও ৪২ বছর পিছিয়ে যাচ্ছি বা গেলাম।।!
তবু আশা করবো আপনার কথাই যেন সত্য হয়।।
দেখে নিতে পারেন!