নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নৈতিকতার ছত্রে’র নিচে শান্তির ফেরি করে যেতে চাই চিরকাল, সবার জন্য। কিন্তু অন্ধ যামিনী’র ভন্ড সংস্রব ও আলোক দিবসের ধূলিস্রোত উৎপাতন করতে চায় সেই ছত্রকে,তবুও আমি চলৎ দিবানিশি । কারণ আমি বাংলাদেশি, মুক্তিযুদ্ধ আমার প্রেরণা।

ডব্লিউ এস

ধর্মের অপপ্রয়োগকারি ও অপরিণামদর্শী যাদের অধর্মে ধর্ম আজ কদাকার, তাদেরকে বিশোধন করে ধর্মের বিশুদ্ধতা আনয়ন হতে পারে সমাজসংস্কারের অনুপম পদ্ধতি।

ডব্লিউ এস › বিস্তারিত পোস্টঃ

জঙ্গিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে টেকসই ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ

১৮ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৫

বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য জঙ্গি ও ধর্মীয় উগ্রসন্ত্রাসবাদ খুব উদ্বেগজনক, এগুলো একটি সুষ্ঠ রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে ব্যাটল ফিল্ডে রূপান্তরিত করতে পারে। জঙ্গিমুক্ত রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও জনগণের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ও বিস্তার বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রের সুস্থিতি বজায় রাখার জন্য ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংবিধান অপরিহার্য বিষয়। একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুসারী তাদের স্ব স্ব ধর্ম নিবিড়ভাবে পালন করে যেতে পারে । কারও ধর্ম পালনে কেউ বাধা হয় না এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্ভীদের মাঝে পরস্পর সম্প্রীতির বন্ধন তৈরী হয়। এই প্রক্রিয়া অব্যাহতভাবে চলতে থাকলে জনগনের মাঝে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের উথান হয় না ,বরং বিভিন্ন ধর্মের জনগনকে নিয়ে একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র সম্ভাবনা ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পায়।
মানবতার ও শান্তির ধর্ম এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করার জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে যুগে যুগে অনেক মুসলমান ধর্ম প্রচারক,সুফি, সাধক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অনেক সংগ্রাম করেছিলেন । ফলশ্রুতিতে বাংলার দুই বৃহৎ সম্প্রদায় মুসলমান ও হিন্দুরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে আসছেন, এমনকি এক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্টানে আরেক সম্প্রদায়ের দাওয়াত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এই সম্প্রীতি’র সংস্কৃতি দীর্ঘদিন থেকে প্রবাহিত। অন্যদিকে এই সম্প্রীতির শিকল ছিন্ন করার জন্য কথিত ধর্মান্ধ ব্যক্তি,গোষ্ঠী,দল ও সংঘটনের বিকাশ গঠতে থাকে যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা ও অপব্যবহার করে নিজেদের রাজনীতিক ফায়দা হাসিল এবং অশুভ কর্তৃত্ববাদ স্থাপনের জন্য তারা উগ্র সন্ত্রাসবাদের ও সাম্প্রদায়িকতার আশ্রয় নেয়। কিন্তু এতদিন তারা বেশ সফল ছিল না তবে গত কয়েক বছর যাবত থেকে তারা তাদের অস্তিত্বকে দৃঢ়ভাবে জানান দিচ্ছে ও বিস্তার করতে চাইছে। যা একটি অসাম্প্রদায়িক সুষ্ঠ রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক সংখ্যানুপাতে ভারতে ৮০.৫% হিন্দু ও ১৩.৪% মুসলমান বাস করে ।এখানে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মুসলমানরা সংখ্যালঘু। রাষ্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের কথা ভেবে তাদের ধর্মকে যদি ভারতীয় প্রজাতন্ত্র সংবিধানের মূল ধর্ম হিসবে নিয়ে আসা হয় তাহলে সেদেশের কিছু হিন্দু উগ্রবাদীদের দ্বারা সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়কে নির্যাতনের কৌশল বা পথ বের হওয়া সহজ হয়ে যায়। অপরদিকে বাংলাদেশে ৮৬.৬% মুসলমান ও ১২.১% হিন্দু বসবাস করে ,অর্থাৎ এখানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ও হিন্দুরা সংখ্যালঘু । এখানেও যদি সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের ধর্মকে সংবিধানের মূল ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় তাহলে তার সুযোগ নিয়ে কিছু ধর্ম অপব্যবহারকারী দ্বারা তাদের অন্ধ কুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এমনকি নিজ সম্প্রদায়ের সঠিক ধর্মীয় পন্হা অনুসারিদের উপর বিভিন্ন মাত্রার নির্যাতন ও হত্যা বৃদ্ধি পায়, যা একটি উন্নয়নশীল রাষ্টের জন্য হুমকিস্বরুপ।
গণতান্ত্রিক উন্নত বিশ্বের দিকে অবলোকন করলে দেখা যায় যে সেখানে ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধানকে ভিত্তি করে বিভিন্ন ধর্মের লোক তাদের স্ব স্ব ধর্ম সুষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে সুন্দরভাবে পালন করে আসছে এবং বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীরা সহানুভূতি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে করে তারা নিজেদেরকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশের জাতি হিসেবে প্রকাশ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে । জনগনের এই শৃঙ্খলিত সহাবস্থানের কারণে তাদের দেশও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিনত হয়। তবে এর মাঝেও কিছু বিকৃতি উগ্রপন্থি এবং জঙ্গিবাদ গোষ্ঠির আবির্ভাব হয় যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজে নৃশংস ও বর্বর নানা অধর্মের ঘটনার জন্ম দিয়ে ধর্মের বদনাম করে। কিন্তু ঐসব দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ গণতন্ত্র হওয়ার সুবাদে, জনগণের মাঝে অসাম্প্রদায়িক ও উদার চেতনা বিরাজমান থাকায় এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের দৌরাত্ম্য না থাকায় জঙ্গিবাদ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ তাদের সমাজে ব্যাপকভাবে বিস্তার হওয়ার সুযোগ হয়নি এবং এই সমস্যা তাদের দেশকে ভঙ্গুর করে দিতে পারেনি।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র বাংলাদেশ। যা স্বাধীনতা পরবর্তি সময় থেকে বিগত কয়েক যুগে উন্নয়নের পথে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয় । তবে গত কয়েক বছর থেকে উন্নয়নশীল নানা কার্যক্রমের গবেষণা ও বাস্তবায়নে অনেক সঠিক নীতি ও পদক্ষেপ ; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সরকারের সুশাসনের মাত্রা বৃদ্ধি ; অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সামগ্রিক উন্নয়নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রি যুগোপযোগী অগ্রনী ভূমিকা পালন করছেন। যার দরুন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি অল্প সময়ে বৈপ্লবিক উন্নয়নের দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি বর্বরতার ঘটনা ও তার বৃদ্ধি বাংলাদেশের এই চলমান উন্নয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চারটি মূলনীতি’র প্রথমটি হল নিরপেক্ষতা। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক ও উদার জনগন নিয়ে বাংলাদেশ নামক একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন, যার ফলে অনেক সংকট ও সংগ্রাম অতিক্রম করে তিনি সফলও হয়েছিলেন কিন্তু কয়েকজন দেশদ্রোহী ,ঘাতক, স্বাধীনতা বিরোধী দালাল নির্মমভাবে উনাকে হত্যার মাধ্যমে উনার লালিত স্বপ্নবীজের প্রস্ফুটিত অঙ্কুর বিনাশ করে দিয়েছিল। তবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে উনার আদর্শ চিন্তা-চেতনাকে নির্মুল করা যায়নি। শত শত বাধা বিপত্তির মাঝেও প্রজন্ম উনার আদর্শকে বুকে ধারণ করে আসছে।
তাই সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রের সকল সুশীল সমাজকে অসাম্প্রদায়িক নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সংবিধানের স্থায়িত্ব ও বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে এবং এই অসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও চেতনা সকল জনগনের মাঝে বিকাশ ও বিস্তার করে দিতে হবে। তাহলে জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় উগ্রসন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করে দিতে পারবেনা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.