| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এক্সক্লুসিভ ইয়াসিন
ভ্যলেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালনের ক্ষতিকর কিছু দিক :![]()
১. ভ্যলেন্টাইন শব্দটির সাথে এক চরিত্রহীন লম্পটের স্মৃতি জড়িয়ে যারা ভালবাসার জয়গান গেয়ে চলেছেন, পৃথিবীবাসীকে তারা সোনার পেয়ালায় করে নীল বিষ পান করিয়ে বেড়াচ্ছেন।
২. তরুণ-তরুণীদের সস্তা যৌন আবেগকে সুড়সুড়ি দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ
‘‘আর তারা তো পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়। আর আল্লাহ ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের ভালবাসেন না।’’(সূরা আল মায়িদাহ : ৬৪)
৩. নৈতিক অবক্ষয় দাবানলের মত ছড়িয়ে যাচ্ছে।
৪. নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করছে। যারা ঈমানদারদের সমাজে এ ধরণের অশ্লীলতার বিস্তার ঘটায়, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
‘‘যারা মু’মিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি..।’’ (সূরা আন-নূর :১৯)
বস্তুত যে সমাজেই চরিত্র-হীনতার কাজ ব্যাপক, তথায় আল্লাহর নিকট থেকে কঠিন আযাব সমূহ ক্রমাগত অবতীর্ণ হওয়া অবধারিত, আব্দুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন:
… لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالْأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلَافِهِمِ…
‘‘যে জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্লজ্জতা প্রকাশমান, পরে তারা তারই ব্যাপক প্রচারেরও ব্যবস্থা করে, যার অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ মহামারি, সংক্রামক রোগ এবং ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ এত প্রকট হয়ে দেখা দিবে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে কখনই দেখা যায় নি।’’(ইবনু মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, হাদিস নং-৪০০৯)
৫. তরুণ-তরুণীরা বিবাহ পূর্ব দৈহিক সম্পর্ক গড়তে কোন রকম কুণ্ঠাবোধ করছে না। অথচ তরুণ ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন মিশরের এক রানী অভিসারে ডেকেছিল, তখন তিনি কারাবরণকেই এহেন অপকর্মের চেয়ে উত্তম জ্ঞান করেছিলেন। রোমান্টিক অথচ যুব-চরিত্রকে পবিত্র রাখার জন্য কী অতুলনীয় দৃষ্টান্ত! আল্লাহ জাল্লা শানুহু সূরা ইউসুফের ২৩-৩৪ নম্বর আয়াত পর্যন্ত এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
৬. শরীরে উল্কি আঁকাতে যেয়ে নিজের ইয্যত-আব্রু পরপুরুষকে দেখানো হয়। যা প্রকাশ্য কবিরা গুনাহ। যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যার গায়ে তা আঁকা হয়, উভয়য়ের উপরই আল্লাহর লা‘নত বর্ষিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন,
لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ *
‘‘যে ব্যক্তি পর-চুলা লাগায় এবং যাকে লাগায়; এবং যে ব্যক্তি উল্কি আঁকে এবং যার গায়ে আঁকে, আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেন।’’(বুখারী,কিতাবুল লিবাস,হাদিস নং৫৪৭৭)
মূলত যার লজ্জা নেই, তার পক্ষে এহেন কাজ নেই যা করা সম্ভব নয়। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْت
‘‘যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই করতে পার।’’(বুখারী, কিতাবু আহাদীসিল আম্বিয়া, হাদিস নং৩২২৫)
৭. ভালবাসা দিবসের নামে নির্লজ্জতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যিনা-ব্যভিচার, ধর্ষণ ও খুন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
… وَلَا فَشَا الزِّنَا فِي قَوْمٍ قَطُّ إِلَّا كَثُرَ فِيهِمُ الْمَوْتُ…
‘‘যে জনগোষ্ঠীর-মধ্যেই ব্যভিচার ব্যাপক হবে, তথায় মৃত্যুর আধিক্য ব্যাপক হয়ে দেখা দেবে।’’(মুয়াত্তা মালিক, কিতাবুল জিহাদ, হাদিস নং-৮৭০)
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:১৭
আশমএরশাদ বলেছেন: এত মৌলানা, হেফাজত, ধর্মভিত্তিক দল, সুশীল ব্যক্তি, মুরুব্বী কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারলো না এহেন তথাকতিত নষ্ট দিবসকে? এই প্রশ্ন গুলার উত্তর খুঁজলে পেয়ে যাবেন আমার শিরোণামের সার্থকতা। মোটা দাগে বলতে চেয়েছি এটা কেবল শফিক রেহমান সম্ভব করেনি বা করতেও পারতো না যদি না এই দিবসটার নাম ভালোবাসা দিবস না হতো। দিবস ইট সেল্ফ অবদান রেখেছে তার ব্যাপকতায় ।
কর্পোরেট স্বার্থ এবং মানুষের আগ্রহ:
এই দিবসের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারার কারণ কি? কম কথা্য় উত্তর দিলে বলতে হবে সংস্কৃতি/ দিবস মানচিত্র মেপে চলে না, মুরুব্বীদের চাবুকেও নত হয় না এবং স্থীর ও থাকে না। সংস্কৃতিতেও গ্রহণ বর্জন প্রক্রিয়া চলমান। এটা বাঙালী সংস্কৃতি নয়, এটা মুসলমান সংস্কৃতি নয় এ সব ফতোয়া গুলা কর্পোরেট দুনিয়ায় তথা বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থায় নাকচ হয়ে যায়। কর্পোরেট স্বার্থ এবং মানুষের আগ্রহ দু’য়ে মিলে উৎসব গুলা এখন সার্বজনীনতা পেয়ে যাচ্ছে। চায়নার মত দেশে বড়দিনের উৎসব এখন গ্রাম মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মত দেশে তাই ১লা নববর্ষ এখন একমাত্র দলনিরপেক্ষ, ধর্ম নিরপেক্ষ বড় উৎসব। ভালোবাসা দিবস তাই নগর নাগরদে ছাড়িয়ে গ্রামেও প্রবেশ করেছে। এখন এই দিবসের দোষটা কোথায় ? অথবা শফিক রেহমানের দোষই বা কি? ভালোবাসা করা যাবে না , ভালোবাসা ভালো নয় এমন কেউ কিন্তু বলছে না। দিবসটা উদযাপনে প্রক্রিয়া নিয়ে তাহারা হয়ত উস্মা প্রকাশ করেন। ধর্ম বারণ করা তাজিয়া মিছিলতো হয় এই দেশেই!! গায়ে পিঠে চাবুকে রক্তাক্ত একদল লোক মিছিল করার ভয়াবহ দৃশ্যের চেয়ে ভালোবাসা দিবসে কি বেশী কিছু হয়? জসনে জুলুস কোথায় আছে ইসলামে? ট্রাক মিছিল কোথায় আছে? কোন কোন উচ্ছলতা মাত্রা অতিক্রম যদি করে ও থাকে তাহলে সেট নিশ্চয় তাজিয়া মিছিলের চেয়ে খারাপ নয়!! রাজনৈতিক বিক্ষোভ মিছিল শেষে গাড়িতে অগ্নিউৎসব নিশ্চয় এর চেয়ে মন্দ কাজ! এমন আরো উদাহরণ আছে ধর্মের দিক দিয়ে দেখলে। ফার্ম গেইটে যে কুতুবাগের আলোর ঝলকানি দেখলাম, যে এলাহী কান্ড দেখলাম সেটা নিয়ে কি বলবেন? উরস শরিফ নামের কিছু কি আছে ধর্মে? সে গুলা কেমনে মহা সমারোহে চলে?এই সব উরস শরিফের আমদানিকারকের নামতো কেউ বলে না। নাকি সে গুলাও শফিক রেহমানের কাজ? ভালোবাসা নিয়ে ঘর করা যায়, এত এত নাটক সিনেমা বানানো যায়, দলের প্রতি, নেত্রীর প্রতি এত এত ভালবাসা আমাদের অথচ আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবস থাকবে না সেটা কি করে হয়?
শীতের শেষে প্রথম ফাগুনের পরের দিন ভালোবাসা দিবস – মন্দ কি?
শীতকে বিদায় জানতে হাজির হয় ১লা বসন্ত। হলুদ শাড়ি পাঞ্জাবীতে যখন সে দিন রাস্তা, রেস্তোরা, বটতলা শোভিত হয় তখন মনটাই কেমন রোমান্টিক ও নরম হয়ে যায়। সেটার রেশ না কাটতেই আপনাকে উইশ করে যাবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ভাই এত এত ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয়, জাতিসংঘ দিবস পালন করতে পারি সেখানে না হয় ভালোবাসা দিবসটাকেও একটু জায়গা দিই। অবশ্য জায়গা সে করেই নিয়েছে। সেন্ট ভেলেন্টাইন কে ছিলেন, কোন ধর্মের ছিলেন এই গুলা আসলে ব্যবহারিক কথা নয়। আর বাংলাদেশে ভেলেন্টাইন দিবস পালন করা হয় না । করা হয় ভালোবাসা দিবস হিসাবে। কথা অবশ্য একই। সেটা হলো এই দিনটা ভালোবাসার আবেদন নিয়ে। তরুন তরুনীর উচ্ছলতাকে বেহায়াপনা বললে আপনি বলতে পারেন। যুগে যুগে তরুণরা এমন তকমা পেয়েই এসেছেন। আজকে যারা মুরুব্বী তারাও পুরনো সমাজের কিছু না কিছু ভেঙ্গেই এসেছেন। তরুণের ধর্মই এটাই- বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজই যদি না থাকে সে আবার তরুণ কি? দিবসের একটা আলাদা তাৎপর্য আছে। অন্য সময় আমরা একা-একা, দিবসের দিন আমরা বহু। আমাদের সম্মিলিত চিৎকার কেবল দিবসের দিন। তাই বলে এটা কোন বাড়াবাড়ি নয়। সবাই এক সাথে বলে কলরবটা বড় হয় কেবল। ভালোবাসা সব দিনের জন্যই থাকে, ইবাদতও সব দিনের জন্যই বরাদ্দ থাকে। তবে বিশেষ দিবসে ইবাদতের প্রকাশটাও বাড়ে। তাই সেটা একদিনের ধার্মিক বা একদিনের প্রেমিক বা বৈরাগী নয় ঐ যে বললাম দিবসের একটা আলাদা তাৎপর্য আছে। ইবাদত এবং আচার কালচার ভিন্ন জিনিস। ইবাদত করতে হলে নিয়ত করা লাগে। তাই ইবাদতের প্রশ্ন যেখানে নেই সেখানে বেদাতের প্রশ্নও আসে না।
বাংলা ব্লগ এবং ফেসবুকে ইদানিং :
ভালোবাসা দিবস নিয়ে একটা লিখা লিখতে হাতনিশপিশ করছিল। বাংলা ব্লগ এবং ফেসবুকে ইদানিং পহেলা নববর্ষ, ভালোবাসা দিবস, বসন্ত বরণ দিবস, সহ নানা দিবসের আগে আগে দেখা যায় আমাদেরকে সতর্ক করার জন্য “বড় ভাই সুলভ” কিছু লিখা। তোমার জাত যাবে তো যাবে ধর্মও যাবে এমন নানা অসিহত। যা হোক নিয়তি মেনে সে সব ২০০৫ সাল থেকে হজম করে আসছি। উল্লেখ্য আমার বাংলা ব্লগিং এর হাতে খড়ি ২০০৫ সালে। লিখা গুলা একদম যুক্তি নির্ভর নয় সেটা আমি বলবো না কিন্তু আচার কালচারে ধর্ম টেনে আনা অনেক সময় বিপদজনক। হযরত আলী যখন গভর্ণর নিয়োগ দিচ্ছিলেন তখন তিনি একটা কথা বলেছিলেন – যদি নিতান্তই শিরক না হয় তাহলে স্থানীয় উৎসব পার্বনে যেন বাঁধা দেওয়া না হয়। আমি বলছি না ভালোবাসা দিবস না হলে দেশটা ধবংস হয়ে যাবে। ভালোবাসা দিবসের নামে কিছু কিছু অবশ্যই অতিমাত্রার হয়।
আমি বলছি আমরা নিয়ন্ত্রণবাদি না হয়ে সংস্কারবাদী হতে পারি।
এতক্ষণ ভারী ভারী কথা বললাম এবার একটু হালকাতে আসি:
ভালোবাসা দিবসকে যে ভাবে উপভোগ্য এবং উপযোগী করা যায়:
কেবল তরুন তরুনীর ভালোবাসার উদযাপন নিয়ে কিছু কথা :
১, একটা সুন্দর জায়গা বেঁচে নিয়ে উৎকৃষ্ট জামা কাপড় পরে প্রেমিক প্রেমিকা দেখা করতে পারে। পরিবারে অনুমতি নিলে ভালো হয়। সুবিধা হলো পহেলা বসন্তের ভাঁজ ভাঙ্গা জামা গুলা পড়লেই চলবে।
২, সে দিন একটা ভালো কাজের শপথ করতে পারি। প্রেমিক যদি ধোঁয়া গিলে তাহলে প্রেমিকা সে দিনের উঁচিলায় তাকে বলতে পারে -”ভালোবাসা দিবসে আজকে তুমি একটা ভালো শপথ কর।” এইভাবে সিগারেট বর্জন করে তরুনরা দেশের অর্থনীতিতে একটা ভালো অবদান রাখতে পারে।
বিস্তারিত লিংক: http://www.shobdoneer.com/arshad/59336