| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইউসুফ যুবায়ের
My sins are like the highest mountains; my good deeds are very few, they're like a small pebble!
আধ্যাত্মিক জীবনের বিশেষজ্ঞরা আমাদের বলেন যে আল্লাহর স্মরণ, বা যিকর, হলো পারলৌকিক পথের ভিত্তিপ্রস্তর, আত্মশুদ্ধির (wilayah) চাবিকাঠি, অন্বেষকের হাতিয়ার। প্রকৃতপক্ষে, এটা সকল ইবাদাতের মুখ্য উদ্দেশ্য; যেমনটি স্বয়ং কুরআনে এসেছেঃ আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। (সূরা ত্বা-হাঃ ১৪)
যিকর হলো অন্তরে সেই একক সত্ত্বার অস্তিত্ব অনুভব করা যাকে স্মরণ করা হচ্ছে; এ জন্য প্রয়োজন অখণ্ড মনোযোগ আর অবিচল অভিনিবেশ। মুখে যা উচ্চারিত হচ্ছে, অন্তরে তার অনুধাবন থাকতে হবে। কারণ সর্বোত্তম ও সর্বাধিক ফলপ্রসূ হলো সেই যিকর, যেখানে জিহ্বা আর অন্তর একযোগে ব্যবহৃত হয়; যদি তা না হয় তবে কেবল অন্তর; আর তাও যদি নাহয় তো কেবল জিহ্বা!
“আমায় স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব” (সূরা বাকারাঃ ১৫২)- এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবন জুযায়ী (তাঁর সাক্ষাৎ আপনারা আমার পূর্ববর্তী লেখায় ইতিমধ্যেই পেয়েছেন, এখানে) তাঁর স্বভাবসুলভ সংক্ষিপ্ত কায়দায় আমাদেরকে যিকর-এর বাস্তবতা বলে দেন; তিনি লিখেছেনঃ
‘যদিও কিছু হাদীসে অন্য ইবাদাতকে, যেমন নামায, শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হয়েছে, তবু জেনে রাখুন আল্লাহর স্মরণ (যিকর) হচ্ছে সকল কাজের শ্রেষ্ঠ কাজ। এর কারণ নিহিত রয়েছে যিকর- এর অর্থে, আর আল্লাহর সান্নিধ্য (hudur) লাভের মাহাত্মে।
তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে আল্লাহর স্মরণের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়ঃ
প্রথমতঃ, অন্য সকল কাজের উপর এর শ্রেষ্ঠত্ব সংক্রান্ত টেক্সট থেকে। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আমি কি তোমাদের জানাবোনা তোমাদের কোন কাজ সর্বোত্তম? কোন কাজ তোমাদেরকে তোমাদের সার্বভৌম প্রভূর সম্মুখে সর্বোচ্চ পরিশুদ্ধ করে? কী তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে আর কী স্বর্ণ- রৌপ্য বিলিয়ে দেয়া অপেক্ষা উত্তম; শত্রুর মোকাবেলায় যুদ্ধ করে তাদেরকে হত্যা করা অথবা নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়া অপেক্ষা উত্তম?’ তারা (সাহাবীরা) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের জানিয়ে দিন! তিনি উত্তর দিলেনঃ ‘আল্লাহর যিকর’। (তিরমিযী, ৩৩৭৭)
আল্লাহর রাসুলকে, সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, একবার জিগ্যেস করা হলোঃ কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি উত্তর দিলেনঃ ‘আল্লাহর স্মরণ’। তাকে বলা হলোঃ আল্লাহর স্মরণ কি তাঁর পথে জিহাদ অপেক্ষাও উত্তম? তিনি বললেনঃ ‘শত্রুকে আঘাত করতে করতে যদি তার তরবারী ভেঙ্গে যায় আর রক্ত প্রবাহিত হয়, তদুপেক্ষা আল্লাহকে স্মরণকারীর মর্যাদা উন্নত’। (তিরমিযী, ৩৩৭৬)
দ্বিতীয়তঃ, মহান আল্লাহ যখনই আমাদেরকে তাঁকে স্মরণ করার আদেশ দিয়েছেন, অথবা তাঁর প্রশংসা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তখনই উচ্ছ্বাসিত আর অজস্র্র শর্তদ্বয় জুড়ে দিয়েছেনঃ ‘আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ’। (সূরা আল আহযাবঃ ৪১) ‘যারা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে’। (সূরা আল আহযাবঃ ৩৫) অন্য কোন ইবাদাতের সাথে এমন শর্ত আরোপ করা হয়নি।
তৃতীয়তঃ, আল্লাহকে স্মরণের এমন একটি দিক রয়েছে যা অন্য কোন ইবাদাতের বেলা প্রযোজ্য নয়; তা হলোঃ সর্বোচ্চ উপস্থিতিতে অবস্থান করা (hudur fi’l-hadrat al-‘aliyyah) এবং সান্নিধ্য লাভ করা- যার বর্ণনা আমরা পাই সেইসব হাদীসে যেগুলো আল্লাহর কাছে “বসা” এবং “অবস্থান করা”-র কথা বলে। আল্লাহ বলেনঃ ‘আমি বসি তার সাথে যে আমাকে স্মরণ করে’। আরও, ‘আমার বান্দাহ আমাকে যেরূপ ভাবে, আমি সেইরূপ এবং আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে’। (বুখারী, ৭৫৩৬)
আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে মানুষ দু’য়ের একটি পদমর্যাদা প্রাপ্তির চেষ্টা করে। সাধারণ মুসলিম এর মাধ্যমে পুরষ্কার অর্জন করতে চায় (iktisab al-‘ujur)। আর মর্যাদাবান (elite) মুসলিম আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে চায়, তাঁর উপস্থিতিতে থাকতে চায় (al-qurb wa’l-hudur)। দুই অবস্থানের মধ্যে কী প্রকাণ্ড ফারাক! কী বিশাল বিভেদ পর্দার আড়াল থেকে যে পুরস্কার পায় তার সাথে অন্যজনের, যে কিনা সান্নিধ্য লাভ করে মর্যাদাবান সাধকে পরিণত হয়!’
At-Tashil li ‘Ulum al-Tanzil (Beirut: Maktabah al-‘Asriyyah, 2003), 1:159-60
(Click This Link - থেকে অনূদিত)
©somewhere in net ltd.