নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Not another brick in the wall

Searching for Perspective..

ইউসুফ যুবায়ের

My sins are like the highest mountains; my good deeds are very few, they're like a small pebble!

ইউসুফ যুবায়ের › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধার্মিক মুসলিম-এর জন্যে ফাঁদ

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩৩

বলা হয়ঃ ‘কেউ যদি যা জানে সেই অনুযায়ী কাজ করে, তাহলে আল্লাহ তাকে এমন জ্ঞানের অধিকারী করবেন, যা সে জানে না”।১ তাই যখন কেউ তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে, সে দৃঢ়তর বিশ্বাসের পথে পরিচালিত হয়, তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতা শাণিত হয়, খোদাভীতি (তাকওয়া) প্রবলতর হয়। কুরআন বলেঃ যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন এবং তাদেরকে তাকওয়া দান করেন। (সূরা মুহাম্মাদঃ ১৭)



চলার পথে ওঁত পেতে থাকা কিছু ফাঁদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করা হয়; বলা হয় ওগুলো এড়িয়ে চলতে, সতর্ক থাকতে। ধার্মিক মুসলমানেরও (practicing Muslim) হোঁচট খেয়ে এমন হঠকারী বিপত্তিতে পড়া বিরল নয়, যার ফলে তার ধার্মিকতা কলুষিত হয়, আত্মা বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

এমন একটি ফাঁদ (pitfall) হচ্ছে ‘উজবঃ (‘ujb) অহংকার, দম্ভ, মিথ্যা অহমিকা, আত্মম্ভরীতা।

ধর্মীয় কাজে ‘উজব কখন হয়? তখন হয় যখন আমরা এইটা অনুভব করতে ব্যর্থ হই যে, যে ধর্মীয় আচার আমরা পালন করলাম, বা যে ধর্মীয় জ্ঞান আমরা অর্জন করেছি- বা যে দান খয়রাত আমরা করি, এর কোনটাই আসলে আমাদের নিজেদের কাজ না, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার! এই বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থ হই বলেই আমরা এসব কাজকে আমাদের নিজেদের অর্জন হিসেবে ভাবা শুরু করি, আমাদের প্রচেষ্টার সফলতা ভেবে আত্মতৃপ্ত হই! আমরা অহংকারী- আত্মম্ভরী হয়ে উঠি। স্ব-মহিমায় ভাসতে থাকি! ইবন ‘আতা’ইল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের উপদেশ দেনঃ আল্লাহর আনুগত্য তোমাদেরকে যেন এই কারণে উৎফুল্ল না করে যে তুমি আনুগত্য করেছ, বরং এই কারণে প্রফুল্ল হও যে আল্লাহ তোমাকে আনুগত্য দান করেছেন! বলোঃ “আল্লাহর এই দান ও রহমতের প্রতি সকলেরই আনন্দিত হওয়া উচিত; যা তারা সঞ্চয় করেছে তার থেকে এটা বহুগুণে উত্তম।” (সূরা ইউনুসঃ ৫৮)২



‘উজব-এর মতোই আরেক বিপদ হল কিবর- ঔদ্ধত্য, অযথা গর্ব, দম্ভ। এক হাদীসে কিবর-কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবেঃ ‘সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা’ (মুসলিম, ৯১)। নিজেকে অন্যের থেকে উত্তম মনে করা অথবা মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য বা অবজ্ঞা করা পুরোদস্তুর ঔদ্ধত্য বা কিবর। কিবর-এর বহিঃপ্রকাশ বহুভাবে হতে পারেঃ চেহারার সৌন্দর্য, ধন সম্পদ, জাগতিক সাফল্য বা সামাজিক মর্যাদার দম্ভ- এগুলো আমাদের মধ্যে বহুল প্রচলিত। নিজেকে অন্যের থেকে বেশী ধার্মিক মনে করাটাও কিন্তু কিবর! ইবন ‘আতা’ইল্লাহ (রাহিমাহুল্লাহ) লিখেছেনঃ ‘(আল্লাহর) অবাধ্যতা, যা কিনা অবমাননা আর চূড়ান্ত অবনতি বয়ে নিয়ে আসে, তাও সেই আনুগত্য অপেক্ষা ভালো যেই আনুগত্য অহমিকা আর ঔদ্ধত্যের জন্ম দেয়।’৩

আল্লাহর অবাধ্যতাকে হাল্কা করে দেখানো এই কথার উদ্দেশ্য নয়; নির্বিকারে গুনাহ করা আর পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করায় উৎসাহ প্রদানও এর উদ্দেশ্য নয়। এটা করলে আল্লাহর মহিমাকে উপহাস করা হবে মাত্র। এখানে বরং আমাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে নিরহংকারভাবে আল্লাহর আনুগত্য করতে; চরম আধ্যাত্মিক প্রয়োজন আর দারিদ্র্যের (faqr) অনুভূতি থেকে অনুগত হতে। এই বোধ থেকে ইবাদাত করতে হবে যে আল্লাহর ইবাদাত প্রকৃতপক্ষে যেভাবে করা উচিত, সেভাবে আমরা কখনোই করতে পারব না।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কিবর হলো ধর্মীয় কাজের পেছনের বাস্তবতা অনুধাবনের ব্যর্থতা। আমাদের বুঝতে হবে যে ধর্মীয় কাজ সম্পাদন আমাদের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ মাত্র; শুধু তাই নয়, আমাদের কাজ আল্লাহ কবুল করছেন কিনা, তাও আমরা জানি না। তাহলে কেন বড়াই করব? কিসের জন্য উৎফুল্ল হব? কারণ শেষ বিচারে কর্ম নয়, বরং কাজের গ্রহণীয়তাই মুখ্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘তোমাদের কেউই তার কাজের কারণে রক্ষা পাবে না।’ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও না? তিনি বললেনঃ ‘আমিও না, যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর করুণা ও ক্ষমা দিয়ে আচ্ছাদন করেন।’ (মুসলিমঃ ২৮১৬)

অন্তঃরাজ্যের কারিগরেরা বলে গিয়েছেনঃ লা বুদ্দা মিন আল-‘আমল ওয়া বিহি লা নাসাল- ‘কর্ম অপরিহার্য, কিন্তু কাজের মাধ্যমে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাই না।’ বরং, আল্লাহকে পাওয়া যায় কেবলমাত্র তাঁর ভালোবাসা, ক্ষমা আর পরম করুণার মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ, মানুষ আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয় তার কাজ বা প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে নয়- যদিও এগুলো পূর্বশর্ত- বরং আল্লাহর সকরুণ “আকর্ষণ”- এর মধ্য দিয়ে, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ অন্বেষী বান্দাহকে তাঁর কাছে টেনে নেন।

১। আবু নু’আইম কর্তৃক হিলয়াত আল- আউলিয়া (মিসরঃ দার আল রাইয়ান, ১৯৮৬, ১০: ১৪-১৫ ) গ্রন্থে উদ্ধৃত। তিনি বলেছেন যে এই উক্তি ভুলক্রমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু উক্তিটির সামগ্রিক অর্থ ভাল এবং কয়েক লাইন পরেই যেই আয়াত উদ্ধৃত হয়েছে, তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২। আল- হিকাম আল-‘আতা’ইয়্যাহ (মিসরঃ দার আল-সালাম, ২০০৬), ৫৮

৩। আল- হিকাম আল-‘আতা’ইয়্যাহ (মিসরঃ দার আল-সালাম, ২০০৬), ৯৬

http://www.thehumblei.com থেকে অনূদিত।

মূল লিখা পাবেন এইখানেঃ Click This Link

মন্তব্য ২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪০

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আল্লাহ আমাদের সকল ফাঁদ থেকে মুক্ত থেকে আমল করার তৌফিক দান করুন।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৪

ইউসুফ যুবায়ের বলেছেন: আমীন!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.