| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল ব্যবসা করার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে, কেউ ভাবল অন্তত বিদেশে যাওয়ার একটা রাস্তা খুলবে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই বোঝা গেল, কর্মসংস্থান শব্দটার মানে বোধহয় একটু অন্যরকম করে বুঝতে হবে। কারণ একদিকে সরকার বলছে বেকারদের ঋণ দেব, উদ্যোক্তা বানাব, বিনিয়োগ আনব। আর ঠিক তার পাশেই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় নতুন এক নিয়ম আনার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে, যেখানে লিখিত পরীক্ষার চেয়ে ভাইভার গুরুত্ব রাতারাতি বেড়ে গেছে। মানে এক হাতে চাকরির লিফলেট বিলি হচ্ছে, আরেক হাতে সেই চাকরির দরজায় নতুন তালা লাগানো হচ্ছে।
খসড়া বিধিমালা বলছে, এগারো-বারো গ্রেডে আগে ভাইভা ছিল মাত্র দশ নম্বরের, এখন হয়ে যাচ্ছে পঞ্চাশ। লিখিততে পাস করার জন্য আগে লাগত পঞ্চাশ শতাংশ, এখন লাগবে মোটে পঁয়ত্রিশ। তেরো-ষোলো গ্রেডেও একই কাহিনি, ভাইভা দশ থেকে লাফ দিয়ে চল্লিশ। আর সতেরো-বিশ গ্রেডে গিয়ে তো লিখিত আর মৌখিক একেবারে জমজ ভাই, দুটোই পঁচিশ নম্বরের। হিসাবটা সহজ করে বলি। ধরেন আপনি সারারাত পড়াশোনা করে লিখিততে পেলেন পঁয়তাল্লিশ, ভাইভায় আপনাকে দিয়ে দিল দশ, মোট পঞ্চান্ন। আর পাশের সিটে বসা ছেলেটা লিখিততে কোনোমতে ত্রিশ পেয়ে পাস করল, কিন্তু ভাইভায় তাকে দেওয়া হলো চল্লিশ, মোট সত্তর। এখন বলেন তো, চাকরিটা কার হবে? উত্তর সবাই জানে, শুধু প্রজ্ঞাপনে লেখা নেই। নেতাকে আর মুখ ফুটে বলতেও হবে না যে রিটেনটা পাস করলেই বাকিটা তিনি দেখে নেবেন, কারণ নিয়মটাই এখন এমনভাবে বানানো হচ্ছে যাতে নেতার আর কিছু বলার দরকারই না পড়ে।
অবশ্য একটা সুবিধাও আছে এতে। লিখিততে এখন আর গাধার খাটুনি খাটার দরকার নেই, পঁয়ত্রিশ শতাংশ পেলেই তো রাস্তা খুলে যাচ্ছে। বছরের পর বছর বই মুখস্থ করা ছেলেটাকে যেন বলা হচ্ছে, ভাই এত কষ্ট করে কী লাভ, পঁয়ত্রিশ পেলেই তো আমাদের কাছে চলে আসতে পারবে, আসল খেলা তো শুরু হবে তারপর। কারণ ভাইভাও তো একটা পরীক্ষা, এটা তো খোদ উপদেষ্টা মহোদয় নিজেই মনে করিয়ে দিয়েছেন। এই যুক্তি মানলে তো ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও দুই ভাগ করে ফেলা যায়, আগে পঁয়ত্রিশ শতাংশ পেয়ে পাস, তারপর ভাইভায় গিয়ে বোঝাতে হবে আসলে আপনি কতটা যোগ্য। চাকরির দরখাস্তেও তখন লিখে দিলেই হয়, মেধা ঐচ্ছিক, ভাইভা বাধ্যতামূলক।
মজার ব্যাপার হলো এই একই সরকার কিছুদিন আগে যখন শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে পুরোনো নিয়মে ফেরত যাওয়ার একটা খবর ফাঁস হয়ে গিয়েছিল, তখন সেটাকে চোখের পলকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একটা ফেসবুক পোস্টে। অথচ যে গণমাধ্যম খবরটা ছাপিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে না গেল কোনো মামলা, না এলো লাইসেন্স বাতিলের কোনো হুমকি। গুজব হলে যা হওয়ার কথা তার কিছুই হলো না। আর কিছুদিন পরই দেখা গেল, সেই একই জিনিস আবার হাজির হলো, শুধু জামা বদলে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব হয়ে।
সরকার যদি সত্যিই মেধার কদর করতে চাইত, তাহলে লিখিত পরীক্ষাকে আরও শক্ত করার কথা, ভাইভাকে আরও স্বচ্ছ করার কথা। চাকরিপ্রার্থীরা তো বহুদিন ধরে এটাই চেয়ে আসছে, ভাইভার নম্বর কমিয়ে লিখিতের গুরুত্ব বাড়ানো হোক। কিন্তু আমরা যেন হাঁটছি একদম উল্টো পথে। এক কোটি লোকের জন্য চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্যদিকে এমন এক ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে মানুষ প্রশ্ন করতে বাধ্য হয়, চাকরি তো হবে, কিন্তু সেই চাকরির চাবিটা থাকবে কার হাতে। তবে সরকারের জন্য একটা সুখবরও আছে এখানে। দলীয় লোকের চাকরি হলেও সেটা তো কর্মসংস্থানই। ব্যাংক ডাকাতের প্রতিষ্ঠানেও লোক কাজ করে, সেটাও কর্মসংস্থান, চাঁদাবাজের অফিসে হিসাবরক্ষক থাকলেও সেটাও কর্মসংস্থান। তাহলে রাজনৈতিক তদবিরে চাকরি হলে সেটাও নির্দ্বিধায় সেই এক কোটির খাতায় ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে, লক্ষ্য পূরণ করতে তেমন কষ্টই হবে না তখন।
রাজনীতির পুরোনো গল্পও আজকাল আবার ফিরে আসছে। সাবেক এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুরোনো একটা বক্তব্য নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে, ভাইভা পর্যন্ত যেতে পারলে তিনি দেখে নেবেন, এমনটি ছিলো কথার কথা। সেই পুরোনো কথাটাকে আজকের এই খসড়া প্রজ্ঞাপনের পাশে বসিয়ে দিলে আলাদা কিছু বলারই দরকার পড়ে না । অবশ্য একটা কথা মনে রাখা দরকার, এই বিধিমালা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে আছে, আর ঠিক এই জায়গাটাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। এখনই বলে দেওয়া যায়, না, আমরা এমন কিছু চাই না যেখানে লিখিত পরীক্ষায় মেধার দাম কমে যাবে, আমরা চাই মেধাবী ছেলেমেয়েরা নিজের যোগ্যতায় চাকরি পাক, কারও দরজায় গিয়ে নিজের পরিচয় বেচে নয়। তরুণদের নিয়ে সত্যিই যদি লম্বা সময়ের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটা তো হওয়া উচিত তাদের আস্থার ওপর।
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মানুষ তেমন কিছু বলেনি, ভেবেছে এত বছর পর ক্ষমতায় এসেছে, নিজেদের একটা রাজনৈতিক কর্মসূচি তো থাকবেই। কিন্তু সংস্কারের নামে যদি এমন সব পরিবর্তন হতে থাকে যাতে চাকরির বাজারটাই আরও অনিশ্চিত হয়ে যায়, প্রশাসনে দক্ষতার বদলে অন্য জিনিসের কদর বাড়ে, তাহলে মানুষ একদিন প্রশ্ন করবেই। মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন, তারা চায় দক্ষ প্রশাসন, চায় মেধাবী কর্মকর্তা, কারণ যোগ্য মানুষ মানেই দ্রুত কাজ, কম ঝামেলা, একটা সচল রাষ্ট্র। কিন্তু লিখিততে পঁয়ত্রিশ শতাংশ পেয়ে শেষমেশ পঞ্চাশ নম্বরের ভাইভার সামনে দাঁড়াতে হলে প্রশ্ন উঠবেই, রাষ্ট্র আসলে কাকে খুঁজছে, সবচেয়ে মেধাবী মানুষটাকে নাকি নিজেকে সবচেয়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারা মানুষটাকে। আর ভাইভাই যদি আসল পরীক্ষা হয়ে যায়, তাহলে লিখিত পরীক্ষা রাখার দরকারটাই বা কী, সোজা বলে দিলেই তো হয় যে আগামীকাল থেকে লিখিত বাতিল, সরাসরি ভাইভা, এতে অন্তত পরীক্ষার হল ভাড়া করতে হবে না, প্রশ্নপত্র ছাপাতে হবে না, আর এক কোটির টার্গেট পূরণ করতেও খরচ কম পড়বে।
দেশ নেতার স্লোগান টেক ব্যাক বাংলাদেশ, মানুষ ভেবেছিল এর মানে দেশটাকে আবার ভালো একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়া, দুর্নীতি কমবে, প্রশাসন দক্ষ হবে, চাকরিতে মেধার দাম বাড়বে। কিন্তু টেক ব্যাক বাংলাদেশের মানে যদি হয়ে দাঁড়ায় পুরোনো তদবির সংস্কৃতি আর পুরোনো ভয়কে আবার ফিরিয়ে আনা, তাহলে সমস্যাটা একটু অন্য জায়গায়। জুলাইয়ে যে প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছিল, যাদের এত প্রাণ গেছে, তারা এই স্বপ্নভঙ্গের হিসাব মনে রাখবে না, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। ক্ষমতায় বসে যদি নতুন সরকার তাদের প্রত্যাশার বিপরীতে হাঁটতে শুরু করে, তাহলে একসময় দূরত্ব তৈরি হবেই, তখন সরকার হয়তো বলবে আমরা তো অনেক কাজ করেছি, শুধু আমাদের সমালোচনাই করা হলো, কিন্তু জনগণ তখন আর সেই পুরোনো সহানুভূতিটা দেখাবে না, কারণ মানুষ সরকারকে শুধু অতীত দিয়ে বিচার করে না, আজ কী করছে সেটা দিয়েই বিচার করে।
প্রথমে মনে হয়েছিল সরকার হয়তো লম্বা রেসের ঘোড়া হয়ে এসেছে, অন্তত দুই মেয়াদ থাকার মতো ভিত গড়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত দেখলে মনে হয় সরকার যেন টেস্ট ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেইনি, টি টোয়েন্টির মতো তাড়াতাড়ি কিছু রান তুলে স্কোরবোর্ডে বড় সংখ্যা দেখিয়ে চলে যাওয়ার একটা তাড়া আছে। কর্মসংস্থান লাগবে তো সংখ্যাটা বলে দাও, এক কোটি। সংস্কার লাগবে তো যত দ্রুত সম্ভব করে ফেলো। চাকরি দিতে হবে তো ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দাও। মেধা যাচাই করতে হবে তো লিখিতের নম্বর কমিয়ে দাও। আর মানুষ প্রশ্ন করলে উত্তরও রেডি আছে, ভাইভাও তো একটা পরীক্ষা। এই একটা বাক্য দিয়েই যেন বছরের পর বছরের রাত জাগা, কোচিং, বই কেনা, মডেল টেস্ট আর পরিবারের শেষ সম্বল খরচ করে চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার গোটা গল্পটাকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায়।
সবার মনে রাখা উচিত, বেকার তরুণেরা শুধু চাকরি চায় না, তারা চায় একটা সমান মাঠ। তারা চায় পরীক্ষার হলে কারও পরিচয়ের সাথে প্রতিযোগিতা না করতে হোক, তাদের মেধার সাথে কারও মামা-খালুর জোর বা টাকার প্রতিযোগিতা না হোক, ভাইভা থাকুক তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু ভাইভা যেন লিখিততে অর্জিত মেধাকেই উল্টে দেওয়ার অস্ত্র হয়ে না ওঠে। এক কোটি কর্মসংস্থান সত্যিই যদি করতে হয়, তাহলে আগে নিশ্চিত করতে হবে সেই এক কোটির মধ্যে যোগ্য মানুষগুলো চাকুরির সুযোগ পাচ্ছে কি না, নইলে এক কোটি চাকরি হয়তো সত্যিই হয়ে যাবে, শুধু প্রশ্ন থেকে যাবে সেই তালিকায় মেধাবী আর যোগ্যদের নাম আদৌ আছে কি না। আর সরকার যদি এই প্রশ্নের জবাব দিতে না পারে, তাহলে মানুষের মনে খুব স্বাভাবিকভাবেই আরেকটা প্রশ্ন ফিরে আসবে, এক কোটি কর্মসংস্থানের নামে সরকার আসলে মেধাবীদের জন্য চাকরি তৈরি করছে , নাকি মেধাবীদের প্রবেশ নিষেধের একটা নতুন সাইনবোর্ড বানাচ্ছে ?
ফটোকার্ড ক্রেডিট : ইন্টারনেট
সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ : https://www.ittefaq.com.bd/808613
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:০৬
বাজ ৩ বলেছেন: এ বিষয়ে এ আই এর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্ব: কেন এত শিক্ষিত মানুষ চাকরি পাচ্ছেন না?
বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্বের পেছনে একটি মাত্র কারণ নয়—বরং চাকরির সংখ্যা, চাকরির মান, শিক্ষার ধরন এবং তরুণদের প্রত্যাশার মধ্যে বড় ধরনের অমিল তৈরি হয়েছে।
১. সমস্যা শুধু “চাকরি নেই”—এটা নয়
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে ঢুকছেন। বছরে প্রায় ১৪ লাখ নতুন মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। কিন্তু একই গতিতে মানসম্মত ও উৎপাদনশীল চাকরি তৈরি হচ্ছে না। ১৫–২৯ বছর বয়সীদের বেকারত্ব জাতীয় হারের তুলনায় অনেক বেশি।
অর্থনীতির সামনে তাই মূল প্রশ্ন হচ্ছে:
“নতুন মানুষের জন্য কতগুলো উপযুক্ত চাকরি তৈরি করতে পারছি?”
শুধু মোট কতজন employed—এটা দিয়ে সমস্যাটি বোঝা যায় না।
২. বিশ্ববিদ্যালয় অনেক বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী চাকরির বাজার বদলায়নি
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এমন বিষয়ে পড়ছেন যার সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের সরাসরি সম্পর্ক কম।
বাংলাদেশের বড় graduate pool-এর মধ্যে Arts ও Social Sciences-এর শিক্ষার্থী অনেক বেশি, কিন্তু engineering ও technical বিষয়গুলোর সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। ফলে ডিগ্রি থাকছে, কিন্তু সেই ডিগ্রির সঙ্গে সরাসরি মিলে যায় এমন চাকরি কম।
এটাকে সহজভাবে বলা যায়:
Education supply ↑
কিন্তু market-relevant job demand সেই হারে ↑ হয়নি।
৩. আবার উল্টো সমস্যাও আছে—কিছু চাকরির জন্য দক্ষ লোক পাওয়া যাচ্ছে না
এখানেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
একদিকে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়-গ্র্যাজুয়েট বেকার, অন্যদিকে কিছু শিল্পে প্রয়োজনীয় দক্ষ লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
Employers এমন skills চান যা অনেক graduate-এর মধ্যে পর্যাপ্ত নেই—বিশেষ করে:
- Problem solving
- Communication
- Independent thinking
- Adaptability
- Workplace skills
অর্থাৎ:
“চাকরিপ্রার্থী আছে, কিন্তু চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় skill-এর মানুষ সবসময় নেই।”
এটাই Skills mismatch।
৪. “ডিগ্রি” আর “চাকরির দক্ষতা”—এক জিনিস নয়
ধরুন একজন ছাত্র BBA, BA, BSS বা MA শেষ করলেন।
তিনি পরীক্ষায় ভালো করেছেন, কিন্তু যদি তিনি—
- ভালোভাবে ইংরেজিতে লিখতে না পারেন
- Excel বা ডিজিটাল tools ব্যবহার না জানেন
- রিপোর্ট বানাতে না পারেন
- Data বুঝতে না পারেন
- Presentation দিতে না পারেন
- Problem solve করতে না পারেন
- Interview-তে নিজের দক্ষতা প্রকাশ করতে না পারেন
- বাস্তব কর্মপরিবেশে teamwork করতে না পারেন
তাহলে ডিগ্রি থাকলেও employer-এর কাছে তিনি job-ready নাও হতে পারেন।
অর্থাৎ শুধু শিক্ষাগত সনদ নয়, বাস্তব দক্ষতার মূল্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. সরকারি চাকরির দিকে এত ভিড় কেন?
এখানেও তরুণদের পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশে অনেক private-sector চাকরিতে—
- চাকরির নিরাপত্তা কম
- বেতন তুলনামূলক কম
- Contract অনিশ্চিত
- Social protection সীমিত
- Career progression অনিশ্চিত
অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে—
- স্থায়িত্ব
- নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো
- সামাজিক মর্যাদা
- চাকরির নিরাপত্তা
তুলনামূলক বেশি।
তাই একজন শিক্ষিত তরুণ যদি কয়েক বছর BCS বা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেন, সেটি সবসময় অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি বিদ্যমান শ্রমবাজারের একটি যৌক্তিক প্রতিক্রিয়া।
কিন্তু সমস্যা হলো—সরকারি চাকরির আসন সীমিত।
ফলে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী কয়েকটি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করেন এবং অনেকের বয়স পেরিয়ে যায়।
৬. সবচেয়ে বড় বিপদ: “চাকরি আছে, কিন্তু ভালো চাকরি নেই”
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে informal employment-এর পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে কেউ হয়তো—
- রিকশা চালাচ্ছেন
- দোকানে কাজ করছেন
- ছোট ব্যবসা করছেন
- দিনমজুরি করছেন
- অস্থায়ী কাজ করছেন
তাই পরিসংখ্যানের হিসাবে তিনি unemployed নন।
কিন্তু তিনি যদি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবহার করতে না পারেন, পর্যাপ্ত আয় না পান কিংবা ভবিষ্যৎ career তৈরি করতে না পারেন, তাহলে তার সমস্যাটি থেকেই যায়।
অর্থাৎ বেকারত্বের সরকারি হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো চিত্র বোঝা যায় না।
৭. তাই বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বেকার হওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সংকেত
কারণ এটি শুধু কয়েক লাখ মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়।
এর অর্থ হলো:
একটি পরিবার একজন সন্তানকে ১৬–২০ বছর পড়াল → পরিবার অর্থ ব্যয় করল → সন্তান ডিগ্রি পেল → কিন্তু অর্থনীতি তার শিক্ষাকে কাজে লাগানোর মতো চাকরি তৈরি করতে পারল না।
এটা দেশের জন্যও ক্ষতি।
কারণ একজন শিক্ষিত তরুণ বেকার থাকলে তার—
উৎপাদনশীলতা
+
আয়
+
কর দেওয়ার ক্ষমতা
+
পরিবারকে সহায়তা
+
অর্থনীতিতে ভোগ ও বিনিয়োগ
সবই কমে যায়।
তাছাড়া দীর্ঘদিন বেকার থাকার কারণে একজন তরুণের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সমাধান কী?
বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারত্বের সমাধান শুধু “আরও বিশ্ববিদ্যালয় বানানো” দিয়ে হবে না।
বরং কয়েকটি জায়গায় একসঙ্গে পরিবর্তন দরকার।
১. শিক্ষা → চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা
বিশ্ববিদ্যালয়ের curriculum শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পরিবর্তন করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা যে বিষয় পড়ছেন, সেই বিষয় থেকে বাস্তবে কোন ধরনের চাকরি পাওয়া যায়—এটা শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই পরিষ্কার হওয়া দরকার।
২. Technical ও vocational education বাড়ানো
শুধু BA, BSS, BBA, MA বা অন্যান্য সাধারণ ডিগ্রির দিকে না গিয়ে—
- IT
- Electronics
- Machinery
- Healthcare
- Logistics
- Construction
- Renewable energy
- Agro-processing
- Skilled trades
ইত্যাদি ক্ষেত্রে দক্ষতা তৈরি করতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা
শিক্ষার্থীদের জন্য—
- Internship
- Apprenticeship
- Industry project
- Practical training
আরও বেশি প্রয়োজন।
কারণ বই পড়ে কোনো কাজ সম্পর্কে জানা এবং বাস্তবে সেই কাজ করতে পারা এক জিনিস নয়।
৪. Private-sector job সৃষ্টি
শুধু সরকারি চাকরি বাড়িয়ে বিপুলসংখ্যক নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশকারীকে সামলানো সম্ভব নয়।
প্রয়োজন—
- নতুন শিল্প
- দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ
- IT services
- Manufacturing
- Logistics
- Agro-processing
- Export-oriented industries
- নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা
ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক উৎপাদনশীল চাকরি তৈরি করা।
৫. ডিগ্রির পাশাপাশি skill-এর মূল্য বাড়ানো
ভবিষ্যতে একজন মানুষের পরিচয় শুধু—
“আমি মাস্টার্স করেছি।”
এতে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশ্ন হওয়া উচিত:
“আমি কী করতে পারি?”
একজনের যদি ডিগ্রি না-ও থাকে, কিন্তু সে যদি দক্ষভাবে কোনো কাজ করতে পারে, তাহলে তারও সম্মানজনক আয় ও career-এর সুযোগ থাকা উচিত।
অন্যদিকে ডিগ্রি থাকলেও যদি বাস্তব কোনো দক্ষতা না থাকে, তাহলে শুধু সনদ দিয়ে চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
একটি আশাব্যঞ্জক দিকও আছে
বাংলাদেশের সমস্যা একই সঙ্গে একটি বড় সুযোগও।
কারণ আমাদের দেশে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের যদি market-relevant skill দেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে private sector-এ ভালো চাকরি তৈরি করা যায়, তাহলে এই তরুণ population-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
অর্থাৎ তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য বোঝা নয়—সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি বিশাল সম্পদ।
চূড়ান্ত কথা
বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারত্বকে শুধু “চাকরি নেই” দিয়ে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
মূল সমস্যাগুলো হলো:
১. শ্রমবাজারে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নতুন মানুষ প্রবেশ করছে।
২. সেই অনুপাতে মানসম্মত চাকরি তৈরি হচ্ছে না।
৩. উচ্চশিক্ষার সম্প্রসারণ হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার সঙ্গে চাকরির বাজারের সামঞ্জস্য যথেষ্ট হয়নি।
৪. অনেক graduate-এর বাস্তব কর্মদক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।
৫. কিছু শিল্পে প্রয়োজনীয় দক্ষ লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
৬. সরকারি চাকরির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।
৭. দেশের বড় অংশের কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক ও কম উৎপাদনশীল।
সুতরাং বাংলাদেশের সামনে আসল প্রশ্ন শুধু:
“কতজন বেকার?”
তা নয়।
বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:
“কতজন মানুষ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী উৎপাদনশীল, নিরাপদ ও সম্মানজনক কাজ পাচ্ছেন?”
কারণ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি শুধু বেকারত্বের হার কমিয়ে নয়, বরং তার মানুষের দক্ষতা ও শ্রমকে কতটা উৎপাদনশীলভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে—তার ওপরও নির্ভর করে।
সবচেয়ে সংক্ষেপে বলা যায়:
বাংলাদেশের সমস্যা শুধু চাকরির সংকট নয়;
এটি একই সঙ্গে দক্ষতার সংকট, চাকরির মানের সংকট এবং শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে সামঞ্জস্যের সংকট।
আর এই সমস্যার সমাধান করতে হলে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান—সবগুলোকে একই পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে।