| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহিউদ্দিন হায়দার
শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির—ধর্মের নামে এই লেভেলের "মাল্টিটাস্কিং" মুনাফেকি কি আপনিও খেয়াল করেছেন?
ঈমানের তলোয়ার শুধু গরিবের ওপর চলে, আর হোয়াইট হাউজের সামনে গেলেই কেন এদের লুঙ্গি কোঁচা দিয়ে সোজা হয়ে যায়?
ভাইরে ভাই, বাংলাদেশ জামায়াত, হেফাজত আর কওমি ঘরানার কিছু রাজনৈতিক ভাঁড়দের অ্যাক্টিভিটি দেখলে ইদানীং বিনোদনের অভাব হয় না। এদের মুখ আর মনের দূরত্ব পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্বের চেয়েও বেশি! এদের কাছে ইসলাম কোনো আদর্শ না, ইসলাম হলো জাস্ট একটা "লাভজনক স্টার্টআপ বিজনেস"।
চলুন, এদের এই চরম সুবিধাবাদী আর হিপোক্রেট লাইফস্টাইলের টপ ৫টি কমেডি দেখে আসি:
১. জাতীয় সংগীতে অ্যালার্জি, মার্কিন সংগীতে ভক্তি:
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত বাজলে এদের হাঁটুতে ব্যামো ধরে, খাড়া হয়ে দাঁড়াতেও কষ্ট হয়! কিন্তু মার্কিন বা ইউরোপীয় কোনো প্রভু সামনে আসলে কিংবা তাদের জাতীয় সংগীত বাজলে, এরা এমন সবিনয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে যে মনে হয় যেন বেহেশতের হুর দেখে ফেলেছে!
২. ফিলিস্তিনের জন্য চোখের জল, আমেরিকার জন্য কোলাকুলি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিলিস্তিনের জন্য দিনরাত কান্নাকাটি করে এরা লাইক-শেয়ার কুড়ায়। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, যে আমেরিকা ফিলিস্তিনিদের ওপর বোম মারার ফান্ড দেয়, পর্দার আড়ালে সেই আমেরিকাকেই এরা "দুধে-ভাতে পরম বন্ধু" বানিয়ে কোলে বসে থাকে! একেই বলে—কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো আর কেঁদে ডলার কামানো। ন্যাকামি আর কাকে বলে!
৩. মুখে পুঁজিবাদ হারাম, অন্তরে হ্যালুসিনেশন:
ওয়াজের স্টেজে উঠে গলা ফাটায়—"পুঁজিবাদ হারাম", "বস্তুবাদ ইসলাম বিরোধী", "এলজিবিটি মহাপাপ"! অথচ আড়ালে গেলে এদেরই পশ্চিমা লাক্সারি লাইফ, ব্র্যান্ডেড জিনিস আর সেই তথাকথিত নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর প্রতি গোপন লালসা সবচেয়ে বেশি চাড়া দিয়ে ওঠে। মুখে বিষ, অন্তরে মধু!
৪. ক্ষমতার লোভে ফতোয়া চেঞ্জ (নারী নেতৃত্ব স্পেশাল):
মঞ্চে দাঁড়ালেই ফতোয়া দেয়—"নারী নেতৃত্ব ইসলামে হারাম, গজব নামবে!" কিন্তু ২০০১ সালে যখন ক্ষমতার হালুয়া-রুটির ভাগ পাওয়ার সুযোগ এলো, তখন এই জামায়াতই দেশের প্রথম "ইসলামি দল" হিসেবে নারী নেতৃত্বকে সানন্দে গিলে নিয়েছিল। ক্ষমতার গন্ধ পেলে এদের সব ফতোয়া আইসক্রিমের মতো গলে যায়!
৫. জালিমের বিরুদ্ধে জিহাদ, নাকি জালিমের সাথে ডেটিং:
এদের ডিকশনারিতে আছে—"জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই না করলে মুমিন হওয়া যায় না।" অথচ প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় খলনায়ক, শোষক আর সাম্রাজ্যবাদী জালিমদের ড্রয়িংরুমে এদেরই সবচেয়ে বেশি দহরম-মহরম আর খাতিরদারি দেখা যায়।
আসল সত্যটা কী জানেন?
এরা মনে-প্রাণে চায় বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটা "ফকিন্নি আর দেউলিয়া" মডেলে চালাতে। কিন্তু পাকিস্তান নিজেই এখন ভিক্ষার থালা নিয়ে ঘুরছে, তাই সরাসরি সেই নাম মুখে নেওয়ার সাহস এদের বাপেরও নেই! তাই এরা ঘুরে-ফিরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী বিদেশি প্রভুদের পা চাটতে যায়, যাতে ক্ষমতা আর ফান্ডের টাকাটা ঠিকঠাক আসে।
এদের কাজ আর বিশ্বাস কোনোদিন এক ছিল না, আর হবেও না। এদের ইসলাম মানেই হলো—পাবলিককে ইমোশনাল ফুল বানিয়ে নিজের আখের গোছানো! মুমিন চেনা বড় দায়!
আপনার কী মনে হয়?
এইসব "ডলার-খেকো" এবং ধর্মের নামে ব্যবসা করা পলিটিক্যাল হিপোক্রেটদের চাবুক মারার সময় কি এখনো আসেনি? আপনার খাঁটি বাঙালি মতামত কমেন্টে ঢেলে দিয়ে যান!
০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫২
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: চমৎকার এবং তথ্যসমৃদ্ধ একটি বিশ্লেষণ ভাই। আপনি জামায়াতের যে ঐতিহাসিক উৎপত্তির কথা বললেন (দিল্লী-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ট্রিলজি), এটাই হলো চরম সত্য। এরা কখনোই খাঁটি ইসলাম বা বাংলাদেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করেনি। আর পরাশক্তি আমেরিকার চরিত্রই এমন—তারা সুবিধাবাদীদের খোঁজে। যখন যাকে দিয়ে স্বার্থ উদ্ধার করা যায়, তাকেই কোলে তুলে নেয়, আবার কাজ শেষে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। এই সরল সমীকরণটা আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ যত দ্রুত বুঝবে, ততই মঙ্গল। আপনার এই মূল্যবান মতামতের জন্য কৃতজ্ঞতা।
২|
০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৫
মাথা পাগলা বলেছেন: জামাত একমাত্র ইসলামিক দল যারা বিশ্ব ইতিহাসে সর্বাধিক মুসলিম হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলো।
০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি একদম নির্মম সত্যকে সামনে এনেছে। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী ধর্মের দোহাই দিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালিয়েছিল—যার শিকার সিংহভাগই ছিল এদেশের সাধারণ মুসলমান। ইতিহাস সাক্ষী, এরা ক্ষমতার লোভে আর পাকিস্তানি প্রভুদের খুশি করতে যতটা মুসলিম রক্ত ঝরিয়েছে, ততটা ইসলামের শত্রুরাও বোধহয় পারেনি। এদের মুখে ইসলামের কথা আসলে একটা চরম কৌতুক ছাড়া আর কিছুই না
৩|
০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ককাস গঠন করেছে
ককাস হলো কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সংসদ সদস্যদের সভা। দেশ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে নিজের স্বার্থে গঠন করে থাকে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্বমূলক অঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যদের প্রার্থী মনোনয়ন, নীতি পরিকল্পনা ইত্যাদির জন্য অনুষ্ঠিত সভাকেও ককাস বোঝানো হয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কিছু কমনওয়েলথ দেশে সংসদীয় দলের সকল সংসদ সদস্যের একটি সভা।
উত্তর আমেরিকার ব্রিটিশ উপনিবেশগুলিতে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ক্লাব বা ব্যক্তিগত সভা বোঝাতে 'ককাস' শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। এটি প্রথম বোস্টনের ককাস ক্লাবের প্রসঙ্গে পাওয়া যায়, যা আনুমানিক ১৭১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জেমস হ্যামন্ড ট্রাম্বুল ১৮৭২ সালে আমেরিকান ফিলোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন যে ককাস শব্দটি পরামর্শক হিসেবে বুঝানো হবে। ককাসের মূল কাজ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মধ্যস্থতা, সুবিধা প্রদান এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করা। আরো সহজ করে বললে ককাস হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও সুবিধা নিশ্চিতকরণে মধ্যস্থতাকারি (Mediator) সভা। এটি গঠিত হয় আইনসভা বা রাজনৈতিক সমমনা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে। সুনির্দিষ্ট ইস্যু, নীতি ও অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৌশল নির্ধারণ করা৷ মতামত গঠনে, নীতি প্রণয়নে গোপনে বৈঠক করা৷ সংসদে কোনো বিল বা আইন পাশ হলে সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুন্ন হলে তার প্রতিবাদ করা৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরকারের ভেতর লবিং করা৷ মূল কথা হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাধিক রাজনৈতিক দলের সমমনা সংসদ সদস্যদের দিয়ে ককাস দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিকল্প একটি ফোরাম তৈরি করে কাজ করে। যাদের মূল লক্ষ্য মার্কিন স্বার্থের সুরক্ষা দেয়া-হাসান জাহিদ
০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: ভাইরে ভাই! আপনি তো ককাসের একদম উইকিপিডিয়া লেভেলের প্রাতিষ্ঠানিক সংজ্ঞা তুলে ধরলেন। ধন্যবাদ এই জ্ঞানগর্ভ ব্যাখ্যার জন্য! আপনার এই চমৎকার তথ্যবহুল কমেন্টটি আসলে আমাদের মূল পোস্টেরই সত্যতা একশ ভাগ প্রমাণ করে দিল।
আপনি ঠিকই বলেছেন—ককাস হলো মার্কিন স্বার্থ ও সুবিধা নিশ্চিতকরণের "মধ্যস্থতাকারী বা দালাল সভা"। এখন ট্র্যাজেডিটা খেয়াল করুন:
যে দলগুলো দিনরাত স্টেজে দাঁড়িয়ে "আমেরিকা ধ্বংস হোক", "সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক", "পশ্চিমা সংস্কৃতি হারাম" বলে পাবলিকের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলা করে এবং ফিলিস্তিনের নামে চোখের পানি ফেলে—সেই তারাই যখন পর্দার আড়ালে বা প্রকাশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই তথাকথিত 'ককাস' বা 'লবিং ফোরাম'-এর প্রধান গুটি বা পার্টনার হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাদের ঈমানি চেতনাটা কোথায় গিয়ে লুকায়?
আমেরিকা নিজের স্বার্থে দল বা ককাস বানাবে, সেটা তাদের পররাষ্ট্র নীতি। কিন্তু যারা নিজেদের 'ইসলামের একমাত্র রক্ষক' দাবি করে মার্কিন স্বার্থের পাহারাদার বা দালাল (Mediator) হিসেবে সরকারের ভেতর লবিং করে, নীতি প্রণয়নে গোপনে বৈঠক করে—তাদের এই রূপকে "মুখে জিকির আর অন্তরে ডলারের ফিকির" ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!
সোজা বাংলায়, আপনার দেওয়া এই তথ্যের পর তো মুখোশটা আরও পরিষ্কার হলো—এদের কাছে ইসলাম হলো পাবলিককে খাওনোর একটা সস্তা ইমোশন, আর আসল কাজ হলো ভেতরে ভেতরে মার্কিন বা বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করে নিজেদের আখের গোছানো! চিনে রাখুন এই হিপোক্রেটদের!
৪|
০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯
নতুন বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন—ককাস হলো মার্কিন স্বার্থ ও সুবিধা নিশ্চিতকরণের "মধ্যস্থতাকারী বা দালাল সভা"।
বাংলাদেশী হইয়া আমরিকার ককাস নির্বাচিত হইছে সেটাইতো বিরাট ব্যাপার।
এই করনেই এই সভার নাম ককাস - দালাল সঙ্ঘ না। ![]()
৫|
০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০
রাজীব নুর বলেছেন: দেশ এখন নষ্টদের দখলে। কাজেই দেশে এখন যা হবে, সবই খারাপ হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:১৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ইসলাম মানেই হলো—পাবলিককে ইমোশনাল ফুল বানিয়ে নিজের আখের গোছানো!
.................................................................................................................
জামাত কোন ইসলামী দল নয় , সারা বিশ্ব জানে,
তাদের উৎপত্তি দিল্লী বিস্তার পাকিস্হানে, চর্চ্চা বাংলাদেশে ।
আমেরিকা সকল দেশের দূর্বলতা ও দূর্বৃত্ত খোঁজে , কোন সময়
তাদের ব্যান করে আবার সুযোগ বুঝে কোলে তুলে নেয় ।