নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

"বাংলাদেশ কি একটি "ব্যর্থ রাষ্ট্রে" পরিণত হতে যাচ্ছে? - জঙ্গিবাদ ও পাকিস্তানপন্থার উত্থান"

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৮


বাংলাদেশ কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে, যেখানে আইন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় পরিচয় বা জনতুষ্টিমূলক ও সুবিধাবাদী রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে? নাকি দেশটি পশ্চাৎমুখী কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে যেখানে পরাশক্তিগুলো নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামপন্থী রাজনীতি ও জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করবে আর বাংলাদেশ পরিণত হবে তাদের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, ডিপ স্টেট ও সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের ক্ষেত্র হিসেবে?

উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে। দেশ কি অচিরেই এমন একটি "ব্যর্থ রাষ্ট্রে" পরিণত হবে, যেখানে সরকার দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জনগণকে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা দিতে ব্যর্থ হবে? নাকি রাষ্ট্র এখনো তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে?

রাজনৈতিক সংস্কৃতি যখন যুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও আত্মসমালোচনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং পশ্চাৎমুখী ও অযৌক্তিক ধারণা ও মতবাদে আচ্ছন্ন হতে শুরু করে, তখন তার পক্ষে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ঘটনাপ্রবাহে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, বাংলাদেশে সেই পতন শুরু হয়েছে। সুস্থ ও যুক্তিশীল চিন্তা আর সামাজিক পরিসরে কাজ করছে না। রাজনীতি তৌহিদি জনতার মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বিলুপ্তির পথে। নারী স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং ধর্মীয় কর্তৃত্বের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

হাসিনার পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই সুযোগে একের পর এক ইসলামপন্থী, সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের অনুগত এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রবেশ করেছে। ইতিহাসে লিবিয়া, ইরাক ও সিরিয়ার মতো দেশে আমরা দেখেছি, পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়ার পর সৃষ্ট শূন্যতা কীভাবে নানা উগ্র, সহিংস ও ভূরাজনৈতিক শক্তির অনুপ্রবেশের পথ তৈরি করে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি তার হুবহু পুনরাবৃত্তি না হলেও ক্ষমতার শূন্যতার মধ্য দিয়ে নতুন অশুভ শক্তির প্রবেশের সাদৃশ্য রয়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রথম উদ্বেগজনক দিক হল জঙ্গিবাদ। জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা হলেও, বর্তমানে আমরা যে ধরনের জঙ্গিবাদের উত্থান দেখছি, তার চরিত্র ভিন্ন। এর সাথে এখন ভূরাজনৈতিক শক্তিগুলো জড়িয়ে গেছে যা বাংলাদেশে অতীতে অনুপস্থিত ছিল। জঙ্গিবাদ এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর সহিংসতা নয়, একে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যমে পরিণত করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার তার রাজনৈতিক ক্ষমতা রক্ষার বিনিময়ে যে ভারতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল, তার ভিত্তি ছিল মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে যে পাকিস্তানপন্থি নীতি প্রাধান্য পেল, তার স্বার্থ কেবল অর্থনৈতিক নয়, এর সাথে সামরিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ যুক্ত হল। এই স্বার্থের একটি দিক ইসলামপন্থি রাজনীতি ও জঙ্গিবাদকে ভূরাজনীতিতে যুক্ত করা।

বাংলাদেশকে ঘিরে যে নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হল, সেখানে আমেরিকা, পাকিস্তান ও তুরস্ক, তিন দেশই তাদের নিজেদের স্বার্থে সক্রিয় এবং পরাশক্তির এই খেলায় তাদের স্বার্থের বিভিন্ন জায়গায় মিল ও পারস্পরিক সংযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতি ও জঙ্গিবাদের উত্থানে আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা, সামরিক স্বার্থ এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর হাসিনার পতনের রাজনৈতিক শূন্যতায় নিজেদের নতুন করে আত্নপ্রকাশ করলো।

জঙ্গিবাদ ও জিহাদ নিয়ে একজন আমেরিকান কূটনীতিকের গবেষণা এখানে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তার নাম পল কাপুর, যিনি বর্তমানে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আমেরিকার ভূরাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করতে একজন আমেরিকান কূটনীতিকের গবেষণাকেই সূত্র হিসেবে ব্যবহার করা স্ববিরোধী মনে হতে পারে। কিন্তু বিষয়টির আরেকটি দিকও আছে। অনেক সময় দূর থেকে বিশ্লেষণ করা গবেষকের চেয়ে, যে ব্যক্তি সরাসরি সেই দেশের নীতিনির্ধারণের সাথে যুক্ত, তাঁর বক্তব্যের বাস্তব গুরুত্ব থাকে।

কাপুরের লেখা বই "জিহাদ অ্যাজ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি: ইসলামিস্ট মিলিটেন্সি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি, অ্যান্ড দ্য পাকিস্তানি স্টেট", এ দেখিয়েছেন, পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই দেশটি তার দুর্বলতা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করা শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে পাকিস্তান সেটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদি "গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিতে" পরিণত করে। এখানে জিহাদ সেই স্ট্র্যাটেজি বা কৌশলের আদর্শিক ভিত্তি, আর জঙ্গিবাদ রাজনৈতিক ও সামরিক হাতিয়ার। এর মাধ্যমে পাকিস্তান একদিকে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক সংহতি জোরদার করেছে, অন্যদিকে ভারতের তুলনায় তার সামরিক দুর্বলতা মোকাবিলা করেছে। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে পাকিস্তান কাশ্মীরে ভারতের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের লক্ষ্য পুরণ করেছে।

কাপুরের-এর বিশ্লেষণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় এর "জিহাদ প্যারাডক্স" ধারনাটি। যে জঙ্গিবাদ একসময় নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহার হয়, সময়ের সাথে সাথে সেই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে রাষ্ট্র তাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। পাকিস্তান যে শক্তিকে নিজের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিল, একসময় সেই শক্তিই পাকিস্তানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, কাপুরের আলোচনায় পাকিস্তানের জঙ্গিবাদের সাথে আমেরিকার ভূমিকার বিশদ আলোচনা নেই। অথচ গত কয়েক দশকের ইতিহাসে জঙ্গিবাদ ও সশস্ত্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিকাশে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা আছে। আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদিনদের প্রতি মার্কিন সহায়তা তার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। পরবর্তী সময়ে ইরাক ও সিরিয়ার সংঘাতেও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আমেরিকা পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

আমেরিকা তার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে বরাবরই নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। দুর্বল বা অনুন্নত রাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে তারা সন্দেহের চোখে দেখেছে এবং তার স্বার্থের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করেছে। এসব দেশে তাদের পছন্দ সামরিক ও কর্তৃত্ববাদী শাসন। সোভিয়েতবিরোধী আফগান যুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা দেখিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসলামপন্থি সশস্ত্র শক্তিকেও তারা সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ব্যবহার করে।

এই দৃষ্টিভঙ্গির গভীরে আছে ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। যেখানে উপনিবেশিত জনগণকে সমান রাজনৈতিক ও মানবিক মর্যাদার অধিকারী নাগরিক হিসেবে না দেখে শাসন, নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের বস্তু হিসেবে দেখা হয়। বর্ণগত শ্রেণিবিন্যাস, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অধিকার সীমিত রেখে শক্তি প্রয়োগের এই শাসন-পদ্ধতি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল।

এখানে পাকিস্তানি লেখক তারিক আলীর "মৌলবাদের সংঘাত: ক্রুসেড, জিহাদ ও আধুনিকতা" বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

আলী লিখেছেন, "সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে কোল্ড ওয়ারের অবসান ঘটে, বিভিন্ন মহাদেশে কিছু রাষ্ট্র অভিভাবক শুণ্য হয়ে যায়। পাকিস্তানে এর প্রভাব ছিল প্রলয়ংকরী। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে অনেক ভূমিকা রেখেছে। এটা বিস্ময়কর নয় যে, কাজ শেষ হবার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য আর অর্থ এবং অস্ত্র সরবরাহ করার প্রয়োজন বোধ করলো না। এর ফলে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো রাতারাতি মার্কিন-বিরোধী সহিংস ভূমিকায় নামে এবং প্রতিশোধের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ১৯৫১ সাল থেকে পাকিস্তানের যে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা একনাগাড়ে বিশ্বস্ততার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেবা করেছেন তারাও ওয়াশিংটনের উপেক্ষায় অপমানিত বোধ করলেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আমার বোঝার সুবিধার জন্য সংক্ষেপে বললেন: আফগানিস্তানে প্রবেশের জন্য পাকিস্তান ছিল আমেরিকানদের ব্যবহৃত কনডম। আমরা তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করার পর তারা আমাদেরকে টয়লেটে ফ্লাশ করার জিনিস মনে করে।"

পাকিস্তানের পথ ধরে বাংলাদেশও কি একই ধরনের ভূরাজনৈতিক খেলায় বড় শক্তিগুলোর ব্যবহৃত আবর্জনায় পরিণত হওয়ার পথে হাঁটছে? কে এই সম্ভাবনা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবে?

সংযুক্তি: গত দুই বছরের কয়েকটি খবর যুক্ত করলাম।

১। জুলাই - আগস্ট ২০২৪: কারাগার ভাঙা ও জঙ্গিদের মুক্তি:
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের একাধিক কারাগারে হামলা ও বন্দি পালানোর ঘটনা ঘটে। নরসিংদী কারাগার থেকে ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যায়; তাদের মধ্যে নয়জন ছিল জেএমবি ও আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি বন্দি পালিয়ে যায়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৭০ জন জঙ্গি ছিল।

২। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর - উগ্রপন্থিদের জামিনে মুক্তি:
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর উগ্রপন্থিদের একটি অংশ জামিনে মুক্তি পেতে শুরু করে। ২০২১–২০২৫ সালের মধ্যে জামিনে মুক্ত হওয়া উগ্রপন্থিদের মধ্যে ৩৮০ জন ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর মুক্তি পেয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদের মধ্যে জেএমবি, আনসার আল ইসলাম, হুজিবি ও নব্য জেএমবির সদস্যদের নাম এসেছে।

৩। জানুয়ারি ২০২৫ - তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা:
বাংলাদেশ ও তুরস্ক প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তুরস্ককে বাংলাদেশে প্রযুক্তি নিয়ে আসা ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

৪। অক্টোবর ২০২৫ - পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের নতুন ঘনিষ্ঠতা:
পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি এর চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা ঢাকা সফর করেন। বাংলাদেশের তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সন্ত্রাস দমন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় আলোচনা হয়।

৫। ২০২৫ - পাকিস্তানের নৌবাহিনী প্রধানের বাংলাদেশ সফর:
পাকিস্তানের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ বাংলাদেশ সফর করেন। ১৯৭১ সালের পর কোনো পাকিস্তানি নৌবাহিনী প্রধানের এটি ছিল প্রথম বাংলাদেশ সফর। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

৬। জুন ২০২৬ - সামরিক ইউনিটের ধর্মীয় নামকরণ:
নতুন "২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন" -এর চারটি কোম্পানির নাম আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর নামে রাখার খবর প্রকাশিত হয়।

৭। আগস্ট ২০২৬ - জঙ্গিদের একটি অংশ এখনও পলাতক:
২০২৪ সালের কারাগার ভাঙার দুই বছর পরও ২,২৪৭ জন পলাতক বন্দির মধ্যে ৬৯০ জনকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গিদের মধ্যেও কয়েকজন তখনও পলাতক ছিল। একই সময়ে কিছু মুক্তিপ্রাপ্ত সন্দেহভাজন জঙ্গি পুরোনো নেটওয়ার্ক পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশিত হয়।

৮। আগস্ট ২০২৬ - সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিস্তার:
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান "আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট" উদ্বোধন করেন। তিনি আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থানে এর শাখা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়।

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৪৯

মাথা পাগলা বলেছেন: আম্রিকা বেনামে জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। মুসলিম দেশগুলোর প্রধান শত্রু আমেরিকা - উদাহরন আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ার মতো দেশগুলার অবনতি। তবে বাঙালিরা জাতিগতভাবে সহজ-সরল, মানবিক যা DNA/বংশপরম্পরায় চলে আসছে। সমস্যা তীব্র হলে জনগণ মাঠে নামবে।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫২

শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ মাথা পাগলা। আমি আশা করি যে সমস্যা তীব্র হলে জনগণ মাঠে নামবে। কিন্তু জঙ্গিবাদ এমন এক সমস্যা যেটা ঠিক জনগণের মাঠে নামা দিয়ে প্রতিহত করা সম্ভব নয়।

আমি যে তারিক আলীর বইয়ের কথা লিখেছি, যেখানে তিনি যে কথাগুলো লিকেছেন সেটা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এখন খুবই প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে, সেখানেই তিনি লিখেছেন যে খোদ পাকিস্তানেও সাধারন মানুষ ইসলামপন্থি দলগুলোকে বেশি ভোট দেয়না। অথচ জঙ্গিবাদের তারা সেরা দেশের একটা। আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশ এই একই পথে এগোচ্ছে, যেটা আমার এই লেখার মূল বিষয়।

২| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। হাসিনা ভারতের পরামর্শে জঙ্গিবাদের নাটক লিখে বাহিনীগুলোকে দিয়ে মঞ্চস্থ করতো ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য। ইহা ছিল নির্মম সত্য। আর আপনারা বিদেশে থেকে জঙ্গিদের স্বপ্নে দেখছেন এই হলো সমস্যা।

সরকার যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা না করতে পারে তাহলে হাসিনার মতোই টেনে হিচড়ে নিচে নামাবে।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা :) সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: হাসিনা ভারতের পরামর্শে জঙ্গিবাদের নাটক লিখে বাহিনীগুলোকে দিয়ে মঞ্চস্থ করতো।

এই জাতীয় শিশুতোষ, ছেলেভোলানো কথা কি আমার পোস্টে আপনার বলা উচিত?

আর, আমি সচরাচর কোনো একটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেই কেবল তা নিয়ে লেখার চেষ্টা করি।

৩| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম। ভেবেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর শুল্ক বাড়ানোর পরের পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কাছ থেকে কিছু জানতে পারব। সময় পেলে একদিন লিখবেন। এবার জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে আসি। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের মতো বড় আকার ধারণ করেনি। তবে তৌহিদি জনতার নামে যে ধরনের উগ্রতা আমরা দেখছি, সেটা নিয়ে ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে।

আমার মনে হয়, এর পেছনে শুধু ধর্মীয় কারণ খুঁজলে ভুল হবে। আমাদের বড় সমস্যা হলো সাধারণ শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া। ২০২৫ সালে স্কুল থেকে ৪.৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে গেছে, অথচ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ১.৫৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রশ্ন হলো, মানুষ মাদ্রাসার দিকে যাচ্ছে কেন? এর একটা বড় কারণ অর্থনৈতিক। স্কুল কলেজে পড়ানোর খরচ বাড়ছে, অথচ পড়াশোনা শেষ করেও ভালো চাকরির নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে মাদ্রাসায় তুলনামূলক কম খরচে পড়ানো যায়। তার সঙ্গে অভিভাবকের মনে একটা ধারণাও তৈরি হয়েছে যে ধর্মীয় পরিবেশে সন্তান অন্তত নৈতিকভাবে নিরাপদ থাকবে।

যদিও বাস্তবতা এত সহজ নয়। মাদ্রাসাতেও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তাহলে শুধু মাদ্রাসায় পড়লেই সন্তান নৈতিকভাবে ভালো মানুষ হবে, এই ধারণার ভিত্তিটা কোথায়? আরেকটা বিষয় ভেবে দেখুন। সাধারণ শিক্ষায় পড়া একজন ছেলে যদি শেষ পর্যন্ত সৌদি গিয়ে কম বেতনের চাকরি করে, আর মাদ্রাসায় পড়া একজনও যদি একই কাজ করতে পারে, তাহলে একজন দরিদ্র বাবা কেন এত টাকা খরচ করে সন্তানকে সাধারণ শিক্ষায় পড়াবেন? এখানেই সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সংকটটা বোঝা যায়।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমাদের সাংস্কৃতিক শূন্যতা। স্কুলে শুধু পরীক্ষা আর প্রতিযোগিতা। নাটক, গান, খেলাধুলা, সাহিত্য, বিতর্ক এসব দিয়ে সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জায়গাটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। সমাজেও অন্যায়, অবিচার আর অনিয়ম বাড়ছে। ফলে মানুষ নিরাপত্তা খুঁজছে। অনেকের কাছে ধর্ম সেই নিরাপত্তার জায়গা হয়ে উঠছে। তাই আমি মনে করি, সমস্যাটা পুরোপুরি মাদ্রাসা নয়। সমস্যাটা হলো সাধারণ শিক্ষা, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থার সংকট।

মানুষ যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আশ্বস্ত থাকে না, তখন সে কোনো একটা নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। সেই জায়গাটা যদি শিক্ষা, সংস্কৃতি আর রাষ্ট্র দিতে না পারে, অন্য কোনো মতাদর্শ এসে সেটি দখল করবে। আমার কাছে মৌলবাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ধর্ম নয়, মানুষের এই অনিশ্চয়তা ও শূন্যতা।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:০৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ সৈয়দ কুতুব। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের মতো বড় আকার ধারণ করেনি, এটা সত্য কিন্তু জঙ্গিবাদ যে পাকিস্তানের একটা "গ্রাণ্ড স্ট্যাটেজির" অংশ এবং এটা নিয়ে যে আপনার প্রিয় (!) পল কাপুর সাহেবের গবেষণা পত্র আছে এটা জানতেন কি?

আমার বক্তব্য এই পোস্টে সামান্যই সেটা হল বাংলাদেশে জঙ্গিবাদকে পাকিস্তানের "গ্রাণ্ড স্ট্যাটেজির" অংশ করার চেষ্টা হচ্ছে, যার পরিনতি হলো, তারিক আলীর উল্লেখিত "আমেরিকার ব্যবহৃত কনডমে" পরিনত হওয়া।

৪| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৮

সামছুল আলম কচি বলেছেন: হা রে মশাই ; বাংলাদেশ কবে সফল রাস্ট্র ছিলো ??!!
বাংলাদেশ-কে জঙ্গী রাস্ট্র বানিয়েছে তা ৫ আগস্ট'২০২৪ এর পর খুব স্পষ্ট !! তবে একটা বিষয় আরও খুব খুব স্পষ্ট- বাংলাদেশে শুধু জঙ্গীবাদ নয় সকল অমানবিকতার তোষণকারী এবং মিথ্যা প্রচারের মূল কারিগর হলো, এ দেশের মেরুদন্ডহী, পা চাটা মিডিয়া আর তাদের পোষা সাংবাদিকেরা !!!
দাস মনোবৃত্তির মানুষরো স্বীকার করুক বা না করুক- বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিস্থিতি পৃথিবীর বহু বহু দেশ তো বটেই; অন্তত ভারতের চেয়ে অনেক অনেক ভালো !!

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:০৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা :) সামছু ভাই, আপনার শইলডা ভালো!

হা হা, অবশ্যই! বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিস্থিতি পৃথিবীর বহু বহু দেশ তো বটেই; অন্তত ভারতের চেয়ে অনেক অনেক ভালো।

৫| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
আপনার এখনো কেন বাংলাদেশ কে একটি ব্যার্থ রাষ্ট্র মনে হচ্ছে না কেন এটাই বরং চিন্তার বিষয়!!!! ঢাকা অবসবাসযোগ্য নগরীর মধ্যে ১৭১ তম স্থান করে নিয়েছে ১৭৩ টি শহরের মধ্যে; যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া আছে তার আসে পাশেই।‌সরকারের কোন পলিসি,অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ঐক্যে, অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদেশী বিনিয়োগ এমন কিছু দেখে কি পূর্বাভাস দেওয়া যায় আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ভালো অবস্থায় যাবে?

পাকিস্তান- তুর্কি- বাংলাদেশ ডিফেন্স প্যাক্ট হচ্ছে জামায়াতের এদেশে নিরাপদে রাজনীতি করার চুক্তি। যাতে অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগ ফিরলে বার্মা দিয়ে পালাতে না হয়.....

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ কলিমুদ্দি দফাদার। ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত হলে সেটা আসলে অপ্রকাশিত থাকবে না। আমার মতে এখন আশা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে তবে ঠটনা ঘটার এখনো কিছু বাকি আছে।

পাকিস্তান- তুর্কি- বাংলাদেশ ডিফেন্স প্যাক্ট তুরষ্কের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স আর পাকিদের জঙ্গি-জিহাদের মাধ্যমে ভারতের সাথে প্রক্সি ওয়ার চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, যেটা এই পোস্টে সম্পূর্ন আলোচিত না হলেও কিছুটা উল্লেখ করেছি।

৬| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আমাদের দেশের হাজারো সমস্যা। বিবিএ এমবিএ পড়ালেখা করেও মানুষ মূর্খ হয়ে আছে। দেশের মানুষ দেশবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত। যারা প্রফেশনে শপথ নিয়েছে “দেশের জন্য কাজ করবে” - তারা বিক্রি হয়ে গিয়েছে।

পাকিস্তান গত ৫৫ বছরের প্রতিশোধ নিচ্ছে। এই দেশের পরিচয় ভারতের দালাল, আর পাকিস্তানের দালাল।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: পড়ালেখা করেও মূর্খ হয়ে থাকা এবং বিশেষ করে জঙ্গি জিহাদি হওয়াটা বিশেষায়নের এই যুগে মুসলমানদের একটা জাতীয় সমস্যা বলে আমার মনে হয়।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, "জীবনের সহিত শিক্ষার একটা রাসায়নিক মিশ্রণ হয় না বলিয়া আমাদের মনের শিক্ষিত ভাবগুলি কতক আটা দিয়া জোড়া থাকে, কতক কালক্রমে ঝরিয়া পড়ে"। বাঙালী মুসলমানদের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ এই কথা আরো বেশি সত্যি। বাঙালী মুসলমান বিএ, এমএ, পিএইচডি যে পাসই দিক তার জ্ঞান-বুদ্ধি ক্লাস ওয়ান টু এর মক্তবে পড়া কায়েদা, আমপাড়া থেকে আর উপরে ওঠেনা।

৭| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:০৮

হাসান মাহবুব বলেছেন: Reconciliation প্রসেসের মধ্যে দিয়ে না গেলে এই দেশের অবস্থা কেবল খারাপের দিকেই যাবে।

তবে একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন কি না জানি না, মুসলমানরা ডানপন্থার প্রতি বিরক্ত হতে শুরু করেছে। আগে হুজুরদের আকামের খবরেও মানুষের সমর্থন থাকতো। বলা হতো যে সব নাটক। আর এখন অনলাইনে তারা গালি খায় সমানে, আর বাস্তব জীবনে মার খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিয়ে এদেরকে আনবে না। তবে বহিঃশক্তি অথবা আর্মির প্রভাবে এরা শক্তিশালী হতে পারে।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে একমত, তবে রিকনসিলিয়েশনের সম্ভাবনা খুব বেশি দেখছি না। জঙ্গি বা তৌহিদি জনতার সাথে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব বলেও মনে হয় না।

মানুষ এখন ডানপন্থার প্রতি বিরক্ত হতে শুরু করেছে - এটা আমিও লক্ষ করেছি। মুশকিল হলো, সরকার যদি নীতিগতভাবে জঙ্গিবাদ, পাকিস্তানপন্থা, সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স এবং তৌহিদি জনতাকে খুশি করার জনতুষ্টিমূলক পথ বেছে নেয়, তাহলে সেটা খুব বড় বিপদের কারণ হবে। আর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো যত বাড়বে, এই সরকারের তত বেশি তৌহিদি-বান্ধব হওয়ার প্রবণতাও বাড়বে।

সেক্ষেত্রে জনগণ যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে নামে, সেটা তৌহিদি বাহিনীর সঙ্গে আন্তঃকলহে রূপ নিতে পারে।

৮| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: রিকনসিলিয়েশন হবে বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে। নাহলে প্রতিশোধের চক্র কোনোদিনও শেষ হবে না। তৌহিদি জনতা তো হিসাবের বাইরে। তারা আশকারা পেলে কী করতে পারে সেটা গত দুই বছর সবাই দেখেছে।

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১০

শ্রাবণধারা বলেছেন: ঠিক আছে, এমনটা হলে হয়তো সেটা বর্তমানের এই খারাপ অবস্থার চেয়ে ভালো হবে।

তবে হাসিনা-কাদের-হাসান মাহমুদ-শেখ সেলিমদের যে আওয়ামী লীগ, সেটা জেনোসাইডাল আওয়ামী লীগ। বিএনপির ইতিহাসে এমন নৃশংসতার অপবাদ এখনও না জুটলেও, তারা আবার জামায়াতপন্থী অপদার্থ দল। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাই ইতিহাসের স্বাভাবিক লক্ষণ। দেখা যাক!

৯| ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৩

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাংলাদেশে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির পতন শুরু হয়েছে। সুস্থ ও যুক্তিশীল চিন্তা আর সামাজিক পরিসরে কাজ করছে না। রাজনীতি তৌহিদি জনতার মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন বিলুপ্তির পথে। ব্যক্তির অধিকার ও নারী স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং ধর্মীয় কর্তৃত্বের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রবণতা শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
.................................................................................................................................................................
আমাদের জিডিপি কমে অর্ধেকের নীচে চলে গেছে,
ইন্ট্রীম সরকারের সময় সুযোগ ছিলো দেশকে ট্র্যাকে নিয়ে আসা
কিন্ত দূর্ভাগ্য তিনি নিজেই সৎ ছিলেন না,
বর্তমান সরকারের প্রাথমিক ধাপ ঠিক পথে চলার সূচক প্রদর্শন করছিলো
কিন্ত অজানা কারনে তা লাইনচুত্য হতে চলেছে।
আর তুরস্ক, পাকীরা, আমেরিকার ছাতার নীচে বসে কিছু খুচরা ব্যবসা করে নিচ্ছে ।
=====================================================
আমরা জানি, ভাই মরলে অনেকে সুন্দরী ভাবির খোজঁ নিতে শুরু করে, কারন ঐ সব
ভাবীদের মধু খাওয়ার প্রতিযোগিতা আদিকাল থেকে চলে আসছে ।
যে দেশে লাশে পচন ধরেছে, সে দেশে শকুনের অভাব হয়না ।

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার বক্তব্যে যথার্থ। হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে শক্তি ছাত্রজনতা দেখিয়েছে, এটা অদম্য এবং খুব বড় একটা ঘটনা। কিন্তু তার অব্যবহিত পরেই অন্তর্বর্তী সরকার যে এভাবে পরাশক্তির জালে আটকে পড়বে, তাদেরই কুস্বার্থের জন্য - এটা খুব হতাশাজনক।

বিগত সব অন্তর্বর্তী সরকারই জনগণের জন্য কিছু না কিছু কাজ করেছে, কিছু সংস্কার করেছে। ইউনূস পুরো সময়টাই তার বিদেশি প্রভুদের ঋণ শোধ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, আর এই অপকর্মগুলো করার সময় তিনি তৌহিদি জনতাকে কাভার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি আদতেই বিশ্ববাটপার।

১০| ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




বাংলাদেশে এতো 'জঙ্গী' তৈরী হওয়ার কারণ কি?

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩০

শ্রাবণধারা বলেছেন: এটার কারণ অনুসন্ধান নিশ্চয়ই জরুরি।

আপনার মনে আছে কি না জানি না, ২০১২-১৩ সালের ঘটনা বোধহয়- রাজউক কলেজে পড়া একজন ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে খুলনা বা বাগেরহাট, কোথায় যেন, একজন মন্দিরের পুরোহিত বা এমনই কাউকে চাপাতি দিয়ে খুন করতে যায়। কিন্তু সে ধরা পড়ে যায়। তখন হাসিনার পুলিশ তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে। ঘটনাটা আমার মনে খুব দাগ কেটেছিল। ১৭-১৮ বছরের একটা মেধাবী ছেলে কতগুলো বিকৃত ধারণার বশবর্তী হয়ে মানুষ খুন করতে গিয়ে নিজেই খুন হয়ে গেল।

এর কারণ জানার পাশাপাশি, এগুলো নিয়ে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কথা বলা ও সচেতন হওয়া জরুরি। পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মের মানুষের মধ্যে এত বড় নির্বোধ আর অসামাজিক আর নেই।

১১| ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০১

কিরকুট বলেছেন: বো চো ঝোলাই কুত্তাদের আড়ালে জামাত শিবির এটাই চাচ্ছিলো ।

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

শ্রাবণধারা বলেছেন: জুলাই হাসিনা ও আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তদের সীমাহীন অপকর্ম, দুর্নীতি, ঔদ্ধত্য, গুণ্ডামি, হত্যা ইত্যাদি ভয়ানক সব পাপের ফল। কিন্তু এই সামান্য বিষয়টুকু বোঝার মতো জ্ঞান-বুদ্ধিও আওয়ামী লীগের লোকদের নেই।

১২| ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট এবং মন্তব্য গুলো পড়লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.