নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

তৌহিদি জনতা বা ইসলামপন্থি গুণ্ডাবাহিনীর উত্থান

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৮


তৌহিদি জনতা হল ইসলামপন্থি গুণ্ডাবাহিনী। সমাজের পশ্চাৎপদ শ্রেণি, যারা সভ্যতার বাইরে প্রাচীন কোন জগতে আটকে আছে। সময়ের সাথে তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে পারেনি। বাইরের পৃথিবী যে বদলে গেছে, সেই খবর তারা কিছু কিছু হয়ত জানে, কিন্তু পরিবর্তনগুলো গ্রহণ করে না। তারা যেসব কেতাব পড়ে সেগুলোর মধ্যে নতুন পৃথিবীর কথা নেই, নতুন চিন্তা নেই। সেখানে জানালা-দরজাগুলো বন্ধ; বাইরের আলো-বাতাস যে ঢুকবে তারও সুযোগ নেই।

এই গুণ্ডাবাহিনী জঙ্গিদের মতো বুকে বোমা বেঁধে আত্মঘাতী হামলা করে না, তবে তাদের শক্তি এমন যে, তারা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে দীপু চন্দ্র দাসকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে, কবর থেকে পীরের লাশ তুলে এনে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে, মুসলিম নারীর সাথে প্রেম করার অপরাধে হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে শাস্তি দিতে পারে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, সরকার এদের দমন তো করেই না; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমন নির্দেশনা দেয় যে, তৌহিদি বাহিনীকে তারা তোয়াজ করে চলে।

অথচ এরা সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এক শক্তি, যার পরিচয় গড়ে উঠেছে সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে। বহুত্ববাদী ও আধুনিক নাগরিক সমাজের সাথে তাদের জীবনদর্শনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। ব্যক্তিস্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমতা, শিল্প-সংস্কৃতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক সমাজের এসব ধারণা তারা গ্রহণ করে না; বরং এই বিষয়গুলো নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

ধর্ম যখন জীবন্ত মানুষের ওপর মৃত নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, তখন ধর্মগ্রন্থের অর্থ অনুধাবনের চেয়ে তার বাণী আওড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন বিবেক, বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞানের চেয়ে "আল্লাহর আইন" বড় হয়ে ওঠে, আর কেতাবে কী লেখা আছে, সেটাই সত্যের মাপকাঠি হয়ে যায়। তৌহিদিরা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে না, কোনো কিছুর অনুসন্ধানও করে না; নিজেদের আল্লাহর আইনের দারোয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মধ্যেই তাদের যত স্বার্থকতা। তাদের ক্ষমতা জ্ঞানে নয়, জ্ঞানের সীমা নির্ধারণে।

তৌহিদি জনতার পিছনের ইতিহাসটা আমাদের জানা। এর শিকড় আছে দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বেড়ে ওঠা দুটি বিচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থার দিকে। বাংলাদেশ উত্তরাধিকারসূত্রে দুটি পরস্পর-বিরোধী শিক্ষাব্যবস্থার অধিকারী হয়েছিল: একটির ভিত্তি ছিল প্রথাগত ইসলামি পাঠ্যক্রম, যা ক্রমশ রক্ষণশীল হয়ে আধুনিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল; আর অন্যটির ভিত্তি ছিল ঔপনিবেশিক আধুনিকতা, যা ধর্মনিরপেক্ষ জ্ঞানের প্রবর্তন ঘটালেও ঔপনিবেশিক শাসনের ক্ষত ও বৈষম্যকে বহন করছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সেই বিভাজনকে আরও গভীর করেছে। সামরিক শাসনের সময়ে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের অংশ হিসেবে একে ব্যবহার করা হয়েছে।

যদিও তৌহিদি জনতার উত্থানের পথ হাসিনা সরকারই নানাভাবে তৈরি করেছিল এবং একধরনের কৃত্রিম ছিপি এঁটে তাদের উগ্রতাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর সেই ছিপিটা খুলে যায়। এরপর প্রবল স্রোতের বেগে তৌহিদিরা আত্মপ্রকাশ করে। এতদিন যেসব বিষয়ের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না, সেগুলোর ওপর সরাসরি আঘাত হানার সুযোগ তারা পায়। আধুনিক সমাজের সাথে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে সমাজটাকেই তারা নিজেদের প্রাগৈতিহাসিক যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। যখন দেখে সমাজের বড় অংশ তাদের ধারণা গ্রহণ করছে না, তখন তাদের ক্ষোভ মবের আকারে প্রকাশ করে।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেটা কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা, সেটা হল এই তৌহিদি জনতার সাথে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তথাকথিত এলিটদের আঁতাত হওয়া। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার শুধু যে এই তৌহিদিদের সমর্থন জুগিয়েছে তা নয়, তিনি এদেরকে চতুর কৌশলে ব্যবহার করেছেন।

তৌহিদিদের ঘৃণার বিষয় হল বাঙালি সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গান, গল্প, কবিতা, নাটক - এসব। আর এসবের চর্চা করে সেক্যুলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি। সাংস্কৃতিক চর্চা তৌহিদি জনতা কিংবা এলিট শ্রেণির কাছে প্রয়োজনীয় নয়। তৌহিদিদের চিন্তার ফ্রিকোয়েন্সি বাউল গান বা লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান পর্যন্ত পৌঁছায় না। আবার এলিটদের মাথা জ্ঞানে এত পরিপূর্ণ যে তাদের ফ্রিকোয়েন্সি লালন-রবীন্দ্রনাথের বহু উপর দিয়ে যায়। ফলে দুই পক্ষের পথ আলাদা হলেও, বাঙালির সাংস্কৃতিকে ঘৃণার বিষয়ের জায়গাটি তাদের আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। তৌহিদি জনতা যখন সেই সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে, তখন এলিটরা সেই সুযোগে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ পুরণ করে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে সারা দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে, তা বন্ধ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা সেই সরকারের ছিল না। বরং মব-তাণ্ডবকে আড়াল ও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেই ইউনূস সরকার নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে।

৫ আগস্টের পর তৌহিদি জনতা প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ এর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে আগুন দেয়। পরের বছর আবারও সেখানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। পরে বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি এনে বাড়িটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ইউনূস বিবৃতি দেন যে, "পলাতক অবস্থায় ভারতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে জনমনে গভীর ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।"

সেই ঘটনার কিছুদিন পরে, যখন ষণ্ডা প্রকৃতির এক লোকের নেতৃত্বে তৌহিদি জনতার একটা দল রাস্তায় সিগারেট খাওয়ার অপরাধে দুজন মেয়েকে মারধর করেছিল, তখন সাংবাদিকদের কাছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদিদের পক্ষ নিয়েই কথা বলেছিলেন। তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তৌহিদিদের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না; তারাই এখন মাঠের শক্তি।

এরপর ছায়ানট ও উদীচীর ওপর হামলা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরও একজন উপদেষ্টাকে দেখেছিলাম, তৌহিদিদের কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করতে।

তৌহিদি জনতার সাথে এলিট শ্রেণির যে আঁতাত, তার আরেকটি ব্যাখ্যা এই যে, গুণ্ডাবাহিনী এলিট শ্রেণিরই এক ধরনের "অল্টার ইগো" বা দ্বিতীয় সত্ত্বা। এলিটদের মনের গভীরে ঔপনিবেশিক বর্ণবাদ, ধর্মান্ধতা এবং মব-মনস্তত্ত্বের উপাদান রয়ে গেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যখন সুযোগসন্ধানীদের জন্য সুযোগ তৈরি হল, জনমানুষের ক্ষতি করে নিজেদের লোভ চরিতার্থ করার সুযোগ এল, তখন এলিটদের বর্ণবাদ, ধর্মান্ধতা ও মব-মনস্তত্ত্বও প্রকাশ্যে বেরিয়ে পড়ল।

বর্তমান বিএনপি সরকারও ইউনূসের দেখানো পথেই হাঁটছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তার উদাহরণ। ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে ঢুকে পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করে। কিন্তু হামলাকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় না এনে তিনজন পুলিশ কনস্টেবলকে শাস্তি দেওয়া হয়।

পরদিন কিশোরগঞ্জে ধর্মীয় সংগঠনের আপত্তির মুখে একটি কনসার্ট বন্ধ হয়ে যায়। তাদের আপত্তি ছিল, অনুষ্ঠানটি শরিয়তবিরোধী। কিন্তু সরকার অনুষ্ঠান বাতিলের কারণ হিসেবে দেখায় প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকা।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

নতুন বলেছেন: ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে ঢুকে পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করে। কিন্তু হামলাকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় না এনে তিনজন পুলিশ কনস্টেবলকে শাস্তি দেওয়া হয়।

পরদিন কিশোরগঞ্জে ধর্মীয় সংগঠনের আপত্তির মুখে একটি কনসার্ট বন্ধ হয়ে যায়। তাদের আপত্তি ছিল, অনুষ্ঠানটি শরিয়তবিরোধী। কিন্তু সরকার অনুষ্ঠান বাতিলের কারণ হিসেবে দেখায় প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকা।


/:) :|

প্রতিটা শহরেই মোড়ে মোড়ে মাদ্রাসা, বাংলাদেশে কেন ৭০ লক্ষ ছাত্র ধর্মীয় শিক্ষায় থাকবে?
ধর্ম ব্যবসায়ীরা বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে জ্ঞান বিজ্ঞানে আর আমাদের দেশে ৭০ লক্ষ ছাত্র পরকালের উদ্দেশে ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে।

দেশটা পুরাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছে।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫১

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, আমাদের সামনে সমূহ বিপদ - কেননা এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে পারেনা। হয় আমদের বললাতে হবে নয়ত আমরা সব দিক থেকেই ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হব। আগের পর্বের - "বাংলাদেশ কি একটি "ব্যর্থ রাষ্ট্রে" পরিণত হতে যাচ্ছে?" এরই ধারাবাহিক পর্ব এটা। প্রথমটা জঙ্গি নিয়ে, দ্বিতীয় এই পর্বটা মব নিয়ে, তৃতীয়টা "ইসলামি জনতা" বা ম্যাস নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে।

২| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০২

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: তৌহিদি বলেন আর মৌদুদি বলেন যারা রাস্ট্র ও সমাজকে চ্যালেঞ্জ করে আর যাই হোক তারা ধার্মিক হতে পারেনা। একজন প্রকৃত ধার্মিক কখনই রাস্ট্র ও সমাজের ক্ষতি করতে পারেনা। আপনি যাদের কথা উল্লেখ করেছে এরা নিতান্তই মূর্খ, জ্ঞানের আলো এদের মধ্যে প্রবেশ করেনি। এদের কারণেই তথাকথিত নিজেদেরকে এলিট শিক্ষিত ভাবা লোকজন জঙ্গীর আতুরঘর হিসেবে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করছে।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৭

শ্রাবণধারা বলেছেন: তৌহিদি আর মৌদুদিদেরই একটা বিবর্তিত বা উন্নত/ অবনত শ্রেণিই জঙ্গি। এখন আপনারা যারা বিশ্বাসই করেন না যে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, তাদের সাথে কোন প্রকার যুক্তিশীল আলোচনা সম্ভব বলে মনে হয় না।

আগের পোস্টে আমি একজন খুব তরুন একটা মেধাবী ছেলের জঙ্গি হয়ে ওঠা নিয়ে মন্তব্যের ঘরে লিখেছিলাম। এখানে সেটাই আবার কপি করলাম:

২০১২-১৩ সালের ঘটনা বোধহয়- রাজউক কলেজে পড়া একজন ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। তারপর খুলনা বা বাগেরহাট, কোথায় যেন, একজন মন্দিরের পুরোহিত বা এমনই কাউকে চাপাতি দিয়ে খুন করতে যায়। কিন্তু সে ধরা পড়ে যায়। তখন হাসিনার পুলিশ তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে। ঘটনাটা আমার মনে খুব দাগ কেটেছিল। ১৭-১৮ বছরের একটা মেধাবী ছেলে কতগুলো বিকৃত ধারণার বশবর্তী হয়ে মানুষ খুন করতে গিয়ে নিজেই খুন হয়ে গেল।

এর কারণ জানার পাশাপাশি, এগুলো নিয়ে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কথা বলা ও সচেতন হওয়া জরুরি। পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মের মানুষের মধ্যে এত বড় নির্বোধ আর অসামাজিক আর নেই।

৩| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৭

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: আমরা ইয়াজুজ-মাজুজ দেখি নাই কিন্তু স্বঘোষিত তৌহিদী জনতা বা একত্ববাদী জনতা দেখেছি। কারন এরা এদের মনস্তত্ত্ব/চিন্তাধারা/ইজমের বাইরে কোন কিছু দেখলেই পঙ্গপালের মতো ঝাঁপিয়ে পরে তা খেয়ে হাড়-গোড় সমেত হজম করে ফেলে। পথনাটক, মঞ্চনাটক, বাউল, লালনের গান, গ্রাম-বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, সিনেমা, যাত্রাপালা, এমনি নৌকা বাইচের মতো গ্রামীন বিনোদন মূলক যাবতীয় অনুষঙ্গ হজম করে ফেলেছে।

তৌহিদী জনতা নামক স্বঘোষিত একত্ববাদী ইয়াজুজ-মাজুজরা সত্যই একত্বাবাদী হয়ে থাকলে বাকি মুসলিম যারা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়েনি তারা কি? তারা কি বহুত্ববাদী মুসলিম? মাদ্রাসা শিক্ষায় পড়া মানুষরাই কেবল একত্ববাদী, তারাই হেফাজতে ইসলাম (মানে ইসলামের স্বঘোষিত হেফাজতকারী.................যদিও ইসলামের হেফাজতের জন্য স্বয়ং আল্লাহই যথেষ্ট, আল্লাহর ৫০১ মামুনুলের দরকার নাই)।

তৌহিদি জনতার বিচার প্রক্রিয়া খুবই সহজ সরল। ধরো তক্তা, মারো গজাল। সরাসরি মব execution....। আর কোন কথা হবে না.......। এমনতর সংক্ষিপ্ত বিচার ব্যবস্হা মধ্যপ্রাচ্য/জিসিসি ভুক্ত আরব দেশেও নেই।

১. আগে অভিযোগ দায়ের হবে,
২. তারপর অভিযুক্তকে আটক করা হবে,
৩. তার বিরূদ্ধে তদন্ত হবে,
৪. বিচার কার্যক্রম শুরু হবে,
৫. বাদি-বিবাদী পক্ষের উকিল যার যার পক্ষে সাফাই গাইবে,
৬. তারপর বিচার বিশ্লেষন শেষে কাজী রায় দেবেন,
৭. রায়ের পর অভিযুক্ত ব্যাক্তি হয় অপরাধী হিসেবে যেকোন শাস্তি মাথা পেতে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তত থাকবে আর অভিযোগ প্রমানিত না হলে সে মুক্ত,
৮. তবে বাদি বা অভিযুক্ত ব্যাক্তি যে কেউ কাজীর রায়ে সন্তুষ্ট হতে না পারলে আপিল করতে পারে,
৯. এই পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তি যদি নিজেকে নিরপরাধ প্রমান করতে পারে তবে সে মুক্ত। না পারলে সে শাস্তির জন্য মানসিক ভাবে তৈরি হবে।
১০. এই পর্যায়ে গিয়ে অপরাধীর execution সম্পন্ন হয়।

তৌহিদি জনতা কিন্তু সঙ্গবদ্ধভাবে বিচার ব্যবস্হার ১০. ধাপটা সরাসরি কার্যকর করে।

প্রশ্ন এটাই যে, "একটা শরিয়া আইন ভিত্তিক বিচার ব্যবস্হা কি তৌহিদি জনতা আমাদের সমাজে এখন পর্যন্ত ইসলামের নামে যা করে এসেছে তা সমর্থন করে"?

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ ধন্যবাদ। আপনি যেগুলো লিখেছেন তারই একধরনের ব্যাখ্যা আমি এই পোস্টে দেবার চেষ্টা করেছি।

আমার কাছে যেটা খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে সেটা হল তৌহিদিদের সাথে ইউনূস সরকারের আঁতাত। ইউনূস খুব ধ্রুর্ততার সাথে এই তৌহিদিদের কাভার হিসেবে ব্যবহার করে তার যাবতীয় অপকর্মগুলো সম্পাদন করেছে।

বিএনপি ঐতিহাসিক ভাবে তৌহিদিদের সাথে আঁতাত করা দল। এখন এটাই তাদের জন্য বুমেরাং হবে বলে আমার মনে হয়।

৪| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৮

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার লেখায় ইনফরমেশন গ্যাপ আছে । শেখ হাসিনার আমলে তৌহিদি জনতার সংখ্যা মাল্টিপ্লায়ার হলেও সব দোষ উনার ছিলো না । প্রধান দোষ ছিলো নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের । এরা আধুনিক শিক্ষার মান একদম নিচু লেভেলে নিয়ে গিয়েছিলেন । পাশাপাশি আপনার লেখায় বর্তমান সরকারের আমলে তৌহিদি জনতার নানা রকম কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা হলেও এই সরকার যখন বিরোধী দলে ছিলো তারা যে তৌহিদি জনতাকে কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনার সরকার ফেলে দিতে চেয়েছিলো ইহা নিয়ে আলোচনা করা দরকার । ইহা কি সমর্থন যোগ্য বলে মনে করেন ? আমি ২০১৩ সালের পর শেখ হাসিনার সরকার কে বৈধ বলে মনে করি না । তবে হেফাজত কে সামনে রেখে মোল্লা বিপ্লবেরও পক্ষে নই । এগুলোর দেনা এখন চুকাতে হইতেসে সরকারকে । বাকি সব ঠিকঠাক লিখেছেন ।

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫০

শ্রাবণধারা বলেছেন: লেখায় তথ্যগত কিছু ঘাটতি থাকতে পারে, কারণ আমার কাজ তথ্য পরিবেশন নয়, তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ করা। আমি লিখেছি যে "হাসিনা সরকার" তৌহিদিদের উত্থানের পথ তৈরি করেছিল। বিষয়টি আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন।

এই পোস্টের মূল বিষয় তৌহিদি জনতার উত্থান এবং ইউনূস সরকারের সাথে এদের আঁতাতের ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। এই কাজটি যদি আগে কেউ করে থাকতেন, তাহলে আমি এতটা শ্রম দিয়ে এটি নিয়ে চিন্তা করতাম না, লেখার প্রয়োজনও বোধ করতাম না।

আমার এই তাত্ত্বিকীকরণ একজন চিন্তকের লেখার দ্বারা প্রভাবিত। তাঁর নাম হান্না আরেন্ডট। তিনি নাৎসি জার্মানিতে জনতার মব-রাজনীতির উত্থান এবং মবের সঙ্গে তৎকালীন রাষ্ট্রক্ষমতার মিত্রতার বিষয় নিয়ে লিখেছেন। এ বিষয়ে তাঁর কাজ রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সৈয়দ কুতুব বলেছেন, "বাকি সব ঠিকঠাক লিখেছেন।"
আপনার কাছ থেকে এমন একটি সার্টিফিকেট পেয়ে ধন্য মনে করছি!

৫| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: ধার্মিক প্রতিটা সংগঠনই আসলে বদমাশ দল। এরা ধর্মকে সামনে রেখে সমাজের ক্ষতি করে। এরা জাতির শত্রু।

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, এটা ঠিক বলেছেন। তবে শুধু যে জাতির শত্রু তা নয় এর মানবতারও শত্রু।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.