নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সবাই যখন নীরব, আমি একা চীৎকার করি \n--আমি অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করি।\n

গিয়াস উদ্দিন লিটন

গিয়াস উদ্দিন লিটন › বিস্তারিত পোস্টঃ

তিন মুঠ খুদের বিনিময়ে পিতা যাকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন, সেই বিপ্লবীর আজ জন্মদিন।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৮




ভারতবর্ষের কিংবদন্তী এক বীরের সম্মানে লোককবি মুকুন্দ দাস একটি গান রচনা করেন -
--দশ মাস দশদিন পরে
জন্ম নেব মাসির ঘরে মাগো
তখন যদি না চিনতে পারিস
দেখবি গলায় ফাঁসি।
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।
হাসি হাসি পরব ফাঁসি দেখবে ভারতবাসী।

বিংশ শতাব্দীর এমন শ্রোতা পাওয়া দুস্কর হবে যে এ গানটা শুনেননি। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুভাষচন্দ্র চলচ্চিত্রে এই গানটিতে কন্ঠ দেন লতা মঙ্গেশকর , আর সেই গান শুনে চোখের জল ফেলেননি এমন বাঙালি বোধহয় খুব কমই আছেন।

গানের চরন পাঠে পাঠক অনুমান করে ফেলেছেন, কার কথা বলছি। হ্যাঁ ক্ষুদিরাম বসু। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের কনিষ্ঠতম বিপ্লবী ক্ষুদিরামের আজ জন্মদিন। যার জন্মের কথা বলতে গেলেও মৃত্যুর কথা চলে আসে।
তৎকালীন সময়ে বিহারের মুজাফ্ফরপুরের মেজিস্ট্রেট ছিলেন বড়লাট ডগলাস কিংসফোর্ড। কলকাতা প্রেসিডেন্সির চিফ মেজিস্ট্রেট থাকাকালীন বহু তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের নির্মম সাজা দিয়েছিলেন তিনি। অত্যাচারী এই ব্রিটিশ প্রশাসককে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীকে।

১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইউরোপিয়ান ক্লাবের গেটে কিংসফোর্ডের গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী। গাড়ি ক্লাবের গেটে পৌঁছলে, একহাতে বন্দুক তুলে তা থামান ক্ষুদিরাম। এরপর আরেক হাতে বোমা নিয়ে গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়েন। বিস্ফোরণে ৩ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু, তাঁদের মধ্যে কিংসফোর্ড ছিলেন না। মুজাফ্ফরপুরের বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেট প্রিঞ্জল কেনেডির পরিবারের সদস্যরা ওই বোমায় নিহত হন।



এরপরই প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের পিছনে ধাওয়া করে ব্রিটিশ পুলিশ। পরের দিনই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ক্ষুদিরাম। কয়েকদিন পর মোকামঘাটের কাছে এক রেলস্টেশনে পুলিশের জালে ধরা পড়েন চাকী। কিন্তু, তিনি নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। আদালত দোষীসাব্যস্ত করে ক্ষুদিরাম বসুকে। ১৯০৮ সালের ১১ অগাস্ট ফাঁসি দেওয়া হয় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কনিষ্ঠতম বিপ্লবীকে।

ক্ষুদিরামের বিচারের সময় আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যায় পশ্চিম বাংলা অর্থাৎ কলকাতা, মেদিনীপুর এসব অঞ্চলের কোনো উকিল তার পক্ষে দাঁড়াতে রাজি হননি। শেষে পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) রংপুর থেকে যাওয়া কয়েকজন উকিল লড়েছিলেন ক্ষুদিরামের পক্ষে। কোর্টে উকিলদের অনেক জোরাজুরিতে ক্ষুদিরাম আগে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া জবানবন্দি বদলে নতুন জবানবন্দি দেন। যেহেতু প্রফুল্ল মারা গেছেন, তাই উকিলরা চেষ্টা করেছিলেন যদি তার উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে ক্ষুদিরামের দণ্ড লঘু করা যায়!

কিন্তু এতেও লাভ হয়নি। ব্রিটিশরা বিপ্লবের প্রশ্নে কোনো রকমের ছাড় দেয়ার মতো অবস্থায় ছিল না। ক্ষুদিরামকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়। এরপর ১৯০৮ সালের এগারো আগস্ট ক্ষুদিরামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, হাসিমুখে গর্বের সাথেই ক্ষুদিরাম বরণ করে নিয়েছিলেন ফাঁসির দড়িকে।

১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষুদিরাম বসু। পিতা- ত্রৈলক্যনাথ বসু , মাতা- লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। ক্ষুদিরামের জন্মের আগে ত্রৈলক্যনাথ ও লক্ষ্মীপ্রিয়ার দুই পুত্র সন্তান জন্মের পর পরই মারা যায়। সেকালের সংস্কার অনুযায়ী এই পুত্র সন্তানটি যাতে সুস্থ থাকে, তার জন্য তিন মুঠো খুদের বিনিময়ে নিজের বড় মেয়ের কাছে বিক্রি করে দেন ত্রৈলক্যনাথ বসু । খুদ দিয়ে কিনেছিলেন বলে দিদি অপরূপা দেবী ভাইটির নাম রাখেন ক্ষুদিরাম।

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ১৩০ তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তথ্য-:
https://bengali.oneindia.com/news/features
https://eisamay.indiatimes.com/
https://roar.media/bangla/

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


ক্ষুদিরামের কেহ নেই, আছে ভারতের স্বাধীনতা

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: শুনলাম সম্প্রতি সেই স্বাধিন ভারতে বিজেপি কতৃক ক্ষুদিরামের মুর্তি উতপাটন করা হয়েছে।

২| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৮

সূচরিতা সেন বলেছেন: ভালো একটা ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ লিটন দা ।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনিও ধন্যবাদ নিন সূচরিতা সেন ।

৩| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




সংগ্রামী বীর ক্ষুদিরামের জন্য দুঃখমাখা শ্রদ্ধা রইলো।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ঠাকুরমাহমুদ।

৪| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৬

ওমেরা বলেছেন: অদ্ভুদ জীবন কাহীনি জানলাম । আমি তখন ছোট আমাদের এক বয়স্ক আত্বীয়ের নাক ফুরানো দেখে আমার আম্মুকে জিগেস করেছিলাম , সে তো ছেলে মানুষ তার নাক ফুটু কেন তখন জেনেছিলাম তার আগে তার মায়ের কয়েকটা সন্তান মারা গিয়েছে তাই সে জন্ম নেওয়ার সাথে তার নাক ফুটু করে দিয়েছে শলার কাঠি দিয়ে ।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫৪

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: জী বুবু এরুপ আমিও দেখেছি। নিখুত বাচ্চা নাকি যমের পছন্দ তাই পয়সা পুড়িয়ে অনেকের কপালে ছ্যাকা দেয়া হত।

৫| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:২০

রাজীব নুর বলেছেন: ক্ষুদিরামের কাহিনি যখন ছোটবেলায় প্রথম জেনেছি সেদিন আমার খুব কষ্ট হয়েছিল।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আমি ক্ষুদিরাপ সম্পর্কে জেনেছিলাম এ গানটির মাধ্যমে ।

৬| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৪৩

ইমরান আশফাক বলেছেন: ক্ষুদিরাম নামের শানেনুযুলটা এবার জানতে পারলাম। এর কথা প্রথম শুনেছিলাম আব্বার কাছে। এই বোমা হামলার ঘটনাটা যুদ্ধপ্রিয় পাঠানদেরকেও তৎকালীন সময়ে আন্দোলিত করেছিল, বাংগালীদের সম্পর্কে নতুন ধারনা তৈরী হয়েছিল। সৈয়দ মুজতবা আলীর "দেশে-বিদেশে" বইতে পাবেন তথ্যটি।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ক্ষুদিরামের আত্বত্যাগ সেকালে দেশপ্রেমিদের মনে অগ্নিস্পুলিঙ্গের মত কাজ করেছিল।

৭| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:০০

হাবিব স্যার বলেছেন: ক্ষুদিরাম সম্পর্কে ছোটবেলায় পড়েছি। বিপ্লবীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জানবেন হাবিব স্যার

৮| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২২

নীল আকাশ বলেছেন: লেখক বলেছেন: জী বুবু এরুপ আমিও দেখেছি। নিখুত বাচ্চা নাকি যমের পছন্দ তাই পয়সা পুড়িয়ে অনেকের কপালে ছ্যাকা দেয়া হত। এই রকম অনেক কুসংস্কার গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
লেখা পড়ে ভালো লাগলো। অনেক কিছুই জানতাম না।
ধন্যবাদ।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: পাঠোত্তর মন্তব্যের জন্য আপনিও ধন্যবাদ নিন নীল আকাশ

৯| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৩

শাহিদা খানম তানিয়া বলেছেন: ক্ষুদিরাম বসু একজন আইডল ক্যারেক্টার। যার পথ ধরে যুগে যুগে দেশপ্রেমিক সাহসী যোদ্ধারা হাসি মুখে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে সাহস করেছেন। এই মহান নেতার জন্য স্যালুট!

আপনার প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। তার অবদান আবারো হৃদয়ে গভীর ভাবে এটে গেছে। শুভ কামনা রইল।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: সুন্দর মন্তব্য, অনেক ধন্যবাদ জানবেন জনাবা শাহিদা খানম তানিয়া

১০| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নিন রাজিব নুর

১১| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

কিরমানী লিটন বলেছেন: ইতিহাসের এই চমৎকার দিক তুলে ধরার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। সুন্দর পোষ্টে প্লাস
ভালোবাসা জানবেন প্রিয় মিতা।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনিও ভালবাসা নিন মিতা /

১২| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৪

জুল ভার্ন বলেছেন: গুড পোস্ট।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অনেক দিন পর আপনাকে দেখছি।
ধন্যবাদ নিন জুল ভার্ন

১৩| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ক্ষুদিরামের নামের এ গল্প জানতাম না।
ধন্যবাদ চমৎকার পোষ্টের জন্য ।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জানবেন আপু।

১৪| ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১৮

মেহরাব হাসান খান বলেছেন: নাম করনের এমন ঘটয় জানতাম না। তবে চট্টগ্রাম মুভিটা দেখে উনার সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলাম।

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানবেন মেহরাব খান

১৫| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩১

আমি তুমি আমরা বলেছেন: খুদ মানে কি?

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: চালের কনা । ক্ষুদ্র চাউল।

১৬| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৬

কামরুন নাহার বীথি বলেছেন:
ক্ষুদিরাম এক কষ্টের ইতিহাস, এক গর্বের ইতিহাস!
ভালো লিখেছেন ভাই!
অনেক শুভকামনা!

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অনেক দিন পর আপনাকে দেখে ভাল লাগছে।
ধন্যবাদ জানবেন কামরুন নাহার বীথি ।

১৭| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪১

রমিত বলেছেন: সুন্দর পোস্ট দিয়েছেন। তবে একটা সংশোধন - ম্যাজিস্ট্রেট কখনো 'বড়লাট' হয় না।
'বড়লাট' মানে 'ভাইসরয়' Viceroy।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনার কথা সঠিক ।
তবে বড়লাট ডগলাস কিংসফোর্ড লিখে সার্চ দিলে অসংখ্য রেজাল্ট আসে। সব খানেই কিংসফোর্ডকে বড়লাট লিখা হয়েছে।
একজন গুনি মানুষের মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগছে। ধন্যবাদ জানবেন রমিত।

১৮| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সত্যি দারুন ইতিহাস । ক্ষুদিরাম অত্যন্ত পরিচিত ওপ্রিয়নাম । গানটি মনে এই পরিচিতির প্রধান কারণ । শ্রদ্ধাঞ্জলি এই বীরের প্রতি। তাদের কীর্তি আজও অমর । আন্দোলনের প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন ক্ষুদিরাম । ধন্যবাদ এমন একখানি পোস্ট দেয়ার জন্যে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.