নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সবাই যখন নীরব, আমি একা চীৎকার করি \n--আমি অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করি।\n

গিয়াস উদ্দিন লিটন

গিয়াস উদ্দিন লিটন › বিস্তারিত পোস্টঃ

করোনা পরবর্তি দুর্ভিক্ষ প্রতিহত করার স্বার্থে সাধ্যমত খরচ করুন।

০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:৩৯

এক কলা বিক্রেতার বোকা কিসিমের দুই পুত্র ছিল। একদিন কলা বিক্রেতা দুই ছেলেকে পঞ্চাশটা করে কলা দিয়ে গ্রামে বিক্রি করতে পাঠালেন।ভাল করে বুঝিয়ে বললেন, একটি কলা যেন একটাকা করে বিক্রি করা হয়।একটা টাকা হাতে না আসা পর্যন্ত কাউকে যেন একটি কলা না দেয়া হয়।



দু;পুত্র দু;পথে গ্রামের পথ ধরল। বিকেলের দিকে দুই ভাইএর এক বট তলায় সাক্ষাত হয়।দেখা গেল বড়ভাই একটাকা বিক্রি করেছে ছোট ভাই কোন কলা বিক্রি করতে পারেনি। তারা ছিল ক্ষুদার্ত।পিতার নিষেধ থাকায় তারা নিজেদের কলা খেয়ে উদরপুর্তি করার সুযোগ ছিলনা।

হঠাত বড় ভাইয়ের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে যায়, “ আরে আমি ক্ষুদায় মরছি কেন?আমার কাছে তো এক টাকা আছে আমি ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে একটা কলা কিনে খাচ্ছিনা কেন?”
যেই ভাবা সেই কাজ!বড় ভাই ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে এক টাকায় একটা কলা কিনে খেল। এদিকে ছোট ভাইও ক্ষিদায় অস্থির! তার হাতে এখন নগদ একটাকা। ওই টাকা দিয়ে সে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে একটা কলা কিনে খেলো।
এভাবে সব কলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই একটাকার লেনদেন হতেই থাকল। দুই ভাইয়ের একশ কলা বিক্রি হয়ে গেছে, অথচ বাড়ি ফিরেছে তারা মাত্র একটাকা নিয়ে।
আমাদের দেশে প্রচলিত মুদ্রাগুলির মধ্যে একটাকা হচ্ছে সর্বনিন্ম মুদ্রা।এক টাকার মুদ্রাটি অনেকের কাছে আপাতদৃষ্টিতে মূল্যহীন মনে হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক বিনিময় মুল্যমান বিচারে এই একটাকা কিরূপ বিধ্বংসী ভুমিকা রাখতে পারে উপরের গল্পটি তার প্রমান।

যে কথা বলার জন্য এই কাহিনী ফেঁদেছি এবার তা বলি-করোনার তান্ডবে পৃথিবী নামক গ্রহটি এখন লন্ডভন্ড।অকালে ঝরে যাচ্ছে হাজার হাজার তাজা প্রান।মুখ থুবড়ে পড়ছে বিশ্বের অর্থনিতি।করোনা তান্ডব একসময় থেমে গেলেও অর্থনৈতিক ক্ষতি মানুষকে অনেক ভোগাবে। জাতিসংঘ বলছে করোনা পরবর্তি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারনে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে অন্তত তিন কোটি লোক মারা যেতে পারে।কাজীর গরু হিসাবে কাগজে কলমে যতই আমরা উন্নয়নের মহা সড়কে থাকিনা কেন, হতভাগ্য তিনকোটির বিরাট একটা অংশ যে আমাদের মত অনুন্নত দেশের নাগরিক তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আসন্ন অর্থনৈতিক দুর্যোগ প্রতিহত করার একটি সহজ উপায় হচ্ছে মানি সার্কুলেট করা। আপনার যদি সামর্থ থাকে আপনি খরচ করুন।আপনার খরচ করা মাত্র পাচটি টাকায় কত শত লোক উপকৃত হবে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

উদাহরণ স্বরূপ- আপনি ৫টাকা দিয়ে একটা সিঙ্গারা খেলেন, সিঙ্গারা বিক্রেতা ৫ টাকায় লাভ করল ১টাকা, সিঙ্গারা বিক্রেতা এই ৫ টাকা দিয়ে এক খিলি পান খেল, পান বিক্রেতা লাভ করল ১টাকা। পান বিক্রেতা ৫টাকার মচির কিনল, মরিচ বিক্রেতা লাভ করল ১টাকা। এভাবে একদিনে টাকাটা একশবার হাত বদল হলে এই ৫টাকার মাধ্যমে অনেক লোকের একশ টাকা আয় হয়ে গেল। বিষয়টা অনেকটা একটাকার কলা তান্ডবের মত।

পরিশেষে- চলমান পরিস্থিতিতে পারলে সাধ্যমত দান সদগা করুন, না পারলে সাধ্যমত খরচ করুন।দেশের অর্থনিতির চাকা সচল রাখুন।
ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন।

(আমি সামুতে নিয়মিতই আছি, মোবাইলে লিখতে পারিনা তাই পোস্ট কমেন্ট কম করা হয়।সামুর সাথে আছি এই বুঝাতে সাথে নিজের নিরাপদ অস্তিত্ব জানান দিতে এই পোস্ট।সকল ব্লগার নিরাপদে থাকুক এই কামনা রইল।)

মন্তব্য ২৮ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:৫৬

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: আছেন তাহলে ;)

ছোট ছোট ইটের সমন্বয়ে তৈরী হয় বৃহৎ দালান। জীবনে সবকিছুরই অবদান রয়েছে।

০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:২০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনি ইনবক্সে সামুতে কিছু লিখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই থেকেই কিছু একটা লিখার কথা ভাবছিলাম।
আপনার আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ। ধন্যবাদ জানবেন আর্কিওপটেরিক্স

২| ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:০০

জাফরুল মবীন বলেছেন: যৌক্তিক আহবান।ধন্যবাদ ১টাকায় কীভাবে পেট পুরে খাওয়া যায় সে বুদ্ধি দেওয়ার জন্য।

০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:২১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: পাঠোত্তর মজার মন্তব্যে আনন্দিত।
অনেক ধন্যবাদ জানবেন জাফরুল মবীন ভাই।

৩| ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি একজন রসিক মানুষ।
রসিক মানুষের আমার ভালো লাগে।

করোনার সময়টা মানে লকডাউনের পুরো সময়টা আপনি ১০০% কাজে লাগিয়েছেন। প্রচুর ভালো ভালো বই পড়েছেন। গ্রেট।

আমিও বই পড়ছি। কিন্তু বইয়ের চেয়ে বেশি মুভি দেখেছি।

০৬ ই মে, ২০২০ রাত ৮:১২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনিও কম রসিক নন রাজিব ভাই। আপনার প্রায় পোস্টে অনেক মজার মজার কথা থাকতে যা আমি নিয়মিতই পড়ি।

৪| ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:১৬

শোভন শামস বলেছেন: সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে- কথাটা মানলে কত সুন্দর হত এই দেশটা

০৬ ই মে, ২০২০ রাত ৮:১৩

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: সুন্দর বলেছেন শামস শোভন ভাই। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নিন

৫| ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:২১

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
গিয়াস উদ্দিন লিটন উপস্থিতি
নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ।

০৬ ই মে, ২০২০ রাত ৮:১৫

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনিও ধন্যবাদ নিন নুরু ভাই

৬| ০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:২৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে "মানি সারকুলেশন" বাজারকে চালু রাখে, ঠিক আছে; কিন্তু উহাকে আপনি যেভাবে সহজ করেছেন, অত সোজা নয়; আপনার ছোট উদাহরণে আছে, সিংগারা বিক্রেতা, পান বিক্রেতা, মরিচ বিক্রেতা ইত্যাদি; এটা হলো, কমোডেটি মার্কেট; কমোডিটি মার্কেটে দেশের বেশীর ভাগ মানুষ কমোডিটি হিসেবে বিক্রয় করতে আসে শ্রম, উহাতে "শ্রম ক্রয় বিক্রয়ের" মার্কেট থাকতে হবে; তখন সকল মানুষের আয় থাকবে।

০৬ ই মে, ২০২০ রাত ৮:১৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আমি অর্থনিতিতে খুব একটা সমজদার নই। ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা এসেছে তা দেয়া করলাম। তবে অর্থনিতির উপর আপ্নি ভালো জ্ঞান রাখে। আপ্নার এ জ্ঞানের প্রতি সব সময় আমার শ্রদ্ধা।

৭| ০৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২১

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: আচ্ছা,কলাই যদি নাথাকে তাহলে কি কেনা বেচা করবেন ।কলার উৎপাদন বাড়াতে হবে। কথায় আছে,পাটের ব্যাবসা না চে——-ব্যাবসা।ব্যাবসা হল কলার বিক্রি নাহলে ছোল আর খাও।

০৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৩৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ধন্যবাদ নিন নুরুলইসলা০৬০৪

৮| ০৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩২

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: কিন্তু বিশেষ ভাবে অজ্ঞ রা বলেছেন, টাকা সঞ্চয় করতে যাতে করোনা পরবর্তী সময়ে খরচ করা যায়...

০৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: টাকা আটকে থাকলে অর্থনতিতে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে ।
উপরে গাজী ভাই বলেছেন , যত বেশি সম্ভব মানি সার্কুলেট হতে হবে এবং শ্রম ক্রয় বিক্রয় হতে হবে তবেই দুর্ভিক্ষ এড়ানো সম্ভব।

৯| ০৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৮

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনি ভালো অর্থনীতি পড়াতে পারবেন।

একজনের আয় মানে আরেক জনের ব্যয়। যখন মুদ্রা ছিলনা তখন বারটার সিস্টেমে অর্থনীতি চলেছে।

০৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪৪

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: একজনের আয় মানে আরেক জনের ব্যয়। সঠিক বলেছেন সাড়ে চুয়াত্তর

১০| ০৬ ই মে, ২০২০ রাত ৮:৫২

নেওয়াজ আলি বলেছেন: সরকার এবং জনগণ মিলে কাজ করলে দেশের উপকার । কিন্তু সরকার সব নিজেই সব

০৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪৫

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ঠিক বলেছেন নেওয়াজ আলি

১১| ০৬ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৪৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট।

০৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ধন্যবাদ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

১২| ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১২:৩১

নতুন বলেছেন: সরকারের উচিত হবে উন্নয়ন কাজের পেছনে টাকা খরচা করা।

উতপাদন,রপ্তানিতে নজর দেওয়া।

করোনা পরের সময়ে নিজেদের বাজারেই সবাইকে টিকে থাকতে সাহাজ্য করবে।

০৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: যথার্থ বলেছেন নতুন

১৩| ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১:০৭

সুপারডুপার বলেছেন: ভাই আপনি দেখি পকেট কাটার বুদ্ধি দিলেন !

০৭ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:৪৮

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: B-) B-)

১৪| ১০ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৮

সোহানী বলেছেন: জাফরুল ভাই এর মতো বলতেই হয় এক টাকায় পেট পুরে খাবারের বুদ্ধিটা মন্দ নয়। হাজার হোক দেশেতো এখন এক টাকায় চকলেট ও পাওয়া যায় না।

আপনি কিন্তু একটা চমৎকার ইকোনমিক্সের থিউরি খুব সহজভাবে ব্যাখা করেছেন। ইকোনমিতে বলা হয় মানি সার্কুলেশান যত হবে অর্থ্যাৎ একটা টাকা যত বার হাত বদল হবে তার সূচকই বলে দিবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা। যত সার্কুলেশান হবে ততই ইকোনমি গতিশীল হবে।

কিন্তু প্রশ্ন, সে টাকা কি উৎপাদন খাত থেকে আয় করা নাকি ছাপার মেশিনে ছাপানো? দেশের উৎপাদন খাত যদি বন্ধ থাকে তাহলে এ সার্কুলেশান কোন কাজে দিবে না। বরং টাকার মান কমতে থাকবে দেশ আরো মন্দাবস্থায় ডুবে যাবে।

১৫| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৩৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার এবং চাঁদগাজী সাহেবের, উভয়ের সাজেশন দুটো বিবেচনার দাবীদার। এ নিয়ে আরো বেশী করে ভাবনা চিন্তা করে দেখা যেতে পারে।
সহজ করে বলা কথামালায় ভাল লাগা + +।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.