নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সবাই যখন নীরব, আমি একা চীৎকার করি \n--আমি অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করি।\n

গিয়াস উদ্দিন লিটন

গিয়াস উদ্দিন লিটন › বিস্তারিত পোস্টঃ

যেভাবে হত্যা করা হয় জেনারেল মনজুর’কে -

০২ রা জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩০




১/ সার্কিট হাউস থেকে মাইল চারেক দূরে চট্রগ্রাম সেনানিবাসে জিওসির সরকারী বাসভবনে ফজরের নামাজ আদায় করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল কমান্ডিং অফিসার ও চট্রগ্রাম অঞ্চলের অধিনায়ক মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর পিএসসি,বীর উত্তম।

প্রতিদিনের মত নামাজ শেষে তিনি আবার শুয়ে পড়লেন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখে ঘুম চলে এল।হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠলে তাঁর পাতলা ঘুম ভেঙ্গে যায়।টেলিফোনে জেনারেল মনজুর শুনতে পেলেন একটা ক্লান্ত-নার্ভাস কন্ঠ- ‘স্যার, প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড।‘
-“ও মাই গড বলে জেনারেল মনজুর স্তব্ধ হয়ে গেলেন।“
- “তুমি কে?”
-“স্যার আমি মোজাফফর” ওপাশ থেকে বললেন রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীতে আত্তীকৃত মুক্তিযোদ্ধা অফিসার মেজর মোজাফফর।
“এখন স্যার সবাই আপনার ইন্সট্রাকশনের জন্য অপেক্ষা করছে।“
জেনারেল চুপ করে রইলেন।তার বুকের ভিতর বাজছে-“ও মাই গড,ও মাই গড।“

“তুমি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলে?” তিনি কঠোর কন্ঠে জিজ্ঞেস করেন।
“জ্বী স্যার।” মেজর মোজাফফরের কন্ঠ দ্বিধাহীন।
“মোট ক’জন গিয়েছিলে?”
“ষোল জন স্যার।“
“মাহবুব ছিল?”
“জ্বী স্যার, মাহবুব স্যার,মতি স্যার---“
“হু ডিড ইট?”
“সরি স্যার?”
“হু শর্ট জিয়া?”
“একচুয়ালি স্যার আই ডিড নট সি ইট।“ মেজর মোজাফফরের কন্ঠ এবার দ্বিধান্বিত শোনায়।
“আমি দোতলায় উঠার আগেই স্যার ঘটনা ঘটে গেছে।“
“বাট ডিড নট ইউ হিয়ার হু ডিড ইট?”
“স্যার,দ্যাটস ইররেলেভেন্ট নাউ,স্যার! ফ্যাক্ট ইজ,প্রেসিডেন্ট ইজ ডেড!”
“স্টপ লেকচারিং! টেল মি হু ডিড ইট। ইস ইট মাহবুব?”

আপন ভাগনে লেফট্যানেন্ট কর্নেল বীর উত্তম মাহবুবুর রহমানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পায় জেনারেল মনজুরের কন্ঠে।
মেজর মোজাফফর মরিয়া হয়ে বলেন, “নো স্যার! নো স্যার!”
“দেন হু? মতি?”
“ইয়েস স্যার! নো স্যার!আয়াম নট শিওর স্যার!আমিতো নিজের চোখে দেখিনি,স্যার,আমি শুধু শুনেছি।“ মেজর মোজাফফরের কথাগুলো এলোমেলো হয়ে জায়,তিনি খেই হারিয়ে ফেলেন।টেলিফোনে মনজুর তাঁর হাফানোর শব্দ শুনতে পায়।
“ওয়াজ মতি ড্রাঙ্ক?”
“সরি স্যার?”
“মতি কি সার্কিট হাউসে গিয়েছিল ড্রাঙ্ক হয়ে?”
“আমি জানিনা স্যার?”



জেনারেল মঞ্জুরের মনে হল এখন এই জিজ্ঞাসা অর্থহীন। কিন্তু মতি এটা কেন করল? নিজেকেই জিজ্ঞেস করেন জেনারেল মঞ্জুর।তার মনে পড়ল এরশাদকে। জেনারেল মঞ্জুর যেন স্পষ্ট চোখে দেখতে পেলেন জেনারেল এরশাদের ধুর্ত চোখে পৈশাচিক আগুন।লেফট্যানেন্ট কর্নেল মতি কদিন আগে ঢাকায় গিয়ে এরশাদের সাথে দেখা করে এসেছেন এই গোপন খবর মঞ্জুর পেয়েছেন। তাঁর পর মাত্র চারদিন আগেই এরশাদ চট্ট্রগ্রামে এসেছিলেন,তখন মতির সঙ্গে তিনি একান্তে আলাপ করেছিলেন, এ খবরও তাঁর কানে এসেছে।
তাহলে কি এটা দাড়াল? এরশাদ জিয়াকে শেষ করে দিলেন?তার পর আর ভাবতে পারলেন না মঞ্জুর।

“স্যার আমরা এখন কি করব?” মেজর মোজাফফরের কন্ঠ শুনে প্রমাদ গুনলেন জেনারেল মঞ্জুর। তাইতো আমরা এখন কি করব? ওদের জেওসি হিসেবে সব দোষতো এখন আমার ঘাড়ে পড়বে, আমি এখন কি করব?

জেনারেল মঞ্জুর সিগারেট ধরালেন। নাকে হাত দিলেন উনার স্ত্রী রানা মঞ্জুর। টেলিফোনের শব্দে যিনি জেগে উঠেছিলেন, সব কথা শুনেছেন, বুঝেছেন জিয়া আর নেই।মঞ্জুর শোবার ঘরে সিগারেট খান না, বাচ্ছারা থাকলেতো প্রশ্নই ঊঠেনা।রানা ভুরু কুচকে তাকালেন স্বামীর দিকে, অন্য সময় হলে তিনি রেগে যেতেন,কিন্তু এখন কিছু বললেন না;শুধু করুন চোখে নিরবে চেয়ে রইলেন স্বামীর মুখের দিকে।
একটি সিগারেট শেষ করে আরেকটি ধরালেন জেনারেল,ধোয়া ছাড়লেন মুখ ভর্তি করে।রানার চোখ জ্বালা করতে শুরু করল,তিনি ঘুমন্ত বাচ্ছাদের দিকে তাকালেন, হাত নেড়ে ধোয়া তাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করতে করতে স্বামীর মুখের দিকে চেয়ে বললেন, “তুমি জানতে?”
“কী?”
“ওরা জিয়াকে মেরে ফেলবে, এটা তুমি জানতে?”
“প্রশ্নই আসেনা।“
“সত্যিই জানতে না?”
“তুমি আমাকে অবিশ্বাস কর?”
“কী যে বলনা তুমি! এখানে বিশ্বাস অবিশ্বাসের প্রশ্ন আসছে কেন?তুমি কি একটুও টের পাওনি যে, ওরা জিয়াকে মেরে ফেলার প্লান করছিল?”
“টের পেলে আমি কি এটা ঘটতে দিতাম? আমি কি এতই স্টুপিড? দেখতেই তো পাচ্ছ এখন সব দোষ আমার উপর চাপানোর চেষ্টা হবে।“
“তাহলে কিভাবে ঘটল এটা?”
“এরশাদ! এরশাদ! নরকের কিট এরশাদ! বিরাট এক সুযোগ নিল কাল্প্রিটটা। শেষ করে দিল জিয়াকে। এখন সে মার্শাল’ল জারী করে ক্ষমতা দখলের চেস্টা করবে।“

“মানে? তোমার অফিসারদের মাঝে এরশাদের লোক এল কিভাবে?”
“থাক তোমার এসব নিয়ে না ভাবলেও চলবে।“
“না ভাবলেও চলবে মানে?পরিস্কার করে বলতো,এখানে এরশাদের হাতটা কোথায়?”

জেনারেল মঞ্জুরের ক্লান্তি বোধ হয়, সেই সাথে একটু বিরক্তিও। তিনি কী করে এই মহিলাকে বোঝাবেন যে সেনাবাহিনীর ভিতরে জটিল,কুটিল নানা হিসাব নিকাশ কাজ করে,সব সময় চলে ছোট বড় নানা ষড়যন্ত্র।
তিনি নিজেই বা সেসবের কতটুকু ঠিকঠাক বুঝেন,তাও তিনি জানেন না।নইলে যে তিনি পঁচাত্তর সাল থেকে জেনারেল জিয়ার পাশে থেকেছেন সব চেয়ে বিশ্বস্ত,সব চেয়ে স্নেহভাজন অফিসার হিসাবে। সবার থেকে বেশি যোগ্যতা থাকা সত্বেও সেই তাকেই বাদ দিয়ে রাস্টপতি জিয়া সেনা প্রধান বানিয়েছেন এরশদকে? যে এরশাদের সাথে তাঁর কোন ঘনিষ্ঠতাই ছিল না। এটা জিয়ার কোন হিসাব? কী চেয়েছেন জিয়া এরশাদকে সেনা প্রধান বানানোর মাধ্যমে? আর এরশাদ কি ধুর্ত,কি ধুরন্ধর! বেচে বেচে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের ঢাকা থেকে তাড়িয়েছেন, বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে জড়ো করেছেন চট্রগ্রামে।জড়ো করেছেন এক জায়গায়, যেন তারা জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে তাঁদের সম্মিলিত ক্ষোভ সংগঠিত করতে পারে।

“এখানে তুমি থাকতে এরশাদ কাদেরকে দিয়ে জিয়াকে মেরে ফেলল?”
“সব তোমাকে পরে বলব।এখন আমাকে যেতে হবে।সব অফিসার আমার জন্য ওয়েট করছে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে আমার উপর।“
“কিন্তু আমাদের কি হবে?” স্বামীর বাহু আঁকড়ে ধরে বললেন রানা মঞ্জুর।
“আমরা কি বাঁচতে পারব?”



ঘুমন্ত বাচ্ছাদের দিকে তাকালেন জেনারেল, তারপর স্ত্রীর মুখের দিকে চেয়ে বললেন,
“কেন ভাওয় পাচ্ছ রানা? ডিড আই ডু এনিথিং রং? আমার কি হবে কিচ্ছু হবেনা।“
খাট থেকে নামলেন জেনারেল। বাথ্রুমে ঢুকে চোখে মুখে পানির ঝাপ্টা দিয়ে বেরিয়ে এসে ব্যাস্ত ভাবে ঘুমের পোশাক ছেড়ে প্যান্ট ও একটা হাফ হাতা শার্ট পরে নিলেন।শার্টের কলারটি উলটে রইল, তিনি তা দেখতে পেলেন না। রানা দেখলেন কিন্তু কিছু বললেন না। তিনি চেয়ে রইলেন স্বামীর দিকে।

জেনারেল মঞ্জুর আলমারী থেকে একটা পিস্তল বের করে প্যান্টের পকেটে ঢোকালেন।রানা তাঁর একটা হাত চেপে ধরলেন, মঞ্জুর তাকালেন তাঁর চোখের দিকে।
জেনারেল আস্তে করে স্ত্রীর হাতের বাঁধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে সরে এলেন। তাঁর পর আর পেছনে না তাকিয়ে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে এলেন বাসা থেকে।কিন্তু গেটের বাইরে বেরিয়ে তাঁর পা দুটি হঠাত থেমে গেল। তিনি পেছনে ফিরে তাকালেন; তাঁর আবার বাসায় ঢোকার ইচ্ছা হল; সাধ জাগল ঘুমন্ত বাচ্ছা গুলিকে দেখার,তাঁদের গালে টোকা মারার,মাথায় হাত বোলানোর,চুমু খাওয়ার।
হঠাত নিজেকে ভীষণ দুর্বল মনে হল তাঁর এবং তিনি যে এত দুর্বল তা আবিস্কার করে বিস্মিত হলেন।
দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ, তারপর ঠোট শক্ত করে গট গট করে হেঁটে গাড়ীতে উঠলেন।

২/ এরপর তিন দিনে জেনারেল মঞ্জুরের জীবনে ঘটে অনেক ঘটনা, বিস্তারিতয় না গিয়ে আমি জেনারেলের জীবনের শেষ কিছু সময় এখানে উদৃত করছি।

৩/ সামরিক বাহিনীর তিনটি যান, সেগুলোর সামনে পেছনে ও মাঝে পুলিশের পাচটি ভ্যান সহ একটি গাড়ি বহর হাঠহাজারী থানা থেকে বেরিয়ে এগিয়ে চলল চট্রগ্রাম সেনানিবাসের দিকে। সেনানিবাসের সিগন্যাল ব্যাটালিয়ানের কাছে এমপি চেকপোস্ট পর্যন্ত গিয়ে পুলিশের গাড়ীগুলি ফিরে গেল।সেনাবাহিনির তিনটি ঢুকে পড়ল সেনানিবাসের ভিতরে।একটু পরেই তিনটি গাড়ী চলে গেল তিনটি আলাদা পথে।
জেনারেল মঞ্জুরকে নিয়ে মেজর এমদাদের জিপ সেনানিবাসের ভিতর ভিবিন্ন রাস্তায় চক্কর খায়।চোখ বাঁধা হাত বাঁধা মেজর জেনারেল অনর্গল কথা বলে যেতে থাকেন;

“সৈনিকদের জন্য,ফ্রিডম ফাইটারদের জন্য,সেনাবাহিনির জন্য, দেশের জন্য কত কিছুই না করেছি।আমার অপরাধ আমি মুক্তিযুদ্ধে প্রানবাজী রেখে যুদ্ধ করেছিলাম।পচাত্তরের পর থেকে জেনারেল জিয়ার পাশে ছিলাম,কত সহযোগিতা করেছি তাকে--- ভোর পর্যন্ত আমি জানতামই না জিয়াকে মেরে ফেলা হবে বা অল্রেডি মেরে ফেলা হয়েছে-- ,ওরা আমাকে ধোঁকা দিয়েছে, মতি,মাহবুব,দেলোয়ার,মোজাফফর আমার সঙ্গে প্রতারনা করেছে।আমি জাতির সামনে সব বলে যেতে চেয়েছিলাম---।“

বিপরিত দিক থেকে একটা জিপ এগিয়ে আসছে।ক্যাপ্টেন এমদাদ তা দেখেই বুঝতে পারলেন এটা ইবিআরসির জিপ।তিনি নিজের জিপের ড্রাইভারকে থামতে বলে নেমে গিয়ে দেখতে পেলেন সেখানে বসে আছেন মেজর কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া।কামালের পাশে বসে আছেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল শামস।
“এত দেরী হল কেন?” এমদাদকে বললেন শামস, “তোমার সাথে এত লোক কেন? যাও তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে আসো।“
ক্যাপ্টেন এমদাদ তাঁর স্যারদের স্যালুট দিতে ভুলে গেলেন।তিনি ঘুরে ছুটে গিয়ে আবার উঠলেন সেই জিপে,ড্রাইভারকে আস্তে করে বললেন “রেঞ্জের দিকে যাও।“

চোখ বাঁধা হাত বাঁধা জেনারেল ‘রেঞ্জ’ কথাটা শুনেই বুঝে ফেললেন গাড়ী এখন ফায়ারিং রেঞ্জের দিকে যাচ্ছে। তিনি বিড় বিড় করে কোরআনের আয়াত পাঠ করতে শুরু করলেন।
ফায়ারিং রেঞ্জের কাছে জিপ থামল। প্রথমে নেমে পড়লেন ক্যাপ্টেন এমদাদ। তারপর পেছেনে বসা সৈনিকরা জেনারেল মনজুরকে ধরে নিচে নামাল,তাঁর দুই বাহু ধরে দুই সৈনিক তাঁকে হাটিয়ে নিয়ে চলল উত্তরের একটি পাহাড়ের দিকে। হেঁটে যেতে যেতে জেনারেল মনজুরের কন্ঠে কোরআনের আয়াত আরো উঁচু স্বরে এবং দ্রুততর গতিতে উচ্চারিত হতে লাগল। পাহাড়ের কাছে গিয়েই সবাই থেমে দাঁড়াল। দুই সৈনিক ছেড়ে দিল জেনারেলের দুই বাহু।
এমদাদ এবার জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বল্লেন,”স্যার আমাদের মাপ করে দিয়েন,উপরের নির্দেশে আমাদেরকে এই কাজ করতে হচ্ছে স্যার।“

চোখ বাঁধা জেনারেল দাঁড়িয়ে আছেন অন্ধের মত।তিনি বল্লেন,”জানি।ইউ আর গোয়িং টু এলিমিনেট নাঊ।অল রাইট। আমার ওয়াইফকে বলে, আমাকে যেন মাফ করে দেয়। তাঁর জন্য ,সন্তান্দের জন্য আমি কিছু রেখে যেতে পারলাম না। যারা আমার উদ্দেশ্য জানে,তাদেরকে বলো,দয়া করে তারা যেন সেটা সবাইকে জানায়।আমার পকেটে ছোট একটা কোরআন শরিফ আছে,ওটা বের করে নাও। একটা ফরমেসন সাইন আছে,সেটা বের করে রেখে দাও।“

সৈনিকেরা নিরবে জেনারেলের শেষ দুটি নির্দেশ পালন করল।কেউ কেউ বিড় বিড় করে দোয়া দরুদ পড়তে লাগল। তাঁর পর এমদাদ সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বল্ল,”কে শুট করবে?”
সবাই নিরব।জেনারেল মঞ্জুরে কন্ঠে জোরে জোরে কোরআনের আয়াত উচ্চারিত হতে লাগল।তিনি টের পাচ্ছেন সবাই তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। তিনি আবার শুনলেন এমদাদের কন্ঠ, যেন ভেসে এল অনেক দূর থেকে, “কে?”
কিন্তু তাঁর কোন উত্তর শুনতে পেলেন না জেনারেল।
আবার এমদাদের কন্ঠ,”আপনে?”
চোখ বাঁধা জেনারেলের চোখে হঠাত ঝলমল করে উঠল তাঁর সন্তানদের মুখ,বড় মেয়েটির অনাবিল হাসি,সবচেয়ে ছোট্টটির ছোট্ট মায়াভরা মুখ।



তারপর হঠাৎ তিব্র আলোর ঝলক। তারপর আর কিছু নেই।মধ্যরাতের গভীর অন্ধকারে একটি গুলির শব্দ পাহাড়ের গায়ে প্রতিধ্বনি তুলল। খুলির একপাশ উড়ে যাওয়া জেনারেলের দেহটি সশব্দে পড়ে গেল মাটিতে।সঙ্গে সঙ্গে কি যে হল, ক্যাপ্টেন ও তাঁর সৈনিকেরা ঝট করে চোখ সরিয়ে নিল,তারপর ভুত তাড়িতের মত দৌড়ে পেরুতে লাগল ফায়ারিং রেঞ্জের চওড়া মাঠ।
নির্জন পাহাড়ের কোলে পড়ে রইল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল কমান্ডিং অফিসার ও চট্ট্রগ্রাম অঞ্চলের অধিনায়ক মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর পিএসসি বীর উত্তমের খুলি উড়ে যাওয়া দেহ।
তারিখটি ছিল ১৯৮১ সালের ২রা জুন (আজকের এই দিন)।

(লকডাউন সময়ে মশিউল আলমের লিখা “দ্বিতীয় খুনের কাহিনী” বইটি পড়লাম।উপরের লেখাটি উক্ত বই থেকে সংগৃহীত ও সম্পাদিত।)

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৮:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো বই। আপনি এই লকডাউনের সময়টা কাজে লাগিয়েছেন। প্রচুর বই পড়েছেন।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৩৮

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ছোট বেলা থেকে বই পেলে আমি নাওয়া খাওয়া ভুলে যেতাম।
বই না পড়লে আমার এত দিন ঘরে থাকা কষ্টকর হত।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ নিন রাজীব ভাই।

২| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৮:১৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: অ মাই গড...

রীতিমতো যেন কোন এক মুভি দেখা শেষ করালাম।
এত জীবন্ত করে লেখা....

তবে সবচে বেশি রহস্য জিয়াউর রহমান এবং মঞ্জুল হত্যার বিচার না চা্ওয়া বা না করা।
তারা তো তিন টার্মে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিল। অথচ এই বিষয়টি পুরাই উপেক্ষিত থেকেছে!!!
এর পেছনেও কি কোন রহস্যময় কারণ আছে???

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৩

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: জিয়া এবং মঞ্জুর হত্যার বিচার খালেদা সরকার কেন করেনি সেটা আমার কাছেও এক রহস্য।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানবেন বিদ্রোহী ভৃগু ।

৩| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৮:১৮

ডার্ক ম্যান বলেছেন: এরশাদ দুশ্চরিত্র ছিলেন । তাই জিয়া তাকে সেনাপ্রধান বানিয়েছে নিজেকে সেফ ভেবে । জিয়ার চট্টগ্রাম সফর ছিল আকস্মিক । জিয়ার অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ছিল জেনারেল মীর শওকত আলী ।
জেনারেল মঞ্জুর ভূমিকা বেশ রহস্যজনক । একসময় জিয়ার এক নাম্বার চ্যালা ছিল। সে ছিল কর্নেল তাহেরের মত বিভ্রান্ত বিপ্লবী । জিয়ার চেয়ে সে নিজেকে অনেক যোগ্য মনে করতো । জেনারেলদের ক্ষমতার লড়াই বাংলাদেশকে অনেক ভুগিয়েছে । সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে সাধারণ সৈন্যদের ।

অফ টপিক ঃ ১/১১ এর অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন সাবেক রক্ষীবাহিনী পরবর্তীতে জেনারেল মাসুদ । তিনি আবার খালেদা জিয়ার ভাই সাইদ ইস্কান্দরের ভাইরা ভাই। আপনাদের ফেনীর এমপি এখন । আপনি একজন প্রাক্তন রক্ষীর নাম উল্লেখ করায় এটা মনে পড়ল । জিয়া হত্যা মামলায় ফাঁসি হওয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুস সাত্তারও রক্ষী সদস্য ছিলেন ।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৪

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: তথ্যবহুল মন্তব্য। অনেক ধন্যবাদ ডার্ক ম্যান ।

৪| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৮:৩৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


বইমেলার গার্বেজ সংগ্রহ করেছেন, মনে হচ্ছে!

মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর গল্পের বই পান, হাজার হাজার রাজাকার যে মরেছিলো, সেগুলোর কোন গল্পের কোন বই আপনাদেরকে টানে না?

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৮

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: রাজাকারদের আমি ঘৃনা করি।
তাদের মৃত্যু বিষয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই।
তবে বইটা কিন্তু অসাধারণ। অন্তত আমার কাছে। লেখক নির্মোহ ভাবে স্পর্শকাতর একটা বিষয়কে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন।

৫| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:২৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন:

মজিবের রক্ত লাল পৃষ্টা -১২২-১২৩
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরম পত্র পাঠক
এম,আর,আক্তার মুকুলের উপন্যাস থেকে সংগৃহিত।

ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে যে মামলার ট্রায়াল শুরু করেছিলেন সেই মামলায় শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে সাক্ষী ছিলেন করাচির 'ডন' পত্রিকার ঢাকার প্রতিনিধি মাহবুবুল আলম। শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে মাহবুবুল আলমকে প্রেস সেক্রেটারি নিযুক্ত করেন।

একাত্তর সালে ঢাকার এপিপি অফিসের জেনারেল ম্যানেজার আবুল হাশিম ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের জনসংযোগ অফিসার। সিএসপি রফিকুল্লাহ ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারি।

কুখ্যাত খুনি জেনারেল টিক্কা খানের পিএস অনু ইসলাম চাকরি পান গণভবনে। মোনায়েম খানের এডিসি ব্রিগেডিয়ার মশরুলকে শেখ মুজিব নিজের এডিসি পদে নিয়োগ দেন।

পাকিস্তান আমলে তাজউদ্দিন আহমদের উপর নজরদারির জন্য একটি টিম ছিল '৩০৩' নামে। ওই ৩০৩ টিমের সদস্য সিএসপি মতিউল ইসলামকে বসানো হয়েছিল অর্থসচিব পদে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ধ্বংসলীলার সময়ে ঢাকা সিটির পুলিশের এসপি হিসেবে পাকিস্তান সরকারের চাকুরি করেছেন ই এ চৌধুরী। স্বাধীনতার পরে তিনি প্রমোশন পেয়ে ডিআইজি হন এবং গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।

আগরতলা মামলার মিথ্যা সাক্ষী তৈরী করেছিলেন পুলিশ অফিসার এ বি এস সফদর। স্বাধীনতার পরে তিনি কিছুদিন জেলে ছিলেন। বিশেষ তদবিরে মুক্তি পেয়ে তিনি হয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর অনুসন্ধান কমিটির প্রধান (গোয়েন্দা প্রধান)।

লে কর্নেল এ কে এম রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরবরাহ বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে কর্নেল রহমানের অবদান ছিল তিনি পাকিস্তান আর্মির সামরিক আদালত -- ১ এর বিচারক ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকার বাহিনীর উপ-প্রধান ছিলেন লে কর্নেল ফিরোজ সালাহউদ্দিন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি নিযুক্ত হলেন বঙ্গবন্ধুর সরকারের সামরিক সচিব পদে।

শেখ মুজিব সরকারের সেনাপুলিশের প্রধান হয়েছিলেন ক্যাপ্টেন হাকিম। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি পাকিস্তান আর্মির ৩১ ফিল্ড রেজিমেন্টের ট্রানজিট ক্যাপ্টেন হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অপারেশন পরিচালনা করেন। আখাউড়া, তেলিয়াপাড়া এলাকার অনেক মুক্তিযোদ্ধা তার অপারেশনে শহীদ হয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান আর্মির গোলাবারুদ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পাকিস্তান আর্মির অর্ডিন্যান্স কোরের অফিসার লে. মোদাব্বের ও লে. ফরিদ স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগে উচ্চপদ লাভ করেন।

এয়ার কমোডর আমিনুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর ঢাকার প্রধান ছিলেন। স্বাধীনতার পরে শেখ মুজিব সরকারের প্রশাসনে তিনি হলেন সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান।

প্রশ্ন হলো, স্বাধীন দেশে শেখ মুজিবের প্রশাসনে একাত্তরের পাকবন্ধুদের বড় বড় পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিকে রাজাকার পুনর্বাসন বলা যাবে কি না ?

( রেফারেন্স : 'মুজিবের রক্ত লাল', এম আর আখতার মুকুল। পৃষ্ঠা : ১২২-২৩

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অজানা কিছু তথ্যের সন্নিবেশ ঘটালেন নেওয়াজ আলি । বইটি সংগ্রহ করবো।

৬| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৩৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
এমনিভাবেই মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী সেনাদেরকে শেষ করে দেওয়া হয়েছিল। খুবই দুঃখজনক হত্যাকান্ড।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৫০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী সেনাদেরকে হত্যাকান্ড নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ।

৭| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৫৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



যদি জেনারেল জিয়া নিজের চাকুরীটা করতো, যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া জাতিকে সিআইএ ও পাকীদের পায়ের তলায় না নিতো, মুক্তিযু্দ্ধের সব অফিসার ও সৈনিকেরা বেঁচে থাকতো; আইয়ুবের অনুসারী জিয়া আমাদেরকে আরেকটি পাকিস্তান বানিয়ে গেছে।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৮

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ধন্যবাদ গাজী সাহেব।

৮| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১০:১৫

কল্পদ্রুম বলেছেন: ধন্যবাদ লেখা শেয়ার করার জন্য।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৮

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

৯| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১০:৩২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: জিয়াউর রহমানকে হত্যার দিন অর্থাৎ ৩০ শে মে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল সেটি তার পরের দিন দ্রুত পাল্টাতে থাকে।

৩০ শে মে অনেক সেনা কর্মকর্তার মতো তাকেও মিলিটারি একাডেমি থেকে ডেকে নিয়ে বিদ্রোহের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু হান্নান শাহ তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ৩১ শে মে ঢাকার সাথে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে অনুরোধ করা হয় হান্নান শাহকে।

৩১শে মে সারাদিন হান্নান শাহ ঢাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।

I

সেদিন রাতে তিনি যখন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বৈঠক করছিলেন, তখন সে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জেনারেল মঞ্জুরসহ কয়েকজন পালিয়েছিলেন।

হান্নান শাহ বলছিলেন, ৩১ শে মে বিদ্রোহের সাথে জড়িত সৈনিক এবং অফিসারদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেল।

বিদ্রোহীদের পক্ষ ত্যাগ করে অনেকেই বিচারপতি সাত্তার সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এসব খবর পেয়ে জেনারেল মঞ্জুর বিচলিত হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চট্টগ্রাম ক্যান্টনম্যান্ট ছেড়ে পালিয়ে যান জেনারেল মঞ্জুর ও আরো কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।

সে রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে হান্নান শাহ বলেন, "৩১শে মে রাত ১১টার দিকে জেনারেল মঞ্জুরের বাসা থেকে হঠাত একটি ফোন আসল। তিনি আমাকে এবং আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে বসিয়ে রেখে ওনার অফিস থেকে বাসায় গেলেন। কিন্তু ঘণ্টা-খানেক পরেও তিনি ফিরে আসলেন না। এমন অবস্থায় অন্য অফিসারদের তাদের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দিয়ে আমি আমার কর্মস্থল মিলিটারি একাডেমিতে ফিরে আসলাম। ইতোমধ্যে আমি জানতে পারলাম, জেনারেল মঞ্জুর তাঁর পরিবার নিয়ে এবং অন্যান্য বিদ্রোহী অফিসাররা পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে গেছে।"

মেজর জেনারেল মঞ্জুর এবং কর্নেল মতিউর রহমান যে গাড়ির বহরে পালিয়েছিলেন, সেখানে ছিলেন মেজর রেজাউল করিম রেজা।

কিছুদূর অগ্রসর হয়ে একটি পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান তারা। তখন তারা লক্ষ্য করেন সামনে কিছু সৈন্য পাহাড়ের দিকে ছুটোছুটি করছে। সে সময় জেনারেল মঞ্জুর গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। তখন তারা অন্য আরেকটি গাড়িতে করে পেছনের দিকে চলে আসেন। সেখানে একটি গ্রামে তারা গাড়ি থেকে নেমে হাটা শুরু করেন। এলাকাটিতে চা বাগান ছিল। জেনারেল মঞ্জুর তখন চা বাগানের এক কুলির বাড়িতে যান। কারণ তার সন্তানরা ছিল ক্ষুধার্ত। সেখানে জেনারেল মঞ্জুরের সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সাথে ছিলেন জেনারেল মঞ্জুরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম রেজা।

মি: রেজা বলছিলেন, "ওনারা যখন খেতে বসেছিলেন. তখন হঠাৎ কুকুরের ঘেউ-ঘেউ শব্দ শুনতে পাই। তখন আমরা লক্ষ্য করলাম বেশ কিছুটা দূরে পাহাড়ি এলাকায় খাকি পোশাকের পুলিশ দেখা যাচ্ছে। তখন জেনারেল মঞ্জুর বললেন যে আমি পুলিশের কাছে সারেন্ডার করবো।"

পুলিশ সদস্যরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে আসছিলেন কখন জেনারেল মঞ্জুর জঙ্গলের ভেতরে দাঁড়িয়ে যান।

মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী জেনারেল মঞ্জুর তখন পুলিশের উদ্দেশে বলেন, "এই যে বাবারা তোমরা ঐখানে থাক। সামনে আসিবে না। সামনে আসিলে তোমাদের অসুবিধা হইবে। আমি আসিতেছি। এ কথা বলে হনহন করে হেঁটে গিয়ে সারেন্ডার করলেন। তারপর আমিও গিয়ে সারেন্ডার করলাম।"

আত্নসমর্পনের পর তাদের হাটহাজারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেনারেল মঞ্জুর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা বললেন যে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা যাবে না।

তখন জেনারেল মঞ্জুর বলেন, " সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দিবেন না কেন? আমার তো অনেক কিছু বলার ছিল। আমাকে তো বাঁচিয়ে রাখা হবে না। আমাকে তো মেরে ফেলা হবে। তখন জেনারেল মঞ্জুর বলেন যে, আমাকে তাড়াতাড়ি চিটাগাং জেলে পাঠান। আমাকে আর্মির কাছে দিবেন না। আর্মির হাতে দিলে আমাকে মেরে ফেলা হবে।"

তখন তাদের পুলিশের একটি ট্রাকে ওঠানো হলো। সে সময় একদল সেনা সদস্য আসলো সেখানে।

জিয়া
Image captionচট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ভোর রাতে একদল সেনা সদস্য জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে।
একজন সেনা সদস্য জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রীকে বললো, ভাবী আমরা আপনাদের নিতে এসেছি। কিন্তু জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রী বললেন তারা পুলিশের কাছে আত্নসমর্পন করেছন এবং চট্টগ্রাম জেলে যাবেন। তিনি সৈন্যদের সাথে সেনানিবাসে যেতে অস্বীকৃতি জানান।

মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী তখন জেনারেল মঞ্জুর সেনা সদস্যদের বলেন , "তোমাদের লজ্জা করে না? তোমরা সব ঘটনা ঘটাইলা, তোমরা আবার সারেন্ডার করলা। তোমরা আইছো আমাকে ধইরা নিতে। যাও, আমি তোমাদের সাথে যাব না।"

সে সময় একজন নায়েব সুবেদার এসে জেনারেল মঞ্জুরের হাত ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনে এবং তাঁর হাত ও চোখ বেঁধে ফেলে।

জেনারেল মঞ্জুরকে ধরে নেবার পর হত্যা কারা অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন আছে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সে মামলার অন্যতম আসামী।

অন্যদিকে পালানোর সময় গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কর্নেল মতিউর রহমান। ( বিবিসি বাংলা থেকে)।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনার মন্তব্য থেকে পাঠক অনেক তথ্য পাবে।

১০| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১১:২১

আমি সাজিদ বলেছেন: জেনারেল মঞ্জুর ওয়াইফকে নিয়ে বেশ কথা প্রচলিত আছে নাকি! মঞ্জুর তার ওয়াইফ দ্বারা মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবিত ছিলেন নাকি, অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের একটা বইয়ে পড়েছিলাম!

০৩ রা জুন, ২০২০ সকাল ৭:৫২

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: বেগম রানা মঞ্জুর উচ্ছাভিলাসি ও বিচক্ষন ছিলেন সে কথা এ বইএও উল্যেখ আছে।

১১| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১১:৫৯

কাছের-মানুষ বলেছেন: জেনারেল মঞ্জুর নাকের ডগা দিয়ে এরকম একটা ঘটনা ঘটে গেল কিন্তু তিনি আচ করতে পারলেন না!

আমরা অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে হারিয়েছিলাম সেই সময়টাতে। লেখাটা বেশ জীবন্ত। পরে আর কেন বিচার হলো না সেটা এক রহস্য।

০৩ রা জুন, ২০২০ সকাল ৭:৫৪

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: জিয়াকে যে মেরে ফেলা হবে এটা অপারেশনে যাওয়া ১৬ অফিসারের ১৫ জনই জানতো না।
অপারেশনে যাওয়ারাই যেখানে জানতে পারেনি সে ক্ষেত্রে মঞ্জুরও হয়তো জানতো না।

১২| ০৩ রা জুন, ২০২০ রাত ১:০৬

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: আল্লাহ পাক উনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।


বাংলাদেশের এসকল করুণ কাহিনীর ভেতর রয়েছে পিছিয়ে পড়ার বাস্তবতা। আমদের পিছিয়ে পড়ার পেছনে প্রধান দায়ী ক্ষমতা ও অর্থলোভী স্বার্থান্ধ কিছু ব্যক্তিবর্গ। এবং মৃত এই মহান ব্যক্তিগণও নিজেদের ব্যর্থতার কাছে পরাজিত। তাদের সচেতনহীনতা ও চৌকসহীনতাই অপশক্তিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।
হয়তো বা আমরা ভিন্ন কিছু জানছি!

০৩ রা জুন, ২০২০ সকাল ৭:৫৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: হয়তো বা আমরা ভিন্ন কিছু জানছি! অসম্ভব কিছু নয়।
অনেক মিথ্যাও আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করা হয়।

১৩| ০৩ রা জুন, ২০২০ সকাল ৮:৩০

কাছের-মানুষ বলেছেন: হুমায়ুন আহমেদের দেয়াল উপন্যাসে লিখেছেন জিয়া প্রাণ হারান তার এক সময়ের সাথি জেনারেল মঞ্জুর পাঠানো ঘাতক বাহিনীর হাতে। এবং হুমায়ুন আহমেদ এও উল্লেখ্য করেন জেনারেল মঞ্জু তার সুন্দরি স্ত্রী দ্বারা পরিচালিত ছিলেন! ইতিহাস অনেক কঠিন! কোন একটা ঘটনাকে একেক জন এক এক দৃষ্টি কোন থেকে বিশ্লেষণ করেছেন দেখা যাচ্ছে!!

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:০৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: মনজুরের স্ত্রি উচ্চাভিলাষী ও বিচক্ষন ছিলেন এ কথা এ বইএও লিখা আছে।

১৪| ০৩ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:১০

খাঁজা বাবা বলেছেন: এই বইয়ের লেখার তথ্য সূত্র কি জেনারেল মিঞ্জুরের স্ত্রী নাকি কোন সামরিক অফিসার?
যে ঘটনার বর্ননা এখানে হয়েছে তা শুধু এই হত্যাকান্ডে জড়িতরা এবং তার স্ত্রীর জানার কথা হয়ত।

তৎকালীন সময়ে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ ছিল এবং তারা প্রায় সকলেই হয়ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। এর প্রেক্ষিতেই তখন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেনাবাহিনীতে অনেক গুলি বভ্যুথ্যান সংগঠিত হয়।

সে জন্যই হয়ত জেনারেল জিয়া পাকিস্তান ফেরত একজনকে সিনিয়র টপকে সেনাপ্রধান করাকে নিরাপদ মনে করেছিলেন।
ঘটনাটি এমন ভাবে সাজানো হয়েছিল যেন মনে হয় জেনারেল মঞ্জুর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই জিয়া হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছিল।


০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:০৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: প্রত্যক্ষদর্শির সাথে ডায়লগে লেখক কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন বলে লিখেছেন।

১৫| ০৩ রা জুন, ২০২০ রাত ১১:৪৯

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: ইন্টেরেসটিং!

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:১০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ধন্যবাদ ব্লগার_প্রান্ত

১৬| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ২:৩৬

জাহিদুল ইসলাম ২৭ বলেছেন: ইতিহাসের অজানা ঘটনা জেনে ভালো লাগলো।দারুন।

২০ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৩৫

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ জাহিদুল ইসলাম ২৭

১৭| ০৮ ই জুন, ২০২০ ভোর ৬:৪৯

সুপারডুপার বলেছেন:


''
৮১ সালের ২৩ মে এবং ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি 'র তিন তলায় সেমিনার কক্ষে '৭১ ও '৭৫ এর যোদ্ধাদের (যাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং '৭৫ -এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন) এবং সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের গোপন ও জরুরী বৈঠক বসে। এই বৈঠকে কর্ণেল শওকত আলী মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে হত্যার পরিকল্পনা এবং হত্যাকালীন ও হত্যা পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করেন। কর্ণেল শওকত আলী বলেন, ‌'জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম গেলে চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মঞ্জুর বীর উত্তম-এর নেতৃত্বে জিয়াকে হত্যা করা হবে এবঙ ...........

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছালে, জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের কিছুসংখ্যক সেনা অফিসার অভ্যুত্থান করে ৩০ মে প্রত্যুষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অতি সহজে, বলা যায় বিনা বাধায় জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। তবে সেনাবাহিনীর সাধারণ জোয়ান ও জনগণ এই হত্যাকান্ড প্রত্যাখ্যান করে। ...............

অন্যদিকে জেনারেল মঞ্জুর বীর উত্তমসহ তার আরো কয়েকজন অনুগামী অফিসার জিয়া সৈনিকদের হাতে গ্রেপ্তার হলে , জিয়াউর রহমান হত্যায় নিরাপদ দূরত্ব থেকে জড়িত তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এইচ এম এরশাদ গ্রেপ্তারকৃত জেনারেল মঞ্জুরকে সঙ্গে সঙ্গে হত্যা করান। ....... বিস্তারিত লিংক পৃ ৪১

লেখক: মরহুম মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ুর রহমান রেন্টু। (তিনি ও তার স্ত্রী একটানা ১৭ বছর শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।)

''
কোনটি যে ঠিক? !!! কোনটি যে বানোয়াট? !!! বাংলাদেশিরা সত্যিই তাদের ইতিহাস নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত-ই থেকে যাবে !!!

২০ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৩৮

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আমাদের দেশে ইতিহাসের কণ্ঠরোধ করা হয়,যে যার দলিয় দৃস্টিভঙ্গিতে ইতিহাস লেখে,তাই সঠিক ইতিহাস আমরা জানতে পারিনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.