নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৯: অবশেষে প্যাহেলগামের পথে

০৬ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৪২

সেদিন সকালে (০৫ মে ২০১৯) সবাই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে ব্যাগ গুছিয়ে রেখে নাস্তা খেতে বসলাম। দেখলাম, ফররোখ আগের রাতে দেয়া আমাদের যার যার মেনু বেশ মনযোগের সাথেই পরিবেশন করেছে। রাতে কম্বল গায়ে দেয়ার পরেও বেশ শীত শীত করছিল। সকালে দেখি ঠান্ডার কারণে গলাটা খুসখুস করছে। ফররোখের বানানো চমংকার চা খাওয়ার পর মনে হলো গলার অবস্থার খানিকটা উন্নতি হলো। নাস্তার পর ওদের ভিজিটরস’ বুক এ স্বাক্ষর করলাম। শাফি শাহ তখনো গাড়ী নিয়ে আসেনি। আমি এই ফাঁকে বোট হাউসের সামনের বারান্দায় বসে রোদ পোহাতে পোহাতে ছেলের কাছ থেকে Steven Gerrard এর “My Story” বইটি নিয়ে পড়তে শুরু করলাম এবং কয়েক পাতা পড়ার পর, ঠিক সময়মত শাফির ফোন পেলাম। সে জানালো, সে অদূরের একটি পার্কিং এলাকায় গাড়ী নিয়ে প্রস্তুত আছে। আমরা তৈরী হয়ে থাকলে যেন নৌকো নিয়ে লাগেজ সহ লেইকের অপর প্রান্তে রাস্তায় এসে তাকে ফোন দেই।

আমরা তাই করলাম। মাত্র একটি রাতের জন্য ছিলাম, কিন্তু তাও লেইকের উপরে ভাসমান সেই বোট হাউসটার উপর মায়া ধরে গিয়েছিল। বোটের মালিক মাজিদ বাই (Majeed Bai) স্বভাবে অত্যন্ত মিতবাক হলেও সৌজন্য প্রকাশে মোটেও কার্পণ্য করেননি। বিদায়ের সময় অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কোই কুছ তাকলিফ হুয়া তো মেহেরবাণী কারকে মুঝে মা’ফ কার দেঙ্গে”। আমি অবাক হ’লাম তার এই বিনয় দেখে। মাঝি তাড়াতাড়ি করে আমাদের তিনটে ব্যাগ নৌকোয় তুলে নিল। আমরা ফররোখ এবং মাজিদ বাই এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নৌকোয় উঠে বসলাম। ফররোখ বললো, আমাদেরকে বিদায় দিয়েই সেও তার নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে গুলমার্গ রওনা হবে। আমরা ওঠার পর নৌকো সড়ক সংলগ্ন ৭ নং ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকো আগের দিনের সেই একই ঘাটে ভিড়লো। আমি মাঝিকে বললাম শাফিকে কল করতে, কেননা আমাদের ফোন দিয়ে ওকে ডাকা যাচ্ছিল না। নিমেষেই করিৎকর্মা শাফি পার্কিং থেকে গাড়ী নিয়ে হাজির হলো। শুরু হলো প্যাহেলগামের উদ্দেশ্যে আমাদের সেদিনের সে যাত্রা!

‘ডাল লেইক’ এর ৭ নং ঘাট থেকে গাড়ীতে উঠে শ্রীনগর ছেড়ে আসতে মায়া হচ্ছিল। পরেরদিন (০৬ মে ২০১৯) প্যাহেলগাম থেকে শ্রীনগর শহর এড়িয়ে সরাসরি বিমান বন্দরে চলে যাবার কথা। তাই গাড়ীতে বসে মুগ্ধ দু’চোখ ভরে শেষবারের মত দেখে নিচ্ছিলাম এ কয়দিনে পরিচিত হওয়া ব্যস্ত শ্রীনগর শহরের রাজপথ, রাজপথের সাইনবোর্ডগুলো, ‘ডাল লেইক’ এর শান্ত জলরাশি আর জলের উপর ভাসমান তরীসমূহের উপর নির্ভরশীল গরীব জনগণকে। এক সময় শহর ছেড়ে বের হয়ে এলাম, রাস্তার দু’পাশে গ্রামীণ দৃশ্য দেখতে দেখতে। অন্য ক’দিনের মত এ রাস্তাটা বরফ আচ্ছাদিত পাহাড়-উপত্যকার পাশ দিয়ে নয়, বরং শ্যামল শ্যামলিমায় ঢাকা সমতলভূমির মধ্য দিয়ে চলছিল। রাস্তার দু’পাশে ছিল সবুজের সমারোহ। রাস্তার আইল্যান্ডের উপর কিছু শ্রমিক কে দেখলাম, ওরা কি সব ছোট ছোট কিছু গাছ গাছড়ার পরিচর্যা করছে। শাফিকে জিজ্ঞেস করায় সে জানালো, ওরা আইল্যান্ডে কেসর লাগাচ্ছে। কেসর বা জাফরান ঐ এলাকার অর্থকরি ফসল। রাস্তার দু’পাশেও দেখলাম, বিস্তীর্ণ ভূমি জুড়ে একই গাছ লাগানো। দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল!

একসময় শাফি রাস্তার একপাশে গাড়ী থামিয়ে একটা দোকান দেখিয়ে বললো, এটা তার এক দোস্তের দোকান। ওখানে বসে আমরা যেন একটু কেসর এবং নানাবিধ বাদামের সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত ‘কাহওয়া’ (এক ধরণের চা) পান করে যাই। তার দোস্তও আমাদেরকে কাহওয়া বানানোর সাথে সাথে অনেক আগ্রহভরে নানাবিধ বাদাম (নাটস) দেখিয়ে সেগুলোর গুণাবলী বর্ণনা করতে লাগলো। অন্যান্য এলাকায় যেসব নাটস পাওয়া যায়, তার থেকে ঐ এলাকার নাটসের পার্থক্য বুঝিয়ে দিচ্ছিল। ‘কাহওয়া’ পান করে আমি সত্যিই তৃপ্ত হ’লাম, তবে আমার স্ত্রী ততটা নয়। আমরা সে দোকানটি থেকে কিছু নাটস কিনে নিয়ে আবার রওনা হ’লাম, কিন্তু কিছুদুর এগোতে না এগোতেই এক নতুন উপদ্রবের সম্মুখীন হতে থাকলাম।

দিল্লীর আদেশে শ্রীনগর সরকার সপ্তাহে দুই দিন “হাইওয়ে ব্যান” আরোপ করে রাখে। কোন দুই দিন সে ব্যান আরোপিত হবে তা আগে থেকে জানানো হয় না, আরোপের আগের দিন রাতে ঘোষণা করা হয়। শাফি আমাকে মুখ ভার করে জানালো, ‘স্যার লাগতা হ্যায়, আজ কুছ মুশকিল হোগা’। কিসের মুশকিল তা জানতে চাইলে সে জানালো, সেদিন “হাইওয়ে ব্যান” আরোপিত হয়েছে। সে বলতে থাকলো কাশ্মীরবাসীর দুঃখের কথা। কারণে অকারণে এভাবে “হাইওয়ে ব্যান” আরোপিত হওয়াতে সাধারণ জনগণ যে অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হয়, তার কথা। এভাবে আকস্মিক ব্যানের কারণে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা লাভের উদ্দেশ্যে রাজধানী শ্রীনগরের হাসপাতালে যাওয়া আসা করার উপায় থাকে না, ব্যবসায়ীদের জরুরী প্রয়োজনে তাদের পণ্য পরিবহণের উপায় থাকে না, পরিবহণ মালিক আর শ্রমিকদের হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। শুধুমাত্র পর্যটকদের গাড়ীগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চলাচলের জন্য ছাড় দেয়া হয়, কারণ পর্যটকরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসে। সাধারণ জনগণের “জরুরী প্রয়োজন” নিরূপনের জন্য অবশ্য হাইওয়েতে ম্যাজিস্ট্রেটরাও থাকেন, তবে তাদের বিবেচনায় সাধারণতঃ সাধারণ জনগণের কোন প্রয়োজনই “জরুরী” বিবেচিত হয়না, কারণ সারাদিনে আমি এম্বুল্যান্সসহ একটি “সাধারণ” গাড়ীকেও ব্যানের বৈতরণী পার হতে দেখিনি; সবগুলোকেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

সেদিন দেখলাম, ব্যান দিবসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মহাযজ্ঞ। হরেক কিসিমের বাহিনীর সমাবেশ থাকে রাস্তায় রাস্তায়, কয়েক শ’ গজ পর পর। অবাক হয়ে ভাবছিলাম, এত ফৌজ ওরা পায় কোথা থেকে! প্রাদেশিক পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ, বিএসএফ এবং আরও অন্যান্য কিছু নাম না জানা বাহিনীকে সেদিন রাস্তায় দেখেছিলাম। তার মধ্যে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশী শিষ্টাচার ও মার্জিত আচরণ লক্ষ্য করেছি। অন্যান্যগুলোর চোখেমুখে এবং ভাষায় ঔদ্ধত্যের প্রকাশ দেখতে পেয়েছিলাম। জায়গায় জায়গায় চেকিং এর সময় ওরা ড্রাইভার ছাড়াও আমার সাথেও কথা বলে আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করেছে, আমার পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখেছে। অনেক বাধা পার হয়ে শেষ পর্যন্ত একটা জায়গায় এসে আমরাও বাধাপ্রাপ্ত হ’লাম, আমাদের গাড়ীটাকেও এক বাহিনীর সদস্যেরা ঘুরিয়ে দিল। ড্রাইভার অনেক অনুনয় বিনয় করলো, কিন্তু কাজ হলোনা। শেষ পর্যন্ত আমি অনুরোধ করাতে একজন দেখিয়ে দিল অদূ্রে পার্ক করে রাখা একটা জীপের দিকে, সেখানে বসে থাকা একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে যেতে। আমি হাতে পাসপোর্ট টা নিয়ে গেলাম ওনার কাছে। উনি আমাকে আমার এবং আমার বাবার নাম জিজ্ঞেস করলেন। তার পর মূল আইডি কার্ড দেখতে চাইলেন। সাধারণতঃ আমি বিদেশ ভ্রমণের সময় পাসপোর্ট আর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিয়ে যাই। কি ভেবে যেন এবারে মূল পরিচয় পত্রটাই সাথে নিয়েছিলাম। ঝটপট করে সেটা বের করে দেখালাম। উনি বেশ কিছুক্ষণ সেটা নেড়ে চেড়ে দেখে একটা সনদপত্র লিখে দিলেন “যাহার জন্য প্রযোজ্য” শিরোনামে। সেখানে তিনি লিখলেন, আমি একজন ট্যুরিস্ট, প্রয়োজনে পরীক্ষা করে যেন আমার চলাচলে আমাকে সহায়তা করা হয়। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম!!

চলবে....

ঢাকা
২৯ মে/০৮ জুন ২০১৯ ঢাকা


শ্রীনগরের 'ডাল লেইক' এর এই সেই সাত নং ঘাট, যেখানে নেমে আমরা আমাদের বোটহাউসে গিয়েছিলাম এবং পরের দিন এখান থেকেই গাড়ীতে উঠে প্যাহেলগামের উদ্দেশ্যে শ্রীনগর ত্যাগ করেছিলাম।


এটাই শাফি'র দোস্তের দোকান।


কেসর এবং নানাবিধ বাদামের সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত ‘কাহওয়া’ (এক ধরণের চা)


"অন্য ক’দিনের মত এ রাস্তাটা বরফ আচ্ছাদিত পাহাড়-উপত্যকার পাশ দিয়ে নয়, বরং শ্যামল শ্যামলিমায় ঢাকা সমতলভূমির মধ্য দিয়ে চলছিল।"

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: লেকে কি মাছ আছে?
চায়ের সাথে বাদাম !!!
পাসপোর্ট না দেখতে চেয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র কেন দেখতে চাইলো??

০৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:১০

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেকে বিভিন্ন প্রকৃতির মাছ আছে, বড়শীতে নির্দ্দিষ্ট স্থানে মাছ ধরতেও দেয়।
চায়ের সাথে বাদাম নয়, বিভিন্ন প্রকৃতির বাদামের নির্যাস, গরম পানিতে মিশ্রিত।
সেটা তাদের মেজাজ মর্জি'র উপর নির্ভর করে।

২| ০৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:৪১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: রেস্পেক্টেড স্যার,

ফেসবুকের দৌলতে আগে আগেই এগুলো পড়া হয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে দেখলাম আপনি 11 নম্বর পোস্ট পাবলিশ করেছেন। এখানে হাজিরা দিলাম। সময় নিয়ে ফেসবুকে যাচ্ছি।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভকামনা আপনাকে।

০৬ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৩২

খায়রুল আহসান বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। প্লাসে অনুপ্রাণিত।

৩| ০৬ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


কাশ্মীরে থাকাকালীন সময়ে, আপনার কি মনে হয়েছে যে, কাশ্মীরীরা আলাডা হতে চায়?

০৬ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: হ্যাঁ, ওরা রাষ্ট্রের নিপীড়ন থেকে মুক্ত হতে আলাদা হতে চায়। তবে আমার মনে হয়, এতদিনে ওদের অনেকে বুঝে গেছে যে পাকিস্তানের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে রেখে সেটা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাতে বিশ্ববাসীর সহানুভূতি পাওয়া যাবেনা।

৪| ০৬ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০২

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: বরাবরের মতই ভাললাগা। কাশ্মীরের জনগণ কি চায়,আলাদা রাষ্ট গড়বে নাকি পাকিস্তানের অংশ হবে? কি বুঝলেন সেখানের পরিস্হিতি?

০৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমি যাদের সাথে কথা বলেছি, ওরা এখনকার জেনারেশন। আমার মনে হয়নি, তাদের কেউ পাকিস্তানের অংশ হতে চায়।

৫| ০৬ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: আপনি খুব সুন্দর করে লিখেন।
আমার ভালো লাগে ভ্রমনকাহিনী পড়তে।

০৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রশংসায় প্রীত ও প্রাণিত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!

৬| ০৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৪২

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: প্রকৃতির সুন্দর লীলাভূমি কাস্মীর নিয়ে লিখা পড়তে বেশ ভাল লাগছে। আপনার সুন্দর লিখনী যায়গাগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলছে।

০৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। প্রশংসায় অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভকামনা...

৭| ০৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:৩৩

সোহানী বলেছেন: আপনার এ সিরিজটা খুব মনোযোগ দিয়ে আবারো পড়বো, এখন শুধু নজর বুলায়ে গেলাম। কারন কাশ্মীর নিয়ে আমার খুব আগ্রহ আছে সেটা আগেও বলেছিলাম।

এটা কিসের চা???

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৪৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: কারন কাশ্মীর নিয়ে আমার খুব আগ্রহ আছে সেটা আগেও বলেছিলাম - হ্যাঁ, তা বেশ মনে আছে।
ওটা ঠিক চা নয়। গরম পানিতে কিছু কাশ্মীরি বাদাম জাতীয় ফলের নির্যাস, ওরা এটাকে কাহওয়া বলে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত।

৮| ০৭ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৭:৩৮

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: কাশ্মীরের সাধারণ জনগনের ওপর এই 'হাইওয়ে ব্যান' ছাড়াও নানারকম নির্যাতন করা হয়। সরাসরি গুলিবর্ষণ ও মারধোর করা হয়। মিডিয়ার মাধ্যমে এগুলো আমরা জানতে পারি। ভারত সরকার তাদের এই অত্যাচার নির্যাতনের স্বপক্ষে জঙ্গিবাদী তৎপরতার কথা সাফাই হিসাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার যেমন আমাদের ওপর নানারকম অত্যাচার নির্যাতন করে সফল হয়নি, আমরা তাদেরকে পরাজিত করে দেশকে স্বাধীন করেছি, তেমনি ভারতও সফল হবে না। বিশ্ব রাজনীতির ধারা পরিবর্তন হলে কাশ্মীর ওদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। তবে কাশ্মীরি জনগনের মোটেই উচিৎ হবে না পাকিস্তানের সাথে যোগ দেওয়া বা পাকিস্তানের সঙ্গ দেওয়া। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় কাশ্মীরে সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে কাশ্মীরি জনগনের দুঃখ কষ্ট বেড়ে আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ খায়রুল আহসান ভাই।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনি যেসব অত্যাচার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেছেন, তা সবই সত্যি বলে সারা বিশ্ব জানে। আর কেবল ভুক্তভোগীরাই বোঝে এসবের কষ্ট।
আমাদের আর তাদের সমস্যার মধ্যে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে পার্থক্য ছিল/আছে।
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৯| ০৭ ই জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১:৪২

করুণাধারা বলেছেন: অনেক দিন আগে খুব ভারতীয় পূজাবার্ষিকী পড়তাম, তখন অনেক গল্প উপন্যাসে কাশ্মীর ভ্রমণের কথা থাকত। অবধারিত ভাবে পাত্র-পাত্রীরা লেকে বোট হাউসে থাকতেন, হোটেলে থাকার বর্ণনা করেছি বলে মনে পড়ে না। তারপর অনেক দিন চলে গেছে, গল্প উপন্যাসে কাশ্মীর ভ্রমণের কথা আর পড়িনি। আজ আপনার এই ভ্রমণকাহিনী পড়তে গিয়ে মনে পড়ল, পানির উপরে ভাসমান বাড়ি দেখবার কি ভীষণ আগ্রহ ছিল!!

যতটুকু পড়েছি, মনে হচ্ছে কাশ্মীরের মানুষ সহজ, সাধারন, এবং দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে বাঁচা মানুষ। এহেন মানুষদের উপর এভাবে হাইওয়ে ব্যানের নামে কষ্ট চাপানোর বর্ণনা পড়ে সহমর্মিতা অনুভব করছি; রাস্তায় আটকে পড়ার কষ্টকর অভিজ্ঞতা আমারও আছে!!

এই পর্বের ছবি, বর্ণনা- দুটোই ভালো লেগেছে। ঘাট কথাটা দেখে খুব অবাক লাগলো, আমার ধারণা ছিল এটা বাংলা শব্দ। গুগোল জানাচ্ছে, এটা দক্ষিণ এশীয় শব্দ!!

পোস্টে লাইক।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:১১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আজ আপনার এই ভ্রমণকাহিনী পড়তে গিয়ে মনে পড়ল, পানির উপরে ভাসমান বাড়ি দেখবার কি ভীষণ আগ্রহ ছিল!! - একবার ঘুরেই আসুন না হয় আমাদের বাড়ীর কাছের ভূস্বর্গ কাশ্মীর থেকে। ভাল করে দেখতে গেলে এবং সফর উপভোগ করতে হলে হাতে অন্ততঃ দশ দিনের সময় নিয়ে যাওয়া ভাল। নইলে কমপক্ষে ৭/৮ দিন। আমি নিশ্চিত, আপনি ঘুরে এসে পোস্ট দিলে (ছবিসহ) আপনার সে পোস্ট আমারটার চেয়ে অনেক ভাল হবে।
এখন বিমানের ঢাকা-দিল্লী সরাসরি ফ্লাইট আছে। ফলে প্ল্যান করা অনেক সহজ হয়েছে, হয়তো খরচও সাশ্রয় হবে কিছুটা।
মন্তব্য এবং প্লাসে অনুপাণিত। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

১০| ০৭ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:১৭

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: ছবি এবং বর্ণনায় অনবদ্য। সুন্দর+

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৩:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, কবি। মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত।

১১| ০৭ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৪৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,



একজন বিমুগ্ধ মোসাফিরের সাথে সাথে ৭,৮ থেকে ঘুরে এই ৯তে এসে থিতু হলাম তাঁর মতোই জিরিয়ে নেয়ার জন্যে। সমস্ত পথের তরতর করে বলা কাহিনীর সাথে সাথে চলতে গিয়ে মনে হলো আপনার গলা খুলে গাওয়া গানখানি মতোই ভেসে গেলুম , ডুবে গেলুম জাফরানের গন্ধে!

হুমমমমমমম তাহলে গানও গাওয়া হয় ! পাথরেও তাহলে ফোটে ফুল !!!!

১৭ ই জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: এটা ছিল আরোপিত বিশ্রাম, যাকে বলে 'ফোর্সড রেস্ট'- কারণ, কিছুতেই আর ব্লগের রুদ্ধ দুয়ার খুলতে পারছিলাম না। যাহোক, এখনও যে স্বাভাবিকভাবে ঢুকতে পেরেছি, তা নয়। 'অপেরা' এর মাধ্যমে ঢুকতে পারলাম।
পাথরেও তাহলে ফোটে ফুল - পাথর তো বাহিরে; ভেতরে কমল (কোমলও)। :)
মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ!

১২| ০৯ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ২:৩৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: দিন দুয়েক আগে এসে একবার পাঠ করে গিয়েছি ।
পোষ্টে থাকা কেশর তথা জাফরান বিষয়ক কথামালা
জাফরান গ্রোয়ারদের দোকান,আর জাফরান মিশ্রিত
কাপ ভর্তী কাহওয়া চা দেখে জাফরানের প্রতি
এমনই আসক্তি ধরে যায় যে এই চায়ের রেসিপি
জানার জন্য কাশ্মীর বিষয়ে গবেষনা শুরু করে দেই ।
এই চায়ের পিপাসা নিবারনে এতই মসগুল হয়ে
পরি যে সেখান যা পেলাম তা দিয়ে এ মন্তব্যের ঘরে
লিখতে গেল তা দৃষ্টিকটুভাবে হয়তা অনেক বড় হয়ে
যবে । তাই জাফরান বিষয়ে ছোট্ট একট পোষ্ট দেয়ার
চিন্তায় পেয়ে বসে । যে ভাবনা সেই কাজ । জাফরানের
উপরে ছোট্ট একটি পোষ্ট দিয়ে এখানে এলাম । ভাবলাম
ভাইকেও একটু পরিবেশন করে আসি । পেহেলগামের
খাটি জাফরান নির্যাস সহ বিশেষ সেই নাটের সাথে
আরো বিশেষ বিশেষ রেসিপিতে তৈরী কাহওয়া
চা সবিনয়ে পরিবেশন করা হল নীচে

কাশ্মীরের নিরাপত্তা কর্মীর কিংবা সেখানকার সরকারী
নির্দেশনার চিত্র দেখে কিছুটা অবাকই হলাম ।
বিদেশীদের পাশপোর্ট যে বড় একটি আরো
উন্নতমানের অইডি কার্ড এ জ্ঞানটুকু কেন
তাদের হয়নি । বাংলাদেশের পাশপোর্ট এখন
ডিজিটাল এটাতেতো আরো অনেক বেশি তথ্য
আছে । যাহোক, কি আর করা, যে দেশের যে
বাও , নাও মাথায় দিয়ে মাতলা বাও, দশা
আরকি । এদের হাত থেকে সহি সালামতে
যে ফিরতে পারছেন তাতেই শুকরিয়া ।

আমার মনে হয় কাশ্মীর ইস্যু জি্‌ইএ রাখলে
ভারত পাকিস্তান দুদিকের্‌ই লাভ । সেখানে
জীবন যাপন সংকটাপন্য , পদে পদে মৃত্যুর
ভয় , মানবতা বিপন্ন , এ সমস্ত অযুহাতে
পাকিস্তান ও ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষ
বৈধ অবৈধ ভাবে কোন মতে বিদেশে
বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে পাড়ি জমিয়ে
কাশ্মীরবাসী হিসাবে পরিচয় পত্র দেখিয়ে
যুগ যুগ ধরে রাজনৈতিক আশ্রিত হিসাবে
বিদেশে স্থায়ীভাবে টিকে থাকার সুযোগ করে
নিয়েছে । তাই এমন মঝার ও লাভজনক
সুযোগ সুবিধা প্রদানকারী বিরোধপুর্ণ কাশ্মীর
ইস্যুকে তারা বেশ সযতনে জিইএ রাখবে
আরো দীর্ঘকাল ধরে । যাতনা যা ভোগার
তা ভোগবে মুল দরিদ্র কাশ্মীরিরা্ই, যারা
আর্থিক দুরাবস্থার কারনে বিদেশ গিয়ে
রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারবেনা ।
তাই কামনা করি কাশ্মিরি জনগন তাদের
আত্ন নিয়ন্ত্ননাধিকার ফিরে পাক, শান্তি ও
সমৃদ্ধি আসুক তাদের জীবনে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

১৮ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ৮:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: জাফরানের উপরে ছোট্ট একটি পোষ্ট দিয়ে এখানে এলাম - আপনার সেই চমৎকার পোস্টের উপর একটুখানি নজর বুলিয়ে এসে আপাততঃ এ চমৎকার মন্তব্যটির উত্তর দিতে এলাম। ব্লগে ঢুকতে পারলে অদূর ভবিষ্যতেই জাফরান এর উপর স্বয়ংসম্পূর্ণ সেই পোস্ট পড়ে যথাযথ মন্তব্য রেখে আসবো বলে আশা রাখছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত ১০ দিন ব্লগে ঢুকতেই পারিনি, এজন্য উত্তর দিতে বিলম্ব হলো বলে দুঃখিত।
কাশ্মীর ইস্যু জিইয়ে রাখা সম্পর্কে যা বলেছেন, তা যথার্থ!

১৩| ০৯ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: একবার ঘুরেই আসুন না হয় আমাদের বাড়ীর কাছের ভূস্বর্গ কাশ্মীর থেকে।

ইচ্ছা সবসময়ই হয়, কিন্তু সময় আর সুস্থতার সমন্বয় হয় না। অতএব ঘোল খেয়ে দুধের স্বাদ বোঝার চেষ্টা; আপাতত আপনার কাহিনীর মধ‍্য দিয়েই কাশ্মীর দর্শন চলুক, উপরি হিসাবে পাচ্ছি ডঃ এম এ আলীর দারুন মন্তব্য!

১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার এ লেখাগুলো তো ঘোল-মাঠা কিছুই হচ্ছে না। কাশ্মীরের সৌন্দর্য লেখায় কিংবা ছবিতে তুলে আনাটা একটা দুরূহ কাজ। তার পরেও আপনারা আমার এ লেখাগুলো পড়ে যাচ্ছেন, মন্তব্য প্রকাশ করে যাচ্ছেন, এতে ভীষণ অনুপ্রাণিত হচ্ছি। বিশেষ করে ডঃ এম এ আলী এর মন্তব্যগুলো তো মূল লেখাকে অনেকটা অলংকৃত করে যাচ্ছে।

১৪| ১৪ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৩৭

স্বপ্নডানা১২৩ বলেছেন: জীবন্ত বর্ণনা । সুখপাঠ ।

১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৫৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রশংসায় এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভকামনা-----

১৫| ১৪ ই জুলাই, ২০১৯ সকাল ১১:০৮

নজসু বলেছেন:



এড়িয়ে যাওয়া পর্বগুলো পাঠ করছি।
প্রতিটা পর্বে আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছেন।
ভালো লাগছে।

কাশ্মিরী চা নিয়ে অনেক গাল গল্প প্রচলিত আছে।
বাদামের চা নিশ্চয়ই খুব টেস্টি!!

১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:১৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: বাদামের চা নিশ্চয়ই খুব টেস্টি! - আমার কাছে বেশ টেস্টিই মনে হয়েছিল।
এড়িয়ে যাওয়া পর্বগুলো পাঠ করছেন জেনে প্রীত হ'লাম।
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!!!

১৬| ১৬ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:১০

মাহের ইসলাম বলেছেন: একবারে সবগুলো পড়ে ফেললাম।
ভালো লেগেছে।
একেতো সুন্দর লিখেছেন। তার উপর, সুন্দর সুন্দর জায়গা, চমৎকার মানুষ আর সর্বোপরি ভ্রমণ কাহিনী।

আমি কখনো কাশ্মীর যাইনি।
এবার কোরবানির বন্ধে এক বন্ধু যাচ্ছে। খুব করে ধরেছিল, তাদের সাথে যাওয়ার জন্যে।
কিন্তু যেতে পারছি না। তবে, আপনার লেখগুলো পড়ে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে অবশ্যই যাওয়র চেষ্টা করতে হবে।

ভালো থকবেন। শুভ কামনা রইল।

১৮ ই জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: একবারে সবগুলো পড়ে ফেললাম। ভালো লেগেছে - চমৎকার কথা, লেখকের জন্য খুবই প্রেরণাদায়ক!
আপনার লেখগুলো পড়ে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে অবশ্যই যাওয়র চেষ্টা করতে হবে - হ্যাঁ, গেলে অবশ্যই আপনার খুব ভাল লাগবে, এ কথাটি জোর গলায়ই বলতে পারি।
মন্তব্যের জন্য এবং সবগুলো পর্ব পড়ে ফেলার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভকামনা....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.