নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ও যে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে ....

২৯ শে জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৪৭

তখন ১৯৯৪ সাল। দাপ্তরিক কাজে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় জেলায় যেতে হয়েছিল। পাবনায় যখন গেলাম, তখন করণীয় কাজটুকু সেরে ফেলার পর হাতে কিছুটা সময় রয়ে গেল। পাবনার ডাঃ ইসহাক একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক ছিলেন, তার নামে একটি সড়কেরও নামকরণ করা হয়েছে। তার ছেলের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল, তিনিও এলাকায় বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। তাকে বললাম, পাবনা মানসিক হাসপাতালটি একবার দেখে যেতে চাই। মানসিক রোগীদের ব্যাপারে আমি আজীবন কৌতুহলী। খুব ছোট্ট বয়সে (৪/৫) একবার আমাদের চট্টগ্রামের বাসার সামনের এক বাসায় হঠাৎ এক চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তিনি তার ডাক্তার স্বামীর শার্ট-প্যান্ট পরে গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে মুখে সিগ্রেট ধরিয়ে পায়চারি করতেন আর মুখে বিড়বিড় করে কি যেন বলতেন, সে দৃশ্যটা আমার এখনো মনে আছে। এর পরে আরেকটু বড় হয়ে ঢাকায় এসে এক প্রতিবেশি চাচাকে অকস্মাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অশোভন আচরণ করতে দেখতাম। তাকে শেষ পর্যন্ত ঘরে বেঁধে রাখা হতো। এটা দেখে অবাক হয়ে ভাবতাম, একটা ভালো মানুষ হঠাৎ করে কেন এমন হয়ে যায়! আমার এক শ্রদ্ধেয় অংক শিক্ষককে দেখেছি, তিনি কয়েক বছর পর পর একটা নির্দিষ্ট ঋতুতে মানসিক ভারসাম্য হারাতেন। একবার আমাদের চোখের সামনে দিয়ে তার সহকর্মীরা একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করে তাকে পাবনা নিয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য, এ দৃশ্যটা দেখে মনে কষ্ট পেয়েছিলাম।

যারা কোন না কোন কারণে মনোবৈকল্যের শিকার হন, তাদের প্রতি আমি সহজাতভাবে সমব্যথী এবং তাদের ব্যাপারে কৌতুহলী। তাদের মনের এহেন আকস্মিক ভারসাম্যহীনতার কারণ জানতে ইচ্ছে হয়। সেই লালিত কৌতুহল থেকেই পাবনা মানসিক হাসপাতাল পরিদর্শনের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম। বন্ধুর সহায়তায় সে ইচ্ছে পূরণ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার একটি ছোট্ট স্মৃতি নিয়েই আমার আজকের এই লেখা। সেখানে বিভিন্ন প্রকারের মানসিক রোগী দেখেছিলাম; কেউ সরব, কেউ নীরব, কাউকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে, কেউ বিহ্বল দৃষ্টি নিয়ে একটি বিন্দুর দিকে তাকিয়ে আছে, কেউ গলা ছেড়ে গান গাচ্ছে, কেউ ভাষণ দিচ্ছে, ইত্যাদি। এদের আচরণে এবং কার্যে ভিন্নতা থাকলেও, এদের মধ্যে একটা নিবিড় মিল রয়েছে- এদের সবার মনটা কোন কারণে পীড়িত হয়েছে। কারো মন ভেঙ্গেছে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, কারো বিশ্বাসভঙ্গের কারণে, কারো ভয়-ভীতিতে, কারো নানাবিধ নির্যাতনে। একটা ওয়ার্ডের সামনে এসে একটা পরিচিত গানের কলি শুনতে পেলামঃ “গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ ....”। দেখলাম, বয়স ত্রিশের আশে পাশে এক মহিলা আনমনে গানটা গেয়ে গেয়ে পায়চারি করছেন।

আমাদের গাইড জানালেন, ঐ মহিলা সারাদিন ধরে শুধু ঐ গানটিই গেয়ে চলেন এবং গাইতে গাইতে কখনো কাঁদেন, কখনো হাসেন। দেখলাম ঠিকই, গান গাইতে গাইতে তার দু’চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে তিনি বেশি আবেগাপ্লুত হয়ে যাচ্ছেন গানের এই অংশটি গাইতে গিয়েঃ
“ও যে আমায় ঘরের বাহির করে
পায়ে পায়ে পায়ে ধরে
মরি হায় হায় রে।
ও যে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে
যায় রে কোন চুলায় রে
আমার মন ভুলায় রে”।।
আমরা তাকে দেখছিলাম একটা গ্রিলের এপার থেকে, তিনি গাইছিলেন ওপারে। গান শেষ হলে তিনি গ্রিলের কাছে এসে আমাদেরকে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, “ও আমারে ঘরের বাহিরে কেন আনলো স্যার”? আমরা কিছুক্ষণ নিরুত্তর থেকে অন্য একটি ওয়ার্ডের দিকে অগ্রসর হ’লাম, কিন্তু আমি তার প্রশ্নটাকে ক্যারী করলাম।

একটা মানসিক হাসপাতালের কিংবা অন্য যে কোন হাসপাতালের ‘মানসিক রোগ’ বিভাগের ওয়ার্ডগুলোর দেয়ালে দেয়ালে অনেক দীর্ঘশ্বাস এসে আঘাত করে করে ফিরে যায়। সেখানে অনেক চাপাকান্না গুমরে মরে। চিকিৎসার পাশাপাশি এসব শিশুসম ‘মন ভোলানো’ (‘যাদের মন ভোলানো হয়েছে’, এমন অর্থে) রোগীরা মানবিক আচরণ এবং স্নেহ ভালবাসার পরশ পেলে অনেক সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান (উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘সাগরিকা’ ছায়াছবিটি’র কথা মনে পড়ছে)। আবার অনেকে চিরতরে বাকি জীবনটা বিচরণ করতে থাকেন নিত্য নিপীড়িত হয়ে এক প্রতিকূল জগতে- ব্যর্থতার গ্লানি, বিশ্বাসভঙ্গের শূন্যতা, প্রিয়জন হারানোর বেদনা অথবা ভয়ঙ্কর সব ভয়ভীতির প্রতিবিম্বকে সঙ্গী করে।

আমি দশম শ্রেণিতে থাকাকালীন টেস্ট পরীক্ষার আগে আগে আমাদের বাংলা শিক্ষক হঠাৎ একদিন ক্লাসে এসে একটা রচনা লিখতে দিয়েছিলেন “গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ ....” শিরোনামে। উনি সব সময় রচনার বিষয় এমনভাবে নির্বাচন করতেন, যা কোন বই এ পাওয়া যাবে না। সেদিন আমি কী লিখেছিলাম তা আজ মনে নেই, তবে শিক্ষক আমাকে আমার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি নম্বর দিয়েছিলেন, এবং সম্ভবতঃ সেটাই ছিল শ্রেণির সর্বোচ্চ নম্বর, তা মনে আছে। আজ যদি সে রচনাটা লিখতাম, তবে তার চেয়েও হয়তো বেশি নম্বর পেতাম বলে আমার মনে হয়। “গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ ....” গানটিকে আমি একটি প্রকৃতির গান হিসেবে ভাবতাম। আমি সঙ্গীতজ্ঞ নই, যারা সঙ্গীত চর্চা করেন তারা ভাল বলতে পারবেন, এটা কি প্রকৃতির, নাকি প্রেমের গান। আমি গান শুনতে ভালবাসি। রবীন্দ্রসঙ্গীতই বেশি শোনা হয়, এখনো নিয়মিত শুনি। এই গানটি শুনতে শুনতে “ও যে আমায় ঘরের বাহির করে” অংশটায় আসা মাত্রই আমার এখনো এটাকে একটি গভীর বেদনার গান, বিরহের গান বলে মনে হয়, সাতাশ বছর আগে দেখা কেবল ঐ একটা দৃশ্যের জন্যই, ঐ একটা উত্তর না জানা প্রশ্নের জন্যই!


ঢাকা
২৯ জুলাই ২০২১
শব্দ সংখ্যাঃ ৭২৬


https://www.youtube.com/watch?v=pxYw9TeGI9o



মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৮:১৮

মিরোরডডল বলেছেন:




তিনি তার ডাক্তার স্বামীর শার্ট-প্যান্ট পরে গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে মুখে সিগ্রেট ধরিয়ে পায়চারি করতেন আর মুখে বিড়বিড় করে কি যেন বলতেন, সে দৃশ্যটা আমার এখনো মনে আছে।

মনে রাখার মতোই । লেখাটা পড়ে চোখের সামনে ভেসে উঠছে কেমন হতে পারে ।

এটা কি প্রকৃতির, নাকি প্রেমের গান।

প্রকৃতি প্রেমের গান ।

সেটাই মানুষতো এমনি এমনি পাগল হয়না । এর পেছনে নিশ্চয়ই একটা গল্প থাকে । বিষয়টা দুঃখজনক ।
পুরোপুরি না হলেও, আদর ভালোবাসা স্নেহ দিয়ে একজন মানসিক রোগীকে হয়তো কিছুটা বেটার করা যায় ।

আমি অনেকবার ফেইস করেছি । তারমাঝে সবচেয়ে মেমোরেবল যেটা সেটা শেয়ার করি ।
পরিচিত একজন সুস্থ মানুষ পাগল হয়ে গেছে । মানসিক হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় ।
আফটার আ সারটেইন টাইম আমার একটা সার্জারি হয়েছিলো । আগের রাতে বাসায় এনেছে আমাকে ।
পরদিন সকালে হঠাৎ সে আমার বাসায় এসে হাজির ।
তাকে দেখে চমকে উঠেছিলাম যেহেতু জানতাম না সে ছাড়া পেয়েছে ।
সত্যি বলতে আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম যখন সে বললো
মানসিক হসপিটাল থেকে বের হয়েই সে এখানে চলে এসেছে ।
আমার বোন তখন তাকে বুঝিয়ে বাসায় পাঠায় ।
ওটাই তার সাথে আমার শেষ দেখা ।

ইস কত বড় মন্তব্য করে ফেললাম :(

৩০ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১২:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রথম দৃশ্যটা যখন দেখি, তখন আমার বয়স খুবই কম ছিল, যেমনটা বলেছি, চার কি পাঁচ। বড় হয়ে অনেক বছর পর যখন পরিবারের সবার সাথে গল্পচ্ছলে এ স্মৃতিটার কথা বলি, তখন ওরা সবাই অবাক হয়ে যায়, এত ছোট বেলার কথা আমি মনে রেখেছি কি করে!

আপনার অভিজ্ঞতাটা কিছুটা ভয়ের হলেও, বোধকরি কিছুটা ভালবাসারও। হয়তো ভদ্রলোক কোন ভালবাসার টানেই আপনাকে দেখতে এসেছিলেন।

প্রথম মন্তব্য এবং প্রথম প্লাসটির জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

২| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৮:২২

চাঁদগাজী বলেছেন:



বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ মানসিক সমস্যার ব্যাপারটা তেমন বুঝেন না।

৩০ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১১:০৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: "বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ মানসিক সমস্যার ব্যাপারটা তেমন বুঝেন না" - একদম ঠিক কথা! অথচ মানসিক রোগ শারীরিক রোগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর! এ রোগ হয়তো সহসা মৃত্যু ঘটায় না, কিন্তু রোগীর এবং পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে রোগীর মায়েদের বারটা বাজিয়ে ছাড়ে!

৩| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৮:২৭

মিরোরডডল বলেছেন:




সুন্দর লেখাটার জন্য একটা প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত ।





৩০ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১:০৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: সুন্দর এ গানটির জন্য ধন্যবাদ।
আপনাদের ওখানে কভিড পরিস্থিতি এখন কেমন? শুনেছি আবার খারাপের দিকে যাচ্ছে?

৪| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৮:৫৬

গফুর ভাই বলেছেন: একজন কে আমার আত্মীয় হয় ওনাকে ডিপ্রেশন এর জন্য থেরাপি নেবার কথা বলাতে সম্পর্ক খারাপ হবার মত অবস্থায় চলে গেছিল।পরে আর কাওকে সাহস করে বলা হয় নাই

৩০ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৮:১০

খায়রুল আহসান বলেছেন: এটা আমাদের সমাজে একটা প্রকট সমস্যা। তবে তার পরেও, সহানুভূতির সাথে মানসিকভাবে অসুস্থদেরকে বুঝিয়ে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, কারণ মানসিক রোগ শারীরিক রোগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর!

অনেকদিন পরে আমার পোস্টে এসে মন্তব্য করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

৫| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৯:০২

কুশন বলেছেন: কি সুন্দর করেই না লিখেছেন। পড়তে ভালো লাগলো।

৩০ শে জুলাই, ২০২১ রাত ৮:৪৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার ব্লগে বোধকরি আপনার এটাই প্রথম মন্তব্য, তাই আমার ব্লগে আপনাকে সুস্বাগতম জানাচ্ছি।

মন্তব্যে প্রীত হ'লাম, প্রশংসায় প্রাণিত। ধন্যবাদ এবং শুভকামনা....

একই মন্তব্য দু'বার এসেছে বিধায় আপনার পরের মন্তব্যটা মুছে দিচ্ছি।

৬| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১০:০৩

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: আমিও রবীন্দ্র সংগীত শুনতে পছন্দ করি। তবে একেক সময় একেক গান দারুন মনে ধরে সেটি শ্রবণ করি সঙ্গে সঙ্গে গাইও। এখন চলছে আমার সকল দুঃখের প্রদীপ....এটি কয়েক মাস ধরে শুনি শুনার সময় গাইও গেয়েও তৃপ্তিও পাই। বাসায় আর কেউ না থাকাতে হেড়ে গলায় গেলেও কোন সমস্যা নেই্। তবে রবীন্দ্র গানই আমার ভাল লাগে সব থেকে বেশি ঘুরে ফিরে।

পাগল নিয়ে লিখেছেন। আমার হিসেবে পাগলরা সবসময় ভালো। মানে প্রতারিত হয়ে পাগল হয় প্রতারিত করে মানুষ কমই পাগল হয়। তবে প্রতারণা করে যারা হয় তারা আল্লাহর অভিশাপে হয় ।

৩০ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১০:০৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: রবীন্দ্র সংগীত বেশিরভাগ বাঙালির জীবনে অপরিহার্য অনুসঙ্গ। আপনি আপন ঘরে মুক্তকন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে বেড়াচ্ছেন জেনে ভাল লাগলো।

প্রতারণা করে যারা পাগল হয় তারা অভিশপ্ত, ঠিক বলেছেন এ কথাটা।

ভাল থাকুন, সুস্বাস্থ্যে, সপরিবারে। শুভকামনা....

৭| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১০:০৫

নীল-দর্পণ বলেছেন: "ও আমারে ঘরের বাহিরে কেন আনল স্যার?" মনে হল অসহায় চাহনীর ক্লান্ত মানুষটাকে আমি দেখতে পেলাম নিজ চোখের সামনে!
ভালো আছেন আশা করছি।

৩০ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১১:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভাল আছি। আশাকরি আপনিও ভাল আছেন সপরিবারে।

"মনে হল অসহায় চাহনীর ক্লান্ত মানুষটাকে আমি দেখতে পেলাম নিজ চোখের সামনে!" - প্রাণিত হ'লাম এ মন্তব্যে। মনে হলো, লেখাটা সার্থক হয়েছে।

অনেক ধন্যবাদ এবং শুভকামনা....

৮| ২৯ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১০:৫১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: উপর ওয়ালা আমাদের সবারই চোখ দিয়েছেন। কিন্তু পার্থক্য করে দিয়েছেন দৃষ্টি শক্তিতে।যে শক্তিকে ভর করে কেউ বা হাজার মাইল দূরে দেখতে পায় কেউবা অন্ধ হয়েই কাটিয়ে দেয়। দৃষ্টি শক্তিতে মানবিকতা আসুক। আপনার চিন্তাধারা এইজন্যই স্যার আমার এত সমাদৃত।
ভালো থাকবেন স্যার সবসময় এই দোয়া করি।

৩১ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১২:০০

খায়রুল আহসান বলেছেন: দৃষ্টি শক্তিতে মানবিকতা আসুক - খুবই সুন্দর একটি কামনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মন্তব্যে। চমৎকার বলেছেন।

মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত।

৯| ৩০ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১১:৪৭

হাবিব বলেছেন: আপনার পোস্ট এখনো পড়া হয়নি। পড়বো সময় করে।

৩১ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ৯:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: আচ্ছা।
২৪ ঘন্টা এখনো পার হয় নাই, তাই রিমাইন্ডার দিচ্ছি না! :)

১০| ৩০ শে জুলাই, ২০২১ রাত ১০:৩৪

নাজনীন১ বলেছেন: পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কিছু নেতিবাচক কথা শুনেছিলাম। পাবলিকলী শেয়ার করতে চাচ্ছি না।

৩১ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:২৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আচ্ছা!

১১| ৩১ শে জুলাই, ২০২১ সকাল ১০:০০

হাবিব বলেছেন: পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভ্রমণের ইচ্ছা জাগলো আপনার পোস্ট টি পড়ে। আমাদের দেশে মানসিক রোগীকে মানুষ পাগল বলে। তাদেরকে বিরক্ত করে। অন্য রোগের চাইতে এই রোগটাকে বেশি ভয়ংকর মনে হয়। পরিবার থেকে এমনকি সমাজ থেকেও মানসিক ভারসাম্য হারানো লোক বিতারিত হয়। অথচ সঠিক চিকিৎসা পেলে ওরাও স্বাভাবিক হতে পারতো। মানসিক রোগকে আমরা রোগ বলতে নারাজ। সরকারী ভাবে যে চিকিৎসা দেয়া হয় সেটাও অপ্রতুল। সুন্দর পোস্টের জন্য অশেষ ধন্যবাদ প্রিয় ভাই। পোস্টে ++ ভালো থাকবেন সবসময়। দোয়া রাখবেন আমার জন্য।

৩১ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১২:২৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমাদের দেশের মানসিক রোগীদেরকে নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণগুলো সঠিক।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। দোয়া এবং শুভকামনা নিরন্তর!

১২| ৩১ শে জুলাই, ২০২১ দুপুর ১:২৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আমি একবার পাবনা মানসিক হাসপাতালে গিয়েছিলাম ২০০১ সালের দিকে। ওখানকার রোগীদের অবস্থা দেখে খারাপ লেগেছিল। হাসপাতালের কয়েক জনের সাথে আলাপ করে জানলাম যে এই রোগীদের অনেকে সুস্থ হয়ে গেছেন কিন্তু এদের পরিবারের কোন ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ওদের ফেরত দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঐ পরিবারগুলি বহু আগেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং ঐ পরিবারের খোঁজ আর পাওয়া সম্ভব না। শুনে খুব খারাপ লাগলো।

আবার জানতে পারলাম যে রোগীদের খাবার-দাবার থেকে চুরি করা হয়। যারা ওখানে চাকরী করে তারা এই কাজ করে।

বেশীরভাগ মানসিক রোগ স্নায়ুগত কারণে হয়। সাধারনত এগুলি পারিবারিকভাবে পরের প্রজন্মে ছড়িয়ে যায়। আমার একজন মেধাবী বন্ধু এসএসসির পরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছাত্র ছিল। তার পরিবারে তার আরেক ভাইকেও পাগলামির কারণে বেঁধে রাখতে হতো। এই ব্যাপারগুলি আসলেই মনকে ভাবনার মধ্যে ঠেলে দেয়।

৩১ শে জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: যেসব পরিবার মনরোগের কারণে তাদের কোন সদস্যকে এভাবে বিসর্জন দিতে পারে, সেসব পরিবারে জন্ম নেয়াটা একটা অভিশাপের নামান্তর। চিকিৎসা লাভ করে সম্পূর্ণ না হলেও, মোটামুটি সুস্থ হয়ে পরিবার তাদেরকে পরিত্যাগ করার কারণে যারা পরিবারের সাথে মিলিত হতে পারে না, তাদের মত হতভাগা আর কেউ নেই এ পৃথিবীতে।

"আমার একজন মেধাবী বন্ধু এসএসসির পরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে বোর্ডে স্ট্যান্ড করা ছাত্র ছিল" - বেশি মেধাবীদের মনে হয় মানসিক রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমার স্কুলের ফার্ল্ট বয়ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হবার পর আর বেশিদূর এগোতে পারেনি। কোনরকমে একজন অডিটর হিসেবে চাকুরি করে জীবন শেষ করেছে। আমার আব্বার এক আপন কাজিন পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে ফার্ল্ট ক্লাস ফার্ল্ট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিছুদিন পরে তিনি জার্মানীতে গিয়েছিলেন পিএইচডি করার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে তার মানসিক রোগ দেখা দেয়ায় তিনি কোর্স কমপ্লিট না করে দেশে ফিরে এসেছিলেন। দেশে চিকিৎসা করে তিনি প্রায় ৯০% সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন, তবে সারাটা জীবন তাকে ঔয়ধের উপর থাকতে হয়েছিল। এতদসত্ত্বেও, তিনি একজন সাধারণ মহিলাকে বিয়ে করে ঘর সংসার করেছিলেন এবং দেশের মফস্বল কলেজগুলোতে অধ্যাপনা করে বেশ সুখেই জীবন কাটিয়েছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.