নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবন সুন্দর করে সাজাও । আমি নারী তাই কথাও বলি নারীদের নিয়ে।

কামরুননাহার কলি

আমার নাম কামরুননাহার কলি, আমি একজন ভার্সিটির ছাত্রী। আমার সখ লেখালেখি আর বই পড়া। আমি দেশকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশের মানুষদের।

কামরুননাহার কলি › বিস্তারিত পোস্টঃ

নারী-পুরুষ সমান না কেনো?

২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪১


“হে মানুষ জাতি তোমাদেরকে আমি এক পুরুষ ও এক নারী হতে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন সমাজ ও জাতিতে ভাগ করেছি, যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন, যে বেশি আল্লাহ-সচেতন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব জানেন, সব বিষয়ে সচেতন”।

আল্লাহ এর কাছে বিচার করার যে মানদন্ড আছে সেটা কোন লিঙ্গ নয়, গায়ের রং নয়, বয়স নয়, ধন-সম্পত্তি নয় সেটা হলো তাকওয়া।
মহান আল্লাহ তার বান্দাকে সবথেকে বেশি মর্যাদা দেন তার তাকওয়া মেনে চললে, ন্যায়-নিষ্ঠতা এবং ধার্মিকতা মেনে চললে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন তিনি মানুষের গায়ের রং ও ভাষার মধ্যে বৈচিত্র্য দিয়েছেন যাতে করে জ্ঞানীরা বুজতে পারে এটা আল্লাহ তায়ালার নির্দেশনা। সূরা রুম, সূরা নং ৩০, আয়াত নং- ২২ “তাঁর মহিমার নিদর্শন হচ্ছে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে অবশ্যই জ্ঞানীদের জন্যে শিক্ষণীয় নিদর্শন রয়েছে”। এখানে বলা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পুরো মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একজোড়া নারী ও পুরুষ হতে, তারা হলেন আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ)।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন সূরা ইসরাইল, সূরা নং ১৭, আয়াত নং ৭০-“নিশ্চয়ই আমি আদমসন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। আমি তাদেরকে জলেস্থলে চলাচলের বাহন দিয়েছি, দিয়েছি উত্তম জীবনোপকরণ। আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি”। আল্লাহ তায়ালা আদম সন্তানকে শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছেন হোক সে কালো, হোক সে সাদা, হোক সে নারী, হোক সে পুরুষ। তারা যে দেশেই জন্মক যেখানেই থাকুক তারা সবাই আদম সন্তান।


আর ইসলাম সর্ব ধাত্রীদের কথা বলার পাশাপাশি একে বারে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়। পৃথীবীর অনেক ধর্ম বা মানুষ বিশ্বাস করে যে না যে আদম ও হাওয়া (আঃ) থেকে মানবজাতির সৃষ্টি। আর কিছু কিছু ধর্ম বা মানুষ আছে যারা বিশ্বাস করে যে, আদম ও হাওয়া (আঃ) থেকে মানবজাতির সৃষ্টি। তবে অনেক মুসলিম বা অমুসলিমরা তারা বিশ্বাস করে যে, তারা হাওয়া (আঃ) কে দায়ী করে মানবজাতির পতনের কারণ, তারা এটাকেই আদি পাপ বলে সমার্থন করে। তারা বলে হাওয়া (আঃ) এর ভুলের কারণেই আদম (আঃ) কে বেহেস্ত থেকে আল্লাহ বের করে দিয়েছেন।

আমার কথা হলো মুসলিমদের নিয়ে তারা কতটা মুর্খ হলে এসব কথা বলে। আল্লাহ কোরআনে স্পর্শ ভাবে বলেছেন সুরা আরাফ, সুরা নং ৭, আয়াত নং ১৯ থেকে ২৭ আয়াত পর্যন্ত। তাদের ঘটনাটা পুরো এই আয়াতগুলোতে লিখা আছে। এখানে বলা আছে তারা একই সাথে দুজনই ভুল করেছেন, আবার দুজনই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তাই দায়ভারটা তাদের দু’জনার উপর। তাই কোরআনের এমন কোন আয়াত নেই যে দায়ভারটা হাওয়া (আঃ) এর উপর একা পরেছে।
তবে হ্যা পবিত্র কোরআনে আরো একটি সুরা আছে নাম “তাহা সুরা নং-২০ আয়াত নং-১২০-১২১ শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল। প্রলুব্ধ করে সে বলল, ‘হে আদম! আমি তোমাকে আমরত্ব ও অক্ষয় রাজত্ব দানকারী গাছের কথা বলব? তারপর তারা সে গাছের ফল খেল। তারা মুহূর্তে নগ্নতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠল। তখন তারা বাগানের গাছের পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে লাগলো। আদম তার প্রতিপালকের নির্দেশ লঙ্ঘন বা অমান্য করল”। এই আয়াতে কিন্তু আদম (আঃ) কে দায়ী করা হয়েছে। ক’জন পুরুষ আছে এই আয়াত সম্পর্কে জানে আর জানলেও তারা কেনো বলেনা আদম (আঃ) দায়ী, হাওয়া (আঃ)কে কেনো দায়ী করে? তাহলে কি বলবো না নারীদের প্রতি কিসের এতো হিংসে পুরুষদের। আর যে বানী আল্লাহ নিজে বলেনি সেটা কেনো পুরুষরা বলে?


একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে এই সুরার আয়াতে কিন্তু আদম (আঃ) কে দায়ী করা হয়েছে হাওয়া (আঃ) কে নয়। তারপরও আমরা বলি ভুলটা দুজনই আছে। কিছু মুসলিম পুরুষ যারা নারীদের কে ছোট করার জন্য, নারীদের হিংসে করার জন্য এই সব বিবৃত ছড়ায়। পুরুষরা বলে ওদের পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত, পুরুষরা বলে আল্লাহ যদি বলতেন যে তার পরে কাউকে সিজদা করো তাহলে আমি বলে দিতাম স্বামীদের সিজদা করো! কত বড় শিরকি কথা আল্লাহ নামে ওরা বলে। তাহলে কি তারা মনে করে যে সৃষ্টিকর্তার উপরে টেক্কা দিয়ে ওরা পার পেয়ে যাবে। ওদের থেকে পালোয়ান পালোয়ানরাই তার সাথে টেক্কায় পারেনি আর তো ওরা ছোছা বিড়াল।

আর এই কথাগুলো বলার পরিনামটা আল্লাহ কি বলেছেন সেটা দেখে নেক ঐসব কাপুরুষরা। আল্লাহ বলেছেন- সুরা নিসা, সুরা নং ৪, আয়াত নং ৪৮-“আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করার মতো অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ-ছাড়া অন্যান্য অপরাধের জন্য যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আল্লাহর সাথে যে শরিক করে সে মহাপাপ করে”। আরো একটি আয়াত সুরা নিসা, সুরা নং ৪, আয়াত নং ৫০ “দেখ! ওরা নিজেদের মিথ্যা কথাগুলোই কীভাবে আল্লাহর কথা বলে চালিয়ে দিচ্ছে! প্রকাশ্য পাপ হিসেবে এইটা যথেষ্ট।”

পুরুষরা বলে ওদের জন্য নাকি ৭০টি পরি বেহেস্তে রেখে দিয়েছে। ঐসব বোকা পুরুষরা জানেনা যে পরি বলতে আল্লাহ কোন কিছুই সৃষ্টি করেননি শুধু মাত্র জীন আর ইসনাস ছাড়া। আর কোরআনে তো এরকম আল্লাহ কোন আয়াত নাজিলই করেননি। আল্লাহ অনেক আয়াতে বলেছেন সাথির কথা, সেসব সাথি যে কাউকেউ বুঝাতে পারে, হোক সে ছেলে হোক সে মেয়ে। কিন্তু ৭০টি পরি! এরকম আয়াত আমি সারা কোরআনের একটা জায়গাও পায়নি। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন- সুরা আল-ইমরান, সুরা নং ৩, আয়াত নং ১৯৫-“তারপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলবেন, আমি কোন সৎকর্মশীল নরনারীর কর্ম বিফল করি না। তোমরা একে অপরের পরিপূরক। তোমাদের সৎকর্মের পুরস্কার সমান।” তাহলে সমান হলে পুরুষেরা কি ভাবে ৭০টি পরি পাবে হায়রে মুর্খ পুরুষ।

পবিত্র কোরআন কি এমন কোন আয়াত আছে যেখানে আল্লাহ বলেছেন নারী-পুরুষ সমান নয়? কেউ কি দেখাতে পারবেন আছে কি এমন কোন আয়াত! নাই! যুক্তিটা অন্য রকম তাই না। অনেকেই বলেন ইসলাম নারীদের অনেক অধিকার দিয়েছেন, অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন। তাহলে আমি প্রশ্ন করবো, ইসলাম আর সমাজ কি আলাদা? কিন্তু আমি জানি কোরআনের বিধানই হলো সমাজ! তাহলে কেনো আলাদা হতে গেলো? কোরআন না হলে সমাজ গঠন হলো কিভাবে? তাহলে তো এই সমাজ রাখার কোন দরকার নেই যেখানে কোরআনের কোন বিধান মানছে না সমাজ, সমাজের মানুষ। তাহলে মুসলিম হওয়ার কি দরকার আছে?

ফিরে যাই তাহলে সেই বহুযুগ আগে। যখন মেয়েদের দূর্বল পেয়ে কিছু ইহুদী, খ্রিষ্টানরা মেয়েদের উপর বিষন ভাবে অত্যাচার করতো, মেয়েদের অমর্যাদা, অসম্মান করতো, মেয়েদেরকে মানুষ না ভেবে অভিশাপ ভাবতো। শুধু মাত্র সকল যুগের নবী (আঃ) এদের ছাড়া। সকল যুগের নবীগণরা নারীদের মানুষই ভাবতো। কারণ তারা জানতো নারী-পুরুষ সবাই সমান, তারা মানুষ এবং তারা আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সেরা। এই ব্যপারটা ইহুদীরা জানতো না কারণ ওরা ছিলো অন্ধ, ওরা তো মহান আল্লাহ তায়ালাকেই বিশ্বাস করতো না। তাহলে তার সৃষ্টিকে কি করে বিশ্বাস করবে।


এভাবেই আগাতে থাকে প্রচীন যুগ, মধ্য যুগ এবং আধুনিক যুগ থেকে এই পর্যন্ত। আজো সেই বহুযুগ আগের ইহুদী খ্রিষ্টানদের অনুসারীরা বেচে আছে। কিছু মুখোশধারী মুসলিমরা তারা যুগে যুগে নারীদের উপর অত্যাচার করে আসছে। নারীদের অন্যায় ভাবে মেরেছে, পা বন্দী করে রেখেছে ঘরে, ঘর-সংসার শত অত্যাচার সইতে হয়েছে একটা মেয়েকে। ঘর থেকে বের হতে দেয়নি, কোন মেয়েকে পড়া শুনা করতে দেয়নি। মেয়েদের চোখের সামনে বিয়ে করেছে ৩/৪টা। বোকা মুসলিম পুরুষরা ওরা কতটা বোকা ওদের দিয়ে ইহুদী খ্রিষ্টানরা কত বোকা বোকা কাজ করে নিয়েছে। ওদের কত ভাবে বুঝিয়েছে আর মুর্খ বানিয়েছে তোমরা কোরআনকে অনুসরণ না করে আমাদের কে অনুসরণ করো। বোকা মুসলিমরা তো কিছুই জানতো না। আল্লাহ বলেন এক কাজ করতে আর বোকা মুসলিমরা করে আরেক কাজ ইহুদীদের মতো করে এসেছে। আল্লাহ বলেছেন লানত ঐসব মানুষের উপর যারা আমার আয়াত আমার নিদর্শন অমান্য করে।

বোকা মুসলিমরা কত বড় বোকা দেখুন এবার তার একটা বড় প্রমান দেখাই। পুরুষদের চার বিয়েয় ব্যপার নিয়ে। পুরুষরা মনে করে যে ওরা নাকি চার বিয়ে করতে পারবে। আরে বোকা পুরুষরা এটা তো কোন সাধারণ পুরুষদের বেলায় বলেনি। কোরআনে কিছু কিছু আয়াত সেটা তখনকার মানুষদের জন্য বলেছিলেন। কোরআনে স্পর্শ ভাবে বলা আছে দেখুন সূরা নিসা, সূরা নং ৪, আয়াত নং-৩ “আর যদি ভয় হয় যে, মেয়ে এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না; তবে বিয়ে করে নেও তাদের মধ্য হতে দুই, তিন, অথবা চারজন করে তোমাদের পছন্দ মতো; তবে যদি সুবিচারের ভয় হয় একজন অথবা অধিকারভুক্ত দাসীকে এতে অন্যায় না হওয়ার সম্ভবনা বেশি। একমাত্র কোরআনের বলা আছে একজনকে বিয়ের কথা। দেখাতে পারবে কেউ এমন কোন আয়াত আছে এই আয়াত ছাড়া কে আছে দেখাও। আর কত মিথ্যে ছড়াবে তোমরা ছিঃ লজ্জা হয় তোমাদের উপর। এখানে সব পুরুষদের কথা বলা হয়নি যারা বিপদে পরে তারাই সেটা করতে পারবে। যেমন তাদের ঘরে যদি কোন এতিম থাকে, বা আশ্রতা থাকে তদের উপর সমাজ বা মানুষ অবিচার না করতে পারে সেই জন্যই বিয়ের বিধান করা হয়েছে। আর আমাদের দেশের অনেক পুরুষ দাবি করে তারা নাকি চার বিয়ে করতে পারবে। আছে কি এমন এযুগে কারো কাছে এমিত মেয়ে বা আশ্রিতা। না থাকলে তো এই যুগে তার প্রশ্ন আসেনা।


এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ্য করি আমাদের শেষ নবী রাসূল (সঃ) যখন মক্কা থেকে মদিনায় কিছু সাহাবীদের পাঠালেন তখনকার মদীনার এক খ্রিষ্টান রাজার নিকট। সাহাবীদের বলে দিলেন তারা যেন তাকে সকল ঘটনা খুলে বলে আর তাদের যেনো সেখানে আশ্রয় দেয়। কিন্তু সাহাবীদের অনুসরণ করলো এক ইহুদী নেতা। সে ইহুদী, খ্রিষ্টান রাজাকে বিভিন্ন ধরনের কুমন্ত্রণা দিতে লাগলো। আর তাদের আশ্রায় যাতে না দিয়ে তার সাথে যেনো পাঠিয়ে দেয় মক্কায় সেই প্রস্তাব দিলো। কিন্তু রাজা ইহুদীর কথা না শুনে, সাহাবীদের জিজ্ঞেসা করলো তোমরা কি বলতে চাও আমাকে বলো আমি তোমাদেরও কথা শুনতে চাই। তারপর এক সাহাবী বলল- আল্লাহ বলেছেন মুহাম্মদ আমাদের শেষ্ঠ্ এবং চুড়ান্ত রাসূল (সঃ), আল্লাহ তায়ালা বলেছেন তোমরা অন্যায় করো না, কারো সম্পদ কেড়ে নিওনা, এক আল্লাহকে বিশ্বাস করো, আর নারী-পুরুষ সমান কিন্তু তাদের গঠন আলাদা, তাদের সাথে খারাপ আচারণ করো না। তখন মদিনায় আসা ইহুদী রেগেমেগে উঠলে আর বলল “কি নারীরা হলো আমদের দাসী আর তারা নাকি আমাদের সমান হতে যাবে” এটা তোদের কোন আল্লাহ বলেছে? নাকি ঐ মুহাম্মদ বলেছে সেটা তোমরা বিশ্বাস করো। এই ঘটনাটা বলার করাণ - একবার ভেবে দেখুন আল্লাহ এবং রাসূল (সঃ) কি বলেছেন আর ঐ ইহুদী কি বলেছে। তাহলে কি আমি বলবো না- যেসব পুরুষরা বলে যে নারীর কোন ক্ষমাত নেই, নারীর কোন সমান অধিকার নেই তারা কি তাহলে ঐ ইহুদীর অনুসারী নাকি আল্লাহ এবং রাসূলের অনুসারী। নিশ্চয় ওরা ইহুদীদের অনুসারী। আমার এই প্রশ্ন তাদের জন্য যারা মনে করে নারী-পুরুষ সমান নয়।

সঠিক ইসলাম সর্ম্পকে অনেকের ভুল ধারণা আছে- বেশির ভাগই মানুষই ভাবে নারী-পুরুষ সমান নয়। বেশির ভাগ মুসলিমরা আন্দাজ-অনুমানে বেশি বিশ্বাসী। সুরা হুজুরাত- সুরা নং ৪৯, আয়াত নং ১২- “হে বিশ্বাসীগণ তোমরা অন্যের ব্যপারে আন্দাজ-অনুমান করা থেকে বিরত থাকো। আন্দাজ-অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে গুনাহের কাজ।” সত্যিটা হলো ইসলাম পুরুষ আর নারীর সব ক্ষেত্রে সমান সমান অধিকার দিয়েছেন। তবে দেখতে উভয় আলাদা আলাদা ধরনের যেমন- তাদের আছে শাররীক ভাবে পার্থক্য, মানসিকভাবে পার্থক্য, প্রকৃতিক ভাবে পার্থক্য আর তাদের ভূমিকাও আলাদা। তবে সব মিলিয়ে পুরুষ এবং নারী সমান। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীর অধিকার অনেক বেশি আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের অধিকার বেশি দিয়েছেন বিধাতা। তাই কিছু দিক দিয়ে পুরুষ এগিয়ে আছে আর কিছু দিক দিয়ে মেয়েরা এগিয়ে আছে। একটা উদাহরণ দেই যেমন-

ধরুন একটা স্কুলে দুজন ছাত্রছাত্রী সমান নম্বার পেয়ে ফাস্ট হয়েছে। তাদের দু’জনেরই রেজাল্ট সমান কিন্তু শিক্ষক যখন ওদের খাতা দেখলেন আর প্রশ্ন ১০টি আর প্রতিটি প্রশ্নই ১০ করে নম্বার। ১ম প্রশ্নে ছাত্রী পেলো ১০ এর মধ্যে ৯ আর ছাত্র পেলো ৭। এবার ২য় প্রশ্নে ছাত্র পেলো ৯ আর ছাত্রী পেলো ৭। আর বাকি আটটি প্রশ্নে দুজনই সমান পেলো ১০ এর মধ্যে ৮ করে। দেখা গেলো টোটাল যোগ করে দু’জই ১০০ এর মধ্যে ৮০ পেলো। ঠিক এই ভাবেই পুরুষ আর নারীর সমান কিছু কিছু দিক থেকে অসমান হলেও। আর সেটা যে বেশি পার্থক্য সেটা কিন্তু নয়


কিছু ভন্ড হুজুর আলেম সমাজ নষ্ট করে দিয়েছে আজকে সমাজটাকে। তাদের কত বড় স্পর্দা আল্লাহ এবং তার রাসূলের বিধানকে নকল করে, অমান্য করে। ওরা নারীদের নামাজের নিয়মটা আলাদা করে দেয়। নারীদের নামাজ এরকম না ও রকম হয় এই বলে বিভিন্ন বই লিখে চিত্রসহকারে প্রচার করেছে। দেখিয়ে দেয় মহিলাদের নামাজের নিয়ম এরকম হবে আর পুরুষদের নামাজের নিয়ম এরকম হবে। আর শত শত বছর ধরে মহিলারা সেটাই করে আসছে। আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমার নাদি, নানি, খালা, চাচি, ফুফুদের আলাদা করে নামাজ পড়তে আমাদেরও শিখিয়েছে সে রকম। তারপর যখন সব শিখতে পারলাম যখন বুঝলাম এই ভন্ড আলেম সমাজ কত কিই না করেছে আল্লাহ পবিত্র বিধান কে। আমি দোয় করি লানত হোক ঐসব ভন্ডদের উপর, আল্লাহ অভিশাপ হোক ঐসব ভন্ডদের উপর।

আমি যখন কোরআন বাংলা অনুবাদ পড়লাম যেখানে আল্লাহ আলাদা করে নারী-পুরুষের নামাজের কোন বিধান দেননি। রাসূল (সঃ) বলেছেন তোমরা আমাকে যে ভাবে নামাজ পড়ে দেখেছে সেই ভাবেই নামাজ পড়ো। তাহলে কিভাবে হয় নারী-পুরুষের নামাজের বিধান আলাদা। রাসূল (সাঃ) এর সুন্নত তো সবার জন্য সমান। ছিঃ ওরা কত বড় ভন্ড আলেম। অভিশাপ পড়ুক তোদের উপর। তোরা ভন্ড, তোরা শিরক কারি আল্লাহ পবিত্র বিধাতকে তোরা অমান্য করেছিস।

ইসলামের মূল যে ভিত্তি সেটা হলো আল্লাহ তায়ালাকে মন থেকে বিশ্বাস করা আর তার বানীগুলো থেকে আদেশ নির্দেশগুলো মেনে চলা। তবেই সে মানুষ মানুষের মধ্যে পরে। একজনকে ঠকিয়ে অন্যজন জিতার নাম ইসলাম না, নারীকে অবমাননা করা ইসলাম নয়, নারীদের সাথে হিংসা করা ইসলাম নয়। আল্লাহ তায়ালা ও তার প্রেরিত রাসূল পৃথীবির প্রত্যেক মানুষের জন্যই সমান যদি এটা সকলে মানে তাহলে কোন ধর্ম আর মানুষের মধ্যে বেধাবেধটা থাকে না। আর এটাই হলো পৃথীবির সকল মানুষের বিধান। আল্লাহ তায়ালার বিধান থেকেই মানুষ শিখতে পারবে সঠিক ধর্ম, সঠিক সমাজ ব্যবস্থা, আর আচার-আচারণ।


পুরুষরা একটা সময় বিষন ভাবে মেয়েদের উপর অত্যাচার করতো। ইহুদী, খ্রিষ্টানদের অনুসরণ করে। তারা আল্লাহর বিধান কে অমন্য করতো। এরপর এখন নারীরা ঘরের বাইরে নামতে শিখেছে, পড়তে শিখেছে, নিজেদের অধিকার আদায় করতে শিখেছে। কিন্তু ওদের কাপুরুষত্য এখনো চেঞ্জ হয়নি। তবে হ্যা নারীদের আল্লাহ যে বিধান দিয়েছেন সেটা কিন্তু নারীরা অমন্য করছে। যেমন আল্লাহ বলেছেন “হে পুরুষ তোমরা পর্দা করো, চোখকে হেফাজত করো, লজ্জা স্থানের হেফাজত করো। হে নারী তোমরা চোখকে হেফাজত করো, পর্দা করো, লজ্জা স্থান হেফাজত করো, তোমাদের গোপন অঙ্গগুলো তোমাদের গায়ের ওড়না বা চাদর দিয়ে ঢেকে দেও। কোরআনের আরো একটি আয়াতে আল্লাহ বলেছেন -হে নবী তুমি তোমার স্ত্রীদের এবং সাধারণ ঈমানদার নারীদের বলো তারা যেনো জনসমাবেসে বের হলে তাদের গোপন অঙ্গগুলো ওড়না বা চাদর দিয়ে ঢেকে বের হয়। কিন্তু নারীরা এখন পুরুষের মতো ভন্ড হয়ে গেছে ওরা ও ভন্ডামি করে আল্লাহ বলেছেন যে পুরুষ নারীদের পোষাক পড়বে আর যে নারী পুরুষদের পোষাক পড়তে তাদের উপর আমার লানত।

আর এর জন্য আমি দায়ী করবো পুরো পুরুষ সমাজকে। কারণ ওরা এতো দিন যা করেছে সেটার ফল এখন ওরাই ভোগ করবে। পুরুষরা যদি কখনো নারী-পুরুষের কোন বেদাবেদ না করতো, নারীদের সাথে সব সময় সম্মান দিয়ে কথা বলতো, নারীদের নারী না ভেবে মানুষ ভাবতো তাহলে আজকের সমাজটা এই রকম হতো না। আজ আমরা মানুষ হয়েই পৃথীবিতে বাস করতাম, অমানুষ হয়ে না। আজকে দশজন পুরুষ আর দশজন নারীর কারণে গোট সমাজ, গোট রাষ্ট্র অধপতনের দিকে চলে গেছে। আর এই প্রভাবটা এসে পড়ে কিছু ভালো পুরুষ আর ভালো নারীদের উপর।


আল্লাহ বলেছেন- “সুরা নূর, সুরা নং ২৪, আয়াত নং-২৬, “চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীনা পুরুষের যোগ্য আর চরিত্রহীনা পুরুষ চরিত্রহীনা নারীর যোগ্য। চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের যোগ্য আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতি নারীর যোগ্য। কোন মিথ্যা অপবাদই চরিত্রবানদের কলঙ্কিত করতে পারে না। এদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবনোপকরণ।”
হে ভন্ড পুরুষ সমাজ এই আয়াতে মহান আল্লাহ কি বলেছেন যে “চরিত্রহীনা পুরুষের জন্য চরিত্রবতী নারী যোগ্য” বলেছে এখানে? কিসের তাহলে তোদের এতো বড়াই শুনি।

তাই সকল পুরুষ নারীর জানা উচিত পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন কি কি বিধান দিয়েছেন। তাহলে আর দুনিয়াতে এতো বেধাবেদ থাকবে না, এতো অহংকার থাকবে না, কারো সাথে কারো অমিল থাকবে না। আগে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিধান জানি। আর সর্বোপরি মেয়েদের শৃঙ্খলায় আসতে হবে। অধিকার, ক্ষমতা দিয়ে তুমি তোমার বিচার করতে পারবে না। অধিকার ক্ষমাত এগুলোর থেকে সবার আগে হলো আমরা নারী-পুরুষ সবাই সমান, সবাই মানুষ। ছেলেদের অনেক ভুল আমি ধরিয়ে দিতে পারি তারা কোথায় কোথায় অহংকার করে, কোথায় কোথায় ভুল করে, কোথায় কোথায় মেয়েদের আত্মসম্মানে আঘাত করে। এগুলো ঠিক না আপনার যেটা করেন সেটা সম্পূর্ন ভুল করেন। আপনাদের এমন কোন ক্ষমতা নেই যেটা মেয়েদের থেকে বেশি আছে। কথায় কথায় মেয়েদের মিথ্যে খোটা, কথায় কথায় মেয়েদের সাথে অশ্লিন ভাষা ব্যবহার এগুলো পরিহার করুন। লজ্জা হেফাজত করুন কারণ মেয়েদের থেকে বেশি লজ্জাশীল ছিলেন রাসূল (আঃ)।

মন্তব্য ২১ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২১) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: যে সব শিক্ষিত মেয়েরা সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকারের কথা বলেন এবং আলোচিত/অনালোচিত কোনো কোনো ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভোগ করেন, তারা কিন্তু পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আসছেন না সর্বক্ষেত্রে।

আসল কথা- আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪

কামরুননাহার কলি বলেছেন: প্রতিযোগিতা কোনটাকে বলে আমি জানি না, আর অধিকার কাকে বলে সেটাও জানিনা। শুধু জানি আমরা মানুষ। তাই মানুষের আচার-আচারণ হবে মানুষের মতো কুকুরের মতো নয়। তাহলে আল্লাহ মানুষের মধ্যে বিচার বুদ্ধির বিবেচনা করার জ্ঞান দিতেন না। তাহলে পশুর মতোই দিতেন।

২| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: জটিল বিষয়।

২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪

কামরুননাহার কলি বলেছেন: কোন বিষয়টা জটিল বলে, তাহলে সেটা সহজ করে দিবো।

৩| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০

রূপম রিজওয়ান বলেছেন:
"ধরুন একটা স্কুলে দুজন ছাত্রছাত্রী সমান নম্বার পেয়ে ফাস্ট হয়েছে। তাদের দু’জনেরই রেজাল্ট সমান কিন্তু শিক্ষক যখন ওদের খাতা দেখলেন আর প্রশ্ন ১০টি আর প্রতিটি প্রশ্নই ১০ করে নম্বার। ১ম প্রশ্নে ছাত্রী পেলো ১০ এর মধ্যে ৯ আর ছাত্র পেলো ৭। এবার ২য় প্রশ্নে ছাত্র পেলো ৯ আর ছাত্রী পেলো ৭। আর বাকি আটটি প্রশ্নে দুজনই সমান পেলো ১০ এর মধ্যে ৮ করে। দেখা গেলো টোটাল যোগ করে দু’জই ১০০ এর মধ্যে ৮০ পেলো। ঠিক এই ভাবেই পুরুষ আর নারীর সমান কিছু কিছু দিক থেকে অসমান হলেও। আর সেটা যে বেশি পার্থক্য সেটা কিন্তু নয়"
খুবই বাস্তবসম্মত কথা আর চমৎকার উদাহরণ।দারুণ লাগলো পোস্টটা।

৪| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ইসলাম ধর্মে নারীর উপরে পুরুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে "তোমাদের আপন পুরুষ লোকের
মধ্য হইতে দুইজন সাক্ষী রাখ, যদি দুইজন পুরুষ না পাওয়া যায়,
তাহা হইলে একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোক –। সূরা-২: বাক্কারাহ, আয়াত:২৮২
যার আরও সোজা অর্থ হলো- একজন পুরুষ সমান দুইজন নারী,
অর্থাৎ নারীরা পূর্নাঙ্গ নয়, একজন পুরুষের অর্ধেক এর
সমান হলো একজন নারী।

তবে বর্তমানে কিছু প্রগতিশীল সেকুলার বুদ্ধিজীবী ইসলামের উপর দোষারোপ
করে যে,ইসলাম পুরুষদের বিবেচনায় নারীদের অপমান করেছে।অথচ ইসলাম
এমন একটি বিজ্ঞানসম্মত বাস্তববাদী ধর্ম যেখানে নারীদেরকে শুধু সম্মানই দেননি
বরং বহু ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। আর
ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে বেহেশতকে মায়ের পায়ের তলায় ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়াও সমাজে কেউ যেনো নারী জাতির অবমাননা করতে না পারে সেটিও ইসলাম
নিশ্চিত করেছে। অন্যায়ভাবে কেউ কোনো নারীকে অপবাদ দিলে তার জন্য শাস্তির বিধান দিয়েছে।
এমনকি ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্মে আজ পর্যন্ত নারী জাতির অধিকারের কোনো স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।
হিন্দুধর্মে নারী জাতিকে মৃত্যু, নরক, সর্প, বীষ ও আগুন থেকেও মারাত্মক বলা হয়েছে। স্বামী ছাড়া
নারী জাতির আলাদা কোনো অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয় নি। যার কারণে স্বামী মারা গেলে
স্ত্রীকেও তার স্বামীর সাথে সহমরণে যেতে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে। খৃষ্টান ধর্মে নারী
জাতিকে চরম লাঞ্চনার বস্তু বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

৫| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৯

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: সমস্ত পুরুষ ও মহিলা সমান সমান ।আল্লাহ সম্মানের দিক দিয়ে এ দুয়ের মাঝে কোন পার্থক্য রাখেন নি ।বরং নারীকে আল্লাহ অনেক
সম্মানের আসন প্রদান করেছেন ।তবে কিছু আধুনিক মানুষ যারা মুক্ত জীবন যাপন করতে চায়,তারা নিজের স্বার্থে মন যা চায় তাই করতে চায় তারাই ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করে তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ।

মহিলাদের সম্মানিত করলে প্রকারানতরে পুরুষরাও সম্মানিত হয় ।কারণ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ে মিলেই পরিবার হয় ।যদি কেউ অন্যকে সম্মান করে তবে অন্যও আপনাকে মান্য করবে । আর এটে উভয়েই সম্মানিত হবে ।

যারা সর্বদা নারী স্বাধীনতার জন্য চিৎকার করে,তারা আসলে এর দ্বারা নারীদের অসম্মানই করে ।তারা নিজের স্বার্থে চরিতারথ করার জন্যই এগুলি করে ।

নারী স্বাধীনতা তখনই সম্ভব হবে ,যখন পুরুষ ও মহিলা উভয়ই একে অপরকে ভালবাসবে, সম্মান এবং সহযোগিতা করবে । আর তার ফলেই পরিবার, সমাজ সুন্দর ভাবে গড়ে উঠবে আর নারী ফিরে পাবে তার সম্মান,তার স্বাধীনতা ।

এই ক্ষেএে উভয়ই উভয়ের প্রতিযোগী নয় বরং সহযোগী ।

৬| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪০

:):):)(:(:(:হাসু মামা বলেছেন: লেখাটা হেব্বি হয়েছে আপনার ভাবি বলেছে । :(

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৯

কামরুননাহার কলি বলেছেন: ভাবিকে সালাম দিয়েন। ধন্যবাদ তাকে।

৭| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৫

চাঁদগাজী বলেছেন:



পুরো পোষ্ট লিলিপুটিয়ান টাইপের।

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৮

কামরুননাহার কলি বলেছেন: তাই বুঝি। আপনার সাথে একটু ঝগড়া করতে মন চায় যদি কিছু বলতে আমার পোস্ট নিয়ে। আর আপনাকে অনেক দিন ধরে দেখছি না কেনো? ভালো আছেন তো? শরীরটা ভালো তো?

৮| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
গাঁজীসাবের আগমন
শুভেচ্ছা স্বাগতম।
কই ছিলেন এতদিন
তার লম্বা ফিরিস্তি দিন।

আপনি আসল না নকল গাঁজী
সেটারও প্রমান দিন।

৯| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৬

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: প্রতিযোগিতা কোনটাকে বলে আমি জানি না, আর অধিকার কাকে বলে সেটাও জানিনা। শুধু জানি আমরা মানুষ। তাই মানুষের আচার-আচারণ হবে মানুষের মতো কুকুরের মতো নয়। তাহলে আল্লাহ মানুষের মধ্যে বিচার বুদ্ধির বিবেচনা করার জ্ঞান দিতেন না। তাহলে পশুর মতোই দিতেন।

ধন্যবাদ।

১০| ২১ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:

আল্লাহ বলেছেন যে পুরুষ নারীদের পোষাক পড়বে আর যে নারী পুরুষদের পোষাক পড়তে তাদের উপর আমার লানত।

কিন্তু খাটি মুসলিম দাবিদার পাকিরা মেয়েদের মতো সালোয়ার-কামিজ পরে, তাদের কি হবে?

১১| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৪৬

সোহানী বলেছেন: পৃরো লিখাটা অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়লাম ও শেষে প্রিয়তে নিতেই হলো।

আপু, আপনি শুধু ব্যাখ্যাই নয় তার সাথে যুক্তি প্রমাণ ও তুলে ধরেছেন। বহুদিন ধরে আমাদের পুরুষ সমাজ নারীদেরকে বসে আনার জন্য বিকৃত ব্যাখ্যা করে আসছে আয়াত ও হাদিসের। অথচ কি চমৎকার আমাদের ধর্ম।

তবে চারটা বিয়ে বা ৭০ হুরপরী পাওয়ার আশা বা বিশ্বাস না থাকলেতো ওরা ধর্ম পালন করবেতো ;) । এ সবের মূলা ঝুলিয়েইতো ওদেরকে দলে ভেড়ানো হয় B-))। জাস্ট কিডিং।

১২| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪১

নতুন বলেছেন: পুরুষ গায়ে গতরে শক্তিশালী এটাই শুুধু ঠিক বাকি অন্য সব বিয়ষে নারীরা পরুষদের চেয়ে কম যায় না।

বত`মানে একটা নারীকে ছোট্ট বেলা থেকেই ঘরের ভেতরে রাখতে চেস্টা করে তাই তাদের অভিঙ্গতা কম হয়।

পড়াশুনায় নারীরা এগিয়ে,
বাচ্চা লালন পালনে নারীরা এগিয়ে
স্কুলে টিচার হিসেবে নারীরা এগিয়ে
বত`মানে গামেন্টসে নারীরা এগিয়ে
চাকুরীতেও বাইরের দেশে অনেক বড় বড় পদ মেয়েরা সামাল দিচ্ছেন, আমাদের দেশেও সম্ভব।

পরুষ যদি তার পেশি শক্তির ব্যবহার না করে তবে নারীর চেয়ে সুপিরিওর দাবি করতে পারবেনা।

১৩| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৯

নেক্সাস বলেছেন: আমি রাজীব নুরের সাথে একমত

১৪| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ২:১২

মুফীদ হাসান বলেছেন: শুধু কুরআনের তর্জমা পড়ে নিজের ইচ্ছামতো কিছু লিখলেই হয়না। ব্যাখ্যাও জানতে হয়। আর সহীহ্ হাদীসও জানতে হয়। আপনি বলেছেন যে, আপনি পুরো কুরআনের কোথাও নাকি পরী (হুর) এর নাম খুজেঁ পাননি। কুরআনের সবচেয়ে সুন্দর সূরা "আর রহমান" কি আপনি পড়েননি? আরও আছে সূরা "ওয়াকিয়াহ"। এছাড়াও কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ্ পাক জান্নাতী হুরের কথা বলেছেন। আর একজন নিম্নস্তরের জান্নাতী সত্তুরটি হুর পাবে এটা সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমানিত। পুরুষদের চার বিবাহে আপনার এতো আপত্তি কেন? নাকি আপনি একাই চার পুরুষকে বিবাহ করতে চান? একজন নারী যদি সেচ্ছায় কারও দ্বিতীয়,তৃতীয় বা চতুর্থ স্ত্রী হতে চায়, সেটাতে সমস্যা কোথায়? চার বিবাহের কথাও তো হাদীস দ্বারা প্রমানিত। ইরশাদে রসূলে আকরাম সাল্লাল্লহু তাআলা আলাইহি ওআলিহী ওসাল্লাম: বিবাহ করো তোমাদের পছন্দের মেয়েদের। দুই দুইটি কে,তিন তিনটি কে, চার চারটি কে। (নাসাঈ) নবীজি আরও বলেন: তোমাদের মধ্য হতে তারাই উত্তম যাদের স্ত্রী বেশী। (বুখারী) স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত এটা হাদীসে আছে। তারপর আল্লাহ্ পাক বলেছেন যে: আমি ছাড়া অন্য কাউকে সেজদার হুকুম করলে আমি নারীদেরকে বলতাম তাদের স্বামীদেরকে সেজদা করতে। এটাও নবীজি আল্লাহ পাক হতে বর্ননা করেছেন। বূযুরগানে দ্বীন কখনও আল্লাহ পাকের সাথে কাউকে শরীক করেননি আর ভবিষ্যতেও করবেননা ইনশাল্লাহ্। কিন্তু আপনি তাদের উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। তাদেরকে শিরককারি বলছেন। তাদের উপর লানত করছেন। শুনেন বোন! আলেমদের প্রতি মনে বিদ্বেষ রাখা মোটেও ভালো নয়। ইমাম মালেক রহ: বলেন: "কোনো ব্যাক্তি যদি আলেমদের প্রতি বিদ্বেষ রেখে মারা যায়, তো কবরে তার মুখ কিবলা হতে ঘুরে যায়। যার মন চায় সে দেখে নিতে পারে"। আস্তাগফিরুল্লাহ্!
আপনি বলেছেন:"
তবে দেখতে উভয় আলাদা আলাদা ধরনের যেমন- তাদের আছে শাররীক ভাবে পার্থক্য, মানসিকভাবে পার্থক্য, প্রকৃতিক ভাবে পার্থক্য আর তাদের ভূমিকাও আলাদা"। তারপরেও আপনি কেনো ফলি মাছের মতো ফাল পারতেছেন? পুরুষদের প্রতি এতো রাগ কেন আপনার? পুরুষরা কি নারীদেরকে তাদের প্রাপ্য টা দেয়নি? অবশ্যই দিয়েছে! বরং তার চেয়ে বেশী দিয়েছে। দেশের প্রধান মন্ত্রী একজন নারী,হেড স্পিকার নারী, মোবাইল অপারেটরে নারী, রেডিও জকি নারী, টিভি এংকর নারী, ব্যাঙ্ক একাউন্টেন্ট নারী, গার্মেন্টস এ ছোটো থেকে বড় পোস্ট পর্যন্ত নারী। সময়ের স্বল্পতার কারনে আর কিছু আপাতত লিখতে পারলাম না। আগামীকাল বাকী কথাগুলো ফের মন্তব্যের আকারে পেশ করবো ইনশাল্লাহ্!

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

কামরুননাহার কলি বলেছেন: আমি কোরআনের সুরা “আর-রহমান”, আর "ওয়াকিয়াহ" পড়েছি দেখেছি সেখানে সাথির কথা উল্লেখ্য আছে নো হুর। আর ৭০টি হুরের কথা কোথাও পাইনি। আমি সেই আলেমের কথা কখনোই শুনবো না যে আলেমেরা আল্লাহ ও আল্লাহ রাসূলের কথার বাইরে কথা বলেন। আমি তো সেই আলেমের কথাই শুনবো যারা আমাকে সঠিক ইসলামের কথা বলে। যারা আমাদের নামাজের কথা ভুল প্রয়োগ করে, যারা আল্লাহ ও রাসূরের কথা অমান্য করে বলে যে মায়ের পায়ের নিচে নয় স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত, যারা বলে পৃথীবিতে নারী জাতি নাকি ফেসাদ সৃষ্টিকারী এই কথা নাকি রাসূল বলেছেন আর সেটা নাকি বোখারী শরিফের লেখা, আমি এমন পুরুষেদের লেখা পড়েছি যারা বলেছেন নারীদের কোন ইসলাম নাই, নারীদের কোন জান্নাত নাই, নারীদের কোন নামাজ নাই, আর তারা মুসলিম তারা কোরআনের আয়াত দেখিয়ে দেখিয়ে ভুল প্রয়োগ করে বলেছে। তাদের আপনি কি বলবেন। আপনি হয়তো আমার পুরো লেখাটি পরেননি বেছে বেছে দু’এক প্যারা পড়েছেন।

এবার আসি চার বিয়ের কথা নিয়ে কোরআনের কোথায়ও চার বিয়ের কথা কোন সাধারণ পুরুষদের বেলায় নেই। আল্লাহ বলেছেন একটা বিয়েই তোমাদের জন্য উত্তম। রেফারেন্সটা দেখে নিন কি বলেছে কোরআন আর আমিও আমার পোস্টে লিখে দিয়েছি ওটাও পড়ে নিবেন।


এবার আসি সেজদার কথা নিয়ে- আল্লাহ সৃষ্টির মাত্র সাধারণ মানুষ আমরা আমাদের কি এমন কিসের স্বাধ আছে যে আল্লাহ বলে দিবেন আর তাদের সেজদা করতে হবে। এইটুকো জ্ঞান আপনাদের মাথায় নেই। আল্লাহ যদি আর কাউকে সেজদা করতে বলতেন তাহলে সবার আগে তার সুন্দর সৃষ্টি ফেরেস্তাদেরই বলতেন, তা না হলে আদম (আঃ) পৃথীবিতে নামিয়ে দিয়ে সাথে সাথে বলতেন সেজদা করো হে হাওয়া (আঃ) তুমি তোমার স্বামীকে। তা না হলে বলে দিতেন সেজদা করো হে শেষ নবীর উম্মতর তোমাদের নবীকে। তা না হলে বলতেন সেজদা করো তুমি তোমার গর্ভধারি মাকে। বলুন তো আল্লাহ এতো ভালো ভালো মানুষদের রেখে তিনি সেজদা করতে বলতে আপনাদের মতো সাধারণ মানুষদে হায়রে বোকা মানুষ কত মিথ্যা বলবেন বলেন।

সুরা ইখলাস পরেননি- “আপনি বলে দিন আল্লাহ এক। আল্লাহ কারো মুখাক্ষেপী নন। তিনি কাউকে জন্মও দেননি আর তিনি জন্ম নেননি। আর তার সমতুল্যও কেউ নেই”। এই সুরার শেষ আয়তটি পড়ে নিন আর মাথায় ডুকান ভালো করে। তার সমতুল্য কে হতে পারে না আর তারই মতো নাকি সেজদা করতে হবে স্বামীকে, আর তিনি নাকি সেটা বলে দিবেন।

আমার পোস্টের একটি প্যারা বুঝি আপনি পড়েননি? না পড়লে পড়ে নিন- সুরা আল-ইমরান, সুরা নং ৩, আয়াত নং ১৯৫- “তারপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলবেন, আমি কোন সৎ কর্মশীল নরনারীর কর্ম বিফল করি না। তোমরা একে অপরের পরিপূরক। তোমাদের সৎকর্মের পুরস্কার সমান। তাহলে সমান হলে পুরুষরা কি করে ৭০টা হুর পায় বলুন তো ভাই। আসলে কি জানেন তো- আল্লাহ তায়ালা তার পবিত্র কোরআন যদি তিনি নিজেই হেফাজত না করতেন তাহলে কি যে করতো ‍দুনিয়াটা ওরা সেটার কোন ইয়াত্তা নেই।

আর একটা কথা মনে রাখবেন আল্লাহর প্রিয় রাসূল কিন্তু কোন হাদীস লিখেননি। রাসূল (সাঃ) কে বলা হয়েছিলো তিনি যেনো তার সব কিছু লিখে জান তিনি তখন বলেছিলেন আমার কোন কথা যদি আল্লাহ কথার বাইরে হয়ে যায় তাহলে আমি তাকে কি জবাব দিবো। তাই কোরআনকে কোন মুসলিম বলে অমুসলিম কেউ নকল করতে পারেনি কিন্তু হাসিদ পেরেছে তাই বোখারী শরিফেও অনেক ভুল হাদিস আছে যা মানুষের বানানোয় বয়োডটা। তাই ওরা হাদিসকে নকল করতে পারে কোরআনকে নয়।

তার সবচেয়ে বড় প্রমান নামজ- নামজকে মানুষ নকল বানিয়েছে। নারীদের তো আলাদা বানিয়েছেই তার সাথে পুরুষদেরও। আমি অনেক পুরুষদের দেখি তারা একেক জন একেক রকম নামাজ পড়ে। ঐসব হুজুগে আলেম সমাজ চিত্রসহকারে নারীপুরুষের নামাজের কথা উল্লেখ্য করেছে। তাহলে ঐসব আলেমদে আমি মানবো কেনো যারা আমাকে ভুল শিখায়। আমি সঠিক ইসলাম কোরআন পড়ে শিখেছি। এবং কিছু ভালো ভালো আলমেদের লেকচার শুনে শিখেছি।

আপনি বলেছেন আমার পুরুষদের প্রতি এতো রাগ কেনো! এটা ভুল বললেন, পুরুষ আমার জম্মদাতা, পুরুষ আমার ভাই, এরপর পুরুষ হবে আমার স্বামী, তারপর হতে পারে পুরুষ আমার সন্তান ভবিষতে আল্লাহ দিলে। তাই পুরুষদে প্রতি আমার কোন রাগ নেই। আমার রাগ সেখানেই যারা সঠিকটা না যেনে বেঠিক কাজ করে, আমার রাগ তাদের প্রতি যারা ইহুদি, খ্রিষ্টানদের অনুসরন করে চলে কোন নবীদের অনুসরন করে চলে না। যারা নারীদের সাথে খারাপ আচারণ করে, অসম্মান করে তাদের উপর। এছাড়া কোন সঠিক পুরুষদের প্রতি আমার রাগ নেই। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

১৫| ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫২

আরজু পনি বলেছেন: সময় নিয়ে পড়বো।

১৬| ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৪

জুল ভার্ন বলেছেন: খুব সুন্দর করে বিষয়টা তুলে ধরেছেন। সৃষ্টিতেই যেখানে বৈষম্য সেখানে সমানের কথা চিন্তা না করে পারস্পরিক সম্মানের কথা বলি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.