নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাবনাহীন ভাবনাগুলো

মাহের ইসলাম

মাহের ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

অদূরদর্শিতা, অবিশ্বাস এবং দুর্ভাগ্য - ২য় পর্ব

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯



প্রথম পর্বের লিংক অদূরদর্শিতা , সন্দেহ এবং দুর্ভাগ্য

দুই
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে উপজাতি সম্প্রদায়কে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো সম্পৃক্ত করেনি বলে অভিযোগের সুর শোনা যায়। এমনকি যে ছয় দফা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে গণজোয়ার সৃস্টি করেছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেই আন্দোলন চন্দ্রঘোনার বাঙালি শ্রমিক এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ছয় দফা আন্দোলনে শরিক হতে না পারলেও, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে অনেক উপজাতি ছাত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামিল হয়েছিলেন।

তবে, জাতীয় রাজনীতির সাথে গড়ে উঠা এই সম্পৃক্ততা বছর খানেকের বেশি স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পায়নি। কারণ আর কিছুই নয়, স্থানীয় পাহাড়ি নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ। সত্তরের জাতীয় নির্বাচনের সময়, তারা উনসত্তরে গড়ে উঠা জাতীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা থেকে পাহাড়িদের দূরে সরিয়ে দেয়। আলোচ্য নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের দুইটি আসনে হেরেছিল। তাঁর একটা রাঙামাটিতে ত্রিদিব রায়ের কাছে। প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী হেরে যায় রাঙামাটিতে এম এন লারমা এবং বান্দরবানে অং শৈ প্রু চৌধুরীর কাছে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আঁতাতের কথা উঠে এসেছে, সিদ্ধার্থ চাকমার কণ্ঠে,
“পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তর এলাকায় রাজা ত্রিদিব রায়ের প্রভাব ছিল নিরঙ্কুশ। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা রাজতন্ত্র বিরোধী। তা সত্বেও নির্বাচনী কৌশল হিসেবে রাজা ত্রিদিব রায়ের সঙ্গে সমঝোতা করেন। জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে লারমা তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে রাজা ত্রিদিব রায়ের পক্ষে প্রচারে নামেন। বিনিময়ে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে লারমাকে সমর্থন করতে রাজা ত্রিদিব রায় তাঁর লোকজনদের নির্দেশ দেন। এই নির্বাচনী আঁতাতের ফলে রাজা ত্রিদিব রায় এবং মানবেন্দ্র লারমা উভয়েই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।“ (চাকমা, ১৩৯২ বঙ্গাব্দ, পৃ. ৩৭-৩৮)।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বেশীরভাগই কোন পক্ষাবলম্বন করেনি। তবে অনেক পাহাড়ী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল এবং অনেকে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। পাশাপাশি, একটা অংশ পাকিস্তানী বাহিনীকে সক্রিয় সহায়তা করেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। যাদের বেশীরভাগ ছিল চাকমা। চাকমা রাজার প্রভাবেই এরা রাজাকার বাহিনীতে নাম লিখিয়েছিল। তার সার্কেলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যে প্রচারনার পাশাপাশি গ্রামের হেডম্যান ও কারবারীদের নির্দেশ প্রদান করেন লোকদেরকে রাজাকার বাহিনীতে ভর্তি করানোর জন্যে। অবশ্য বেতন ও অস্ত্রের লোভেও অনেকে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়।

পার্বত্য অঞ্চলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একজনও মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধের সময় এম এন লারমা কোন পক্ষাবলম্বনের পরিবর্তে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অং শৈ প্রু চৌধুরী এবং ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করে হানাদার বাহিনীকে সক্রিয় সহযোগিতা করেন। অপরদিকে, তৎকালীন তিন সার্কেল চীফ বা প্রথাগত রাজাদের মধ্যে একমাত্র মং সার্কেলের রাজা মংপ্রু সাইন তাঁর সবকিছু বিলিয়ে দিয়েই মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখেন। বোমাং রাজা পাকিস্তানের পক্ষে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। তবে, চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের সক্রিয়ভাবে পক্ষাবলম্বন করেন।

বাংলাদেশের অনেক মানুষই পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি বলতে শুধু চাকমাই বুঝতো। এছাড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রভাবশালী ছিল চাকমা। তাই, চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় রাজাকার হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই চাকমাদের প্রতি বিরুপ মনোভাবাপন্ন হয়ে পড়েন। ত্রিদিব রায়ের পাকিস্তানে পলায়ন এবং জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতার চেষ্টা করার কারণে এই মনোভাব আরো পাকাপোক্ত হয়।

ত্রিদিব রায় সম্পর্কে গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রিয়জিৎ দেবসরকার মতামত ব্যক্ত করেছেন,
“ ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচী প্রত্যাখ্যান করে রাজা ত্রিদিব রায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ...... রাজা ত্রিদিব রায় তার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হননি। ..... তিনি যদি বাস্তববাদী এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতেন তবে দেখতে পেতেন বুলেট এবং বর্বরতা দিয়ে জনগণের গণঅভ্যুত্থানকে দমন করা সম্ভব নয়। তিনি ১৯৭১ সালের সংকটকালে একজন কিংবদন্তী রাজা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারতেন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যদি দেখতে পেতেন তাহলে ইতিহাসে তাঁর এবং তাঁর জনগণের নাম স্বর্ণাক্ষরে খচিত থাকত। কিন্তু তিনি তা করতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হন।“ (দেবসরকার, ২০১৬, পৃ. ৯৬-৯৭)।

১৯৭২ সালে জাতিসঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করতে পাকিস্তান ত্রিদিব রায়কে পাঠিয়েছিল।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে বঙ্গবন্ধু রাজমাতা বিনিতা রায়কে পাঠিয়েছিলেন।
“রাজমাতা বিনিতা রায় ত্রিদিবকে বাংলাদেশে ফিরে যাবার অনুরোধসহ শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে একটি ব্যক্তিগত বার্তা বয়ে নিয়ে যান। তাকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। রাজা ত্রিদিব রায় অবশ্য তার মা এবং জন্মভুমিকে খোলাখুলি প্রত্যাখ্যান করেন।“ (দেবসরকার, ২০১৬, পৃ. ১০৪)। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে গড়ে উঠা অবিশ্বাস দূর করার সমস্ত পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে নিস্ক্রিয় থাকলেও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কারণে জাতীয় রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে পাহাড়ের নেতৃবৃন্দ সন্দেহের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে নেতৃত্বের অদূরদর্শিতায় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ায় অবিশ্বাস আরো জোরালো হয়। এই পরিস্থিতির আলোকেই জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা মন্তব্য করেছেন,
“ভুল নেতৃত্বের মাশুল শেষ পর্যন্ত সাধারণ উপজাতীয় জনগণকেই দিতে হয়েছে। পাকিস্তান আমলে যেমন পাকিস্তান বিরোধী (ভারত পন্থী), তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশেও উপজাতীয়দের গায়ে বাংলাদেশ বিরোধী লেবেল এঁটে দেওয়া হয়।“(চাকমা, ১৯৯৩, পৃ. ৪৭)।

স্বাধীনতার জন্মলগ্নেই উপজাতি, বিশেষত চাকমাদের প্রতি অবিশ্বাস আর সন্দেহের সৃস্টি হয়েছিল। যে সন্দেহ দূর করার উপায় ছিল, দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে তাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ করেছিল, তার উল্টো কাজ। যুদ্ধ বিধ্বস্থ নব্য স্বাধীন বাংলাদেশে হাজারো সমস্যা নিয়ে সরকার যখন পেরেশানিতে। তখনই কিছু নেতা দাবী করে বসেন আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন। এমনকি, উপজাতিদের স্বার্থ, ঐতিহ্য, ভুমি, কৃষ্টি, ইত্যাদি রক্ষার অনেক আশ্বাস বঙ্গবন্ধুর দিয়েছিলেন। তাঁদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে অনেক পদক্ষেপও গ্রহন করেছিলেন। তাঁর পরেও তারা বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশাতেই (১৯৭৩-৭৫) সশস্ত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল।

ছবি গুগল থেকে নেয়া।

তথ্যসুত্রঃ
১। চাকমা, সিদ্ধার্থ (১৩৯২ বঙ্গাব্দ), প্রসঙ্গঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম, কলকাতা, নাথ ব্রাদার্স।
২। চাকমা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ (১৯৯৩), ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পার্বত্য স্থানীয় সরকার পরিষদ, রাঙামাটি: স্থানীয় সরকার পরিষদ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
৩। দেবসরকার, প্রিয়জিৎ (২০১৬) পশ্চিম পাকিস্তানের শেষ রাজা, অনুবাদ, বাতিঘর, চট্টগ্রাম।

(চলবে)

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


জামাতের জল্লাদেরা ও রাজাকারেরা পাহাড়ে ছিলো, ওরা লুটকরা টাকা ও স্বর্ণে চলছিলো; বেকুব চাকমাদের তারা কিনে ফেলেছিলো ২ পয়সা দিয়ে।

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৫

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনাকে দেখে খুশী হলাম।
কাকতালীয় কিনা জানি না, তবে আগের পর্বেও আপনি প্রথম মন্তব্য করেছিলেন।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

জামাতের সাথে চাকমাদের যে সম্পর্ক আপনি জানালেন, আমি কখনো শুনিনি।

তবে, আমি যেটা জানতে পেরেছি, অনেক চাকমা তরুণ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু অস্ত্র প্রশিক্ষনের সময় কাঠের রাইফেল শুধুমাত্র বাঙালি তরুণদের দেওয়ায় , কেউ কেউ ফিরে যায়। অন্যদিকে এম এন লারমা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত নিলে অনেক পাহাড়ি তরুণ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকে। এছাড়া, ত্রিদিব রায়ের প্ররোচনায় অনেকে রাজাকার বাহিনীতে নাম লেখায়। কিছু আবার, অর্থ এবং ক্ষমতার লোভেও রাজাকার বাহিনীতে নাম লিখিয়েছিল।

আবারও ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন, শুভ কামনা রইল।

২| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: চাকমা; উপজাতিদের সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানিনা।
আপনার পোস্ট পড়ে জানতে পারছি।

ধন্যবাদ। চলুক-

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মাহের ইসলাম বলেছেন: ভাই, আমার পোষ্ট পড়ে ভাববেন না যে সব চাকমা খারাপ। আমার মতে বেশীরভাগই ভালো।

সমস্যা হল, ভালোদের চেয়ে খারাপদের অনেকেরই গলার আওয়াজ বেশি। এদের সাথে আবার কিছু স্বার্থান্বেষী বাঙালি যোগ দিয়েছে। তাঁর উপরে, কিছু নেতার অদূরদর্শিতা এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের কারণে অনেক ঘটনাতেই তাঁদের প্রতি অবিশ্বাস আর সন্দেহের আঙ্গুল তুলে অনেকে।

অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন, শুভ কামনা রইল।

৩| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর, অনেক রাজাকার, আলবদর, জামাতী নেতা পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলো দীর্ঘ সময়; সেই সময়ে, চাকমারা তাদের সাহায্য করেছে টাকার বিনিময়ে; এবং অস্ত্রও পেয়েছিলো

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৫

মাহের ইসলাম বলেছেন: আবারও এসে কষ্ট করে তথ্য যোগ করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
এই ব্যাপারটা আমি শুনেছি। এমনকি সর্বহারা পার্টও এসে লুকিয়েছিল।

আরেকটা ব্যাপার ঘটেছিল।
শান্তি বাহিনীর প্রথম দিকের অস্ত্র এবং লোকবলের বড় অংশই ছিল পাহাড়ের রাজাকার।
তাঁদের অনেকেই জানত কোথায় পাঁক বাহিনী অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে, কিংবা ফেলে গেছে। সেগুলো নিয়েই ৭২ সালেই শান্তি বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।
শুভ কামনা রইল।

৪| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৯

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: লেখক বলেছেন: ভাই, আমার পোষ্ট পড়ে ভাববেন না যে সব চাকমা খারাপ। আমার মতে বেশীরভাগই ভালো।
-
আমি আসলে কোনো জাতি সম্পর্কে 'একটামাত্র বই, প্রবন্ধ বা মতামত পড়ে' সামান্য ধারনা নিয়ে ভালো বা মন্দ ট্যাগ দেওয়ার পক্ষপাতী নই। কোনো টপিক নিয়ে যত পড়ি বা যত জানি ধারনা, ভাবনা ততো চেঞ্জ হয়।
যাইহোক, আপনার মন্তব্যটা আমার কাজে আসবে। ধন্যবাদ আবারো।

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৯

মাহের ইসলাম বলেছেন: খুব ভালো লাগলো, আপনার কথা শুনে।
আপনার মানসিকতা জেনে শ্রদ্ধা বেড়ে গেল।

আবার এসে মন্তব্য করার জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
ভালো থাকবেন, শুভ কামনা রইল।

৫| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১২

রাজীব নুর বলেছেন: ৪৭ এ দেশভাগ হয়ে কি আআমদের খুব লাভ হয়েছে?

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৫

মাহের ইসলাম বলেছেন: ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে ১৯৪৭ সালের বাস্তবতা অনুধাবন করাটা জরুরী।

আমার মনে হয়, লাভবান হয়েছি।
অন্তত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদির বাস্তবতায় অবশ্যই লাভবান হয়েছি বলে মনে করি।

৬| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৩৪

ডার্ক ম্যান বলেছেন: 2015 সালে চট্টগ্রাম থেকে দুইজন রাঙামাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাত্কার নিতে গিয়েছিলেন । তখন প্রথম জানতে পেরেছিলাম পার্বত্য চট্টগ্রামেও মুক্তিযোদ্ধা আছে

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৯

মাহের ইসলাম বলেছেন: কেমন আছেন?

পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু মুক্তিযোদ্ধা আছে তাই নয়, অনেক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আছে।
বিশেষ করে উল্লেখ করতেই হয়, মং রাজা তাঁর সর্বস্ব নিয়েই মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছে এবং নিজেও সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেছে।

শুভ কামনা রইল।

৭| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:০১

আনমোনা বলেছেন: আপনার লেখায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে জানতে পারছি। অনেক তথ্যবহুল লেখা।

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:২৩

মাহের ইসলাম বলেছেন: অনুপ্রাণিতবোধ করছি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন, শুভ কামনা রইল।

৮| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৩৬

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ভাল লাগলো তথ্যবহুল সিরিজ পাঠে ।

ইতিহাসের অলিগলি থেকে উঠে আসুক সকল সত্য!
নির্মোহ কষ্টিতে যাচাই হয়ে!


+++++

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৪০

মাহের ইসলাম বলেছেন: আমাকে অনুপ্রাণিত করায় অসংখ্য ধন্যবাদ।
চেষ্টা করছি, সত্য খুঁজে বের করার।
আমিও মনে প্রানে চাই নিরমোহ থেকে সত্য তুলে ধরতে।

ভালো থাকবেন।
শুভ কামনা রইল।

৯| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৪১

ডার্ক ম্যান বলেছেন: আছি মোটামুটি । আপনি কি এখনও চট্টগ্রাম আছেন নাকি বদলি হয়েছেন? ??

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৫১

মাহের ইসলাম বলেছেন: আমি এই মুহূর্তে চট্টগ্রামের বাইরে।
আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌ ভালো রেখেছেন।

অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

১০| ২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৪৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: একদিকে রাজা ত্রিদিব রায় যখন চাকমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিচলিত করছেন,জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বিরোধিতা করে পাকিস্তানের হয়ে রাষ্ট্রদূত এর ভূমিকা পালন করছেন অপরদিকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বঙ্গবন্ধু তার মা বিনীতা রায়কে পাঠিয়ে মোক্ষম চাল দিলেন। মা ছেলের দ্বৈত ভূমিকা শুধু গৃহের মধ্যে নয় স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও। পোস্টের হেডলাইনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলা যায় যে ত্রিদিব রায়ের অদূরদর্শিতা, অবিশ্বাস গোঁড়ামি যেটা উপজাতিদের দুর্ভাগ্য। দুর্ভাগ্য একটা স্বাধীন দেশের,বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠী মেনস্ট্রিমের বাইরে চলে যাওয়াটা অতীব বেদনার। দুর্ভাগ্য চাকমাদেরো যে মুক্তিযুদ্ধে একটি সন্দেহভাজন উপজাতি গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় বহন করছে। বিনীতা রায়ের মতো চাকমারা যে কারণে এতটা নিষ্প্রভ ।

২১ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৫৬

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনাকে দেখে ভালো লাগলো।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

শুধু অতীত নয়, বর্তমানেও কিছু কিছু নেতার অদুরদর্শী কথাবার্তা আর কাজকারবার দেখলে মনে হয়, এরা কখনোই ব্যাক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে না।
আফসোসের বিষয় হলো, এখনও অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে সমগ্র বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু নিজেদের মতো করে দেখে। তাঁদের সাথে কিছু লোভী বাঙালি যোগ দিয়েছে। ফলে, পাহাড়ের সাধারণ মানুষের দুর্দশা কমছে না।

শুভ কামনা রইল।
ভালো থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.