নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাবনাহীন ভাবনাগুলো

মাহের ইসলাম

মাহের ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

দীর্ঘতম বাস যাত্রা ( ২য় পর্ব)

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:০৫


আগের পর্ব দীর্ঘতম বাস যাত্রা

শেষ দিনে রেখেছিলাম প্রমোদতরীতে ভ্রমণ।
হোটেল থেকেই বাসে করে আমাদেরকে এনে জেটিতে নামিয়ে দিলো।
জাহাজের পাশ দিয়ে জেটির উপরে হাটতে হাটতে জাহাজের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না। ইউরোপের এমন প্রমোদতরীর ছবি অনেক দেখেছি। এই প্রথম নিজেই একটাতে ভ্রমণ করতে যাচ্ছি! বিস্ময়, আনন্দ, আগ্রহ আর উত্তেজনার এক চমৎকার মিশ্রণ সারা দেহ-মনে।

জাহাজে পা দিতে না দিতেই হাতে টান অনুভব করলাম।
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই, ঐতিহ্যবাহী গ্রীক পোশাকের এক যুবক আর যুবতী আমার দুই পাশে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে গেল। প্রত্যেক যাত্রীর সাথে এরা ছবি তুলে। বলা যেতে পারে, প্রমোদতরীর স্বাগতম জানানোর এক তরিকা। ক্যামেরা দিকে তাকানোর ফুরসত কেড়ে নিল, শরীরে কোমল স্পর্শ।

অস্বাভাবিক রকমের এক কোমলতা চেপে বসেছে, গায়ের সাথে। বিস্মিত হয়ে, মুখ তুলে তাকালাম। প্রাচীন গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীর দেবীদের একজন মোহময়ী এক হাঁসি মুখে ঝুলিয়ে, আমাকে এমনভাবে চেপে ধরে দাঁড়িয়েছে যে, তার শরীরের উষ্ণ কোমলতা কাপড়ের উপস্থিতি উপেক্ষা করেই আমাকে শিহরিত করছে। ক্যামেরাম্যানের আহবানে সম্বিৎ ফিরতেই সামনে তাকালাম। ক্লিক, ক্লিক।

আরেকবার ঐ মোহময়ীর চেহারা দেখতে ব্যর্থ হলাম, পরের জনের ছবির প্রস্তুতিতে। বেশি কিছু বুঝার আগেই নিজেকে আবিস্কার করলাম অন্য যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে। তাদেরকে অনুসরণ করে এগিয়ে গেলাম জাহাজের ভিতরে। পরে সারাদিনে অনেকবার খুজেছি, ঐ মোহনীয় দেবীর মুখ। পাইনি। বরং পেয়েছি, সেই ফটোগ্রাফারকে। গেটে তোলা ছবি দেখিয়ে প্রিন্ট করে দিতে চাইলো। চাইলে গেঞ্জিতেও প্রিন্ট করে নেয়া যায়। অতি উচ্চ মুল্য চাইলেও, দামটা গায়েই মাখলাম না।

নীল সমুদ্রের মধ্যে আড়াই ঘন্টা কিভাবে কেটে গেছে বুঝতে পারিনি। অবশ্য ট্যুরিস্টদের ব্যস্ত রাখার জন্যে, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে গ্রীকদের নাচ-গান ইত্যাদিসহ অনেক কিছুর আয়োজন প্রমোদতরীতে করা হয়েছে। প্রথমেই নেমে পড়লাম হাইড্রা দ্বীপে।

ছবিঃ হাইড্রা দ্বীপ @ গুগল।

হোটেলে যখন আইল্যান্ড ট্রিপের তালিকায় হাইড্রার নাম দেখেছিলাম তখন টিভি সিরিজের হারকিউলিসের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। দেবতা জিউসের ছেলে হারকিউলিস ছিল গ্রীক পুরাণের এক মহাবীর। তার বীরত্ব, সাহস আর শক্তির প্রমাণস্বরূপ অনেক কাহিনী প্রচলতি আছে। যার মধ্যে একটা ছিল ৯ মাথা বিশিষ্ট জলদানবী হাইড্রাকে হাইড্রাকে হত্যা করা।

মানবীর গর্ভে জন্ম নেয়া হারকিউলিসকে দেবরাজ জিউসের স্ত্রী দেবী হেরা কোনোদিন মেনে নিতে পারেনি। তাই, হারকিউলিসকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে হাইড্রাকে পেলে পুষে বড় করেছিলেন। হাইড্রা থাকতো লার্না হ্রদে। প্রচলিত আছে , হাইড্রা ছিল হ্রদের মধ্যে অবস্থিত পাতাল জগতে প্রবেশের একমাত্র দরজার পাহারাদার। হারকিউলিস হাইড্রার সাথে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে কোনমতেই তাকে কাবু করতে পারছিল না। কারণ, হাইড্রার একটা মাথা ছিল অমর। আর, অন্য ৮ টার একটা কাটলে সেখান থেকে দুইটি মাথা গজায়। তখন, হারকিউলিস জ্ঞানের দেবী এথেনার বুদ্ধিতে তার সঙ্গী লোলাউসকে দিয়ে কেটে দেয়া মাথায় নতুন মাথা গজানোর আগেই আগুনে পুড়িয়ে দিলো। এভাবে ৮টি মাথা কাঁটার পরে শুধুমাত্র অমর মাথাটি কেটে আলাদা করে ফেলে দেবী এথেনার দেয়া বিশেষ এক তরবারি দিয়ে। যে তরবারি আবার হাইড্রার রক্তে ভিজিয়ে বিষাক্ত করে নিয়েছিল।

ছবিঃ হাইড্রার সাথে লড়াইয়ে ব্যস্ত হারকিউলিস, পিছনে মশাল হাতে লোলাউস। @ গুগল।

কথিত আছে যে, হারকিউলিসের হাতে হাইড্রাকে নাস্তানাবুদ হতে হেরা বিশাল এক কাঁকড়াকে পাঠিয়েছিলেন সাহায্যের জন্যে। অবশ্য সেই কাঁকড়ার ভবলীলা সাঙ্গ করেই হাইড্রাকে হত্যা করে হারকিউলিস। হেরার বদৌলতে কাঁকড়া এবং জলদানবী, দুজনেই অমর হয়ে আছে পৃথিবীর আকাশে। ‘কন্সটেলেশন হাইড্রা’ এবং ‘কনস্টেলেশন ক্যান্সার’নামের দুই নক্ষত্রপুঞ্জের মাঝে।

কোন একসময় ভয়ংকর সব নৌদস্যুদের দখলে থাকা এই দ্বীপ এখন সারা বিশ্বের ট্যুরিস্টদের পদচারনায় মুখরিত। হাইড্রা দ্বীপের চিকণ পাথরের রাস্তায় চলাফেরার জন্যে গাধা পিঠে চড়তে না চাইলে পায়ে হেটেই ঘুরতে হবে। আমি অবশ্য ভিন্ন কারণে গাধা এড়িয়ে হাটতে শুরু করেছি। যারা এখানেই হোটেলে উঠেছে, তাদের অনেকেই সমুদ্রের স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে অনেকেই সাতার কাটছে। প্রচন্ড ইচ্ছে হচ্ছিল তাদের সাথে যোগ দিতে। কিছুক্ষণ এদিক ওদিক হাটা হাটি করে রাস্তার পাশের দোকান থেকে কিছু স্যুভেনির কিনে নিলাম। একটা ঈগলের মূর্তি চমৎকার লাগলো, না কিনে পারলাম না।

তিন দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে ছোট দ্বীপ পোরোস, আমাদের দ্বিতীয় গন্তব্যস্থান। দূর থেকেই দ্বীপের ক্লক টাওয়ার আর রঙিন বাড়িঘরের মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্যে মন কেড়ে নিলো। নামার আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এখানে এক ঘন্টা সময় কাটানো যাবে। নেমে ঘুরাঘুরি করতে ভালো লাগছে না দেখে সাহস করে অক্টোপাস খেতে দাঁড়িয়ে গেলাম, রাস্তার পাশের এক দোকানে। মুখে দিয়ে কিছু না বল্লেও চোখমুখ দেখেই দোকানি ছোকড়া ধরে ফেলেছে যে, আমার পছন্দ হয়নি। নিজে থেকেই একটা মাছ রান্না করে দিতে চাইলো। কে শুনে তার আবদার, দ্রুত কেটে পড়লাম।
ছবিঃ পোরোস দ্বীপ @ গুগল।

জাহাজে ছাড়ার পরেই লাঞ্চ দিয়ে দিল। বুফে টেবিলে হরেক রকম খাবার, বিচিত্র রং এবং অবশ্যই দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। একটু আগেই দ্বীপের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সরাসরি শুধুমাত্র চেনা খাবারে মনোনিবেশ করলাম। তবে, ফলের বাহার দেখে মুগ্ধ হয়েছি। শুধু সংখ্যা আর বিচিত্রতার কারণেই নয়, স্বাদেও অসাধারণ। অবশ্য আগেই জানা ছিল যে, ভুমধ্য সাগরের তীরবর্তী সবগুলো দেশেই সুস্বাদু ফলের প্রাচুর্য রয়েছে।

আমাদের তৃতীয় এবং শেষ গন্তব্যস্থল এজিনা দ্বীপ, তিন দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে বড়। এখানকার হারবারে বিচিত্র সব নৌকা বাঁধা। তার মধ্যে জেলেদের ছোট ছোট নৌকাও চোখে পড়লো। দ্বীপের চুড়ায় একটা মন্দির আছে, যেটা খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮০ সালে নির্মিত। ঘোড়ার গাড়ীও আছে দেখলাম। আমাদের জাহাজের একদল ঝটপট কয়েকটা ঘোড়ার গাড়ীতে উঠে পড়ল, মন্দির দেখতে যাওয়ার জন্যে। পুরো দ্বীপটাকে এক জায়গা থেকে থেকে দেখার জন্যে ঐটাই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। আমি অবশ্য রৌদ্রে ঘুরাঘুরি করার পরিবর্তে চোখের সামনে থাকা কফি শপে বসে কফি খাওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। আর, গ্রীসের মন্দিরে ধ্বংসাবশেষ ইতোমধ্যেই কিছু দেখেছি। সবই প্রায় এক রকম।


ছবিঃ এজিনা দ্বীপ @ গুগল।

কেন জানি না, দ্বীপের জীবন যাত্রা, ট্যুরিস্ট আকর্ষণের বিভিন্ন ব্যবস্থাদি আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। তবে তীব্র নীল পানির উপরে ভেসে থাকা দ্বীপগুলোকে দূর থেকে জাহাজের খোলা ডেকে বসে দেখতে অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হচ্ছিল। দ্বীপগুলোতে হাটতে হাটতে বুঝলাম, ট্যুরিস্টদের প্রায় সিংহভাগই এখানে কয়েকদিনের জন্যে গায়ের রং বদলাতে এসেছে। আমার মতো কয়েক ঘন্টার অতিথি এরা নয়। ইউরোপিয়ানরা কেন এতো স্বাস্থ্য সচেতন, সেটা উপলব্ধি করতে মোক্ষম জায়গা হলো ভুমধ্য সাগরের এই দ্বীপগুলো।
তৃতীয় এবং শেষ দ্বীপ থেকে আমরা এথেন্সে ফিরছি।

খোলা ডেকে হাটতে হাটতে ছায়ার মধ্যে একটা খালি চেয়ার পেয়ে বসে গেলাম।
গাঢ় নীল পানির উপর দিয়ে ছুটে চুলছে আমাদের জাহাজ।
পাশের চেয়ারে আগে থেকেই বসা ছিল প্রায় পঞ্চাশোর্ধ একজন পুরুষ।
আমকে জিজ্ঞেস করলো, আমি ভারতীয় কিনা?

মাস খানেক আগেও এমন প্রশ্নে অপমানিত বোধ করে বাঁকা উত্তর দিতাম। সময়ের সাথে সাথে ব্যাপারটা এখন সয়ে গেছে। ছোট করে শুধু ‘বাংলাদেশ’ বলেই পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়লাম, আমার দেশের নাম কখনো শুনেছে কিনা? এরপর বাড়তে থাকে কথাবার্তা।

কিছুক্ষনের মধ্যেই মনে করার চেষ্টা করলাম, কে এবং কোথায় বলেছিল যে, একজন ব্রিটিশ আর আমেরিকানের মধ্যে পার্থক্য বের করা খুব সোজা। দেখবে, বৃটিশ ট্রেনের ভিতরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পেপার পড়বে, তবুও পাশের যাত্রীর সাথে নিজে থেকে কথা বলবে না। অন্যদিকে, আমেরিকান পাশের যাত্রীর সাথে হাস্যরসে মেতে না উঠলেও টুকটাক কথাবার্তা শুরু করতে দেরী করবে না।

জেমস ক্যালিফোর্নিয়াতে থাকে। প্রতি সামারেই ভুমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোতে ছুটি কাটাতে আসে। একমাত্র ছেলে আছে, ইরাকে। মেয়েটি এক আফ্রিকানকে বিয়ে করেছে, থাকে দক্ষিন আফ্রিকাতে। আগে কয়েকবার গ্রিসে এলেও স্ত্রীকে ছাড়া এই প্রথম। বেচারি এবার আসতে পারেনি। তাই, তাঁর জন্যে অনেক ছবি তুলেছে। আমাকে দেখালো। প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ক্যামেরার ছবি দেখছি। ক্যামেরা পিছনে ছোট একটা স্ক্রিনে। ঝকঝকে দিনে খোলা আকাশের নিচে বসে আছি বলে, ছবিগুলো পরিষ্কার দেখার জন্যে হাত দিয়ে কিছুটা ঢেকে দেখতে হচ্ছে। সারাদিনে যে সব জায়গায় ঘুরেছে, সব জায়গার ছবিই সে তুলেছে দেখলাম। দ্বীপের কিছু ট্যুরিস্টের ছবি দেখে এই বয়সে তেমন ছবি তোলার কোন কারণ বুঝতে পারলাম না। যদিও ছবিগুলো আমার বয়সী যে কেউ পছন্দ করবে।

বিকেল নাগাদ হোটেলে ফিরে আবার বেরিয়ে পড়লাম। সাথে যা ছিল, সব হোটেলে রেখে এসেছি। এথেন্সের রাস্তায় হাটতে হাটতে কয়েকটা জায়গায় বাংলাদেশী কয়েকজনের সাথে দেখা হলো। টুকটাক জিনিসপত্র বিক্রি করছে। ট্যুরিস্টরাই তাদের প্রধান ক্রেতা। প্রথমে তারা আমাকেও তাদের মতো একজন ভেবেছিল। পরে যখন জানলো আমি আসলেই শুধুমাত্র বেড়ানোর জন্যে গ্রিসে এসেছি। তাদের অবাক হওয়ার ব্যাপারটি লুকোনোর চেষ্টা করলো না । এদিকে অনেকদিন পরে, বাংলায় কথা বলতে পেরে আমার নিজের খুব ভালো লাগছিল। কুশলাদি বিনিময়ের পরে তারা আমন্ত্রণ জানালো তাদের সাথে গিয়ে রাতের খাবারের। স্রেফ বলার জন্য যে বলছে না, সেটা আমি উপলব্ধি করতে পারছিলাম। দেশ থেকে এতো দূরে শুধু নিজের দেশের একজন বলে এতোটা আপন ভাবতে পারা শুধু বাংলাদেশের মানুষের পক্ষেই হয়ত সম্ভব।
পরেরদিনের ফিরতি যাত্রার কথা ভেবে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।

শেষ পর্বের লিংক দীর্ঘতম বাস যাত্রা (শেষ পর্ব)

মন্তব্য ২৯ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (২৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:২৬

আনমোনা বলেছেন: এ পর্বে মানুষের কথাই বেশী। ভালো লাগলো।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:১১

মাহের ইসলাম বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।
অনুপ্রাণিতবোধ করছি।

শুভ কামনা রইল, ভালো থাকবেন।

২| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৩:৫৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার ভ্রমণ কাহিনীর পোষ্টগুলো অনেকটা আপনার নিজের জন্য লেখা ডাইরীর মতো, ইন্টারেষ্টিং নয়।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:১৩

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনাকে দেখে ভালো লাগলো।
আমি আপনার সাথে একমত। আমিও ফিল করছি যে, লেখাগুলো ইন্টারেস্টিং করতে পারছি না।
অন্যদের লেখা পড়ে বের করার চেষ্টা করছি, কিভাবে আরেকটু ভালো করা যায়।

আপনার মতামতের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
শুভ কামনা রইল, ভালো থাকবেন।

৩| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৪৬

বলেছেন: নিউজপেপার পড়ছে কে -- বৃটিশ নাকি আমেরিকান -- কথাটা ক্লিয়ার না - ভেজাল আছে
ভ্রমণের উপাখ্যান অংশে লেখকের বর্ণনা ও ভাষা'র প্রয়োগ যথেষ্ট উচ্চ মার্গীয়
তবে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা - রটনা যোগ করলে ভালো হতো বৈকি।।।।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:২৫

মাহের ইসলাম বলেছেন: বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে, আমি নিজেও খেয়াল করলাম যে, আসলেই আরেকটু পরিষ্কার করা উচিৎ ছিল।
বৃটিশ ব্যক্তির চেয়ে আমেরিকানজন অন্যদের সাথে দ্রুত নিজেকে আলাপচারিতায় জড়িয়ে ফেলবে। তাই, নিউজপেপার পড়বে বৃটিশজন। এখানে জেমস নিজে থেকেই আমার সাথে কথা শুরু করে দিয়েছে। যা দেখে আমি শুরুতেই ধারনা করেছিলাম যে, সে আমেরিকান। বৃটিশ হলে, নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কথা বলতো না।

এডিট করে, ব্যাপারটা আরেকটু পরিষ্কার করে নিলাম, এখনোই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ, শুভ কামনা রইল।

৪| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৮

ইসিয়াক বলেছেন: ভালো লেগেছে।....।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:২৮

মাহের ইসলাম বলেছেন: শুভ সকাল।
আপনার কথা শুনে আমারও ভালো লাগলো।

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা।
ভালো থাকবেন।

৫| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: দেখি ৩য় পর্বে কি আছে।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:২৯

মাহের ইসলাম বলেছেন: শুভ সকাল।
আপনি ধরেই ফেলেছেন যে, এর আরো পর্ব থাকতে পারে ?
তৃতীয় পর্বই আসলে শেষ পর্ব।

ভালো থাকবেন।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।

৬| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১০:৪০

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি যখন যেই দেশ দেখটে যাবেন, সেই দেশ ও জাতির উপর ফোকাস করার চেষ্টা করবেন, কি দেখলেন!

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:০৮

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনি ভালো আইডিয়া দিয়েছেন। ইতোমধ্যেই একজন মন্তব্য করেছে যে, আমার কাহিনিতে মানুষের কথা কম বলেছি।
আমি চেষ্টা করবো, এর পর থেকে ঐ এলাকার মানুষ এবং অন্যান্য ঘটনাবলীর উপর ফোকস করার।

আবার এসে সাহায্য করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
ভালো থাকবেন, শুভ কামনা রইল।

৭| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:১০

জুন বলেছেন: প্রমোদতরীতে ভ্রমন বেশ আকর্ষনীয়ই মনে হলো মাহের ইসলাম। হাইড্রা দ্বীপে যখন গেলেন তখন গ্রীক মিথের ছয় মাথাওয়ালা বিষাক্ত নাগিনী হাইড্রার গল্পটি একটু সংক্ষিপ্ত করে লিখতে পারতেন যাকে হত্যা করেছিল মাউন্ট অলিম্পাসের দ্বাররক্ষক হেরাক্লিস ।
গ্রীস বেড়াতে যাবার সব পরিকল্পনা করেও আমাদের যাওয়া হলো না । তাইতো বলে ম্যান প্রপোজেস গড ডিসপোজেস

আপনার তৃতীয় পর্বের অপেক্ষায় .।
+

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনাকে দেখে খুশী হলাম।
আমি নিশ্চিত, আপনার গ্রীসের ভ্রমণ পরবর্তী চমৎকার গল্পের জন্যে আমাদের বেশি দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে না।

হাইড্রার গল্পটি ছোট করে দিলে আসলেই জমতো। ভুল হয়ে গেছে।
চেষ্টা করবো, এর পরে এমন ভুল আর না করতে। নিজেকে ডিফেন্ড করার জন্য বলছি না, গল্পের কলেবর ছোট করার একটা ইচ্ছা অনেক কষ্ট করে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। সেই প্রচেষ্টার বলি হয়েছে, হাইড্রার মতো আরো অন্যান্য গল্প। আসলে গ্রীসের প্রতিটা পাথরের টুকরোর সাথে আমাদের পরিচিত গল্প লুকিয়ে আছে। যেগুলো আমরা পড়েছি, ছোটবেলায়। এমনকি বড় হয়েও। আর, এখন তো রীতিমতো মুভিতেও চলে এসেছে এই মিথলজিসমূহ।

অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা রইল।

৮| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:১৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আরে মিঞা করলেন কি? আমি সেই কখন থেকে গ্রিসের কোন হেলেনের সন্ধানে খুঁজে বেড়ালাম। ভাবলাম সেরকম কিছু না জমলেও অন্তত পিনারের সাক্ষাৎ আবার পাব। সেসব না করে ক্যালিফোর্নিয়ার বুড়ো জেমসের সমাচার!!!!কেমন যেন খটাশ খটাশ লাগছে পোস্টটি।এখানে যে গ্রিক লাস্যময়ী সঙ্গে ফটোশপ করলেন তারও তো কয়েকটি দিতে পারতেন আমাদের কথা ভেবে।
যাই হোক পরের পর্বে কিন্তু একটু আমিষ চাই....

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:২৭

মাহের ইসলাম বলেছেন: হেলেনকে নিবেন নাকি আফ্রোদিতি?
তাদের বিশেষ কিছু ভাস্কর্য দেখলে কিন্তু পিনারকে তেমন ভালো নাও লাগতে পারে।
অবশ্য পিনার সেক্ষেত্রে কি করবে, বলতে পারছি না।

আপনাকে দেখে যথারীতি ভালো লাগছে। আসলেই একটু খটাশ খটাশ হয়ে যাচ্ছে। তবে, রস বাড়াতে পারছি না। গ্রীক লাস্যময়ীর ছবি যা ছিল, সেগুলো হোম মিনিস্টারের বদৌলতে নাগালের বাইরে।

অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা।
ভালো থাকবেন।

৯| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৬

শুভ্রনীল শুভ্রা বলেছেন: এথেন্সে একটা জায়গা পুরো বাঙালী পাড়া। অধিকাংশই বাংলাদেশী। বাংলাদেশী হোটেল যেখানে দেশি খাবার পাওয়া যায়। ঝালমুড়ি পাওয়া যায়। পান পর্যন্ত কিনতে পারা যায়। ওঁরা বেশ আন্তরিকও বটে। জায়গাটার নাম ওমোনিয়া। বিদেশ বিভুঁইয়ে থেকে খানিকটা সময় বাংলাদেশী আবহে বেশ ভালো লেগেছিল !
আপনি অনেক দ্বীপে ঘুরেছেন দেখছি। ভালো লাগলো এসব তথ্য জেনে। আমার ''সান্তোরিনি'' তে ঘুরবার সুযোগ হয়েছিল। বেশ সুন্দর একটা দ্বীপ।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৩৩

মাহের ইসলাম বলেছেন: কিভাবে কিভাবে যেন ঐ বাঙালি পাড়াটা মিস করেছি।
আপনার কথা শুনে আফসোস হচ্ছে। কারণ, বিদেশের দেশের মানুষের আন্তরিকতা সারা জীবন মনে রাখার মতো।

আমি সান্তোরিনি দেখিনি। তবে, অনলাইনে সান্তোরিনি'র চমৎকার কিছু ছবি দেখেছি। খুবই সুন্দর।

অনেক অনেক ধন্যবাদ। শুভ কামনা রইল।
ভালো থাকবেন।

১০| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:০২

পুলক ঢালী বলেছেন: পৌরানিক কাহিনীর সাথে মিল রেখে সেই দ্বীপে ভ্রমন সহ পুরো ভ্রমন কাহিনীই বেশ ভাল লাগলো। সমালোচনায় কান না দিয়ে নিজের মত করেই লিখতে থাকুন। ভাল থাকুন।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৩৬

মাহের ইসলাম বলেছেন: অনুপ্রাণিতবোধ করছি।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সমালোচনায় কান দিতে না চাইলেও কানে কথা চলে আসে। আর, যেহেতু লেখার মান আরো ভালো করার ইচ্ছেটা প্রবল, তাই পাঠকের মতামতে গুরুত্বও দেই। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, এক্ষেত্রে আরেকটু যত্নবান হতে হবে।

শুভ কামনা রইল, ভালো থাকবেন।

১১| ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৩৮

শুভ্রনীল শুভ্রা বলেছেন: মেট্রোস্টেশনে টিকেট কাটতে গিয়ে আমার বরের সাথে একজন বাংলাদেশির পরিচয় হয়েছিল। উনার মাধ্যমেই ওই এলাকার খোঁজ পেয়েছিলাম। নয়ত আমরাও মিস করতাম। জেনেছিলাম, সবগুলো দ্বীপের মধ্যে সান্তোরিনি ই বেশি আকর্ষণীয়। তাই আমরা সান্তোরিনি তে সময় কাটিয়েছি।
আপনার লেখালেখির জন্য অনেক শুভকামনা।

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৯

মাহের ইসলাম বলেছেন: কষ্ট করে আবার এসেছেন, দেখে অনেক ভালো লাগলো।
অসংখ্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

আপনিও কিছু কিছু গল্প শেয়ার করতে পারেন। না হয়, ছোট করেই লিখলেন?
আপনার শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।

১২| ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২০

মা.হাসান বলেছেন: মনাস্ত্রিয়াকি মেট্রোর আশে পাশে বড় বাংলাদেশি মার্কেট এলাকা , প্রচুর বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, পাকি আছে।

আপনার এই লেখাটা আগের লেখা গুলোকে অতিক্রম করতে পারে নি , আপনি কি বিষন্নতায় ভুগছেন? পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৮

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনাকে দেখে ভালো লাগলো।
আর, খুব খুশী হয়েছি আমার মন্তব্যে - "এই লেখাটা আগের লেখা গুলোকে অতিক্রম করতে পারে নি"।
অনেক অনেক ধন্যবাদ। বিদগ্ধ পাঠকের কিছু মন্তব্যে আমি বুঝতে পেরেছি যে, এবার তেমন ভালো হয়নি। তবে, আনমোনা, চাঁদগাজী, ল, জুন প্রমুখের কথার সুত্র ধরে দুর্বলতা বের করার চেষ্টা করছি।

বিষন্নতায় ভুগছি না।
তবে, তাড়াহুড়ো করেছি।
ইচ্ছে করছে, বই মেলায় এবারও একটা বই প্রকাশের। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত যে কয়টা লেখা হয়েছে, তা দিয়ে গ্রহণযোগ্য সাইজের বই হবে না। কিন্তু লেখা এগিয়ে নিতে পারছি না।

আবারও অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
শুভ কামনা রইল।

১৩| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:০২

করুণাধারা বলেছেন: চমৎকার হয়েছে!

ভ্রমন কাহিনী যদি কেবল দর্শনীয় স্থানের বর্ণনা দিয়ে ভরা থাকে, তবে পড়তে একসময় একঘেয়ে লাগে। যেভাবে দ্বীপের বর্ণনা, দ্বীপ নিয়ে গ্রীক মিথলজি আর কিছু মানুষের বর্ণনা দিয়েছেন- সবকিছু মিলেমিশে চমৎকার হয়েছে; একবার শুরু করলে শেষ করে ওঠা যায় না। অনেক আগেই পড়েছিলাম, কিন্তূ তারপর কিছু অনভিপ্রেত ঘটনায় মন খারাপ ছিল। তাই মন্তব্য করতে দেরী হয়ে গেল।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৫৬

মাহের ইসলাম বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আমিও মনে করি যে, ভ্রমণ কাহিনিতে বেশি বর্ণনা বিরক্তিকর মনে হয়।
তবে, ভয় পাচ্ছি - একেবারে কম বর্ণনা দিলে, পাঠক আবার ভ্রমনের মজা মিস করে ফেলে কিনা !!

দেরীতে হলেও সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য খুশী হয়েছি।
শুভ কামনা রইল। ভালো থাকবেন।

১৪| ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:০৩

আখেনাটেন বলেছেন: চাঁদগাজী বলেছেন: আপনি যখন যেই দেশ দেখটে যাবেন, সেই দেশ ও জাতির উপর ফোকাস করার চেষ্টা করবেন, কি দেখলেন! -- এটা উনি একটি দুর্দান্ত কথা বলেছেন। আমরা ভ্রমণে গেলে এই জিনিসটা অনেকেই ভুলে যাই। শুধুমাত্র লাক্সারী ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে আর দেখি না।

তবে আপনার লেখা অতি উত্তম নানা আঙ্গিকে আমার মতে। সাথে যদি একটু হিউমার থাকে...তবে খাপের খাপ ময়জুদ্দির বাপ... :-P

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৭

মাহের ইসলাম বলেছেন: শুধু চাদ্গাজীর কথা কেন?
আপনার নিজের কথাও আমি অনেক মুল্যবান মনে করি।

আমার এক বন্ধু , আমাকে বলেই দিয়েছে যে আমার গল্পের মধ্যে মানুষের উপস্থিতি আরও বাড়াতে হবে।
আমি নিজেও ফিল করি যে, লেখায় আরো 'লাইফ' আনতে হবে। স্রেফ ধারা বর্ণনা শুনতে পছন্দ করবে না কেউ।
সেই জন্যেই বলছি যে, আপনি ;হিউমার' ইস্যুটা যথার্থই সামনে তুলে ধরেছেন।

চেষ্টা আছে, পাঠক আকৃষ্ট করার মতো কিছু লেখার। দোয়া করবেন।

শুভ কামনা রইল।

১৫| ২৩ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৪৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার কাছেও মনে হয়েছে, পোস্টের কলেবর একটু হ্রস্বই হয়ে গেছে। তবে আমি পুলক ঢালীর সাথে কন্ঠ মিলিয়ে কিছুটা ভিন্নভাবে বলতে চাই, সমালোচনায় কান দিন, তবে তা থেকে যতটুকু নেয়ার তা নিয়ে নিজের মত করেই লিখতে থাকুন
গ্রীক মাইথলজী সম্বন্ধে আমার তেমন কিছুই জানা নেই। তাই হাইড্রা আর হারকিউলিস এর যুদ্ধটার বর্ণনা ভীষণ উপভোগ করেছি।
এর আগের পর্বে রাখা আমার মন্তব্যটার জবাব কিন্তু এখনো পাই নি!
এ পোস্টেও প্লাস + +।
আপনি তো পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে লিখেন। তাই একটা ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্সের লিঙ্ক পাঠালাম, হয়তো আপনার লেখায় কোন কাজে আসতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.