নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই।

মুজিব রহমান

মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ

মুজিব রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

তসলিমা: নারী-স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করা এক নারী

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪০


নারী নেতৃত্ব ও নারীর ক্ষমতায়নের উপর দুটি গবেষণা কর্মে যুক্ত ছিলাম। নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণায় একজন নারী অধ্যাপকের সাথে কাজ করেছি যাতে সহযোগিতা করেছিলেন কানাডিয়ান মিজ অ্যান। দ্বিতীয় কাজটি করেছিলাম ‘স্টাডি এন্ড রিসার্চ গ্রুপ’ এর পক্ষ থেকে। তাতে ফল এসেছিল, যে সকল এলাকায় এনজিওদের প্রভাব বেশি তাতে নারীরা অধিক হারে ভোট দেয়, অধিক হারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে তারা নেতৃত্ব দেয়। উত্তর বঙ্গে সাইকেল চালানো এক ছাত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ‘অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পেলে’? সে এনজিওতে কর্মরত তার বোনের কথাই বলেছিল যে বোন- এনজিওতে চাকরি করে সাইকেল চালায়। তৃণমূলের দরিদ্র নারীদের কর্মমূখি করতে এনজিও বড় ভূমিকা রাখে। দুএকটি ব্যর্থতা থাকলেও অসংখ্য নারী সংগ্রাম করে পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করেছে এনজিওর সহযোগিতাতেই। ওই সব পরিবার থেকে উঠে আসা বহু নারীই আজ উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে আরো সাবলম্বী হয়েছে। এমন একটি মেয়ের সাথে চাকরি করেছি যার মা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ছাগল পেলে তাকে পড়িয়েছে এবং আজ সে ভাল একটি চাকরি করছে। মেয়েটি যথারীতিই দাবী করে তার আদর্শ তসলিমা। তসলিমা নাসরিনের বই পড়েই সে অনুপ্রাণিত হয়েছে স্বাধীন হতে। গত কয়েক যুগে বহু নারীই আমাকে বলেছেন, তাদের আদর্শ বা প্রিয় লেখক তসলিমা নাসরিন।

গত শতাব্দীর সত্তর/আশির দশকেও নারীরা লেখাপড়া করতো ভাল একটি বিয়ে হওয়ার জন্য। মেয়েরা নাইন-টেনে উঠলেই সাধারণত বিয়ে হয়ে যেতো। আমার সহপাঠীদেরও হয়েছে। কিছু মেয়ে কলেজে পড়তো। এর বাইরে যারা আরো পড়াশোনা করতো তাদের মধ্যেও সাবলম্বী হওয়ার উচ্চাশা ছিল না। বিয়ের পরে যদি স্বামী অনুমতি দিতো বা অনুরোধ করতো তখনই তারা চাকরির কথা ভাবতেন। শাখাওয়াৎ সাহেব যদি রোকেয়াকে এগিয়ে না দিতেন তবে তিনি বেগম রোকেয়া হয়ে উঠতেন না। তসলিমা নাসরিনই নারীদের মধ্যে একটি বার্তা দিতে সক্ষম হন, ‘হে নারী তোমার শরীর তোমার অধিকার। তুমি সাবলম্বী হও এবং নিজেকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করো’। তসলিমা নিজের এমন একটি ভাবমূর্তি দাঁড় করান যে, তিনিই নিজেই নারী-মুক্তির প্রতীক। এখনো তসলিমা নাসরিন নামটি উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথেই মনে আসে নারী স্বাধীনতার কথাই। উত্তর বঙ্গে আমার একজন বান্ধবী ছিলেন। মেয়েটি খুবই মেধাবী ও সুন্দরী- চারটিই প্রথম বিভাগ/শ্রেণি। তসলিমার লেখা দ্বারা ভীষণভাবে উদ্বেলিত ছিলেন। নিজে চাকরি করতেন, সমাজ ভাঙ্গার চেষ্টা করতেন। তসলিমার লেখাগুলোকে কাছে রাখতেন ধর্মগ্রন্থের মতো করে। এ সময় ঢাকায় একটি মেয়ের সাথেও ঘণিষ্ঠতা হয় তারও একই রকম রেজাল্ট- একটি বিদেশি সংস্থায় চাকরি করতেন। তারা তসলিমার চোখ দিয়ে দেখা শুরু করেছিলেন। তারা নিজেরা বয়ফ্রেন্ড/স্বামী পছন্দ করে নেয়ার কথা ভাবতে শেখেন, যৌনতা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। পাবনাতে একজন তসলিমা ভক্তকে দেখেছি যিনি আমাদের তাঁর স্বামীকে পাশে নিয়ে, পেশোয়ারের সেই নাতনির গল্প শোনান। তীব্র শীতে শিশু মেয়েটি, তার ভাইয়ের মতো জানালা দিয়ে হিসি করার আবদার করে। দাদু বলে, তুমি পারবে না কারণ তোমার ওটা নেই। বালিকাটি বলে, কেন আমার নেই, আমার কবে হবে? সে কান্না শুরু করে...

ড. ইউনুসের সাথে তসলিমার তুলনা করাতে অনেকে কষ্ট পেয়েছেন। হয়তো সালমান রুশদীর সাথে তুলনা করলে খুশি হতেন। মৌলবাদীরা দুজনেরই মাথার দাম ধরেছিলেন। দুজনেরই ধর্ম বিশ্বাস দেখা যায় নি। এছাড়া দুজনের মধ্যে মিল কমই ছিল। আরেকটি মিল অবশ্য আছে- বাংলাদেশে দুজনের বিরুদ্ধেই সমভাবে আন্দোলন হয়েছে। সম্ভবত এ সময় বিশ্বজুড়েই মানুষ তাদের নাম একসাথে উচ্চারণ করতো। রুশদী যত বড় লেখক নারী স্বাধীনতার জন্য তার তেমন কোন ভূমিকা দেখিনি। বরং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী তার বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগই এনেছিলেন। বাংলাদেশে তসলিমার সাথে মিল ছিল হুমায়ুন আজাদের। কিন্তু একই পত্রিকায় একই সময়ে কলাম লিখতে গিয়ে তাদের মধ্যে উল্টো বৈরিতা তৈরি হয়। বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে বৈরিতা নতুন কিছু নয়। আমরা হুমায়ুন আজাদের সাথেই আহমদ ছফা ও সৈয়দ শামসুল হকের বৈরিতা দেখেছি। সাম্প্রতিক সময়েও কয়েক সাহিত্যিকের মধ্যে তীব্র বৈরিতা দেখছি। তসলিমার বিপক্ষের লোকেরা তাঁর উপরে আক্রমণ চালাতেন বহুমাত্রিকভাবে। সাহিত্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাথে সাথে তার নাস্তিকতা নিয়ে মূল আঘাতটি হানতেন। তাঁর তথাকথিত বন্ধুরাও এ কর্মটি করেছেন। ফলে উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধ শ্রেণির রোষের মুখে পড়েন তিনি।

এক বন্ধু বললেন, তসলিমার ভুল নিয়ে লিখতে। সহজই বিষয়টি। তিনি পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলার সাথে সাথে, ইসলামের প্রবর্তক ও ধর্মীয় গ্রন্থকে তীব্র কটাক্ষ করে কথা বলেছেন। এর প্রতিক্রিয়া সামলানোর অবস্থা তখনও সৃষ্টি হয়নি। তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। একটা দিক ভাল ছিল যে, তখন তিনি ছিলেন সিঙ্গেল অর্থাৎ একে একে তিনি তার সর্বশেষ তিন নম্বর স্বামীকেও ছেড়েছেন। নারীরা এ বিষয়টিও গ্রহণ করেছেন। আজকাল অনেক পুরুষই হাহাকার করেন যখন দেখেন ঢাকায় ডিভোর্স দেয় নারীরাই বেশি। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাবলম্বী মেয়েরাই বেশি ভূমিকা রাখেন। তাদের চেতনা পুরুষরা ধারণ করতে পারে না। পুরুষরা এখনো মনে করে বসে থাকে- সব নারীই তাদের পদানত থাকবে, চোখের ইশারায় উঠবে বসবে, মুখের উপর কথা বলবে না ইত্যাদি। কিন্তু একজন সাবলম্বী ও অগ্রসর চিন্তার নারী- দাসী হয়ে থাকতে চায় না। আমার চোখে এটাকেও সাফল্য মনে হয়। একজন তসলিমা ভক্ত নারীর সাথে চাকরি করেছি। তাঁর স্বামী তাকে চাকরি ছাড়ার জন্য চাপ দেয়। সে সরাসরি স্বামীকে বলে দেয়, ‘তোমাকে ছাড়তে পারি তবুও চাকরি ছাড়বো না’। স্বামী তাকে মারপিট করার হুমকি দিলে, ‘সেও পাল্টা বলে দেয়, একটা থাপ্পর দিলে আমিও একটা দিবো’। এরপর থেকে তাঁর স্বামী চুপসে যায়। মেয়েটি এমন সাহস কোথায় পেয়েছে? এর নেপথ্যে রয়েছে সেই তসলিমা নাসরিনই।

লেখাটির শিরোনাম দিতে চেয়েছিলাম, ‘আপোষহীন তসলিমা!’ তখনই মনে হলো এই অভিধাটি খালেদা জিয়ার অনুসারীরা ব্যবহার করেন। খালেদা জিয়া এরশাদের দেয়া দুটি নির্বাচনই বয়কট করে আপোষহীন তকমা পেলেও তাকে অসংখ্যবারই আপোষ করতে হয়েছে। তাঁর বিরোধীরা বলেন, এবারও তিনি আপোষ করেই জেলের বাইরে এসেছেন’। এক্ষেত্রে বাস্তবিক তসলিমা নাসরিনই কোনরূপ আপোষ করেন নি। আর এই আপোষ না করাটাই তাকে নারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। আর নারীরা নিজেরাও আপোষহীন, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও স্বাধীন হয়ে উঠতে লড়াই করছেন। নারী স্বাধীনতা ও নারী প্রগতির জন্য তিনি এক আমরণ লড়াই করে যাচ্ছেন। আজ বাংলায় তিনি মৌলবাদীদের দাপটে থাকতে পারছেন না। তবুও তিনি কোন না কোনভাবে তার বক্তব্য একইভাবে প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এখনো তিনি কলাম লিখছেন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন। এখনো সিঙ্গেলই রয়েছেন, চলছেন স্বাধীন ভাবে। তাঁর জীবনও নারীর জন্য এক শিক্ষা।

তসলিমার বেপরোয়া ব্যক্তিত্ব ছিল - Click This Link
তসলিমার শত্রু কি তাঁর সাহস না সত্য বলা? - Click This Link

মন্তব্য ৫৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:০৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন?
বাংলাদেশের মেয়েরা তসলিমাকে কোনভাবে অনুসরণ করার মতো কিছু আছে?

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:০৯

মুজিব রহমান বলেছেন: গবেষণা মানে হল-
প্রশ্নপত্র তৈরি করা, লোক নিয়োগ করা, সারাদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা, সেগুলো থেকে তথ্য সাজানো, গবেষণা পত্র তৈরি করা ও প্রকাশ করা। জটিল/কঠিন কিছু নয়। দুটি কাজই করেছিলাম- ইউএসএইডের ফাণ্ডে।

যারা অনুসরণ করে তাদের চোখ দিয়ে দেখুন।

২| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:০৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




বিচিত্র কারণে আমার মনে হচ্ছে আপনিই তসলিমা নাসরিন। আর সত্যি সত্যি আপনি তসলিমা নাসরিন হয়ে থাকলে আপনি শফিক রেহমান স্যারকে ভালোভাবে জানেন, ভালোভাবে জানেন কবি ও মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদ স্যারকে, আর আমি ঠাকুরমাহমুদকেও। রফিক আজাদ স্যার নেই। ব্লগে শফিক রেহমান স্যারও নেই। কিন্তু আমাকে কম ভাবার কারণ আছে বলে মনে হয় না।

তাছাড়া আমি যতোটুকু জানি, তসলিমা নাসরিনের সামহোয়্যারইনে নিক আছে, তিনি সাধারণত লগইন না করেই বাংলাদেশ সময় রাত ০৯:০০ - ১০:০০ টার দিকে ব্লগে লেখাটেকা পড়েন।

তসলিমা নাসরিন একই সাথে অতি চালাক ও লোভী ছিলেন। আপনি বুদ্ধিমান মানুষ। আশা করি বুঝেছেন আমি কি বলেছি।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:১৫

মুজিব রহমান বলেছেন: দুঃখিত। ইংরেজিতে Mojib Rahman নামে আমার ফেসবুক আইডিও রয়েছে। এ নামেই লিখি। ডিসেম্বর সংখ্যায় নতুন দিগন্তেও লেখা প্রকাশিত হয়েছে এ নামেই। জাতীয় দৈনিকেও বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত (কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প) হয়েছে এ নামেই।

কবি রফিক আজাদকে সকলেই চিনেন। তিনি প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধাও। শফিক রেহমানের যায়যায়দিনে লিখেছি এক সময়।

একমত হওয়া কঠিন যে, তিনি অতি চালাক ও লোভী ছিলেন। তিনি লেখক হতে চেয়েছিলেন, দেশ ছাড়তে নয়। চালাক হলে দেশ ছাড়তে হতো না। তিনি ডাক্তার। সে পেশাতেই তিনি সুখে শান্তিতে থাকতে পারতেন আরেকজন ডাক্তার বিয়ে করে। লোভ করে কি পেয়েছেন?

৩| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:১৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ব্লগিং করতে হলে পোস্ট দিয়ে হাপিস হয়ে গেলে হয় না। মন্তব্য উত্তর দিতে হয়। যেদিন ব্লগিং আয়ত্ব করতে পারবেন সেদিন জানাবেন আপনার সাথে ব্লগিং করবো। আপনি আজকে যেই পোস্ট দিয়েছেন পোস্ট পড়ে মনে হচ্ছে আপনি কুয়াতে বসবাস করেন। ভুল বলেছি কুয়া এখন বিলুপ্ত প্রায়। এখন গর্ত খানা খন্দ আছে।

আপনার পোস্টের প্রসঙ্গিক মন্তব্য করে তিনদিন পর উত্তর পেলে মন্তব্য করা সময় অপচয় ও ব্লগিং না বলে বলতে হবে অপব্লগিং।
তাৎক্ষনিক মন্তব্য উত্তর করার মতো মন মানসিকতা যেদিন হবে - আসবেন, ওয়েলকাম।


০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:১৮

মুজিব রহমান বলেছেন: দুঃখিত।
আগের পোস্টটির ৫টি মন্তব্যের জবাব ও আরেকজনের একটি লেখার মন্তব্য করতে সময় লেগেছে। বাস্তবিক ব্লগে ঘন্টা খানেক সময় দিতে পারি- যার মধ্যে লিখতেই সময় চলে যায়। যেদিন কম লেখা হয় সেদিন অন্যের পোস্ট পড়ার সুযোগ পাই।

৪| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:১৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



লেখক বলেছেন, " গবেষণা মানে হল-প্রশ্নপত্র তৈরি করা, লোক নিয়োগ করা, সারাদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা, সেগুলো থেকে তথ্য সাজানো, গবেষণা পত্র তৈরি করা ও প্রকাশ করা। জটিল/কঠিন কিছু নয়। দুটি কাজই করেছিলাম- ইউএসএইডের ফাণ্ডে। "

-এগুলো হলো: কোন বিষয়ের উপর ডাটা কালেকশান, ডাটা এনালাইসিস; ইহা গবেষণা নয়, গবেষণার অংশ।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২১

মুজিব রহমান বলেছেন: গবেষণার অংশকে কি বলবো?
বলতে পারেন গবেষণার অংশ। বলতে পারেন ফালতু কাজ। তবে দুটো কাজ করতেই আমার অনেক সময় লেগেছে। নিজেই প্রোগ্রাম বানিয়েছি। অবশ্য বলতে পারেন ওটাকে প্রোগ্রাম বলে না বলে, ডাটা এন্ট্রির ব্যবস্থা। জি এগুলো খুবই অর্থহীন ও ফালতু কাজ। যা খুশি বলুন।

৫| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:





তসলিমা নাসরিন মুুজিব রহমান নাম দিয়ে আমার ছাপাখানাতে লেখা দিলে আমিও ছাপাবো, পত্রিকা বিক্রি দিয়ে কথা। - কি বুছলেন?


তাঁর জীবনও নারীর জন্য এক শিক্ষা। - তসলিমার জীবন নারীর জন্য শিক্ষা!? ব্লগে কম করে হলেও ২০০ নারী ব্লগার একটিভ আছেন। ব্লগে আপনি জিগ্যাসা করুন কোন নারী চাইছেন তাঁর জীবন তসলিমার মতো হোক? যতোটুকু জানতে চাই তার উত্তর দিন এস্কেপ করবেন না প্লিজ।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৪

মুজিব রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ। এমন অনেক নারীর দেখা আমিই পেয়েছি। তাদের কজনের কথাইতো লিখলাম।

তসলিমাকে নিয়ে লেখা বর্তমানে কোন কোন পত্রিকা ছাপে? বাংলাদেশ প্রতিদিন ছাড়া আর কোন পত্রিকাতো তসলিমার লেখা ছাপে না। তসলিমাকে নিয়ে মাঝে মধ্যে ব্লগে ও ফেসবুকে লেখা হয়। যদি তসলিমাকে নিয়ে লেখা অহরহ ছাপা হয় তবে তো খুবই আশার কথা।

৬| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৯

শাহ আজিজ বলেছেন: আমি তার কিছু ছোট লেখা পড়েছি । সাধারন অনেকের মত মনে হয়েছে । নারী স্বাধীনতার কথা জোর দিয়ে কিছু উস্কানি মুলক শব্দে পাঠককে আগ্রহী করেছেন । ডাক্তারি পড়েননি , পাবলিক লাইব্রেরির ক্যান্টিনে রুদ্রর সাথে গুলতানি করে সময় কাটিয়েছেন । আপনি সাল্মান রুশদির লেখা ইংরেজি বই পড়েছেন ? জানাবেন কেমন ।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০২

মুজিব রহমান বলেছেন: রুশদীর বাংলা অনুবাদে মিডনাইট চিলড্রেন পড়েছি। গুলের বাদশা পড়েছি। আর কি পড়েছি মনে পড়ছে না। ইংরেজিতে তাঁর কোন বই পড়িনি। স্যাটানিক ভার্সেস পড়ার সুযোগ পাইনি।

তিনি ডাক্তারি পাসই করেছেন। প্রাকটিসও করেছেন।

৭| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৩৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ভুল। তসলিমা লেখক হতে চাননি, তসলিমা ডাক্তারও হতে চাননি। তিনি বিজনেস করতে চেয়েছেন। তিনি বই বিক্রি করার সবচেয়ে টাফ পন্থা অবলম্বন করে দেশ ছাড়া হয়েছেন। বাংলা ভাষায় কোনো নারী লেখকের এতো বই বিক্রি হয় নি। দস্যু বনহুর সিরিজের জনক রোমানা আফাজও এতো বই বিক্রি করতে পারেনি। আপনি কোন দেশে আছেন?

তসলিমা নাসরিনের লোভ তাকে আজ এই পর্যায়ে এনেছে।

তসলিমা কোনো গল্প সাহিত্য কবিতা লিখে এতো বই বিক্রি করতে পারতেন? - তার লেখার মান কি ব্লগে জিগ্যাসা করুন।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫০

মুজিব রহমান বলেছেন: নারীরা তাঁর লেখা বিপুলভাবেই গ্রহণ করেছে এবং নিজেদের জীবন পাল্টে নিয়েছেন। এদেশে বই বিক্রি করে বিজনেস করার কোন নজিরই যেখানে নেই সেখানে ডাক্তার হলেই গাড়িবাড়ির মালিক হওয়া যায় সে সহজ পথ ছেড়ে কেন ঝুঁকির পথে আসবেন তা কারোরই বোধগম্য হবে না।

তাঁর লেখার মান নিয়ে প্রশ্নতো উঠেই। হুমায়ূন আহমেদের লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে। হুমায়ুন আজাদের লেখার মান েনিয়েও প্রশ্ন উঠে। প্রশ্ন উঠেনা আখতারুজ্জামান েইলিয়াসের লেখা নিয়ে। দেশে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস পঠিত হয় না। তাঁর বই যতটা বিক্রি হয় ততটাও পঠিত হয় না। শুধু ধান্ধা দিয়ে বই বিক্রি করা মুশকিল তাও চিকিৎসা পেশার চেয়ে বেশি করে।

ইসলামের পক্ষে লিখলেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। মরিস বুকাইলির আবর্জনা ‘বাইবেল বিজ্ঞান কোরআন’ দেখুন কত কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। বাংলাবাজারের ইসলামি টাওয়ারে যান দেখেন কত বই বিক্রি হচ্ছে।

৮| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




একমত হওয়া কঠিন যে, তিনি অতি চালাক ও লোভী ছিলেন। তিনি লেখক হতে চেয়েছিলেন, দেশ ছাড়তে নয়। চালাক হলে দেশ ছাড়তে হতো না। তিনি ডাক্তার। সে পেশাতেই তিনি সুখে শান্তিতে থাকতে পারতেন আরেকজন ডাক্তার বিয়ে করে। লোভ করে কি পেয়েছেন?

বাংলাদেশের কয়জন লেখক দেশাছাড়া হয়েছেন? দেশে কি বৃটিশরাজ চলছে যে তেপান্তর দিবে? সততার সাহস থাকে একজন লোভী ও মিথ্যাবাদির সাহস থাকার কোনো কারণ নেই। - সে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কিন্তু বইয়ের রয়ালটি ঠিক তার ব্যাংকে পাচার হয়েছে। - টাকা পাচারের এই জবাব কে দেবে প্রকাশক নাকি তসলিমা?

এই দেশে একমাত্র তসলিমা একজন ডাক্তার যিনি লেখক! এই দেশে আর কোনো ডাক্তা্র লেখালেখি করেননি? লোভ করে তিনি বিখ্যাত হতে চেয়েছিলেন কিন্তু সময়ে তিনি কুখ্যাত হয়ে গেছেন।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৬

মুজিব রহমান বলেছেন: দেশ ছেড়েছে এমন লেখকের সংখ্যা কম নয়। হুমায়ুন আজাদের পুত্র অনন্য আজাদও হুমকির কারণে দেশ ছেড়েছে। দাউদ হায়দার দেশ ছেড়েছে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে। আসিফ মহিউদ্দিন সহ ব্লগার হত্যার সময়ে অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। চূড়ান্ত হুমকিতে চৈতি দেশ ছাড়লো।

তসলিমার বইর রয়্যেলিটি কে দিবে? দেশেতো তাঁর আত্মজীবনী সবই নিষিদ্ধ। উপন্যাস ও নির্বাচিত কলাম যে যেভাবে পারছে ছাপাচ্ছে। তসলিমার মতো আর কোন ডাক্তার এতোটা জনপ্রিয়তা পাননি। এমনকি অন্যের জন্য নিজের জীবনকে এতোটা ঝুঁকিপূর্ণও করেননি।

তিনি কুখ্যাত হয়েছেন মৌলবাদীদের কাছে। কোন মানবিক মানুষের কাছে তিনি কুখ্যাত নন, বিখ্যাতই।

৯| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আমার মন্তব্য উত্তর দেননি। তাঁর জীবনও নারীর জন্য এক শিক্ষা। - তসলিমার জীবন নারীর জন্য শিক্ষা!? ব্লগে কম করে হলেও ২০০ নারী ব্লগার একটিভ আছেন। ব্লগে আপনি জিগ্যাসা করুন কোন নারী চাইছেন তাঁর জীবন তসলিমার মতো হোক?

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০০

মুজিব রহমান বলেছেন: ব্লগের চেয়ে বাস্তব নারীই সবচেয়ে যৌক্তিক উদাহরণ। এখন এই ব্লগ দেখুন বহু মৌলবাদী--ধর্মান্ধ লোকে ভরপুর। কোন মৌলবাদী কোন নারীর বেশ ধরে বসে আছে তা বুঝবো কিভাবে? আমি ধর্মের বিরুদ্ধে কিছুই লিখি না। আমি পরিচিত কোন লেখকও নই। তবুও পুলিশ ডেকে দেশ ছাড়তে বলে। এ কারণে ভয়ে প্রগতিশীলরা তেমন ব্লগিংও করেন না। বহু বন্ধুকেই ভয়ে থেমে যেতে দেখেছি। নিজেকে তারা প্রকাশ করেন না। আপনি যে ২০০ নারীর কথা বললেন তাদের কাছে যাওয়ার আগে আমিতো আমার পরিচিত জনদের কাছেই গিয়েছি, তাদের কাছ থেকেই তথ্য পেয়েছি।

১০| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




পুরুষতন্ত্র - শব্দটি লম্পটদের তৈরি।

কিন্তু একজন সাবলম্বী ও অগ্রসর চিন্তার নারী- দাসী হয়ে থাকতে চায় না। একজন নারী তখনই দাসী হবেন যখন সে তার নিজ স্বামীকে দাস মনে করেন। রাজার বউ রাণী আর দাসের বউ দাসী।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০৭

মুজিব রহমান বলেছেন: পুরুষতন্ত্র শব্দটি বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত। আপনি একে উড়িয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখেন না, কোন যুক্তিও নেই। লম্পটরাই নিজের ভিতরে পুরুষতান্ত্রিক চেতনাকে পুষে রাখে। রাজার বউ রানী ঠিকই কিন্তু হেরেমের মেয়েরা যাদের রাজা ভোগ করেন, তাদের কি রানী বলবেন? প্রয়োজনে ব্যকরণ মানছেন। বাংলার গৃহে নারীরা স্বাধীনতা শব্দটির কথা চিন্তাও করতে পারতো না। কেবলই বলতো- নারী হয়ে জন্মেছি, মাথা পেতে নিতে হবে। নারী স্বাধীনতা শব্দটি তসলিমাই জোরালো করেছে। নারীরা আজ যখন নিজেদের মানুষ মনে করে এগিয়ে যাচ্ছে তখন অনেকেরই কষ্ট থাকবে।

১১| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০৮

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: তসলিমা সম্পর্কে দুই ধরনের মতামত দেখা যায়।যে যেমন তার ব্যাখ্যাও তেমন।প্রগতিশীলরা এক ধরনের ব্যাখ্যা করে,প্রতিক্রিয়াশীলরা করে অন্য ধরনের।দুটি ব্যাখ্যাই ঠিক তাদের দৃষ্টি কোন থেকে।
নারী মুক্তি বা শোষণ মুক্তির জন্য বলতে হলে আপনাকে ধর্মের বিষয়ে আসতেই হবে।কারন ধর্ম শোষণের হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে।আজাদ সাহেবও তাই করেছেন,শরীফ সাহেবও তাই করেছেন।সমস্ত প্রগতিশীলরাই তাই করে।
মডারেট মুসলিমরা নিজেদের প্রগতিশীল মনে করে,কিন্তু মূলত তারা প্রতিক্রিয়াশীল।তাদের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রতিক্রিয়াশীল হতে বাধ্য।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৫২

মুজিব রহমান বলেছেন: অন্ধ বিশ্বাস দিয়েতো কোন যৌক্তিক বিবেচনা করা যায় না। বিজ্ঞানমনস্কতা দিয়েই বিবেচনা করতে হবে।

১২| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:১৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




তসলিমা নাসরিন সিঙ্গেল? - ইমিগ্রেশন ফর্মে সিঙ্গেল/ম্যারিড/ডিভোর্স/বিধবা অপশন থাকে। এখন বলুন তসলিমা কি?

গত শতাব্দীর সত্তর/আশির দশকেও নারীরা লেখাপড়া করতো ভাল একটি বিয়ে হওয়ার জন্য। - সত্তর আর আশির দশকে বাংলার ছেলেরা একটা চাকরির জন্য আত্মহত্যা করেছে। এখন আত্মহত্যা করে?

কিছু মনে করবেন না। আপনি পোস্ট লিখতে অনেক শ্রম দিয়েছেন কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আপনার পোস্ট ভুলে সয়লাব। আপনারা বিশাল ভুলে বসবাস করছেন। তসলিমা নিয়ে মন্তব্য করলেই হয়ে যাবে মৌলবাদ মোল্লা ওমর, ওসামা বিন লাদেন।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪৬

মুজিব রহমান বলেছেন: বৃটিশ বা পাকিস্তান আমলেও চাকরি কঠিনই ছিল। এখনতো বেসরকারী খাত ডেভেলপ করেছে, সরকারী খাতও বেড়েছে জনসংখ্যার তুলনায়। পুরাতন সিনেমাগুলোতেও চাকরির সংকট দেখা যায়। অনেকের আত্মজীবনীতেও তা পাবেন। এমএ পাশ করে চাকরি না পেয়ে বহু লোকই স্কুলে শিক্ষকতা করেছে নাম মাত্র বেতনে।
তিনি ডিভোর্স দিয়েছেন বলে ডিভোর্সডই লিখবেন।

১৩| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:২৫

স্থিতধী বলেছেন: আপনার তসলিমা নাসরিন বিষয়ক লেখাগুলো যে জায়গাতে হোঁচট খাচ্ছে সেটা হচ্ছে, এই লেখাগুলোতে মূল প্রসঙ্গ খুব অবিন্যস্ত, বিক্ষিপ্ত; লেখাগুলো অনেকটাই ধর্ম ভক্ত লেখকদের মতো করে লেখা এক পাক্ষিক ধার্মিক বয়ানের মতো লাগছে । ফলে আপনি মূল পয়েন্ট ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারছেন না, মূল পয়েন্ট হিসেবে যা বলছেন বলে আপনি ভাবছেন তা ভক্তির বানীর মতো শোনাচ্ছে, যুক্তির নয় ।

বাংলাদেশের সকল শিক্ষিত স্বাধীন পুরুষের অন্তরের “আদর্শ পুরুষ” কি একই ব্যাক্তি? নয়তো? ঠিক একইভাবে আজকের ২০২০ এর বাংলাদেশের সকল শিক্ষিত স্বাধীন নারীদের “আদর্শ নারী” একই ব্যাক্তি হতে পারেন না । একক ভাবে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের সিংহভাগ শিক্ষিত প্রগতিশীল স্বাধীন নারীদের আদর্শ নন এটা জরিপ না করেও বলে দেয়া সম্ভব। দ্বিতীয়ত, কারো সাহিত্য কিংবা কিছু লেখা / বক্তব্য পছন্দ হলেই তাঁর সমস্ত ব্যাক্তি জীবন বা জীবনাচরণ মানুষ অনুকরণীয় হিসেবে নিয়ে নেবে তাও ভুল ।

তসলিমা নাসরিন সমাজ সংস্কারক বা নিদেনপক্ষে সমাজকর্মীও ছিলেননা, তিনি ছিলেন এবং আছেন মূলত কেবল-ই একজন লেখিকা হিসেবেই । বেগম রোকেয়া যেমন একই সাথে লেখক ও এক্টিভিস্ট হিসেবে সরাসরি সমাজ সংস্কারক হিসেবে মাঠে অবতীর্ণ হয়েছেন প্রধাণত নারীদের স্বার্থে ; সেটা আমরা তসলিমা নাসরিনের ক্ষেত্রে দেখিনি । ফলে নারী স্বাধীনতার জন্য আত্ম উৎসর্গ করেছেন তিনি ; এমন টাইটেল অতি কথনের মতো শোনায়। তসলিমা নাসরিনের দেশছাড়া হওয়াটা মূলত অতীতের অন্যান্য পুরুষ লেখকদের মতোই ধর্মভিত্তিক ইস্যুতে, নারী স্বাধীনতার নয় ।

তিনি লেখিকা হিসেবে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আইনের কাঠামোর ভেতরে তাঁর স্বাধীন মত প্রকাশ করার অধিকার রাখেন এবং তাঁর এই মতপ্রকাশের জন্য তাঁকে এই দেশের মৌলবাদী বা যেকোন অন্যান্য গোষ্ঠী তাঁকে তাঁর নিজ দেশে আসা কিংবা বসবাস করার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে পারেনা ; আপনার লেখা যদি শুধু এই পয়েন্টটাতে ফোকাস থাকতো তবে সেটাই সবচেয়ে ভালো হতো । ঐ জরুরী পয়েন্টটার বদলে অন্যান্য ভক্তির গল্প খুব বাহুল্য কথন মনে হচ্ছে।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৫৭

মুজিব রহমান বলেছেন: তসলিমাকে সমাজ সংস্কারক না বলার কারণ কি?
আমি তাঁর বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনা করেছি। তিনি যেভাবে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন তাতে তাকে সাধুবাদ দেই, শ্রদ্ধা জানাই। ভক্তিতো এটুকুই।

১৪| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৩৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আপনার মতো যারা লিখেন তারা আজীবন নারীদের নারী করে রাখবেন। আজীবন নারী পুরুষ দ্বন্দ করে রাখবেন। তাদের মানুষ হতে দিবেন না। সব সময় তাদের কানের কাছে বলে যাবেন তুমি নারী তোমার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। এখন নারী হিসেবে তুমার মুক্তি কি? ঘর ছাড়ো, বাড়ি ছাড়ো, স্বামী ছাড়ো, সন্তান ছাড়ো, চাকরি ছাড়ো, ব্যবসা ছাড়ো - লম্পটদের সাথে চলো। একমাত্র লম্পটরা তোমাকে মূল্যায়ন করবে।

নারী স্বাধীনতার অর্থ কি লম্পটদের সাথে চলা?

শুধু পুরুষতন্ত্র নয় বিশ্বজুড়ে অনেক অনেক ভুল ও অন্যায় শব্দ/বাক্য স্বীকৃতি পেয়ে আছে। আপনি এখনও নারী শিশু মাটিচাপা ও সতীদাহ আমলে আছেন। আপনার ভাষ্য মতে নারী বন্দি আছেন, আপনার তসলিমা তাদের মুক্তি দিয়ে সবাইকে তসলিমা নাসরিনের ‍মতো করে গড়ে তুলবেন। - মনে রাখবেন একজন নেশাগ্রস্থ ব্যক্তি চাইবেন সমাজে নেশাগ্রস্থ লোক বাড়ুক।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০২

মুজিব রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ।
একগাদা ভুল কথাই বললেন। সম্ভবত আপনি ব্যক্তিগত কোন কারণে তসলিমার প্রতি ক্ষুব্ধ। নারীকে সম্মানজনক সংসার ছাড়াতে কেউ বলবে না বরং সম্মানজনক সংসারে থাকতেই উদ্বুদ্ধ করবে। আমরাতো আরো বলি- চাকরি ধরো, ব্যবসা ধরো সাবলম্বী হও।
ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও একগামী মানুষ।

১৫| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:০০

আল ইফরান বলেছেন: তসলিমার বিষয়ে আপনার অন্ধভক্তি আছে। ওনাকে যে জায়গায় নিয়ে আপনি দেখছেন উনি মোটেও সেই জায়গা থেকে দেখার উপযুক্ত কেউ না বলে আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমার পড়াশুনা জানা সহধর্মিণী ওনার নাম জেনেছে আমার কাছ থেকে। তসলিমাকে আমি বড়জোর একজন ফেইম-সিকিং ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করি যিনি খ্যাতির জন্য নিজের শরীর বিক্রি করাকে অপরাধ বলে মনে করেন না।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৪

মুজিব রহমান বলেছেন: মৌলবাদী পরিবারের নারীরা তসলিমার নাম জানবে না, জানলেও তাকে না পড়েই ঘৃণাই করতে শিখেছে।

১৬| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:০২

আকন বিডি বলেছেন:



০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৬

মুজিব রহমান বলেছেন: পড়া কঠিন।
মৌলবাদীরা তাঁর বিরুদ্ধে বহু বই লিখেছে।
প্রগতিশীলরা তাঁর পক্ষে বহু লিখেছে।

১৭| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:০৮

আকন বিডি বলেছেন: ছবি গুলো দিতে পারছি না। কিযেন সমস্যা। যাই হোক "আনুপূর্বিক তসলিমা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ (১৯৯৪) " প্রবন্ধটি পড়ে একটি রিভিউ দিবেন।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৮

মুজিব রহমান বলেছেন: আবার পোস্ট দিয়ে লিংক দিন।

১৮| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:৩৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: কয়েকদিন আগে “সুপ্রভাত ফেনী” নামে এক স্থানীয় পেপারে একটা খবর ছিলো ইয়াবাসহ যুবক আটক কিন্তু ছবি ছিল জিয়াউর রহমানের । আপনার লেখাও সেইরকম।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:১০

মুজিব রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ।
দ্বিমত পোষণ করছি।

১৯| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:৫৫

spanked বলেছেন: কষ্ট হচ্ছে

দাঁত কামড়ে পড়ে থাক

সুখ হচ্ছে

দাঁত কামড়ে পড়েই থাক

মুখ খুললেই

তুমি অন্য কেউ

বুঝবে না সমাজ

মানবে না রাষ্ট্র

বন্ধু কেবল শুধুই ঢেউ।

০৭ জানুয়ারী ২০২১।

২০| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:০৭

রাজীব নুর বলেছেন: তসলিমা নাসরিন বিশ্বের সম্পদ।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২১

মুজিব রহমান বলেছেন: যারা নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছেন তিনি তাদের শীর্ষের একজন। তাঁকে অভিবাদন! ধন্যবাদ।

২১| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:২৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আপনি কি হাপিস হয়ে গেলেন?

কয়েকদিন ব্লগ ঝিমিয়ে গেছে। আপনি তসলিমার গুণকীর্তন করছেন - আমি আজ মন্তব্য করে পরিবেশ খানিকটা গরম নিয়ে এলাম। এখন তসলিমাভক্তরা তসলিমার নামে পোস্ট দিয়ে ব্লগ সয়লাব করে দিবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

নারী পুরুষ দুইটি আলাদা স্বত্তা এটি নিয়ে পাগলামী করার কোনো অর্থ হয় না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনে এপ্লিকেশন করতে হলে জেন্ডার অপশন আছে নারী/পুরুষ/হিজরা সেখানে মানুষ লেখার কোনো অপশন নেই।

যা মন্তব্য করেছি একটিরও সদুত্তর দিতে চেষ্টা করেননি। মরিস না ফরিস সে নারী লেখক না। তার লেখা আমি পড়িনি। যাইহোক উপসংহারে আসি। আমার শেষ প্রশ্নের জবাব দিবেন। “মাদক” কে বা কারা সমর্থন করবেন মাদক সেবনকারী আর মাদক ব্যবসায়ী - হা/না উত্তর দিবেন


তসলিমা নাসরিন অসুস্থ। তার সুস্থতা কামনা করছি।



০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২৫

মুজিব রহমান বলেছেন: হ্যাঁ!
একটি বিষয় নিয়ে ভিন্ন তুলনা দিবেন না।

ব্যস্ততার কারণে বেশি সময় দিতে পারি না। তবুও আপনাদের সাথে থাকি। লেখা পড়ি, মন্তব্য করি, জবাব দেই পরে হলেও।

২২| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:০৬

spanked বলেছেন: যাউগা শীতের মাঝরাতে তসলিমা গরম করতে পারছে এই আর কম কি ! ভালো থাকবেন সকলে

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২৭

মুজিব রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ।
রাষ্ট্র এবং মৌলবাদী মানুষরা তাঁর প্রতি অমানবিক ও সংবিধানবিরোধী আচরণ করেছে।

২৩| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৪৩

বুরহানউদ্দীন শামস বলেছেন: ধর্মে আঘাত না করলে সিকি ভাগ মানুষ তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে জানতে পারত। বাকিরা কখনোই জানতে পারতো না তসলিমা নাসরিন বলে কোনো লেখিকা আছে।
ধর্মে আঘাত হানাটা পাবলিসিটি স্টান্ট।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২৮

মুজিব রহমান বলেছেন: নারীদের পক্ষে লিখেই তিনি আলোচিত ছিলেন।

নারী ও বিজ্ঞানের পক্ষে কিছু লিখতেই তা অবশ্যই হবে ধর্মবিরোধী।

২৪| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৬:১০

বলেছেন: দা দা ,

এ লজজা কার ?

২৫| ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৩৪

রানার ব্লগ বলেছেন: তসলিমা নাসরিন কে জাতে তুলেছে মোল্লারা।

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৭

মুজিব রহমান বলেছেন: ঠিক নয়। মোল্লারা তাঁকে না তাড়ালে আজ নারীরা আরো আগানো থাকতো। মৌলবাদের স্পষ্ট পতন ঘটতো।

২৬| ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




মাদক’কে সমর্থন করবেন মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ী ঠিক তেমনই একজন বিপথগামী নারীকে সমর্থন করবেন বিপথগামী পুরুষ। - আমার এই কথা শুধু ব্লগে নয় বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে সমর্থনযোগ্য।

তসলিমা নাসরিন একজন বিপথগামী মানুষ। সমাজে তিন চার বিবাহ ও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রাখা পুরুষকে যেমন আমরা নষ্ট পুরুষ বলি ঠিক তেমনই একই শ্রেণীর নারীকে নষ্ট নারী বলি। এই ধরনের নারী পুরুষ এরা পরিবার পরিবেশ সমাজ ও দেশ ধ্বংসকারী।

খোলা ব্লগে পোস্ট দিয়েছেন তাই মন্তব্য করা। আমার ধারনা আপনার ব্লগিং জীবনে আপনার সাথে এভাবে কেউ মন্তব্য করেননি। ব্যক্তিগত ভাবে না আপনার সাথে আমার কোনো সমস্যা আছে। না সমস্যা আছে তসলিমা নাসরিন এর সাথে। তসলিমা নাসরিনকে তিন দশক আগে আমি শফিক রেহমান স্যার চিনতাম। এখকার তসলিমা নাসরিনকে আমি চিনিনা, জানিও না। তসলিমা নাসরিন অতীতেও অসুস্থ ছিলেন বর্তমানেও অসুস্থ আছেন এবং অসুস্থ তার সমর্থনকারীরা।

সরকার প্রশাসন আইন তসলিমা নাসরিনকে দেশের বাইরে বা তেপান্তর করেনি। তসলিমা নাসরিন নিজে হু লু লু লু করে দেশে ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

মন্তব্যে আমার একটি পোস্টের লিংক সংযুক্ত করা আছে, আশা করি পড়ে জানাবেন। আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


১০ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:২০

মুজিব রহমান বলেছেন: যারা একসাথে ১৫/২০টি বউ রেখেছে তাদের সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

তসলিমা একসাথে একজন স্বামীই রেখেছিল। তিনি মোট তিনটি বিয়ে করেছেন। ঠিক তিনটি বিয়েই করেছেন অমর্ত্য সেন। আপনার ভাষায় অমর্ত্য সেন নষ্ট পুরুষ আর তসলিমা নষ্ট নারী। এসব পশ্চাৎপদ ধারণা পরিত্যাগ করুন, সমাজকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখুন।

২৭| ১০ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৪

আল ইফরান বলেছেন: আমি অথবা আমার স্ত্রীর পরিবারের কেউই মৌলবাদী রাজনীতির সাথে তো জড়িত নয়ই, বরং আপনার মত কূপমন্ডুকতায় পরিপূর্ণ মানুষের জন্য স্বাধীন দেশ এনে দেয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। তসলিমা বড়জোর একটা ফেইমসিকিং স্লা* হতে পারে, নারীস্বাধীনতা দিল্লি হনুজ অস্তঃ।

১১ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৩১

মুজিব রহমান বলেছেন: ঠাকুর ঘরে কেরে?
আমি কলা খাই না।

তসলিমার নাম জানে না এমন সুশিক্ষিত ও মুক্তচিন্তার মানুষ কি বাংলাদেশে আছে? কতিপয় ভুয়ার যন্ত্রণায় অস্থির আছি। যাক আপনার পিতা ও শ্বশুড় খাঁটি মুক্তিযোদ্ধা।

২৮| ১২ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৪:৩৭

আকন বিডি বলেছেন: "আনুপূর্বিক তসলিমা ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ (১৯৯৪) " আহমেদ ছফার লেখাটা খুব সহজেই খুঁজে পাবেন। আশা করি সেটার উপর ভিত্তি করে সেটার একটি কাউন্টার লেখা দিবেন ।

১৩ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৭

মুজিব রহমান বলেছেন: ওই সময়টা আমাদের শীর্ষ কয়েকজন লেখক নিজেদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ঢেলে দিতেন।

২৯| ১২ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২১

স্থিতধী বলেছেন: তসলিমাকে সমাজ সংস্কারক না বলার কারণ কি? … তিনি যেভাবে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন তাতে তাকে সাধুবাদ দেই, শ্রদ্ধা জানাই

তসলিমা নাসরিন কিভাবে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন? শুধু লেখালেখি ও বক্তব্য দিয়েই? বা নিজের ব্যাক্তিগত যৌন জীবনের চর্চা ও তাঁর বর্ণনা দিয়ে? দুঃখিত, সেক্ষেত্রে অন্তত আমি এর কোনটিকেই সমাজ সংস্কারের সংজ্ঞা তে ফেলিনা। কারন আমার দৃষ্টিতে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা হতে হয় সমাজের ভেতরে গিয়ে সংগঠন গঠনের চেষ্টার মাধ্যমে, তার নিয়মিত বা লক্ষ্য সমৃদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে । কেবল লেখালেখি দিয়ে একটা ভক্ত সমাজ তৈরি আর তারপর ব্যাক্তি জীবনে প্রচলিত চর্চার বাইরে গিয়ে কিছু করাটাই সমাজ সংস্কার হয়না । ওটা মূলত ব্যাক্তিগত অর্জন বা বৈশিষ্ট্য হিসেবেই রয়ে যায় । লেখালেখির জন্য পরবাসী হয়ে যাওয়াটা কাঙ্ক্ষিত নয়, তবে তা আত্ম উৎসর্গও নয় । একজন সমাজ সংস্কারক এর মত হয়ে তসলিমা তাঁর জীবনে কি কি গুরুত্বপূর্ণ এক্টিভিজম / রিফর্ম মুভমেন্ট করেছেন যার কারনে তাঁকে নারীদের তরে আত্ম উৎসর্গকারী এক নারী হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়? আপনি তাঁর অমন কার্যক্রম সম্পর্কে জানলে তা জানাবেন ।

একজন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিরাপদ সড়কের জন্য নিরন্তর কাজ করার জন্য তাঁকে সমাজ সংস্কারক বা কর্মী বলা যায় । একজন রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখালেখির পাশে পরিণত বয়সে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে তা চালানোর কারনে তাকেও সমাজ পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারী বলা যায়। একজন বেগম রোকেয়াও শুধু কলমের কালিকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেননি বলে তিনিও নারীদের শিক্ষা অধিকার নিশ্চিত করবার জন্য সংগঠন তৈরি করে তাঁর নেতৃত্ব দিয়েছেন । জাহানারা ইমাম কেবল বই লিখে বসে যান নি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন আর হুমায়ুন আহমেদের মতো রাজনীতি অসচেতন জনপ্রিয় লেখকদের লজ্জা দিয়ে হলেও এ দেশ থেকে রাজাকার নিপাতের আন্দোলনে সামিল করিয়েছেন । ফলে সাইদীর মতো ওয়াজকারীরা তাকে “ জাহান্নামের ইমাম” আখ্যা দিতো । জাহানারা ইমামের সেই লেগাসী পরবর্তী প্রজন্মের মানুষেরা ব্লগে ধারণ করে ইতিহাস, সমাজ ভিত্তিক লেখালেখি করেছে, শাহবাগ আন্দোলনের সূত্রপাতের দিনগুলোতে সেইসব ব্লগার একাত্ম হয়েছেন ।

এদেশের নারীরা কি কর্মজীবী নারী হবার প্রেরণা তসলিমা নাসরিন কে দেখেই পেয়েছে? রদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আমার মায়ের বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠী, আমার মা যখন কর্ম জীবন শুরু করেন তখনো তসলিমা নাসরিন তাঁর এম বি বিএস শেষ করেননি, অবিবাহিত থাকতেই আমার খালা যখন স্কুল শিক্ষিকা হয়ে কাজ শুরু করেন তসলিমা নাসরিন লেখিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিতও হননি তখনো । এভাবে এমন অসংখ্য নারী আছেন এদেশে যারা এই লেখিকার নারীবাদের কথাবার্তার প্রচারের আগে থেকেই নিজেদের সমাজে আত্ম প্রতিষ্ঠিত করেছেন । ৭০ এর দশকে যখন তসলিমা নাসরিনরা সবে শিক্ষাজীবন পাড় করছেন সেসময় ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফযলে হাসান আবেদ আর গ্রামীনের ডঃ ইউনুস সাহেবেরা বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রত্যন্ত স্থানগুলোতে ইতিমধ্যে নারীদের কে স্বাবলম্বী করে তোলার কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন । তাঁদের মাঠ পর্যায়ে নারী ক্ষমতায়নের কাজগুলো এখনো এদেশের প্রতিক্রিয়াশীলদের চক্ষুশূল । ৯০ এর দশকে এদেশে যখন গার্মেন্টস শিল্প প্রসারিত হওয়া শুরু করে সেসময় গার্মেন্টস উদ্দোক্তারাও নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেয়। কেন? কারন এন জি ও গুলোর মতো তারাও এটা দেখেছিলো যে এদেশের গড়পড়তা পুরুষরা, নারীদের থেকে কাজে অনেক বেশী ফাঁকিবাজ ও অসৎ । গড়ে একজন নারী কে লোন দিলে সে সেই লোন কে কাজে লাগিয়ে পরিশ্রম করে যেভাবে ফেরত দেয় সেভাবে একটা পুরুষ করেনা। ঋণের টাকা সংসারে না লাগিয়ে নিজ ফুর্তিতে লাগায় । এ সব মি্লিয়েই এদেশে নারীর ভাগ্য উন্নোয়ন ঘটেছে, মাঠ পর্যায়ে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পেরেছে ।

এদেশে যেসব প্রকাশকরা তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ করতো তাঁদের বই এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ডিস্ট্রিবিউট কি হতো যেমনটা সেবা প্রকাশনীর সস্তা নিউজপ্রিন্টের পেপারব্যাক বই গুলো করা হতো? প্রত্যন্ত অঞ্চলের কতভাগ নারীর তসলিমা নাসরিনের বই কেনা ও পড়ার মতো আর্থিক ও লেখাপড়ার সঙ্গতি ছিলো? আর তাই, এটা কতদূর নিশ্চিত হয়ে বলা সম্ভব যে তসলিমা নাসরিন এদেশের একটা উল্লেখযোগ্য সুবিধাবঞ্ছিত নারীদের প্রেরণার কারন হতে পেরেছেন বাস্তবিকভাবে? মফস্বল কিংবা শহড়ে বাস করা কোন এক -দুজন নারী “ ধর্ম গ্রন্থের” মতো করে তসলিমা নাসরিনের বই এর বাণীকে আগলে রাখলে সেটার নাম নারী স্বাধীনতা হয়? নিজেকে বিজ্ঞান মনস্ক দাবি করা একজন মানুষ যদি তসলিমাকে ধর্ম বানিয়ে ওমন অন্ধ ব্যাক্তি পূজাকে “নারী – স্বাধীনতার “ প্রতিকী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দেন তবে ওটাকে আমি তসলিমা ভক্তির ওয়াজ মাহফিল হিসেবেই গণ্য করবো।

২০২০ এর বাংলাদেশের নারীদের কাছে তসলিমা নাসরিন অচল এক নাম, কারন তাঁদের সামনে আরো অনেক বিকল্প নারী রোল মডেল এখন আছে । আমার এমন কথা আপনার তসলিমা অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে । একই সাথে যদি বলি যে কোরান, গীতা,বেদ, বাইবেল, তোরাহ, ত্রিপিটক ইত্যাদি গ্রন্থ আজকের বিশ্বে অপ্রয়োজনীয় এমন কথা আরেক অংশের ধর্মআনুভূতিতে আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত হতে পারে । কিন্তু সত্য হলো আদতে দুটোই মতামত প্রকাশ কেবল, যা নিয়ে যে কেউ তর্ক – বিতর্ক করতেই পারে । এই কথার কোনটিকে তসলিমা বিদ্বেষ বা ধর্ম বিদ্বেষ দাবী করে একে “ হেইট স্পিচ” বলার কোন সু্যোগ নেই । “ফ্রীডম অফ স্পীচ” আর “ হেইট স্পীচ” এর মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্যগুলো কি, সেটা দেশের সকল পর্যায়ের নীতি- নির্ধারকদের আগে ঠিক করতে পারা উচিৎ । দেশের আইনে “ফ্রীডম অফ স্পীচ” এর আওতাধীন তসলিমা নাসরিনের লেখাগুলো বাংলাদেশে প্রকাশের যোগ্য । সর্বোপরি যে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর শুধুমাত্র তাঁর লেখার কারনে তাকে তাঁর নিজ দেশে আগমন বা বসবাসের অধিকার ঠেকিয়ে রাখার কোন আইনী ভিত্তি নেই । যে দেশে রাজাকার গোলাম আযমকে ফিরিয়ে আনার বৈধতা দেওয়া হয়েছিলো এবং সেসময় যারা চুপ ছিলো তারা এদেশে তসলিমা নাসরিনের ফিরে আসার বিষয়ে কোন ধরনের উচ্চবাচ্য করার নৈতিক অধিকার রাখেনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.