নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মীয় সহিষ্ণুতার মূলনীতি এবং উল্লেখযোগ্য কিছু দৃষ্টান্ত

০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:০৮



প্রাককথন: সহনশীলতার মত অনন্য গুন অর্জন করা ব্যতিত মানবজীবনে মানবীয় গুনাবলীর পূর্নতাসাধন আশা করা যায় না। কি নিজের ধর্মের মানুষের সঙ্গে, কি পরধর্মের ব্যক্তিবর্গের সাথে, সমাজে পরিবারে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সহিষ্ণুতার প্রয়োজনীয়তা বর্ননাতীত। বলা যায়, জলে-স্থলে বিশ্বের যত স্থানে যত সমস্যা আমাদের গোচরীভূত হচ্ছে, তার অধিকাংশ সমস্যার পেছনেই কারন হিসেবে চিনিহ্নত হয়ে রয়েছে আমাদের (মানবজাতির) পারস্পারিক সহনশীলতার অভাব। সংঘাতমুক্ত, সাম্য-সম্পৃতি-সৌহার্দ্য আর প্রেম-প্রীতির পূন্য আভায় বিমোহিত একটি জগত গড়ার যে অনুপম আদর্শ উপস্থাপন করেছেন সাইয়্যিদুল মুরছালীন মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, একমাত্র তার ভেতরেই রয়েছে এর পরিপূর্ন বাস্তবায়ন কৌশল। আল কুরআনে ইরশাদ করা হয়েছে-

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لاَنفَضُّواْ مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللّهِ إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ

''আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তা’আলার উপর ভরসা করুন আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন।'' আলে ইমরান, আয়াত-১৫৯

অভিধানে ‘সহিষ্ণু’ ও ‘সহিষ্ণুতা’: ‘সহিষ্ণু’ শব্দের অর্থ বাংলা একাডেমির অভিধানে লেখা হয়েছে- সহনশীল, ধৈর্যশীল, ক্ষমাশীল, যার বিশেষণ হলো ‘সহিষ্ণুতা’। এ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Tolerance' এবং আরবিতে ‘আত-তাসামুহ’ ও ‘আত-তাফাউত’ ব্যবহার করা হয়। সেসব অর্থ পর্যালোচনা করলে ‘ধর্মীয় সহিষ্ণুতা’ বলতে বুঝায় ধর্মীয়ভাবে, ধর্মীয় কারণে কিংবা ধর্মীয় কোনো বিষয়ে অন্যের প্রতি সহনশীল হওয়া বা সহনশীলতার পরিচয় দেয়া। অন্যকে, অন্যের মতাদর্শ ও বিশ্বাসকে সহ্য করার ক্ষমতাকেও সহিষ্ণুতা হিসেবেই আখ্যায়িত করা যায়।

ইসলামী আদর্শে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: ইসলাম ধর্মীয় উদারতায় বিশ্বাস করে। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ইসলামের অন্যতম একটি মৌলিক শিক্ষা ও সৌন্দর্য। যেমন আল্লাহ পাক বলেন-

لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ

তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে। (আল কুরআন : ১০৯ : ০৬)

ইসলাম ধর্মের আলোকিত এ মূলনীতি শুধু ইসলামকে সার্বজনীনতার স্বীকৃতি এনে দিয়েছে তাই নয়, বরং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে হজরত রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরশ পাথরের মত কাজ করেছে। ইসলামের সুমহান বাণী তাই সর্বস্তরের মানুষের কাছে যেমনি গ্রহণযোগ্য হয়েছে, তেমনি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিশ্চয়তা দিয়ে সামাজিক জীবনে এনে দিয়েছে শান্তি-সম্প্রীতি আর মানবিকতার বন্ধন। ইসলামের দেখানো ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উদাহরণ তাই যুগে যুগে অনুকরণীয়-অনুসরণীয়। অথচ বর্তমান বিশ্বের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা সচেতন সবার বিবেককে তাড়া করছে। উপায় খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিবেকবান চিন্তাশীলরা। কিন্তু অতিব আশ্চর্যজনকভাবে তারা সচেতনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন সমাধানের কার্যকর রূপরেখা। সেখানে উপেক্ষিত হয়ে চলেছে ইসলামের মহান এই শিক্ষা।

মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন : পার্থিব কোনো কিছু অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইসলামী বিধিবিধান প্রনয়ন করা হয়নি। এর মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার সন্তুষ্টি অর্জন। একারনে সহিষ্ণুতার পেছনেও মূল উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। কারণ, আল্লাহর বিধানই হলো, প্রত্যেকের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করা, যতক্ষন তা তাওহিদের সাথে সাংঘর্ষিক কিংবা অন্য কোনো মৌলিক বিধানের বিপরীত না হবে। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْاْ إِلَى كَلَمَةٍ سَوَاء بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلاَّ نَعْبُدَ إِلاَّ اللّهَ وَلاَ نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلاَ يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضاً أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللّهِ فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُولُواْ اشْهَدُواْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ

''বলুনঃ ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস-যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান-যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না করে, তাহলে বলে দাও যে, ‘সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত।'' (সূরা ইমরান : ৬৪)

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদিসেও এর প্রত্যয়ন পাওয়া যায়। আনাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করে থাকে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হবে; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে। আর কুফরি থেকে তাকে আল্লাহ বাঁচানোর পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করবে, যেমন সে নিজেকে আগুনে নিক্ষেপ করাকে অপছন্দ করে।’ (বোখারি : ৬০৪১ ও মুসলিম : ১৩)

সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা : শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গিতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার দুনিয়াবি উদ্দেশ্য হলো সামাজিক জীবনে একে অন্যের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। এটি মোটেও এমন নয় যে, অন্য ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে মেনে নেয়া বা নিজেকে সে অনুযায়ী পরিচালনা করা। বরং সে ধর্ম বা বিশ্বাসকে এ জন্য সহ্য করা যে, সেটি তাদের জন্য প্রযোজ্য। দেখুন- (সূরা কাফিরুন : ৬) শুধু ধর্মীয় কারণে বা বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কারো সাথে এমন আচরণ করা যাবে না যা অসহিষ্ণুতা ও সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়। মুসলিম-অমুসলিম সুসম্পর্কের মূল ভিত্তি ও উদ্দেশ্য হলো- শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ, ন্যায়পরায়ণতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, যা অর্জন করা প্রত্যেকের জন্য জরুরী।

ভ্রাতৃত্ববোধকে (উখুয়াত) প্রতিষ্ঠা করা : ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উদ্দেশ্য হলো- ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা। এটি এমন এক চেতনা, যাতে একের প্রতি অন্যের সম্মান প্রদর্শনকে আবশ্যিক করে তোলে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এ বোধ-বিশ্বাসের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। কারণ, ইসলামি মূল্যবোধের শিক্ষা হলো- সমগ্র মানবজাতি এক পিতা থেকে এসেছে। আল কুরআনে এসেছে-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا

''হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।'' (সূরা নিসা : ১)

এবং সে পিতার সব সন্তানকে আল্লাহ তায়ালা নিজেই সম্মানিত করেছেন অন্য সব সৃষ্টির ওপর।’ আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلاً

''নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।'' (সূরা ইসরা : ৭০)

এখানে ভেদাভেদ করা হয়নি ভিন্ন ধর্ম, ধর্মীয় বিশ্বাস, মত, পথ ও আদর্শকে। এত যে ভিন্নতা এগুলো একে অপরের মধ্যে পরিচয়ের মাধ্যম। তবে, মহান আল্লাহ পাকের নিকট সম্মানিত সে, যে তাকওয়াবান। যেমন, ঘোষনা হয়েছে-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

''হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।'' (সূরা হুজুরাত : ১৩)

ধর্মীয় সহিষ্ণুতার পেছনের মূলনীতি : ধর্মীয় সহিষ্ণুতার কিছু মূলনীতি আছে। তা ছাড়া চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ইসলামের প্রত্যেকটি বিধানে মূলনীতি রয়েছে। পারস্পারিক ধর্মীয় সহিষ্ণুতায় ইসলাম ধর্মের অবশ্যপালনীয় মূলনীতিগুলো-

সামাজিক শান্তি-সম্প্রীতি-সদ্ভাবই ধর্ম ও রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলার মূল ভিত্তি : সামাজিক শান্তিই হবে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার মূল ভিত্তি। সমাজ জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধর্ম ও বিশ্বাসের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষকে উপেক্ষা করতে হবে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে। ধর্ম ও বিশ্বাস সেখানে চালিকা হিসেবে কাজ করবে, কিন্তু তার মৌলিকতায় কোনো ছেদ ঘটানো যাবে না। সুতরাং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা হবে শান্তিপূর্ণ এক সমাজব্যবস্থা, যেখানে ধর্ম ও বিশ্বাসের কারণে কোনো রকম ঝগড়া-বিবাদ থাকবে না, থাকবে না কোনো অন্যায়-অবিচার। নিরাপত্তা পাবে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু প্রত্যেকেই। সমাজদেহ থেকে উঠে যাবে আন্ত:ধর্মীয় কলহ বিবাদ। ফলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবাহিত হবে শান্তির সুবাতাস।

প্রয়োজন সকলের পারস্পরিক সদিচ্ছা: সহিষ্ণুতার গুন অর্জন করতে হয় সকলকে। এই গুন ধারন করতে হয় প্রতিটি মানুষকে। একজন সহিষ্ণু হলেন, তিনি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করলেন, পক্ষান্তরে যার প্রতি সহিষ্ণুতা দেখালেন তিনি এটাকে তার দুর্বলতা ভেবে নিলেন এবং তার উপর অন্যায় আচরন করলেন, এটা মোটেই কাম্য নয়। তাই এই সহিষ্ণুতা ও উদারতার আচরন আসতে হবে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ সহনশীলতা ও ক্ষমাশীলতা, ধৈর্যের বহিঃপ্রকাশ কেবলমাত্র একপক্ষ থেকে হলে হবে না। এটি এ জন্য যে, উভয়পক্ষই যখন চাবে সম্প্রীতি বজায় থাকুক এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হোক, তখন স্বাভাবিকভাবেই আশা করা যায়, কাঙ্খিত শান্তির আগমন অবশ্যই ঘ্টবে। প্রকারান্তরে একপক্ষ সহিষ্ণু হলেও অন্য পক্ষের ভিন্ন মানসিকতা ও অসহযোগিতা সঙ্ঘাত-সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে- এমনটাই স্বাভাবিক।

থাকতে হবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: ধর্মীয় সহিষ্ণুতার জন্য থাকতে হবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এটি ধর্মের কোনো মৌলিক বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিষয়ে হতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উভয়ের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোই এর জন্য প্রাধান্য পাবে যে, তারা নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ উদ্দেশ্যের ব্যত্যয় ঘটলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। উল্লেখ্য, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা শুধু ভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসীর সঙ্গে নয়, বরং এটি হতে পারে একই ধর্মের অনুসারী ভিন্ন মতাবলম্বীর ওপর। কিন্তু এটি ততক্ষণ পর্যন্ত পালিত হবে, যতক্ষণ একজনের ধর্ম, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা কার্যাবলি অন্য কোনো ধর্ম, তার অনুসারী ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর জন্য ক্ষতির কারণ না হয়। পরিশেষে বলব, শরয়ী বিধিবিধানের উদ্দেশ্য ও মূলনীতি জানা থাকলে সে বিধান পালনে যেমন আগ্রহ তৈরি হবে, তেমনি তা উপভোগ্য ও আনন্দদায়ক হবে- এটাই স্বাভাবিক। তা ছাড়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সঠিক মূলনীতি জানা ও সে আলোকে তা পালন করা অত্যাবশ্যক। শরয়ী বিষয়ে তাই মূলনীতি বিচ্যুত হলে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে। সুতরাং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির জন্য যারা কাজ করবেন সর্বোপরি সব মুসলিমের জন্য এসব বিষয়ে ধারণা থাকা খুবই জরুরি। আল্লাহ পাক আমাদের অতি গুরুত্বপূর্ন এই বিষয়ে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করুন।


ধর্মীয় সহিষ্ণুতার কিছু উদাহরণ:

পবিত্র কুরআনে বর্নিত আদর্শ ও শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের প্রকৃত উদাহরণ- রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মহত্তম জীবনাদর্শ। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইন্তেকালের পর যখন আয়েশা রাদিআল্লাহু তাঅা'লা আনহাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কেমন ছিলেন? তখন প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছিলেন,

'আফালা তাকরাউনাল কুরআন? কা-না খুলুকুহুল কুরআন।'

''তোমরা কি কুরআন পড়ো না? তিনি ছিলেন কুরআনের বাস্তব নমুনা।''

সুতরাং রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবন হলো তাত্ত্বিক কুরআনের প্রয়োগিক রূপ। সহিষ্ণুতার ইতিহাসে তিনি হলেন তুলনাহীন। মক্কার কুরাইশ কর্তৃক চরম নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য বদ দু’আ পর্যন্ত করেননি। শুধু তাই নয়, মক্কা বিজয়ের পরে যখন প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ এলো তখন তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিজের ও ধর্মের উচ্চাঙ্গতা, মহত্ত্ব প্রকাশ করলেন। সহিষ্ণুতার উদাহরণে তাঁর জীবন ছিল ভরপুর। তন্মধ্যে কয়েকটির উল্লেখ করা হলো:

হিলফ আল-ফুজুুল : ১৫ বছর বয়সে যখন কুরাইশদের পক্ষ হয়ে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ফিজারের’ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন তখনো তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেননি। হয়তো কিছু তীর কুড়িয়ে দিয়েছিলেন চাচাদের হাতে। কিন্তু যুদ্ধের বীভৎসতা দেখে যে মানবতাবোধ জাগ্রত হয়েছিল তাঁর কোমল হৃদয়ে তার ফল হিসেবে বিশ্ব পেয়েছিল সহিষ্ণুতা অর্জনের মূল উপায়। গঠিত হলো ‘হিলফ আল-ফুজুল’। পক্ষ-প্রতিপক্ষ যুদ্ধ বন্ধে একাত্মতা ঘোষণা করল; প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় আর অন্যায়, অবিচার, অসহিষ্ণুতা বন্ধে জীবন ব্যয়ে। ফলে সে সমাজে শান্তির ধারা সূচনা হলো।

মদিনা সনদ : মক্কা থেকে মদিনা হিজরতের পরে মদিনার সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাসূলুল্লাহ সা: তৈরি করলেন গঠনতন্ত্র। সেখানে ৪৭টি ধারার প্রতিটিতেই সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে সহিষ্ণুতার। ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী সব কিছুকে ভুলে প্রাধান্য পেয়েছে সামাজিকতা ও মানবতা। বিশৃঙ্খলিত ও অশান্ত এ সমাজ ব্যবস্থায় স্বাধীনতা পেলো সর্বস্তরের মানুষ। মানবিকতার জয়গানে তাই ফুটে উঠল ইসলামের উদারতা, সৌন্দর্য, মহত্ত্ব। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সেখানে শান্তি-ই প্রতিষ্ঠা পেলো না বরং ইসলামের প্রচার-প্রসার হলো দুনিয়াজুড়ে, সংখ্যাধিক্যতা পেলো মুসলিমেরা। এসবের পেছনের কারণ হিসেবে অন্য বিষয়ের সাথে অপরের প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল যা সর্বতভাবে ইতিহাস স্বীকৃত।

ধর্মীয় যুদ্ধ : রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবদ্দশায় এবং তাঁর অংশগ্রহণে যত যুদ্ধই সংঘটিত হয়েছিল তাতে মুসলিম পক্ষ আগে আক্রমণ করেছেন এমন কোনো প্রমাণ ইতিহাসে নেই। ইতিহাসের পাঠকমাত্রই অবগত, কিভাবে মুশরিকরা যুদ্ধাভাবাপন্ন হয়ে ইসলামকে শেষ করার নিমিত্তে মুসলিমদের ওপর প্রতিটি আক্রমণ পরিচালনা করেছে। প্রত্যুত্তরে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আত্মরক্ষামূলক আচরণের ফলে শত্রুরা মিত্রে পরিণত হয়েছে। হেদায়েতের ছায়াতলে শামিল হয়েছে অগণিত মানুষ। কুরআনের নির্দেশনাও ছিল তাই-ই। সূরা আল-হাজের যে আয়াত দ্বারা ধর্মীয় যুদ্ধকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল সেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে,

أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ

‘যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হলো তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম।’ (আয়াত : ৩৯)

হুদায়বিয়ার সন্ধি : হুদায়বিয়ার সন্ধিকে আল্লাহ সুস্পষ্ট বিজয় বলে উল্লেখ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এ সন্ধির ধারাগুলোর প্রতি লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই তা ছিল ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য অপমানজনক, লজ্জাকর এবং পরাজয়ও বটে। কিন্তু এ সন্ধির মাধ্যমে যুদ্ধকে এড়িয়ে শান্তির জন্য চুক্তি করে সহিষ্ণুতার পরিচয় দেয়া হয়েছে। ফলে, মাত্র দুই বছর পরে অষ্টম হিজরিতে ১০ হাজার (দশ হাজার) সাহাবি নিয়ে মক্কা বিজয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অথচ এই সন্ধির আগে মুসলিমরা ওসমান রা:-কে হত্যার (গুজব) প্রতিশোধ নেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাতে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। পরে আল্লাহ পাক ঘোষণা করলেন যে, তার হাতও (সম্মতি) সেখানে ছিল।

إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

''যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।'' (আল-কুরআন, সূরা আল-ফাতহ: ১০)

সুতরাং, যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত একটা বাহিনী কিভাবে সহিষ্ণু হয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করল বিশ্ব বিবেকের কাছে। এই সহিষ্ণুতার ফলও তাই কাঙ্খিত মক্কা বিজয়ের মধ্য দিয়ে এসেছিল।

বিদায় হজের ভাষণ : বিশ্বমানবতার ইতিহাসে মানবিকতা ও মানবাধিকারের বিচারে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বিদায় হজের ভাষণ ভবিষ্যৎ ইতিহাসেও স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ ভাষণে প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন মানুষের সমমর্যাদা ও সমাধিকারকে। প্রাচীন আরব সংস্কৃতি, কুপ্রথাকে ছুড়ে ফেলে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইসলামের সুমহান আদর্শকে। যেখানে, জাতি-বর্ণ, গোত্র, ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, আরব-অনারব, পুরুষ-নারী সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছে মানবতা ও তার তাকওয়া। সামাজিকতায় যেমন কোনো কিছুই বিভেদ কিংবা বঞ্চনার কারণ নয়, তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিতে আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়ার উপায় হিসেবে সব কিছুকে উপেক্ষা করে ঘোষণা করা হয়েছে তাকওয়াকে। ইরশাদ হয়েছে-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

''হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।'' (সূরা হুজুরাত : ১৩)

সেখানে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাধান্য পায়নি; প্রাধান্য পায়নি ক্ষমতা। ঘোষিত হয়েছে ‘স্রষ্টার কাছে সব মানুষ-আত্মা এক।’ পবিত্র কুরআনই যে তার স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্নিত হয়েছে-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا

''হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।'' (সূরা নিসা : ১)

এ রকম হাজারো উদাহরণ আমরা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে পাই। এসব মানবিক ও মহত্ত্বের উদাহরণের আধার বলেই তিনি তো সারা বিশ্বের জন্য ‘রহমাতুললিল আলামিন’। মহান আল্লাহ তাআ'লার ঘোষনা-

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ

''আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।'' (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)

তিনি যুগ-কাল-পাত্র নির্বিশেষে পরিবেশ-পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে সবার জন্য আদর্শ, অনুকরণীয়। সকল কালের, সকল যুগের, সকল মানুষের। ইরশাদ হয়েছে-

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا

''যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।'' (সূরা আল-আহজাব: ২১)

সুতরাং, আজকের অশান্ত পৃথিবীতে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে, সাম্য-মৈত্রী-সৌহার্দ্য, এককথায় ইনসাফপূর্ন পারস্পারিক সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন প্রতিষ্ঠা করে শান্তিময় নতুন পৃথিবীর জন্য রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কালজয়ী আদর্শ বাস্তবায়নই একমাত্র সমাধান। অাল্লাহ পাক আমাদের প্রত্যেককে এই কাজের মহাসৌভাগ্য দান করুন।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: শান্তির জন্য এই রকম পোষ্ট গুলো চারদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:৩৩

নতুন নকিব বলেছেন:



ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ।

আমাদের নিজেদের ভেতরেও অমর অনবদ্য এই আদর্শকে ধারন করতে হবে।

২| ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৪৯

ভিন্নচিন্তা ভিন্নমত ভিন্নপথ বলেছেন: @ নতুন নকিব- আপনার এই মিষ্টি মধুর পোস্টটি সৌদী বাদশাহ সালমান এবং আরব আমিরাতের খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে পাঠাতে পারেন কিনা দেখেন। পড়ে টড়ে যদি শুভবোধ জাগে তবে স্বজাতীয় ইয়েমেনী মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করা বন্ধ করতেও পারে।

নাইজেরিয়ার বোকো হারাম,পাকিস্তানী তেহরিক-ই-তালিবান,ইরাকী ইসলামিক স্টেট, আমাদের জেএমবি আর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কাছেও পাঠাতে পারেন। আশা করি আপনার পোস্টের মর্মার্থ বুঝতে পেরে এরা কেঁদেকেটে সুপথে চলে আসবে। কি বলেন ?

০৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:০৭

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ। দায়িত্বগুলো আপনি পালন করে দেখতে পারেন। কোনো ফল পাওয়া যায় কি না।

ধর্মীয় পোস্ট দেখলে কিছু লোকের চুলকানির উদ্ভব হয়। সউদি বাদশাহ, আরব আমিরাতের খলিফা, নাইজেরিয়ার বোকো হারাম,পাকিস্তানী তেহরিক-ই-তালিবান,ইরাকী ইসলামিক স্টেট, আমাদের জেএমবি আর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ইসলাম ইত্যাদি ব্যক্তি বা সংগঠন ইসলাম ধর্মের অনুসরনীয় অনুকরনীয় কেউ বা কিছু নন। তারা ইসলামের দলিল বা নিদর্শনও নহেন। এই পোস্ট দেখে আপনার তাদের কথা মনে পড়ার কারন কি?

ইসলামের আদর্শ নিয়ে আলোচনা করলে কি আপনার কোনো সমস্যা হয়? যদি তা না হয়, তাহলে এরকম মন্তব্য করার কারন কি?

আপনি যাদের কথা মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, আমরা কি কোথাও বলেছি, তারা ইসলামের আদর্শ? তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ড আমরা সমর্থন করি- এমনটা কি কখনও দেখেছেন?

আমরা অন্তত: এতটুকু বুঝি, অন্যায়কারীর পোষাক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক, তার প্রকৃত পরিচয়, তিনি অন্যায় করছেন। ধর্মের পরিচয়ের আড়ালে যারা অন্যায় অবিচারে লিপ্ত, তারা ধর্মীয় পরিচয়টিকে হয়তো সাইনবোর্ড হিসেবেই ব্যবহার করে থাকেন।

৩| ০৫ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:২২

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন:
ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ।
আমাদের নিজেদের ভেতরেও অমর অনবদ্য এই আদর্শকে ধারন করতে হবে।

ভালো থাকুন।

০৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:০৭

নতুন নকিব বলেছেন:



আবারও প্রত্যাবর্তনে ধন্যবাদ।

৪| ০৬ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১২:৫৪

লোনার বলেছেন: আপনার পোস্টগুলো দেখি - "উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর" আপনার যে অক্লান্ত প্রচেষ্টা, সেটার প্রশংসাও করি মনে মনে। কিন্তু কখনো মন্তব্য করিনি। আজ করছি একটা ভুল শুধরাতে! "ইসলামী আদর্শে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা" - এই সাব-হেডিং-এর আওতায়, সূরা কাফিরুনের আপনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেটা ঠিক নয়। সৌদী আরব থেকে প্রকাশিত বাংলা তফসীর, যা কি না হাজীদের দেয়ার জন্য সৌদী সরকার প্রকাশ করেছিল, সেখানে সূরা কাফিরুনের এই আয়াত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

বর্তমানকালের কোনো কোনো জ্ঞানপাপী মনে করে থাকে যে, এখানে কাফিরদেরকে তাদের দীনের উপর থাকার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তারা এটাকে ইসলামের উদারনীতির প্রমাণ হিসেবে পেশ করে থাকেন। নিঃসন্দেহে ইসলাম উদার।
ইসলাম কাউকে অযথা হত্যা বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে অনুমতি দেয় না। কিন্তু তাই বলে তাদেরকে কুফুরী থেকে মুক্তি দিতে তাদের মধ্যে দা‘ওয়াত ও দীনের প্রচার-প্রসার ঘটানো থেকে বিরত থাকতে বলেনি। ইসলাম চায় প্রত্যেকটি কাফির ও মুশরিক
ইসলামের ছায়াতলে এসে শান্তির বার্তা গ্রহণ করুক। আর এ জন্য ইসলাম প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশবাণী, উত্তম পদ্ধতিতে তর্ক-বিতর্ক ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহবান করাকে প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য করণীয় বিষয় হিসেবে ঘোষণা করেছে।
[দেখুন: সূরা আন-নাহল: ১২৫] মূলতঃ এ সমস্ত জ্ঞানপাপীরা এ বিষয়টিকেই সহ্য করতে চায় না। তারা এখানে আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য করে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নামক কুফুরী মতবাদকে জায়েয প্রমাণ করা। এটা নিঃসন্দেহে ঈমান আনার পরে কুফুরী
করার শামিল, যা মূলতঃ কাফিরদের প্রতি উদারনীতি নয় বরং তারা কাফির থাকা অবস্থায় চিরকালের জন্য তাদের ব্যাপারে দায়মুক্তি, সম্পর্কহীনতা ও অসন্তোষের ঘোষণাবাণী। (কুর'আনুল করীম, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৯০৫)

৫| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:০৭

নতুন নকিব বলেছেন:



মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.