নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

দৈনন্দিন জীবনে পালনীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ মাসনূন দুআ-আমল: সুন্নাতের আলোকে উদ্ভাসিত আমলি যিন্দেগী গঠনে যা একান্ত প্রয়োজন

২১ শে মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:৪৫



দৈনন্দিন জীবনে পালনীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ মাসনূন দুআ-আমল: সুন্নাতের আলোকে উদ্ভাসিত আমলি যিন্দেগী গঠনে যা একান্ত প্রয়োজন

হামদ সানা প্রশংসার সবটুকুই মহান আল্লাহ তাআ'লার জন্য
ইন্নাল হামদা লিল্লাহিল আকরামাল্লাজি খালাকাল ইনসানা ওয়া কাররামাহু ওয়া আল্লামাহু মিনাল বায়ানি মা লাম ইয়া'লাম। ফাসুবহানাল্লাজি লা- ইউহসা- ইমতিনানুহু বিল্লিসানি ওয়ালা- বিল ক্কলাম। ওয়া নাশহাদু আল্লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া নাশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

হামদ সানা প্রশংসার সবটুকুই নিবেদন করছি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার জন্য- যিনি 'খাল্লাকুল আলীম' তথা 'মহান বিজ্ঞানময় স্রষ্টা', যিনি 'রব্বুল আ'লামীন' তথা 'বিশ্বজগতসমূহের পালনকর্তা'। অগনিত দরূদ ও সালাম 'সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন' তথা 'সকল নবী রাসূলের সরদার', 'রহমাতুল্লিল আলামীন' তথা 'তামাম জগতের জন্য দয়ার আধার করুনার অতলস্পর্শী বারিধারা' রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর বংশধর, তাঁর সাহাবায়ে কিরাম রাদিআল্লাহু আনহুম এবং সালিহীন, সিদ্দিক্কীন, শুহাদায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈনের প্রতি। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তার রসুল।

বুদ্ধিমান তো তিনিই, যিনি আসল জীবনের খবর নেন আগেই
ক্ষনস্থায়ী পৃথিবী আমাদের কারও থাকার স্থান নয়। ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়, পৃথিবীর সকল মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে আমার, আপনার, আমাদের প্রত্যেকের পাড়ি জমাতে হবে পরকালের অন্তহীন-অনাদি-অনন্তকালের সীমাহীন জীবনের উদ্দেশ্যে। পৃথিবীতে আমাদের পাঠানোর পেছনে আল্লাহ পাকের রয়েছে বিশেষ উদ্দেশ্য। তিনি দেখতে চেয়েছেন, আমাদের কার আমল কত ভালো। তিনি বলেছেন- 'লিইয়াবলুআকুম আইয়্যুকুম আহসানু আমালা'!

الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

'যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।' সূরাহ আল মুলক, আয়াত-০২

He Who created Death and Life, that He may try which of you is best in deed: and He is the Exalted in Might, Oft-Forgiving;-

আল্লাহ পাক বান্দার ভালো আমল দেখতে চান। আমাদের আমলের নিরিখে পরখ করতে চান। আমরা কে কতটা ভালো আমল করি, তা তিনি দেখতে চান। আচ্ছা, আল্লাহ পাকের আমলের কি প্রয়োজন? তিনি বান্দার আমল দিয়ে কি করবেন? সুবহানাল্লাহি বিহামদিহী! সুবহানাল্লাহিল আজিম! তিনি পুত:পবিত্র! পবিত্রতম! তিনি মহান! তিনি তো সকল প্রয়োজনের উর্ধ্বে! তিনি তো 'ছমাদ', 'চির অভাবমুক্ত'! কোনো দিন তাকে কোনো কিছুর মুখাপেক্ষি হতে হয় না! হওয়ার প্রশ্নও আসে না! তাহলে? তাহলেও কেন তিনি বান্দার আমলের দিকে তাকিয়ে থাকেন? কেন তাদের পরখ করতে চান তাদের আমল দেখে দেখে? কারণ, তিনি বান্দার উত্তম আমল দেখে খুশি হয়ে যান। এমনকি কোনো বান্দা যখন একটিবার গভীর অভিনিবেশ সহকারে, ইখলাসের সাথে 'সুবহানাল্লাহ' পাঠ করেন, আল্লাহ পাক খুশি হয়ে যান। আল্লাহ পাক এতই খুশি হন যে, তিনি এই ছোট্ট শব্দ 'সুবহানাল্লাহ' -এর বিনিময়ে এত পরিমানে সাওয়াব দান করে থাকেন যা মিজানের পাল্লাকে ভারী করে দিবে। বান্দা যখন তাকে স্মরন করেন, তাঁর গুনগান বর্ণনা করেন, তাঁর তাসবিহাত জপতে থাকেন, তিনি বান্দার প্রতি রহমতের বারিধারা বর্ষন করেন। ফেরেশতাদের ডেকে উত্তম মজলিশ কায়েম করেন। সেখানে বান্দার আলোচনা চলতে থাকে। আল্লাহু আকবার! কতই না মহান তিনি! তাকে ডাকলে তিনিও বান্দাকে ডাকেন! আহ, কতই না মায়ার আধার তিনি! কতই না মহান মহিয়ান তিনি! আহ, কতই না সুন্দর বলেছেন তিনি! 'ফাজকুরূনী আজকুরকুম'!

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُواْ لِي وَلاَ تَكْفُرُونِ

'সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।' সূরাহ আল বাক্কারাহ, আয়াত-১৫২

Then do ye remember Me; I will remember you. Be grateful to Me, and reject not Faith.

তিনি মহাসত্যবাদী। তিনি কথা রাখেন। ফেরেশতাদের ডেকে বলেন, 'পৃথিবীতে আমার অমুক বান্দা কি বলেছে, তোমরা কি শুনেছ?'

ফেরেশতারা বলেন, 'হে পরওয়ার দিগারে আলম! আপনি তো সবই জানেন, তিনি আপনার পবিত্রতার ঘোষনা দিচ্ছেন।'

আল্লাহ পাক বলেন, 'সে বান্দা কি আমাকে দেখেছে?'

ফেরেশতারা বলেন, 'জ্বি না, হে পরওয়ার দিগারে আলম। তিনি আপনাকে দেখেননি।'

আল্লাহ পাক বলেন, 'বান্দা যদি আমাকে দেখতে পেত, তাহলে অবস্থা কেমন হত?'

ফেরেশতারা বলেন, 'আপনাকে আরও বেশি পরিমানে ডাকতেন। আরও বেশি স্মরন করতেন।'

'সে কেন এমন করে বিনীত বদনে আমার তাসবীহ পাঠে রত? কি চায় সে?' শুধান মহান স্রষ্টা।

ফেরেশতাদের সকাতর নিবেদন, 'আপনার শাস্তি থেকে বাঁচতে চান, চির শান্তিময় জান্নাতের আশা করেন।'

'সে কি জান্নাত-জাহান্নাম দেখেছে?' আল্লাহ পাক জানতে চান পুনরায়।

ফেরেশতাদের বিনীত জবাব, 'মালিক মহিয়ান! না, তিনি দেখেননি।'

'দেখলে কি হত? কেমন করতো সে?' পুনরায় জিজ্ঞেস করেন মহান স্রষ্টা।

ফেরেশতাদের মস্তকাবনত প্রত্যুত্তর, 'আরও বেশি বেশি আপনার শাস্তি থেকে বাঁচতে চাইতেন, আরও বেশি বেশি আপনার চির শান্তিময় জান্নাতের আশা করে ফরিয়াদ করতে থাকতেন।'

প্রভূ মহিয়ানের রহমাতের দরিয়ায় যেন ঢেউ খেলে যায় মুহূর্তেই! ফেরেশতাদের সম্মোধন করে বলেন, 'তোমরা সাক্ষী থেকো, আমার এই বান্দাকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।'



ক্ষমা পেতে কে না চাই আমরা? ক্ষমার উপযোগী কাজগুলোও তো বেশি বেশি করতে হবে। সুন্নাতের রঙে রাঙিয়ে নিতে হবে আমাদের জীবন। আসুন, আজ দৈনন্দিন জীবনে অবশ্য পালনীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ মাসুনূন দুআ-আমল শিখে নিই; সুন্নাতের আলোকে উদ্ভাসিত আমলি যিন্দেগী গঠনে যেগুলো একান্ত সহযোগী ভূমিকা পালন করবে। আল্লাহ পাক আমাদের এগুলোর উপরে আমল করার তাওফিক দান করুন-

প্রতি ওয়াক্ত ফরজ সালাত অন্তে মাসনূন সহজ যে আমলগুলো করা উত্তম:

১। তাসবীহ-তাহমীদ-তাকবীর:
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি নামাজের পর ৩৩ বার-سُبْحَانَ اللّهِ (আল্লাহ অতিশয় পবিত্র), ৩৩ বার- َالْحَمْدُ لِلّهِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য), ৩৩ বার- اَللّهُ أَكْبَرُ ( আল্লাহ সুমহান) এবং একশত পূর্ণ করার জন্য একবার বলে –

لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়, যদিও তা সাগরের ফেনাপুঞ্জের সমান হয়। (ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ননা করেছেন)

অন্য বর্ণনায় : হযরত কা’ব ইবনে উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পঠিতব্য কয়েকটি কালিমা এমন আছে যেগুলোর পাঠকারী অথবা (বলেন) সম্পাদন কারী ব্যর্থ হয় না। সে গুলো হল প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার-سُبْحَانَ اللّهِ (আল্লাহ অতিশয় পবিত্র), ৩৩ বার- َالْحَمْدُ لِلّهِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য), ৩৪ বার- اَللّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সুমহান) বলবে। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী-৩৩৪৮ : হাসান)

২। সূরাহ ফাতিহা ১ বার, আয়াতুল কুরসী ১ বার, শাহিদাল্লাহু আন্নাহু লা- ইলাহা ১ বার, কুলিল্লাহুম্মা- ১ বার।

রেফারেন্স: তাফসীরে ইবনে কাসীরে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমাম বগভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, যে ব্যাক্তি প্রত্যেক নামাজের পরে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা আলে ইমরানের শাহিদাল্লাহু.. (১৭ নং) আয়াত শেষ পর্যন্ত, কুলিল্লাহুম্মা.. (২৬ ও ২৭ নং) আয়াত বিগাইরি হিছাব পর্যন্ত পাঠ করে আমি তার ঠিকানা জান্নাতে করে দেব, দৈনিক সত্তুর বার তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেব, আমার সকাশে তাকে স্থান দেব, শত্রুর কবল থেকে তাকে আশ্রয় দেব এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাকে জয়ী করব। -(তাফসীরে ইবনে কাসীর)



৩। সূরাহ ফালাক ও সুরা নাস- ১ বার করে।

রেফারেন্স: হযরত উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পরে মুয়াব্বিযাতাইন মানে, সূরাহ ফালাক এবং নাস পড়তে আদেশ করেছেন। -(তিরমিযী-২৮৩৮: হাসান , আবু দাউদ, নাসাঈ ও বায়হাকী)

৪। তাওবাহ, ইস্তিগফার ও দুআ:
হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শেষ করতেন তখন তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। অতঃপর বলতেন-

اَللّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

'হে আল্লাহ! আপনিই শান্তিদাতা, আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। হে প্রতাপ ও সম্মানের অধিকারী! আপনি বরকত ও প্রাচুর্য্যময়।'

ইমাম আওজায়ী রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে (বর্ণনাকারী) জিজ্ঞেস করা হল, 'তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা কেমন ছিল?'

তিনি বলেন, 'রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন :

- أَسْتَغْفِرُ اللّهَ- أَسْتَغْفِرُ اللّهَ - أَسْتَغْفِرُ اللّهَ

-(মুসলিম, তিরমিযী : হাসান ও সহীহ, আবু দাউদ, নাসাই ও ইবনে মাজাহ)

৫। বিশেষ দুআ:
হযরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে বলেছেন :'হে মুয়াজ! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালবাসি।' অতঃপর বললেন : 'হে মুয়াজ! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, প্রতি নামাজের পর নিম্নোক্ত কালিমাগুলো পড়ো-

اللّهُمَّ أَعِنِّيْ عَلى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

'হে আল্লাহ! আমি আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি- আপনার জিকির, শোকর এবং সর্বাঙ্গীন সুন্দর ইবাদাতের ক্ষেত্রে।' -(আবু দাউদ)

সকাল- সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাসনুন আমলঃ

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পরে যেসব আমল করা বিধেয় তা উপরে বর্ণিত হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা অর্থাত, ফজর এবং মাগরিব নামাজান্তে উপরে বর্ণিত আমলগুলো তো আদায় করতেই হবে। এর সাথে সহজে আদায়যোগ্য আরও কিছু আমল রয়েছে যা সকাল সন্ধ্যার সাথে সম্পৃক্ত। সেগুলো হচ্ছে-

১। সূরাহ হাশরের শেষ তিন আয়াত ১ বার পাঠ:
হযরত মালিক ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে তিনবার বলবে: আঊ-জু বিল্লা-হিচ্ছামি-ইল আলী-মি মিনাশশাইত্ব-নির রজী-ম। অতঃপর সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়বে, আল্লাহ পাক তার জন্য সত্তুর হাজার ফিরিশতা নিযুক্ত করবেন, তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দুআ করতে থাকবেন। আর ঐ দিন সে মারা গেলে তার শহীদী মৃত্যু হবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এরূপ পড়বে, সে (রাতের জন্য) অনুরূপ মর্যাদার অধিকারী হবে।' -(তিরমিযী : হাসান)

২। সূরাহ ইখলাস, সূরাহ ফালাক ও সূরাহ নাস- ৩ বার করে:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: সন্ধ্যায় ও সকালে কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, কুল আউ-জু বিরব্বিল ফালাক ও কুল আউ-জু বিরব্বিন্নাছ. তিন বার করে পড়ো। তাহলে এগুলো সবকিছু থেকে তোমার জন্য যথেষ্ট হবে'। (আবু দাউদ ও তিরমিযী)

৩। সূরাহ কাহাফের প্রথম তিন আয়াত ১ বার পাঠ করা:
হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : 'যে ব্যক্তি সূরাহ কাহাফের প্রথম তিনটি আয়াত পাঠ করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখা হবে।' -(মুসলিম ও তিরমিযী-২৮২১ হাসান ও সহীহ্)

৪। সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্টতা থেকে হিফাজতের জন্য যে দুআ:
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : 'যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে তিনবার বলে-

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

'আমি আল্লাহর কাছে তার পরিপূর্ণ বাক্যের উসীলায় আশ্রয় প্রার্থনা করি, তার সমস্ত সৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে, ঐ রাতে (কোন বিষধর প্রানীর দংশন জনিত) বিষ তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।' -(মুসলিম ও তিরমিযী)

৫। সকল অনিষ্টতা থেকে হিফাজতে থাকার আমল:
হযরত উসমান ইবনে আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে কোন বান্দা প্রতিদিন সকালে ও প্রতি সন্ধ্যায় তিনবার করে এই দুআ পাঠ করবে, কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।'

بِسْمِ اللّهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيمُ

অর্থাৎ 'আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমীনের কোন কিছুই কোন ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।' -(তিরমিযী-৩৩২৪ : হাসান ও সহীহ, আবু দাউদ, নাসাই ও ইবনে মাজাহ্)

৬। জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য পাঠ করতে হবে:
হযরত মুসলিম ইবনে হারিস তামীমী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে চুপে চুপে বলেছেন : যখন তুমি মাগরিবের নামাজ শেষ কর তখন কারো সাথে কথা বলার আগেই সাতবার পাঠ করবে-

اَللّهُمَّ أَجِرْنِيْ مِنَ النَّارِ

যদি তুমি তা পাঠ কর আর ঐ রাতে তোমার মৃত্যু হয় তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লিখে দেওয়া হবে। অনুরূপ ভাবে যদি ফজরের নামাজের পর পাঠ কর আর ঐ দিনে তোমার মৃত্যু হয় তবে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লিখে দেওয়া হবে। (তিরমিযী, আবু দাউদ ও তাবরানী)



৭। সমস্ত সমস্যার সমাধান:
হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় সাতবার করে বলে-

حَسْبِيَ اَللّهُ لَآ اِلهَ أِلأَّ هُؤَ عَلَيْهِ تَؤَكَّلْتُ ؤَهُؤَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

(আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আমি তার উপরই নির্ভর করছি আর তিনি মহান আরশের অধিপতি), আল্লাহ তায়ালা তার সকল কাজ সমাধা করে দেন এবং তার সকল ইচ্ছা পূর্ণ করেন। -(মুসনাদে আহমাদ)

৮। আল্লাহর সন্তোষ লাভ:
হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলে-

رَضِيتُ بِاللّهِ رَبًّا وَّبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ نَّبِيًّا

(আমি আল্লাহকে রব হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি), তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়া আল্লাহর কর্তব্য হয়ে যায়। -(তিরমিযী-৩৩২৫ : হাসান)

৯। সাওয়াব লাভের একটি আমল:
হযরত আবু আইউব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি দশবার বলে-

لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

(আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তার কোন শরীক নাই, রাজত্ব তারই, সমস্ত প্রশংসা তারই জন্য এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বময় ক্ষমতাবান), সে হযরত ইসমাইল আলাইহিসসালামের বংশের দশ জন গোলাম আজাদ করার সমপরিমান সওয়াব পাবে। -(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী)

অন্য বর্ণনায় : হযরত আবু আইয়াশ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় বলে-

لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

তার জন্য হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশের গোলাম আজাদ করার সমতুল্য বলে গন্য হবে, দশটি নেকী লেখা হবে, দশটি পাপ মোচন করা হবে, দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে এবং শয়তান হতে নিরাপদে থাকবে। -(তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)

১০। সকল দুআর সম্মিলিত ফজিলতের দুআটি পাঠ করুন ১ বার:
আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দুআই করেছেন আমরা তার কিছুই স্মরণ রাখতে পারিনি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি অনেক দুআই করেছেন আমরা তার কিছুই স্মরণ রাখতে পারিনি। তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিব না, যা সেই সমস্ত দোয়ার সমষ্টি হবে? তোমরা বল-

اَللّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ الْبَلَاغُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّهِ০

'হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট সেই কল্যাণ কামনা করি, যা আপনার নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার নিকট কামনা করেছেন এবং আমরা আপনার নিকট সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, যে অনিষ্ট থেকে আপনার নবী মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আপনিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং আপনিই কল্যাণ পৌঁছিয়ে দেন। আল্লাহ ভিন্ন ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ পৌঁছানোর কারো কোন শক্তি নাই'। তিরমিযী।

১১। উত্তম জিকির :
- اَللّهُ أَكْبَرُ- لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ - اَلْحَمْدُ لِلّهِ - سُبْحَانَ اللّهِ (সম্ভব হলে একশত বার) : হযরত আমর ইবনে শুয়াইব (র) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার রাদিয়াল্লাহু আনহু সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি সকালে একশতবার ও সন্ধ্যায় একশতবার سُبْحَانَ اللّهِ বলে, সে একশতবার হজ্জ আদায়কারীর সমতুল্য। যে ব্যক্তি সকালে একশতবার ও সন্ধ্যায় একশতবার اَلْحَمْدُ لِلّهِ বলে, সে আল্লাহর পথে একশত ঘোড়া দানকারীর অনুরূপ অথবা তিনি বলেছেন একশতবার জিহাদে অংশ গ্রহনকারীর সমতুল্য। যে ব্যক্তি সকালে একশতবার ও সন্ধ্যায় একশতবার لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ বলে, সে ইসমাইল আলাইহিস্সালাম এর বংশের একশত গোলাম আজাদকারীর ন্যায়। যে ব্যক্তি সকালে একশতবার ও সন্ধ্যায় একশতবার اَللّهُ أَكْبَرُ বলে, সেই দিনের মধ্যে তার চেয়ে আর কেউ অধিক কিছু (আমল) পেশ করতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি তার অনুরূপ সংখ্যায় পড়েছে বা তার চেয়ে বেশী সে ব্যতীত। -(তিরমিযী : হাসান ও নাসাই)



১২। দুরূদ শরীফ-দশ বার :
উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় দশবার করে দুরূদ শরীফ পাঠ করে, সে কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভ করবে। -(তারগীব)

১৩। সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার :
হযরত সাদ্দাদ ইবনে আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সর্বশ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার হল-

اَللّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوْءُ لَكَ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ০

(হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আর আমি তোমার গোলাম। আমি আমার সাধ্যমত তোমার প্রতিশ্র“তি ও অংগীকারে আবদ্ধ রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তোমার কাছে স্বীকার করছি আমার উপর তোমার প্রদত্ত অনুগ্রহকে এবং আমার পাপও স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ব্যতীত কোন ক্ষমাকারী নাই) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি ইয়াকীনের সাথে উক্ত দোয়া দিবসে পাঠ করবে এবং সন্ধ্যার পূর্বে মারা যাবে সে জান্নাতীদের অন্তর্ভূক্ত হবে আর যে ব্যক্তি ইয়াকীনের সাথে উক্ত দোয়া রাতে পাঠ করবে এবং সকালের পূর্বে মারা যাবে সেও জান্নাতীদের অন্তর্ভূক্ত হবে। -(বুখারী, তিরমিযীতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে)

১৪। হযরত আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দোয়া- ১ বার :
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন কিছুর নির্দেশ দিন যা আমি সকালে ও বিকালে উপনীত হয়ে বলতে পারি। তিনি বললেন, তুমি বল :

اَللّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَّمَلِيْكَه أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِه

(হে আল্লাহ! অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আসমান ও জমীনের সৃষ্টিকর্তা, সব কিছুর প্রতিপালক ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। আমি আমার নাফসের অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে এবং শিরক থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি)- তিনি বললেন : তুমি এ দোয়া সকালে, বিকালে ও শয্যা গ্রহনকালে পড়বে। -(তিরমিযী : হাসান ও সহীহ)

১৫। আসমা-উল হুসনা এর ফজিলত :
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর এক কম একশত (অর্থাৎ নিরানব্বইটি) নাম আছে। যে ব্যক্তি এই নামগুলো আয়ত্ব¡¡ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল। (বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী : হাসান ও সহীহ,)

আসমা-উল হুসনা (সম্ভব হলে) একবার পাঠ করা উচিত।



ঘুমানোর সময়কার মাসনুন আমলঃ

১। আয়াতুল কুরসী পাঠ:
যদি কেউ শয়নকালে আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করে তাহলে শয়তান তার নিকটবর্তী হবে না। -(বুখারী ও মুসলিম)

২। সূরা ইখলাস-ফালাক-নাস পাঠ:
হযরত আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ, কুল আঊ-জু বিরব্বিল ফালাক ও কুল আঊ-জু বিরব্বিন্নাছ পড়ে নিজের দুই হাতের তালু একত্র করে তাতে ফুঁ দিতেন, অতঃপর উভয় হাত যথাসম্ভব সারা শরীরে মলতেন। তিনি মাথা, মুখমন্ডল ও দেহের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এভাবে তিনি তিন বার তা মলতেন। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী-৩৩৩৮, নাসাই ও আবু দাউদ)

৩। সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত :
হযরত আবু মাসঊদ আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি রাতে সুরা আল বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাই ও ইবনে মাজাহ)

৪। সূরা মুলক তিলাওয়াত :
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : কুরআনে ত্রিশ আয়াত বিশিষ্ট একটি সুরা আছে, যা কোন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়। এ সুরাটি হল তাবা-রকাল্লাজী বিয়াদিহিল মুলক। -(তিরমিযী : হাসান, নাসাই, ইবনে মাজাহ ও আবু দাউদ) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণতঃ এই সুরা না পড়ে ঘুমাতেন না।



৫। শয়ন কালে ইস্তিগফার :
হযরত আবু সাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : কোন লোক বিছানায় শয়নকালে তিনবার বলে-

أَسْتَغْفِرُ اللّهَ الَّذِيْ لَا إِلهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ

(আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী আর তার নিকট তওবা করি) আল্লাহ তার গুনাহ সমূহ মাফ করে দেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা রাশির সমতুল্য হয়, যদিও তা বৃক্ষরাজির পাতার ন্যায় অসংখ্য হয়, যদিও তা টিলাসমূহের বালিরাশির ন্যায় হয়, যদিও তা দুনিয়ার দিন সমূহের সমসংখ্যক হয়। -(তিরমিযী-৩৩৩৩ : হাসান)

৬। শয়নকালে জিকির :
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা আমার নিকট অভিযোগ করে যে, গম পেষার চাকতি ঘুরানোর দরুন তার উভয় হাতে ফোসকা পড়ে গেছে। আমি বললাম, যদি তুমি তোমার পিতার (রসূলুল্লাহ্) নিকট গিয়ে তার কাছে একজন খাদেমের আবেদন করতে। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি কি তোমাদের দুজনকে এমন জিনিষ বলে দেব না, যা তোমাদের জন্য খাদেমের চেয়ে উৎকৃষ্ট ? তোমরা শয়ন কালে ৩৩ বার-سُبْحَانَ اللّهِ (আল্লাহ পবিত্র), ৩৩ বার- اَلْحَمْدُ لِلّهِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য), ৩৪ বার- اَللّهُ أَكْبَرُ ( আল্লাহ সুমহান) বলবে। হাদীসে আরও বিবরন আছে। -(বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী-৩৩৩৪ : হাসান)

৭। ইশা-বাদ ঘুমের আগে দুরূদ পাঠ :
ইশার নামাজের পর ঘুমের আগে কমপক্ষে একশত বার দুরূদ পাঠ করার জন্য আল্লাহ্ওয়ালাগণ পরামর্শ দিয়েছেন। দুরূদ পাঠের ফলে একই সাথে আল্লাহ্ ও তার রসূলের সাথে গভীর মহব্বত সৃষ্টি হয়। ফলে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে স্বপ্নে জিয়ারত নসীব হওয়ার আশা করা যায়।

৮। শয়নকালে ও ঘুম থেকে উঠে দোয়া :
হযরত হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে বিছানায় শয়নকালে নিজের ডান হাত ডান গন্ডের নীচে রাখতেন। অতঃপর বলতেন-

اَللّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

(হে আল্লাহ্, আমি তোমারই নামে মরি এং তোমারই নামে বাঁচি)। অতঃপর তিনি যখন জাগতেন তখন বলতেন-

اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

(সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেছেন। আর তার দরবারেই হাজির হতে হবে)-বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ।



৯। ঘুমের শুরুতে দোয়া :
হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন নিজ (ডান) হাত স্বীয় মাথার নীচে রাখতেন, অতঃপর বলতেন-

اَللّهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَجْمَعُ أَوْ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

(হে আল্লাহ! যে দিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে সমবেত করবে অথবা পূনরুত্থিত করবে সেদিন আমাকে তোমার শাস্তি থেকে নিরাপদ রেখ)- তিরমিযী।

১০। রাতে ঘুম ভেংগে গেলে দোয়া ও জিকির :
হযরত উবাদা ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি রাতে (ঘুম ভেংগে গেলে) জাগ্রত হয়ে বলে-

لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَسُبْحَانَ اللّهِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ وَلَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَاللّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّهِ০

(আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই, সার্বভৌমত্ব তারই জন্য, সমস্ত প্রশংসা তারই প্রাপ্য এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, সমস্ত প্রসংশা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ সুমহান এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত অন্যায় থেকে বিরত থাকার কিংবা ভাল কাজ করার শক্তি কারো নেই)- অতঃপর সে বলবে- رَبِّ اغْفِرْ لِيْ (হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দাও)। অথবা তিনি বলেছেন : সে দোয়া করলে তা কবুল করা হয়। আর সে যদি হিম্মত করে অজু করে নামাজ পড়ে তবে তার নামাজও কবুল করা হবে। -(বুখারী ও মুসলিম)

১১। ঘুম না আসা পর্যন্ত জিকির ও দোয়া :
হযরত আবু উমামা বাহেলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি ঘুমানোর জন্য পবিত্র অবস্থায় বিছানায় যায় এবং ঘুম না আসা পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করতে থাকে, সে পার্শ্ব পরিবর্তন করার পূর্বেই আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থেকে যা কিছু প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করবেন। -(তিরমিযী : হাসান)



সার্বক্ষণিক এবং অন্যান্য মাসনুন আমলঃ

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন : তোমরা আমার স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো আর আমার প্রতি শোকর-গোজারী কর এবং (আমার নিয়ামতের নাশোকরী করে) কুফরী করো না। -(সূরা বাকারাহ : আয়াত নং ১৫২)

তিনি আরও বলেন : নিঃসন্দেহে আসমান সমূহ ও জমিনের সৃষ্টি ও দিন-রাত্রির আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে, যারা দাড়ানো, বসা ও শায়িত সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করে। (সূরা আলে ইমরান : ১৯০-১৯১)

হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমনটি ধারনা করে আমি তার সাথে ঠিক তেমনটি আচরণ করি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথে থাকি। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে আমিও মনের মধ্যে তাকে স্মরণ করি। আর যদি কোন মাজলিসে আমাকে স্মরণ করে আমিও তার চাইতে উত্তম মাজলিসে তাকে স্মরণ করি। -( বুখারী ও মুসলিম)

হযরত ইবনে মাসঊদ ও ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর বন্ধু কারা? উত্তরে তিনি বললেন : তারা হচ্ছে ওরাই যাদেরকে তুমি দেখতে পাও যে, সর্বদা আল্লাহর স্মরনে নিমগ্ন রয়েছে। -(মুসনাদে আহমাদ)

তাই সদা-সর্বদা বেহুদা কথা-কাজ-চিন্তা পরিহার করে জিকিরের মাঝে জিহবা ও মনকে লিপ্ত রাখা উচিৎ। সহজে আমলযোগ্য কিছু জিকির হল-

১। সর্বোত্তম জিকির:
হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি : সর্বোত্তম জিকির হচ্ছে- لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ (তিরমিযী)। সর্বদা এই জিকিরে লিপ্ত থাকা যায়।

২। তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল ও তাকবীর:
হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

سُبْحَانَ اللّهِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ وَلَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَاللّهُ أَكْبَرُ

(আল্লাহ অতিশয় পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সুমহান) বলা আমার নিকট যে সব জিনিসের উপর সূর্য উদিত হয় তার চেয়ে অধিক প্রিয়। -(মুসলিম ও তিরমিযী)

অন্য বর্ণনায়: হযরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমি মি’রাজের রাত্রে ইব্রাহীম আলাইহিস্সালাম এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি বলেন- হে মুহাম্মাদ! আপনার উম্মাতকে আমার সালাম পৌঁছিয়ে দিন এবং তাদেরকে জানিয়ে দিন যে, জান্নাতের মাটি অত্যন্ত সুগন্ধিযুক্ত এবং সেখানকার পানি অত্যন্ত সুস্বাদু। জান্নাত একটি সমতল ময়দান এবং তথাকার বৃক্ষরাজি হল :

سُبْحَانَ اللّهِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ وَلَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَاللّهُ أَكْبَرُ

'আল্লাহ অতিশয় পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সুমহান'। -(তিরমিযী : হাসান)

৩। ক্ষমা লাভের অনন্য জিকির:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'পৃথিবীর বুকে যে ব্যক্তি বলে-

لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَاللّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّهِ

(আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ সুমহান এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া মন্দকে রোধ করার ও কল্যাণ হাসিল করার শক্তি কারো নাই), তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয় যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির মত হয়।' -(তিরমিযী)

৪। লা- হাওলা.... জান্নাতের গুপ্তধন:
হযরত আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : আমি কি তোমাকে জান্নাতের একটি গুপ্তধনের কথা জানাবো না? আমি বললাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রসুল! তিনি বলেন, তা হল-
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّهِ -(বুখারী ও মুসলিম)

৫। ক্ষমালাভের অারেকটি জিকির:
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : 'যে ব্যক্তি একশত বার বলে-

سُبْحَانَ اللّهِ وَبِحَمْدِه

(আমি প্রশংসা সহকারে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি) তার গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়, তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমপরিমান হলেও'। -(তিরমিযী-৩৪০০ : হাসান ও সহীহ, বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ)

৬। চারটি কালিমা তিনবার পড়ার সওয়াব ফজর থেকে চাশত পর্যন্ত জিকির করার ন্যায়:
তিনবার পড়ার সওয়াব ফজর থেকে চাশত পর্যন্ত জিকির করার ন্যায়- (মুসলিম শরীফে হাদীসটির আরও বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে)

سُبْحَانَ اللّهِ وَبِحَمْدِه عَدَدَ خَلْقِه وَرِضَا نَفْسِه وَزِنَةَ عَرْشِه وَمِدَادَ كَلِمَاتِه

'প্রশংসাসহ আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাঁর সমগ্র সৃষ্টির সমপরিমান, তাঁর সন্তোষের পরিমান, তাঁর আরশের ওজন পরিমান, তাঁর কালিমার সমপরিমান'।

৭। যে কালিমা পাঠে জান্নাতে লাগানো হয় খেজুর গাছ :
হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি একবার বলে-

سُبْحَانَ اللّهِ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِه

(আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করছি), তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়। -(তিরমিযী-৩৩৯৮ ও ৩৩৯৯)

৮। দু'টি বাক্য যা মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, মিজানে ওজনে অনেক ভারী এবং করুণাময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়:
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এমন দুটি বাক্য আছে যা মুখে উচ্চারণ করা খুবই সহজ, মিজানে ওজনে অনেক ভারী এবং করুণাময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয় (তা হল)-

سُبْحَانَ اللّهِ وَبِحَمْدِه- سُبْحَانَ اللّهِ الْعَظِيْمِ

'আমি প্রশংসা সহকারে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ননা করছি। আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ননা করছি'। - বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাই ও ইবনে মাজাহ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের সবাইকে তাঁর পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তাওফিক দিন। উত্তম আমলের মাধ্যমে সাজিয়ে নিতে পারি আমাদের জীবন, সেই কিসমত নসিব করুন। প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি সুন্নাতের প্রতি অন্তরে মুহাব্বত তৈরি করে দিন। পার্থিব সংক্ষিপ্ত এ জীবনে দ্বীনের উপরে দায়িম কায়িম রাখুন। পরকালে নাজাতপ্রাপ্ত মাকবূল মাগফূরগনের সাথে আমাদেরও নাজাতদানে ধন্য করুন। আমীন।

কৃতজ্ঞতা: বিভিন্ন সোর্স থেকে সংগৃহীত, পরিমার্জিত এবং সংকলিত। বিশেষ কৃতজ্ঞতা Khademul Islam ভাইয়ের প্রতি।

ছবি: অন্তর্জাল।

কৈফিয়ত:
১. পোস্ট কিছুটা দীর্ঘ হওয়ায় ধৈর্য্যচূতি ঘটে কি না কারও! কিন্তু পর্বাকারে দেয়া হলে ভালো লাগতো না। এক মলাটে থাকাটাই সুবিধাজনক মনে হওয়ায় একসাথেই দেয়া হল।
২. এই পোস্ট শুধুমাত্র পরকালে বিশ্বাসী এবং কথায় নয়, আমলে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের জন্য। অন্যদের জন্য শুভকামনা।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৩১

আকতার আর হোসাইন বলেছেন: জাজাকাল্লাহ খায়্যির..

২১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৬

নতুন নকিব বলেছেন:



জাজাকুমুল্লাহু তাআ'লা আহসানাল জাজা।

প্রথম মন্তব্যে আপনাকে পেয়ে আনন্দিতবোধ করছি। কৃতজ্ঞতাসহ শুভকামনা।

২| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:২৩

আমি মুক্তা বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ, ভীষণ দরকারি পোষ্ট।

২১ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:৫৬

নতুন নকিব বলেছেন:



জাজাকুমুল্লাহু তাআ'লা আহসানাল জাজা।

আপনার মত আমারও প্রিয় পোস্ট এটি। অাশা করতে চাই, আখিরাত অভিমুখী সকলের কাছেই এই পোস্ট প্রিয় থেকে প্রিয়তর, প্রিয়তম হয়ে উঠবে। শুধু পোস্ট প্রিয়তে নিয়েই যেন আমরা ক্ষান্ত না হই, আল্লাহ পাক আমাদের প্রত্যেককে আমলী জীবন গড়ার তাওফিক দিন। সুন্নাহর আলোয় আলোকিত হওয়ার কিসমত নসিব করুন।

ভালো থাকুন অনুক্ষন।

৩| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩০

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: আপনি যে এই ধরনের পোষ্ট করেন এই ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লাগে।
আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।

০৮ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৪:১৫

নতুন নকিব বলেছেন:



জাজাকুমুল্লাহু তাআ'লা আহসানাল জাজা।

৪| ২১ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:৩৫

রাজীব নুর বলেছেন: আল্লাহ মাফ করুক আমাদের সমস্ত গুনাহ।

০৮ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৪:১৫

নতুন নকিব বলেছেন:



আল্লাহুম্মা আমিন।

৫| ২৭ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ৩:৪১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: নতুন নকিব,
সবার খুব উপকার হবে একসাথে এক জায়গায় দোয়াগুলো পেয়ে । ভালো লাগা পোস্টে ।
১ নং -তাসবীহ তাকমীদ তাকবীর নিয়ে হাদিসের মনে হয় আরেকটা ভার্সন আছে না ? এমন :
হযরত কা’ব ইবনে উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পঠিতব্য কয়েকটি কালিমা এমন আছে যেগুলোর পাঠকারী অথবা (বলেন) সম্পাদন কারী ব্যর্থ হয় না। সে গুলো হল প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার-سُبْحَانَ اللّهِ (আল্লাহ অতিশয় পবিত্র), ৩৩ বার- َالْحَمْدُ لِلّهِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য), ৩৪ বার- اَللّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সুমহান) বলবে। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী-৩৩৪৮ : হাসান) I

০৮ ই মে, ২০১৯ বিকাল ৪:২০

নতুন নকিব বলেছেন:



জ্বি, শুকরিয়া। আপনি সঠিক বলেছেন। পোস্টে সংশ্লিষ্ট অংশের শেষের দিকে আপনার উল্লেখিত হাদিসখানাও রয়েছে।

অনেক ভালো থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.