নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার পূর্বানুমান তাহলে বাস্তবতার বাইরে ছিল না

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯

আমার পূর্বানুমান তাহলে বাস্তবতার বাইরে ছিল না

ছবি সংগৃহিত।

গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আমি “২০২৬
সংসদ নির্বাচন: যেভাবে ভাগ হতে পারে ৩০০ আসন
” শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। সেখানে সম্ভাব্য আসন বণ্টন নিয়ে যে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছিলাম, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে তা অনেকাংশেই বাস্তবতার কাছাকাছি ছিল। আমি লিখেছিলাম, বিএনপি এককভাবে অথবা জোটের নেতৃত্বে ১৬০ থেকে ২০০ আসন পেতে পারে। বাস্তবে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে দলটি এককভাবে ১৫৯ টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং জোটগতভাবে মোট ২১২ টি আসন অর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে আমি ৭০ থেকে ৮০ টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছিলাম। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দলটি জোটগতভাবে ৭৭ টি আসনে জয়লাভ করেছে। এনসিপি সম্পর্কে আমি ১০ থেকে ২০ টি আসনে জয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছিলাম। বাস্তবে নাহিদ, হাসনাত এবং আখতারসহ তারা ৬ টি আসনে জয়ী হয়েছে। নতুন সরকারের বিরোধী দলে হলেও সংসদে কিছু তরুন প্রতিনিধি থাকছেন, এটাই আশার কথা। ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর নির্বাচিত হয়েছেন।

ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনের জন্য ৩ থেকে ৭ টি আসনের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছিলাম, যদিও দলটি শেষ পর্যন্ত ১ টি আসনে জয়লাভ করেছে। সেই আসনটিও স্বয়ং পীর সাহেবের আসন নয়। বরগুনার একটি আসনে জিতেছে দলটি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আমার পূর্বানুমান ছিল ৫ থেকে ১০ টি আসন তাদের দখলে যেতে পারে। চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, ৮ টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ফ্যাসিবাদের দোসর খ্যাত জাতীয় পার্টি এই নির্বাচনে ০ আসন পেয়ে নিজেদের মান রেখেছে। হেফাজত নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন রুমিন ফারহানা এবং মাওলানা মামুনুল হককে হারিয়ে ঢাকা ১৩ আসনে জিতেছেন বিএনপি সমর্থিত ববি হাজ্জাজ। ঢাকা ১৪ তে বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলামকে হারিয়ে দিয়ে জিতে গেছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৮ বছর গুম থাকার পরে ফিরে আসা মীর আহমদ বিন কাসেম। একইভাবে গুমের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরীও চট্টগ্রামের একটি আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী নির্বাচিত হয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে। নির্বাচিত হয়েছেন পাবনা-১ থেকে মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানও। আলোচিত ইসলামিক বক্তা মো. আমির হামজা বিজয়ী হয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনে।

এছাড়া, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ২০ টি আসনের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ১৩ টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬ টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১টি আসনে জয় লাভ করেছে। বিএনপি চেয়ার পারসন তারেক রহমান ২ টি আসনে নির্বাচনে নেমে উভয়টিতেই পাশ করে মায়ের বিজয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন। মোঃ সারজিস আলমের আসন পঞ্চগড় ১ এ জিতেছেন নওশাদ জমির। তবে ভোটের ব্যবধান খুবই সামান্য। নওশাদ জমির যেখানে ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭৬,১৬৯ ভোট পেয়েছেন, সারজিস সেখানে পেয়েছেন ১,৬৮,০৪৯ ভোট। বুঝাই যাচ্ছে, খুবই প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ নির্বাচন ছিল। একইরকমভাবে ঢাকা ৮ আসনে মির্জা আব্বাস ধানের শীষ নিয়ে ৫৯,৩৬৬ ভোট পেয়ে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে হারিয়ে নির্বাচিত হলেও এখানে পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪,১২৭ ভোট।

মজার বিষয় হচ্ছে, ফ্রি ওয়াজের ঘোষণা দিয়েও লক্ষাধিক ভোটে হেরে গেছেন বিতর্কিত বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। তিনি হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম ফয়সল এর কাছে হেরেছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট। আর বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। নির্বাচনকে ঘিরে কিছু স্থানে জাল ভোট প্রদান, সূক্ষ্ম কারচুপি এবং ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগও করেছেন কিছু প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। আমাদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সংস্কৃতি পরিহার করে সুশাসন, জবাবদিহি ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র পরিচালনায় মনোযোগী হবে। দেশ এগিয়ে যাক, মানুষের জীবন হোক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ, এই কামনাই রইল।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য বলেছেন: আপনার পূর্বানুমান বাস্তবতার বাইরে ছিল না। আপনি পাশ। জামায়াতের আরেকটু ভালো করার সুযোগ ছিল।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৮

নতুন নকিব বলেছেন:



জামাতের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল, ঠিকই বলেছেন। কিন্তু অতি উৎসাহী হওয়া উচিত নয়। তারা কিছু কাজ হয়তো বাড়তি করেছে। তবে, জামাত যা পেয়েছে তাতে তাদের সন্তুষ্ট থাকা সঙ্গত মনে করি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.