নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অপ্‌সরা

যেখানে ঘর বাঁধবো আমি, আসে আসুক বান, তুমি যদি ভাসাও মোরে, চাইনে পরিত্রাণ!!

অপ্‌সরা › বিস্তারিত পোস্টঃ

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে- শেষ পর্ব

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:২২


আমাদের যশোরের সেই মায়া মায়া সুশীতল ছায়াঘেরা বাড়িটাকে আমি প্রায়ই স্বপ্নে দেখি। যেন শুনশান দুপুরবেলা ভাতঘুমের পর ঘুমাচ্ছে বাড়ির মা চাচী দাদীমা ও বাচ্চারা। অন্য ছেলেমেয়েগুলো সব স্কুল বা কলেজে। ছোট চাচীর ছোট মেয়েটা তারস্বরে কাঁদছে। কেউ তাকে কোলে নিচ্ছে না কেনো? ভাবতে ভাবতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় আমার। আবার কোনো কোনো দিন দেখি মা আমার চুল ধরে হিড় হিড় করে দাদীমার কাছে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দাদীর কাছে নালিশ দিচ্ছে, খুব শাসাচ্ছে মা। বলছে,
- বল বল কেনো চুল কাটতে চেয়েছিলি? কি ছিলো তোর মনে? কি চাস তুই বল?
আমি আয়নায় দেখি আমার সারা মাথায় কোনো চুল নেই। কি ভয়ানক স্বপ্ন! তবুও স্বপ্নের ভেতরেই আমার ভয়ানক কষ্ট হতে থাকে।
স্বপ্নের ভেতরেই আমার চোখ দিয়ে গলগল পানি পড়তে থাকে। আমি ফোঁপাতে থাকি। বালিশ ভিজে যায়। ঘুম ভেঙ্গে চেয়ে দেখি আমার স্বামী অবাক হয়ে চেয়ে আছেন আমার দিকে। আমার লজ্জা লাগে। আমি বলি আমি খুব দুঃখের একটা স্বপ্ন দেখছিলাম। উনি কিছুই বলেন না। জানতেও চান না কোন সে দুঃখের কথা বুকের মাঝে জমা আছে আমার যেই দুঃখ বুকের গভীর থেকে উঠে এসে ঘুমের মাঝেও হানা দেয় আমার চোখের পাতায়। আমি ঐ রাত দুপুরেও তাকে সাত পাঁচ বুঝাবার আপ্রাণ চেষ্টা করি। উনি কিছু বলেন না। নিশব্দে আমার মাথা বুকের মাঝে টেনে নেন। আমি যতক্ষন না ঘুমিয়ে পড়ি মাথায় হাত বুলিয়ে যান।

প্রায়ই স্বপ্নে আমি পথ হারিয়ে ফেলি। কোথায় যে চলে যাই! জায়গাটা চেনা চেনা লাগে কিন্তু ঠিক চিনতে পারি না। সেদিন দেখলাম বিশাল খোলা এক প্রান্তরে একাকী দাঁড়িয়ে আমি। আকাশে রোদ নেই। চারিদিক মেঘে ঢাকা। কে যেন চিল্লিয়ে বলে উঠলো, ঈষান কোনে মেঘ জমিছে, চাতক পাখীরা উড়াউড়ি করতিছে, মেঘ হবে, দেওয়া হবে মনি, শিগগিরি বাড়ি ফিরতি হবি। আমি চারিদিকে তাকিয়ে কাউকে খুঁজে পাই না। স্বপ্নে আমি বুঝতেই পারিনা এ কোথায় এসেছি আমি। কেই বা ফিরে যেতে বলে আমাকে? আমি সামনে আগাই। অকূল সেই পাথারে একলা একাকী আমি কোনো কূল কিনারা খুঁজে পাইনা কোথাও।

দেখতে দেখতে বিয়ের ছয় মাস পেরুলো। সেই যে ফিরানীতে গিয়েছিলাম তারপর আর বাবার বাড়ি যাওয়া হয়নি আমার। আমার কলেেজে ক্লাস শুরু হয়েছে। রোজই কলেজেও যাচ্ছি আমি। কিন্তু শুধু ঐ যাওয়া আর আসা পর্যন্তই। বাসায় পড়ালেখার কোনো পরিবেশই নেই। ফিরলেই শ্বাশুড়ির নানা বাক্যবাণ তারপর বিকালের নাস্তা, রাতের খাবার, অনুষ্ঠান অতিথী অভ্যাগত। আমি একান্নবর্তী পরিবারের মেয়ে। এসবে অভ্যস্ত।লোকজন গল্প গুজব ভালোই লাগে আমার তবে সবকিছুর পর মনে হয় কোথায় যেন এক বিশাল ফারাক। এক বুক শূন্যতা খা খা করে আমার হৃদয়ের অলিন্দে অলিন্দে! আমাদের যশোরের বাড়িতে সারাদিনমান যে প্রানচাঞ্চল্য ছিলো সেই প্রান আমি এ বাড়ির কোথাও খুঁজে পাই না।

তবে আমার ভালোমানুষ স্বামী তার মায়ের রাক্ষুষী ছোবল থেকে বটগাছের মত আমাকে আগলে রাখেন। এই লোকও যদি মায়ের মত ভ্রু কুচকানো স্বভাবের হত তাহলেই হয়েছিলো আমার। একেবারে সোজা মর্ত্যেই নরকবাস। আমার শ্বশুর মানুষটাও ভালো। আমার দাদুর মত বা বাবা চাচাদের মত এত শাসন বারন নেই তার মাঝে। সত্যি বলতে এই নিপাট ভদ্রলোক কি করে অমন কাঠখোট্টা মহিলার সাথে এতগুলো বছর কাটিয়ে গেলো সেই ভেবেই অবাক হই আমি। আমার মন হঠাৎ একাকী দুপুরগুলোতে বিষন্ন হয়ে পড়ে। আমি জানালায় তাকিয়ে থাকি। এই শহুরে জানালায় সেই ঘন পত্র পল্লবিত আমাদের বাড়ির পেছনের বিশাল বাগান নেই তবে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ। কৃষ্ণচূড়ার ঝিরিঝরি পাতাগুলি বাতাসে দোল খায় আমার জানালায়। আমি অপলক তাকিয়ে থাকি। মনে মনে আঁকি সেই যশোরে ফেলে আসা আমাদের বাড়ির পেছনের বিশাল বাগানের তমাল তরুরাজী। আমার বুকের ভেতরে হাহাকার ওঠে কিন্তু আমি সেসবে খুব একটা পাত্তা দেই না। সেই সব দুপুরগুলোতে আমি ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে গালে ব্লাশন লাগাই। আলমারী থেকে জ্যুয়েলারী বক্স বের করে দরজা বন্ধ করে এক এক করে পরি। আয়নায় নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি। সুন্দর সুন্দর সব শাড়িগুলি খুলে খুলে গুছাই একে একে।

হঠাৎ যশোর থেকে খবর এলো আমার মামাত বোন উপমার বিয়ে। ছেলে ব্যবসা করে। বিয়ের পর উপমা খুলনা চলে যাবে। আমি সব সময় আমার দাদুর বাড়ির গল্পই বলেছি আমার নানুবাড়ি কিংবা মামাত খালাতো ভাইবোনদের কথা বলিনি বা লিখিনি। সেসব না হয় লিখবো অন্য কোনো সময়। তবে মামাত বোন উপমার কথাটি এইখানে আনছি কারণ এই ঘটনাটির সাথেই আমার বিয়ের ৬ মাস পর যশোরের বাড়িতে যাবার কারণ ঘটলো। যদিও আমার স্বামীর এখন দারুন ব্যস্ততা তায় আবার উনাকে ৩ সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে কাজেই এই বিয়েতে যাবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমি আজীবন শাসন বারণে থাকা মানুষটা মেনেই নিলাম আমার যাওয়া হচ্ছে না।

কিন্তু আমার ভালোমানুষ স্বামী বললেন,
- ভালোই হলো আমি থাকবো না। একা একা থাকতে তুমি, তার চেয়ে তোমাকে যশোরে পাঠিয়ে দেই। মনের আনন্দে বোনের বিয়েতে এই ক'টা দিন কাটিয়ে আসতে পারবে। আমিও এর মাঝে ঘুরে আসবো .....
আমার মনের মাঝে এই কথা শুনে নেচে ওঠে একশো ময়ূর কিন্তু আমি কিছু বলি না।
পরদিন শ্বাশুড়িকে বলতেই উনার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। বলেন,
- বলিস কি বাবু? না না তুই থাকবি না আর নীরা একা যাবে? কখন আবার কি বিপদ হয়। নীরার কোথাও যাওয়া হবে না।
আমার ভালোমানুষ স্বামী দৃঢ় কঠিন কন্ঠে কিন্তু গলার স্বর নীচুতে রেখে বলেন,
- মা নীরা যাবে। নীরা ওর মামাত বোনের বিয়েতে যাবে। আমি কাল ওকে রেখে আসবো।
বলে বেরিয়ে যান। আর আমার শ্বাশুড়ি বোয়াল মাছের মত হা করে সেই যাত্রা পথে তাকিয়ে থাকেন। তখনও তার ভ্রু দুটো কুঁঞ্চিতই ছিলো।

পরদিন খুব ভোরে রওয়ানা দিয়ে আমরা যশোরে গিয়ে পৌছালাম। তখন ঠিক মধ্য দুপুর। জামাই আসবেন বলে মা চাচী দাদীমারা এক্কেবারে জামাই ভোজনই আয়োজন করেছিলেন। পোলাও কোরমা বিরিয়ানী মাছ মাংস কোনো কিছুরই বাদ ছিলো না সেখানে। যাইহোক পরদিন ভোরেই চলে গেলেন আমার ভালোমানুষ স্বামী। কিন্তু সেজচাচা সেই একরাতে ছাদে বারবিকিউ পার্টির আয়োজনও করে ফেললেন। সেসব দিনে আমরা তো আর বারবিকিউ বলতাম না আমরা বলতাম কাবাব পার্টি। জামাই একদিনের মাঝে বিদায় নেবেন বলেই অমন আয়োজন বা আপ্যায়ন ছিলো যেন জামাই আদরের কোনো ত্রুটি না হয়। আমরা সব চাচা চাচী, তাদের ছেলেমেয়েরা কাজের লোকজন এমনকি দাদু দাদীমাও সকলেই জড়ো হলাম আমার সেই স্মৃতি বিজড়িত চির চেনা ছাদটিতে।

কাবাব তৈরীর জন্য ছাদের এক কোনে জামাল বাবুর্চি তার চুলা বসিয়েছিলো। সবাই গরম গরম রুটি পরোটা আর শিককাবার খাচ্ছিলো। সব মেয়েরা একদিকে আড্ডা দিচ্ছিলো। আমি ছিলাম তাদের মাঝে আর বাড়ির সকল পুরুষেরা আড্ডা জমিয়েছিলো আরেকদিকে। উৎসবে আনন্দে সারা বাড়ি গমগম করছিলো। আমি আড়চোখে দেখলাম চারিদিকে এত আনন্দ, এত উচ্ছাস তবুও এরই মাঝে খোকাভায়ের ঘরটা আলোহীন অন্ধকার। সেই দুপুরে এসেছি আমি কিন্তু কাউকেই খোকাভায়ের কথা জিগাসা করিনি। সবার অলখে দীর্ঘশ্বাস পড়লো আমার। মনে মনে বললাম, খোকাভাই কোথায় আছো?
ছোটচাচী বললেন,
- এ্যাই নীরু একটা গান গা। কতদিন পর সবাই আমরা এক সাথে?
রুমা, রুনি, মীরা আপা সবাই হই হই করে উঠলো। সবাইকেই গান গাইতে হবে একে একে। পিন্টু তার গিটার নিয়ে আসলো দৌড়ে গিয়ে। কিন্তু কি গাইবো আমি? আমার তো কোনো গানই মনে আসছিলো না। হঠাৎ যে গানটি মনে পড়লো সেই গানটিই গাইতে শুরু করলাম-
প্রমোদে ঢালিয়া দিনু মন, তবুও প্রাণ কেনো কাঁদেরে?
চারি দিকে হাসিরাশি, তবু প্রাণ কেন কাঁদে রে।।

গান শুরু করতেই চারিদিকের গল্প গুজব হাসাহাসি কমে একদম পুরা ছাঁদই নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। শুধু জামাল বাবুর্চীর কাবার ওল্টানোর শব্দ ভেসে আসছিলো হুশ হাশ। আর থালা প্লেট বাসন কোসনের টুং টাং। সবাই গান শুনছিলো।আমার চোখে জল ভরে আসছিলো। চাঁদনী রাত ছিলো সেদিন। আকাশে অনেক আলো তবুও ঐ আঁধারে কেউ তেমন খেয়াল করলো না। আমার চোখের ঐ জল আমার হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা সেই বাণী। কেউই খেয়াল করলো না। শুধু গান শেষে রুনি বলে উঠলো এই আনন্দের মাঝে কি প্যানপেনে গান ধরলি তুই? পিন্টু গিটারে ঝংকার তুললো-

কিন্তু তারপরদিনই অতি অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা ঘটলো। দুপুরে গোসলের পর ছাদে কাপড় মেলতে উঠছিলাম সিড়ি বেয়ে। সিড়িঘরের দরজায় হঠাৎ খোকাভাই। একদম মুখোমুখি পড়ে গেলো। গত রাতেও আমরা যখন ছাদে কাবাব পার্টি করছিলাম তখনও দেখেছিলাম খোকাভায়ের শূন্য ঘর। অন্ধকার ঝুপসী হয়ে দাড়িয়ে ছিলো ছাদের এক কোনে। তবে কি কাল রাতেই শুধু খোকাভাই বাড়ি ছিলো না? কবে ফিরেছে খোকাভাই? এতদিন কোথায় ছিলো? এক গাদা প্রশ্ন হুড়মুড় করে নামলো আমার চোখের পাতায়। কিন্তু খোকাভাই! আমাকে দেখে কোনো উচ্ছাস ছিলো না তার চোখে বরং যেন ভূত দেখার মতই চমকে দাড়ালো, ক্ষণিক থমকালো এবং
কিছু না বলে ফের তড়িঘড়ি চলে গেলো তার নিজের ঘরে। আমার চিরচেনার, সেই ছোট্ট ঘরটিতে।

ঐ এক নিমিষের মাঝে দেখলাম খোকাভায়ের চোখে ছিলো না কোনো মায়া, মমতা, ভালোবাসা বা আনন্দ বরং সেখানে জ্বলছিলো ঘৃনা, ক্রোধ আর অবহেলার এক তীব্র অগ্নি ঝিলিক। তবুও পায়ে পায়ে গিয়ে দাঁড়ালাম ঐ ছাদের ঘরের দোরগোড়ায়। খোকাভাই মাথা নীচু করে টেবিলের ড্রয়ারে কি যেন খুঁজছিলো। আমি গিয়ে দাঁড়াতেই মুখ না ফিরিয়েই হিস হিসিয়ে উঠলো,
চলে যা,
চলে যা প্লিজ ........
প্রথম বাক্যটিতে ছিলো কঠোরতা। দ্বিতীয়বারেরটিতে মিনতি।

চৌকাঠে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রইলাম আমি স্থানুবৎ। এতদিন পরে খোকাভায়ের এ হেন আচরণে হত-বিহ্বল ছিলাম আমি! কোনো কথাই বলতে পারছিলাম না। মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম তারপরেও। আমার দুচোখ জলে ভরে আসলো। সেই চোখ ভর্তি টলমল জল টুপ করে ঝরে পড়লো মেঝের উপর এবং পড়েই তা মিশে যেতে লাগলো ইট, কাঠ বালু আর সিমেন্টের ঐ পাষান গভীরে। চিলেকোঠার ঐ খরখরে মেঝের অমসৃন ত্বক মুহুর্তেই শুষে নিলো আমার সবটুকু দুঃখজল, লুকিয়ে ফেললো আমার লজ্জা আর অপমানটুকু ।

ফিরে চললাম আমি। পেছন ফিরে না তাকিয়েও বুঝলাম খোকাভাই ফিরে দাঁড়িয়েছে এবং তাকিয়ে আছে আমারই দিকে। খোকাভাই বললো,
-"দাঁড়া"
আমি দাঁড়ালাম। দাঁড়িয়ে রইলাম উল্টোদিকে ফিরেই। খোকাভাই ফের বললো,
-"আর কখনও আসিসনা।"
অবাক হয়ে ফিরে তাকালাম আমি। সেই শান্ত গভীর কালো ফ্রেমে মোড়ানো দুটি চোখ। একদিন ঘুমন্ত দুপুরে যা আমার ওষ্ঠ ছুঁয়েছিলো। ফুঁপিয়ে উঠলাম আমি। এক দৌড়ে নীচে নামলাম। কার থেকে, কিসের থেকে পালাতে চেয়েছিলাম ?
জানিনা ....


খোকাভায়ের সাথে সেই আমার শেষ দেখা। খোকাভায়ের সাথে সেই আমার শেষ কথা। খোকাভাই বলেছিলো "আর কখনও আসিস না"।
আমি এরপর ২২ দিন ঐ বাড়িতে ছিলাম কিন্তু একটাবারের জন্যও যাইনি খোকাভায়ের ঘরে। একটাবারের জন্যও ছাঁদে উঠিনি। একটা বারের জন্যও দেখতে দেইনি তাকে আমাকে। তবুও সারাটাক্ষন আমার মাথায় একই প্রশ্ন ঘুরতো। কোথায় ছিলো খোকাভাই? আমাকে কথা দিয়ে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলো সে? আমার আর তার উপরে কোনো দাবী দাওয়া ছিলো না। আমার তার কাছে তো আসলে আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই ছিলো না। শুধু ছিলো জানা অজানা কিছু অবাক বিস্ময়!

বরং আমার সহনশীল ভালোমানুষ স্বামীর জন্য আমার হৃদ মাঝারে তখন মায়ার পাহাড় জন্মেছে। সেই পাহাড়ের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছিলো খোকাভায়ের দেওয়া কষ্টগুলো। খোকাভায়ের জন্যও একটা সময় আমার এক বুক মায়াই জন্মেছিলো। এই মায়া আর সেই মায়ায় প্রভেদও ছিলো। খোকাভাই ছিলো একটি অভিমানী চুপচাপ ছেলে যার পৃথিবীতে কেউ ছিলো না। অবহেলায় অনাদরে বাগানের কোনে জন্ম নেওয়া কোনো আগাছার মত এই বিশাল বাড়ির এত প্রাচুর্য্যতার মাঝে অযত্নে অবহেলায় পড়ে ছিলো খোকাভাই। আমি তাকে ভালোবাসা ও মমতায় সকল দুঃখ ভুলিয়ে দেবো। এমনই হয়ত ভেবেছিলাম আমি। এ মনে হয় ছিলো একজন নারীর মনের কোনের সুপ্ত
সহজাত স্বভাবই। ভেবেছিলাম আমিই হবো খোকাভায়ের সকল দুঃখ মোচনকারী নিরুপমা।

তবে মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। আমার এত ভালোবাসা, খোকাভাইকে নিয়ে এত চিন্তা, তাকে আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা সবই বিফলে গেলো অথবা গেলো না। খোকাভায়ের জীবনে আমার আবির্ভাব হয়ত তার মাঝেও কোনো পরিবর্তন ঘটিয়েছিলো। না হোক তা আজীবনের জন্য। খানিক সময়ের জন্যও যদি কেউ ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখতে পারে তাকে সেইটুকুই বা কম কি? সবার কি সব হয়? সবকিছুই কি আজীবন থাকে! এই নশ্বর পৃথিবীতে সবই তো হারায়।

উপমার বিয়ের কারণে পুরা বাড়িশুদ্ধু দাওয়াৎ ছিলো আমাদের। সে সব নিয়েও হৈ হৈ কেটে গেলো কয়েকটাদিন। বিয়ের আগের আমার মা আর বিয়ের পরের আমার মায়ের আচরনে এত পার্থক্য আমার বিয়ে না হলে আমি জানতাম না। সকল সময় ছোঁক ছোঁক আমার উপর খবরদারী করা মা একটা বারের জন্যও বকাঝাকা করলেন না আমাকে। বরং বার বার জানতে চাইতেন আমি কেমন আছি। কি খাই কি করি? শ্বাশুড়ি কেমন? শ্বশুর কেমন। কোনো ঝামেলা হচ্ছে কিনা? আমি হাসিমুখে সবই ইতিবাচক বলি। কারণ আমি জানি আমার কোনো কষ্ট দুঃখ বেদনার কথাই মা কখনও শুনবে না। আমার মা শুধু জানার জন্য জানতে চাইতেন। আমি নিশ্চিৎ জানি আমি যদি বলতাম, এমন বিয়ে দিয়েছো কেনো আমার এই সমস্যা সেই সমস্যা। মা নিশ্চিৎ বলতেন আমরা ভালো বুঝে বিয়ে দিয়েছি এখন এটা তোমার ভাগ্য। তুমি এই ভাগ্য গড়ে নেবে নাকি তোমার উপর ভাগ্য সুপ্রসন্ন করবেন বিধাতা তা তো আমাদের দেখার নয় মা।

দাদীমার সঙ্গেই ঘুমিয়েছি আমি এই কটা দিন। চাচীমারা চুলে তেল দিয়ে দিয়েছেন, রোজ সন্ধ্যায় বেনী করে দিয়েছেন। সবই ঠিক সেই আগের মতই। মনেই হয় না আমার যে বিয়ে হয়ে গেছে। কিছুদিন পরই চলে যেতে হবে আমাকে আমার নিজের বাড়িতে। নিজের বাড়ি মানে স্বামীর বাড়িতে। এই বাড়ির এই চিরচেনা পরিবেশ, উঁচু উঁচু ছাদে লাগানো কড়িকাঁঠ, শান বাঁধানো উঠান, কলতলা সবই মনে হয় আমার, একান্ত আমার। শুধু কটা দিনের জন্য বুঝি আমি কোথাও গিয়েছিলাম। আবার ফিরে এসেছি অভিমান ভুলে। সব ঠিক আগের মতই আছে। শুধু খোকাভাইই পর হয়ে গেছে। দূরে চলে গেছে। অনেক অনেক দূরে।

খোকাভাই আমার জীবনের এক বিস্ময়! অনেক না বলা কথা না জানা ব্যথা বুকে গোপন করে চলা এক অভিমানী যুবকের নাম। সে আমার খোকা ভাই। খোকাভায়ের মত এমন আর একটা মানুষও হয়ত আর দেখা হবে না আমার এই জীবনে। খোকাভাই ছিলেন বড় স্বল্পভাষী সন্যাসী ঠাকুর আর আমি ছিলাম কথার ফুলঝুরির এক গিরিবাজ পায়রা। খোকাভায়ের সাথে আমার ভালোমানুষ স্বামীটির এক বিশেষ মিল আছে। দু'জনেই বড় কথা কম বলেন। বড় চুপচাপ বড় ভালোমানুষ।তবে আমার ভালোমানুষ স্বামীটি নিজের ঔজ্বল্যে জ্বাজল্যমান আর খোকাভায়ের নিজের কোনো আলো ছিলো না। তার জীবনে আলো জ্বালাতে প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। তবুও আলো জললো না ..... আশা ছিলো ভাষা ছিলো শুধু আমার খোকাভাই কোনো কথা বললো না।




যাইহোক আমার বিয়ের প্রায় ৭ বছর পার হতে চলেছে। নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি সংসারে। জড়িয়ে নিয়েছি ভালোবাসায় এই বাড়ির সকলকেই। খুব শিঘরীই আমি সকল দায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়ে অব্যহতি দিয়েছিলাম আমার শ্বাশুড়িকে। তিনি এখন ক্লাব পার্টি অতিথি অভ্যাগত নিয়েই থাকেন বেশিটা সময়। ভ্রু দুইটা সামান্য সোজা হয়েছে। ননদিনীর বিয়ের কথা চলছে। সে চলে গেলে আবারও কিছু শূন্য হবো আমি। একান্নবর্তী বাড়ির মেয়ে আমি। এই শহুরে জীবনের গুটিকয় মানুষের বসবাসরত বাড়িগুলি আমার বড় প্রাণহীন লাগে।

দাদু মারা গেছেন মাস ছয়েক হলো। দাদুর মৃত্যু মানে ও বাড়ির একটি যুগের সমাপ্তি। দাদুর মৃত্যু একেবারেই বদলে দিয়েছে ও বাড়ির চেহারা। দাদুর মৃত্যুর পর যে ক'টা দিন ছিলাম ও বাড়িতে মনে হয়েছিলো বাড়িটা যেন রাতারাতি বদলে গেছে। ছোট চাচা আমেরিকা পাড়ি জমানোর ভাবনা চিন্তায় আছে। ন' চাচা ত'চাচারাও যে যার মত থাকবার চিন্তায় আছেন। বড়চাচী কোথায় যাবেন কেউ জানে না। খোকাভাই ফের নিরুদ্দেশ। এবারের তার নিরুদ্দেশের সময়সীমা অন্যান্য সকল বারের সীমা অতিক্রম করে গেছে। আর ছাদের সেই ঘরটি একেবারেইজনশূন্য। কেউ আর থাকে না সেখানে। আমি ভর দুপুরে একা একা ঘুরে বেড়াই এব বাড়ির আনাচে কানাচে প্রেতিনীর মত, ছাদ, ছাদঘর, ছাদের এক কোনে এক গাদা কবুতরের উড়াউড়ি। আমাকে নিয়ে যায় সুদূর অতীতে, আমার আনন্দময় কৈশোরে আমার ভালোলাগায়। রুনির বিয়ে হয়ে গেছে ফিনল্যান্ড প্রবাসী এক সোনার টুকরা পাত্রের সাথে। পিন্টু রাজশাহী মেডিকেলে পড়ছে। একদিনের সেই প্রাণচাঞ্চল্যে ঘেরা বাড়িটা অনেকটাই যেন বিষন্ন চুপচাপ।


একদিন দুপুরে আমি বড় চাচীমার ঘরে ঢুকি। বড় চাচীমা বেশ বুড়িয়ে গেছেন। সাদা ধপধপে এক ঢাল চুল ছড়িয়ে ছিলো মেঝের উপর। বড় চাচীমা মেঝেতে বালিশ পেতে শুয়ে ছিলেন চোখ বুজে। মনে হয় চৈত্রের গরমের কারনেই মেঝেতে শুয়েছিলেন তিনি। এ বাড়ির সকল রান্নাবান্নার কাজ তার হাতেই। তাই হয়ত ক্লান্ত চাচীমা দুপুরের এই টুকু অবসরে আঁচল পেতে শুয়ে ছিলেন মেঝেতে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমি তার মাথার কাছে বসে কপালে হাত ছোঁয়ালাম। চাচীমা চোখ মেললেন না। আমার হাতের উপরে হাত রেখে চেপে ধরলেন আমার হাতটা। তার দু'চোখের কোল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। আমি চমকে উঠলাম। চাচীমার ঐ নীরব কান্না আমাকে বুঝিয়ে দিলো অনেক কিছুই। আমি জানতে চাইলাম,
- চাচীমা, খোকাভাই কোথায় চলে গেছে?
এই প্রথম। এই প্রথম আমি মুখ ফুটে কারো কাছে খোকাভায়ের নাম উচ্চারণ করলাম। কিন্তু চাচীমা নিরুত্তর রইলেন। পাষান প্রতিমার মত চোখ মুঁদে রইলেন চাচীমা। আমি খুব চুপি চুপি বললাম,

- তোমার কাছে একটা জিনিস দিয়ে যেতে চাই।

চাচীমা চোখ মেলললেন। উঠে বসে নিরুত্তর জিজ্ঞাসু নেত্রে চাইলেন আমার দিকে। আমি চাচীমার হাতের মুঠোয় গুঁজে দিলাম একটি চিঠি। বললাম,
- যদি কখনও খোকাভাই ফিরে আসে তাকে আমার এই চিঠিটা দিও চাচীমা। একটা কথা বড় জানবার ছিলো আমার তার কাছে।
জানি সে কথার উত্তর হয়ত কখনও পাওয়া হবে না আমার। তবুও তুমিই একমাত্র মানুষ এই পৃথিবীতে যাকে আমি বিশ্বাস করতে পারি।

চাচীমা ডুকরে কেঁদে উঠলেন। আমাকে বুকে চেপে ধরলেন। সেই মধ্যদুপুরের শুনশান নীরবতার মাঝে একটি শব্দ ভেসে আসছিলো অনবরত। পিছের বাগানে একটি তক্ষক ডেকে চলছিলো অবিরাম। কোথাও মনে হয় সাপে ব্যঙ ধরেছিলো। ব্যঙ তার মোটাগলার সূর বদলে অদ্ভুৎ সুরে আর্তচিৎকার করছিলো। আমি চাচীমার হৃদপিন্ডের ধ্বনী শুনতে পাচ্ছিলাম। চাচীমার চোখের জলে আমার পিঠ ভেসে যাচ্ছিলো।


এর প্রায় মাস তিনেক পর হঠাৎ একদিন আমাদের বাড়ির মেইনগেটের ডাকবাক্স খুলে চিঠি নিয়ে এলো বাড়ির দারওয়ান। আমার নামে একটি চিঠি এসেছে আমার দেশের বাড়ি থেকে। সচরাচর কেউ চিঠি লেখা তো দূরের কথা এই এতগুলো বছরে কখন কেউই চিঠি লেখেনি আমাকে। খবর যা নেবার ফোনেই নেওয়া যেত। তাই আমার শ্বাশুড়ি আমাকে কেউ চিঠি লিখেছে দেখে বেশ অবাক হলেন। বললেন,
- কে চিঠি লিখলো তোমাকে নীরা? কখনও তো কাউকে তোমাকে চিঠি লিখতে দেখিনি। খামটা বাড়িয়ে দিলেন আমার দিকে। আমি তখন রান্নাঘরে দুধ জ্বাল দিচ্ছিলাম। আঁচটা কমিয়ে দিয়ে খামটা নিয়ে উপরের লেখাগুলি দেখে একটু থমকে দাঁড়ালাম। তারপর খামটা পাশে রেখে ফের দুধ জ্বাল দিতে শুরু করলাম। আমার শ্বাশুড়ি হা করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন একটি উৎসুক বিষয়েও আমাকে নীরব থাকতে দেখে তিনি বেশ অবাক হলেন বোধ হয়। আমি আড়চোখে দেখলাম কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে উনি চলে গেলেন। আমার বুকের মাঝে তখন হাতুড়ি পিটছিলো। যতই মুখে আমি নির্লিপ্ত থাকি না কেন। এতগুলো দিন পর খোকাভায়ের চিঠি। এত অপ্রত্যাশিত, এত কাংঙ্খীত এত বেদনা ও অভিমান ও হয়তবা হেরে যাওয়ার ইতিহাস লেখা সেই চিঠিটি হাতে করে দাঁড়িয়ে রইলাম আমি।


খোকাভাই এর চিঠি
২৬ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:২০
নিরু
কবিতার ভাষায় লেখা তোর চিঠিটা পড়লাম। ভুলে গিয়েছিলাম, অনেক কিছুই। কিছুটা ইচ্ছেই, কিছুটা অনিচ্ছেই। চিঠিটা পড়তে পড়তে একরাশ স্মৃতি হুড়মুড় করে নামলো আমার হৃদয়ের দূয়ারে। আজকাল বুকে প্রায়ই একটা ব্যাথা হয় অনিয়মিত জীবন যাপনের ফল। চিঠিটা পড়ার পর থেকে চাপধরা ব্যাথাটা যেন বেড়ে চলেছে।

যাইহোক, ভালোই আছিস তাহলে। মনেও রেখেছিস আমাকে? ভালো আছিস কেমন করে বুঝলাম জানিস? মানুষ যখন সবচেয়ে বেশী সূখে থাকে তখনি ধরে তাকে দুঃখবিলাস রোগ। তোরও হয়েছে সেটাই। রাগ করিসনা, একটা সত্যি বলি তোকে ভুলে গেছি। যদি বলিস ইচ্ছে করে, তাহলে তাই। তোর সব গান , ছবি, কলকথা, সব ভুলেছি আমি নইলে এই আমার আর বেঁচে থাকার উপায় ছিলোনারে।

ভুল শুনেছিলি তুই বিয়ের পরদিন থেকে নয়, নিরুদিষ্ট আমি তোর বিয়ের দিনটি হতেই। সেদিন সন্ধ্যায় টুনি বাল্বে সজ্জিত ঝলমলে বাড়ী থেকে যখন তুই মেরুনরঙ মার্সিডিজে চড়ে ভুস করে বেরিয়ে গেলি, সন্ধ্যার আবছায়া আলোয়, গলির ধারের বুড়ো অশত্থ গাছটার আড়ালে
দেখতে পাসনি আমাকে ।

সেদিন রাতের ট্রেনেই চলে গিয়েছিলাম কক্সেস বাজার। বিশালতার অবগাহন অসীম সমুদ্রাশ্রয়ে। সমুদ্র আমাকে আশ্রয় দিয়েছিলো
প্রতিদানে সমুদ্রকে দিয়েছিলাম এই নিঃস্বের কয়েকফোটা দূর্লভ অশ্রুজল।

ভালো থাকিস নিরু, পারলে আমাকে ভুলে যাস। প্রাচুর্য্য তোর সঙ্গী, তুই চাইলেই মুঠো মুঠো দিতে পারিস। বিত্ত বৈভবের কমতি নেই তোর। আমার মত ভ্যাগাবন্ডের থেকে কি আর পাবার ছিলো বল?

এমন করে আর কখনও লিখিসনা আমাকে
আমার কষ্ট হয়,
ভীষন কষ্ট!
তুই কি পারিস আমাকে কষ্ট দিতে?


চিঠিটা এখানেই শেষ ছিলো। সাক্ষরবিহীন। অসমাপ্ত। তবুও সকল কথাই যেন সমাপ্ত করে দিতে চাইছিলো চিঠিটা সেদিন। আমার দুচোখ বেয়ে তখন শ্রাবনের বারিধারা। না আমি কষ্ট দিতে চাইনা খোকাভাইকে। কষ্ট দিতে চাইনা এ পৃথিবীর একটা মানুষকেও। শুধু প্রতিত্তরে লিখলাম আমার শেষ চিঠিটি।

খোকাভাই
আর কখনও লিখবোনা তোমাকে
জানতে চাইবো না আর কখনও
কেমন আছো?
শুধু

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম..


কিন্তু চিঠিটা ডাকে ফেলা হলো না আমার। ছিড়ে টুকরো করে উড়িয়ে দিলাম আকাশের ঠিকানায়.......


সমাপ্ত

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে-১৯

মন্তব্য ৬৫ টি রেটিং +১৪/-০

মন্তব্য (৬৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:০২

একলব্য২১ বলেছেন: তখনও তার ভ্রু দুটো কুঁঞ্চিতই ছিলো।

এই পর্যন্ত পড়ে একটু pause নিচ্ছি। যথারীতি শুরু থেকে এ পর্যন্ত অনবদ্য হয়েছে লেখা। মানে যে ঘরানায় তুমি লিখে অভ্যস্ত সেটা বজায় আছে।

খুব গুছিয়ে বুদ্ধি করে গল্প এগিয়ে নিয়ে এসেছ এই পর্যন্ত।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২০

অপ্‌সরা বলেছেন: আরও অন্তত ৩/৪ পর্ব লেখার ইচ্ছা ছিলো ইন ডিটেইলস। কিন্তু জানি সময় হবে না.....
সামনে অনেক কাজ। :(

তবুও চেষ্টা করলাম শেষ করতে।

এরপর সময় করে লিখবো আর একটা লেখা এই লেখার পটভূমি ইতিহাস নিয়ে। :P

২| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৩৫

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: ফেবুতে নোটিফিকেশন দেখে চলে এলাম এক নিমিষে শেষ করতে
গানের সময় ভাবলাম গাইবেন "তুমি রবে নীরবে" আমার অনুমান মিলল না, তবুও ক্লাসিক!

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৩৯

অপ্‌সরা বলেছেন: তুমি রবে নীরবে তো চিঠিতে গাইলো নিরুপমা।

ভাইয়া তোমার বেবিটা কেমন আছে?

স্কুল চেইঞ্জ করেছো?

৩| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অপু তানভীর বলেছেন: যাক অবশেষে শেষ হল ! এবার শুরু থেকে পড়া শুরু করা যাবে ।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:০০

অপ্‌সরা বলেছেন: হা হা শেষ করে আমিও বাঁচলাম। শুরু করেছিলাম যখন তখন বুঝিনি শেষের দিকে এসে আমার ব্যস্ততা এত বেড়ে যাবে।

তাই শেষ করে দিলাম। :)

৪| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:০১

একলব্য২১ বলেছেন: দ্বিতীয়বারেরটিতে মিনতি।

এই সম্পর্কিত একটা কবিতা আমি শায়মা নিকে পড়েছিলাম। সেই চিলেকোঠায় যে যুবক থাকতো সে চশমা পড়তো।

এই গল্পেও কি খোকাভাই চশমা পড়তো।

কবিতার যুবক আর খোকা ভাই তো একই ব্যক্তি। তাই নয় কি শায়মা।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:১৩

অপ্‌সরা বলেছেন: হ্যাঁ একই যুবক! :)


হা হা সেই কবিতাগুলি নিয়ে আর এই লেখা নিয়ে আর একটা লেখা লিখবো ওকে? :P

৫| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:১৬

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: ।হুম অর্ধেক পড়েই কমেন্টে আসলাম আমার মনে হওয়া গানটার নাৃ লিখতে ; পড়া শেষে দেখি মিলে গেল!
বাচ্চার স্কুল চেঞ্জ করেছি। ও এখন ভালো আছে।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:২২

অপ্‌সরা বলেছেন: গুড! এটাই দরকার ছিলো।

হ্যাঁ এই গান তো মনে পড়তেই হবে। :)

৬| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:৪৮

একলব্য২১ বলেছেন: এই নশ্বর পৃথিবীতে সবই তো হারায়।

এই পর্যন্ত তোমার লেখার ধার শৈলীতে পাঠক মুগ্ধ।

যাক এখানে খোকা ভাই কালো মোটা ফ্রেমে চশমা পড়ে।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:৫০

অপ্‌সরা বলেছেন: হা হা এতক্ষনে এই টুকু পড়লে!!!

৭| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৮:৫৭

Imran Khan 017 বলেছেন: নিজ জেলার নাম দেখে পড়তে আসা।
পড়তে পড়তে কেনো যেনো মনে হচ্ছিলো গল্পটা জানা

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:০৩

অপ্‌সরা বলেছেন: গেছি !!

তুমি আবার আমার খোকাভাই নাতো ভাইয়ু! :)

৮| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৪৪

নীল-দর্পণ বলেছেন: গতপর্বটায় এত তাড়াহুড়োছিল,এলোমেলো কেমন যেন হুট করেই শেষ এই পর্বে তা পুষিয়ে দিলে কয়েকগুণ বেশি দিয়ে।

বড় চাচীর জন্যে মন কেমন হাহাকার করে, দাদু মারা যাবার পরে বাড়ীটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সেটার সাথেও নিজের জীবনের কিছু মিলে গেল ! আমার দাদা বাড়ীতে জমজাট বাড়ীটা কেমন কয়েক বছরের মাঝেই ছন্নছাড়া হয়ে গেছে, তাই খুব গভীরভাবে অনুভব করতে পারছি।

ভ্রু-কপাল কুঁচকানো শ্বাশুড়ীযে তেমন কিছু করতে পারেননি এতেই খুশী আমি।
খুব গোছালো এবং চমতকারভাবে শেষ হয়েছে যাতে পাঠক হিসেবে তৃপ্ত আমি।

ভালো থাকুক খোকাভাই, ভালো থাকুক নীরু।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৫৯

অপ্‌সরা বলেছেন: থ্যাংক ইউ নীলুমনি!!


আমি আসলে নিজেই ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছি তাই তাড়াহুড়ার মাঝেও শেষ করে দিলাম।

৯| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৪৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: লেখায় গ্রামের এক যৌথ পরিবারের চলমান চিত্র ফুটে উঠেছে। সুন্দর লেখা ভালো লেগেছে।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:০২

অপ্‌সরা বলেছেন: অনেক ভালোবাসা ভাইয়া।

১০| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৫৮

একলব্য২১ বলেছেন: নীরু মধুচন্দ্রিমায় কক্সবাজারে যাওয়া।

উসকো খুসকো চুলের মলিন ফুলহাতা জামার হাত গুটানো অপস্রিয়মাণ যুবক।

অসাধারণ লেখা শায়মা আপু। Sublime.

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:০৩

অপ্‌সরা বলেছেন: হুম এতক্ষনে শেষ করলে তবে....

১১| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:০৯

একলব্য২১ বলেছেন: খুব রহে সহে শেষ করতে চেয়ে ছিলাম। ক্ষুদে পাশে বসে পড়ছে। ওর আর একটা পরীক্ষা বাকী। আর তারপর পরই ঘুরতে চলে যাবো। সব কিছু ছড়ানো ছিটানো।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২৩

অপ্‌সরা বলেছেন: আমিও যাবো।

কোথাও দূরে কোথাও দূরে ..... :)

১২| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২০

একলব্য২১ বলেছেন: এরপর সময় করে লিখবো আর একটা লেখা এই লেখার পটভূমি ইতিহাস নিয়ে।

এটা কবে লিখবে।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২৩

অপ্‌সরা বলেছেন: খুব শিঘ্রী

১৩| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:৫১

একলব্য২১ বলেছেন: খোকা ভাই এখন কেমন আছে।

বড়চাচিমা-ই বা কেমন আছে। তিনি কি এখন খোকাভাইয়ের সাথে থাকেন।

নীরু কি যশোরে যায়।

এই প্রশ্নের উওরগুলো কি নেক্সট লেখাটাতে পাওয়া যাবে।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:৫৬

অপ্‌সরা বলেছেন: সওওওওওওব উত্তর পাবে নিশ্চয়!

কিন্তু তারপর একখানা ছুরি নিয়ে আমাকে কাটতে ছুটলে কিন্তু আমাকেই বাঁচাইও! :)

১৪| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:৫৮

একলব্য২১ বলেছেন: কিন্তু তারপর একখানা ছুরি নিয়ে আমাকে কাটতে ছুটলে কিন্তু আমাকেই বাঁচাইও!

তাহলে লেখার দরকার নাই। চেপে যাও।

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:০৬

অপ্‌সরা বলেছেন: না না লিখতেই হবে আমাকে!!!

হা হা হা

১৫| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:১৩

একলব্য২১ বলেছেন: দেখ না কিছু কিছু প্রশ্নের উওর আমি দেই না। কারণ সেই সব প্রশ্নের উওর দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখন না।

আর এও একটা কারণ আমি ব্লগে লিখতে চাই না।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:০৯

অপ্‌সরা বলেছেন: কেনো চাওনা?
রোজ যত মন্তব্য করো সে সব নিয়েও একটা লেখা হয়ে যায় কিন্তু হা হা

১৬| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:২২

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- শেষ হয়ে গেলো!!

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:১১

অপ্‌সরা বলেছেন: হ্যাঁ কারণ এ সব চলমান ঘটনাবলী আসলে কখনও শেষ হয় না যতদিন জীবন না শেষ হয় আর এই জীবনের সাথে ততদিন জড়িয়ে যায় আরও কিছু জীবন কাজেই পৃথিবীর শেষ দিনটি পর্যন্ত কোনো গল্পের শেষ নেই।

তাই জোর করে শেষ করে দিতে হয়।

১৭| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:০৪

মিরোরডডল বলেছেন:




সময় কেমন করে যায় !!!
চার মাস চোখের পলকে শেষ, তোমার এই গল্প শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেলো ।

শেষ পর্ব ভালো লেগেছে আপু ।
সেই শুরুর মতো অনেক সুন্দর বর্ণনা আর অনুভূতির গভীরতা ।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:১১

অপ্‌সরা বলেছেন: হ্যাঁ অবাক লাগে আমার! এই তো সেদিনই তো স্কুলে যেতাম। কলেজ ইউনি জব। মনেই হয় না এত বড় হয়ে গেছি হা হা

১৮| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:১৭

মিরোরডডল বলেছেন:

কখন আবার ঘন্টা বেজে যায় !

কে জানে ....

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:২৪

অপ্‌সরা বলেছেন: সেই তো!

তবে এই সব নিয়েই আমাদের দিন রাত্রী। :)

১৯| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:২৭

মিরোরডডল বলেছেন:

নেক্সট কি নিয়ে আসবে আমাদের জন্য ?


০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৩১

অপ্‌সরা বলেছেন: অনেক কিছু মাথায় আছে কিন্তু সময় নাই জীবনে।

সময় কমে যাচ্ছে দিনে দিনে কিন্তু কত কিছু করার বাকী, বলার বাকী, লেখার বাকী। :(

২০| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৩৫

মিরোরডডল বলেছেন:




সত্যি সময় চলে যাচ্ছে ।
একটু বেশি তাড়াতাড়িই চলে যাচ্ছে ।
আর সময়ের সাথে মানুষগুলোও .........

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:১৮

অপ্‌সরা বলেছেন: হ্যাঁ আপুনি!!! :(

২১| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:০৫

জুল ভার্ন বলেছেন: চমৎকার একটা ধারাবাহিক শেষ করা চাট্টিখানি কথা নয়। শুরু থেকেই পড়েছি। দীর্ঘ ধারাবাহিক বেশীরভাগ সময়ই কোথাও না কোথাও এসে ঝুলে যায়। কিন্তু তোমার এই লেখায় কখনও ধারাবাহিকতার ব্যত্যয় হয়নি- এখানেই তোমার লেখার মুন্সিয়ানা। তবে শেষ হয়েও অন্যকোনো ভাবে শুরুর ইংগিত আছে- শেষ বাক্যে।

ধন্যবাদ এবং প্লাস।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৫৭

অপ্‌সরা বলেছেন: জীবন যতদিন চলবে এই গল্পের শেষ হবে না ভাইয়া।

২২| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৩৫

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো লিখেছেন।

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৫৭

অপ্‌সরা বলেছেন: থ্যাংক ইউ :)

২৩| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৩৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: গল্পের সুন্দর সমাপ্তি ভালো লাগলো। পাঠকের মনে দাগ কেটে রইল গল্পটা।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৩

অপ্‌সরা বলেছেন: থ্যাংক ইউ ভাইয়ু! :)

পুরোটা লেখায় সব কটি সিরিজে সাথে থাকার জন্য ও মজার মজার মন্তব্যের জন্য :)

২৪| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: এবার বই আকারে বের করে ফেলুন। :)

অনেক ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তাই বেশী মন্তব্য করতে পারিনি।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৩৬

অপ্‌সরা বলেছেন: না এইবার না তবে যদি বেঁচে থাকি কখনও করবো । এবারে চিলেকোঠার প্রেম করতে পারা যায় কিনা দেখি। তবে সমস্যা হলো আমি থাকছি না। :(

আর এই গল্পের আরও অনেক সংযোজন আছে। যেমন শুরুটা হবে এমন-

নিউমার্কেট থেকে বেরুতেই টিপ টিপ বৃষ্টি শুরু হলো। চারিদিকে রিক্সাজট, গাড়ির হর্ণ, মোটরসাইকেল, কার, সিএনজি এর ধোঁয়ায় দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে এলো। কদিন হলো জ্বর থেকে উঠেছি, এই বৃষ্টি মাথায় পড়লে আর রক্ষা রইবে না। মাথা বাঁচাতে দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নিলাম গেইটের ফুটপাতের উপর বসে থাকা পুরান বই এর নীল পলিথিনের তলায়। ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। রমিজকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। অসংখ্য সাদা সাদা গাড়ির ভীড়ে কোনটা ঠিক আমাদের সেটাও বুঝা যাচ্ছে না।

হঠাৎ চোখ ফেরাতেই চোখে পড়ে গেলো কিছু পুরানো বই এর মাঝে অনাদরে অবহেলায় পড়ে থাকা প্রায় বিবর্ণ একটা কবিতার বই " নির্মলেন্দু গুণের কবিতা সমগ্র"। চমকে উঠলাম। কৌতুহলে তুলে নিলাম হাতে। প্রথম পাতাটা উল্টাতেই দ্বিতীয় বারের মত চমকালাম। আজ থেকে সাত বছর আগের নিজের হাতে লেখা অন্তর নিংড়ানো সেই বিদায়বার্তাটুকু দেখে চোখ জলে ভরে উঠলো।
হাত বুলালাম লেখাটুকুর উপরে।

"খোকাভাই
ভালো থেকো-
সুন্দর থেকো ...
নিরুপমা"

২৫| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: খোকা ভাই তো নিরুপমার বিয়ের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নিরুদ্দেশ ছিল। কিন্তু খোকা ভাইয়ের চিঠিতে লেখা বিয়ের দিন থেকে। বুঝতে পারলাম না।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৮

অপ্‌সরা বলেছেন: আমিও না। :(

মনে হয় আশে পাশে লুকায়ছিলো।

২৬| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৭

গেঁয়ো ভূত বলেছেন: শায়মাপু,
গতকাল নাস্তার টেবিলে নাস্তা খেতে খেতেই শেষ পর্ব পড়া শেষ করেছি না বলে বরং বলা উচিত লেখাতে এমন আকর্ষণ ছিল যে শেষ না করে পারিনি। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেলো নিজের অজান্তেই!!

এক কথায় অসাধারণ হয়েছে পুরো সিরিজ ! সব পর্ব একত্র করে বই আকারে ছাপিয়ে দিলে খুবই ভালো হয়। এত শ্রমসাধ্য কাজটি নিশ্চয়ই বই হিসেবে পাঠকপ্রিয়তা তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা "সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে" লেখার জন্যে।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৯

অপ্‌সরা বলেছেন: অনেক ভালোবাসা ভাইয়া।

হ্যাঁ ছাপাবো হয়ত কখনও তবে এবারে চিলেকোঠার প্রেম ছাপাতে পারি।

২৭| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:০৬

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ইশ কেমন করে সময় চলে গেলো !
এই পর্ব টা অনেক সুন্দর করে লেখা।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১২:০২

অপ্‌সরা বলেছেন: হুম। আমি হঠাৎ বেশি ব্যস্ত হওয়ায় শেষ করে দিলাম। :(

২৮| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:০১

একলব্য২১ বলেছেন: অপ্সরা, আয়নাপুতুল তোমার নতুন নামকরণ করেছে। ওর পোস্টে গেলে বিস্তারিত জানতে পারবে।
তুমি লা পাত্তা কেন ছিলে।

view this link

১২ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:১২

অপ্‌সরা বলেছেন: হায়হায় কখন কবে কোথায়!!!!!!!!!

আমি লা পাত্তা ছিলাম কারণ নং ১ বিজি ছিলাম আছি আরও মাস কয়েক থাকবো
কারণ নং ২ এমন সিক হয়ে পড়েছিলাম হঠাৎ কাশতে কাশতে আমার তুলাধুনা অবস্থা :(

২৯| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:৫০

একলব্য২১ বলেছেন: অপ্সরা,

হঠাৎ করে বাড়াবাড়ি কাশি হল কি করে। আর remedy বা কেমনে হল।

খাওয়া দাওয়া গান শুনা হল। সকালে কিনা না পড়া খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে ঘুমোতে যাবো।

তুমি ছাড়া সামু ম্রিয়মাণ।

view this link

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৪৭

অপ্‌সরা বলেছেন: আমি ছাড়া তুমি একা
পৃথিবীটা দুখে ঢাকা.......


হা হা হা হা এমন এক সিনেমার গানা শুনেছিলাম হা হা হা


যাইহোক কাশি যে কেমনে হলো সেটাই আশ্চর্য্য কাহানীয়া।


যাইহোক আমি কি কি করেছি বলি-

এডোভাস এন্ড এডোভাস এ ছাড়া কোনো অষুধ আমি খাবোই না খাবোই না তাই

এক মাগ গরম পানি আর লবন গার্গেল ২ ঘন্টা পর পর

মেনথল দিয়ে চোখ মুখ জ্বলিয়ে ফেলা

সারা গায়ে ভাপোরাপ লাগায় বসে থাকা

আর পুডিং, কাবাব, গরুর মাংস, কে এফ সি বি এফ সি স্যুপ ট্যুপ ক্যুপ মনে যা যা আসে এবং মাথায় যা যা ভাবে সব খেয়ে ফেলা।

আজ বলতে গেলে কাশি নেই ...... গানও গুন গুন করতে পারছি :)

৩০| ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১১:১৮

কাঁউটাল বলেছেন: ভাল আছি ভাল থেক
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ
দিও তোমার মালা খানি
বাউল এর এই মনটারে....

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৫০

অপ্‌সরা বলেছেন: কাউ ভাইয়া!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

তোমারে দেবো মালা!!!!!!!!!!!!!


হা হা হা হা হা একদম কোরবানীর গরুর গলায় মালা মনে পড়ে গেলো কিন্তু!!!!!!!!!!


তুমি যেন আমার মনে পড়ায় আর হাসাহাসি দেখে আমার উপর রেগে যেও না প্লিজ প্লিজ প্লিজ ভাইয়ু!!!!!!!!!!!!!!!


আমি আসলেও কাউটাল মানে জানিনা। শুধু নামের প্রথম অংশ দেখে তুমি আমার কাউ ভাইয়া হয়ে গেলে! :P

লাগ কলো না কাউ ভাইয়ামনি!!!!!!!!! :)

৩১| ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:৩৩

করুণাধারা বলেছেন: প্রতিটি পর্বই খুব আগ্রহ নিয়ে পড়েছি, ভেবেছি কেমন লাগলো জানাবো কিন্তু এত কথা মনে আসতো যে দেখা গেল কিছুই লেখা হয়ে উঠতো না! আসলে অনেকদিন না লিখতে লিখতে আমি এখন আর লিখতে পারি না... শুনেছি কোভিডের সময় দীর্ঘকাল অনলাইনে ক্লাস করে ক্লাসে ফেরার পর অনেক বাচ্চা কাগজে লেখা ভুলে গেছিল, আমারও সেই অবস্থা হয়েছে।

এবার নিরুপমার গল্পে আসি... বরাবরের মতোই তোমার ভাষা সাবলীল আর অন্তর ছোঁয়া। তোমার বর্ণনা গুনে নিরুদের একান্নবর্তী পরিবারের সব মানুষ আর তাদের নানা অনুষ্ঠানের ছবি একেবারে ঝকঝকে হয়ে ফুটে উঠেছে। কিন্তু পড়তে পড়তে কয়েকবার আমার নিরুর শাশুড়ির মত কপাল কুঁচকে উঠেছে। প্রথমবার, যখন খোকা সাইকেলে, নৌকায় করে নিরুকে নিয়ে বন্ধুর বাড়িতে ডেটিংয়ে গেল। খোকাকে নিরুর ব্যাপারে কিছুটা উদাসীন মনে হচ্ছিল এর আগে পর্যন্ত, কয়েকবার স্কুল/কলেজ পালিয়ে দেখা করেছে ঠিকই, কিন্তু এইবার তাকে বেশ দুঃসাহসী মনে হলো... মনে হচ্ছে সম্পর্কের ব্যাপারে সে খুব সিরিয়াস।

তার ভালবাসা যদি এতটাই গভীর হবে তবে নিরুর বিয়ের কয়েকদিন আগে সে পালালো কেন? একা! নাকি "বড় প্রেম শুধু কাছেই---?" ব্যাপার!

নিরুর শ্বশুরবাড়ি কেমন তাও বুঝি নি। তোমার ভাষ্যে বোঝা গেল পাত্রের শিক্ষা, বিত্ত, বংশ গরিমা সব আছে। এমন most eligible bachelor এর পরিবার নিরুকে, সতের বছরের একটা কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে পাত্রী হিসেবে পছন্দ করলো!! মানলাম মেয়ে অপরূপ সুন্দরী আর বড়ঘর, কিন্তু আজ থেকে ২০/২২ বছর আগে ( কোন এক পর্বে তুমি এই সময়কাল বলেছ মন্তব্যে) ডাক্তার সাহেবের জন্য 4B ওয়ালা পাত্রীর অভাব হবার কথা না। এই গল্পের সময়কাল বরং ৪০ বছর আগে হলে মানাতো, সেসময় রূপের সাথে গুণ হিসেবে কণের শিক্ষা নয় বরং রান্নাঘরের দক্ষতাকে বেশি দাম দেয়া হতো... নিরু তো শেষ পর্যন্ত রান্না- এক্সপার্টই হলো! নিতুর মা সঙ্গত কারণেই এমন পাত্রের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে আগ্রহী হয়েছেন, কিন্তু শাশুড়ি কুঁচকানো কপাল নিয়েও কী জন্য নিরুকে পছন্দ করলেন!!

আরেকটা কথা, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিয়া সহ অসংখ্য বই যে বাড়িতে, যেখানে শ্বশুরমশাইয়ের শিক্ষার কদর হয় ভিয়েনা অবধি, সেই বাড়ির একমাত্র পুত্রবধূ কি কলেজের পড়া শেষ করেছিল? বিয়ের সাত বছর পর রান্নাঘরে দুধ গরম করতে দেখে প্রশ্নটা মনে জাগলো।

খোকা ভাই এই সাত বছর কি দেবদাস হয়েই কাটিয়ে দিল? দাদা বাড়িতে তার মা যে অবহেলা, অনাদর আর পরিশ্রমের মধ্যে কাটালেন, এতগুলো বছর চলে যাবার পরও খোকা ভাই মাকে একটা সম্মানের জীবন দিতে পারলো না!!

ধর যদি এমন হতো, খোকা ভাই এ বাড়ির সকলকে দেখিয়ে দেবার জন্য খুব মন দিয়ে পড়ে অনার্স পাশ করল, বিসিএস দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে গেল, ডিসি মামা যখন এডিশনাল সেক্রেটারি তখন খোকা ভাই তার প্রিয় জুনিয়র অফিসার হলো, এডিশনাল সেক্রেটারি সাহেবের বাসায় এক অনুষ্ঠানে খোকা ভাই আর নিরুর দেখা হলো... তার আর পর নেই!!

জীবন তো এত সহজ হিসেবে চলে না। দেখি আগামী পর্বে কী নিয়ে আসো...

আমার মনে হয় বই হিসেবে এই গল্প আরেকটু বড় হলে ভালো হবে।

আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে না। বরং পরের গল্প লিখে ফেল; আশাকরি উত্তর পেয়ে যাবো।

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৫৩

অপ্‌সরা বলেছেন: হাহাহাহাহাহাহাহাহাহহাহাহা আপুনি!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!


মন্তব্য পড়ে অনেক হাসছি কিন্তু!!!!!!!!!!!


তবে হ্যাঁ পরের পর্ব আর লেখা হবে না এখন।

আমি এখন নিরুপমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছি।

এখন আমি অস্ট্রেলিয়ার পথে......

মিররডলের বাসায় যাচ্ছি। আর ইউ ভাইয়ার বাসার ঠিকানাটা জানিনা আর কি জানলেই চলে যেতার তার বাড়িতেও। :(


তোমার বাড়ি কবে যাবো বলো!!!!!!! :)

৩২| ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২২ রাত ১০:২০

কাঁউটাল বলেছেন: মালা আমারে দিবেন ক্যান? খোকা ভাই মনের দুঃখে বাউল হইয়া গেছে, মালা হেরে দিবেন।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪০

অপ্‌সরা বলেছেন: হা হা ওকে তাইলে আকাশেই ছুঁড়ে দেই মালাটা ওকে???

মালা ছুঁড়ে দেওয়া গান তোমার জন্য

৩৩| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:২৫

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: বোন, এ পর্বে কি মন্তব্য করব তা ভাবতে ভাবতে এতদিন কোন মন্তব্য করিনি ,যদিও পড়া হয়ে গেছে অনেক অনেক বার। তারপরও কি বলব তাই বুঝে উঠতে পারছিনা। আর আপনি জানেন, আমি মন্তব্য করতে গেলে ছোট মন্তব্য করতে পারিনা কোন ভাবেই । এ পর্ব যতবার পড়ি ততবারই কিছু যোগ-বিয়োগ হয় মন্তব্যের ড্রাফ্ট্ কপিতে তবে আজ সিদ্ধান্ত নিলাম ও উপনীত হলাম যে পর্বে বড় কোন মন্তব্য নয় (কারন, মন খুব খারাপ। বেশীরভাগ কৈশোর প্রেমের পরিণতি করুণ কেন হয় তা ভেবে )।

শুধু এতটুকুই বলব, " বড় প্রেম শুধু কাছেই টানেনা, অনেক সময় দূরেও ঠেলে দেয়''

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.