![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)
(ছবি নেট হতে)
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই খোলা চিঠি দেন তিনি। চিঠির বিষয়বস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘আল্লাহ ও রসুল (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান।’
চিঠিতে তিনি বলেন,
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা,
আমি বাংলাদেশের একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও সাধারণ মুসলিম হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনার সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ধর্ম, মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রেরিত রসুল (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি ও অবমাননাকর মন্তব্য করে চলেছে। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা দেখে একে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, দুরভিসন্ধিমূলক, অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।
বিশেষভাবে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে জনগণের ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের ক্ষেত্রে তার বিতর্কিত ভূমিকা জনমনে সংশয়ের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাম্প্রতিক আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্ট আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে।
একই ধরনের কর্মকাণ্ড পৌনঃপুনিক হওয়ায় দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে যৌক্তিক ক্ষোভ, তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। এই ক্ষোভের স্ফূরণ ঘটলে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সেরকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আন্তরিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আশু কর্তব্য। এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনলে তা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে দেবে।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, সব সমাজেরই কিছু আদর্শ ও মূল্যবোধ থাকে। তা রক্ষা করা, তাকে সম্মানের চোখে দেখা, নিদেনপক্ষে তাকে অবজ্ঞা না করাই সামাজিক রীতি। বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষ প্রতিনিয়ত এর উল্টোটাই করে চলেছে। এ কারণে এ দেশে বারবার অস্থিরতা তৈরি হয়। নতুন বাংলাদেশে এর পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। আবু সাঈদসহ অভ্যুত্থানের শহীদদের অধিকাংশই ছিলেন ধার্মিক। ইসলাম ধর্মের সাম্যের বাণী তাদেরকে আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছে। এজন্য এই সরকারের প্রতি ধর্মপ্রাণ জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আশা করি—সরকার জনপ্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে, মানুষের আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবে, সরকার এরকম পদক্ষেপই গ্রহণ করবে, যা দেখে মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে পারবে। মানুষ যদি দেখে তাদের আবেগ-অনুভূতিতে নিয়মিত আঘাত করা হচ্ছে, জন-প্রত্যাশাকে পদদলিত করা হচ্ছে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জনগণকে উস্কে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু সরকার তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না—তাহলে তারা সরকারের প্রতি আস্থা হারাবে। দেশের মানুষ যদি সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারায়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। অতএব সময় থাকতেই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব প্রয়োজন।
আমরা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা করি—সরকার জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করবে, ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, ধর্ম অবমাননার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে সরকারি কোনো প্রকল্পে যুক্ত করবে না, যুক্ত করে থাকলে বরখাস্তপূর্বক শাস্তির আওতায় আনবে এবং এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করবে।
অতএব, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিনীত অনুরোধ—অনতিবিলম্বে এই ধরনের কটূক্তি ও অবমাননাকর কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এবং দেশবাসীকে এই মর্মে আশ্বস্ত করুন যে, তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণভাবে সচেষ্ট থাকবে।
মহান আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন এবং আপনাকে জাতির সেবায় নিয়োজিত রাখুন।
বিনীত
শায়খ আহমাদুল্লাহ
মূল সংবাদের লিংক
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৪:১১
জটিল ভাই বলেছেন:
প্রিয় ভাই, সুন্দর ও আন্তরিক মন্তব্যে আন্তরিক জটিলবাদ জানবেন। আমিও মূলত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণেই পোস্টটি করেছি। কারণ শায়খ যে বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তার প্রায় সবই এই ব্লগেও বিদ্যমান। যদিও ব্লগটি দেশেরই একটা অংশ। কিন্তু এতো সুন্দরভাবে সাজিয়ে বিষয়টি ব্লগ কর্তুপক্ষের সামনে এইমুহুর্তে তুলে ধরতে পারছিনা বলেই শায়খের চিঠিটিই সরাসরি পোস্ট করলাম। চিঠিটি পড়লে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় বাক স্বাধীনতা আর ধর্ম নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলা এক বিষয় নয়। বিষয়টি শুধু ইসলাম নয়, সব ধর্মের জন্যেই প্রযোজ্য। কিন্তু সংখ্যাগুরু মুসলিম হওয়ায় এবং ব্লগে বারবার ইসলাম ধর্মের বিষয়ে কুটুক্তি আসাতেই কথাগুলো ইসলামকেন্দ্রীক হয়। কিন্তু ব্যক্তি আক্রমণের মতো করে ধর্মীয় আক্রমণের বিরুদ্ধেও ব্লগের নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। আমাদের আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। তাই এই দেশে এখন আইন ভাঙ্গাটাই বড় আইন হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দুঃখজনক। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে হিদায়াত নসিব করুন।
২| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৮:৩৫
সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: কত সুন্দর করে মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলেছেন প্রিয় শায়খ আহমাদুল্লাহ
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ১২:৪০
জটিল ভাই বলেছেন:
একদম তাই। আন্তরিক জটিলবাদ প্রিয় ভাই
৩| ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ২:২৭
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: যারা ধর্মনিয়ে লটরপটর করছে এরা ইচ্ছা করেই শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মনিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে খোঁজ নিয়ে জানবেন এদের ঐক্য ঐ একখানেই সেটা হলো ভারত প্রীতি।
৪| ১০ ই মার্চ, ২০২৫ রাত ১১:১০
খায়রুল আহসান বলেছেন: সময়োপযোগী, সুন্দর একটি চিঠি লিখে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার চিঠিতে ধর্মভীরু মুসলমানদের উদ্বেগ এবং আশংকার কথা প্রতিফলিত হয়েছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৩:৩০
সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ২৮ (১) ধারায় আছে - যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এইরূপ কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২(দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
এছাড়া বাংলাদেশের পেনাল কোডেও বেশ কয়েকটি ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করাকে শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়।
এই ব্লগে অনেকেই ইসলামের সমালোচনার নামে মিথ্যা কথা বলেন কিংবা কুৎসা ছড়ায় যার কোন বাস্তব সম্মত কোন ভিত্তি নাই। এগুলিও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। সমালোচনা আর মিথ্যা তথ্য এবং কুৎসা এক জিনিস না। কয়েকদিন আগে রাজীব নূর কোন দলিল ছাড়া বলেছে যে হজরত আবু বকর (রা) এবং হজরত ওমর (রা) উহুদের যুদ্ধে রসূলকে (সা) রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অথচ তারা যে পালান নাই তার পক্ষে অনেক দলিল আছে। উনি যা লিখেছেন সেটা শাস্তি যোগ্য অপরাধ। কারণ তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা কথা প্রচার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। উনি আগেও অনেক
ইচ্ছাকৃতভাবে প্রমাণহীন কথা ইসলাম নিয়ে বলেছেন। এছাড়া উনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে একবার ধার্মিক সাজেন আবার একবার ইসলাম নিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ান। এগুলি অনৈতিক কাজ এবং এগুলি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এই ধরণের আরও কয়েকজন আছে। ব্লগ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।