নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালো থাকুন সবাই ।জীবনকে উপভোগ করুন নিজের মতো করে।

ইসিয়াক

হয়তো কোনদিন দেখা হবে না কারো সাথে অদেখা অদেখাই রয়ে যাবে।।যখন আমি হারিয়ে যাবো তখনো কি আমায় মনে রাখবেন?

ইসিয়াক › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্পঃ সম্পর্ক[শেষ পর্ব ]

২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:২৫


[৪]
বাড়িওয়ালা জামাল সাহেবের স্ত্রী সায়রা খাতুন। নিপাট ভালো মানুষ। পৃথিবীতে কোন কোন মানুষকে প্রথম দেখাতেই মনে হয় অনেকদিনের চেনা,অনেক বেশি আপন।প্রথম দেখাতে সায়রা খাতুনকে দেখেও অহনার তাই মনে হয়েছিলো ।সায়রা খাতুনের দিক থেকে অনুরূপ সাড়া পেয়ে সম্পর্কটা আরো ব্যপ্তি লাভ করল অচিরেই।বাড়িওয়ালা ভাড়াতে সম্পর্কটা ঘুচে যেতে খুব বেশিদিন সময় লাগলো না।
দিনে দিনে সম্পর্কটা আরো গভীর থেকে গভীরতর হতে লাগলো।

অবসর সময়ে সায়রা খাতুনের সাথে অহনা তার জীবনের ঘটে যাওয়া অতীত বর্তমান সবকথাই গল্প করতো। আপনজন ভেবেই করতো।কষ্টের কথা দুঃখের কথা নিজের জীবনের অতীত দুঃখ, সুখ স্মৃতির কথা কারো সাথে বললে মনটা হাল্কা হয়।

সায়রা খাতুনও প্রতিটা সময় মাতৃসুলভ স্নেহ দিয়ে অহনাকে আগলে রাখতেন। গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতেন তার সকল আশা আকাঙ্খা পাওয়া না পাওয়ার বেদনা, ভালো লাগা মন্দ লাগার কথা। তার ব্যথায় ব্যথিত হতেন আবার সুখে হতেন উল্লসিত।

শফিককেও তিনি নিজের ছেলের মতো দেখতেন তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে কত আলোচনা চলতো, শফিককে বোঝাতেন বলতেন,
-মনে করো আমরা তোমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি।
শফিক অবশ্য এইসব পছন্দ করতো না মোটেও।সে বেশ কয়েকবার এই বাড়ি ছেড়ে অন্য বাড়িতে চলেও যেতে চেয়েছিলো। শুধু অহনাই রাজী হয়নি বলে যেতে পারেনি।

শেষের দিনগুলোতে শফিককে অনেক বুঝিয়েছেন সায়েরা খাতুন ও জামিল সাহেব দম্পতি ,ছেলে দুটোর দিকে তাকিয়ে হলেও সংসার করে যেতে বলেছেন।শেষে মাতৃসুলভ ধমকধামক ও দিয়েছেন কিন্তু শফিক সবসময় অনড় থেকেছে নিজের সিদ্ধান্তে। সে শোনেনি কোন কথাই।ছেলে দুটোর কথাও ভুলেছে সে সহজে।


শফিক এই আসা যাওয়ার মধ্যে এক সময় হারিয়ে গেলো দুম করে। অহনা তখন পানিতে পড়ল, রাজ্যের চিন্তায় তখন তার দিশেহারা অবস্থা। এখন কোথায় যাবে? কার কাছে থাকবে? কে তাকে আশ্রয় দেবে?

নানান চিন্তায় সে পাগল হয়ে উঠলো, এর আগে ছিলো একমাত্র মামার আশ্রয়ে, এখন মামা আর এ জগতে নেই । শফিকের সাথে এই বিয়ে মামী কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। তার ইচ্ছা ছিলো নিজের ভাইয়ের ছেলেন সাথে বিয়ে দেবে অহনাকে।মনের মধ্যে এই ক্ষোভটা তার রয়েই গেছে, ইদানিং সেই ক্ষোভ আরো বেশি করে ফিরে এসেছে। দেখা করতে গেলেও বাজে ব্যবহার ছাড়া আর কোন পাওনা অহনা পায়নি।

চারিদিকের অশান্তি লাঞ্ছনা গঞ্জনায় অহনার দম বন্ধ হয়ে আসার যোগাড় হলো, কত দিন ভেবেছে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে কিন্তু ঘুমন্ত নিঃস্পাপ শিশু দুটির মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে বার বার সিদ্ধান্ত বদল করতে হয়েছে।আহারে অলক পলকের সে ছাড়া তো পৃথিবীতে আর কেউ নাই। ছেলে দুটো যে ভেসে যাবে।

এদিকে শফিক চাতুরতার সাথে নিজের ঠিকানা গোপন করে হারিয়ে যায় কোন অজানায়। শফিকের বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায় সব ভুয়া। ভুল ঠিকানা। সেই ঠিকানায় শফিক বা শফিকের বাবা মা পরিবার কেউ কোন কালে ছিলো না,এখনো থাকে না।

তার মধ্যে শফিক নিজের চাকরি বদলেছে। বন্ধু বান্ধব তার কোন কালে তেমন একটা ছিলো না।রহমান নামে এক ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলো সে থাকে মালয়েশিয়ায়।তার বউ এর কাছে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নাম্বার চাইতে এমন চোখ সরু করে চাইলো যে অহনা নিজেই লজ্জায় পড়ে গেলো।

অহনা মারা যাবার পরে জামাল দম্পতি হঠাৎ যেন সাগরে পড়লেন ছোট ছোট বাচ্চা দুটোকে নিয়ে। কার কাছে দিবেন বাচ্চা দুটোকে তাছাড়া ততদিনে অহনার মতো অলক পলককেও এই দম্পতি খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছে ।

প্রথাগত ভাবে অবশ্যই এই বাচ্চা দুটোর দেখাশোনার ভার তার আত্নীয় স্বজনদের উপর পড়ে কিন্তু অহনার দিক থেকে না আছে কেউ আর শফিক তো অনবরত ঠিকানা বদল করে অহনার থেকে পালিয়ে বাঁচতে ব্যস্ত।

অহনার মামীর কাছে গেলে সে এসব ব্যাপারে কোন কথা শুনতে সরাসরি অস্বীকার করলো।

অনেক আলোচনার শেষে এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার বললেন ওদের কে এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া যাক কিন্তু সায়েরা খাতুন হঠাৎ আবেগতাড়িত হয়ে হাউমাউ করে কেঁদে কেটে পরিবেশ ভারী করে ফেললেন।

তারপর সিদ্ধান্ত হলো বাচ্চাদুটোর আত্নীয় স্বজনের খোঁজ না পাওয়া অবধি জামাল সাহেবদের কাছেই অলক পলক থাকবে। সেদিন থেকে অলক পলক সায়েরা জামাল দম্পতির ঘর আলো করে আছে। কিন্তু জামাল সাহেব শফিকের খোঁজখবর করার দায়িত্ব হিসাবে নিতে ভুল করলেন না। এবং বেশ কয়েকদিন পরে অবশেষে সে শফিকের সন্ধান পেয়ে যায় হঠাৎ করেই।

সায়েরা খাতুন খবরটা শুনেই মুষড়ে পড়লেন বাচ্চাদুটো যে ততদিনে তার আরো বেশি প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছে। একমাত্র ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। তাদের নিঃসঙ্গ জীবনের সম্বল এখন অলক পলক। যাই হোক আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।জামাল সাহেব তার সিদ্ধান্তে বদ্ধ পরিকর। মনকে তিনি শক্ত করে বাধলেন। আবেগকে তিনি কোন রকমে প্রশ্রয় দিলেন না। এক সকালে ছেলে দুটিকে পৌছে দিলেন তার বাবার কাছে।

[৫]
কলিংবেল বাজতেই নিরুবালা দরজা খোলার আগে বাজখাই গলায় হাঁক দিলো,
-এ্যাই কে?
অলক পলক দুজনেই একসাথে বলে উঠলো,
- আমরা।
গলার স্বরে আশ্বস্ত হলো কিনা কে জানে দরজা খুলে ভারী শরীরের সেই বাজখাই গলার মালিক নিরুবালা অলক পলকের পা থেকে মাথা অবধি বার কয়েক চোখ বুলিয়ে ভুরু নাচিয়ে জানতে চাইলো,
- কাকে চাই?
-শফিক আহমেদ আছেন?
বাচ্চাদুটোকে তার খুব ভালো লাগলো,বেশ মিষ্টি চেহারা।
নিরুবালা বাচ্চাটার দৃঢ়তায় একটু অবাক হলেও আবার প্রশ্ন করলো,
-খালুজানের সাথে কি দরকার?
-আমরা ওনার আত্নীয় হই।
-আত্নীয়? সাথে কে আছে?
-কেউ নাই আমরা দুজনই এসেছি।
কি মনে করে নিরুবালা দরজা থেকে সরে এলো, তাপর বলল,
-ভিতরে ঢুকো কিন্তু চুপচাপ বসে থাকবা আমি খালুজানরে ডেকে দিচ্ছিা।দুষ্টুমি করবা না। তোমার যে একা একা আসছো তোমাদের বাবা মা জানেন?
-আমার মা তো নাই,পলক আগ বাড়িয়ে বলল।
কাহিনী যে কি নিমেষে নিরুবালা বুঝে ফেলল। ভাসা ভাসা যা জানে তাতে এই বাচ্চাদুটোই খালুজানের আগের পক্ষের। ভিতরে তো ঢুকতে দিলো এখন যদি খালুজান খালাম্মা গাল মন্দ করে তখন? বাচ্চাদুটোকে বের করেও দিতে ইচ্ছা করছেনা ।আহা কি মায়া ভরা চেহারা।দেখলেই আদর করতে ইচ্ছা করে।

কিছুক্ষণের মধ্যে ড্রইংরুমের ভিতরে যেন ঝড় বয়ে গেলো। হঠাৎ করে হুড়মুড় করে শফিকের দ্বিতীয় স্ত্রী রমলা ড্রইংরুমে এসে বলল,
-এই তোরা কারা? এখানে ঢুকছিস কি করে।নিরুবালা তুমি ওদের বের করে দাও।এক্ষুনি ওদের বের করে দাও।

শফিক সাহেব মনেহয় দাড়ি কামাচ্ছিলেন তার মুখে সেভিং ক্রমি। সে এসে বেশ নরম স্বরে বলল,
- আহ! রমলা শান্ত হও, কি হচ্ছে কি?

-তুমি ওদের যেতে বলো তারপর তোমার সাথে কথা। ওদের যেতে বলো? না হলে তোমাকেও আমি এ বাড়ি থেকে বের করে দেবো।
ইশ!শখ কত, ফকিরের বাচ্চাগুলো আমার সাজানো সংসার তছনছ করতে এসেছে।
শফিক নিজে বেশ বিব্রত হয়ে পড়লো,আসলে আর কিছু না হোক বাচ্চাদুটো তার রক্ত।শফিক আসন্ন গৃহযুদ্ধ থামাবার জন্য বলল,
-আমি কথা দিচ্ছি ওরা থাকবেনা, চলে যাবে।তুমি শান্ত হও।
-যে লোকটি ওদের পাঠিয়েছে ওকে বলো এসে যেন এক্ষুনি নিয়ে যায়। তুমি ওকে ফোন দাও। তোমার মোবাইলে ও ফোন করেছিলো আমি ধরেছি। আমি তোমার এই ছাই গুষ্টি একেবারেই টানতে পারবোনা। এই আমি বলে দিচ্ছি।

[৬]
জামাল সাহেবের মনটা আজ খুব খারাপ । আজ কদিন ধরেই খারাপ। ওই যেদিন থেকে শফিকের সন্ধান পাওয়া গেছে সেদিন থেকে। হিসাবে খুশি হওয়ার কথা কিন্তু তিনি বা সায়েরা কেউ খুশি হতে পারছেন না।

আসন্ন বিচ্ছেদ ব্যাথায় তার বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠছে। বাচ্চা দুটোকে মনের অজান্তে কখন যেন এতোটা ভালোবেসে ফেলেছেন তা তারা নিজেই জানেন না।তাছাড়া ওদের জন্ম তো তাদের বাড়িতেই। বেড়ে ওঠাও তাদের বাড়িতে।কি সুন্দর ঘর আলো করে হৈচৈ করে বেড়ায় সারাটা দিন।

তার খুব খারাপ লাগছে। এই বয়সে এসে এরকম মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে পড়া ঠিক হয়নি সেটা সে মনে মনে উপলব্ধি করতে পারছে । কিন্তু এ বাধন তো স্বয়ং আল্লাহই তাদের সাথে বেধে দিয়েছেন বাচ্চা দুটোর সাথে রক্তের সম্পর্কের মতো।

এতো বয়সে এসে জামাল সাহেব এতোটুকুই বুঝেছেন যে রক্তে সম্পর্ক ছাড়া মানুষের সাথে মানুষের আরো সম্পর্ক হতে পারে।তার বারবার মনে হচ্ছে যদি একটু নিভৃতে চোখের পানি ফেলতে পারতেন তবে মনটা হাল্কা হতো।কষ্টগুলো কমতো।

বাড়ি ফিরে যেতে হবে ওদিকে সায়েরাও বাসাতে একা একা রয়েছে। তারও খুব মন খারাপ কিন্তু কি করা। বাচ্চাদুটো তাদের বাবার কাছেই সব থেকে ভালো থাকবে। বাবা বলে কথা। রক্তের বাঁধন কখনো ছিন্ন হবার নয়।আজ না হয় কাল তো ঠিকই বাবার কাছেই চলে যেতো ওরা। একটু না হয় আগেভাগেই গেলো। তারা দুজন তো সাময়িক নিমিত্তি মাত্র।

মোড়ের মাথার চায়ের দোকানে জামাল সাহেব বসে আছেন ফিরে যেতে পারছেন না।বাচ্চা দুটো ঠিক ঠাক তাদের বাবার হাতে পৌছল কিনা তিনি তা বুঝতে পারছেন না।একটা ফোন করে জেনে নেওয়া যেতে পারে। তিনি আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন বলে ঠিক করলেন
কিছুক্ষণ আগে শফিকের কাছে তিনি ফোন দিয়ে দিয়েছেন বাচ্চা দুটো বিল্ডিং এ প্রবেশ করার সাথে সাথে। কে একজন মহিলা মনে হয় শফিকের নতুন স্ত্রী হবে ফোন ধরেছিলো সব শুনে ফোন না কেটেই চিল্লাপাল্লা শুরু করে দিলো। বাচ্চা দুটোর কপালে কি আছে কে জানে। শফিক যদি না রাখে এই আশাতে তিনি আরো কিছুক্ষণ বাচ্চাদুটোর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।অবশেষে ফোন বেজে উঠলো।

[৭]
এরপর অনেকদিন কেটে গেলো। অলক আর পলক বেড়ে উঠতে লাগলো সায়েরাখাতুন আর জামাল সাহেবের কাছে নিজের সন্তানের মতো করে। উনারা ওদের কোন চাওয়া পাওয়াতে কোন কমতি রাখলেন না। বাবা মায়ের কোন অভাব বুঝতে দিলেন না।

বাচ্চাদুটোও ওদের বয়সের চাইতে অনেক বেশি পরিপক্ক।ছোটবেলা থেকে মানব জীবনের জটিল অনেক কিছুই তাদের সামনে বড্ড বেশি খোলামেলা ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।সেই কারণেই হয়তো নিজেরা নিজেদের ভালো মন্দ বুঝতে শিখেছে খুব তাড়াতাড়ি।

তারা এই দুজন নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ আর বৃদ্ধার জীবনটাকে আলোকিত করে দিয়েছে। বিনিময়ে পেয়েছে সুশাসন, অকৃত্রিম ভালোবাসা, আদর ও স্নেহ।

সময়ের পরিক্রমায় অলক এইচ এস সিতে জিপিএ ফাইভ পেয়ে পাশ করলো বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। পলক এস এস সিতে অত ভালো রেজাল্ট না করলেও এ পেয়ে পাশ করে এখন কলেজে পড়ছে। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন দুই ভাইয়ের কাছে ডাক এলো বাসায় আসার জন্য।

তারা দুইভাই তখন মার্কেটে ছিলো কিছু কেনা কাটা করার জন্য। হঠাৎ জরুরী তলবে তারা উর্ধ্বশ্বাসে বাড়ি ফিরে এলো, অন্য কোন অমঙ্গল আশঙ্কায়। কিন্তু বাসার ড্রইংরুমে অচেনা এক লোককে বসে থাকতে দেখে তারা লোকটির দিকে সন্দেহ চোখে তাকালো।
হ্যাঁ এই লোকটিকে তারা চেনে খুব ভালো করে চেনে। এই লোকের বাসাতেই তাদের শিশু জগৎটা সর্বপ্রথম দুলে উঠেছিলো মারাত্নকভাবে। সে কথা তারা এ জীবনে ভুলবে কি করে। উফ! সে কি অপমান।

এই লোকটি নতুন করে আবার কি মতলবে এসেছে কে জানে।এই পাষণ্ড দায়িত্বজ্ঞানহীন লোকটির নতুন কোন মতলব সফল হতে দেওয়া যাবে না কিছুতেই। দুই ভাইয়ের চোখাচোখি হলো এবং চোখে চোখে ঠিক করে নিলো তাদের কি করতে হবে।

তারা ভিতরে এসে দেখলো দিদিমণি আর দাদাভাই বসে আছে ভিতরের বারান্দায় নিশ্চুপ হয়ে। যেন কোন কাঠের মুর্তি ।অলক পলক তাদের সামনে গিয়ে দাড়ালো, অলক বলল,
-এখানে কি করছো?
মন যে কতোটা ভার তা ফুটে উঠলো সায়েরা খাতুনের মুখের ভাষাতে, তিনি অস্পষ্ট স্বরে বললেন
-তোদের বাবা তোদের নিতে এসেছে,গুছিয়ে নে তাড়াতাড়ি।

অলক আবার বলল ,
-আমাদের তাড়িয়ে দিচ্ছো?
-না সোনা তোদের আমি কি করে তাড়িয়ে দেবো। তোরা আমাদের রক্তের কেউ না তবু তোরা দুই ভাই আমাদের সবচেয়ে আপন। একদিন না একদিন আমাদের ছেড়ে তো যেতে হতোই তোদের। তোরা এখন বড় হয়ে গেছিস। ভালোই হলো তোদের বাবা তোদের ঠিক সময়ে নিতে এসেছেন। তোরা গুছিয়ে নে।

আলক আর পলক বেশ দৃঢ়তার সাথে বলল,
-তোমরা আমাদের তাড়িয়ে দিলেও আমরা কোথাও যাচ্ছি না এটা জেনে রাখো। আর ড্রইংরুমে বসা ওই লোকটিকে বলে দাও চলে যেতে। আর স্পষ্ট করে জানিয়ে দাও রক্তের সম্পর্কে দাবি নিয়ে আর যেন কোনদিন আমাদের সামনে সে যেন এসে না দাড়ায়।

শফিকের কানে প্রতিটা কথাই পৌছে গেলো অচিরেই কারণ অলক পলক বেশ জোরে এবং উত্তেজিত হয়ে কথাগুলো বলছিলো।সাধারণত তারা এভাবে কথা বলে না। আজ তাদের মেজাজাটা বিগড়ে গেছে। রক্তের সম্পর্কের দোহাই দিয়ে মানুষ অনেক অন্যায় সুযোগ নেয়। নিজের স্বার্থে মানুষ খুব দ্রুত অতীত ভুলে যায়। কিন্তু অলক পলক তাদের অতীত ভুলে যেতে রাজী নয়।

হঠাৎকরে আকাশ জুড়ে মেঘ করলো। বৃষ্টি হবে বলে মনে হচ্ছে।অন্য কোন দিকে বৃষ্টি হয়েছে বলে মনেহয়। বেশ ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে।হাঁটতে হাঁটতে শফিক রাস্তার একপাশে গিয়ে হাওয়া আড়াল করে একটা সিগারেট ধরালো।এখন তাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে। তবু মনের মধ্যে একটু ভালো লাগা কাজ করছে তার। যাক তার ছেলেদুটো ভালো আছে।সুখে আছে।
শেষ।
ছবিঃ গুগল থেকে
প্রথম পর্বের লিঙ্ক মন্তব্যে ঘরে দেওয়া আছে।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:২৮

ইসিয়াক বলেছেন: Click This Link

২| ২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৩৭

মোহাম্মদ গোফরান বলেছেন: আগের পর্ব গুলো পড়া হয়নি।

২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৪০

ইসিয়াক বলেছেন:

মোহাম্মদ গোফরান ভাইয়া আপনাকে আমার ব্লগে স্বাগতম।
এই গল্পটা দুই পর্বে দেওয়া ভাইয়া। প্রথম মন্তব্যের ঘরে ক্লিক করলে আগের পর্বটা পেয়ে যাবেন, সেটাই প্রথম পর্ব।
শুভকামনা।

৩| ২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: সবাই সায়রা খাতুনের মতোন না। এদিকে শফিক বিরাট বদ।
অলক আর পলক ভাগ্যবান।

গল্প ভালো হয়েছে। চমক ছিলো। আকর্ষন ছিলো। শিক্ষা ছিলো।

২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৩২

ইসিয়াক বলেছেন:




এই গল্পটা বাবা দিবসে দিতে চেয়েছিলাম। সব বাবাই নিপাট ভদ্রলোক নয়।

৪| ২৪ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর হয়েছে।

২৫ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:১৩

ইসিয়াক বলেছেন:



ধন্যবাদ সাজ্জাদ ভাই।
শুভকামনা।

৫| ২৪ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: বদমাইশ বাপের অভাব নাই দুনিয়াতে।

৬| ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:০৪

লাবনী আক্তার বলেছেন: বাচ্চা দুটির ভাগ্য ভালো বলতে হয় । এমন অনেক অসহায় মানুষ আছে যাদের ভাগ্যটা এমন হয় না।


গল্পে ভালোলাগা জানবেন।

৭| ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:২৪

নেওয়াজ আলি বলেছেন: অসাধারণ সুন্দর I

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.