নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন।

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন

আমি মানুষের কথা বলি। মানবতার কথা বলি। স্বপ্ন দেখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। নিরাপদ একটি ভূখন্ডের।

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের ভোটে নির্বাচিত অতি বুদ্ধিমান নেতা। অতঃপর যা ইচ্ছা তা...।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৩৭



কথাটি সব মহল থেকেই শোনা যায়। অনেকটা আস্থা নিয়ে, আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলা হয় এদেশের মানুষ অনেক বেশি রাজনীতি সচেতন। আসলেই কি আমরা রাজনীতি সচেতন? কথাটি কোন নিয়ামকের ভিত্তিতে বলা হয় আমি জানিনা। যে দেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে শুধুমাত্র মার্কাকে বিবেচনায় এনে। যারা কখনই সমর্থিত দলের বা দলীয় প্রধানের কর্মকাণ্ডকে বিচার করার ক্ষমতা রাখে না আপনি কি তাদের সচেতন বলবেন?



যারা নেত্রীর কথাকে বেদবাক্য মানে। যারা মনে করে কোনভাবেই এক দলকে দুবার ক্ষমতায় পাঠানো যাবে না। যারা ভাবে সবাই তো এক। এক দলই কেন সব খাবে(দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়)।

যারা স্থানীয় নেতাকে চেনেনই না; এমনকি দলীয় প্রধানকেও বিবেচনায় আনেন না। শুধুমাত্র একদা মহান এক নেতা এই দলের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার ভিত্তিতে সারা জীবন দলকে সমর্থন করে যান তারা কি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নন?



এই প্রতিবন্ধীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েই নেতা আবোল তাবোল বকেন, যা ইচ্ছা তাই করেন। নেতার সে অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড দেখেও এই প্রতিবন্ধীরা আনন্দে আত্মহারা। নেতা ডাক দিয়েছেন শকুনেরা সব রাজপথ দখলে নিয়েছে। উন্মত্ত হায়েনারা জন্মের তৃষ্ণা লয়ে মানুষ মারার মহতসবে মেতেছে। প্রতিবন্ধীরা প্রত্যেকে অনিরাপদ তবু তাদের চোখে ফুটে ওঠে না ঘৃণা। সে বোধই তাদের নেই। আর এই নির্বোধ জাতটাকেই পেয়ে বসেছে আমাদের মহানুভবেরা।



রাজনৈতিক দল সমূহ চলছে শুধুমাত্র দলীয় প্রধানের অঙ্গুলি নির্দেশে। দলের সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের প্রধান এবং একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তকে জায়েজ করা। যা তারা তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং লাভা লাভ বিচারে করে থাকেন, এখানে নিতি নৈতিকতা বা আত্মসম্মানবোধ কখনোই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে সক্ষম হয় না। এটা না হয় তাদের স্বার্থ বিবেচনায় মেনে নিলাম। কিন্তু সাধারণ সমর্থকরাও যখন কোন কারণ ছাড়াই অন্ধের মত নেতার অনুসরণ করে। নেতার কথাকে বেদবাক্য ধরে নিয়ে পরস্পর বচসায় লিপ্ত হয় এমনকি মারামারি খুনোখুনিতে পর্যন্ত লিপ্ত হয়ে পরে তখন তাদেরকে রাজনীতি সচেতন বলবেন না নির্বোধ বলে অভিহিত করবেন সে বিচারের ভার আপনার।

আমাদের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের অর্জন এতটাই যে, তারা এখনো নিজের আগে দলের প্রতিষ্ঠাতার নাম মুখে নেন। আর আমরাও তাই শুনে বিগলিত। এখনো এদেশের সাধারণ নির্বাচন সমূহে যে পরিমাণ ভোট কাস্ট হয় তার সিংহভাগ ভোট শ্রদ্ধাস্পদ মরহুম নেতারাই পান। অথচ এই জাতীয় নেতাদের স্থান হওয়া উচিৎ ছিল সকল দল মতের ঊর্ধ্বে। তারা হবেন সমগ্র জাতীর প্রেরণা। আমরা মৃত্যুর এতকাল পড়েও তাদের চরিত্র হননে ব্যস্ত। দলগুলি এই নেতাদের জাতীয় হয়ে উঠতে দেন নি তাদের ক্ষুদ্রে স্বার্থেই। তারা জানেন এই নেতারা দলীয় ক্যানভাসে না থাকলে সে ক্যানভাসটি হয়ে যাবে বিবর্ণ।



মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা অনুধাবনে সক্ষম বলেই বোধ হয় বলেন, আপনারা প্রার্থী নয় মার্কা নিয়ে কাজ করুন। কথাটি শুনতে যেমনই শোনাক না কেন বাস্তবতা তো এই যে, আমরা দলকেই সমর্থন করি দলীয় প্রার্থীকে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এও অনুধাবনে সক্ষম যে তার এই কথাটি যে সব ভোটারের অস্বস্তির কারণ হতে পারে সে ধরনের বোধসম্পন্ন ভোটারও এই অভাগা দেশে একেবারেই নগণ্য।



আমরা বেকুব নই বলা যায় অসভ্য, চরম স্বার্থপর এক জাতিতে পরিণত হয়েছি। ব্যক্তিগত অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশায় আমরা দল সমর্থন করি। আমরা জানি সমর্থিত দল ক্ষমতায় এলে আমি চাকুরী পাব, সরকারী কাজ পাব, কর্মস্থলে উচ্চ পদ পাব অতএব............।

একটি দেশে এমন কিছু সংখ্যক লোক থাকতেই পারে তারা কোনকিছুই নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু এই বর্বরদের সংখ্যাই যখন বেশি হয় তখন আর সে দেশে সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ আশা করার উপায় থাকে না। আজ এই অভাগা দেশে এও অসুস্থ মানুষই সংখ্যাগুরু।



একটি দেশে একদল লোক তো থাকবে যাকে সাধারণ মানুষ অনুকরণ করতে পারে। শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী সব জায়গায় নির্লজ্জ দলবাজি। এর সাথে একদল যুক্ত হয়েছে যারা নিরাভরণ দলবাজ। চিহ্নিত দলবাজদের কথা কেউ বিশ্বাস করেনা বলেই হয়ত এই কৌশল অবলম্বন। কিন্তু পিশাচ কি আর শেষপর্যন্ত ছদ্মবেশ ধরে রাখতে পারে? এক সময় ঠিকই বের হয়ে আসে তার বীভৎস রূপটি। এদের ভিড়ে এ দেশের গুটি কয়েক মানুষ যারা সত্যি কথাটি বলার চেষ্টা করেন। সঠিক পথটি বাদলে দেয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা রত তাদেরকেও আমরা আজ গুলিয়ে ফেলি।

ইতিহাস কি কাউকে ক্ষমা করে? আজ যারা জাতীর বিবেক বলে নিজেদের পরিচয় দেন অথচ নিজেদের স্বার্থানুযায়ি কথা বলে সাধারণ মানুষকে অনবরত বিভ্রান্ত করে চলেছেন। বিবদমান নেতৃবৃন্দকে ক্রমাগত উস্কে দিচ্ছেন। যারা একটিবার ভুল করেও বলেন না আপনারা যে আন্দোলনই করুন না কেন মানুষকে জিম্মি করে করবেন না। সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মেরে কিংবা বোমার আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়ার মত কোন আন্দোলন মেনে নেয়া যায় না। দেশের সম্পদ বিনষ্টকারীরা আর যাই হোক দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার নৈতিক যোগ্যতা রাখেন না।



ইতিহাসে হালাকু খা’রা যেমন জায়গা করে নিয়েছেন রক্তপিপাসু সম্রাট হিসেবে। ঠিক তেমনি মানবতাবাদী শাসক হিসেবেও ঠাই করে নিয়েছেন বাদশাহ আকবরের মত শাসকরা। সেইসাথে তাদের সভাসদরাও তাদের কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে সক্ষম হননি। আর এই ভাল মন্দের বাইরেও রাজা চতুর্দশ লুই’দের মত ধূর্ত শাসকদের আমরা দেখতে পাই যাকে বলা হতো শিক্ষিত-মানবতাবাদী রাজা। যা ছিল তার ভড়ং মাত্র। যিনি সামান্যতম সমালোচনাও সইতে পারতেন না। সমালোচনা কারীদের দমনে কঠোরতম নৃশংশ ব্যবস্থা গ্রহণেও যার জুরি ছিল না। আমরা কি তেমনি শাসকদের কবলে পড়তে যাচ্ছি। ক্ষমতার জন্য যাদের নৃশংস হতে বাধে না। অথচ মানবতাবাদীর তকমা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান। নয়ত দাবী আদায়ের নামে এতটা নৃশংসতা চলতে পারত না। মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী চলমান আন্দোলনে “দেশের কোথাও কোন নিরপরাধ, সাধারণ মানুষের ওপর যেন হামলা না হয়, কোথাও যেন তাদের সম্পদ নষ্ট করা না হয়’সে জন্য ১৮ দলীয় জোট এবং আন্দোলনরত অন্যান্য দল ও সংগঠনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন”।

এত মৃত্যু এত ধ্বংসের পরে হলেও তার এ আহবানকে সাধুবাদ জানাই। তবে পরবর্তী সময়ের সহিংসতাই বলে দেবে তার এই আহবান কতটা আন্তরিক। আর তাছাড়া নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের উপরে তার নিয়ন্ত্রনই বা কতটা প্রতিষ্ঠিত।



আমাদের কথা হল, সহজ সরল বলি আর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীই বলি এদেশের সাধারণ ভোটারদের প্রতি; সাধারণ মানুষের প্রতি আপনারা নুন্যতম দায়িত্বটুকু অন্তত পালন করুন। তারা আপনাদের শত্রু নয়, বরং আশীর্বাদ। এরা যদি সুস্থ মস্তিষ্কে বিচার বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হত তাহলে হয়ত আপনাদের অনেকেরই রাজনীতির মাঠে অস্তিত্ব থাকত না। কাজেই এদের প্রতি ন্যুনতম কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করুন। শেষ বিচারে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কি জবাব দেবেন সেটা তো ভাবুন।

[email protected]

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:০৭

মেটাল বলেছেন: প্রত্যেকটি কথা সাথে সহমত । মজার ব্যাপার কি জানেন? এখানে আপনি কোন কমেন্ট পাবেন না । কারন আপনার আমার মত চিন্তা করার লোক জন আমি খুব কম দেখি । কোন দলের দালালি করে ১টা পোস্ট দিতেন , দেখতেন কমেন্টের বন্যা হয়ে যেত । আসল কথা হল বেশির ভাগ এই ধরনের চিন্তাধারার হয় , আমি সত্যিই হতাশ হই । কোন আশা দেখি না ।

Click This Link

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:৩৩

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন বলেছেন: আপনার কথার সবচেয়ে বড় প্রমান আমার এই লেখার পাঠক সংখ্যা। মাত্র ২২ অথচ আমারই অন্য লেখাগুলো দেখুন। ব্লগার এবং পাঠকদের নিয়ে আমি হতাশ শুধু নই শংকিতও বটে। ভাল থাকুন। অনেক ভাল। মুক্ত থাকুন রাজনীতির অভিশাপ থেকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.