নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখালেখি

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-৪)

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:২৪


আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-৩)

জান কি আমি এ পাপ-আঁখি মেলি তোমারে দেখেছি চেয়ে
গিয়েছিল মোর বিভোর বাসনা ওই মুখপানে ধেয়ে।

হাট থেকে বেড়িয়ে আসার পরদিন সকালে ঘরের সামনে মাটির বারান্দায় মোড়ার ওপর আমি বসে আছি। দুধের সস্তি দিয়ে খেজুর গুড়ের পুর ভরা গরম গরম ভাপা পিঠা আর তেলে ভাজা বাসি ভাত দিয়ে নাস্তা খাওয়া শেষ। আলেয়া এসে আমার হাত ধরে টানাটানি শুরু করলো, ‘মেজভাই, চলেন আমাদের উত্তর পাড়ার আম বাগান থেকে বেড়িয়ে আসি। গাছে কত মুকুল ধরেছে দেখবেন।’
আমি বললাম, ‘আজ থাক, আর একদিন যাবো। আজ শরীরটা ভালো লাগছে না রে। কেমন যেন ম্যাজ ম্যাজ করছে।’
আসলেই গতকাল গরুর গাড়িতে ঝাঁকুনি খেয়ে হাটে যাওয়া আসা করায় শরীরে বেশ ব্যথা হয়েছে। ব্যথা থেকে একটু জ্বর জ্বর ভাব। শহরের মানুষদের জন্য এভাবে যাতায়াত করা আসলেই খুব কষ্টকর। আমার ভাইবোনরা না গিয়ে ভালোই করেছে।
আলেয়া চট করে সবার সামনেই আমার কপালে আর বোতাম খোলা জামার ভেতরে বুকে হাত দিয়ে বললো, ‘জ্বর টর নাই। আপনার কিচ্ছু হয়নি মেজভাই। চলেন, বাগানে গেলে আপনার ভালো লাগবে। খুব সুন্দর জায়গা।’
আমি আড়চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি, তিনি এসব খেয়ালই করেননি। উঠানে চুলার পাশে চাচীদের সাথে বসে তিনি ভাপা পিঠা বানানো দেখছেন আর পান খেতে খেতে গল্প করছেন। তবে বড় চাচীমা উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে আছেন আমাদের দিকে। বড়ভাই আলেয়ার আবদার শুনতে পেয়ে ঘর থেকে বললেন, ‘এই পাগলি, উত্তর পাড়া গেলে ছাতা নিয়ে যাস। আজ খুব রোদ উঠেছে। হেনার কিন্তু রোদ সহ্য হয় না।’
‘ছাতা নিচ্ছি বড়ভাই।’ বলাও সারা, ঘর থেকে আলেয়ার ছাতা নিয়ে বেরোনোও সারা।

আমাদের বাড়ি থেকে গ্রামের উত্তর পাড়া যাবার সংক্ষিপ্ত পথ হলো বিলের ধানী জমি ঘেঁষে আইলের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া। কাঁচা সড়ক দিয়ে গেলে অনেক দূর হয়। সরু আইলের ওপর দিয়ে হাঁটতে আলেয়া অভ্যস্ত হলেও আমি অনভ্যাসের কারণে পা টিপে টিপে এগোচ্ছি। ফলে বার বার আলেয়ার পিছে পড়ে যাচ্ছি। তার ওপর বাতাসে ছাতা সামলানো এক ঝামেলা। আমার দুরবস্থা দেখে শেষে আলেয়া আমার হাত থেকে ছাতা কেড়ে নিয়ে আমার মাথার ওপর ধরে পিছে পিছে আসতে লাগলো। ওর মুখ দেখে বুঝলাম শহরের আলু আলু স্বভাবের মানুষ নিয়ে গ্রামের এবড়ো খেবড়ো শক্ত আইলের ওপর দিয়ে হাঁটতে সে খুব মজা পাচ্ছে। বিলের জমিতে নিড়ানির কাজে ব্যস্ত ক্ষেত মজুররা সবাই সরকারের নাতনিকে চেনে। কিন্তু আমাকে কেউ চেনে না। কাজ ফেলে তারা উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিচ্ছে আমাদের। আলেয়া খুশি হয়ে তাদেরকে বলছে, ‘আমার মেজভাই। রাজশাহী থেকে এসেছে। আমাদের উত্তর পাড়ার আমবাগান দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি।’
‘হাঁ, হাঁ, মা। যাও।’
ওদের একজন আরেক জনকে বলছে, ‘হামিদ ভাইয়ের ছেলে। মিলিটারিরা শহরে সব বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। দশ হাজার লোক মেরে ফেলেছে, শুনিস নি?’
আলেয়া ওদের ছাড়িয়ে অনেক দূর চলে গেলেও ওদের কথাবার্তা শুনতে পেয়ে চিৎকার করে বললো, ‘না, না, দশ হাজার না, পঁচিশ হাজার। তাই না মেজভাই?’
আমি গরমে হাঁটতে হাঁটতে অস্থির। আলেয়ার কথায় সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে বললাম, ‘হয়েছে, আর বক বক করিস না। এখন চল। আর কতদূর?’
‘এই তো এসেই গেছি। ওই যে তাল গাছের সারি দেখছেন না, বাঁ দিকে কয়েকটা ছনের ঘর, ওটা পার হলেই আমাদের আমবাগান।’
এসেই গেছি শুনে আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু তারপরেও আরো আধা ঘণ্টা হেঁটে অবশেষে যখন সত্যি সত্যিই আম বাগানে পৌঁছালাম, তখন রীতিমতো আমার ঘাম ছুটছে। গ্রামের মানুষের এই এক সমস্যা। তারা এসে গেছি বললেও আরো এক দেড় মাইল হাঁটতে হয়। আমি ঘেমে নেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও আলেয়া বাড়ি থেকে রওনা হবার সময় যেমন তরতাজা ছিল, তেমনই আছে। শুধু ওর নাকের ডগায় কয়েক ফোঁটা ঘাম চিক চিক করছে। সে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘হায় আল্লাহ! মেজভাই, আপনি তো শেষ! থামেন, থামেন।’

বাগান সংলগ্ন কামলা ও ক্ষেতমজুর শ্রেনির গরিব মানুষের কিছু কুঁড়েঘর থেকে ঘোমটা টানা কয়েকজন মহিলা আর বস্ত্রহীন কিছু বাচ্চা কাচ্চা বেরিয়ে এসে আমাদেরকে অবাক চোখে দেখছিল। আলেয়া ছুটে গিয়ে তাদের কিছু বলতেই মুহূর্তের মধ্যে বসার জন্য খেজুরের পাটি, কলসের ঠাণ্ডা পানি আর মাটির সানকিতে একমুঠো গুড় এসে হাজির। আমাদের সামনে এসব নামিয়ে রেখে ঘোমটা টানা মহিলারা দূরে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী চোখে আমাদের দেখতে লাগলো।
আমি একটুখানি গুড় মুখে দিয়ে ঢক ঢক করে দু’গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খেয়ে ফেললাম। এতে বেশ আরাম হলো। আলেয়াকে বললাম, ‘তুই পানি খাবি না?’
বুঝতে পারছি, আলেয়া বহু কষ্টে হাসি চেপে রেখেছে। সে বললো, ‘খাচ্ছি।’ ছেলেমেয়েগুলো আমাদের দু’জনকে গোল হয়ে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। আলেয়া পানি খেয়ে ওদের তাড়া দিতেই সবাই ছুটে পালালো।
কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আমরা উঠে পড়লাম বাগান দেখতে। বাগানের সব গাছেই মুকুল এসেছে। বাতাসে হালকা মিষ্টি গন্ধ। গাছের পাতায় পাতায় মৌমাছিদের গুঞ্জন। আলেয়া একটা একটা করে গাছ দেখায় আর বলে, ‘এটা গোপালভোগ, এটা ল্যাংড়া, এটা খিরসাপাত.........।’
‘আচ্ছা আলেয়া, তোকে একটা কথা বলবো?’
আচমকা আমার প্রশ্ন শুনে থমকে গেল আলেয়া। ভয়ে ভয়ে বললো, ‘কী কথা মেজভাই?’
‘চল, কোথাও গিয়ে বসি।’
‘পাটিটা নিয়ে আসি?’
‘না, না, পাটি লাগবে না। ঘাসের ওপর বসবো, চল।’

কিছুদূর হেঁটে একটা মোটাসোটা আম গাছের আড়ালে সবুজ ঘাসের ওপর বসে পড়লাম আমরা দু’জন। ছেঁড়া প্যান্ট পরা খালি গায়ের ছয় সাত বছর বয়সের একটা মেয়ে আমাদের পিছে পিছে আসছিল। আলেয়া ওকে ধমক দিয়ে বললো, ‘এই নূরী, যা ভাগ এখান থেকে।’
মেয়েটা উল্টো পথে ছুটে পালালো। আমি বাগানের চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম কোথাও কেউ নেই। আসার সময় দেখা কুঁড়ে ঘরগুলোও চোখের আড়ালে পড়ে গেছে।
নিশ্চুপ বসে আছি আমরা দু’জন। গাছের পাতায় পাতায় উড়ে বেড়ানো মৌমাছিদের গুঞ্জন ছাড়া চারদিক নিস্তব্ধ। দূরে কোথাও ‘কুহু’ ‘কুহু’ শব্দে একটা কোকিল ডাকছে। আলেয়া আগ্রহভরে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি মাথা নিচু করে থেমে থেমে বললাম, ‘আমার সাথে তোর যে বিয়ে হবে এ কথা তুই কবে জেনেছিস?’
‘ও আল্লাহ, এই কথা?’ আলেয়া যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। বললো, ‘সে তো আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই জানি। ধুর, আমি ভেবেছি কী না কী!’
আমি একটু চুপ করে থেকে বললাম, ‘আমাকে তো তুই আগে সেভাবে দেখিস নি। আমি বড় হওয়ার পর এই প্রথম গ্রামে এলাম। যদি আমাকে তোর পছন্দ না হতো, তাহলেও কী তুই আমাকে বিয়ে করতে রাজী হতি?’
আলেয়া খিল খিল করে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে উঠে আম গাছের চার পাশে একটা চক্কর দিয়ে এসে আবার আগের জায়গায় বসে পড়লো সে। তারপর বললো, ‘আমার আবার পছন্দ অপছন্দ কী? আপনার সঙ্গে তো আমার বিয়ে হবেই। বড়মা কথা দিয়েছে না! এখন এসব কথা থাক না মেজভাই। চলেন, বাগান দেখি।’
‘না আলেয়া। আমার কথা একটু মনোযোগ দিয়ে শোন।’
সিরিয়াস কথার মধ্যেও দুষ্টামি করার স্বভাব আছে আলেয়ার। আমার কথা শুনে সে একটু নড়ে চড়ে বসলো। তারপর দু’হাতে দুই গাল চেপে ধরে মাথাটা সামান্য বাঁকা করে দুষ্টামি ভরা চোখে সোজা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘বেশ বলেন, শহরবাবু’
‘শহরবাবু মানে?’
‘শহরে থাকেন, তাই।’
‘তুই একটা ফাজিল মেয়ে।’ আমি গম্ভীর হবার চেষ্টা করে বললাম, ‘দেখ, গ্রামের সমাজে তোর বয়সী মেয়েরা বিয়ের উপযুক্ত সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তের চৌদ্দ বছর বয়সের একটা মেয়ে তো আসলে নাবালিকাই। আমিও তো সবে ষোলো পার হয়ে সতেরতে পড়েছি। এই বয়সে বিয়ের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ.........।’
আমার কথা শেষ না হতেই আলেয়া অধৈর্য হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আমার হাত ধরে টানাটানি শুরু করলো। বললো, ‘চলেন তো মেজভাই, বাগান দেখে আসি।’
আমি বসে থাকলাম। আলেয়া আবার আমার হাত ধরে মৃদু টান দিয়ে বললো, ‘ওঠেন।’
আমি তারপরেও উঠলাম না। হাত ইশারায় ওকে বসতে বললাম আমার পাশে। ওর কী মনে হলো কে জানে, কোন আপত্তি ছাড়াই আমার গা ঘেঁষে বসে পড়লো। তারপর অনেকক্ষণ দু’জনেই চুপচাপ। কারো মুখে কোন কথা নাই। গাছের ডালে মৌমাছিরা গুন গুন করছে। আমি দু’হাত হাঁটুর ওপর তুলে বসে আছি। কিভাবে কথা শুরু করবো বুঝতে পারছি না। অনেকক্ষণ পর আলেয়া ওর একটা হাত তুলে আমার হাতের ওপর রাখলো। আমার সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। মনে হলো পুরো শরীরটা অসাড় হয়ে গেছে। আলেয়া একটু ঘুরে বসে ওর টানা টানা দুই চোখ মেলে তাকালো আমার দিকে। তার সেই কাজল কালো চোখে অসহায় দৃষ্টি। যেন প্রবল বর্ষণের আগে চোখে তার থমথমে ঘন কালো মেঘ। সে খুব করুণ কণ্ঠে বললো, ‘আমাকে আপনার পছন্দ হয়নি, তাই না মেজভাই? আপনি শহরের ছেলে, আর আমি পড়ালেখা না জানা গ্রামের মেয়ে। পছন্দ না হওয়ারই কথা।’
মনে হলো, আমার বুকের মধ্যে একটা হাতুড়ির ঘা পড়লো। আমার পক্ষে আর স্থির থাকা সম্ভব হলো না। আলেয়াকে এক টানে আমার বুকের মধ্যে নিয়ে ওর পিঠে এলো মেলো হাত বুলাতে শুরু করলাম। আলেয়া দু’হাতে প্রাণপণে জাপটে ধরলো আমাকে। আমি থর থর করে কাঁপছি, আলেয়াও। দু’জনের জীবনে সম্পূর্ণ নতুন এই ঘটনায় দু’জনেই বাকরুদ্ধ।

এভাবে আমরা কতক্ষণ ছিলাম জানি না। এক সময় আলেয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মৃদু কণ্ঠে বললো, ‘বাগান দেখবেন না মেজভাই?’
নিজেকে সামলে নিতে আমার একটু সময় লাগলো। স্বাভাবিক হবার পর আমি ফিস ফিস করে বললাম, ‘বাগান দেখার চাইতে তোকে দেখা ভালো। তুই আমার সামনে বসে থাক। আমি তোকে প্রাণ ভরে দেখি। আমার বউকে তো বাড়িতে ভালো করে দেখারই সুযোগ পাই না।’
আলেয়া বললো, ‘দেখতে মানা করেছে কে?’
‘না রে, লজ্জা লাগে।’
‘ও বাবা, এ ছেলের আবার লজ্জাও আছে!’ বলে আলেয়া হাসতে হাসতে আমার বুকের মধ্যে মুখ লুকালো। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরেই ফোঁপাতে লাগলো ও। আমি বললাম, ‘কাঁদছিস কেন?’
আলেয়া কোন উত্তর না দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেই থাকলো। কিছুক্ষণ কাঁদার পর শান্ত হলো সে। তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে চোখ মুছে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো চুপচাপ। আমি ওর থুঁতনিতে হাত দিয়ে মুখটা তুলে ধরে বললাম, ‘বউ হিসাবে তোকে পছন্দ হবে না এমন বোকা এই দুনিয়ায় কেউ আছে নাকি? তোকে দেখলে আমার মনে হয় যেন এইমাত্র ফোটা একটা টকটকে লাল গোলাপ দেখছি।’
কাঁচ ভাঙ্গার মতো আওয়াজ করে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লো আলেয়া। উঠতি বয়সের মেয়েদের এই এক ব্যাপার। এই হাসে তো এই কাঁদে। হাসি কান্নার কোন আগাম সংকেত নাই। হাঁটু সমান লম্বা চুলগুলো পাশ থেকে টেনে এনে লজ্জায় মুখ ঢেকে আলেয়া ছুটে পালালো আমার সামনে থেকে। একটু পরেই আবার ফিরে এল সে। বললো, ‘অনেক বাগান দেখা হয়েছে। এখন চলেন বাড়ি যাই। আকাশের অবস্থা ভালো না। বৃষ্টি আসতে পারে।’

আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, সত্যিই একটু একটু করে কালো মেঘ জমছে পশ্চিমে। আগের দিনও বৃষ্টি হয়েছে। সোঁদা মাটির গন্ধে মাতাল এলোমেলো হাওয়ার গতি বাড়ছে। বাগানের মৌমাছিরা চঞ্চল হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির অস্থিরতা মানুষের চেয়ে ভালো বোঝে ওরা। মধু সংগ্রহে ক্ষান্ত দিয়ে নিজ নিজ মৌচাকে ওরা ফিরতে শুরু করেছে। হয়তো ওরা আমাদেরও বলতে চাইছে, ‘অনেক তো হলো, এখন বাড়ি যাও। প্রেম কাননে কাল আবার এসো।’

বাড়ি ফেরার পথে উল্টাপাল্টা বাতাসের সাথে সাথে শুরু হলো ঝমাঝম বৃষ্টি। বিস্তীর্ণ বিলের মাঠে কোন জনপ্রাণী নাই। দৃষ্টি সীমার মধ্যে নাই কোন ঘরবাড়িও। চাষিদের বহু কাংখিত বর্ষণ। রসকষহীন শুকনো মাঠে ধানের চারাগুলো প্রকৃতির দানে আরও সবুজ হবে। হাসি ফুটবে চাষিদের মুখে।
আলেয়া ছাতা ফুটিয়ে আমার মাথার ওপর ধরার চেষ্টা করলো। কিন্তু দমকা বাতাসে উল্টে গিয়ে ওর হাত থেকে ছুটে গেল সেটা। দু’জন মিলে ছুটোছুটি করে পাকড়াও করা হলো ছাতাটাকে। তবে পুরোপুরি ভিজে গেলাম আমরা দু’জনেই। মধুপুর আসার পর থেকে আমি প্যান্ট শার্ট ছেড়ে লুঙ্গি আর তিন পকেটওয়ালা জামা পরা ধরেছি। যেমন দেশ, তেমন বেশ। কিন্তু বৃষ্টিতে সপসপে ভেজা লুঙ্গিকে ঠিকমতো সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। আমার দুরবস্থা দেখে আলেয়ার সে কী আনন্দ! সে চিৎকার করে বললো, ‘মেজভাই, তোমার কোমরে লুঙ্গিতে গিঁট দাও আর লুঙ্গি হাঁটুর ওপর তুলে পরো। না হলে বেইজ্জত হয়ে যাবে বলে দিচ্ছি। আমি কী সাহায্য করবো তোমাকে?’
‘যা, ভাগ্। আমার কাছে এলে থাপ্পড় খাবি। ওদিকে মুখ করে থাক, আমি লুঙ্গিটা বেঁধে নিই।’
আলেয়া কিছুক্ষণ মুখ ফিরিয়ে থাকার পর অধৈর্য হয়ে বললো, ‘হয়েছে?’
‘একটু, একটু থাম।’ অবশেষে অনেক ধ্বস্তাধস্তির পর সফল হয়ে বললাম, ‘হাঁ, এবার তাকা।’
আলেয়া মুখ ফিরিয়ে আমাকে দেখে হেসে অস্থির। আনন্দে গদ গদ হয়ে সে বললো, ‘তোমাকে দেখে জালালের মতো লাগছে।’
‘জালালটা কে?’
‘আমাদের বাড়ির রাখাল। গরু চরায়, খড় কাটে আর ফুট ফরমাস খাটে।’

আলেয়া ভীষণ খুশি। একে তো আকাশ ভাঙ্গা ঝমাঝম বৃষ্টি, তার ওপর আমাকে জালালের মতো দেখাচ্ছে। আলেয়ার জন্য আনন্দের অনেক উপকরণ। গাঁয়ের মেয়েদের কাছে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দই আলাদা। কাদা পানি ডিঙ্গিয়ে প্রজাপতির মতো উড়তে উড়তে চললো সে। কিছুদূর যায় আর আমার জন্য থামে। আমি কর্দমাক্ত আইলের ওপর দিয়ে কোন মতে হাঁচড়ে পাঁচড়ে ওর কাছে এলে আমার হাত ধরে সাথে নিয়ে হাঁটার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি ওর সাথে তাল মেলাতে পারি না। বার বার পিছিয়ে পড়ি। আমার এসব আনাড়িপনা দেখে আলেয়ার খুশির সীমা নাই। সে হেসে অস্থির। আমাকে মাঝে মাঝে ছেড়ে দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সামনে ছুটে যায় সে। দূর থেকে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘শহরের ভদ্দরলোকেরা গ্রামে এলে এমন শাস্তিই পেতে হয়, বুঝেছেন জনাব?’
আলেয়ার মতো দ্রুত হাঁটতে পারছি না বটে, তবে বৃষ্টিতে ভিজতে আমারও মন্দ লাগছে না। বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে যখন চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, তখন আমি হাত দিয়ে চোখ মুছে সামনে আলেয়াকে খুঁজছি। কখনো সে দূরে, আবার কখনো সে কাছে। জগতের সব আনন্দ এসে যেন ভর করেছে ওর মধ্যে। পিঁপড়ের মতো ধীরে ধীরে হাঁটছি বলে কখনো সে ঠাট্টা করছে আমাকে, আবার কখনো কাছে এসে আমার হাত ধরে হাঁটতে সাহায্য করছে।

মেয়েটা এমনিতে খুব ছটফটে, তার ওপর পেয়েছে আকাশ ভাঙ্গা ঝমঝমে বৃষ্টি। ওর কাণ্ড কারখানা দেখে আমি মনে মনে খুব মজা পেলেও মুখে কিছু বলছি না। অবিরল বৃষ্টির পানি চোখ থেকে মুছে ওকে ভালো করে দেখার চেষ্টা করছি। এভাবে দেখতে দেখতে আমার দুই চোখ যেন আমার অজান্তেই আটকে গেল আলেয়ার শরীরে। বৃষ্টিতে ভিজে ওর কামিজ সেঁটে গেছে শরীরের সাথে। বুকের সাথে লেপটে থাকা ওড়নার অস্তিত্ব বোঝা যায় না। আমার ষোলো সতের বছরের জীবনে নারী দেহের এই আঁকাবাঁকা ঢেউ এভাবে এর আগে আর কখনো দেখিনি। বৃষ্টিতে ভেজা কিশোরী মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে গোলাপের ফুটন্ত কুঁড়ি যেন সবে পাঁপড়ি মেলতে শুরু করেছে। নারী দেহের মধ্যে প্রকৃতি যে এত সৌন্দর্য লুকিয়ে রেখেছে, জানার সুযোগ হয়নি কোনদিন। সত্যিই চোখ ফেরানো কঠিন।
চোখের আর দোষ কী? সৌন্দর্যের সার্থকতা তো তা’ দেখার মধ্যে। বেরসিক বৃষ্টির ফোঁটা বার বার সেই অপূর্ব দৃশ্য থেকে আড়াল করে ফেলছে আমার চোখ দুটোকে। হয়তো আমাকে সাবধান করে বলছে, তুমি পুরুষ পতঙ্গ নারীর ওই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কিন্তু পতঙ্গরা তো পুড়ে মরার জন্যই আগুনে ঝাঁপ দেয়। নারীর অগ্নিশিখায় পুড়ে দগ্ধ হবার জন্যই তো পুরুষের সৃষ্টি। প্রকৃতির এই অমোঘ বিধানকে অস্বীকার করতে পেরেছে কে?
কেউ না।
******************************************************

মন্তব্য ৪৫ টি রেটিং +১৪/-০

মন্তব্য (৪৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৫৪

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: প্রিয় শুভ_ঢাকা, এই তো পেরে গেছি। এখন বলুন, একই ইউআরএল টেক্সট বক্সে একাধিক লিংক সংযুক্ত করা যায় কিনা এবং সেটা কিভাবে? আর লিংক নিচে না দিয়ে উপরে ছবির পর দিলে কেমন হয়?

২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:০৩

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: এটা পড়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো, আমি আর পড়ুম না X(

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫০

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: কামাল ভাই, উপন্যাসটি পড়ার জন্য অসংখ্য মানুষের আগ্রহ। ব্লগার ও ফেসবুক বন্ধুদেরও অনেকে অনুরোধ করছেন। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে উপন্যাসটির ২য় মুদ্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রথম মুদ্রণের সময় ঢাকায় বাংলাবাজারে ডিস্ট্রিবিউটর নিয়োগ দেওয়া, নিজে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ছুটোছুটি করে বইয়ের লাইব্রেরিগুলোতে বিপনন করা, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া এসব কাজ করতে সমস্যা হয়নি। তখন এত অসুস্থও ছিলাম না। বয়সও আট বছর কম ছিল। তখন সেটা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখন আর সেটা সম্ভব নয়। আর আমার নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা 'কেয়া পাবলিশার্স' থেকে বইটি প্রকাশ করার কোন বানিজ্যিক উদ্দেশ্য ছিল না। অধিক সংখ্যক পাঠক যেন উপন্যাসটি পড়তে পারে, সেই কারণেই ২য় মুদ্রণ জরুরী ছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ব্লগে উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রথম মুদ্রণের পর ২০১১ সালে উপন্যাসটির একটি ফাইনাল কপি সিডি আকারে সংরক্ষণ করেছিলাম। ২য় মুদ্রণের সময় প্রয়োজন হবে এই ভেবে। কিন্তু কয়েকদিন আগে সিডিটি চালাতে গিয়ে দেখি সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বই থেকেই টাইপ করে পোস্ট দিচ্ছি। আর আপনি তো জানেন, স্ট্রোকের কারণে আমার বাঁ হাতে দুর্বলতা থাকায় আমি শুধু এক হাত (ডান হাত) দিয়ে টাইপ করি।
আপনার আর পড়ার দরকার নাই। দম বন্ধ হয়ে মারা গেলে বুড়া মেরে আমি খুনের মামলায় ফেঁসে যাবো। হাঃ হাঃ হাঃ।

৩| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:১০

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: চা কফি কিছু লাগলে আওয়াজ দিয়েন :-B

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫২

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: জি, টি উইথ মিঃ কুকি হলে ভালো হয়।

৪| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর ঝরঝরে লেখা।
তবে লেখক সম্পর্কে কিছু জানলে পোষ্ট পড়ে আরো বেশি ভালো লাগতো।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৩

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: লেখক সম্পর্কে কী জানতে চান বলুন।

৫| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৩

শুভ_ঢাকা বলেছেন: ওয়াও! গুরুজী। এখন পোস্টটি দেখতে কত সুন্দর লাগছে। আমি চেক করে দেখলাম আগের পর্বগুলোতে এখনো এই পরিবর্তনটি করেন নাই। সেগুলোতেও এই নান্দনিক পরিবর্তনটি করে দিয়ে আসতে পারেন। আপনি যথার্থই বলেছেন। প্রচ্ছদের নিচেই লিংকটি দেওয়া যেতে পারে। সাধারণত অন্যান্য গুণী ব্লগার-রা এই trend-ই ফলো করে।

এখন বলুন, একই ইউআরএল টেক্সট বক্সে একাধিক লিংক সংযুক্ত করা যায় কিনা এবং সেটা কিভাবে?

না। গুরুজী একই ইউআরএল বক্সে একাধিক লিংক এক সাথে সংযোজন করা বোধ হয় যায় না (যদিও আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত না।)। তবে আপনি ইচ্ছা করলে একই পদ্ধতিতে পর পর প্রত্যেকটা পর্বের লিংক দিতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ আড্ডাঘরের হোস্ট তার কানাডা জীবন যাপনের সিরিজে নতুন পর্বের পোস্টের সাথে আগের পর্বের সকল লিংক দিয়ে দেন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আগের পর্বগুলোতে পরিবর্তন করে দিলাম এবং লিংক প্রচ্ছদের নিচে দিয়ে দিলাম। আপাতত একাধিক লিংকের বিষয়টা নিয়ে ভাবছি না। লিংক দেওয়ার কাজটা শিখে ফেলায় একটু নাচানাচি করে নিই।

সহযোগিতা করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই শুভ_ ঢাকা।

৬| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১০

আজিজার বলেছেন: কত পর্ব হবে? জানালে ভাল হত।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: হার্ড কপিতে নম্বর দিয়ে পর্ব করা নাই। প্রতিটি পর্বের শুরুতে রবি ঠাকুরের কবিতা ও গীতি কবিতার ছত্র বিশেষ উল্লেখ করে পর্বটি শুরু করা হয়েছে। সম্ভবত ১৬ বা ১৭ পর্ব হবে। এখন ব্যস্ত আছি। পরে গুনে জানাবো।


ধন্যবাদ ভাই আজিজার।

৭| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৪৪

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: দারুণ হেনা ভাই! কিশোর বয়সের ভালবাসাটা খুব সহজেই আপনার জীবনে ধরা দিয়েছিল। আপনি সত্যিই ভাগ্যবান। পরের পর্বের অপেক্ষায়।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আসলে আলেয়ার সাথে আমার বিয়ে হবে এমন একটা সমঝোতা দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই হয়ে ছিল, যা আমি ছাড়া সবাই জানতো। বড় চাচীমার প্রথম সন্তান আলেয়া আমার জন্মের তিন চার বছর পরে জন্মেছিল। সেও তার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে ব্যাপারটা জানতো। তাই ৭১-এর সেই দুর্যোগের দিনে আমরা সপরিবারে যখন দাদার বাড়ি পালিয়ে যাই, তখন সে আমার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে। সেই থেকেই ওর সাথে আমার ভালোবাসার সৃষ্টি।


ধন্যবাদ ভাই সম্রাট ইজ বেস্ট।

৮| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৪৫

করুণাধারা বলেছেন: বরাবরের মতো এই পর্বও চমৎকার হয়েছে। আপনি গ্রামের যে বর্ণনা দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমার মনে হয়েছে এই দুর্গম জনপদে থেকে এতটা পড়াশোনা করা আপনার বাবার জন্য নিশ্চয়ই অনেক কষ্টকর ছিল। তার প্রতি শ্রদ্ধা রইল।

আমার মনে হয় প্রতি পর্বে আগের সবগুলো পর্বের লিঙ্ক যদি আপনি দিতে চান, তাহলে শেষ দিকে এসে লিংক দিতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হবে। বরং প্রতি পর্বে তার আগের পর্বের লিংক দিয়ে দিলে, সেটা ধরে ধরে পুরানো পর্বে যাওয়া যায়। এই কাজটা অনেকেই করেন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৬

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: হাঁ, আব্বা খুব কষ্ট করে পড়াশুনা করেছেন। পরবর্তী কোন এক পর্বে এ সম্পর্কে জানতে পারবেন। লিংক সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন, সেভাবেই আমি প্রতিটি পর্বে আগের পর্বের লিংক দিয়ে দিচ্ছি। প্রচ্ছদের নিচে লিংক আছে।


ধন্যবাদ বোন করুণাধারা।

৯| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: পড়ার সময় রক্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ​​চলাচল শুরু করেছে ।কিছুটা কি রকম যেন বোধ করছি, তবে আমি জানি না এটি কি??? ।এই সময়টাই ভালবাসার / প্রেমে পড়ার জন্য সঠিক সময় ।
চোখের দোষ কোথায়? চোখ দেখার জন্যই ।প্রতিটি মানুষেরই ভাল জিনিস দেখার স্বপ্ন আছে ।এই ক্ষেত্রে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ ।
আপনাদের উভয়েরই বয়স ,পরিস্থিতি এবং সময় আপনার পক্ষে রয়েছে ।
এগিয়ে যান ভালবাসা, শ্রদ্ধা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে । যাতে আমরা সত্যিকারের হৃদয় ছোঁয়া প্রেমের গল্পটি পেতে পারি :> +++্

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৩

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: হাঃ হাঃ হাঃ। এগিয়ে তো গিয়েছিই ভাই। প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের একটি সত্য কাহিনী। উপন্যাস আকারে লেখার জন্য অতি সামান্য পরিমার্জন (দশ শতাংশেরও কম) ছাড়া পুরো ঘটনা হুবহু লেখা হয়েছে।


ধন্যবাদ ভাই মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

১০| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: কিছু অংশ বাদ দিলে আমি যেন অপু দুর্গাকে দেখছিলাম।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৪

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই গিয়াস উদ্দিন লিটন।

১১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫০

ঢাবিয়ান বলেছেন: অনেক অনেক ভাললাগা নিয়ে পর্বগুলো পড়ছি।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৫

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই ঢাবিয়ান।

১২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০৯

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: দারুণ রোমান্টিক ব্যাপার, অনেক অনেক ভাললাগা।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৬

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই তারেক-মাহমুদ।

১৩| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৭

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: সাবলিল বর্ণনা ধর্মী লেখা পড়তে কার না ভালো লাগে! ভাললাগাটাও ভালো বাসা। এগিয়ে যাউক স্বপ্ন ভাসর পড়ে তৃপ্ত হই আবার।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে / সহজ কথা যায় না লেখা সহজে----রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ভাসর নয়, বাসর হবে।

ধন্যবাদ ভাই মাহমুদুর রহমান সুজন।

১৪| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩১

গোধুলী বেলা বলেছেন: চট্টগ্রামে কোথায় পাবো?

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৫

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: এই বইটি এখন আর কোথাও পাবেন না। প্রথম প্রকাশিত হওয়ার এক বছরের মধ্যে একহাজার কপি শেষ হয়ে গেছে। তবে চট্টগ্রামে 'বাতিঘর' নামে যে বিখ্যাত গ্রন্থাগার আছে, সেখানে শুধু পড়ার জন্য পেতে পারেন।


ধন্যবাদ গোধুলি বেলা।

১৫| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: লেখক সম্পর্কে কী জানতে চান বলুন।

ওই যে বইয়ের ফ্লপে থাকে লেখক সম্পর্কে কয়েক লাইন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৩

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আসলে এই বইয়ের ফ্ল্যাপে আমি লেখক পরিচিতি দেইনি। আমি কিছুটা অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ। প্রচার প্রচারণার আড়ালে থাকতে ভালোবাসি। তবে সংক্ষেপে বলিঃ

আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক। চাকরি করেছি ডাক বিভাগে। দুই পুত্র সন্তানের পিতা। রাজশাহীতে থাকি।

ধন্যবাদ ভাই রাজীব নুর।

১৬| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫১

এমজেডএফ বলেছেন: আপনার স্বপ্ন বাসর উপন্যাসের আগের পর্বগুলো পড়ি নাই। সবগুলো পড়ে মন্তব্য করবো। পরে কথা হবে।
ভালো থাকুন, স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেবেন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৬

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: নিশ্চয়। আগের পর্বগুলো পর্যায়ক্রমে পড়ে এলে কাহিনী বুঝতে সুবিধা হবে। উপরে লিংক দেওয়া আছে।

ধন্যবাদ ভাই এমজেডএফ।

১৭| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৫

বলেছেন: শহর বাবু,
আমার সালাম নিবেন।।।

যত পড়ছি মুগ্ধ হচ্ছি, বিমোহিত হচ্ছি, ---

আপনার শারিরীক অবস্থা শুনে আহত হলাম -- আরোগ্য কামনা করছি।।।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৭

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: দোয়া করার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ ভাই ল।

১৮| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আহ রোমান্টিকতা
বাহ রোমান্টিকতা :)

দারুন মানে দারুনস......

হুম বৃস্টি মানেই জেগে ওঠা নতুন করে
গায়ের স্মৃতিগুলোরে একবারে উদলা করে দিচ্ছেন মিয়া ভাই ;)
যেন হঠাৎ করেই ফিরে ফিরে যাচ্ছি সেই বৃষ্টি ভেজা মাঠ, সেই আম বাগান
সেই কাঁপা কাঁপা আদরের স্মৃতি! :P
পুরাই নষ্টালজিক করা পর্ব :)

এইতো এবারে লিংক দিতে পেরেছেন। :) অভিনন্দন :)

+++++

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৫

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: হাঁ ভাই, লিংক দিতে পেরেছি। আপনাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ।


এই উপন্যাসে রোমান্স, হিউমার ও মানবিক সম্পর্কের ততকালীন পরিস্থিতি এই যুগে বিরল। অনেকে হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না যে তখনকার দিনগুলো এরকম ছিল। কিন্তু আমি এই উপন্যাসের কাহিনী ও অনুসঙ্গগুলির সত্যতার ব্যাপারে ১০০% নিশ্চয়তা দিতে পারি। সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। এই লেখার মাধ্যমে সেই সময়টাকে আমি ধরে রাখতে চেয়েছি।

ধন্যবাদ ভাই বিদ্রোহী ভৃগু।

১৯| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০৯

মা.হাসান বলেছেন: যখন প্রথম ধরেছে কলি আমার মল্লিকাবনে...

লিংক দিতে পারছেন, অভিনন্দন। তবে এর খানিকটা ভাগ জানা আপাকে দিতে হয়। টর/ভিপিএনের ব্যব হার শেখানোর ক্ষেত্রে অবশ্য খনিকটা না, পুরোটা কৃতিত্ব একজনেরই।

আপনি আগুনে পুড়ে মরেছেন একথা কি ভাবিকে বলেছেন?!! B:-)
ঐ দিনের বৃষ্টি আর অন্য রকম কাঁপুনির পরের দিন তো জ্বর চলে আসার কথা, দেখি কাল কি হয়।


***
আপনি বয়সে আমাদের অনেকের চেয়ে সিনিয়র জানি, হার্টের সমস্যা আছে অন্যত্র বলেছিলেন। কিন্তু গত পর্বে শরীরের যে বর্ননা দিলেন তাতে কষ্ট পেয়েছি। এত শারীরিক কষ্ট সহ্য করে আমাদের জন্য এই লেখাটা লিখছেন বলে অনেক কৃতজ্ঞতা। সিডি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেছে যাক, আপনার ব্লগের লেখাটা থেকেই বই বের করা সম্ভব। পর্ব গুলো শেষ হোক, পরে নিশ্চয়ই এ বিষয়ে উপযুক্ত কেউ আলোচনা করবেন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৪

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আপনার ভাবী সব জানে। ব্লগের লেখা থেকে বই বের করার দরকার হবে না। কারণ, উপন্যাসটির প্রথম মুদ্রণের দুটো হার্ড কপি তো আছেই আমার কাছে। তবে ২য় মুদ্রণ/২য় সংস্করণের সময় আবার টাইপ করে নিতে হবে এই আর কি। ব্লগের ওপর ভরসা করতে ভয় লাগে। কারণ, এসব ভার্চুয়াল মিডিয়ার স্থায়িত্ব নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। জানা ম্যাডাম আপ্রাণ চেষ্টা করছেন ব্লগকে টিকিয়ে রাখার। কিন্তু উনি কতদিন একা ব্লগের ব্যয়ভার বহন করবেন? গুগল এড থেকে আমার জানামতে সেরকম আয় হয় না। আমি এর আগে প্রথম আলো ব্লগ, জলছবি বাতায়ন, নক্ষত্র, শব্দনীড়, আমার ব্লগ ইত্যাদি ব্লগে লেখালেখি করেছি। সম্ভবত শব্দনীড় ছাড়া অন্য ব্লগগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শব্দনীড়ও নিভু নিভু। সমস্যা ওই আর্থিক।

যাই হোক, আমার জীবদ্দশায় এই উপন্যাসটির ২য় মুদ্রণ/২য় সংস্করণের আশা করিনা। ধারাবাহিকভাবে হলেও আপনারা ব্লগে উপন্যাসটি পড়তে পারছেন, এটাই সান্ত্বনা।

ধন্যবাদ ভাই মা, হাসান।

২০| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০০

উম্মে সায়মা বলেছেন: উপন্যাসটি ব্লগে পেয়ে কি যে ভালো লাগছে বোঝাতে পারবনা হেনাভাই। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আবার পুরোটা পড়ব।
এ পর্বটা পড়ে ফেললাম এক নিশ্বাসে। আহা স্বপ্ন বাসর! কি স্বপ্ন স্বপ্ন দিন ছিল সেগুলো। তাইনা?

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৪৪

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: হাঁ বোন, দিনগুলো সত্যিই স্বপ্নের মতো ছিল।


ধন্যবাদ বোন উম্মে সায়মা।

২১| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১:১৬

সোহানী বলেছেন: প্রেমের উপন্যাস আমি খুব কম পড়ি, মনে হয় দেশের এতো সমস্যার মাঝে আমি আনন্দ করছি। কিন্তু আপনার পর্ব শুরু করার পর একটানে শেষ করলাম।

অনেক অনেক ভালোলাগলো। সাথে পরের পর্ব পড়ার আগ্রহ জন্মালো................

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৪৬

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।



ধন্যবাদ বোন সোহানী।

২২| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৪:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপাতত প্রিয়তে তুলে রাখলাম ।
সময় করে পাঠ করব । ২য় পর্ব পাঠে ছোট একটি মন্তব্য রেখে এসেছি ।
দয়া করে দেখতে পারেন সেখানে গিয়ে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৪৭

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: নিশ্চয় দেখবো আলী ভাই।



আপনাকে ধন্যবাদ।

২৩| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:১২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু করছি। বাংলা সাহিত্য অসংখ্য প্রেমের গল্প-উপন্যাসে সমৃদ্ধ। বহু লেখক, কথাসাহিত্যিক তার সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটিয়েছেন তাদের অসম্ভব সুন্দর লেখনি ও কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে । তবে এ উপন্যাসটি পড়ে আমি এতটাই বিমোহিত হয়েছি যে এর ঘোর কাটাতে পারছিনা । গ্রাম্য অল্প শিক্ষিত কিশোরী আলেয়া চরিত্রটিকে অসম্ভব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আত্মজীবনীমুলক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই প্রেমের উপন্যাসটি একটি উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিবে তাতে কোন সন্দেহ নাই ।

মধ্যবিত্ত পরিবারকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র আমাদের প্রিয় লেখক নীজেই, তা ভেবে আরো বেশী করে পুলকিত হচ্ছি । মধ্যবিত্ত শহুড়ে পরিবারের এক তরুণের সাথে ভাব ভালবাসা জন্ম নিচ্ছে আলেয়া নামক একজন তরুণীর সাথে , যে সে্ই ছোট কাল হতেই জানে তার সাথে পরিনয় হবে । কিন্তু, ভাগ্য কি তাদের এক সূত্রে মেলায় নাকি মধ্যবিত্ত টানাপোড়েনে বদলে যায় ভালবাসার গন্তব্য? সেটাই এখন দেখার বিষয় । আমাদের কিশোর জীবনের ভালবাসার হাহাকার কিংবা অভিলাসই যেন ফুটে উঠে এটি পাঠে ।

প্রতিটি পাতায় পাতায় কাব্যের ঝংকারে ফুটে উঠেছে ভালবাসার কাব্যগাঁথা। এটি পাঠে মুগ্ধতার সীমাকেই কেবল ছুঁয়ে যায়! কারণ, প্রেম বলতে আমাদের যে চিরন্তণ টিপিক্যাল ধারণা এই উপন্যাসে এটা মনে হয় তার চেয়েও অনেক উর্ধ্বে চলে যেতে পারে । এই উপন্যাসটির আসলে মনে হয় শেষ নেই, এক অসমাপ্ত প্রেম-বিরহ কিংবা দ্বন্দ্বের উপন্যাস হলেও হতে পারে এটি , দেখা যাক পরের পর্ব গুলিতে কি আসছে।

শুভেচ্ছা রইল

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৫৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: কিন্তু, ভাগ্য কি তাদের এক সূত্রে মেলায় নাকি মধ্যবিত্ত টানাপোড়েনে বদলে যায় ভালবাসার গন্তব্য? সেটাই এখন দেখার বিষয় ।

যেহেতু উপন্যাসটি ব্লগে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে, সেহেতু পরের ঘটনা আগে বলে দিলে পড়ার আকর্ষণ কিছুটা হলেও ক্ষুন্ন হবে। তাই আপাতত পরবর্তী ঘটনাক্রম সম্পর্কে কিছু বলছি না।
উপন্যাসের যতটুকু আপনি পড়েছেন, ততটুকু আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুব খুশি হলাম। আপনাদের মতো মানুষরা যখন কোন লেখার প্রতি আকৃষ্ট হন, তখন নিজেকে সম্মানিত বোধ করি।

ধন্যবাদ ডঃ এম এ আলী।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.