নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখালেখি

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (শেষ পর্ব)

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:০২



আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১৮)

বুঝেছি আমার নিশার স্বপন হয়েছে ভোর।
মালা ছিল তার ফুলগুলি গেছে, রয়েছে ডোর।
নেই আর সেই চুপি চুপি চাওয়া,
ধীরে কাছে এসে ফিরে ফিরে যাওয়া-

রবিবার সকাল আটটায় রওনা দিয়ে আমরা মধুপুর পৌঁছালাম বেলা প্রায় বারোটার দিকে। দেখলাম এই ছয় সাত বছরে সরকার বাড়িতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চাচারা যার যার সম্পত্তি ভাগ করে নিয়ে একই ভিটায় ঘর তুলে আলাদা হয়ে গেছেন। আব্বার অংশের জমি বর্গা দেওয়া হয়েছে। সরকার বাড়ি তিন খণ্ডে বিভক্ত হয়ে ভিন্ন রূপ নিয়েছে। আগে যারা দেখেছে, তাদের পক্ষে চেনা কঠিন।

বৈঠকঘরটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সেখানে বড় ও মেজ চাচার বাড়ির ঘর উঠেছে। আর ছোট চাচা সরে গেছেন পেছন দিকে, যেখানে আগে দাদাজানের ঘর ছিল। গোয়ালঘর আর আগের জায়গায় নেই। ওটাও তিন ভাগ হয়ে তিন দিকে সরে গেছে। আব্বার প্রাপ্য ভিটার অংশ খালি পড়ে আছে। সেখানে একটা মাটির ঘর থাকলেও এখন আর ব্যবহার উপযোগী নয়। বাড়ির পরিস্থিতি দেখে মনে হলো না যে, তিন চাচার মধ্যে তেমন বোঝাপড়া আছে। বাড়ি এমনভাবে পৃথক করা হয়েছে যে ইচ্ছা না করলে কারো সাথে কারো দেখা হওয়া কঠিন।

আমরা গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির দিকে এগোতেই বড় চাচার সাথে দেখা হয়ে গেল। তিনি একটু অবাক হয়ে বললেন, ‘ভাইজান, হঠাৎ আপনারা? আসার আগে একটা খবর দিলে.........।’
আব্বা অত্যন্ত বিরক্তির সাথে বললেন, ‘আমি আমার বাপের বাস্তুভিটায় আসবো, সেজন্য তোমাকে আগে খবর দিতে হবে কেন?’
দাদীমা তখনো বেঁচে আছেন। দাদাজান যে ঘরে থাকতেন, তিনি সেই ঘরেই থাকেন এবং ছোট চাচার ঘরে খান। দাদীমা এখন প্রায় অথর্ব। ছোট চাচীমা তাঁর দেখাশুনা করেন। আমরা সেই ঘরে গিয়ে উঠলাম। আব্বা আমাকে ওযু করতে বলে নিজেও ওযু করে নিলেন। তারপর আমাকে নিয়ে তিনি দাদাজান ও বড় চাচীমার কবর জিয়ারত করতে চললেন। আমাদের পিছে পিছে এলো আলেয়ার ছোট ভাই আমজাদ। আমজাদের বয়স এখন চৌদ্দ পনের বছর। বাড়ি থেকে দেখা যায় এমন দূরত্বে পারিবারিক গোরস্থান। পথে দেখা হয়ে গেল জালালের সাথে। সে এখনো বড় চাচার সাথেই আছে। এখন সে দাড়ি রেখেছে। আমাদের দেখে সে শুধু অবাকই হলো না, আমাদের সাথে সাথে গোরস্থানের দিকে রওনা দিল। মুখে কিছু না বললেও সে বুঝতে পেরেছে যে আমরা কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছি।

প্রথমে আমরা দাদাজানের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। দাদাজান ইন্তেকাল করার পর বড়ভাইকে সাথে নিয়ে আব্বা একবার তাঁর কবর জিয়ারত করে গেছেন। তখন আমি জেলে ছিলাম। কিন্তু অনেক দিনের ব্যবধানে আগাছা ও ঝোপ জঙ্গলে কবরটা ঢেকে যাওয়ায় চেনা যাচ্ছিল না। আমজাদ চিনিয়ে দিল কবরটা। আব্বা পেটের ওপর হাত বেঁধে দোয়া দরূদ পড়তে গিয়েও কী মনে করে থেমে গেলেন। তারপর হাত ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘তোমরা দোয়া দরূদ পড়ে মোনাজাত করো।’

আব্বা দাদাজানের কবর জিয়ারত করবেন না। এর আগে যখন করেছিলেন, তখন আলেয়ার বিয়ে হয়নি এবং সংসারে তার সৎমাও আসেনি। দাদাজানের মৃত্যুর ছয় বছর পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আব্বা ও বড় চাচার ওপর দাদাজানের নির্দেশ ছিল, তাঁরা যদি তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন তাহলে তাঁর কবর যেন তাঁরা জিয়ারত করতে না যান। আব্বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

কিভাবে কবর জিয়ারত করতে হয় আমি জানিনা। আব্বা কবরবাসী মুর্দার প্রতি সালাম দেওয়ার নিয়ম থেকে শুরু করে সবগুলো সুরা ও দোয়া দরূদের নাম একটার পর একটা বলে গেলেন। সবগুলো আমার জানা থাকায় আমি পড়ে গেলাম। আমার সাথে সাথে আমজাদ ও জালালও যতটুকু জানা ছিল পড়লো। তারপর দাদাজানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত শেষে অশ্রুভেজা ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখি আব্বা নিঃশব্দে কাঁদছেন। জন্মদাতা পিতার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি তা’ জিয়ারত করতে পারলেন না। জীবদ্দশায় পিতার নির্দেশের বাইরে কিছু করার মতো সাহস আমার আব্বা কখনো অর্জন করতে পারেননি। এমনকি পিতার মৃত্যুর পরেও তিনি তা’ পারলেন না।

এরপর বড় চাচীমার কবরের কাছে গেলাম আমরা। আব্বা দোয়া দরূদ পড়ে দু’হাত তুলে মোনাজাত করলেন। আমরা তিনজন অনুসরণ করলাম তাঁকে। এরপর আব্বা অশ্রুসিক্ত চোখে আরো একবার দাদাজানের কবরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর আমাকে বললেন, ‘চলো যাই।’ তিনি আমার হাত ধরে ফিরে আসার উদ্যোগ নিতেই আমি কেঁদে ফেললাম। বললাম, ‘আব্বা, আমি আমার মায়ের কবরের কাছে একটু বসি।’
আব্বা কিছুক্ষণ আমার দিকে নিষ্প্রাণ চোখে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ক্লান্ত স্বরে বললেন, ‘ঠিক আছে, বসো। তবে বেশি দেরি করো না, বাবা। রিজার্ভ গাড়ি, সন্ধ্যের আগেই রওনা দিতে হবে। তা’ না হলে নওহাটা পৌঁছে বাস পাওয়া যাবে না। আমজাদ বা জালাল কেউ একজন তোমার সাথে থাক।’
ওরা দু’জনেই থেকে গেল আমার সাথে। আব্বা চলে গেলেন। আমি বড় চাচীমার কবরের পাশে মাটিতে বসে পড়লাম। মনে হলো, আমার ঘুমন্ত মায়ের পাশে এসে বসেছি।
‘মা, তুমি আমাকে দেখতে চেয়েছিলে। এই যে আমি এসেছি, মা।’
আমার তিন মাসের পালক মায়ের কবরের ঘাস আর মাটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে আমি কাঁদছি। আমার সাথে সাথে কাঁদছে আমজাদ এবং জালালও। মৃদুমন্দ বাতাসেও যেন বুকচাপা কান্নার সুর। কবরের কাছাকাছি জিওল গাছে বসে করুণ সুরে ডেকে চলেছে একটা ঘুঘু।
‘ও, মা। মাগো, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও, মা। আমার জন্মদাতা মা বাবাকেও ক্ষমা করে দিও। ওদের কোন দোষ নাই, মা।’
‘মা, তুমি কী করে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে, মা? তোমার কী একটুও কষ্ট হলো না? আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে, মা। খুব কষ্ট। তোমাকে হারিয়ে আমি খুব কষ্টে আছি, মাগো।’

আমি মায়ের কবরের মাটি আঁকড়ে ধরে উন্মাদের মতো কাঁদছি। জালাল আমার হাত ধরে উঠানোর চেষ্টা করতে করতে নিজেও কাঁদছে। আমজাদ ছুটে গিয়ে বাড়ি থেকে সবাইকে ডেকে এনেছে। মা, মেজ চাচীমা ও ছোট চাচীমা জালালের সাথে সাথে আমার হাত ধরে কবর থেকে উঠানোর চেষ্টা করছেন। আমি আমার দুর্বল শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে প্রাণপণে আঁকড়ে ধরে আছি কবর। চিরকালের জন্য ঘুমিয়ে পড়া আমার মমতাময়ী মাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না। আমার জন্ম জন্মান্তরের দরদী মা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু আমি আমার মাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। বুকফাটা কান্নায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।
আব্বা চিৎকার করে বললেন, ‘ওকে ছেড়ে দাও তোমরা। ওকে আরো কাঁদতে দাও। এত কান্না বুকে চেপে রাখলে ও বাঁচবে না।’

মধুপুর থেকে ফেরার সময় ছোট চাচীমা আমাকে তাঁর ঘরে ডেকে নিয়ে বললেন, ‘আলেয়া ওর বিয়ের একদিন আগে একটা চিঠি লিখে আমার হাতে দিয়েছিল তোমার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সময় সুযোগের অভাবে সেটা তোমাকে দেওয়া হয়নি, বাবা। এখন কী তুমি সেটা নেবে?’
আমি ছিলাম পুরোপুরি শান্ত। প্রচুর কান্নাকাটি করলেও তার কোন ছাপ ছিলনা আমার চেহারায়। হয়তো সেই কারণেই ছোট চাচীমা সাহস করে আলেয়ার চিঠির কথা বললেন। দীর্ঘদিন আগলে রাখা আমার সেই আমানত আমার হাতে তুলে দিয়ে হয়তো তিনি ভারমুক্ত হতে চান।
আমি চিঠিটা নিতে রাজি হলে ছোট চাচীমা খাটের নিচ থেকে একটা টিনের সুটকেস বের করে খাটের ওপর তুললেন। তারপর সেটার তালা খুলে ওপর থেকে কাপড় চোপড় সরিয়ে সুটকেসের একদম নিচে থেকে একটা চার ভাঁজ করা কাগজ বের করলেন। কাগজটা আমার হাতে দিয়ে তিনি বললেন, ‘আমাদের ওপর রাগ করোনা, বাবা। আমাদের কারো কিছু করার ছিল না। সবই ভাগ্য।’
আমি মৃদু হেসে বললাম, ‘নিজের ওপর ছাড়া আমি অন্য কারো ওপর রাগ করতে পারিনা। আলেয়ার দুঃসময়ে আপনি ও মেজ চাচীমা ওকে যে দুটো খেতে দিয়েছেন, সেজন্য আপনাদের কাছে আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।’
ছোট চাচীমা শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘তোমার আর আলেয়ার মতো এমন নিষ্পাপ দুটো ছেলেমেয়ের ভাগ্য নিয়ে আল্লাহ কেন যে এই ছিনিমিনি খেলা খেললো, জানিনা। দোয়া করি, যেন ঐ দুনিয়াতে তোমাদের মিলন হয়।’

হঠাৎ আমার মাথার মধ্যে কেমন যেন হলো। মনে হলো চোখের সামনে দুনিয়াটা ঘুরছে। ছোট চাচীমাকে বললাম, ‘আমাকে একটু বাইরে বসিয়ে মাথায় পানি ঢেলে দেবেন?’
ছোট চাচীমা আমাকে শক্ত হাতে চেপে ধরে দ্রুত বাইরে নিয়ে এলেন। মা আমার অবস্থা দেখে পড়িমরি করে ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তাড়াতাড়ি বারান্দায় একটা টুলে বসিয়ে আমার মাথায় পানি ঢালা শুরু হলো। আব্বা ও ছোট চাচা উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পানি ঢালার পর আমি একটু সুস্থ হলাম। মাকে বললাম, ‘আমার মাথা মুছে দাও।’

আব্বা আর দেরি করতে রাজি নন। তিনি রাজশাহী ফেরার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ছোট চাচীমার ভাত খাওয়ার অনুরোধে তিনি রাজি হলেন না। আমার বগলের নিচে হাত দিয়ে জালালের সাহায্যে জীপ গাড়িতে তুলে তিনি আমাকে একটা সিটের ওপর শুইয়ে দিলেন। তারপর তিনি ও মা আমার দু’পাশে বসে ড্রাইভারকে নির্দেশ দিলেন দ্রুত গাড়ি ছাড়তে। মধুপুর ছাড়তে পারলে যেন তাঁরা বাঁচেন।
আধা মাইলের মতো রাস্তা কাঁচা। এটুকু রাস্তায় গাড়ি ধীরে চালাতে হয়। এরপর হেরিং বন্ড রাস্তায় পড়লে গাড়ির গতি বাড়ে। গাড়ি কাঁচা রাস্তায় থাকা অবস্থায় আমি উঠে বসলাম। বললাম, ‘এখন আমি ঠিক আছি। শরীরটা ভালো মনে হচ্ছে।’
আব্বা ও মা কিছু বললেন না। মা শুধু আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকলেন। হঠাৎ আমার মনে হলো, আমরা পদ্মপুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি। গাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, সত্যিই তাই। ঐ তো পদ্মপুকুর! টলটলে স্বচ্ছ পানি গাড়িতে বসেও স্পষ্ট দেখা যায়।
‘এই ড্রাইভার, গাড়ি থামাও।’ আমার তীক্ষ্ণ চিৎকারে ড্রাইভার কড়া ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে দিল। আমি হুড়মুড় করে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা থেকে কিছুটা দূরে পদ্মপুকুরের দিকে ছুটে গেলাম। আচমকা আমার এই কাণ্ড দেখে আব্বা ও মা হকচকিয়ে গেলেন। তাঁরাও গাড়ি থেকে নেমে আমার পিছে পিছে দৌড়ে আসতে লাগলেন। মা চিৎকার করে বললেন, ‘হেনা, তুমি কোথায় যাচ্ছো? থামো বাবা, থামো। কথা শোনো।’

আমি ইতিমধ্যে পদ্মপুকুরের ঘাটে পৌঁছে গেছি। ঘাটের সিঁড়িতে ক্লান্ত দেহে আধা শোয়া হয়ে বসে আমি হাত ইশারায় আব্বা ও মাকে ডাক দিলাম। তাঁরা হাঁপাতে হাঁপাতে আমার কাছে এসে দাঁড়ালেন। মা বললেন, ‘কী ব্যাপার, কী হয়েছে? তুমি হঠাৎ এখানে এলে কেন?’ বলে মা আমার মাথাটা তাঁর বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন।
আমি বললাম, ‘মা, এই ঘাটে বসে আমি আর আলেয়া কত গল্প করেছি, জানো? আর ঐ যে বাঁশ ঝাড়টা দেখছো না, ওখানে আলেয়া.........।’
আব্বা অতি দ্রুত আমার হাত ধরে পুকুরের ঘাট থেকে টেনে তুলে আমাকে গাড়ির দিকে নিয়ে চললেন। বললেন, ‘তোমার সব কথা আমরা শুনবো, বাবা। কিন্তু এখন দেরি করা যাবে না। বাস মিস হয়ে যাবে।’
মা শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে বললেন, ‘চলো বাবা। আর দেরি করো না। বাড়িতে তোমার ভাই বোনরা সবাই আমাদের পথ চেয়ে আছে।’

রাজশাহী ফেরার পথে গাড়িতে বসে আমি চিঠিটা পকেট থেকে বের করলাম। মা জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কী বাবা?’
আমি খুব শান্ত গলায় বললাম, ‘আলেয়ার চিঠি। বিয়ের একদিন আগে আমাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিল। এতদিন ছোট চাচীমার কাছে ছিল। আমি কী জোরে জোরে পড়বো? তোমরা শুনবে?’
আব্বা বললেন, ‘না, না, জোরে পড়ার দরকার নাই। তোমার চিঠি, তুমিই পড়।’
স্কুলের দাগ টানা এক্সারসাইজ খাতার পাতা ছিঁড়ে লেখা তিন বাক্যের একটা ছোট্ট চিঠি। দুটো লাইন কলমের কালি দিয়ে লেখা। সম্ভবত কালি ফুরিয়ে যাওয়ায় শেষ লাইনটা কাঠ পেন্সিলে লেখা।
“মেজভাই, আমি ম্যাট্রিক পাশ করতে পারলাম না। আমাকে তুমি মাফ করে দিও। মেজভাই, তুমি আসতে চেয়ে আর এলেনা কেন?”
**************************************************************************************
যে কথা বলা হয়নিঃ- দাদাজান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিলেন। আমার ও আলেয়ার নামে পাঁচ বিঘা করে জমি লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে তিনি তা’ করেছিলেন, তা’ পূরণ না হওয়ায় আমার ভাগের জমিটুকু আর ভোগ দখলের প্রয়োজন হয়নি।

[ শেষ ]



মন্তব্য ৪১ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৪১) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:২৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


অনেক আবেগ জড়িত লেখা।
দাদীমার বেলায় "অথর্ব" শব্দটি ভালো হয়নি; হয়তো," অনেকটা অচল", কিংবা "প্রায় বোধশক্তিহীন" ব্যবহার করা যেতো।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:২৭

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই চাঁদগাজী।

২| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:১১

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: শুক্রবারের আড্ডা :D

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১২

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: জি, ব্লগের যা অবস্থা, তাতে আড্ডা জমছে না কামাল ভাই।

৩| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৩০

ইসিয়াক বলেছেন: হেনা ভাই আপনার জন্য দোয়া রইলো।
যেখানে থাকুন। ভালো থাকুন ।
সুস্থ থাকুন এই কামনা করি।
শুভসকাল।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৩

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: শুভ সকাল। আপনিও ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।


ধন্যবাদ ভাই ইসিয়াক।

৪| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৮

ঢাকার লোক বলেছেন: ভাই, রাজিব নুরের ছেলেবেলা নিয়ে একটা লেখায় মন্তব্য করতে গিয়ে আপনার নাম উল্লেখ করতে গিয়ে ভুল লিখেছি, সেজন্য আমি অতীব দুঃখিত ও লজ্জিত! আশা করি আমাকে ক্ষমা করবেন। জাজাকাল্লাহুু খাইরান।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৬

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: এরকম যদি হয়ে থাকে, দুঃখিত ও লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা সবাই ভুল করি।


ধন্যবাদ ভাই ঢাকার লোক।

৫| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫৯

তাওফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন: উপন্যাসটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লাম। অনেক ভাল লেগেছে,কিন্তু হটাৎ করে মনে হয় শেষ হয়ে গেলো। যাইহোক আলেয়ার বতমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলে ভাল হয়তো। ভাল থাকবেন।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫০

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ৭১ সালের ঐ কয়েক মাস ছাড়া এ পর্যন্ত আলেয়ার সাথে আমার কোন মাধ্যমেই কোন যোগাযোগ নাই। যোগাযোগটা আমি নিজেই ইচ্ছা করে রাখিনি। কারণ, সে এখন অন্যের স্ত্রী। হয়তো সন্তান ও নাতি নাতনিও হয়ে গেছে তার। এ অবস্থায় তার সাথে যোগাযোগ রাখলে সে বিব্রত হতে পারে। তার সংসারে অশান্তিও হতে পারে। নতুন করে আবার তাকে কষ্টে ফেলতে আমার মন সায় দেয়নি। তাই ইচ্ছা করেই আমি তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করিনি।

অন্যদিকে আমিও এখন একজন অন্য নারীর স্বামী। বিয়ের কিছুদিন পরে আমি আমার স্ত্রীকে আলেয়ার সাথে আমার সম্পর্কের কথা খুলে বলেছিলাম এবং এই উপন্যাস লেখার আগে তার অনুমতি নিয়েছিলাম। সে হাসিমুখেই অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু আমি যদি আলেয়ার সাথে যোগাযোগ রাখতাম, তাহলে আমার স্ত্রীও নিশ্চয় বিব্রত হতো এবং আমার সংসারেও অশান্তি হতো। সব দিক বিবেচনা করে তাই আমি ইচ্ছা করেই আলেয়ার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ রাখিনি।
এই কারণে আলেয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমার বিশেষ কিছু জানা নেই।

ধন্যবাদ ভাই তাওফিকুর রহমান চৌধুরী।

৬| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫৯

তাওফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন: উপন্যাসটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লাম। অনেক ভাল লেগেছে,কিন্তু হটাৎ করে মনে হয় শেষ হয়ে গেলো। যাইহোক আলেয়ার বতমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলে ভাল হয়তো। ভাল থাকবেন।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫১

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ঐ।

৭| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৫৯

তাওফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন: উপন্যাসটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লাম। অনেক ভাল লেগেছে,কিন্তু হটাৎ করে মনে হয় শেষ হয়ে গেলো। যাইহোক আলেয়ার বতমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলে ভাল হয়তো। ভাল থাকবেন।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫১

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ঐ।

৮| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:২৬

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আহা আলেয়া
আহা হেনা
হায় প্রেম
হায় বিধাতা!

কৈশোরের নিষ্পাপ প্রেমের মতো পবিত্রটি বুঝী আর অন্য কিছু নেই।
এমন করুন পরিণতিতে যারপর নাইত ব্যাথিত!
যেহেতু আত্ম জৈবনীক উপন্যাস - আমার ব্যাথাতুর ভাইটির জন্য রইল এক আকাশ সান্তনা।
আলেয়ার জন্য রইল এক আকাশ সহানুভূতি।

এখন আলেয়ার খবর জানেন কি?
তার ছেলে মেয়ে? সংসার!

এই জীবনে হায়
স্মৃতি খুড়ে কে বদনা জাগাতে চায়?
কেউ না। মগর আপনার কথা পড়তে পড়তে যে আপনাতেই কষ্টের চোরা স্রোতের
পদ্মা যমান বইছে হৃদয়ে তার কি হবে? ;) :P
ব্লগ ডেতে দখা হলে জরিমানা আদায় করবো খন :)

++++++

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৭

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: এখন আলেয়ার খবর জানেন কি?
তার ছেলে মেয়ে? সংসার!



৫ নম্বর মন্তব্যের প্রতিমন্তব্যে আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি ভৃগু ভাই। দয়া করে একটু দেখবেন।

ব্লগ ডেতে যেতে পারছি না বলে দুঃখিত। ধৈর্য ধরে পুরো উপন্যাসটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

৯| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: পড়ার সময় মনে হিয় কি আপনি খুব দ্রুত লিখেছেন। যেন আপনার খুব তাড়া।

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৮

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: হতে পারে।


ধন্যবাদ ভাই রাজীব নুর।

১০| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অসাধারন একটা উপন্যাস পড়লাম।।
এখনো ঘোরের মধ্যে আছি।
উপন্যাসটা কি রিপ্রিন্ট করা যায়না?

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: দেখুন লিটন ভাই, উপন্যাসটি আমি নিজেই প্রকাশ করেছিলাম। তখন ঢাকার বাংলাবাজারে 'জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশন' নামের একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে উপন্যাসটির ডিস্ট্রিবিউটর হিসাবে নিয়োগ দিই। এ ছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে ২০১২ ও ২০১৩ সালের একুশে বইমেলায় ডিস্ট্রিবিউটরের স্টল ছাড়াও 'জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র' (সরকারি সংস্থা) থেকে বইটির বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করি। উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বইটির বিক্রয় কার্যক্রম তদারকির জন্য আমি নিজে বিভিন্ন লাইব্রেরিতে ছুটাছুটি করেছি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দিয়েছি। এভাবে বিপনন কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে মাত্র এক বছরের মধ্যে বইটির ১০০০ কপি বিক্রি হয়ে যায়।

কিন্তু বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না ভাই। বিপননের এই বিশাল কষ্টকর কাজ এখন আর করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আর আপনি নিশ্চয় জানেন বিপনন ঠিকমতো না হলে বই অবিক্রিত থেকে যাবে এবং আমি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবো। তাই উপন্যাসটির ২য় মুদ্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

ধন্যবাদ ভাই গিয়াস উদ্দিন লিটন।

১১| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: অসাধারন একটা উপন্যাস পড়লাম।।
এখনো ঘোরের মধ্যে আছি।
উপন্যাসটা কি রিপ্রিন্ট করা যায়না?

২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৩

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: একই মন্তব্য দুইবার এসেছে। আপনার অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয়টি মুছলাম না লিটন ভাই।

১২| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৮

আনমোনা বলেছেন: আলেয়া ম্যাট্রিক পাশ করতে পারেনি, তবে জীবন তাকে পরিণত করেছে। প্রার্থনা করি সে যেন তার সংসারে সুখে থাকে।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:৫৭

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: তোমার প্রার্থনা আল্লাহ যেন কবুল করেন। ধন্যবাদ বোন আনমনা।

১৩| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৮

করুণাধারা বলেছেন: বেশ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল। বইটি কত পৃষ্ঠার?

কাহিনীর শুরুতে ছিল সুন্দর, সুখের স্মৃতি; তাই সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা ছিল প্রথম দিকের পর্বগুলোতে। কিন্তু শেষ দিকে এসে শুধুই যন্ত্রণার স্মৃতি, তাই হয়তো সেগুলো তাড়াতাড়ি বর্ণনা করতে চেয়েছেন...

এটা যদি সত্যি ঘটনা না হতো, আপনি উপন্যাস লিখতেন, তাহলে পাঠক প্রবল আপত্তি জানাতেন- এমন বিয়োগান্তক ঘটনা মেনে নেয়া যায় না বলে। কিন্তু এটা আপনার নিজের জীবনের ঘটনা তাই দুঃখের সাথে গভীরভাবে বিস্ময় জাগে! একজন মানুষ নিজের ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে কিভাবে একজন তরুণের জীবনকে বিষময় করে তুলতে পারল!! তবে সব শেষে মানতেই হয় আল্লাহ পরিকল্পনা বোঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অভিনন্দন আপনার স্ত্রীকে। তার সহায়তা ছাড়া আপনি এই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারতেন বলে মনে হয় না।

সবশেষে বলি, আপনি ভালোই করেছেন, জীবনের এই কাহিনী বই আকারে প্রকাশ করে। ধন্যবাদ জানাই, এত কষ্ট করে টাইপ করে বইটি ব্লগে প্রকাশ করে আমাদের পড়ার সুযোগ করে দেবার জন্য।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:২২

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: বইটি ১১২ পৃষ্ঠার। শেষের দিকে কষ্ট ও যন্ত্রণার ঘটনাগুলো বর্ণনা করতেও আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই হয়তো আমার নিজের অজান্তেই উপন্যাসটি দ্রুত শেষ করার একটা তাগিদ নিজের ভেতরে কাজ করে থাকতে পারে।

আমার স্ত্রী অত্যন্ত ভালো মানুষ। তার সহযোগিতা ছাড়া মানসিক ভারসাম্য ফিরে পাওয়া আমার পক্ষে সত্যিই কঠিন হতো। ভালোবাসা ও সহমর্মিতা দিয়ে সে আমাকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। সে পুরো উপন্যাসটি পড়ার পর কেঁদে ফেলেছিল। আলেয়ার প্রতি তার সহানুভূতিসুলভ মানসিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। সাধারনতঃ স্বামীর প্রাক্তন প্রেমিকার প্রতি স্ত্রীর মনোভাব নেতিবাচক থাকে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হয়েছে উল্টো। আল্লাহ যেন আমার স্ত্রীকেও হেফাজত করেন।

আপনারা কষ্ট করে ধৈর্য সহকারে পুরো উপন্যাসটি পড়েছেন বলে আমি কৃতজ্ঞ। হতভাগী আলেয়ার জন্য একটু দোয়া করবেন।
ধন্যবাদ বোন করুণাধারা।

১৪| ২২ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৮

সোহানী বলেছেন: কি যে হলো আমার, আমি বোকার মতো হেনার সাথে কাঁদতে বসে গেলাম। কিছুতেই কান্না থামাতে পারছিলাম না............।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:২৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: এটাই তো স্বাভাবিক বোন। হার্ড কপি পড়ার পর বহু পাঠক পাঠিকা ফোনে আমার সাথে কথা বলার সময় রীতিমতো হাউ মাউ করে কাঁদতেন। আমি অনেকের কান্না থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।

ভাগ্যাহত আলেয়ার জন্য একটু দোয়া করলেই আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।

ধন্যবাদ বোন সোহানী।

১৫| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৩২

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: হায় হায়, এত্তো তাড়াতাড়ি শেষ কইরা দিলেন? এতো ছোট ক্যান উপন্যাস??

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:০০

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আপনার দম বন্ধ হয়ে আসবে, অক্সিজেনের অভাবে ছাদে গিয়ে বসে থাকবেন-এই আশংকাতে তো উপন্যাসটা সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছি। হাঃ হাঃ হাঃ।

আসলে লিখন শৈলী মসৃণ হলে যে কোন গল্প উপন্যাস পড়ার পর মনে হয় আর একটু হলে ভালো হতো। আমার লেখার স্টাইলটাই এমন যে, পাঠককে কোথাও থামতে হয় না। গড়গড়িয়ে পড়ে যেতে পারেন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই উপন্যাসে লেখার এই স্টাইলটা আমি ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। তারপরেও আমার নিজেরই মনে হয়, আলেয়াকে কেন্দ্র করে আমার জীবনের অধ্যায়টা যদি আর একটু বড় হতো, তাহলে কী আমার কষ্টটা একটু কম হতো? হয়তো 'হাঁ', অথবা হয়তো 'না'।

উপন্যাসটির হার্ড কপি পড়ার সময় থেকেই আপনি এবং অনেকে আমার সাথে আছেন। এটাই আমাকে বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের জোগান দেয়। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ কামাল ভাই।

১৬| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:০৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: "শেষ হয়েও হইলনা শেষ " - শুধু অতৃপ্তিই রইল ,বাড়ল ।

এমন ত হওয়ার কথা ছিলনা,কেন এমন হল??

আল্লাহ আপনাদের উভয়কে এই ব্যথা সইবার জন্য ধৈর্য্য দান করুন ।ভবিষ্যত জীবনের বাকি দিনগুলি শান্তিতে ভরে দিক ,মানসিক শান্তি এবং শারীরিকভাবে সুস্থ্যতা দান করুন এই প্রার্থনা উভয়ের জন্য ।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩০

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আল্লাহ আপনাদের উভয়কে এই ব্যথা সইবার জন্য ধৈর্য্য দান করুন ।ভবিষ্যত জীবনের বাকি দিনগুলি শান্তিতে ভরে দিক ,মানসিক শান্তি এবং শারীরিকভাবে সুস্থ্যতা দান করুন এই প্রার্থনা উভয়ের জন্য ।


ধন্যবাদ ভাই মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

১৭| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৫

অন্তরন্তর বলেছেন: হেনা ভাই সব পর্ব পড়েছি। আপনার লিখা খুব ভাল হয়েছে কিন্তু আলেয়ার জন্য আমার আপনার থেকে বেশি কষ্ট লাগল। সৃষ্টিকর্তা আলেয়াকে সদা ভাল ও সুস্থ রাখুন এই প্রার্থনা করি। যেহেতু এটা একটি সত্যি ঘটনা যা আপনার জীবনের সেহেতু আপনার কত কষ্ট লেগেছে এমন একটি উপন্যাস লিখতে তা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারলাম। ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৯

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: উপন্যাসটির প্রায় নব্বই শতাংশ হিউমার ও আনন্দময় ঘটনায় পরিপূর্ণ। মাত্র দশ শতাংশ ঘটনা বেদনাময়। এই দশ শতাংশ লিখতে গিয়ে খুব কষ্ট পেয়েছি। এখন তো বই দেখে কপি করলাম মাত্র। কিন্তু ২০১১ সালে যখন উপন্যাসটি লিখি, তখন এই দশ শতাংশ লিখতে গিয়ে কতবার যে খাতা কলম ফেলে টেবিল ছেড়ে উঠে গিয়েছি আমি নিজেও বলতে পারবো না।

ধন্যবাদ অন্তরন্তর।

১৮| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪

তাওফিকুর রহমান চৌধুরী বলেছেন: উপন্যাসটি পড়ার পর আলেয়া চরিত্রটি মনে দাগ কেটে গেছে। কেন জানি ভুলতেই পারতেছিনা। মনে হচ্ছে একবার যদি দেখা করতে পারতাম, কথা বলতে পারতাম তাহলে হয়তোবা মনটা হালকা হতো।

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১৭

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন। কোন কাল্পনিক ভালোবাসার গল্পেও আলেয়ার মতো মেয়ের দেখা পাওয়া যায় না। আমি লিখেছি বলে কৃতিত্ব দাবি করছি না ভাই। আলেয়াকে সঠিকভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরাটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। মনে হচ্ছে, তাতে কিছুটা সফল হয়েছি। আলেয়াকে আপনি ভুলবেন কিভাবে? এ পর্যন্ত যারা এই উপন্যাসটি পড়েছেন (হার্ড কপিসহ), তারা কেউ তাকে ভুলতে পারে না।

ধন্যবাদ ভাই তাওফিকুর রহমান চৌধুরী।

১৯| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৪২

এমজেডএফ বলেছেন: হেনা ভাই,
সময়ের অভাবে আমি ব্লগে অনিয়মিত, তাই অনেক ভালো লেখাও পড়ার আগে চোখের আড়ালে চলে যায়। আপনার আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'স্বপ্ন বাসর'-এর মাঝখানের কোনো একটি পর্বে চোখ বুলিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম অভিজ্ঞ লেখকের উন্নতমানের লেখা। সময় করে শুরু থেকে সব পর্ব পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম। এর মধ্যে হঠাৎ করে "স্বপ্ন বাসর (শেষ পর্ব)" দেখে থ হয়ে গেলাম! সর্বনাশ, আমি এখনো পড়া শুরু করতে পারি নাই, উপন্যাস শেষ। তাই সাপ্তাহিক বন্ধের দিনের সব প্রোগ্রাম/কাজ ছুড়ে ফেলে এক নাগারে পুরো উপন্যাসটি পড়ে ফেললাম।

আপনার এই উপন্যাস পড়ে যেখানে প্রফেসর ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মতো লোকেরা উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন সেখানে আমার মতো একজন সাধারণ পাঠক আর নতুন করে কী বলবো! শুধু এটুকুই বলতে চাই, আপনার এই উপন্যাসটি না পড়লে বছর বছর ধরে দিবানিশি যে সময়গুলো ব্লগে কাটিয়েছি তা ষোল আনাই মিছে হয়ে যেতো।

আমার কাছে 'আত্মজৈবনিক উপন্যাস' - এর মানে আত্মজীবনের সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে রচিত উপন্যাস। অনেকের জীবনে কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা কল্পনাকেও হার মানায়। যেমন আপনার কৈশোর প্রেমের ঘটনা ও বেদনাবিধূর পরিসমাপ্তি। অনেক লেখক এ ধরনের হৃদয়স্পর্শী সত্য ঘটনাকে গল্প-উপন্যাস হিসাবে যথাযথভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হন। আপনি সে জায়গায় সার্থক। নিজের জীবনে চল্লিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার একজন সফল লেখক হিসাবে আপনাকে অভিনন্দন! শুরুর দিকের পর্বগুলোর লেখার ধরন এবং স্থান, কাল ও পাত্রের উপস্থাপন ও বর্ণনার বৈশিষ্ট ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাসের পর্যায়ে পড়ে। লেখায় মূল ঘটনার সমান্তরালে ৭০-এর দশকের বাংলাদেশের গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক ও গার্হস্থ্যজীবনের বিভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাস পড়ে নতুন প্রজন্ম হেনা-আলেয়ার কৈশোর প্রেমের আনন্দ-বেদনার কাহিনীর সাথে সাথে ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও জানতে পারবে।

তবে শেষের দিকে বিশেষ করে পর্ব-১৭, পর্ব -১৮ ও শেষ পর্বে এসে আপনি খুব আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন যার প্রভাবে লেখার ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সেটি আপনি নিজেই মন্তব্যের উত্তর বলেছেন, "এক বছর দুই বছর নয়, আটচল্লিশ বছর পার হয়ে গেছে। এখনো সেই কষ্টগুলো একইভাবে আমাকে ছোবল দেয়।" হয়তো তাই সেই কষ্টগুলোকে দীর্ঘান্বিত না করে শুধুমাত্র মূল ঘটনার বিয়োগান্ত তথ্যগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করে উপন্যাসটির ইতি টেনেছেন। কোনো সত্য ঘটনাকে উপন্যাসে রূপ দিতে গেলে মূল ঘটনা ঠিক রেখে উপন্যাসের খাতিরে কিছু অতিরিক্ত বিষয়ও সংযোজন করা যায়। সেইভাবে পরিকল্পনা করে আপনার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ যোগ করে উপন্যাসটির ব্যাপ্তি মনে হয় আরো বাড়ানো যেতো।

আট বছর আগে আপনার প্রকাশিত এই বইটি হাজার বইয়ের ভীড়ে দূর্ভাগ্যবশত চোখে পড়েনি। তাই হার্ড কপি পড়ার সৌভাগ্য হয়নি। যাই হোক, আপনার জীবনের সবচেয়ে বেশি আনন্দ ও বেদনার অধ্যায় "স্বপ্ন বাসর" অনেক কষ্ট করে ব্লগে লিখে আমাদেরকে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সেইসাথে আপনার জীবনের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করে আপাতত এখানেই মন্তব্যের ইতি টানলাম।

[প্রতিটি পর্বের শেষে পরের পর্বের লিঙ্কটি দিতে পারলে যে কোনো কেউ যে কোনো সময় সম্পূর্ণ সিরিজটি সহজে পড়তে পারতো। যেমন: ১ম পর্বের শেষে ২য় পর্বের লিঙ্ক, ২য় পর্বের শেষে ৩য় পর্বের লিঙ্ক ...]

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১৭

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: কষ্ট করে দীর্ঘ ও চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস হলেও আমার জীবনের সামগ্রিক চিত্র এটি নয়। ১৯৭১ সালের মাত্র কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ এবং পরবর্তী কয়েক বছরের আনুষঙ্গিক ঘটনা এই কাহিনীর মূল উপজীব্য।
হাঁ, একটা কথা আপনি একদম ঠিক বলেছেন। অনেকের জীবনেই এরকম ঘটনা আছে, যা কল্পনাকেও হার মানায়। কিন্তু এই ঘটনাগুলোকে গল্প বা উপন্যাসের আকারে রূপ দিতে গেলে যে সাহিত্যবোধের প্রয়োজন হয়, তা' অনেকের মধ্যেই থাকে না। আমি নিজেও সাহিত্যবোদ্ধা বা বড় মাপের লেখক নই। তবে আমি সারাজীবনই প্রচুর পড়াশুনা করেছি এবং এখনো করি। এই উপন্যাসটি লিখবো বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গল্প ও রম্যরচনা লিখে হাত পাকাতে শুরু করি। একদম আনাড়ি হাতে এরকম উপন্যাস লেখা যায় না। পুরো এক বছর আমি পত্র পত্রিকায় লেখালেখি করে নিজের লিখনশৈলীকে শানিত করতে থাকি। তারপর আমি 'স্বপ্ন বাসর' লেখার কাজে হাত দেই। অর্থাৎ 'স্বপ্ন বাসর' লেখার জন্য আমি পুরো এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিই। তার আগে আমি কোনদিন কিছু লিখিনি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আমি আসলে মোটেই লেখক নই।

আর একটা কথা ঠিক বলেছেন। কাহিনীর শেষের দিকে এসে আমার কলম চলছিল না। সেই কারণে উপন্যাসের গুনমানে কিছু প্রভাব হয়তো পড়েছে। শেষের দিকের ঘটনাগুলো ঠাণ্ডা মাথায় লেখা যে কারো জন্যেই খুব কঠিন। সেই কঠিন কাজটা হয়তো আমি ঠিকভাবে করতে পারিনি। উপন্যাসের খাতিরে কিছু অতিরিক্ত বিষয় হয়তো সংযোজন করা যেত, এটা ঠিক। কিন্তু পুরো উপন্যাসেই এই ধরনের সংযোজন বিয়োজন তথা পরিমার্জনের পরিমান খুবই নগন্য এবং সেটাও বাস্তব জীবনের কাহিনীকে উপন্যাসে রূপ দেওয়ার খাতিরে। বুকের ভেতর পর্বত সমান কষ্টকে প্রলম্বিত করে তাই উপন্যাসটিকে আর টেনে লম্বা করতে চাইনি।

লিংকের ব্যাপারে আপনার প্রস্তাবটি মনে থাকলো। সময় সুযোগ মতো করে দেব। অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই এমজেডএফ।

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৬

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: জোহর নামাজের আগে ঘন্টাখানেক সময় পেয়েছিলাম। সেই সুযোগে লিংকের কাজটা সেরে ফেললাম। প্রতিটি পর্বের নিচে পরবর্তী পর্বের লিংক দিয়ে দিলাম। এতে পাঠকের সুবিধা হলো এই যে, এখন একটানা পুরো উপন্যাসটি তিনি পড়তে পারবেন। আপনি খুব ভালো পরামর্শ দিয়েছেন। আর লেখার উপরে আগের পর্বের লিংক তো থাকলোই।

ধন্যবাদ ভাই এমজেডএফ।

২০| ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: প্রিয়তে তুলে রাখলাম।
ধন্যবাদ সুন্দর একটি সম্পুর্ণ
উপন্যাস উপস্থাপনের জন্য ।
ঘটনার বিবরণে ব্যথিতই
হলাম । স্বপ্ন বাসর কেন
বাসর রাতে হলোনা পরিনত,
এই কি তাহলে ছিল নিয়তি।
কামনা করি জীবনের ব্যথা
যাক ঘুচে , ব্যথায় জন্ম নেয়া
জীবনগাথা শুধুই থাকুক স্মৃতিতে।

ভাল থাকার শুভকামনা রইল


২৪ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫৩

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: শুভকামনা আপনার জন্যেও। ধন্যবাদ ডঃ এম এ আলী।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.