নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুবই সাধারন একজন মানুষ । পড়া যার নেশা । পড়ার এবং জানার আশায় ----

মোহামমদ কামরুজজামান

মোহামমদ কামরুজজামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

লজ্জা -সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং মুসলিম চরিত্রের অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য ।

২০ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪১



ছবি - গুগল মামা।

লজ্জা একটি নেতিবাচক বা যন্ত্রণাদায়ক মানষিক অবস্থাকে বুঝায়। যা মানুষ তার কর্মের ফল হিসাবে এবং সমাজের প্রচলিত ভাল কাজের মানদণ্ডের সাথে তার নিজের কাজের তুলনা করে নেতিবাচক অবস্থা বা ফলাফল উপলব্ধি করে। মানুষের বিবেক তথা সহজাত আত্মউপলব্ধি থেকে লজ্জার উৎপত্তি ঘটে থাকে।যার আত্মউপলব্ধি যত বেশী তার লজ্জা তত বেশী ।আর যার আত্মউপলব্ধি তথা আত্মশ্রদ্ধা কম তার লজ্জাও কম ।আর লজ্জাহীন মানুষ পশুর সমান।

লজ্জা বা হায়া শব্দটি বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়। রাসূল সা: বলেছেন, - প্রত্যেক ধর্মেরই কিছু না কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। লজ্জাশীলতা হলো ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। লজ্জাশীলতার মাধ্যমে একজন মুসলমানের ঈমানের পরিমাপ করা যায়। যিনি অবলীলাক্রমে ও নির্দ্বিধায় লজ্জাকর কাজ করে যায় এবং নিজের বেহায়াপনা বা অশ্লীলতার জন্য এতটুকুন অনুতপ্ত হয় না, বুঝতে হবে তার ঈমানে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি রয়েছে। অপর দিকে সামজে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন ,যার দ্বারা কোনো লজ্জাকর কাজ সংঘটিত হলে, সাথে সাথে ভুলের জন্য আড়ষ্ট হয়ে মুখ লুকায় এবং বিবেকের কষাঘাতে জর্জরিত হয়। তখন বুঝতে হবে তার ঈমান জীবিত আছে।

রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। আর ঈমানের স্থান বেহেশত। অপর দিকে অকথ্য গালিগালাজ জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। আর জুলুমের স্থান দোজখ।’ (আহমাদ)

লজ্জা মুমিনের ভুষণ। এটি মুমিনের চারিত্রিক সৌন্দর্যকে সুশোভিত করে।

রাসূলুল্লাহ সা: লাজুক প্রকৃতির নম্র-ভদ্র, সহনশীল ও কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।রাসূল সা: বলেছেন, ‘লজ্জা ও ঈমান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যখন একটির অভাব ঘটে, তখন অন্যটিও বিলুপ্তির পথ ধরে।’

লজ্জাহীন ব্যক্তির চরিত্র হয় অশ্লীল। সে সমাজের এমন হীন কাজ নেই যা সে করতে পারে না। এ ধরনের ব্যক্তি সাধারণত ফাসেক, পাপিষ্ঠ, কদাচারী, দুর্বৃত্ত ও দুর্নীতিপরায়ণ হয়। লজ্জাহীনতা তার আচরণকে করে উদ্যত, স্বভাব হয়ে উঠে রুক্ষ, মেজাজের ভারসাম্য হারিয়ে সামাজিক জীবনযাপনে বেপরোয়া, উন্মাদ, পরশ্রীকাতর, পরধনে লোভী, টাউট-বাটপার ও দুর্নীতিবাজ এককথায় উন্মাদ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। এদের আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো যে, এরা সাধারণত মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে। মিথ্যাই এদের প্রধান পুঁজি হিসেবে কাজ করে। এরকম একজনমাত্র ব্যক্তিই একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্রের জন্য অশান্তি ও বিপর্যয়ের জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে।

রাসূল সা: বলেছেন, "যখন কোনো মানুষের অধঃপতন ঘটে, প্রথমে তার হৃদয় থেকে লজ্জার বিচ্যুতি ঘটে। পরে সে নিকৃষ্ট কাজের অনুগামী হয়। যখন কোনো পাপিষ্ঠ আল্লাহর রোষানলে নিপতিত হয় তখন তার হৃদয় থেকে লজ্জা উঠিয়ে নেন। আর যখন লজ্জা বিচ্যুত হলো, তখন হিংসুক হয়ে উঠে এবং হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। শত্রুতা করতে দেখবে অথবা শত্রু দ্ধারা আক্রান্ত দেখবে"।
যদি উল্লিখিত দুই অবস্থায় কাউকেও দেখা যায়, তখন বুঝতে হবে তার থেকে আমানত উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং যখন সে আমানত বিচ্যুত হলো, তখন তাকে আমানত খেয়ানতকারী অথবা আমানত বঞ্চিত দেখতে পাবে। বস্তুত যখন তাকে এরূপ অবস্থায় দেখবে, মনে করবে তার থেকে স্নেহ-মমতা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আর যখন সে দয়া বিচ্যুত হলো, তোমরা তাকে বিতাড়িত, অভিশপ্তরূপে দেখতে পাবে। যখন তাকে এমতাবস্থায় দেখবে, মনে করো তার গলা থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলা হয়েছে। (অর্থাৎ ইসলাম বিচ্যুত হলো) (ইবনে মাজাহ)।

লজ্জাশীলতা কোনো দুর্বলতার নাম নয়, বরং লজ্জাশীল ব্যক্তি একজন দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী। লজ্জা হলো তার চরিত্রের মার্জিত রুচিশীল পোশাকসদৃশ।


রাসূল সা: বলেছেন,‘নির্লজ্জতা যাকে আকৃষ্ট করে সে চিরকলুষ হয়। অপরপক্ষে লজ্জা যাকে পরশ লাগায় সে চিরসুন্দর হয়ে উঠে।

লজ্জাশীল ব্যক্তি মানসম্মানকে এতটাই অগ্রাধিকার দেয় যে, প্রয়োজনে নিজের প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দেবে কিন্তু আত্মমর্যাদার অবমাননা হতে দেবে না। লজ্জা ও ভয় পাশাপাশি অবস্থান করে।
প্রথমত, লজ্জাশীল ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে। সে এ বিশ্বাস পোষণ করে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার প্রতিটি কথা ও কাজ প্রত্যক্ষ করছেন। এ ধরনের ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহকে হাজির-নাজির জানে বলেই কোনো লজ্জাকর কাজ তার দ্বারা সংঘটিত হয় না।

দ্বিতীয়ত, লজ্জাশীল ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা ক্ষুণণ হওয়ার ভয় করে। মানুষের দৃষ্টিতে সে নিকৃষ্ট হেয় প্রতিপন্ন হবে এ ভয়ে যে কোনো অপকর্মে লিপ্ত হয় না। এটি কোন দুর্বল চিত্তের লক্ষণ নয়। বরং এ ধরনের ব্যক্তিরাই সমাজের দৃঢ়চিত্ত ও বীরোচিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়।


যার লজ্জা নেই তার মধ্যে আল্লাহর ভয় নেই। যার মধ্যে আল্লাহর ভয় নেই তার মধ্যে ঈমান ও থাকেনা। কারণ লজ্জাহীন ব্যক্তি আল্লাহর কোনো হুকুমের পরোয়া করে না। সমাজের সব কু-কাজের একচ্ছত্র নায়ক বনে যায়। এ ধরনের লোকেরা অশ্লীল ও নিন্দনীয় কাজ করে অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে। লাখো-কোটি মানুষের ধিক্কারকে সে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়।

সমাজ ও সভ্যতার সব নিয়মকানুনকে সে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে। সামাজিক বিপর্যয় ও অসংখ্য বনি আদমের দুর্ভোগে সে পশুত্বের অট্টহাসি ছড়ায়। দুনিয়ার সব কিছুই তার জন্য অতি সামান্যই মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবী নামক এ গ্রহটি সব জীবের জন্য বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তারা জলে-স্থলে সব জায়গায় ফ্যাসাদ ছড়িয়ে দেয়। আর এ সব পৃথিবীর নির্লজ্জ মানুষের কাজের ফলাফল হয়ে মানুষের দূর্ভোগ বাড়ায়।

নির্লজ্জরা সাধারণত হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়। সত্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করায় সত্যের চিন্তা ও উপলব্ধি করতে পারে না। অসত্য, অন্যায় ও অকৃতজ্ঞতার ওপর এদের জীবনের ভিত রচিত হয়। পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষী এ ধরনের ব্যক্তিরা ইতিহাসে কালো পাতায় শুধু স্থান পেয়েছে। কিন্তু জীবিত নির্লজ্জরা এসব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না।

মহান আল্লাহপাক রাববুল আল আমিন আমাদের সবাইকে লজ্জাশীল তথা ঈমান ও আমলের বলে বলিয়ান হবার এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা ও নিন্দনীয় কাজ পরিহার করার তওফিক দান করুন।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:১১

শায়মা বলেছেন: ভেরি গুড ভাইয়া।

সুন্দর করে লিখেছো।

তাড়াতাড়ি সেইফ হও।

২১ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:৩৯

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: লেছেন: ধন্যবাদ মেরা বহিন শায়মা।

কিছু লিখার চেষ্টা করছি আরকি।কষ্টকরে খুজেপেতে আমার লেখা পড়ার জন্য আবারো ধন্যবাদ।

আর সেইফ!!! যেখানে দুনিয়ার কোথাও এখন মানুষ সেইফ না সেখানে যদি মডারেটদের সহানুভূতিতে কখনো ব্লগে সেইফ হয়েই যাই তাহলে তা হবে আমার জন্য বিশেষ কিছু।তবে আদৌ হতে পারব কিনা বা কবে হব ,তা জানিনা।

২| ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:২০

শায়মা বলেছেন: কিছুই হবে না শুধু কিছু লিখলে সকলের দৃষ্টিগোচর হবে কারণ প্রথম পাতায় যাবে আর আমরা সাথে সাথেই পড়তে পাববো।:)

২১ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:০৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: আবারো অনেক অনেক ধন্যবাদ শায়মা বহিন।

নতুন হাটা শিখলে বাচচারা যেমন মনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে এদিক সেদিক দৌড়ায় তেমনি আমারো অনেক কিছুই লিখতে মোনচায় । রাতে ঘুমাতে পারিনা ।কিছু লেখার চিন্তা করলে তা খালি মাথায় ঠেলতে থাকে বাইরে বের হওয়ার জন্য।কি যে মুসিবতের ব্যাপার একটা। এটা ঠিক প্রথম পাতায় আসলে লিখতে যতটা উৎসাহ পেতাম ততটা এখন পাইনা।

তারপরেও একটু আধটু লেখার সুবাধে আপনাদের মত প্রতিষ্ঠিত এবং সফল মানুষদের সাথে থাকতে পারছি,আপনাদের লেখা পড়তে পারছি এটাই আমার জন্য অনেক বেশী পাওয়া।

৩| ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:২৫

শায়মা বলেছেন: আরে আমরা আবার কি প্রতিষ্ঠিত ভাইয়ু। অনেক বছর আছি তাই একটু সবাইকে চিনি জানি .... আর মনের আনন্দে লিখি যখন যা মনে আসে তা ........

২১ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:১৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: "কি যাতনা বিষে
বুঝিবে সে কিসে।
কভু আশিবিষে
দংশেনি যারে"

মেরা বহিন - "লেখা যে কি পরিমান বেদনাদায়ক এবং সৃজনশীল " তা লেখক মাত্রই অনুভব করতে পারে।
আপনি - শায়মা (শিক্ষক) ,কবিতা পড়ার প্রহর(???? - মনে লয় শায়মা-কবিতা দুইজনই একজন :P নাম আলাদা),চাঁদ গাজী (পরামর্শক - সর্বরোগের /সব বিষয়ের ) , নতুন নকিব (ব্লগের ধর্মগুরু) রিম সাবরিনা জাহান (বিজ্ঞানী), বিপ্লব০০৬(বিয়ে করতে না পারার দু:খে নিখোঁজ),কামরুননাহার কলি ( সমসাময়িক বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন),নান্দনিক নন্দিনি (বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক),ভূয়া মফিজ(ভূইয়া না ),গেছো দাদা ( কলিকাতায় ব্লগের বাংগালী প্রতিনিধি),নুর মোহামমমদ নুরু (সংবাদকর্মী),আবু হেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম (অবসরপ্রাপ্ত লেখক),কাজী ফাতেমা ছবি (কবি) এবং রাজীব নুর ( ঢাকার ইবনে বতুতা) আপনারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ও সফল।

আর সফল মানুষরা যা বলে তাই কোটেশন আর প্রাত্যহিক জিবনের ঘটনাবলীই অন্যের জন্য অনুকরণীয় ।আপনারা মনের আনন্দে লিখেন আর আমরা আমজনতা পড়ে ধন্য হই।

৪| ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:০৫

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: লজ্জা যে কোন ব্যক্তির ভুষন! থাকা দরকার।

২১ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:২৪

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ সাহাদাত উদরাজী ভাই।

কষ্টকরে আমার লেখা পড়ার জন্য।

লজ্জা যে কোন ব্যক্তির ভুষন। তা আসলেই আমাদের সবার থাকা দরকার।তারপরেও দেখবেন আমাদের আশেপাশে হাজারো মানুষ রুপী পশু লজ্জাহীন ভাবে ঘুরে বেড়াচছে যাদের দেখে পশুরাও লজ্জা অনুভব করে ।

কিন্তু তদের এ বিষয়ে কোন লজ্জা হয়না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.