নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুবই সাধারন একজন মানুষ । পড়া যার নেশা । পড়ার এবং জানার আশায় ----

মোহামমদ কামরুজজামান

মোহামমদ কামরুজজামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

" মাতৃত্ব " - নারী জীবনের পূর্ণতা কি শুধুই মাতৃত্বে বা সন্তান জন্মদানে ? ( মানব জীবন - ৪ )

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৩৩


ছবি - muslimmarrige.com


সন্তানের আকাংখা নর-নারী নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের জীবনে থাকে।সন্তানের মাধ্যমে একটি সংসার পূর্ণতা পায় এবং মানব জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয় ।পরিণত বয়সে এবং বিবাহের পরে এই আকাংখা বাস্তবে রুপলাভ করার সুযোগ আসে।একজন নারী এবং একজন পুরুষ যখন বিবাহের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন থেকে তাদের বিবাহীত জীবন শুরু হয়। বিবাহীত জীবনে তাদের উভয়ের যত ধরনের আশা আকাংখা থেকে থাকে তার মধ্যে একটি সন্তানের আকাংখাই সবচেয়ে বেশী এবং তীব্র থাকে।আর প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী এবং স্রষ্টার দয়ায় বিবাহের কিছুদিন পর একজন নারী গর্ভবতী হয়।




ছবি -pinterest.com

* সন্তান (ছেলে-মেয়ে) সৃষ্টি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ পাক বলেন - "নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদের পুত্র-কন্যা উভয় দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।"(সুরা আশ শুরা - আয়াত -৪৯ - ৫০)। আর সৃষ্টিকর্তা না চাইলে করো পক্ষেই সন্তানের বাবা- মা হওয়া যায় না বা সম্ভব নয়।

একজন পুরুষ এবং একজন নারী যখন বিবাহের মাধ্যমে সংসার জীবনে প্রবেশ করে, তার কিছুদিন পর থেকেই স্বামী - স্ত্রী উভয়েই এবং সাথে সাথে পরিবারের বাকী সদস্যরাও একটি সন্তানের জন্য প্রত্যাশা করে । যখন একজন নারী গর্ভবতী হয় তখন পুরো পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে নতুন অথিতিকে সাদরে বরন করার জন্য ।তারপরেও এত আশা-আকাংখা এবং আনন্দ- ভালবাসার মাঝেও কেউ কেউ একটি সন্তানের বাবা-মা হতে পারেনা।এক্ষেত্রে কিছুদিনের মাঝেও হয়ত শুরু হয়ে যায় স্বামী - স্ত্রীর মাঝে মানষিক টানাপোড়ন এবং পারিবারিক অশান্তি ।এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর যে কেউ কিন্তু ভূক্তভোগী হয় উভয়েই বিশেষ করে নারীরা।

আমাদের সমাজে নারীর জীবন স্বামী ও সন্তান ছাড়া অসম্পূর্ণ মনে করা হয়। মনে করা হয় সন্তান ছাড়া নারীর জীবন বৃথা । মাতৃত্বের স্বাদ না পেলে নারী হয়ে জন্মানোর সার্থকতা কোথায়! আমাদের উপমহাদেশের সমাজ এভাবেই নারীকে নিয়ে ভাবে বা মূল্যায়ন করা হয়।

সংসার জীবনে / বিবাহিত নারীর সামাজিক অবস্থানে তার নিজ পরিচয় যাই হোক না কেন, সেই নারী যদি সন্তান জন্ম দিতে না পারে, তবে হোক সে গ্রামের একজন সাধারণ বধূ বা হোক সে একজন উচ্চ পদের সফল নারী, তার পরিচয় তখন বন্ধ্যা নারী হিসেবেই হয়ে থাকে আমাদের সমাজে। তার অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় পরিচয় গৌণ হয়ে যায় সন্তানহীন হওয়ার কারণে।

আমাদের সমাজে উত্তরাধিকার রক্ষায় একমাত্র প্রক্রিয়া মনে করা হয় নারীর গর্ভধারণ অর্থাৎ সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে। অথচ এটা একটা জৈবিক প্রক্রিয়া যেটাকে উত্তরাধিকার রক্ষার দোহাই দিয়ে মা হওয়াকে এত গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখানো হয়।মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত বা নিম্নবিত্ত সব শ্রেণীতেই এই ধ্যান-ধারনা রয়েছে। শুধু আমাদের সমাজ নয়, নারী নিজেও তার জীবনের সার্থকতা মা হওয়াকেই মনে করে।সে তার পরিবার থেকে, সমাজ থেকে এই মানসিকতা নিয়েই বড় হতে হতে এটাকেই জীবনের স্লোগান ভেবে নেয়।

প্রতিষ্ঠিত স্বামী পাওয়া,সন্তানের মা হওয়াকেই বিবাহিত নারীর জীবন সফল, সুখের ও সার্থক মনে করা হয়। অবশ্যই মাতৃত্ব খুব সুন্দর ও আনন্দদায়ক একটি অনুভূতি। সন্তান হওয়ার পর একজন নারী নারী থেকে একজন মা হয়ে ওঠে। তখন তার জীবনটাই পাল্টে যায়। কিন্তু মা হওয়াটাই কি সবকিছু?

ইচ্ছে করে কোন নারী সন্তানহীন থাকে না। নানা শারীরিক জটিলতা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, ইকটোপিক প্রেগন্যান্সি প্রভৃতি কারণে একজন নারী সন্তান জন্মদানে অক্ষম হতে পারেন। কিন্তু সমাজ কখনো সন্তান জন্মদানে অক্ষম নারীকে মেনে নিতে পারে না। আর সব জায়গায় দেখা যায় ,যদি স্বামীও সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়, তবুও নারীটিকেই সমস্ত অত্যাচার সহ্য করে যেতে হয়।যে নারী মা হতে পারে না তার এই সমাজে কোনই মূল্য নেই।গর্ভে সন্তানধারণ না করেও কি মা হওয়া যায় না ? এভাবে কি ভাবা যায়না বা হতে পারেনা - সন্তানহীন নারীর অক্ষমতাকে মেনে নিয়ে দত্তক সন্তান গ্রহণ করা বা আপনজনদের কারো নিকট থেকে একজন নিয়ে তাকে সন্তানরূপে লালন-পালন করা (যদিও এ ব্যাপারগুলো বলা যত সহজ তা করা/মেনে নেয়া অনেক কঠিন) ? কারন, মাতৃত্বই নারী জীবনের সফলতার একমাত্র মাপকাঠি নয় । কিন্তু এতসব কিছু আমাদের জানা থাকার পরেও কেন এমন মানসিকতা আমাদের সমাজের মানুষের ?

একজন নারী একজন মা হওয়ার আগে একজন মানুষ। মাতৃত্বই নারী জীবনের কেন্দ্রবিন্দু নয় এবং হওয়া উচিতও নয়।স্বামী, পরিবারের, সমাজের ভুলে গেলে হবে না যে, মা হওয়াই তার জীবনের একমাত্র সত্য নয়।সন্তান জন্ম বা লালন-পালন ছাড়াও নারী তার জীবনে আরও অনেক কাজ করে থাকে এবং তাকে সামগ্রিকভাবে সব মিলিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।শুধু একজন মা হিসাবে নয়।তবে খুবই হতাশার কথা- এই কথা পরিবার, সমাজ তো ভুলে যায়, নারী নিজেও ভুলে যায়

আমাদের সমাজে মা না হতে পারাকে একমাত্র নারীরই দোষ মনে করা হয়। সন্তান হওয়া বা না হওয়ার জন্য নারীর একার কোনো ভূমিকা নেই আমরা খুব ভালো করে জানি। তা সত্বেও আমাদের সমাজে পুরুষের অক্ষমতাকে একদমই এড়িয়ে যাওয়া হয়। আর একারণেই নিঃসন্তান নারীকে আজীবন বন্ধ্যা শব্দটি শুনতে হয়। আমরা ভুলে যাই, সৃষ্টিকর্তা না চাইলে সন্তানের মা বাবা হওয়া যায় না। মানুষ চাইলেই সন্তানের মা বাবা হয়ে যেতে পারে না।

আমরা বই-পুস্তকে বা সাহিত্যে দেখি বিভিন্নভাবে নারীর জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়। কিন্তু ওসব শুধু বই-পুস্তকের মাঝেই সীমাবদ্ধ । বাস্তব জীবনে এর সম্পূর্ণ বিপরীত ধ্যান-ধারনা ও চিত্র দেখা যায় । আমরা যা দেখি - নারী জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে বিয়ে করে স্বামী-সংসার ও সন্তান জন্মদান। নিঃসন্তান নারীর মেধা আর পরিশ্রমকে কখনো কখনো মূল্যায়ন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অবমূল্যায়ন করা হয়। তাদের মেধা আর পরিশ্রমকে ধর্তব্যের মধ্যেই ফেলা হয় না। অথচ তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দোষ ত্রুটিকে ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে বড় করে দেখতে খুব পারদর্শী আমরা।

নারীর তুলনায় পুরুষের পিতৃত্বে বন্ধ্যা শব্দটি খুব একটা প্রভাব ফেলে না। পান থেকে চুন খসলেই যেখানে আমরা নারীরাই আরেকজন নারীকে সব দোষ দেই, আর যদি হয় নিঃসন্তান তবে তা যেন হয়ে যায় আগুনে ঘি ঢালার মতো। সন্তানহীন নারীকে মানুষ বলেই মনে করা হয় না। খুবই দুঃখজনক। নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন এমন অনেক নিঃসন্তান নারী আছেন যাদেরকে বন্ধ্যা পরিচয়টি তাদের অবস্থান থেকে টলাতে পারেনি।

বলা হয়ে থাকে, নারী মায়ের জাত। মায়ের জাত বলে তাকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়- তার কাজ মা হওয়া। মা হওয়া ছাড়া তার কোনো অস্তিত্ব নেই। কোনো পরিচয় নেই।আর তাই সন্তান না হলে বা হতে দেরি হলে তাকে নিয়ে আড়ালে ও প্রকাশ্যে চলে আলোচনা-সমালোচনা।তাকে নানান লোকের নানান কথা শুনতে হয় এবং জবাব দিতে হয় নানান অদ্ভুত প্রশ্নের।

খুবই দুঃখ ও হতাশার কথা যে, সন্তান না হওয়ায় অনেক দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদও ঘটে। সন্তান জন্ম দিয়ে নারীকে প্রমাণ দিতে হয় যে তার মন ও শরীর ঠিক আছে। এমন ঘুণ ধরা সমাজ আমাদের! সন্তানহীন বিবাহিত নারীর দিকে সমাজের অধিকাংশ মানুষের দৃষ্টিতে মিশে থাকে সহানুভূতি, করুণা এবং থাকে পরিতৃপ্তি ও অহংকার। তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে, তুমি যা পাচ্ছ না, আমি তা পাচ্ছি।আমরা এতটাই সংকীর্ণ মানসিকতার যে, নিঃসন্তান নারীর কাছে অনেক মায়েরা তাদের বাচ্চাকে ঘেষতে দেয় না, বাচ্চার মুখ দেখাতে চায় না এমনকি ছবিও দেখাতে চায় না। কী অদ্ভুত মানসিকতা!

আমাদের উপমহাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় এরকম সংকীর্ণ মানসিকতা বেশী দেখা যায়। সামাজিক বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে নারীর প্রবেশের অনুমতি থাকলেও অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় না সন্তানহীন হওয়ার কারণে। তাদেরকে বিড়ম্বনা হিসেবে দেখা হয়। অথচ এই বিড়ম্বনা দিচ্ছেন কারা? সমাজের তথাকথিত সব আছে সুখি টাইপ মানুষরাই নিঃসন্তান নারীদের বিড়ম্বনার কারণ হচ্ছেন। বাঁজা, অপয়া শব্দগুলো তাদের জন্য নির্দিষ্ট করে তাদেরকে আলাদা করে ফেলা হয়। যেন তাদেরকে দেখা নিষেধ, ছোঁয়া নিষেধ।


ছবি - rdwhc.com

সমাজের এমনতর আচরণ ও মানসিকতার কারণেই বিবাহিত নারী মা হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।সন্তান ছাড়া সংসার টিকবে তো! স্বামী তোমায় ভালোবাসবে তো আজীবন এমনি করে! আরেকটি বিয়ে করে ফেললে কী হবে তোমার! স্বামীর সম্পত্তি পাবে তো তুমি! ইত্যাদি নানান হতাশার কথা নিঃসন্তান নারীকে শুনতে হয়।ফলে সে নিজের জীবনকে অনিরাপদ মনে করে পরিবারে ও সমাজে। সর্বোচ্চ দিয়ে সে চেষ্টা চালিয়ে যায় মা হওয়ার জন্য, তা বয়স যতই হোক আর তার শারীরিক সুস্থতা থাকুক বা না থাকুক। সমাজের এই চাপিয়ে দেয়া মা হওয়াতে নারীর মনে আনন্দের চেয়ে বেশি কাজ করে ভয়।

আমরা সমাজ পরিবর্তন নিয়ে এত কথা বলি অথচ মাতৃত্ব বা মা হতেই হবে, এই পুরনো ধ্যান-ধারনা নিয়ে কিছুই বলি না, ভাবি না। এ থেকে বের হতে পারি না। নারী কেন শুধু কোনো জাত হবে? জীবনে নারীকে বিভিন্ন সম্পর্কের নারী হতে হয়। কিন্তু আলাদা করে সে শুধুই মায়ের জাত নয়। একজন মানুষ। একজন নারী।

আমাদের দায়িত্ব বিবাহিত নিঃসন্তান নারীকে মানসিক সাপোর্ট দেয়া। তাকে এমন সাপোর্ট দেয়া যেন সে নিজেকে ছোট বা বঞ্চিত মনে না করেন। হতাশা বা দুঃখবোধ যেন তাকে স্পর্শ করতে না পারে। এই মহান দায়িত্ব স্বামীর পাশাপাশি পরিবারের সব সদস্যদের, সাথে অবশ্যই সমাজের মানুষেরও। সন্তানহীন নারীর প্রতি সকল প্রকার মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন রোধের জন্য আমাদের প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই সন্তানহীন নারীর প্রতি আমাদের মানবিক করতে পারবে।গড়ে উঠবে একটি সুন্দর সমাজ।আর তাই সন্তানহীন নারীদের প্রতি আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে পরিবার ও সমাজ তথা আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।


ছবি-babycentre.co.uk

যদিও এখন সময় পাল্টেছে।তাই বিয়ের পাঁচ-সাত বছর পরও সন্তান হয়নি যে নারীর, তাঁকে গালমন্দ করা হয় না বটে, তবে সদুপদেশ দিতে ছাড়েন না কেউ। বর্তমানে বন্ধ্যাত্বের বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা আছে, সেসব চিকিৎসায় ফলও হয়। আমাদের দেশেও সফলভাবে শুরু হয়ে গেছে টেস্টটিউব শিশু বা আইভিএফ, আইইউআই ধরনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। আর এসব চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ ব্যয়বহুল ও বটে যা সবার পক্ষে বহন করা সম্ভব না ।এত সব কিছুর চেষ্টা ও তদবিরের পরেও সমাজে অনেক নারীর পক্ষেই মা হওয়া সম্ভব হয়না।কোলজুড়ে একটা শিশু না আসার বেদনা ও দীর্ঘশ্বাসটুকু তারা কাউকেই বলে বোঝাতে পারেন না।এই দীর্ঘশ্বাসটুকু সন্তানহীন স্বামী-স্ত্রীর একান্ত গোপন ও পরম বেদনার। কিন্তু পরিবারে, সমাজে এবং নানা অনুষ্ঠানে এ নিয়ে যেকোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ যে তাদের জীবনে আরও বড় বেদনা বয়ে নিয়ে আসে তা আমরা অনেকেই বুঝতে চাইনা।


ছবি - paddyjimbaggot.com

সমাজের নানা জন উপযাজক হয়ে যখন তাদের যন্ত্রণাদায়ক এবং কষ্টকর এ বিষয়ে আলোচনা করে বা তাঁরা কোথায়, কার কাছে চিকিৎসা করছেন বা করিয়েছেন, কী কী চেষ্টা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছেন, সমস্যাটা কোথায় ইত্যাদি বিষয় যে তাঁদের দুজনের গোপন ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তাদের প্রশ্ন করেন বা উপদেশ দেন, এগুলো যে তাদের জন্য কষ্টকর এবং অযাচিত আলোচনার বাইরের বিষয়—তা অনেকেই বুঝতে চান না।অন্যের ব্যক্তিগত গোপন বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা চর্চা করা, এমনকি নির্দোষ আলোচনা করাও কখনো কখনো ভদ্রতা বা সৌজন্যের সীমা পেরিয়ে যেতে পারে, কখনো হয়ে উঠতে পারে অন্যের জন্য বিব্রতকর বা কষ্টকর—এটা আমাদের বিবেচনা করা উচিত। যখন-তখন, যেখানে-সেখানে অন্যের নাজুক বিষয়গুলোর প্রসঙ্গ টেনে না আনাটাই উচিত। তাই সন্তানহীন নারী-পুরুষ যেই হোক তাদের এ বিষয়ে প্রশ্ন বা সন্তানহীন / বন্ধ্যা হিসাবে তাদের মূল্যায়ন না করে একজন মানুষ হিসাবে মানবিক দৃষ্টিতে
তাদের মূল্যায়ন জরুরী।



ছবি - thenaturaldoctor.org

সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া মানুষের হাতে নেই। তা সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার হাতে। গর্ভধারণ করে সন্তানের মা হওয়া আনন্দের বিষয়, কিন্তু কোনো গর্বের বিষয় নয়। আর সন্তান জন্মদান করতে না পারাটাও দুঃখ বা হতাশার বিষয় নয় বলেই আমি বিশ্বাস করি। অনেক নেয়ামতের মধ্যে আল্লাহর তরফ থেকে সন্তান একটি নেয়ামত। যেই নেয়ামত দ্বারা আমরা জীবনে সুখি হতে পারি কিংবা দুখি।কিন্তু যে নারীর ভাগ্যে এই নেয়ামত লাভ হয়না তার মানে এই না যে সেই নারীর জীবন বৃথা বা সেই নারী অপয়া।

সুতরাং মাতৃত্বই সমস্ত সাফল্যের মূল এমন ভাবা বন্ধ করা না হলে নারী নিজেকে মানুষ বলে ভাবতে পারবে না। নারীর জীবনের এক এবং শেষ কথা যেন মাতৃত্ব না হয়। মা হতে হবেই এই ভারে নারী যেন তার জীবনের স্বপ্নগুলো হারিয়ে না ফেলে এবং মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। শরীরের ভার, যন্ত্রণা, কষ্ট সহ্য করে সন্তান আনার স্বপ্ন ও ইচ্ছে নারীর নিজের বুকেও স্বাভাবিক ভাবেই জেগে উঠে,আর এর বাস্তবায়ন না হলে বা কোন কারনে মা হতে না পারলে সেই নারীই সবচেয়ে বেশী কষ্টলাভ করে।আর সেই কষ্টের আগুনে ঘি ঢেলে সন্তানহীন নারীকে মানষিক ভাবে আরও কষ্ট দেয়া কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না এবং তা মানবিক ও নয়।

তাই সন্তান না হলে নারীর জীবনকে ব্যর্থ ভাবা মোটেই মানবিক বৈশিষ্ট্য নয়।



চলবে -

পূর্ববর্তী পোস্ট -
মানব জীবন - ৩ Click This Link
মানব জীবন - ২ Click This Link
মানব জীবন - ১ - Click This Link

তথ্যসূত্র -* আল কোরআন।


উৎসর্গ : এই পর্বটি উৎসর্গিত সেই সব নর-নারীদের জন্য ,যারা শত চেষ্টার মাঝেও একটি সন্তানের মা-বাবা হতে না পেরে দারুন মনোঃকষ্টে এবং যন্ত্রণাদায়ক জীবন অতিবাহীত করছেন। দয়াময় আল্লাহ চাইলে এ পৃথিবীতে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব ।মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, এ দুনিয়ার সকল স্বামী - স্ত্রীকে সন্তান দান করুন এবং একটি নারীও যেন নিঃসন্তান না থাকে।

মন্তব্য ৪০ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৪০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৪১

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
সন্তান এলে দাম্পত্য জীবন পরিপূর্ণ হয়। এখন কারো যদি সন্তান না হয় সেটার জন্য সমাজ সংসার নারীকে দায়ী করে যা দুঃজনক।

পুরুষের অক্ষমতাকে এড়িয়ে নারীকে অপবাদ দেওয়া সমাজের প্রচলিত রিতী হয়ে গেছে।

সন্তান না পাওয়া না হওয়া যে কি কস্টের তা একমাত্র ভুক্তভুগী বোঝে তারউপর তাকেই শুনতে হয় বিভিন্ন কটু কথা।

আল্লাহ সবার নেক নিয়ত পূরন করুন।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৪৩

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ মোঃ মাইদুল সরকার ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।

একটি সন্তানহীন নারীর যে কি কষ্ট তা সেই বুঝে। আর তার সাথে সাথে যখন সমাজের বাকী সবাই তার দিকে ,তার অক্ষমতাকে লক্ষ্য করে তার দিকে করুনার চোখে তাকায় বা তাকে নানা ধরনের অপবাদ দেয়,তখন আসলে জীবনটাকে অর্থহীন মনে হয়।

আল্লাহ সকল নারীকে নেক সন্তান দান করুন।

২| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৫০

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি বলছেন, " বিবাহের পর, স্রষ্টার দয়ায়, নারী গর্ভবতী হন"

-ইহা ভুল ধারণাল স্রষ্টা নয়, স্বামীর সাথে মিলনের কারণে নারী গর্ভবতী হয়ে থাকেন।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৫২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।


স্বামী / স্ত্রীর যৌন মিলন একটি স্বাভাবিক ক্রিয়াকাণ্ড বা কার্যকলাপ। স্বামী / স্ত্রী কেবল চেষ্টা করতে পারে একটি সন্তানের জন্য ।মিলনের পর গর্ভধারনের জন্য যে সব উপায়-উপকরন দরকার তার সব কিছুই এক অদেখা শক্তি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।যেখানে তাদের উভয়ের কোন ভূমিকাই থাকেনা। সেই অদেখা শক্তিই সৃষ্টিকর্তার শক্তি বা সৃষ্টিকর্তা।

আর সন্তান হওয়া-না হওয়া মানে ফলাফল সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর উপর নির্ভর করে।এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বা সন্দেহের অবকাশ ও নেই।তা আপনি-আমি যেভাবেই ব্যাখ্যা করি।

৩| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:০২

চাঁদগাজী বলেছেন:



বিয়ের আগে ও স্বামীহীন যেই পরিমাণ নারী গর্ভবতী হচ্ছেন, উহাতে আল্লাহের দয়া কিভাবে কাজ করছে?

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৫৬

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: "অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ,
তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সম দাহে"

বিয়ের আগে কিংবা স্বামীহীন নারী যদি গর্ভবতী হয় এ পাপ ।আর এ জাতীয় পাপের জন্য নর-নারী উভয়ের জন্য দুনিয়া এবং আখেরাতে রয়েছে চরম শাস্তি।

৪| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:২৮

নেওয়াজ আলি বলেছেন: আপনি পুরুষ নিয়ে লিখেন । পুরুষ চোর, বাটপার, ঘুষখোর, সুদখোর‘ মদখোর ,জুয়াড়ি, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ নিয়ে লিখুন!

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:০১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।

ভবিয্যতে হয়ত লিখব ভাই ।নারী-পুরুষ বিবেচ্য বিষয় নয়।

আমি আসলে "মানব জীবন" নিয়ে মানে জীবনের শুরুর আগে থেকে শেষের পরের সময় পর্যন্ত লিখতে চাচছি।আর ধারাবাহিক ভাবে যখন যে বিষয় আসবে ( নারী-পুরুষ) তাই লিখব।তাতে কোন পর্বে হয়ত নারী প্রাধান্য পাবে আবার কোন পর্বে পুরুষ ,এই যা।

৫| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:০১

রানার ব্লগ বলেছেন: নারী জীবনের ব্যার্থতা হোল সন্তান ধারনের অক্ষমতা

এটা নারীরাই বলে , যেখানে নারী তার অক্ষমতার স্বিকারুক্তি নিজেই করে সেখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তো সুযোগ নিবেই ।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:০৬

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রানার ব্লগ ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।

আসলে যে কোন অক্ষমতাতেই মানুষ শুধু মানুষের সমালোচনা করে কিন্তু তারা কোন সমাধান দেয়না বা দিতে পারেনা।সমালোচনা হয়ত কিছু জায়গায় ভাল কারন তাতে সমাধানের পথ মিলে কিন্তু সন্তানহীন নারীকে যে সমালোচনা করা হয় আমাদের সমাজে তা মেনে নেয়া কিংবা মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়।

কারন, কেউ তার মনের প্রতি বা তার কষ্টের প্রতি খেয়াল করেনা ।সবাই তার সন্তানহীনতাকেই বড় করে দেখে থাকে ।

৬| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৪৩

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: আমি লক্ষ্য করেছি আদিতে অনেক ধনী পরিবার, জমিদার এরা সন্তানহীন থাকতো। বর্তমানে মনে হয় সন্তানহীন দম্পতি একেবারেই কমে গেছে।

মাস কয় আগে আমার পরিচিত একজনের বাচ্চা হলো বিয়ের ১৫ বছর পরে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়নি।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ মরুভূমির জলদস্যু ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।

একসময় ধনী বা জমিদার পরিবার গুলোতে সন্তানহীন নারী বেশী থাকতো এটা ঠিক।তার পিছনে অনেক গুলি কারন ছিল। যেমন - জমিদার রা বা তাদের সন্তানরা অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে করত আবার এদিকে তাদের রক্ষিতা,বাঈজী এবং মাদকময় জীবনের সহ নানা অসামাজিক কাজের কারনে বেশীরভাগেরই সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলত।

এখনো ধারনা করা হয় যে , সারা দুনিয়ায় প্রায় ১০/১২ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভুগছে।তবে আশার কথা, উন্নত দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও এখন বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি বিদ্যমান এবং এর চিকিৎসার মাধ্যেমে বন্ধ্যাত্ব সমস্যার ভূক্তভোগী অনেক দম্পতি ও বাবা-মা হতে পারছে।

৭| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৫৬

চাঁদগাজী বলেছেন:




আপনি ব্লগারদের বেদুইন বানানোর মত গরুর রচনা লিখছেন।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ভাই,ব্লগার রাও মানুষ এবং গরু একটি উপকারী প্রাণী। তাই গরু সম্পর্কে জানলে লাভ না থাকলে কোন লোকসান ও নেই।

আর ,আপনাকে কি দাদাদের ভূতে তাড়া করছে বা ধরেছে কিনা বুঝতে পারছিনা ? কারন,দাদারা যেমন গরুর চনা পান করচে বা গরুর গু ( গোবর ) এর কেক তৈরী করছে ,গরুর দেখভালের জন্য গোশালা বানাচছে এবং গরুমন্ত্রক ও তৈরী করছে। মানে সব কিছুতে গরুতে গরুময় ।আর এসবের মাঝে মানুষ মূল্যহীন ।

ঠিক তেমনি আমার মনে হয় ,আপনি এখন সবকিছুতে গরুর প্রতিচছায়া দেখতে পান।লক্ষণ ভাল মনে হইতেছেনা। পাগলার (ট্রাম্পের) দেশে আছেন ।ভয় হচছে,এই বয়সে আবার না পাগলায় (ট্রাম্প) ভর করেছে আপনার উপর।তাহলে ত তাড়াতাড়ি ডক্টর (পাগলের) এর কাছে যেতে হবে।

৮| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫১

নীল আকাশ বলেছেন: এইদেশে নারীদের সবচেয়ে বড় শত্রু নারীরাই। নারীরাই নারীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নীল আকাশ ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।

এটা আসলেই সত্যি যে , পুরুষের তুলনায় নারীরাই নারীদের বেশী সমালোচনা করে।আর কোন একটা উপলক্ষ বা নেগেটিভ বিষয় পেলে ত কথাই নেই।

তার পরেও দোষে-গুনে মিলেই মানুস।তা সে নর কিংবা নারী যেই হোক।তবে আমাদের সবারই এ জাতীয় বিষয় সহানুভুতির সাথে দেখা এবং কাউকে মানষিক কষ্ট দেয়া উচিত নয়।

৯| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



চাঁদগাজী, নীল আকাশ, নেওয়াজ আলী যথার্থ মন্তব্য করেছেন। আপনি গরু রচনা লেখার চেষ্টা করেছেন। রচনাতে ১০ নম্বরে ৪.৫ পেয়েছেন। জিপিএ ফাইভ পেতে ভালো কিছু আশা করছি।

আপনি একক নারী নিয়ে যখন লেখালেখি করবেন তখন অবশ্যই অবশ্যই নারী পুরুষ বিবেচ্য বিষয়। তখন নারী পুরুষ বিবেচ্য বিষয় না! - আপনি এ ধরনের কথা আর বলতে পারেন না। কারণ, আপনি ও আপনার লেখা পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। নারী পুরুষ আপনি আপনার লেখার মাধ্যমে আলাদা করার চেষ্টা করেছেন।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৩

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ ঠাকুরমাহমুদ ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য।

অন্তত:পক্ষে পাস মার্ক দিয়েছেন তার জন্য শুকরিয়া।

আর লিখার বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক / সম্পর্কীয় বিষয় আসবে । সেথায় নর-নারী বিবেচ্য বিষয় নয়।নর-নারী উভয়েই দুটি আলাদা
সত্মা এবং দুজনের মানষিকতা আলাদা।এখানে পক্ষপাতের কোন সুযোগ নেই ।

১০| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আপনার কেনো এমন মনে হয়েছে সন্তান না হওয়ার জন্য একমাত্র নারীদের কথা শুনতে হয়, একমাত্র নারীই দায়ী! আপনি পুরুষ হয়ে আপনার জানার কথা একজন পুরুষ কি পরিমান কথা শোনেন, কি পরিমান লাঞ্চনা গঞ্জনা দিয়ে তার জীবন অতিবাহিত হয়। যদি না জেনে থাকেন জানার চেষ্টা করুন। জানতে তো অসুবিধা নেই।

নিঃসন্তান নারীর চেয়ে নিঃসন্তান পুরুষের জীবন ভয়াবহ ভয়ঙ্কর।


১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ঠাকুর মাহমুদ ভাই, আবারও আসার জন্য এবং মন্তব্য এর জন্য ধন্যবাদ।৷ পিতৃত্ত কিংবা মাতৃত্ত দুটাই একদিকে যেমন আনন্দের তেমনি যদি নর- নারী কেউ এ থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তা চরম কস্ট ও বেদনার উভয়ের জন্য। আর এর জন্য আসলে কে দায়ী বা কেন এ অসহায়ত্ব তার যেমন সঠিক জবাব নেই,তেমনি উভয়ের কস্ট ও মানষিক বেদনার ও কোন উপশম নেই।৷৷ উভয়েই নানারকম কস্টে ভোগে। নারী ঘরে ও পরিবারে আর পুরুষ বাইরে।

১১| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৩০

নীল আকাশ বলেছেন: @ঠাকুর মাহমূদ ভাইঃ নিঃসন্তান নারীর চেয়ে নিঃসন্তান পুরুষের জীবন ভয়াবহ ভয়ঙ্কর। একটা ভাল গল্পের প্লট এসেছে মাথায়। আপ্নার জন্য লিখে দেব।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নীল আকাশ ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য। আসলে এই বিষয়টিই বেদনার। তা নর-নারী যেই হোক। লিখে ফেলুন। অপেক্ষায় ।

১২| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:০০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




নীল আকাশ ভাই, আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, আপনি লিখুন।

মোহামমদ কামরুজজামান ভাই, নারী পুরুষ আলাদা করাই হচ্ছে সমস্যা তৈরি করা। পুরুষ ছাড়া নারী অচল, নারী ছাড়া পুরুষ অচল। - একদম অচল পয়সা।

নারীবাদী হয়ে নারী পুরুষ বৈষম্য কখনো কোনো ভালো ফলাফল আসবে না। আমার দেখা নারীবাদী কখনো কোনো নারীর সুন্দর জীবন দিতে পারেনি। তারা নারীর জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।


১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ ঠাকুর মাহমুদ ভাই, প্রতিমন্তব্য এর জন্য এবং চরম সত্য একটি কথার জন্য। আসলে নর- নারী আলাদা কোন সত্তা নয়। উভয়ের মিলিত রুপই হল মানব জীবন। আর এখানে উভয়ে উভয়ের পরিপুরক এবং দুখে দুখি এবং সুখে সুখী হওয়ার মাঝেই জীবনের সুখ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।৷৷ আর যখন একে অন্যের প্রতিযোগি হয় তখন সংসার তথা জীবন নরক হয়ে যায় এ চরম সত্য।৷৷৷ সবশেষে, নারীবাদ বা পুরুষ বাদ নয়, মানবতা বাদের জয়ই হয় জীবন এ। আর তাই মানবিকতার কোন বিকল্প নেই।

১৩| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৩

নেওয়াজ আলি বলেছেন: প্রিয় কামরুজজামান ভাই ঠাকুর মাহমুদ ভাই এক সময় লেখক তৈরীর কারিগর ছিলেন। যায় যায় দিনের বিশেষ সংখ্যার লেখা নির্বাচক ছিলেন । উনার পরামর্শ অবশ্যই নজরে রাখবেন।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নেওয়াজ আলী ভাই, আপনার মন্তব্য ও তথ্যের জন্য। "যায় যায় দিনে"র চরম ভক্ত ছিলাম একসময়। যায় যায় দিনের ভালবাসার সংখ্যা কিংবা বিশেষ সংখ্যা গুলো ছিল অন্যরকমের কিছু আমার কাছে। আর শফিক রহমান,লাভ লেইন,ভ্যালেন্টাইন ডে এসব তারুণ্যের ব্যাপারগুলই সমাথ' ক হয়ে গিয়েছিল একসময় যায় যায় দিনের সাথে। ভাল লাগল আপনি এমন একটা তথ্য শেয়ার করার জন্য।

১৪| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৮

সোহানী বলেছেন: এ যুগে এসেও কি এ ধরনের মানসিক টানাপোড়ন আছে? আমার পরিচিত কয়েকজনেরই সন্তান নেই। তাদেরকে এমন কঠিন বিড়ম্বনায় পড়তে দেখি না। আর চিকিৎসা শাম্ত্র এখন এতো উন্নত যে এ নিয়ে হতাশ হওয়ার অবকাশ নেই বলতে গেলে।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৪২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ বোন সোহানী , আপনার মন্তব্যের জন্য।

সভ্যতার যতই উন্নয়ন ও অগ্রগতি হউক, মানুষ যতদিন জীবিত থাকে ততদিন তার মানষিক টানাপোড়ন ও থাকবে। তবে এটা ঠিক যে, সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে মানষিক টানাপোড়নের ধারাও কমে যাচছে।তার সাথে শিক্ষাও মানুষের জীবনে অনেক পরির্বতন আনছে।

আমাদের আলোচ্য বিষয়েও সেরকম।আগে যেখানে হয়ত সামাজিক ভাবে অনেক সমস্যা মোকাবিলা করতে হত ,এখন সে রকম পরিস্থিতি হয়ত নেই কারন এখন মানুষে মানুষে সম্পর্ক অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে।তবে সন্তানহীন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উভয়েরই মানষিক টানাপোড়ন থাকে যদিও বাইরের মানুষ সেভাবে না বললেও।

যদিও উর্বরতা বিষয়ক চিকিৎসা শাম্ত্র এখন অনেক উন্নত তবে এটাও সত্যি যে তা বেশ ব্যয়বহুল অন্তত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে।তবে এ বিষয়ক চিকিৎসার ফলে অনেকেই মা-বাবা হতে পারছে এটা ঠিক ।

১৫| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো একটি বিষয় নিয়ে সুন্দর পোষ্ট দিয়েছেন। লেখা ভালো হয়েছে, বেশ সাজানো গোছানো।

আমার এক বন্ধুর কথা বলি- সাত বছর বিয়ে হয়েছে। বাচ্চা হয় না। এর মধ্যে তিন বার মিসক্যারেজ।
যাই হোক অবশেষে বাচ্চা হয়েছে।
বন্ধু বলল, এই সাত বছর আমি যতটা না বদলেছি, বাচ্চা হওয়ার পর একদিনে আমি তার চেয়ে বেশী বদলে গেছি। এখন মনে হচ্ছে আমার সংসার আছে। জীবন টা অন্যরকম হয়ে গেছে।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৫৪

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য সাথে লেখা ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল,শুকরিয়া।

সেটাই ভাই,যারাই এ সমস্যায় পড়েছে বা ভোগ করেছে বা করছে তা সে অস্থায়ীভাবে কিংবা স্থায়ীভাবে তারাই বুঝে তা কতটা মানষিক কষ্টকর ও যন্ত্রণাদায়ক।

আর একটি বাচচা একটি পরিবারের সেতুবন্ধন স্বরুপ। বিয়ের পর কিছুদিন যদিও সকল স্বামী / স্ত্রীই কিছুদিন নিজেরা একা একা একসাথে থাকতে ভালবাসে তবে ৪/৫ বছর পর থেকে নিজেদের মাঝে আরেকজনকে কামনা করে ।সেটা হল সন্তান।আর সন্তান যখন না থাকে বা হয়না তখন আসলে জীবন-সংসার নিরর্থক মনে হয়।সন্তান হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জীবনধারাও পালটে যায়। তখন সবকিছুই তাদের সন্তানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।

১৬| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৪:৪৪

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: নারী সন্তান চায় তার নিরাপত্তার কথা ভেবে।তার নিরাপত্তার গ্যারান্টি থাকলে এভাবে হয়তো চাইতো না।যেটা উন্নত রাষ্ট্রে আছে।এখানে অনেক সন্তানহীন নারী আছে আবার কুমারী মাতা ও আছে।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২৩

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ নুরুলইসলা০৬০৪ ভাই,আপনার মন্তব্যের জন্য ।

নারী শুধুই তার নিরাপত্তার জন্য সন্তান চায় এটা বোধ হয় ঠিক নয় । তবে সংসার জীবনের একটা সময় পার হলে সন্তান না হলে নারী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এটা ঠিক।উন্নত রাষ্ট্রের মত সুযোগ-সুবিধা থাকলে নারী শুধু সন্তানের জন্যই নয় সব বিষয়েই নিরাপদ বোধ করত।
সব সমাজেই সন্তানহীন নারী রয়েছে তবে আমাদের দেশে কুমারী মাতা এখনো গ্রহনযোগ্যতা পায়নি বা পাবার সম্ভাবনাও নেই।

১৭| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৫:৫০

কবিতা ক্থ্য বলেছেন: সুন্দর বিষয়ে পোস্ট।
কিছু বিষয়ে দ্বিমত বা কনফিউশন থাকলেও এই বিষয়ে আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ কবিতা ক্থ্য, আপনার মন্তব্যের জন্য ।

সব বিষয়ে সবাই একমত হবে এটা আশা করা বোকামী এবং সবকিছুর পরেও কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের প্রত্যেকেরই বিভ্রান্তি থেকে যায়। আর এ জন্যই দুনিয়া এত সুন্দর এবং নতুন নতুন জিনিষ আবিষ্কার হচছে মানব জাতির কল্যাণে।

সবশেষে,আপনার এ সুন্দর উপলব্ধি জন্য আবারো আপনাকে ধন্যবাদ।

১৮| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। কারন আপনি আমার মন্তব্যের সুন্দর উত্তর দেন।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৫২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: আপনাকও আন্তরিক ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই।

আবার আসার জন্য এবং প্রতিমন্তব্যের জন্য।

১৯| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৩৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: লেখার সারাংশ ঠিক আছে। কিন্তু সংক্ষেপে না বলে অনেক বড় করে ফেলেছেন। সন্তান না থাকার সমস্যা/কষ্ট শুধু মেয়েদের না। যদিও মেয়েদের ক্ষেত্রে এই কারণে নির্যাতন, নিপীড়ন হয় যা পুরুষদের ক্ষেত্রে হয় না। তবে পুরুষরা অনেক মানসিক কষ্টে থাকে। আপনি আপনার লেখায় পুরুষদের ব্যাপারটাও লিখতে পারতেন। আগের একটা পোস্টে আপনি শুধু নারীদের যৌন জীবনের সমালোচনা করেছিলেন। ঐ পোস্টে একই সাথে পুরুষদের যৌন জীবনের সমালোচনা করলে আপনি ঐ পোস্টে এত বিরূপ মন্তব্যের সম্মুখীন হতেন না। নারী,পুরুষ উভয়ের ভূমিকা যে সব বিষয়ে থাকে সেই সব ক্ষেত্রে শুধু পুরুষ বা শুধু নারীর পক্ষে বা বিপক্ষে না লিখে উভয়ের দায় দায়িত্ব সম্পর্কে লিখলে লেখাটা নিরপেক্ষ হয়।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ সাড়ে চুয়াত্তর ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য ।

আবারো ধন্যবাদ আপনার পরামর্শের জন্য। সন্তানহীনতার কষ্ট স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই এটা একদম সত্যি। তবে নারীরা যেভাবে এই ইস্যুতে অসহায় হয়ে পুরুষরা ততটা হয়ত হয়না তাই পুরুষের ব্যাথাও কম নয়।আর এই ব্যাথা আসলে উভয়কেই কুড়ে কুড়ে খায় জীবনভর।

আর এ জন্যই আমি এ লিখাটা সন্তানহীন নর- নারী উভয়ের জন্যই উৎসর্গ করেছি। লেখাটা যেহেতু " মাতৃত্ব " নিয়ে তাই নারীর কথা হয়ত বেশী এসেছে ।যখন " পিতৃত্ব " নিয়ে লিখব তখন পুরুষের কথা বেশী আসবে ভাই।

২০| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:২০

শায়মা বলেছেন: মাতৃত্ব অবশ্যই আনন্দময় অভিজ্ঞতা। তাই বলে যা পাওয়া হয়না বা হয়নি তাই নিয়ে নিজেকে ব্যর্থ ভেবে জীবন নষ্ট করে ফেলবার কারণ নেই।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:০৭

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ শায়মা বহিন , আপনার মন্তব্যের জন্য ।

সকল নারীর জন্যই মাতৃত্ব এক বেদনাবিধুর আনন্দময় অভিজ্ঞতা ।মাতৃত্বের জন্য নারীকে অনেক কষ্টকর ও যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হতে হয়। তারপরেও নারীমাত্রই এ কষ্ট ও যন্ত্রণা হাসি মুখে মেনে নেয়।আর এর ফলে সংসার পূর্ণতা পায় এবং মানব জাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়।

তবে যাদের সন্তান নেই বা হয়না তাদেরও কষ্ট-যন্ত্রণা আছে যা সন্তান জন্মের কষ্ট-যন্ত্রণা থেকে ভিন্নতর।সন্তানহীনতার কষ্ট স্বামী-স্ত্রী তথা উভয়কেই কুরে কুরে নিঃশেষ করে দেয় এটা একদম সত্যি।সন্তানহীনতার ফলে হয়ত জীবন নষ্ট হয়না তবে না পাওয়ার একটা বেদনা সারাজীবন বয়ে বেড়ায় এটাও সত্যি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.