নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুবই সাধারন একজন মানুষ । পড়া যার নেশা । পড়ার এবং জানার আশায় ----

মোহামমদ কামরুজজামান

মোহামমদ কামরুজজামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

" আল কোরআন " সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী গ্রন্থ এবং মানব জাতির মুক্তির আলোকবর্তিকা।(আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব ৭)।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:৫৯


ছবি - shadow.com.bd

মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন ফেরেশতা হযরত জীবরাঈল (আঃ) কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর মাধ্যমে পবিত্র হেরা পর্বতের গুহায় এক পবিত্র গ্রন্থ নাযিল করেছিলেন। যা এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে সর্বাধিক পঠিত এবং সেই গ্রন্থের নাম আল কোরআন।যদি আমরা আল কোরানের ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখব - আল কোরআন এমন একজন মানুষের উপর নাজিল হয়েছিল যিনি -

১।মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এমন একজন মানুষ - যাঁর শুরুটাই শূন্য। পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার আগেই পিতৃহারা। ছয় বছর বয়সে মাতৃহারা। আট বছর বয়সে আশ্রয়দাতা পিতামহকে হারান। এরপর চাচার কাছে লালিত। পড়াশোনার সুযোগবঞ্চিত কৈশোর কেটেছে মরুভূমিতে মেষ চরিয়ে।
২। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এমন একজন মানুষ - যিনি নিরক্ষর ছিলেন। পড়তে বা লিখতে পারতেন না।যাকে পরবর্তীতে আল্লাহ স্বীয় কুদরতে জ্ঞানদান এবং জ্ঞানী করেছেন।
৩। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এমন একজন মানুষ - যিনি কখনো কোনো কবিতা লেখেন নি। কোথাও ভাষণ দেন নি। কোথাও ওয়াজ করেন নি। কবি, বাগ্মী বা ধর্মবেত্তা হিসেবে যাঁর কোনো পরিচিতি ছিল না।
৪। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এমন একজন মানুষ - যিনি দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, গবেষক, সমাজবিজ্ঞানী, মহাকাশবিজ্ঞানী হিসেবেও যিনি খ্যাতিমান হন নি।
৫।মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এমন একজন মানুষ - যিনি ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত পরিচিত ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় সদাচারী ভালো মানুষরূপে, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে, একজন সত্যবাদী মানুষরূপে।


ছবি - sangbadchorcha.com

৪০ বছর বয়সে তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত হতে শুরু করল (মহান আল্লাহপাক প্রদত্ত ও নাজিলকৃত ) জীবনের বাঁকবদলকারী বাণীমালা, যা আরবি ভাষায় সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপিত। তিনি বললেন," আল্লাহ এই বাণীমালা তাঁর ওপর নাজিল করেছেন"। আরবি ভাষার সকল কবি-সাহিত্যিক স্বীকার করলেন, " না - এর মতো কোনো পঙক্তিমালা তাদের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়"। শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে গেল কিন্তু এর মতো কোনো পঙক্তিমালা কারো পক্ষেই রচনা করা সম্ভব হলো না।

মানুষের এক জীবনে যা দরকার, তার সবই সাজানো রয়েছে আল কোরআনের পরতে পরতে। সুস্থ সুন্দর সুখী পরিতৃপ্ত জীবনের জন্যে যা প্রয়োজন, আলকোরআনের পাতায় পাতায় রয়েছে তারই দিক-নির্দেশনা। পবিত্র কোরআনে মানব জীবনের সব দিকনির্দেশনার বর্ণনার পাশাপাশি মানবজাতীর প্রতি উপদেশ স্বরুপ বেশ কিছু আয়াত আছে।আসুন আমরা সেগুলো সম্পর্কে জানি -


ছবি - samakal.com

আল কোরআনের উপদেশাবলী

১। কোমলভাষী হও,রূঢ় ভাষা ব্যবহার কোরো না।(সুরা আলে ইমরান, আয়াত - ১৫৯)।

"হে নবী! আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা করুন। যারা আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তাদের তিনি ভালবাসেন।"

২। এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত - ১৯১)।

"জ্ঞানী তারাই যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিনের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তা করে এবং বলে, (বলে,) ‘হে আমাদের রব! আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি।আপনি অত্যন্ত পবিত্র। আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন"।

৩। নারী ও পুরুষ উভয়ই তাদের কৃতকর্মের সমান প্রতিদান পাবে। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত - ১৯৫)।

"তারপর তাদের পালনকর্তা তাদের দোয়া (এই বলে) কবুল করে নিলেন যে, আমি তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর পরিশ্রমই বিনষ্ট করি না, তা সে পুরুষ হোক কিংবা স্ত্রীলোক। তোমরা পরস্পরে এক। তারপর যারা হিজরত করেছে, তাদেরকে নিজেদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি উৎপীড়ন করা হয়েছে আমার পথে এবং যারা লড়াই করেছে ও মৃত্যুবরণ করেছে, অবশ্যই আমি তাদের উপর থেকে অকল্যাণকে অপসারিত করব। এবং তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতে যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত। এই হলো বিনিময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম বিনিময়"।

৪। মৃতদের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যদের ভেতর বণ্টন করতে হবে এবং সম্পদের উত্তরাধিকারে নারীদেরও সুনির্দিষ্ট অংশ রয়েছে।। (সুরা নিসা, আয়াত - ৭)।

পিতা-মাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, সেটা অল্পই হোক বা বেশীই হোক, (নর-নারী প্রত্যেকের জন্য) নির্ধারিত অংশ রয়েছে ।

৫। এতিম - অনাথের সম্পদ আত্মসাত করোনা ।(সুরা নিসা, আয়াত - ১০)।

"যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পত্তি গ্রাস করে, নিশ্চয়ই তারা তাদের পেট আগুন দিয়ে পূর্ণ করছে। শীঘ্রই তারা জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে"।



আল্লাহ পাক আমাদেরকে আল কোরআন জানার-বুঝার এবং আল কুরআনের আলোকে জীবন গড়ার তওফিক দান করুন


চলবে -
===============================================================

পূর্ববর্তী পোস্ট -

আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ৬ Click This Link
আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ৫ Click This Link
আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ৪ Click This Link
আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ৩ Click This Link
আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ২ Click This Link
আল কোরআনের উপদেশাবলী - পর্ব - ১ Click This Link

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:০৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: খুব ভালো লেগেছে পোস্টটা। আমাদের রসুল (সা) ছিলেন সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ (রাহমাতুল্লিল আল- আমিন)।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ সাড়ে চুয়াত্তর ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য এবং আপনার কাছে পোস্ট ভাল লেগেছে জেনে আমারো খুব ভাল লাগ।শুকরিয়া ভাই।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে মহানবী (সঃ) এর নীতি-আদর্শ অনুসরন করার এবং আল কোরআনের আলোকে জীবন গড়ার তওফিক দান করুন।

২| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৩৯

চাঁদগাজী বলেছেন:




আমাদের নবী(স: ) যখন জীবিত ছিলেন, তখন যতটুকু কোরান লেখা হয়েছিলো, সেটা তো উনি পড়তে পারতেন না; উনাকে পড়ে শোনানো হতো নিশ্চয়ই!

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য ।

যখনই কোন কোরআনের আয়াত নাজিল হত ,তখনই হযরত জীবরাইল (আঃ) তা আমাদের নবী হযরত (সঃ) কে মুখস্ত করাতেন এবং তারপর নবী (সঃ) সেই আয়াত সাহাবীদের তেলাওয়াত করে শুনাতেন ও মুখস্ত করাতেন।

আর কোরআন নবী (সঃ) এর আমলে এককভাবে সংরক্ষণ হয়নি এটা সত্য তবে নানা ভাবে (লিখিত/মুখস্ত) তা ঠিকই সংরক্ষিত হয়েছে ।আর কিতাব আকারে হযরত ওসমান (রাঃ) এর সময়ে পরিপূর্ণ ও একক ভাবে লেখা সম্পূর্ণ করা হয়।

৩| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৫৬

এভো বলেছেন: সরা নিসা আয়াত ৮৯
তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

এই আয়াত পড়ে আমি যেটা বুঝলাম--- সেটা হোল কাফের (ইহুদি, নাসা, মুর্তিপুজারী) রা চায় মুসলমানরা যেন তাদের বিশ্বাষ গ্রহন করে তাদের মত হয়ে যায় ।
এদের কে বন্ধু হিসাবে গ্রহন করা যাবে না যতক্ষণ তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে বা ইসলাম ধর্ম গ্রহন না করে ।
তারা যদি বিমুখ হয় মানে ইসলাম ধর্ম গ্রহন না করে তখন ---
তাদের যেখানে পাও পাকরাও কর বা আটক কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর , তার মানে তাদের ধর তারপর হ্ত্যা কর ।
এই কাফের গুলোকে বন্ধ বানা না এবং এদের সাহায্য নিবা না ।

আমি এই আয়াত পড়ে এই জিনিসটা বুঝলাম ।আপনি কি বুঝলেন জানাবেন ।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১০

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ এভো ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য ।

সুরা নিসা, আয়াত ৮৯ এ বলা হয়েছে, " তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না"।

ভাই,এ বিষয়ে আমি যা বুঝি তা হলো - কুরআনুল কারীমের কোন আয়াত ও তার হুকুম বুঝতে হলে পূর্বাপরের আয়াত, অবতীর্ণের প্রেক্ষিত, অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে অবগতি থাকা অত্যাবশ্যকীয়। অন্যথায় কুরআনের কোন আয়াতের হুকুম, ব্যাখ্যা বা মর্ম বুঝা সম্ভব নয়।

বর্ণিত আয়াতে এবং তাতে হুকুম অবতীর্ণ হয়েছিল মুনাফিকদের ক্ষেত্রে। যখন নবী (সাঃ) হিজরত করে মদীনায় চলে যান এবং তখন মুসলমানদের জন্য হিজরত করা ততটাই আবশ্যক ছিল যতটা আবশ্যক ছিল ইসলামের জন্য কালিমায়ে শাহাদাতের সাক্ষ্য দেয়া। কিন্তু মক্কায় তখন এমন কিছু মুনাফিক ছিল, যারা মদীনায় গিয়ে নবিজী (সাঃ) এবং সাহাবা (রাঃ) এর সামনে নিজেদের ঈমান যাহির করত আর মক্কায় ফিরে এসে মুশরিকদের সাহায্য করত এবং কীভাবে মুসলমানদের ক্ষতি সাধন করা যায় সে চক্রান্ত করত। তাই আল্লাহ সে সকল মুনাফিকের ব্যপারে হুকুম নাযিল করলেন, অর্থাৎ তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় (আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে হিজরত না করে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত অব্যাহত রাখে তাহলে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর।

তবে এ সকল মুনাফিকের মুক্তির জন্য আল্লাহ দুটি পথও বাতলে দিয়েছেন -

১। তবে যারা সে গোত্রের সাথে মিলিত হবে যাদের সাথে তোমাদের সন্ধিচুক্তি রয়েছে
২। অথবা তারা সরাসরি তোমাদের কাছে এ অবস্থায় আসবে যে তাদের অন্তর তোমাদের সাথে এবং তাদের স্বজাতির সাথে যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক।

এতএব, আয়াতে কারীমার মূল শিক্ষা এবং নির্দেশনা হল যদি তারা যুদ্ধ এবং চক্রান্ত থেকে নিবৃত্ত হয়, তাহলে তোমরা তাদেরকে হত্যা করো না। যেমন আল্লাহ তায়ালা পরবর্তী আয়াতে বলেন -

" কিন্তু তাদেরকে নয় যারা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ, অথবা যারা তোমাদের কাছে এমন অবস্থায় আগমন করে যখন তাদের মন তোমাদের সাথে বা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে সংকুচিত হয়। আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন তবে তাদেরকে তোমাদের উপর ক্ষমতা দিতেন ফলে তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। কাজেই তারা যদি তোমাদের কাছ থেকে সরে দাঁড়ায়, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের নিকট শান্তি প্রস্তাব করে তবে আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা অবলম্বনের পথ রাখেন নি"। (সূরা নিসা,আয়াত - ৯০)।

আল্লামা রাযী (রঃ) এ আয়াতের তাফসীরে লিখেন ," এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কোন বিধর্মী মুসলমানদের ওপরে আক্রমন না করলে তাদেরকে আক্রমন করার সুযোগ নেই"।

বর্তমান সময়ে ইসলাম ও মুসলমানের দুশমনরা কুরআনের উক্ত আয়াতের ভুল ব্যখ্যা করে ইসলাম ও মুসলমানদের সন্ত্রাসী সাব্যস্ত করতে চায়, মুসলমানদের নামে অপবাদ রটায় এবং নিজেদের দাবীর স্বপক্ষে উক্ত (সুরা নিসা, আয়াত ৮৯ ) আয়াতে কারীমাকে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে, তারা মূলত নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তা করছে। তারা বর্ণিত আয়াতের পূর্ববর্তী আয়াত বাদ দিয়ে লাফ দিয়ে এই আয়াতে চলে আসে এবং আবার এর পরবর্তী আয়াত (সুরা নিসা, আয়াত ৯০ ) যাতে সুন্দর সমাধান রয়েছে সেটাও উল্লেখ করে না। অতএব, আয়াতের পূর্বাপরের দিকে লক্ষ করলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এসব তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ফসল ছাড়া আর কিছুই নয়।




৪| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২৫

এভো বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার উত্তরের জন্য ।
আমার কাছে এখনো ব্যপারটা পরিস্কার হোল না ৪---৮৯ আয়াতে কাফেরদের কথা বলা হয়েছে মুনাফেকদের নহে কিন্তু আপনি মুনাফেকদের আচরনের কথা বলে উত্তর দিয়েছেন ।
আয়াতে বলা হচ্ছে কাফেরা (মুনাফেকরা নহে ) চায় মুসলমানরা যেন কাফের হয় -----------
ধন্যবাদ

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:০১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ এভো ভাই , আপনার প্রতিমন্তব্যের জন্য ।

ভাই , কাফের সেই ব্যক্তিকে বলা হয় যে বিশ্বজাহানের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তাআলাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আর যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহর পাশাপাশি অন্যের কাছে আত্মসমর্পণ করবে সে মুশরিক।

সে সময় এই দুই ধরনের (কেউ কেউ ঈমান এনেও ইসলামের দুশমনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত এবং ইসলামের ক্ষতি করার চেষ্টা করত ) মানুষরাই ইসলাম তথা মুসলমানদের বিরোধীদের উদ্দেশ্যে এ আয়াত নাজিল হয়েছিল।

মক্কার কাফেররা তখন মুসলমানদেরকে তাদের ইবাদাতের প্রাণকেন্দ্র মসজিদুল হারামে প্রবেশের অধিকার থেকে বাঁধা প্রদান করত। তারপর আল্লাহ তায়ালা নবী (সাঃ) কে পূর্ববর্তী উম্মতদের বাড়াবাড়ির কারণে তাদের যে পরিণতি হয়েছিল তা উল্লেখ করে তাদেরকে ভীতি প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। এ প্রসংগে আল্লাহ তায়ালা বলেন -
" আর তাদের কী বা গুণ আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না অথচ তারা মানুষকে মসজিদুল হারামে যেতে বাধা দেয়, যদিও তারা তার রক্ষক নয়। মুত্তাকীগণ ছাড়া অন্য কোনও লোক তার রক্ষক হতেই পারে না। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক (এ কথা) জানে না"। (সূরা আনফাল,আয়াত - ৩৪)।

ভাই ,এখানে একটা জিনিষ দেখেন,এ আয়াতে ঐ সকল কাফেরদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যারা ইসলামের ক্ষতি সাধনের জন্য তাদের অর্থ ব্যয় করত, মুসলমানদেরকে তাদের মসজিদে প্রবেশে বাঁধা দান করত - এমন ক্ষেত্রে তাদের সাথে যুদ্ধ করা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে।

এখানে সাধারণ বিধর্মীদের ব্যপারে বলা হয়নি বরং যারা সন্ত্রাসী বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী তাদের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। সন্ত্রাসী যেই হোক তাকে প্রতিহত করতে কে না বলে? তবে তারা যদি আগেই এ ধরণের অন্যায় কাজ থেকে নিবৃত্ত হয় তাহলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং পূর্বের কৃত অপরাধও মাফ করে দেওয়া হবে।দেখেন একানে কতটা উদার নীতির কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা উক্ত আয়াতে কোন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা বা কারো বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে যুদ্ধ করতে নির্দেশ দেননি। বরং কারো অপরাধ প্রমাণিত হলে মানব জাতির কল্যাণেই এ বিধানটি দিয়েছেন।

এখানে আরকটি বিষয় ভাই, নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ব্যপারে ইসলাম বড় কঠোর। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করাকে গোটা মানবজাতিকে হত্যার নামান্তর বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিপরীতে একজন মানুষের প্রাণ রক্ষা করাকে গোটা মানব প্রাণ রক্ষা করার শামিল বলে ব্যক্ত করেছেন।

এ প্রসংগে আল্লাহ তায়ালা বলেন, " এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলে র প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে"।(সূরা মায়িদা, আয়াত - ৩২)।

ভাই , কাফের-মুশরিকদের ব্যাপারে আল কোরানের নির্দেশনা এবং নিরপরাধ মানুষ হত্যার ব্যপারে কুরআনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন।

৫| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৪৪

হাবিব বলেছেন: কোরআন থেকে যারা উপদেশ গ্রহন করেন তারাই উত্তম।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:১১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ হাবিব ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য ।

আল কোরআন তাদের জন্যই যারা আল্লাহকে ভয় করেন এবং তার আদেশ মেনে চলেন ও নিষেধবালী পরিত্যাগ করেন।আল কোরআন মানুষকে হিদায়াত ও সত্যের পথনির্দেশ করে।আল কোরআন মানুষকে ভাল কাজ করতে বলে এবং খারাপ কাজ পরিত্যাগ করতে বলে।

কাজেই একথা বলা যায় যে, আল কোরআন তাদের জন্যই যারা কল্যাণকে মনে-প্রাণে গ্রহণ করতে চায় আর অকল্যাণকে বর্জন করতে চায়।

৬| ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:১৮

কামাল১৮ বলেছেন: আল্লাহর সব বানিই শ্রেষ্ঠ,কিছু আবার সর্ব শ্রেষ্ঠ হয় কি ভাবে।আল্লাহ কিন্তু কিছু ভুন বানিও দিয়েছেন পরে অবাক সংশোধন করেছেন।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:০১

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ কামাল১৮ ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য ।

আল্লাহপাক সকল ভূল ও সন্দেহের উপরে।দুনিয়ার প্রচলিত সকল ধর্ম (আপনি-আমি তাকে আল্লাহ-ঈশ্বর-ভগবান-বিশ্ববিধাতা ) যেই নামেই ডাকিনা কেন তিনি সব কিছুর উপরে।আল্লাহ সম্পর্কে এ ধরনের ধারনা (তিনি ভুল বানি দিয়েছেন) পোষন করা একজন ধার্মিক তথা যেকোন ধর্মের অনুসারীদের জন্য গ্রহনযোগ্য নয় এবং তাতে করে সেই ব্যক্তি ধর্মের মৌলিক বিষয় তথা ঈমান-আকিদা অস্বীকার করার ফলে তার ধর্ম থাকবে কিনা বা সে আসলেই ধর্মের অনুসারী কিনা (নাকি মুনাফিক) তাতেই সন্দেহ আছে। ,

তাদের প্রসংগে আল্লাহ বলেন,"আল্লাহ সম্পর্কে কি সন্দেহ আছে, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তোমাদের কিছু গোনাহ ক্ষমা করেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তোমাদের সময় দেন। তারা বলতঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ! তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার ইবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত। অতএব তোমরা কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ আনয়ন কর"। (সুরা ইবরাহিম, আয়াত - ১০)

৭| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:২০

রাজীব নুর বলেছেন: অনেক জ্ঞানী লোক কোরআন পড়ার পর নবাস্তিক হয়ে গেছেন। তা জানেন?

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নুর ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য


এ দুনিয়ায় এমন অনেক কিছুই ঘটে যা আমি-আপনি জানিনা এবং তার ব্যাখ্যাও হয়না।এখন আপনি যেটা বলেছেন, "আল কোরআন পড়ে অনেক জ্ঞানী নাস্তিক হয়ে গেছেন " - এটা আমি শুনিনি তবে তা এমন যে হতে পারেনা তাও নয়।

কারন -

১। আল কুরআন মূলতঃ তাদের জন্য যারা না দেখা আল্লাহকে বিশ্বাস করে,বিশ্বাস করে আসমানী কিতাব সমুহে,সকল নবী রাসুলের উপর এবং অদৃষ্ঠের ভাল-মন্দের উপর।
২।আল কুরআন তাদের জন্য যাদের জন্য আল্লাহপাক ক্ষমা ও হেদায়েত নির্ধারিত করে রেখেছেন।আর এটাও ঠিক ভাই, আল্লাহপাক সবার জন্যই ক্ষমা ও হেদায়েত নির্ধারিত করে রাখেন নি।

তাই যদি হত তাহলে সকল ধর্মেই স্বর্গ-নরক (বেহেশত-দোযখ) আছে বলা থাকত না । তাহলে সৃষ্টিকর্তা শুধু স্বর্গ বা বেহেশতই বানাতেন এবং দুনিয়ায় শুধু ভাল মানুষ তথা ভাল থাকত ।খারাপের কোন অস্থিত্ম দুনিয়ায় থাকত না।


৮| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:২৩

এভো বলেছেন: ভাই ,এখানে একটা জিনিষ দেখেন,এ আয়াতে ঐ সকল কাফেরদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যারা ইসলামের ক্ষতি সাধনের জন্য তাদের অর্থ ব্যয় করত, মুসলমানদেরকে তাদের মসজিদে প্রবেশে বাঁধা দান করত - এমন ক্ষেত্রে তাদের সাথে যুদ্ধ করা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে।

ভাই আপনি যে সব বিষয়ে নিয়ে এসেছেন -- সেগুলো কনটেক্টের বাহিরে জিনিস - মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া -- এই প্রসংগ এখানে আসলো কেন ?
এখানে কথা পরিষ্কার
কাফেররা চায় তোমরা কাফের হয়ে যাও -- এর মধ্যে সমস্যা কি ?
যদি সমস্যা থাকে -- তাহোলে মুসলমানরা চায় কাফেররা মুসলমান হয়ে যাক --- তাহোলে এটা চাওয়া তো একই বিষয় ।

এদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বারন করা হয়েছে যদি না মুসলমান হয় , যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহোলে তাদের ধর এবং হত্যা কর ।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: আবারো ধন্যবাদ এভো ভাই , আপনার প্রতিমন্তব্যের জন্য ।

শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক আমরা সারা জীবনভর করতে পারব তবে সমাধান মিলবেনা । সমাধানের জন্য তর্কের সাথে যুক্তি থাকতে হবে এবং ঈমান-আমলের সাথে সাথে ও ক্ষমা-হেদায়েত হেদায়েত মহান আল্লাহপাক কর্তৃক আমাদের জন্য নির্ধারিত থাকতে হবে।

মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে সঠিকভাবে ধর্মকে জানার - বুঝার তওফিক দান করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.