নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সম্পদহীনদের জন্য শিক্ষাই সম্পদ

চাঁদগাজী

শিক্ষা, টেকনোলোজী, সামাজিক অর্থনীতি ও রাজনীতি জাতিকে এগিয়ে নেবে।

চাঁদগাজী › বিস্তারিত পোস্টঃ

জ্বীনের বাদশাহ

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪



আমি তখন ষষ্ট শ্রেণীতে; ধান কাটা হয়ে গেছে; ছুটির দিন, পড়ন্ত বেলা, আমি উঠানে বসে পিঠা খাচ্ছিলাম; বাড়ীর আংগিনা থেকে সুন্দর গলায় গজল ভেসে আসছে; মাদ্রাসার লোকজন চাঁদা নেয়ার জন্য এসেছেন। আমি একটি টুকরীতে ধান নিয়ে কাছারীর সামনে এলাম; গজল গাচ্ছে মাদ্রাসার এক ছাত্র, আমার বয়সী হবে, অনেক লম্বা, দরিদ্র কাপড়চোপড়; আমাকে দেখে সে থামলো। অদুরে তার কয়েকজন সাথী ধানের টুকরীসহ বসে আছে।

-তোমার গলা অনেক ভালো, গানটান গাও? আমি প্রশ্ন করলাম।
-না, গান গাওয়া নিষিদ্ধ! গজল ভালো লেগেছে তোমার?
-মাদ্রাসা ছেড়ে স্কুলে চলে আস, তখন গান গাইতে পারবে।
-আমার বাবা নেই; স্কুলের বেতন দেয়ার ক্ষমতা নেই।

আমাদের বাড়ী থেকে ৪ মাইল দক্ষিণে এদের মাদ্রাসা। আমি ক্লাশ সেভেন, এইটে পড়ার সময় ছেলেটার সাথে বাজারে টাজারে দেখা হয়েছে অনেকবার; মাদ্রাসা শেষ করা হয়নি, পেটের দায়ে কৃষি মুজুর হয়ে গেছে। পরের বছরগুলোতে তাকে আর দেখিনি, তার কথা ভুলে গেছি।

তখন চাকুরী করি; একদিন খুব ভোরে কাছারীর সামনে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি সামনের রাস্তা দিয়ে অনেক লম্বা একজন যুবক বেশ গতিতে হেঁটে যাচ্ছে, গায়ে শুভ্র সাদা আলখাল্লা ও সাদা লুংগি, হাতে অস্বাভাবিক লম্বা লাঠি। আমি তাকিয়ে আছি, সে কোনদিকে না তাকিয়ে উত্তর দিকে চলে গেলো। নাস্তার সময় ছোটভাই থেকে জানলাম, ইনি 'জ্বীনের বাদশাহ' নামে পরিচিত, ছোটভাই আসল নামও জানে না; আমাদের বাড়ী থেকে ৫/৬ মাইল দক্ষিণে বাড়ী, ছোটকালে খুবই দরিদ্র ছিলো, ১৫/১৬ বছর বয়সে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলো, জ্বীনেরা নিয়ে গিয়েছিলো; ১১/১২ বছর পর ফিরে এসেছে; অনেক টাকার মালিক; বাড়ীর সামনে মসজিদ করেছে, বৃহশ্পতিবার রাতে উনার মসজিদে উনার কিছু অনুসারী একত্রিত হয়, জিকির ইত্যাদি করে, খাওয়া দাওয়া হয়, দোয়া খায়ের হয়; জ্বীন নাকি টাকা পয়সা দিয়ে যায়।

পুরো সপ্তাহ গ্রামের পর গ্রাম হেঁটে বেড়ায়; কারো সাথে কথা বলে না, মানুষের সাথে বসেও না, একাকী চলে। উত্তর দিকে যায় এক লোকের কবর জেয়ারত করতে, সেটা ৬/৭ মাইল হবে। ঘন্টা দু'য়েক পরে এই রাস্তা হয়ে ফিরে যাবে। আমি নাস্তা করে, আনুমানিক দেড় ঘন্টা পর সামনের রাস্তা ধরে ধীর গতিতে হেঁটে তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। ঠিকই দুই ঘন্টা পর, সে উত্তর দিক থেকে আসছে হন হন করে। আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছে, দৃষ্টি সামনে, আমার চোখের দিকে তাকায়নি। আমি চিনলাম, অনেক বছর আগের দেখা মাদ্রাসার সেই ছেলেটি। আমি বললাম,
-হ্যালো!
সে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো।
আমি নিজের নাম বলে হাড় বাড়িয়ে হ্যান্ডসেক করলাম।
সে হেসে বললো,
-আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি। তুমি আমাকে স্কুলে পড়তে বলেছিলে; আমি স্কুলে যেতে পারিনি, মাদ্রাসাও শেষ করতে পারিনি। তুমি কি কর?
-চাকুরী।

অনেকক্ষণ কথা হলো। তার লাঠিটি দেখার মতো, ৬/৭ সের ওজন হবে, মসৃন। আমি বললাম,
-এট বড় লাঠি কেন?
- এতে আমার ব্যায়াম হয়।

তার বাড়ীতে যাবার জন্য অনুরোধ করলো। তার নাম জানলাম।
-তোমাকে জ্বীনের বাদশাহ নামে জানে লোকজন।
-লোকজনের কথা বলিও না, আমাদের লোকজন যা মুখে আসে তাই বলে, ওরা ভেবেচিন্তে কিছু বলে না। আমার সামান্য আয় আছে, আমার আয় নিয়ে আমি কিছু বলি না, ওরা মনে করে যে, জ্বীনেরা আমাকে টাকা দেয়; তুমি নিশ্চয় আমাদের অশিক্ষিত মানুষদের বেকুবী বুঝ।

সে খুব করে বললো, আমি যেন তার বাড়ী যাই, গেলে খুবই খুশী হবে। সে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। আমি বাড়ী ফিরে এলাম, বাড়ীর অনেকই কাছারীর সামনে দাঁড়িয়ে দেখছিলো যে, আমি ওর সাথে কথা বলছি। ছোটভাই বললো,
-এই লোক তো রাস্তায় কারো সাথে কথা বলে না, আপনার সাথে কি নিয়ে আলাপ করলো?
-সাধারণ আলাপ, আমি স্কুলে থাকতে ওর সাথে আমার পরিচয় ছিলো।
-তার টাকা পয়সা নিয়ে আলাপ করেছে?
-সে নিজের থেকে আলাপ করেছে, তার সামান্য আয়ের পথ আছে, সে বললো!

মন্তব্য ৬৮ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৬৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৪০

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ,বেশ ,ভালো লাগলো ।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৪৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার দেখছি সবকিছুই ভালো লাগে; ভালো এটিচিউড!

২| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৪৩

মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: আমার একটা লাঠি আছে, হলিট্রি দিয়ে বানিয়েছিলাম। আরেটা আছে বেত দিয়ে দেশ থেকে বানিয়ে এনেছিলাম।

আপনি সত্য জানতে ভালোবাসেন। সত্য জানলে মন পবিত্র হয় এবং বাঁচতে কষ্ট হয় না।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৪৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


বেঁচে থাকাই আনন্দ, কষ্ট হবে কেন? সবাই বেঁচে থাকতে চায়

৩| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: জিন নিয়ে আপনি পোস্ট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:


মানুষ এখনো বেকুব রয়ে গেলো

৪| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৫

খোলা মনের কথা বলেছেন: গ্রামঞ্চলে যারা একটু মারফাতি, সুফি ভাব ধরে থাকে তাদের সাথে সকলে কথা বলতে সাহস পায় না। এগুলো সাধারন অশিক্ষিত মানুষের অজ্ঞতা আর ঐ ভাব ধরে থাকা মানুষের ভন্ডামি।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



অনেকেই সমস্যায় পড়ে, মানুষকে বেকুব বানিয়ে আয় করতে বাধ্য হয়।

৫| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৮

সুপারডুপার বলেছেন: অশিক্ষিত মানুষদের বেকুবী বুঝলাম। দেশে এখনও অনেক শিক্ষিত মানুষরাও বিশ্বাস করে জ্বীনেরা টাকা দিয়ে যায়।
শিক্ষিত মানুষদের বেকুবির কারণ কি?

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৫

চাঁদগাজী বলেছেন:



সঠিকভাবে না পড়েও অনেকেই ইনিভার্সিটিও শেষ করছে; বুয়েট থেকেও মোল্লা বের হচ্ছে; এগুলো সমাজে বেকুবের সংখ্যা বাড়াচ্ছে ক্রমাগতভাবে।

৬| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০১

মোঃ ইকবাল ২৭ বলেছেন: উনি এখন কোথায় আছেন? কেমন আছেন ?

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমি ঠিক জানি না, খবর নেবো।

৭| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৮

সোহানী বলেছেন: ইন্টারেস্টিং........

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১২

চাঁদগাজী বলেছেন:



এসব ছোটখাট ঘটনা এখন নিজের কাছেই বড় হয়ে ফিরে আসছে।

৮| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৪

জুন বলেছেন: আশাকরি আপনি তার খোজ খবর নিয়ে আরেকটি পোস্ট দেবেন। কৌতূহল রয়ে গেল।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


ঠিকাছে, উনার খবর নেবো।

৯| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৩৯

দিশেহারা রাজপুত্র বলেছেন: তারে নিয়ে প্রচলিত কোন মিথ নাই?

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:



গ্রামের বেকুবেরা মিথ বানায়েছে, সে পরিশ্রমী মানুষ ছিলো।

১০| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪

রুমী ইয়াসমীন বলেছেন: দারুণ ইন্টারেস্টিং! তার আয়ের উৎসটা কী তা তো ক্লিয়ার করে লিখলেন না দাদু! কৌতূহল রয়ে গেল তাই

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫১

চাঁদগাজী বলেছেন:



আসলে হারিয়ে যাওয়া সময়টাতে সে কাজ করেছিল।

১১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৭

শুভ্রনীল শুভ্রা বলেছেন: পরিচিত এক মেয়ের কাছে থেকে মুহূর্তের মধ্যেই ৫০০০ টাকা হাতিয়ে নিতে দেখেছি, জ্বীনের বাদশাহ চক্রকে। ঘটনা ঘটার পরে যখন জানলাম, তখন জানতে চাইলাম তার মতো উচ্চ-শিক্ষিত ও ম্যাচিউরড একটা মানুষের থেকে দিন দুপুরে কীভাবে এতো টাকা হাতিয়ে নিতে পারে ?! ওরা নাকি বলেছিল, টাকা না দিলে পরিবারের কারো ভয়ংকর ক্ষতি হবে। আরেকটা ব্যাপার, টাকা বিকাশ করা পর্যন্ত পুরোটা সময় লোকটি মেয়েটার সাথে কথা বলে গেছে। বোকা মেয়েটি অপরিচিত কারো সাথে এতক্ষণ কথা বললো, এতো টাকা বিকাশ করলো ভেবে তাকে বেক্কল মনে হয়েছিল। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই অজ্ঞান পার্টির এক লোকের খপ্পরে পড়েছিলাম। সচেতনতার কারণে বদ লোকটি সুবিধা করতে পারেনি। তবে তখন বুঝেছি, ওরা অনেক সুন্দর করে পটানো টাইপ কথা বলে ফাঁদ পাতে ! সতর্ক না থাকলেই রামধরা খেতে হয়।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০

চাঁদগাজী বলেছেন:



ওগুলো ঢাকার ব্যাপার; ঢাকা হলো ক্যান্সারের মতো

১২| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০

প্যারাসিটামল খবিশ বলেছেন: উনি আপনার সাথে খোলামেলা কথা বললে মানুষের কাছে এমন রহষ্যময় ভাব ধরে থেকেছিলেন কেন?
এসব ক্ষেত্রে যা হয় মানুষের এই উম্মাদনা কে ব্যবহার করে কবিরাজি শুরু করে দেন এবং রাতারাতি আলগুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যান

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫৪

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমি যতটুকু জানি উনি নিজের টাকায় চলতেন, কারো থেকে কিছুই নিতেন না; গরীব থেকে স্বচ্চল হয়ে, নিজের মতো চলতেন, এটুকুই

১৩| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫৩

শের শায়রী বলেছেন: আমার মনে হয় ওই জ্বীনের বাদশাহর আসলেই কিছু ক্ষমতা আছে মুরুব্বী। আপনাকে টাকা টুকা না দিক কিছু গুপ্ত জ্ঞান নিশ্চয়ই দিয়া গেছে। আপনি অনেক কিছুই জানেন, যা অন্য কেউ জানে না মুরুব্বী।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



উনিও জ্বীনে বিশ্বাস করতেন না, আমিও করি না; এটাই আসল কাহিনী।

১৪| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৫৬

সুপারডুপার বলেছেন: ওয়াজ-মাহফিলে মোল্লারা অবলীলায় দাবী করেন জ্বিনরা তাকে এক দৌড়ে কোলকাতা থেকে নবরত্ম তেল এনে দিয়েছিলো, জ্বিনেরা মিষ্টি দই ডালিম এনে দেয় । এসব ওয়াজ-মাহফিলে কেবল অশিক্ষিত লোকজন বসে থাকে না। ডিসি এসপি থেকে ঝানু উকিল, কলেজ-ভার্সিটির ফিজিক্সের প্রফেসর পর্যন্ত মাথায় টুপি দিয়ে বসে থাকে।

মাহফিল গুলোতে বসে থাকা শিক্ষিত অশিক্ষিত লোকের মন অলৌকিকতার কথায় আবিষ্ট হয়। মাহফিল থেকে চলে গেলেও তারা এটা ধরে রাখে। ব্লগেও আমরাও তার বাস্তবতার একটা সিমুলেশন দেখতে পাই , "বাহিরে উচ্চশিক্ষায় আছেন বা কমপ্লিট করেছেন অথচ অলৌকিকতার কথায় বিশ্বাস করছেন এমন ব্লগারের সংখ্যা অনেক "।

হুমায়ন আজাদ বলেছিলেন : "শোনা যায় পুরোনো কালে ঘটতো নানা অলৌকিক ঘটনা, তবে পুরোনো কালের অলৌকিক ঘটনাগুলো বানানো বা ভোজবাজি। প্রকৃত অলৌকিক ঘটনার কাল হচ্ছে বিশশতক। পুরোনো কালের কোনো মোজেজ লাঠিকে সাপ বানাতে, বা সমুদ্রের উপর সড়ক তৈরি করতে পারতেন-ক্ষণিকের জন্যে। ওগুলো নিম্নমানের যাদু। সত্য স্থায়ী অলৌকিকতা সৃষ্টি করতে পেরেছে শুধু বিশশতকের বিজ্ঞান। বিদুৎ, বিমান, টেলিভিশন, কম্পিউটার, নভোযান, এমনকি সামান্য শেলাইকলটিও অতীতের যে কোন অলৌকিক ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি অলৌকিক। বিজ্ঞান অলৌকিকতাকে সত্যে পরিণত করেছে ব’লে গাধাও তাতে বিষ্মিত হয় না, কিন্তু পুরোনো তুচ্ছ অলৌকিকতার কথায় সবাই বিহ্বল হয়ে উঠে।"

পুরোনো তুচ্ছ অলৌকিকতার কথায় সবাই বিহ্বল হয়ে উঠায় আসলে জ্বীন টাকা দেয় এমন বিশ্বাসের মূল কারণ।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০০

চাঁদগাজী বলেছেন:


মানুষের কঠিন লব্ধজ্ঞান আজকের সভ্যতা গড়ে তুলেছে, মানুষের বেকুবীর কারণে আজকের আফগানিস্তান, ইয়েমেনের মানুষ কষ্টের মাঝে ডুবে আছে।

আমাদের শিক্ষিতদের বড় অংশ ভুয়া।

১৫| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০১

আলাপচারী প্রহর বলেছেন: "সঠিকভাবে না পড়েও অনেকেই ইনিভার্সিটিও শেষ করছে; বুয়েট থেকেও মোল্লা বের হচ্ছে; এগুলো সমাজে বেকুবের সংখ্যা বাড়াচ্ছে ক্রমাগতভাবে"
ঠিক বলেছেন।
বলতে ইচ্ছে করছে অনেক কিছু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে। শরীরটা ভালো নেই। আরেকদিন বলবো।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



লিখুন।

আমাদের শিক্ষাটা মানুষকে আধুনিক সভ্যতার স্তরে টানতে পারেনি আজো

১৬| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিমান।

কৌতূহল থেকে একটা প্রশ্ন করি। অতি তুচ্ছ প্রশ্ন-
লেখার শুরুতেই আপনি বলেছেন পিঠা খাচ্ছিলেন। কি পিঠা? আর পিঠা উঠানে কেন খাচ্ছিলেন?

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:২৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


গ্রামের বাড়ীতে শীতকালে, বাড়ীর উঠোনে সাময়িক চুলা (রান্না ঘর ব্যতিত) তৈরি করা হতো; সকাল বিকাল সবাই চুলার চারিদিকে গোল হয়ে বসে আগুন পোহাতো ও পিঠা তৈরি হলে সেখানে খাওয়া হতো। ভাপা পিঠা, চিতই, খোলাজারি, চটকা পিঠা, পুয়া পিঠা আমাদের এলাকায় পুরো শীতকাল খাওয়া হয়।

১৭| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৪৪

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদকে যেমন ঠগ মনে হয়, 'বহিপীর' এর পীর সাহেবকে আমার কাছে তেমন মনে হয় নি। বরং জ্ঞানী মনে হয়েছে। আপনার এই লেখায় বর্ণীত জীনের বাদশাহকেও আমার জ্ঞানী মনে হচ্ছে। ওনি ঠগ নন। স্বীকৃতি অবশ্য আপনিও দিচ্ছেন।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:২৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


আসলে, আমার পরিচিত সেই ছেলে, ১১/১২ বছর সৎ পরিশ্রম করে চট্টগ্রামের এক শিল্পপতির মন জয় করে অনেক টাকার মালিক হয়েছিলো।

১৮| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:২৭

নিভৃতা বলেছেন: জ্বীনে বাদশার পছন্দের তালিকায় আপনি আছেন। কাজেই আপনার তো নো চিন্তা ডু ফুর্তি। অতএব গুমড়া মুখ ছেড়ে এবার প্রাণ খুলে হাসুন।

গল্প ভালো লেগেছে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:২৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


এটা গল্ল নয়, আমার জীবনে ঘটিত একটা ঘটনা

১৯| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৪২

জাহিদুল ইসলাম ২৭ বলেছেন: সুন্দর,সহজ কিন্তু গুঢ় অর্থবাহী লেখা।চমৎকার লিখেছেন।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:২৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমাদের সমাজের চিত্র।

২০| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:১৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
নিভৃতা বলেছে গল্প ভালো লেগেছে!
গল্পে অনেক সত্য মিথ্যার মিসেল দেবার
স্কোপ আছে। রাজীব নূরের
টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যার মতো !!

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:৩০

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি আমাকে ডুবালেন, এটা আমার জীবনের অভিজ্ঞতা, গল্প নয়।

২১| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:৪৬

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: আপনি জীন বিশ্বাস করেন কি না করেন তাতে কোনো যায় আসে না | জীন অবশ্যই আছে এবং তা আছে বাংলাদেশেই | এই সকল জিনের কারণেই সামান্য বেতনধারী সরকারি কর্মকর্তা, পাতি রাজনৈতিক নেতা বা সামান্য ব্যবসায়ীও রাতারাতি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক বনে যায় বাংলাদেশে | :-P

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:১০

চাঁদগাজী বলেছেন:


সরকারী চাকুরি পেলে বাংগালীরা জ্বীনে পরিণত হয়।

২২| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:৫৬

রানার ব্লগ বলেছেন: জন্মগত ভাবে মানুষ অলৌকিকতায় বিশ্বাসী । অলৌকিক কিছু ঘোটবে সব সময় এই প্রত্যাশায় বসে থাকে । আর চতুর লোকেরা এই সুজুগ টাই নেয়।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৩৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


হাজার বছর তো চলে গেলো কুসংস্কারের মাঝে ডুবে থেকে

২৩| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:০০

হাসান রাজু বলেছেন: শিক্ষার অভাবে সাধারন মানুষ অলৌকিকতায় বিশ্বাসী হচ্ছে। আলখেল্লা ওয়ালারা ব্রেন ওয়াস করে ছাড়ছে। ভাল মন্দ বিচার করার ক্ষমতা প্রায় নাই এই নিরক্ষরদের ।

শিক্ষার আলোয় মানুষ জ্ঞান, বিজ্ঞান বিষয়ে জানছে। একটু বেশি জেনেই " মুই কি হনুরে " ভাব এসেছে । নিজের মতামতের ব্যাপারে কট্টর হয়েছে। আর কট্টরতা ভাল মন্দ বিচার কখনই করতে দেয় না। দিনশেষে চাঁদগাজী আর জিনের বাদশার মুরিদের মাঝে কোন পার্থক্য নাই।

কিশোর চাঁদগাজির কথা বলার ভঙ্গি পক্ক চাঁদগাজির কনফিডেন্সকেও হার মানায়। তাই হয়ত অনেকের কাছে এটা গল্প ঠেকেছে।

কিন্তুু আপনার এই পোস্টগুলো আমার খুব ভালো লাগে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৪৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



গ্রামে বড় হওয়াতে আমাকে কখনো ফার্মের মুরগীর হওয়া লাগেনি। মানুষের লব্ধজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আজকের মানুষ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলেছেন, এবং আমাদের আদি পুরুষদের ভুলভ্রান্তিকে কেটে উঠেছেন; যেসব জাতি ভ্রান্ত ধারণার মাঝে আছেন, ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে পারছেন না, তারা কষ্টে আছেন।

২৪| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:০০

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: শুধুমাত্র অশিক্ষিত, গ্রাম্য লোকেরাই ( মানুষরাই) যে জ্বীন, ফকিরি বিশ্বাস করে তা না। সেটা আপনিও জানেন। পড়া পানি, পড়া মিষ্টি, গায়েবি কিছুর স্বপ্নে মানুষের চোখ মুখ চকচকও করে।
পোস্টের সেই মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেটার সত্যভাষণ আর দূরদৃষ্টিটা ভাল লাগছে।

অফ টপিক - আপনার পোস্টে ( অতীতকাল) যারা আজগুবি কমেন্ট করত, মেন্টালি ইরিটেট করত, আপনি তাদের কীভাবে হ্যান্ডেল করেছিলেন ? সেই রিলেটেড অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা পোস্ট লেইখেন কিংবে লিখে থাকলে আমাকে লিংক দিয়েন। পড়তে চাই।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০০

চাঁদগাজী বলেছেন:



ব্লগিং'এর শুরু থেকেই আমি চলমান ঘটনা-প্রবাহ, রাজনৈতিক ভাবনাচিন্তা, আধুনিক সভ্যতা ইত্যাদি উপর পোষ্ট লিখেছি; এই ধরণের লেখায় নিজের মনোভাব, ধারণা ও মতামত দিতে হয়, এবং উহা এমনিতেই প্রকাশ হয়ে যায়; ফলে, আমার পোষ্টগুলো বরাবরই লজিক্যাল আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক, মাঝেমাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের উৎস হয়ে এসেছে। ব্লগে এক সময় অনেক গালাগালিও হতো; আমি এগুলোতে প্রানবন্তভাবে অংশ নিয়েছি; যেহেতু, আমি ব্লগিং ভালোবাসি, এবং ব্লগারদের ব্যাপারে উচ্চ ধারণা পোষণ করি, এতে আমার তেমন সমস্যা হয়নি। ব্লগ হলো আধুনিক চিন্তা-ভাবনার মানুষদের আলাপ-আলোচনার স্হান।

শুরুতে অনেক আমাকে হেনস্তা করার জন্য পোষ্ট টোষ্ট দিতেন; কিন্তু দিনের শেষ তাঁরা হতাশ হয়ে যেতেন।

২৫| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:১১

রাজীব নুর বলেছেন: নূর মোহাম্মদ নূরু এই লোকটার উপর মাঝে মাঝে জ্বিনের আছর পড়ে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০১

চাঁদগাজী বলেছেন:



উনি মৃত মানুষদের নিয়ে লিখেন প্রায়ই, এটা একটা কারণা হতে পারে।

২৬| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬

অজ্ঞ বালক বলেছেন: ভাল্লাগলো কাহিনীটা পইড়া। মানুষ না জাইনা বুইঝা সাধারন মানুষরেও অনেকসময় অসাধারণত্বের তকমা দিয়া দেয়।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০২

চাঁদগাজী বলেছেন:



বিশ্ব যেখানে জ্ঞানভিত্তিক, আমাদের সমাজ এখনো কুসংস্কার-ভিত্তিক।

২৭| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৫৯

নিভৃতা বলেছেন: জ্বী জীবনেরই গল্প। তবে একটু মশলা টশলা লাগিয়ে আর কি :)

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমাদের মানুষ এখনো ভুল ও কুসংস্কার নিয়ে এই বিশ্বে টিকে থাকার চেষ্টা করে, ফেল করে চলছে।

২৮| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০৩

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: আমি আজকে আপনার পুরানো পোস্ট গুলি কিছু কিছু দেখলাম। কমেন্ট পড়তে। আমার ধৈর্য অনেক বাড়াতে হবে। আজকাল চড়াতে ইচ্ছা করে কিছু নিক দেখলে , চড়টা কবে লাগাবো সেটাই ভাবছি।
আপনার এখানে তো অনেক সকাল বোধহয়! এত সকালে কী করেন!

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



শুভ সকাল।
আমি সকালে উঠি সেই বাল্যকাল হতে। আমার পড়ালেখা সবই ছিলো সকালে। স্কুল জীবনে আমি বিকেলে ফুটবল খেলে ক্লান্ত হয়ে ফিরতাম, পড়ালেখা হতো না, ঘুমায়ে পড়তাম। এখনো সকাল ৪/৫টার দিকে উঠে নিজের কাজকর্ম করি, সামান্য পড়ালেখা করি।

২৯| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: একবার আমি একটা জ্বীনকে বোতলে বন্ধী করেছিলাম। তারপর সমুদ্রে ফেলে দিয়েছি। এই জন্য কি আমার গুনাহ হবে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



সমুদ্র দুষণের জন্য আপনার বিচার হওয়ার সম্ভাবনা আছে; বোতলের উপর নাম টাম দেননি তো?

৩০| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪১

পৌষ বলেছেন: পরের ঘটনার অপেক্ষায় থাকলাম। আরেকটি কথা আপনার গ্রামে বাড়ি কোন এলাকায়?

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


চট্টগ্রামে

৩১| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:০৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
লেখক বলেছেন:
সমুদ্র দুষণের জন্য আপনার বিচার হওয়ার সম্ভাবনা আছে; বোতলের উপর নাম টাম দেননি তো?

অসাধারণ একটি উত্তর।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:




রাজিব হলো ব্লগের ফানি মানুষ

৩২| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৬

শরীফ আজিম বলেছেন: লেখাটা খুব বেশি ছোট হয়ে গেছে।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



ব্যাপারটা আসলেই ছোট

৩৩| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৫২

গড়ল বলেছেন: আমাদের দেশের মানুষ নিজে নিজে অনেক গল্প বানায় সেটা আবার অন্যেরা বিশ্বাসও করে, এটা এখনও চলে ফেসবুকে।

৩৪| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩১

চাঁদগাজী বলেছেন:


ফেসবুক ও ব্লগ হওয়াতে আমাদের মানুষের জ্ঞানের লেভেল মাপাটা খুবই সহজ হয়েছে।

আপনাকে অনেকদিন ব্লগে দেখা যায়নি

৩৫| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:০৫

গড়ল বলেছেন: ব্লগে এখন ওয়াজ মাহফিল ও হামদ-নাথ বেশি চলে এবং সেগুলো নির্বাচিত পোষ্টেও স্থান পায় সবসময়, তাই আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৪:১৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


ব্লগে ভুল ধারণাকে কেন্দর করে অনেক অদক্ষ লেখা আসছে আজকাল, মানুষ পেছনের দিকে রওয়ানা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.