নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার যে-গল্পটি মাত্র কয়েকজন পাঠক বুঝতে পেরেছিলেন; সাহিত্যে জনপ্রিয়তা বা শীর্ষস্থান এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য আলোচনা

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১৩

আমার একটা গল্প ছিল, যার রহস্য উদ্ধার করতে পেরেছিলেন মাত্র অল্প কয়েকজন ব্লগার। সেটা ফেইসবুকেও দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো ফেইসবুকার সেই গল্পের ধাঁধাটা ধরতে পারেন নি।

গল্পটা যে খুব প্যাঁচের বা জটিল, তাও না, অন্তত ওটা লেখার সময় আমি সেটা মনে করি নি। কিন্তু ব্লগে ও ফেইসবুকে বেশ কয়েকবার শেয়ার করার পর দেখা গেল, আমি যেরকম রি-একশন আশা করেছিলাম, তার কাছাকাছি যেতে পেরেছেন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন।

ব্লগে বা ফেইসবুকে কোনো সেলিব্রেটি বা কোনো পরিচিত মুখ যাই লেখেন না কেন, আমরা মুহূর্তে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের বন্যা বইয়ে দিই, এমন ভাষায় প্রশংসা শুরু করি তাতে মনে হতে পারে, এমন ক্লাসিক পর্যায়ের লেখা একমাত্র তার পক্ষেই লেখা সম্ভব, তার মতো প্রতিভাধর লেখক দ্বিতীয়টির আজও জন্ম হয় নি।

অথচ বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক সত্য হলো, তার চাইতে খুব ভালো মানের লেখা হয়ত লাইক-কমেন্ট-হীন অবস্থায় নিভৃতে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ব্লগ বা ফেইসবুকের অতলে হারিয়ে যাচ্ছে।

ব্লগে আমি অনেকের পোস্টে কাঁচা বা দুর্বল কবিতা পড়তে গিয়ে কিছু টিপ্‌স দিব ভেবে স্ক্রল করে নীচে গিয়ে পুরা আহাম্মক বনে গেছি। দেখেছি ওটা একটা শেয়ার করা কবিতা, কবির নাম হুমায়ুন আজাদ। লজ্জায় জিভে দাঁত কাটতে গিয়ে দাঁতে জিভ কেটে ফেলেছি। কলেজে পড়ার সময় একবার একটা ছেলে সাহিত্যে আমার বাহাদুরি যাচাই করার জন্য একটা উদ্ধৃতি এনে বললো- ‘এটা কার লেখা, বল’। আমি খুব অবজ্ঞা সহকারে বললাম, ‘এত দুর্বল সেন্টেন্স কোনো এস্টাব্লিশড রাইটারের হতে পারে না, এটা তুমি নিজেই লিখেছ’। সে হতবাক হয়ে বললো, ‘এটাকে তুমি দুর্বল সেন্টেন্স বললা? জানো তুমি এটা কার লেখা’? আমি জোর দিয়েই বলতে থাকলাম, ‘এটা তোমার ছাড়া অন্য কারো হবার সম্ভাবনা একেবারেই জিরো’। সে ফস্‌ করে বললো, ‘এটা শরৎচন্দ্রের লেখা’। আমি তার সাথে প্রচণ্ড তর্ক জুড়ে দিলে সে ‘শ্রীকান্ত’ বের করে তার মধ্য থেকে আমাকে লাইনটা দেখিয়ে দিল।

আমাদের পত্রপত্রিকায় যদি এমন ব্যবস্থা থাকতো, প্রাপ্ত লেখার মধ্যে লেখকের নাম নেই, আইডেন্টিফিকেশনের জন্য কেবল কিছু গোপন কোড দেয়া আছে, তাহলে অনেক পরিচিত লেখকের লেখাই আমরা পত্রপত্রিকায় ছাপা হতে দেখতাম না। তখন বাছাইকৃত সেরা লেখাগুলোই ছাপা হতো।

আমি ব্লগে ২০০৯/১০ সালে একটা সিরিজ পোস্ট লিখতাম – “নবীন কবিরা যেরকম আধুনিক কবিতা লিখবেন”, তারপর পোস্ট করতাম বিখ্যাত কবিদের এমন কিছু কবিতা, যার কোনো পরিচিতি নেই, বা যে কবিতার মানও তেমন উন্নত নয়, এবং কবির নাম হিসাবে আমার নাম জুড়ে দিয়ে লিখতাম- একটা আধুনিক কবিতা এরকম হতে হবে। ঐ সময়ে ব্লগে আমার পরিচিতি আজকের চাইতে অনেক গুণ কম ছিল। কাজেই, কবিতাগুলোতে খুব নেগেটিভ কমেন্ট পড়তো। “এটা কোনো কবিতা হলো? ফালতু কবিতা। এটা কিচ্ছুই হয় নি।” ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি মনে মনে খুব হাসতাম। কারণ, আমি যদি লিখতাম এটা জীবনানন্দ দাশ বা রবীন্দ্রনাথের কবিতা, তাহলে অন্তত এটাকে ‘ফালতু কবিতা’ বলার দুঃসাহস কারো হতো না।

এরকমও গল্প পড়েছি, পত্রিকায় লেখা পাঠান, কিন্তু ছাপা হয় না। ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে জনৈক নবীন কবি রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা নিজের নামে লিখে সম্পাদকের কাছে গেলেন ছাপানোর আবেদন নিয়ে। সম্পাদক ভালো করে নেড়েচেড়ে পড়ে ওটা রিজেক্ট করে দিলেন- কবিতা হয় নি বলে। হুমায়ুন আজাদ আর হুমায়ূন আহমেদেরও এরকম একটা গল্প শুনেছি। হুমায়ুন আজাদের অহঙ্কারী মনোভাবের কথা আমরা জানি এবং হুমায়ূন আহমেদের উপর যে তার খুব বিদ্বেষ বা হিংসা ছিল, তাও জানি। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস কোনো উপন্যাস হয় না বলে ওগুলোকে নাকি তিনি ‘অপন্যাস’ বলতেন। একবার হুমায়ূন আহমেদ একটা উপন্যাস দিলেন হুমায়ুন আজাদকে পড়ে বলার জন্য উপন্যাসটা কেমন হয়েছে। হুমায়ুন আজাদ উপন্যাসটা পড়ে বলেছিলেন- ওটা কোনো উপন্যাস হয় নি। হুমায়ূন আহমেদও হেসে বলেছিলেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসও যদি উপন্যাস না হয়ে থাকে, তাহলে আমার উপন্যাস কিছু না হলে ক্ষতি নেই। (হুমায়ুন আজাদের এ গল্পটা আমি কোনো বইতে পড়ি নি। ব্লগ বা ফেইসবুকে কোথাও পড়েছিলাম। কাজেই সত্যমিথ্যা জানা নেই।)

কোনো লেখকের লেখা অনলাইনে পড়ে কমেন্ট করার সময় আমাদের মনে অনেকগুলো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। আমরা যেমন সেলিব্রেটিদের লেখায় প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিই, ক্লাসিকতুল্য করে ফেলি, তেমনি, কোনো কোনো সেলিব্রেটি লেখকদের বেলায় এর উলটোটাও ঘটে- লেখকের বিরুদ্ধে হিংসা বা ক্ষোভের অন্ত থাকে না। উদাহরণস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদের কথাই বলা যায়। তিনি যদি সারাজীবনে গোটা পাঁচেক বই লিখতেন, কিংবা গোটা পাঁচেক বই লেখার পর মারা যেতেন, তাহলে তাঁর জন্য আমাদের কান্না আর আফসোসের অন্ত থাকতো না- হায়! হাজার বছরে একজনই হুমায়ূন আহমেদ জন্ম নেন। কিন্তু, তিনি ভুল করেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বই লিখে, ফলে, তিনি অনেকের কাছেই হলেন চক্ষুশূল এবং হিংসার পাত্র।

আমাদের ব্লগ বা ফেইসবুকেও এমন লেখক ও পাঠকের অন্ত নেই। কখনো কখনো পরশ্রীকাতরতা আমাদের এতটাই উন্মত্ত করে তোলে যে, প্রসিদ্ধ কারো লেখা দেখলেই তাকে নানাভাবে আঘাত করে তাকে ঘায়েল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি; তার লেখার মান যাই হোক না কেন, তা দেখামাত্র বলে ফেলি- কিছুই হয় নি। এর জ্বলন্ত উদাহরণ টানা যায় ২০১৯-এর বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের জরিপ থেকেই। বেস্ট সেলার ১০টি বইয়ের গোটা দুই তালিকা দেখেছিলাম বলে মনে পড়ে। এ তালিকায় এমন কিছু লেখক ও বইয়ের নাম উঠে এলো, যাদের কেউ চেনেন না, আগে নামও শোনেন নি। কয়েকজন প্রসিদ্ধ লেখকের নাম সেখানে থাকলেও নামগুলো শীর্ষে ছিল না, এবং তাঁরা যে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেখক এমনও না। এই তালিকার অনেকেই আবার ফেইসবুক সেলিব্রেটি, তাঁদের একেকটা স্টেটাসে লাইক-কমেন্টের ঝড় বয়ে যায়। এর মধ্যে একজন সেলিব্রেটি লেখিকার রাইটিং স্টাইল আবার অভিনব ও চমকপ্রদ- তিনি ইংরেজি হরফে বাংলা উপন্যাস লিখেছেন, যাকে আমি নাম দিয়েছি ‘ইংব্লিশ’ (বা এটাকে ‘ইংব্লা’ও বলতে পারেন)। ফলে, তালিকাগুলো বিতর্কিত হতে থাকলো। অনেকেই বললেন এসব হলো ভূয়া বা বানোয়াট তালিকা, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই তালিকা গ্রহণযোগ্যতা হারালো। কিন্তু, ঐ তালিকায় যদি আমাদের পরিচিত বিখ্যাত লেখকদের নাম থাকতো- হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল ইসলাম, তসলিমা নাসরিন, প্রমুখ- তাহলে সম্ভবত আমাদের আপত্তি থাকতো না, বা আপত্তি থাকলেও আপত্তির জায়গাটা ভিন্নতর হতো। তো, এইসব তালিকা কী প্রমাণ করে? প্রমাণ করে- আমরা যাদের বিখ্যাত লেখক ভাবি, তাঁদের বাইরেও বিখ্যাত লেখক গড়ে উঠছেন; হতে পারে, আমাদের পাঠকের পাঠরুচির পরিবর্তন হচ্ছে। ঘটনা যাই হোক না কেন, আমার চূড়ান্ত মতামত এই যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যিনি/যাঁরা অধিক সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন, তিনি/তারাই সেরা। ধরে নিতে হবে, লেখার স্টাইল তাদের স্টাইলের দিকেই ধাবমান, ভবিষ্যতের লেখক ও পাঠকও ঐরকমই হবে। আপনি যদি তাঁদের লেখাকে মূল্যায়ন না করেন, তাতে তাদের কিছু আসবে যাবে না। আপনি বা অন্যরা যে তাদের চাইতে ভালো মানের লেখা উপহার দিচ্ছেন, তার ভিত্তি কী? আপনার লেখাকে যারা ‘সেরা’ লেখা বলছেন, তাঁরা কারা? তাঁরাই যে সেরা বিচারক, এটা কারা ঠিক করে দিয়েছেন? তাই আবারও বলতে হচ্ছে, পাঠকই হচ্ছে সেরা বিচারক। যার পাঠক যত বেশি, তিনিই তত বড়ো লেখক। আপনার ভিন্নমত থাকবে সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই ভিন্নমত কতজন গ্রহণ করলেন, সেটাও একটা বিবেচ্য বিষয়।

অনেককে দেখছি গত ৮-১০ বছর ধরে ব্লগ বা ফেইসবুকে লিখছেন। আমার অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী তাদের লেখার মান ব্লগিঙের শুরুতে যা ছিল, আজও অবিকল সেইখানেই রয়ে গেছে; অথচ তাদের লেখায় কমেন্ট আর প্রশংসার কমতি নেই। লেখকও এটা দেখে ফুলেফেঁপে ওঠেন, সন্দেহ নেই। এসব প্রশংসা দেখে আমার আগে মনে হতো, এসব প্রশংসা ফেইক বা সাময়িক, প্রকৃত বিচারে এসবের কোনো মূল্যও নেই, কালের গর্ভে এগুলো টিকবেও না। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত আমাকে এই ধারণা থেকে সরে আসতে হয়েছে। আপনি বর্তমানে যেটুকু পাচ্ছেন, সেটাই প্রকৃত প্রাপ্তি। আপনার বর্তমানের প্রাপ্তিটাই ইতিহাসে রেকর্ডেড থাকবে এবং এর দ্বারাই আপনি ভবিষ্যতে স্মরণীয় হবেন। যিনি ভালো লিখছেন, কিন্তু পাঠক নেই, পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে না, তিনি জীবিত থেকেও মৃত- জীবন্মৃত। তার এই লেখাকে রেকর্ড করে রাখার জন্য কেউ নেই, যারা ভবিষ্যতে লাইব্রেরি খুলে এগুলোকে পাঠকের সামনে তুলে ধরবেন। দৈবাৎ কেউ এগুলো সংরক্ষণ করে রাখলেও ভবিষ্যতেও যে এগুলো পাঠক-সমাদৃত হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অন্যদিকে, হারিয়ে যাওয়া একটা লেখা যে সত্যিই ভালো লেখা ছিল, তারও কিন্তু কোনো ভিত্তি নেই। লেখার মান যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত পাঠসংখ্যা, কমেন্টসংখ্যা, লাইকসংখ্যাই একটা লেখার ‘মানদণ্ড’ নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। যে লেখা কারো চোখে পড়লো না, কেউ পাঠ করলো না, সেটা যে একটা ‘মানসম্পন্ন’ লেখা ছিল, তা নির্ণয়ের কোনো সূত্র বা ফর্মুলা নেই। ঐ লেখা নীরবে জন্ম নিয়ে নীরবেই হারিয়ে যায়। একজন লেখককে পাঠকের কাছে পৌঁছুতে হবে, যে-কোনো প্রকারেই হোক না কেন। পত্রিকায় লেখককে লেখা ছাপাতেই হবে-প্রচার ও পরিচিতির জন্য। ভালো লেখা হলেই তা পত্রিকায় স্থান পাবে, ব্যাপারটা ঠিক এমন না তা আমরা মোটামুটি সবাই জানি; একটা লেখা যে পত্রিকায় স্থান পাবার যোগ্যতা রাখে, তা সম্পাদকের গোচরে আনতে হবে লেখককেই, তাঁর যোগ্যতা বা দক্ষতা, বা কৌশল জানা থাকলে যে-কোনো লেখাই ছাপা হবে। ব্লগীয় বা ফেইসবুকীয় মিথস্ক্রিয়া ভালো থাকলে যে-কোনো লেখায়ই পাঠক হুমড়ি খেয়ে পড়বেন। লেখক তখন একজন স্বনামধন্য লেখক হয়ে উঠবেন সহজেই।



আমার গল্পটার নাম ‘রানি ভানুসিংহীর ব্লগ।’ গল্পটা বুঝতে হলে ফেইসবুক ও ব্লগীয় মিথস্ক্রিয়া বা ব্লগীয় সিন্ডিকেটশিপ সম্পর্কে যেমন সম্যক ধারণা থাকতে হবে, তেমনি লেখালেখি সম্পর্কেও অগাধ জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ, লেখা দেখেই চট বুঝে ফেলার ক্ষমতা থাকা আবশ্যিক- এটা রবীন্দ্রনাথের বা নজরুলের লেখা, ওটা সত্যেন্দ্রনাথ বা হুমায়ূন আহমেদের লেখা; এ স্টাইলটা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বা আল মাহমুদের, ইত্যাদি।

মহারানি চৌরঙ্গিলা হলেন কবিখ্যাতির শিখরে থাকা একজন ধনাঢ্যা রূপবতী কবি। তাঁর লেখার জন্য সম্পাদকরা লাইন দিয়ে অপেক্ষায় থাকেন, তবে, কবির সান্নিধ্য লাভের জন্য দর্শনার্থীদের জমজমাট ভিড়টাই হলো সবচাইতে উল্লেখযোগ্য দিক। তার প্রতিটা কথা মুখ থেকে বের হবার আগেই উপবিষ্ট সভাসদ্গণ কেড়ে নিয়ে স্তুতিবর্ষণে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। পত্রিকায় লেখা ছাপা হলে কে কার আগে তাকে অভিনন্দন ও প্রশংসা জানাবে, তা নিয়ে কাড়াকাড়ি লেগে যায়। ফেইসবুক ও ব্লগেও তিনি অনন্যা ও অদ্বিতীয়া। তাঁর একটা লেখা প্রকাশিত হলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের ফলে ব্লগ ও ফেইসবুক হ্যাং হয়ে যায়।

মহারানি চৌরঙ্গিলা জানেন এবং বোঝেন, এরা সবাই দুধের মাছি। তিনি ভালো করেই জানেন যে, পুরুষ মাত্রেই চাটুকার; রমণীদের সামনে গদগদ হয়ে তৈলমর্দনের জন্যই যেন এদের জন্ম। তদুপরি, নিজেকে যাচাই করার লোভটাও তিনি হাতছাড়া করতে চাইলেন না। নিজের আড়ালে নিজের সম্পর্কে অন্যেরা যা ভাবেন, সেটাই প্রকৃত ‘আমি’। তাঁর মনে একটা কূটবুদ্ধি খেলে গেল। একদা নিশীথে তিনি ‘ভানুসিংহী’ নিকনেম দিয়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে দ্বিতীয় একটা ব্লগ ক্রিয়েট করলেন। তারপর আসল খেলাটা দেখার জন্য সেখানে একটা নতুন কবিতা পোস্ট করলেন। পাশাপাশি, অরিজিন্যাল ব্লগ থেকেও অন্য অপেক্ষাকৃত একটা কাঁচা কবিতা পোস্ট করলেন। যা ভেবেছিলেন, তার ব্যত্যয় হলো না মোটেও। অরিজিন্যাল ব্লগ হ্যাং হবার জো হলো, এত লাইক, এত কমেন্ট, এত প্রশংসা; আর ‘ভানুসিংহী’র ব্লগ মূলত খা-খা করতে থাকলো; এবং সেখানে যারা কমেন্ট করলো তারা বার বার শুধু এটাই উল্লেখ করলো যে, ভানুসিংহীর কোনো কবিতা-প্রতিভাই নেই, তার কবিতা লেখার চেষ্টা না করাই উত্তম।


আমার গল্পটার রহস্য আমি এই পোস্টেও প্রকাশ করি নি। যারা বোঝার, তারা শুরুতেই বুঝেছিলেন, যারা এখনো বোঝেন নি, তারা এই পোস্টটি পড়ার পর আবার কোনোদিন ঐ গল্পটা পড়লে নিশ্চিত বুঝে ফেলবেন, গল্পে উল্লেখিত কবিতাটি বঙ্কিমচন্দ্রের, প্রমথ চৌধুরীর, নাকি অন্য কারোর, নাকি স্বয়ং আমিই লিখেছি, আর জনাবা ‘ভানুসিংহী’কেও যে তারা চিনে ফেলবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

এই সেই গল্পটা - রানি ভানুসিংহীর ব্লগ

মন্তব্য ৩১ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৩১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৩৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



এখন পড়লে গল্পটি আপনি নিজে বুঝতে পারবেন তো?

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহাহা।

২| ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৭

রুমী ইয়াসমীন বলেছেন: এটীই জগতের নিয়ম নাম আছে যার দাম আছে তার।
আর রূপ আছে যার সুনাম আছে তার গুণ থাকুক বা না থাকুক।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আর রূপ আছে যার সুনাম আছে তার গুণ থাকুক বা না থাকুক। ভুল বলেন নাই। তবে, আমার মতে 'রূপ'-ও কিন্তু একটা গুণ :)

৩| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই ভাই,
গল্প উপন্যাস পড়ার মাঠে আমি অনেক পুরোনো খেলোয়াড়। আপনার লেখা আমি শুধু ধরতে পেরেছি তা নয় আমি এই মন্তব্য অনেক করেছি বেশ কয়েকটি পোষ্ট ও দিয়েছি। আমি নিজে আমার এই বিষয়ের কয়েকটি পোষ্ট মুছেও দিয়েছি। তবে এখন কারো লেখার মান যেমনি হোক আর তার লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন করবো না। লেখক হুমায়ূন আহমেদের নাম নিয়ে কেউ যদি আগুন জ্বালিয়ে দেয় তাতেও না।

যে যেমন লিখে লিখুক। সামহোয়্যারইন ব্লগকে ধন্যবাদ দেই আমাকে লেখার সুযোগ দিচ্ছেন। আমি লিখি আমার নিজের আনন্দের জন্য। যারা পড়বেন তাদের ধন্যবাদ। যারা পড়বেন না তাতে কি আসে যায়। আমি তো আমার নিজের জন্য লিখি।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রথমেই ধরে নিচ্ছি আপনি আমার বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সেজন্য ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই। বাকি যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলোর সাথে একমত না হবার কোনো কারণ নেই।

আর হ্যাঁ, আমরা যারা ব্লগে লেখালেখি করছি, তাদের অবশ্যই সামহোয়্যারইন ব্লগের কাছে চিরঋণী থাকতে হবে। আমাদের সূচনালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত যতটুকুই ম্যাচুরিটি লাভ করেছি, তা এই ব্লগের কারণেই হয়েছে, সেই সাথে সমুদয় ব্লগার, যারা আমাদের লেখা পড়েছেন, মতামত দিয়েছেন তাদের কাছেও আমরা সমভাবে ঋণী।

আবারো ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই মূল্যবান মতামতের জন্য। শুভেচ্ছা।

৪| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৯

সোহানী বলেছেন: আমি একদিকে সমর্থন করি আপনার ভাবনাকে অপরদিকে কিছুটা দ্বিমত পোষন করি, যেমন,

প্রচারেই প্রসার। এটা এখন বাস্তব সত্য। আর প্রচারনা সাক্সেসফুল মানেই প্রডাক্টও সাক্সেস। এর জন্য বিশ্বে বিলিয়ন ডলারের গবেষনা ও আছে। সাথে আছে মার্কেটিং নামক বিষয়ের শাখা প্রশাখা, তথ্য, থিউরি, সূত্র। ২০১৩ সালে Dove বিউটি প্রডাক্ট নিয়ে চমৎকার কিছু গবেষনা পেপার আছে। আমি ক'দিন আগে পড়ে খুব মজা পেয়েছিলাম।

যাহোক যা বলছিলাম । প্রচারনা সাক্সেসফুল হবার জন্য দরকার বেসিক কিছু। এই শর্তগুলো যে যত চমৎকারভাবে কাজে লাগাতে পারবে সে তত সাক্সেস। যেমন, সুন্দর মুখ….। যেহেতু দেশ এখনো পুরুষপ্রাধান্য তাই যেকোন বিজ্ঞাপনে সর্তকতার সাথে নারীমুখ ব্যবহার করা হয়। আর আমাদের যাবতীয় পুরুষকূল ঝাপিঁয়ে পড়ে। তারপর আছে সম্পর্ক বা পরিচিত মহল গড়ে তোলা। অনেকটা আমি আছি তুমিও আছো টাইপ। তুমি আমারে বললা ওয়াও, আমি বল্লাম দারুন :P

যাইহোক… তারচেয়ে বড় কথা অন্তত ফেইসবুকে কেউ কোন কবিতা বা সাহিত্য পড়ে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। শুধু হাজার খানেক পোস্টে স্ক্রল করা আর লাইক দেয়া ছাড়া সময় কই পাবলিকের। পাবলিক সুন্দর মুখ আর সুন্দর ছবি খুঁজে খুঁজে কমেন্টস করে :#) । এ কারনেইতো কবিতা দেয়ার সাথে নিজের সাজুগুজো মুখের ছবি দেয়া একান্ত জরুরী…...হাহাহাহাহাহা

যাকগা, বেশী হয়ে যাচ্ছে অনেকের হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।.... B:-/

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ওহে মহান সোহানী আপু, আপনি একদিকে সমর্থন করে অন্যদিকে দ্বিমত পোষণ করে যাহা বলেছেন, আমিও কিন্তু তাহা সমর্থন করি। প্রচারেই প্রসার, আমি সেটাই বলতে চেয়েছি। যাহারা সেলিব্রেটি হয়েছেন, উহারা জন্মগ্রহণ করেই নিজেকে সেলিব্রেটিরূপে পান নাই, কিছুটা মেধা, বাকিটা সেই মেধার জোরে প্রচার করে তবেই না সেলিব্রেটি হতে পেরেছেন, তাই না? সেলিব্রেটি হবার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি।

ফেইসবুক রিডিঙের ব্যাপারে যা বলেছেন তাহা সত্য। তবে, ব্লগের ক্ষেত্রেও ঠিক ততখানি না হলেও এরকম যে হয় না তা না। একজন ব্লগারকে সবার পোস্টে কমেন্ট করতে হলে সবগুলো পোস্টই পড়তে হবে, সেটা হয়ত অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। তাই অনেক সময় অনেকটা সৌজন্য রক্ষার জন্য হলেও হাই-হ্যালো টাইপ কিছু কমেন্ট করা জরুরি হয়ে পড়ে।

ইয়ে, মহান আপু, আমার পোস্টের ভেতর আরেকটা পোস্ট যোগ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছা রইল।

৫| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৪৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ভানুসিংহীর কোনো কবিতা-প্রতিভাই নেই, তার কবিতা লেখার চেষ্টা না করাই উত্তম।
.....................................................................................................................
এটাই আমাদের স্বভাবজাত প্রতিক্রিয়া ।
এর থেকে বের হয়ে আসতে হলে আমাদের জ্ঞানের বহর
বৃদ্ধি করতে হবে , দেশ বিদেশ ঘুরে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে
এবং চাটুকারিতা পরিহার করতে হবে ।
......................................................................................
এতকিছু কি আমরা পারব ? হা হা হা

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার নিজের মতামতই চূড়ান্ত- এবং আমি যেটা বলবো, অন্যদেরও সেটা মেনে নিতে হবে, আমাদের বেশিরভাগ মানুষের বৈশিষ্ট্য এরকম। চাটুকারিতা তো বর্তমানের মহামারির আকার ধারণ করেছে। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলার এ অবস্থার কথা শতবর্ষ পূর্বেই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন, তাই আমাদের জন্য তিনি 'তৈল' রেখে গেছেন :)

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ শঙ্খচিল।

৬| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪২

রাজীব নুর বলেছেন: বিচার বিশ্লেষন সুন্দর করেছেন।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ নায়করাজ রাজীব নুর ভাই। শুভেচ্ছা।

৭| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫২

রুমী ইয়াসমীন বলেছেন: সোহানী আপু বাস্তব সম্মত মন্তব্য করেছেন। আপুর মন্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করছি।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সোহানী আপু বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মহান ব্লগার হওয়ায় তার কমেন্ট বাস্তবসম্মত। আমি আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি। ধন্যবাদ রুমী ইয়াসমীন।

৮| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৬

জাহিদ অনিক বলেছেন:
ভাইয়া আপনার সেই রানি ভানুসিংহীর ব্লগ গল্পটি আমি পড়েছিলাম। যদিও ছোটবেলায় মোল্লা সল্ট খাইনি বলে ধরতে পারি নাই বাপারটা তখনো, এখনো না।


আর বাকী যে কথাগুলো বললেন, একজন লেখকের লেখার পেছনের উত্তেজক হিসেবে পাঠকের ভূমিকা কিংবা কবিতার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন কতটা জরুরী, তা তো একদম ঠিক।

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এই পোস্টের শেষের দিকে এসে কিন্তু ব্যাপারটা অনেকখানিই ক্লিয়ার করা হয়ে গেছে, শুধু ছোট্ট একটা বিষয় ছাড়া, এবং সেই বিষয়টার উপর গল্পের মাজেজা নির্ভরশীলও না :)

যাই হোক, এটা কোনো ব্যাপার না।

অনেকদিন পরই তো আপনাকে ব্লগে দেখলাম, ঠিক বললাম না?



১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ক্যামেরার সেটিঙে ছবি তোলার জন্য আসপেক্ট রেশিও ১৬ : ৯ করে নিন, এইচডি কোয়ালিটি।

৯| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




Poড়া Leখায় Daব্বা খাওwa ClaসLeস উম্মাদটি একটি বাংLish বই বার করেছে গত ২১শে বই মেলায়। যাকে কয়েকবার অসমাজিক কার্যকলাপের কারণে পুলিশ রেড হ্যান্ডেড গ্রেফতার করেছে। আপনি তো জানেন পুলিশের হাত বন্ধ। উম্মাদটিকে ছেড়ে দিতে হয়েছে কারণ মিডিয়া সহ নর্দমার কীটদের সাথে তার ভালোই সম্পর্ক। lets her go to hell.

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: তাঁর ঐ ট্যালেন্টের কথাটা অবশ্য আমি জানতাম না। জাতি আগামীতে কে দেখে, তা ভেবে কিছুটা শঙ্কিত হতে হচ্ছে

১০| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৪

জাহিদ অনিক বলেছেন:
আমি আসলেই ছবি তুলতে পারি না। খালি ক্যাপচার বাটনে ক্লিক করলেই যে ছবি হয় না, এটা আমার মাথায় ঢোকে না। তাছাড়া ছবির আর্ট ব্যাপারটাও একটু কম বুঝি।


যাইহোক ভাইয়া, এই ছবিখানা দেখিয়া ব্যাপক লজ্জা পাইলাম :(( !:#P

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ছবি তুলতে না পেরেই যে হাই কোয়ালিটির ছবি তুলেছেন, তুলতে পারলে না জানি সেগুলো আরো কত ভালো হত

আপনার আরো কিছু ভালো ছবি ফেইসবুকে দেখেছই :)

১১| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৩

জাহিদ অনিক বলেছেন:
ফেসবুকে মাঝেমাঝে ফেস দেখাই ভাইয়া B-) B-)

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সেটা খুব ভালো। আমরা আপডেটেড থাকি

১২| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




মিষ্টি মধুর অম্ল টক মিশ্রিত এই গুরু গম্ভীর ভাবসমৃদ্ধি লেখাটি একবার পাঠে সঠিক ভাবে
অনুভব করতে পারবনা, কারণ জন্মের পর হতেই আমি একজন অতি স্লো লারনার ।
তাই মুল্যবান এই লেখাটি প্রিয়তে নিয়ে গেলাম ,হাতে সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে পাঠ করব ।
এখন আপনার দেয়া লিংকে গেলাম সেটি পাঠের জন্য । তবে যাওয়ার আগে
একটি কথা বলি, আমি এই ব্লগে কোন লেখা পড়ব কিনা তা লেখার শিরোনাম
দেখে পছন্দ হলেই কেবল তার ভিতরে প্রবেশ করি । লেখাটি পাঠের পরে
পোষ্ট লেখকের নাম ও পরিচিতি দেখি, যাতে করে লেখাটি পাঠের সময় যেন
কোন প্রকারে বায়াসড হয়ে না যাই ।তবে অনেক সময় শিরোনামের সাথে লেখকের
নামটাও অজান্তেই চোখে পড়ে যায়,তাহলেও কিছুদুর পর্যন্ত পাঠে গিয়ে লেখাটি
আমার কাছে তেমন মনপুত না হলে সেটা হতে উঠে এসে পরবর্তী লেখায়
যাওয়ার চেষ্টা করি । ইত্যাদি কারণে আমার পছন্দের অনেক লেখকের
লেখাই বাদ পরে যায় এবং প্রায়ই দেখা যায় এ ব্লগের গুণী অনেক
লেখকের লেখাতেই হয়ে যাই সর্ব লাস্ট পাঠক । নীজের কাছে
নীজকে কিছুটা লজ্জিতও অনুভব করি তখন।

শুভেচ্ছা রইল

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:০৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মিষ্টি মধুর অম্ল টক মিশ্রিত এই গুরু গম্ভীর ভাবসমৃদ্ধি লেখাটি একবার পাঠে সঠিক ভাবে
অনুভব করতে পারবনা, কারণ জন্মের পর হতেই আমি একজন অতি স্লো লারনার ।


প্রিয় আলী ভাই, আপনার কমেন্ট মানেই বিশেষ কিছু, যা যে-কোনো পোস্টের জন্য মূল্যবান সংযোজন। তবে, আপনার কমেন্ট পড়ে শুরুতেই খুব বিব্রত ও লজ্জিত হতে হয়েছে, উপরে উদ্ধৃত অংশটির জন্য। আমার লেখা এমন কিছু না যা একবারের পাঠে বোঝা যাবে না। যাই হোক, আপনি পড়েছেন, তাতেই আমি খুশি।

ব্লগপোস্ট পড়ার ব্যাপারে আপনার আর আমার মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখছি না। ব্লগে না শুধু, ফেইসবুক ও পত্রিকায়ও, মূলত শিরোনাম দেখেই লেখার ভেতরে ঢুকি। তবে, বিশেষ কোনো ব্লগারের নাম চোখে পড়লে তার পোস্টে ক্লিক করে ভেতরে ঢুকি, তা শেষ করা বা না-করা নির্ভর করে ঐ লেখার নিজস্ব গুণের উপর।

অনেক অনেক ধন্যবাদ রইল প্রিয় আলী ভাই।

১৩| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৪

কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: ধাঁধায় প্রায় আধা বিহ্বল গাধা আমি শেষে কমেন্ট পাঠেই মন দিলেম,

আপনার সূক্ষ রসবোধে ফিদা মাইরি!
শব্দের চরম কিপ্টেমীতে নিগুঢ় ভাব প্রকাশকে মোটামুটি শিল্প বানিয়েছেন ভায়া :P

লেখক বলেছেন: তবে, আমার মতে 'রূপ'-ও কিন্তু একটা গুণ :)

দুর্দান্ত বলেছেন। 'রূপ' আলবাৎ একটা গুণ, আর ধরে রাখতে জানাটাতো অতি অবশ্যই শৈল্পিক মহা গুণ।। রূপ না থাকাটা দোষের নয়, তাছাড়া সবার সে থাকেও না। তবে মনের শ্রীহীনতা নিন্দণীয় তো বটেই বটে। আর পরশ্রীকাতরতা যে মনেরই এক বিভৎস কুৎসিত রূপ।

আশা করি সুস্থ আছেন।
ভালো থাকবেন, যত্নে থাকবেন।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
'রূপ' আলবাৎ একটা গুণ, আর ধরে রাখতে জানাটাতো অতি অবশ্যই শৈল্পিক মহা গুণ।। রূপ না থাকাটা দোষের নয়, তাছাড়া সবার সে থাকেও না। তবে মনের শ্রীহীনতা নিন্দণীয় তো বটেই বটে। আর পরশ্রীকাতরতা যে মনেরই এক বিভৎস কুৎসিত রূপ।
সাংঘাতিক চিন্তাশীল একটা কথা বলেছেন, যা আমার মনকে নাড়া দিয়েছে।

ধাঁধাটাও এখন খুব মজা লাগছে :) এটা যে আদতে একটা ধাঁধা হয়ে উঠবে, আমার চৌদ্দ পুরুষের কেউ সেটা জানতো না গল্পটা লেখার আগে :(

হ্যাঁ, আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছি ভাই। আমার মনে পড়ে, আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, আপনি মোবাইলে কল দিয়েছিলেন। আপনার আন্তরিকতার কথা ভুলি নাই।

ভালো থাকবেন সবসময়। শুভেচ্ছা।

১৪| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৪

আমি তুমি আমরা বলেছেন: আপনার সাথে অনেকটাই একমত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা লেখার মান বিচার না করে কেবল লেখকের নাম কিংবা তার প্রতিষ্ঠা বিচার করে সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাই। লেখার প্রকৃত মূল্যায়ন খুব কম ক্ষেত্রেই হয়।

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:১৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার সাথে অনেকটাই একমত হওয়ায় ভালো লাগলো ভাই। ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।

১৫| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৬

অপু তানভীর বলেছেন: আপনি তো ব্লগে অনেক দিন । এই ব্যাপারটা তো আপনার খুব ভাল করেই জানার কথা ।

ফেসবুকটা হচ্ছে সারকুলেশনের ব্যাপার । আপনার লেখা যতজনের হোম পেইজে যাবে তত রিএকশন আপনি পাবেন । আপনার লেখার মান কেমন হয় সেটা খুব একটা বিবেচ্য বিষয় না । একটা কথা শেয়ার করি । আমার ফেসবুক লক করা । খুব অল্প কয়েক কয়েকজন মানুষের আনাগোনা । সেখানে আমি কিছু লিখলে হাতে গুলে ২০/২২ টা রিএকশন আসে । আর আমার একটা পেইজ আছে । সেখানে বেশ কিছু ফলোয়ার আছে । সেখানে একই জিনিস পোস্ট করলে ৩০০/৩৫০ রিএকশন আসে । আমি আবার একটা পেইজে লিখতাম এক সময় । সেখানে যখন পোস্ট করলে রিএকশন আসতো এক থেকে দেড় হাজার । একই পোস্ট তিন স্থানে তিন রকম রিএকশন ।
আর ব্লগের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন । এখানে একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে পোস্টের রিএকশন আসে আপনি অন্যান ব্লগারদের সাথে কতটা মিশছেন সেটার উপর । আপনার লেখার মান যতভালই হোক না কেন আপনি যদি অন্যের ব্লগে মন্তব্য না করেন তাহলে আপনি পাঠক পাবেন না ।
হ্যা আগে একটা সময় ছিল যে মেধাবী ব্লগারদের পাঠকের অভাব হত না কিন্তু এখন সেটা নেই । একদম নেই । এখন আমার ব্লগে মন্তব্য কর তাহলেই আমি তোমার লেখা পড়বো, মন্তব্য করবো ।

আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিয়েই বলছি, আগামী দুই মাস আপনি প্রতিটা ব্লগ পড়ুন সেখানে মন্তব্য করুন । আপনার ব্লগে অনেক ব্লগারদের আগমন ঘটেছে । পোস্টে অনেক মন্তব্য এসে হাজির হবে ।

প্রকৃত লেখার মূল্যায়ন কি এভাবে হয় ? হয় না । সুতরাং সেটা আশা করাও উচিৎ নয় !

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ব্লগ বা ফেইসবুকের সার্কুলেশনের ব্যাপারে যেটা বলেছেন, সেটা ঠিক আছে, আমিও মূলত ওগুলোর উপরই বলতে চেয়েছি। তবে, যারা ফেইসবুক সেলিব্রেটি হয়েছেন, বিশেষ করে মেয়েরা, তাদের সেলিব্রেটি হয়ে ওঠার পেছনেও অনেক ক্যারিকেচার থাকে। একবার সেলিব্রেটি হয়ে গেলে পেছনে তাকাবার প্রয়োজন পড়ে না। ব্লগে সেলিব্রেটি হওয়া অপেক্ষাকৃত কষ্টসাধ্য কাজ। কিছু মেধা অবশ্যই থাকতে হবে, আর থাকতে হবে প্রচুর সময়, যাতে ব্লগের সবার সাথেই ইন্টার‍্যাকশন করা যায়।

আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিয়েই বলছি, আগামী দুই মাস আপনি প্রতিটা ব্লগ পড়ুন সেখানে মন্তব্য করুন । আপনার ব্লগে অনেক ব্লগারদের আগমন ঘটেছে । পোস্টে অনেক মন্তব্য এসে হাজির হবে ।
:) :) :) এরকম উপদেশ আমিও হরহামেশা অনেক দিয়ে থাকি :) তবে, এটা আমার জন্য প্রযোজ্য না, কারণ, পোস্টের কমেন্ট, লাইক, ইত্যাদি নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ বা অ্যাম্বিশন কিছুই নাই। যতখানি পেয়েছি, তার চাইতে কম পেলেও আপসোস নেই, না পেলেও না। - এই পোস্টটা হলো আমার 'রানি ভানুসিংহীর ব্লগ' গল্পের উপর একটা পর্যালোচনামূলক পোস্ট।


মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ অপু তানভীর। শুভেচ্ছা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.