নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

লৌকিক রহস্য; অথবা অলৌকিক

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১:০৩


কুটিমিয়ার বয়স তখন নয় কী দশ। গ্রীষ্মের এক ঝিমধরা দুপুরে ঘরের মেঝেতে খালি গায়ে শুয়ে সে গড়াগড়ি খাচ্ছিল। এমন সময় প্রাণের বন্ধু গুঞ্জর আলী এসে হাঁক দেয়, ‘ও কুডি, গাব পাড়বার যাবি নি? নু, বাগে যাই।’
বাগের পাতি গাবগাছটায় এবার মেলা গাব ধরেছে। টসটসে পাকা গাবে দারুণ রস; বিচিগুলো মুখে পুরে জিহ্‌বার মাথায় অনবরত নাড়তে থাকে কুটিমিয়া; এ এক অমৃতের স্বাদ! এবার একদিনও সে বাগে যেতে পারে নি। কারণ, এ বছর সে তৃতীয় শ্রেণিতে উঠেছে। দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ক্লাস, অথচ বাগে ছেলেদের খেলা জমে ওঠে ঠিক দুপুরবেলাটায়, যখন সে স্কুলে থাকে।
আজ তার স্কুল ছুটি। কত দুপুর চলে গেছে সে বাগে গিয়ে খেলে না, বনের গাছগুল্ম থেকে ফলফলাদি খায় না। সহসা বাগে যাওয়ার কথা শুনে কুটিমিয়ার হুঁশ থাকে না। গলায় একটা গামছা জড়িয়ে গুঞ্জর আলীর সংগে রুদ্ধশ্বাসে গভীর বাগের দিকে ছোটে।

ঘন জঙ্গল আর ফলমূলের গাছপালায় পরিপূর্ণ গভীর বনটাকে এ গাঁয়ের সবাই ‘বাগ’ ডাকে। অজানা কাল থেকেই এ বাগ শণ, কাশ, বেত, আরো নানা জাতের আগাছায় ছেয়ে থাকতো। এর একধারে একটা ছোটো ডোবা; এ ডোবার পানিতে গোসল কিংবা রান্না হয় না, কারণ এটি কচুরিপানায় ভর্তি; এর পানি দেখতে কুচকুচে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত, অধিকন্তু বসতিস্থান থেকে বেশ দূরে। এ ডোবার পানি শুকিয়ে কমে এলে ছেলেরা দল বেঁধে পানি সেচে মাছ ধরে। বাগের শণ আর আগাছা সাফ করে কেউ ফসল ফলাবার চেষ্টাও করে না, কেননা তাতে শ্রম ও অর্থব্যয়ের তুলনায় প্রাপ্য শস্যের পরিমাণ নেহায়েতই কম হয়। এ বাগের প্রকৃত কোনো মালিক আছে কিনা তা নিয়ে কেউ কোনোদিন ঘাঁটাঘাঁটি করে নি। কারো শণের প্রয়োজন হলে শণ কেটে নেয়। যার লাকড়ির দরকার পড়ে সে এসে আস্ত একটা গাছ কেটে ফেলে। বাগের আরেক ধারে কয়েকটা কবর আছে; যে-সব মৃতের স্ব-ভূমিতে জায়গা হয় না, তাদের জন্য বাগের এই কোনাটা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাগের ভিতরের গাছগুলো একেবারেই বনজ, ওগুলোকে কেউ বপন বা রোপণ করেছে বলে কারো জানা নেই। গাছগুলোর কোনো পরিচর্যাও হয় না, ওগুলো বেড়ে ওঠে প্রকৃতির আপন হাতের আদরযত্নের মধ্য দিয়ে। বাগের উত্তর ধারে একজোড়া অতি লম্বা তালগাছ; মৌসুম এলে তাল পাকে, পাখিরা ঠুকরে খায়, তলায় পড়ে, সেগুলোও বাগের পশুপখিরাই খায়। এ বাগে আমগাছের সংখ্যা সবচাইতে বেশি। দু-তিনটা কাঁঠাল গাছও আছে, একটা বরই গাছ, বড় দুটি শিমুল গাছ, আর আছে প্রচুর বেতঝাড়। আর আছে প্রচুর শেয়াল; সন্ধ্যা, মধ্যপ্রহর এবং শেষরাতে এদের সম্মিলিত শোরগোলে পুরো এলাকা সচকিত হয়ে ওঠে, এমনকি দুপুরেও কোনো কোনো নিঃসঙ্গ শিয়াল মাঝে মাঝে হঠাৎ ডেকে ওঠে। বাগের মধ্যিখানে সর্বাপেক্ষা বেশি স্থান দখল করে বিশাল ঝুপড়ির মতো দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীনতম একটি গাবগাছ।

গরমের দিনে বাগের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নালাগুলো শুকিয়ে চর হয়; তখন ছেলেরা ওখানে খেলায় মেতে ওঠে। কেউ গেছোমেছো খেলে, আম কুড়ায়, কুল পাড়ে, তেঁতুল ছিঁড়ে; কেউ পাখির বাসা খোঁজে; কেউ ডাংগুলি বা মার্বেল খেলে; কেউ কেউ চড়ুইভাতির আয়োজন করে; কেউ গাছের শাখায় দোলনা বেঁধে আপন মনে দোল খেতে খেতে গান গায়। কেউ কেউ দারুণ ইঁচড়ে পাকা; তারা তাস খেলে, গাঁজা কিংবা আফিম খায়। যখন মাঠে মাঠে ফসল কাটার ধুম পড়ে যায় তখন কিন্তু বাগের দুপুরবেলাটা প্রায় নিরালা হয়ে পড়ে। যাদের কাজ নেই, কিংবা কাজের বয়স হয় নি কেবল ওদের দু-চারজনকে তখন বাগে দেখা যায়। দুপুরের গরমে প্রচুর গাব পাকে। তাই ছেলেরা দুপুরেই বাগে এসে গাবগাছে হানা দেয়।

কুটিমিয়া আর গুঞ্জর আলী বাগে ঢুকে খুশিতে ডগমগ হয়ে উঠলো, কারণ, ওরা দুজন ছাড়া বাগে আজ কেউ নেই; গাছের সবগুলো পাকা গাব আজ ওদের।
প্রকাণ্ড ঝাঁকড়া গাছটাতে দুজনে হুড়হুড় করে উঠে পড়ে। এবার প্রচুর গাব ধরেছে, গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। দু বন্ধু টুকটুক পায়ে এক ডাল থেকে আরেক ডালে যায়, মগডালে পৌঁছে একটার পর একটা টিপে পরখ করে দেখে পেকেছে কিনা। পাকাগুলো ছিঁড়ে লুংগির কোঁচড়ে গোঁজে, মাঝে মাঝে দু আঙ্গুলের চাপে টাস করে পাকা গাবের পেট ফাটিয়ে চুমুক দিয়ে রস খায়, বিচিগুলো মুখে পুরে নেবুনচুষের মতো চুষতে থাকে।
‘কয়ডা পাইলিরে কুডি?’ জাবর কাটতে কাটতে গুঞ্জর আলী জিজ্ঞাসা করে।
‘আট-দশটার মতন অইবো।’ কুটিমিয়া জবাব দেয়।
‘রসে একদুম টসটস করবার লাগছে, তাই না কুডি?’
‘হ…মি-ডা কী!’ কুটিমিয়া টেনে টেনে বলে।

দুজনের মুখক্রিয়া চলতে থাকলেও কিছুক্ষণ কথাবার্তা বন্ধ থাকে। হঠাৎ কুটিমিয়ার চোখদুটো চকচক করে ওঠে। একটা চিকন ডালের একেবারে মাথায় বড় একটা গাব পেকে হলুদ হয়ে আছে। চিকন ডালটি বেয়ে অতোদূর যাওয়া যায় না, মুহূর্তে মটমট শব্দে ডাল ভেংগে পড়ে যাবে। তবু সে বার কয়েক ঝুলে পড়ে ওটা নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু সব চেষ্টাই বার বার বৃথা যায়। টসটসে এ গাবটা পাড়তে না পারলে তার মনে খুব আফসোস থেকে যাবে।
‘ও গুঞ্জর আলী, ক তো দেহি কী করন যায়?’ বলেই সে গুঞ্জর আলীর দিকে তাকায়, আর মুহূর্তের মধ্যে বাগের চারদিক কাঁপিয়ে সে ভয়ে বিকট চিৎকার দিয়ে ওঠে— 'ও বাবা রে…।’ কুটিমিয়ার পেছনের এক ডালে, যেখানে এতক্ষণ গুঞ্জর আলী গাব পাড়ছিল, সেখানে গুঞ্জর আলী নয়, বসে আছে অন্য একজন, সে হনু পাগলি, তিন বছর আগে যে হনু পাগলি এ গাছের নীচের একটা ডালে ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েছিল, সেই হনু পাগলি; ফরসা ধবধবে একটা লালপেড়ে শাড়ি তার পরনে। কুটিমিয়ার এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে, গলায় ফাঁস দিয়ে মরবার সময়ে তার পরনে এমন একটি লালপেড়ে সাদা শাড়ি ছিল, তবে সেটি এত ধবধবে ছিল না, খুব নোংরা আর ময়লা ছিল। অন্য কেউ হলে এখন ভয়ে জ্ঞান হারাতো, পা ফস্‌কে পড়ে গিয়ে কোমর-হাত-পা-ঘাড় ভাঙতো, মৃত্যুও হতে পারতো। কিন্তু কুটিমিয়া ভয়ে কাঠ হয়ে গেছে সত্যি, তবু দু হাতে শক্ত করে গাছের ডাল ধরে চোখ বন্ধ করে গলা ফাটিয়ে ‘ও বাবারে’ করে চিৎকার পেড়ে যাচ্ছে।
আচমকা কুটিমিয়ার কাঁধের ওপর একটা শক্ত হাত পড়তেই সে আরো জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। সেই হাত ওর কাঁধ ধরে ওকে ক্রমাগত টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কুটিমিয়ার মনে হচ্ছে হনু পাগলির হাতটাতে বাঘের হিংস্র ও ধারালো নখর গজিয়েছে, সেই নখর দিয়ে ওর কাঁধটাকে খামচে চিলেবিলে করে ফেলছে।
হঠাৎ কুটিমিয়া এক পরিচিত কণ্ঠের আওয়াজ শুনতে পায়—‘ও কুডি, তর কী অইছে রে? কী অইছে?’
কুটিমিয়ার প্রাণ বুঝি ধড়ে ফিরে আসে। ওর চিৎকারের শব্দ স্তিমিত হতে থাকে। সে অতি ভয়ে ভয়ে চোখ খুলে দেখে, গুঞ্জর আলী ওর কাছে এসে কেবলই কাঁধ ঝাঁকি দিয়ে যাচ্ছে; ভয়ার্ত স্বরে সে বলছে, ‘ও ভাই কুডি, তর কী অইছে? কী অইছে? ডরাইছা? কী দেইক্যা ডরাইছা?’
কুটিমিয়ার ভয় তবু কাটে না। শংকিত চোখে সে পেছনের ডালে তাকায়, সারা গাবগাছের সবগুলো ডালের দিকে তাকায়, নীচের দিকে তাকায়—না, হনু পাগলি নেই। কুটিমিয়ার শরীর তখনো থরথর করে কাঁপছে। কিছুক্ষণ পরপর বুক থেকে অন্তরকাঁপা ভারী দীর্ঘশ্বাস বের হয়। কিন্তু গুঞ্জর আলীকে সে আসল রহস্য খুলে বলে না। শুধু বলে, ‘গুঞ্জর, বাইত্তে যাবি? আমি যাই গ্যা। যাবি তুই?’
কুটিমিয়া তরতর করে গাছ থেকে নেমে দৌড়ে বাড়ির দিকে ছোটে। ফেরার পথে ভয়ে ভয়ে বার বার পেছনে তাকিয়ে দেখে গুঞ্জর আলীও আসছে কিনা। না, গুঞ্জর আলী আসছে না। কুটিমিয়ার মনের ভিতর আরেকটা ভয় দ্রুত দানা বাঁধতে থাকে—এই যে এতক্ষণ যার সাথে গাবগাছে চড়ে গাব পাড়া হলো ওটা আসলে গুঞ্জর আলী নয়, ওটা অন্য কিছু, অশরীরী কিছু ছিল। এই ভরদুপুরে ওটা গুঞ্জর আলীর ছল ধরে ওকে বাগে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। নিশ্চয়ই কোনো বড় পীর-আওলিয়ার দোয়া আছে, কুটিমিয়া ভাবে, নইলে হয়তো এটা আজ ওর ওপর আছড় করতো, হনু পাগলির মতো ওকেও গাবগাছের নীচের ডালটাতে, কিংবা হয়তো একেবারে মগডালটাতেও উঠিয়ে গলায় ফাঁস পরিয়ে ঝুলিয়ে দিত। সবাই বলতো—আহারে, গরীবের পোলাডা মনের দুঃখে গলায় ফাঁস দিয়া ভবের মাইয়া ছাইড়া চইলা গেছে।

ভৌতিক ঘটনাগুলো ঘটবার বিশেষ বিশেষ ক্ষণ বা প্রহর আছে। এগুলো ঘটে হয় একেবারে নিরালা দুপুরে, অথবা ভরসন্ধ্যায়, ভরা পূর্ণিমা বা অমাবস্যায়, কিংবা রাত্রির মধ্য অথবা শেষ প্রহরে। ভরদুপুরে ঘরের বার হওয়া কুটিমিয়ার জন্য নিষেধ ছিল। এমন এক নিঝুম দুপুরে একটা অতিভৌতিক ব্যাপার ঘটেছিল। সেবারও সে প্রাণে রক্ষা পেয়েছিল।




দুপুরের ঠাটা রোদ। কোথাও এক ফোঁটা বায়ু নেই। গ্রীষ্মের লাংগলচষা মাঠগুলো ধু-ধু আর খাঁখাঁ করছিল।
কুটিমিয়ার ছিল ঘুড়ি উড়ানোর প্রচণ্ড শখ। সেদিন সকালবেলা তার প্রতিবেশী খোরশেদ চাচা একটা বিশাল ঘুড়ি বানিয়ে দিয়েছিল। ঘুড়িটা সকালে বানালেও তখন সে উড়াতে পারে নি। তার কাছে মাত্র সাত-আট হাত সুতা ছিল। এত অল্প সুতা দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো যায় না। ঘুড়ি উড়াতে দীর্ঘ, সরু ও শক্ত গুটিসুতা লাগে। ঘুড়ি ডানা ঝাপটে উর্ধ্ব আকাশে উঠে ছোট্ট পাখিটির মতো ডিগবাজি খায়, গুত্তা কাটে। বিকেলে দূরের মেঘুলা বাজার থেকে ফেরার সময় খোরশেদ চাচা সুতা নিয়ে আসবে। এই সুদীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা তাকে কেবলই যন্ত্রণা দিতে লাগলো। স্কুলে যেতে তার মন চায় নি, তবুও গেলো। ক্লাসে বসে প্রবল আগ্রহ আর উত্তেজনায় ছটফট করলো; বইপত্র নাড়াচাড়া করলেও মন পড়ে রইলো প্রাণপ্রিয় ঘুড়িটার কাছে—যদি এমন হয়, বাড়ি ফিরেই দেখে সুতা পেঁচানোর ছোটো কাঠিটায় কোনো এক জিনের বাদশা সুতায় ভরে দিয়ে গেছে, বইখাতা ছুঁড়ে ফেলে এক দৌড়ে ঘুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়বে, জিনের বাদশাকে সে পনর পয়সার বাতাসাও দিবে।
ছুটি শেষে বাসায় ফিরে কুটিমিয়া হতাশ চোখে দেখে, তার শুকনো কাঠিটার গায়ে পুরোনো সাত-আট হাত সুতাই পেঁচানো রয়েছে।
কিন্তু তাকে ঘুড়ি উড়াতেই হবে। সে ভীষণ অস্থির হয়ে পড়লো। উত্তেজনার যন্ত্রণা চেপে রাখতে না পেরে ঘুড়ি আর সুতার কাঠি নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে হাওয়া হয়ে গেলো।
কিন্তু ঘুড়ি উড়ানো ভীষণ দায় হলো। একটুও বাতাস নেই, একটা শিমুল তুলা পর্যন্ত ওড়ে না।
অবশেষে এক অভিনব কায়দায় এতটুকুন সুতা দিয়েই কুটিমিয়া ঘুড়ি উড়ানো শুরু করলো। সুতার মাথায় ঘুড়ি বেঁধে কাঠি হাতে ক্ষেতের লম্বা আইল ধরে সে দৌড় দেয়, অমনি সুড়সুড় করে ঘুড়ি ওপরে উঠে যায়। যেই না চাঁদি বরাবর উঠে এসে স্থির হয়ে দাঁড়ায়, অমনি সে হাত থেকে সুতার কাঠিটি ছেড়ে দেয়। বাতাসহীন শূন্যে দুদিকে ঢেউ খেলতে খেলতে অল্প একটু দূরে গিয়ে অতি ধীরে ঘুড়ি ক্ষেতের ওপর নেমে পড়ে।
কুটিমিয়া আবার আগের মতো কাঠি হাতে আইল ধরে জোরে দৌড় শুরু করে, ঘুড়ি মাথার ওপরে আসামাত্র কাঠি ছেড়ে দেয়। নীরব গুত্তা খেতে খেতে অলসভাবে মাটিতে নেমে আসে ঘুড়ি। কুটিমিয়া দেখে এ এক দারুণ মজা তো! ঘুড়ি উড়ানোয় এমন মজা সে জীবনে পায় নি।
এভাবে ছয়বারের মতো সে বাতাসহীন নিম্ন আকাশে ঘুড়ি উড়ালো। সপ্তমবারের মাথায় এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটলো। আগের মতো অলস ঢেউ খেলে ঘুড়ি নীচে নামলো না, এক অদ্ভুত উলটো ঘটনা ঘটতে লাগলো। ধীরে ধীরে সেই ঘুড়ি ওপরের দিকে উঠতে থাকলো। আশ্বিনের ক্লান্ত দুপুরে অলস চিল যেমন বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে উর্ধ্বাকাশে উঠতে থাকে, মৃত গরু ভক্ষণ শেষে শকুনেরা যেমন গোলাকারে উড়তে উড়তে অদৃশ্য হতে থাকে, কুটিমিয়ার ঘুড়িটাও ঠিক সেভাবে উর্ধ্বাকাশের দিকে ধাবিত হতে থাকলো। দেখতে দেখতে ঘুড়িটি উত্তর আকাশের দিকে বহু ওপরে উঠে গেলো।
এরূপ দৃশ্যে কুটিমিয়া প্রথমে খুব মজা পেয়েছিল। সে ভেবেছিল, ঘুড়িটা হঠাৎ কোনো ঘুর্ণি বাতাসের মধ্যে পড়েছিল, যার ফলে এভাবে ওপরের দিকে উঠে গেছে, একটু পরই নীচে নেমে আসবে।
কিন্তু একটু পরও যখন ঘুড়ি নামলো না তখন সে হতবাক হয়ে গেলো; যখন বেশ ওপরে উঠে গেলো তখন তার হঠাৎ মনে হলো অনেক সাধের ঘুড়িটি আর নীচে নেমে আসবে না, আর তখনই সে গলা ছেড়ে চিৎকার জুড়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিকে দৌড়াতে শুরু করলো—আমার গুড্ডি উইরা গেলো গা—আমার গুড্ডি...গুড্ডি...। দৌড়াতে দৌড়াতে সে বার কয়েক হোঁচট খেলো, ক্ষেতের শক্ত ইটার ওপর পড়ে তার হাঁটু ছুলে গেলো, বুক ছুলে গেলো, গোড়ালি মচকে গেলো। শেষবার মাটিতে পড়ে গিয়ে সে যখন তৃষ্ণায় হাঁপাচ্ছিল, হঠাৎ কোথা থেকে এসে তাকে উঠিয়ে কোলে তুলে নিল পাশের বাড়ির মতির মা বুড়ি। বুড়ির বুকের সাথে মিশে গিয়ে অর্ধ-অজ্ঞান অবস্থায়ও সে আকাশের দিকে আংগুল উঁচিয়ে দুর্বোধ্য ভাষায় তার অতি আদরের ঘুড়িটা উধাও হয়ে যাওয়ার কথা বলতে লাগলো।
তার পরের কোনো কিছুই সে আর ঠাওর করতে পারে নি। যখন সে চেতন হলো তখন অনেক রাত হয়ে গেছে। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে তার বাবা-মা, চাচা-চাচি, ফুফু-দাদি সবাই তাকে ঘিরে বসে আছে। সবাই কেমন কাঁদ-কাঁদ হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে।
কুটিমিয়ার বাবা নালমিয়া তাকে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে নেন। বলেন, ‘তরে তো আর পাইতাম নারে বাজান, আর পাইতাম না।’ তারপরই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। কিন্তু কুটিমিয়া বাবার এভাবে কেঁদে ফেলার কারণ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না; সবাই কেন তাকে ঘিরে এভাবে মলিন মুখে বসে আছে তা-ও আন্দাজ করতে পারে না। সে অবাক চোখে সবার দিকে তাকিয়ে থাকে।

পরদিন সারা গাঁয়ে আসল ঘটনা ছড়িয়ে পড়লো। ভরদুপুরে কুটিমিয়া নির্জন রুক্ষ ক্ষেতের ওপর দৌড়ে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। হঠাৎ সেই ঘুড়ির ওপর জিনের আছড় পড়ে। কুটিমিয়ার হাতে সুতা পেঁচানো কাঠি ছিল। কাঠিসমেত কুটিমিয়াকে নিয়ে সেই ঘুড়ি ভোঁ ভোঁ করে ক্রমশ ওপরে উঠতে থাকে। প্রথমে হাঁটু পরিমাণ উঁচুতে ঝুলে ছিল, তারপর কোমর পরিমাণ, তারপর গলা সমান—ঐ সময় মতির মা বুড়ি অদূরে তার ছাগল চরিয়ে বাড়ি ফিরছিল; হঠাৎ এই অদ্ভুত ও ভয়ানক কাণ্ড তার চোখে পড়ে, এবং মুহূর্তে তার যক্ষের ধন ছাগল ফেলে দৌড়ে এসে কুটিমিয়ার পা টেনে জাপ্টে ধরে। জিনটার শরীরে সাংঘাতিক শক্তি ছিল, মতির মা যতোই পা টেনে নীচে নামায়, ঘুড়িটা ততোই প্রবল বেগে, মতির মাকে সহ ওপরে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায়। মতির মা উচ্চস্বরে একটানা ‘কুল্‌হু আল্লাহু’ সুরা পড়তে থাকে। অবশেষে মুশকিল আসান হয়, কুটিমিয়ার হাত গলে সুতার কাঠি বের হয়ে যায়, জিনের ঘুড়িটা গুত্তা খেতে খেতে আসমানে উঠে মিলিয়ে যায়। সর্বাঙ্গ অবশ কুটিমিয়াকে বুকে চেপে আপদ-বালাই দূর হওয়ার দোয়া পড়তে পড়তে বাড়ি ফিরে আসে মতির মা।

চারদিকে হু হু করে মতির মার নাম ছড়িয়ে পড়লো। ভালো যে সে ওখানে ছাগল চরাতে গিয়েছিল, তা না হলে কুটিমিয়ার কী দশা হতো! তাকে আর খুঁজে পাওয়া যেতো না, আসমানের অনেক ওপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে কোনো এক গহিন জংগলে কিংবা মরুভূমিতে তাকে ফেলে দিত জিনটা। তার বাঁচার আর কোনো সম্ভাবনাই থাকতো না। মতির মার মতো এমন সাহসী, এমন দরদী মানুষ আর হয় না; নিজের জীবন বাজি রেখে জিনের সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তি করে সে কুটিমিয়ার জীবন বাঁচিয়েছে।

কুটিমিয়াকে কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করে, ‘যেসুম দ্যাকলা জিন তুমারে টাইন্যা ওপরে নিয়া যাইতেছে, হেইসুম আতে গনে সুইত্যার গুডি ছাইড়্যা দিলা না ক্যান?’
কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমারে কত্থানি উপরে উডাইছিল? গিরা সুমান, নাকি বুক সুমান? নাকি মাতা সুমান?’
সে খুব লজ্জিতভাবে বলে, ‘পায়ের পাতা সুমান উপরে উইড্যা গেছিলাম।’
অবশ্য কারো কারো কাছে বললো কোমর পর্যন্ত, শেষ পর্যন্ত বললো মাথা সমান উপরে উঠে গিয়ে সে বেশ কিছুক্ষণ ঝুলে ছিল।
প্রথম প্রথম কুটিমিয়া এসব প্রশ্নের আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারে নি। সে উলটো প্রশ্ন করতো, ‘আমারে আবার গুড্ডিতে উড়াইয়্যা নিল কুনসুম?’
কুটিমিয়ার পালটা প্রশ্নে মানুষ বলতে শুরু করলো, ‘তুমার তো অহনে কিছুই মনে নাই। জিনে দরলে কিছছু মনে থাহে নি?’
আদতে কুটিমিয়া কিছুই মিলাতে পারছিল না। সে মনে করতে পারছিল না কখন ঘুড়ির সুতার কাঠি ধরে সে ঝুলে ছিল। সে শুধু সুতার কাঠি বার বার ছেড়ে দিয়ে ঘুড়ি উড়ানোর নতুন খেলায় মেতে উঠেছিল। অমন ঘটনা ঘটলো কখন?
একবার তার মা-বাবার কাছেই কুটিমিয়া বলে ফেললো, ‘আমারে তো গুড্ডিতে টাইন্যা উপরে উডায় নাই...’
বাবা তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘তুমার কি হেসুম কুনো উশ-জ্ঞান আছিল রে বাজান? উশ জ্ঞান থাকলে তো আতে গনে গুড্ডিই ছাইড়্যা দিবার পারতা।’
কুটিমিয়ার মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। মতির মা এসে তার হাত দেখায়, ‘দ্যাক, তরে টানতে টানতে আমার আতের ফানা নাল অইয়্যা গেছে।’
কুটিমিয়া মতির মার লাল হয়ে যাওয়া হাতের তালুতে তার নরম হাতের আঙ্গুল বোলাতে থাকে। সত্যিই বেশ ফুলে গেছে, লাল হয়ে আছে।
মতির মা বলে, ‘তর দুই পায়ের গুরালিও ফুইল্যা গেছে। কম জুরে টানছি?’
কুটিমিয়া তার পায়ের গোড়ালিতে হাত বোলায়। হ্যাঁ, বেশ আরাম বোধ হচ্ছে। জায়গাটা ফুলে আছে।
কিন্তু কুটিমিয়ার মনে বিষম সন্দেহ, ‘আমি তো ক্ষ্যাতের ওপর দিয়া আলুপাত্তারি আটছিলাম, অনেকবার উইচট্যা খাইছি। এই ব্যাতা তো হেইসুমই পাইছি।’
এই বিস্ময়কর ঘটনার আরেকজন চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া গেলো—সে হলো পাশের গাঁয়ের হোসেন মিয়া, যাকে সবাই একগড়া হুসেন মামু ডাকে।
হোসেন মামা ঐ সময় দূরের ক্ষেতে ইটামুগুর দিয়ে ইটা ভাংছিল। মতির মা যখন কুটিমিয়ার পা ধরে নীচের দিকে টানাটানি করছিল, তা দেখতে পেয়ে হোসেন মামাও ইটা ভাংগার কাজ ফেলে লম্বা এক দৌড় দিয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মতির মা কুটিমিয়াকে টেনে মাটিতে নামিয়েছিল। হোসেন মামার নিজ চোখে দেখা ঘটনা।
এসব কথা শুনে কুটিমিয়ার মনের ভিতরে আস্তে আস্তে বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করে, ‘হ, তাই-ই অইবো। আমি তো ঘুরের মইদ্যে আছিল্যাম। কী ঘডনা ঘইড্যা গেছে তা বড় আমার মনে আছে নি? মতির মা যা কইবার লাগছে হেইডাই সইত্য।’
এই ঘটনার পর থেকে ঘুড়ি উড়ানো তো নিষিদ্ধ হলোই, দুপুরবেলায় বাড়ি ছেড়ে বাইরে যাওয়াও কুটিমিয়ার জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হলো।

এভাবে বছর দুয়েক চলে যায়, আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে। এক সময় সেই নিষেধাজ্ঞার কথা বাড়ির সবাই বেমালুম ভুলে বসে। সেই ভুলে যাওয়ার ফাঁক গলে গলে কুটিমিয়া এক-আধটু করে দুপুর বেলায়ও বাইরে বেরোনো শুরু করলো। বাগের গাবগাছে গাব পাড়া, বেতবনের বেতুল তোলা, তেঁতুল-কুল-আম পাড়া, পাখির বাসায় ডিম আর পাখি খোঁজা, যখন তখন জলে ঝাঁপ দেয়া, এমনকি ঘুড়ি উড়ানোও, সব চলতে থাকলো আগের মতো। ঠিক এমন সময়েই এক দুপুরে সে গুঞ্জর আলীর সাথে বাগের গাবগাছে গাব পাড়তে গিয়েছিল।

আরো একবার একটা অত্যাশ্চর্য ঘটনা ঘটেছিল।
কুটিমিয়ার বয়স তখন বারো-তের। সে, তার ছোটো ভাই চানমিয়া আর চাচাত ভাই আলামিয়া—রাতে এ তিনজন একত্রে রসুই ঘরে থাকে।




কুটিমিয়াদের বাড়ির উত্তর দিকে একটা বড় ঝিল আছে। সেই ঝিলে বারো মাস পানি থাকে। ঝিলের চারদিকের উঁচু জমিতে আউশ আর আমন ধানের চাষ হয়। বৃষ্টি হলে ধানক্ষেতের পানি গড়িয়ে সেই ঝিলে নামে। পানির সেই ধারা বেয়ে ঝিল থেকে ধানক্ষেতের ওপরে উঠে আসে দুই-তিন সনী কইমাছ। রাতের বেলা ধানক্ষেত মাড়িয়ে এসব কইমাছ ধরাতে প্রচুর রোমাঞ্চ আছে। কিন্তু বৃষ্টির রাতে কইমাছ গাবানোর রহস্য সবাই জানে না, জানলেও কেউ ঘর থেকে বেরোয় না কেবল সাহসের অভাবে।
পাশের বাড়ির আবুল এ ব্যাপারে দারুণ ওস্তাদ। সে কুটিমিয়ার প্রিয়বন্ধুদের একজন। সে আবুলের মুখে রাতে কইমাছ ধরার অনেক গল্প শুনেছে। আবুলদের বাড়িতে বড় হাঁড়িতে জিয়ানো আলীশান কইমাছের দাপাদাপি দেখে মাছ ধরার ইচ্ছেয় সে পাগল হয়ে উঠেছে বহুদিন। কিন্তু আবুলের মাছ ধরার নিশিসঙ্গী সে কোনোদিন হতে পারে নি। কেননা, রাত-বিরাতে মা-বাবা তাকে ঘর থেকে বেরোতে দেন নি।

কিন্তু কুটিমিয়া এখন স্বাধীন। সে বড় হয়ে উঠেছে। এখন তাকে মা-বাবার সাথে এক ঘরে শুতে হয় না। কিছুদিন আগে থেকে তারা তিন ভাই আলাদা ভাবে রসুইঘরে ঘুমায়। রাতে যে ভয়ডর লাগে না তা না। তিনজনের মধ্যে চানমিয়া সবার ছোটো। সে শখ করে এদের কাছে থাকে। বড়ই খেয়ালি ছেলে, একেকদিন হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে চিৎকার জুড়ে দেয়, ‘ও বাজান, আমারে নিয়া যাও। আমারে নিয়া যাও বাজান।’ বাবা কিংবা মা এসে তাকে ঘরে নিয়ে যান।
মাঝেমধ্যে মা-বাবা কিংবা চাচা-চাচিরা পায়খানা প্রস্রাবের জন্য বের হোন, ওদের ঘরের দরজায় টোকা দেন, বেড়ায় থাপ্পড় দেন বা মৃদু ডাকাডাকি করেন। এতে একটা লাভ হয়, বুকের ভিতর যদিও বা সামান্য ভয়ডরের উদ্রেক হয়, এই ডাকাডাকিতে তা হালকা হয়ে যায়। কিন্তু এতকিছুর পরও পুরোটা রাত কুটিমিয়ার কাছে নিজেকে খুব স্বাধীন মনে হয়। ঘর থেকে চুপিচুপি বেরিয়ে কারো সাথে জয়পাড়া হলে সিনেমা দেখে এলে বাড়ির কাকপক্ষীটিরও জানার সাধ্য নেই।

আশ্বিনের এক রাতে সারারাত অঝোর ধারায় বৃষ্টি হওয়ার পর শেষ রাতের দিকে তা থেমে গেলো। কুটিমিয়ার মনের ভিতর তখন তোলপাড়—‘ইশ্‌, যদি আবুল আইয়া ডাক দিত, আইজক্যা অনেক কইমাছ ধরন যাইতো।’ সে কান খাড়া করে থাকলো, কারণ, তার দৃঢ় বিশ্বাস আবুল আসবেই। যখন সে মা-বাবার সাথে এক ঘরে থাকতো, এমন নিশীথে কাশতে কাশতে তাদের দুয়ার পার হয়ে রাস্তায় বের হয়ে যেতো আবুল; খাল পার হয়ে ওপারের ধানক্ষেতে গপাগপ অনেক কইমাছ ধরতো।
কুটিমিয়া কান খাড়া করেই ছিল, এমন সময় হঠাৎ নীচু গলায় আবুলের ডাক, ‘কুডি ঘুমাইতেছা নি রে?’
এক লাফে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় কুটিমিয়া। তারপর পাটখড়ির ঝাঁপ সরিয়ে দরজায় এসে দাঁড়ায়। রোমাঞ্চে থরথর গলায় জিজ্ঞাসা করে, ‘ওইপাড়ে যাবি?’
‘হ...যাবি নি? গেলে আয়।’
‘খাড়া, আইফ্যার লাগছি।’ বলেই ঘরের ঝাঁপ ভেজিয়ে দ্রুত বের হয়ে আসে।
আবুলের এক হাতে ছাতা ফুটানো, আরেক হাতে একটা টর্চ আর ব্যাগ।
‘তুই টর্চটা আতে নে।’ আবুল বলে।
‘জুতি আনলি না?’ কুটি জিজ্ঞাসা করে।
‘জুতি লাগবো না।’
ধানক্ষেতের আইল বরাবর আসতেই পানির কলকল শব্দ, তাতে কইমাছের ছোটাছুটি আর ক্যাতকুত শব্দে কুটিমিয়ার শরীরে উত্তেজনার আগুন জ্বলে উঠলো।
দুজনে ধানের সারি ফাঁক করে ক্ষেতে নামে—টর্চের আলো সামনে ফেলেই কুটিমিয়া পাগল হয়ে গেলো, এত্ত কই! কইমাছের এরূপ দাপাদাপি-ছোটাছুটি সে জীবনেও দেখে নি।
হাতের ছাতাটা কুটিমিয়ার হাতে দিয়ে আবুল বলে, ‘তুই খালি সোজা কইরা টর্চ মারতে থাক।’
আবুলের বাম হাতে ব্যাগ। উবু হয়ে একটা একটা করে কইমাছ ধরে ব্যাগের ভিতরে পুরতে লাগলো। একেকটা কই বড়ই দুষ্টু—ধরতে গেলেই ছুট দেয়—পিছে পিছে আবুলও ছোটে। কিন্তু ওর চালাকির কাছে কইমাছের দুষ্টুমি কিছুই না।
‘আমিও দরি?’ কুটিমিয়া আবুলকে বলে।
‘তুই পারবি? লাইড দরবো ক্যাডা?’ আবুল মৃদু ভর্ৎসনার স্বরে বলে।
‘এক কাম করি, তুই ছাতি আর লাইটটা দর, আমার কাছে ব্যাগ দে, আমি কয়ডা দইর‌আ দেহি।’ কুটিমিয়া বলে।
‘তুই পারবি ন্যা।’ আবুল একটা ঝাড়ি দেয়। কুটিমিয়া মর্মাহত হয় এবং দমে যায়।

কুটিমিয়ার বাম দিকে একটা বড় রকমের ক্যাতকুত শব্দ হলো—ওদিকে টর্চ ধরতেই ওর দু চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেলো—‘একদম হাত্তির সুমান কই রে!’ বলেই সে নীচু হয়ে ওটা ধরার জন্য হাত বাড়ায়, কিন্তু কইটা খড়্‌ড়ৎ করে সামনের দিকে একটা লম্বা দৌড় মারলো, তারপর ধানের গোছার মধ্যে টুপ করে লুকিয়ে গেলো। কুটিমিয়া নাছোড়বান্দা, ওটা সে ধরবেই। সে পা টিপে টিপে সামনে এগোয়, আলগোছে ধানের গোছায় হাত রাখে, অমনি কইমাছটা আবারো দৌড়ে আগের মতো মাথা গুঁজে লুকিয়ে যায়। এভাবে লুকোচুরি খেলা চলতে থাকলো, কুটিমিয়া দৌড়ায়—কইমাছটাও দৌড়ায়, যেন দাঁড়িয়াবাঁধা খেলা। শেষ পর্যন্ত এক দৌড়ে মাছটা কোথায় গিয়ে কোন্‌ ধানগোছার মধ্যে লুকালো তার কোনো হদিস পাওয়া গেলো না।
আবুল ঠিকই বুঝেছিল কুটিমিয়া মাছ ধরতে জানে না। এত চেষ্টা করেও মাছটা ধরতে না পেরে সে মনে মনে খুবই লজ্জিত হলো। লজ্জিত হবার আরেকটা কারণ হলো এতক্ষণ সে আবুলের জন্য টর্চ ধরে নি, নিশ্চয়ই ওর ওপর ভীষণ চটে আছে।
কুটিমিয়া ঘুরে আগের জায়গায় চলে আসে। আবুল মাছ ধরতে ধরতে সামনের দিকে অনেক দূর চলে গেছে। ও এতই পটু যে টর্চের আলো ছাড়াই অন্ধকারে দেধারছে মাছ ধরছে। মাছের ছোটাছুটি, মাছের পিছনে আবুলের দৌড়, টুপটাপ শব্দ, মৃদু কাশি শোনা যায়। কুটিমিয়া সামনে এগোয়।
‘ব্যাগ ভরছে নি রে?’ সংকুচিত স্বরে কুটিমিয়া জিজ্ঞাসা করে।
‘হুঁম।’
‘তুই কুতায়?’ টর্চ মারতে মারতে আরো সামনে যায় কুটিমিয়া।
মাছ ধরার নেশা বড় নেশা। এই নেশায় ধরলে দিনদুনিয়ার কোনো কথা মনে থাকে না। কাদাপানির মধ্যে আবুলের পা ওঠানামার শব্দ পাওয়া যায়, ওর নাকের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ পাওয়া যায়। কুটিমিয়া সামনে এগোতে থাকে।
‘তুই কই রে?’ কুটিমিয়া আবার জিজ্ঞাসা করে।
‘এই যে...।’ আবুল একটু টেনে টেনে বলে।
‘এত দূরে গ্যাছা ক্যান?’
আবুল আস্তে আস্তে বেশি পানির মধ্যে চলে গেছে। সে হাতড়েও মাছ ধরতে বড় ওস্তাদ।
কুটিমিয়া ধানের সারি ফাঁক করে টর্চের আলো ফেলে সামনে এগোয়।
‘আবুল...।’ কুটিমিয়া স্বর একটু উঁচু করে ডাকে।
‘কী...?’ দূরে আবুলের জবাব শোনা যায়।
‘তুই কত দূরে গ্যাছা?’
‘এই যে...’
কুটিমিয়া ধানগাছের ওপর দিয়ে সামনে টর্চ মারে। ধানের মধ্যে উবু হয়ে থাকলে কি কিছু দেখা যায়? আবুলকেও দেখা যায় না। সামনে মাছের নড়াচড়া লক্ষ করে ও বোধ হয় এক জায়গায় ঝিম ধরে কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পানিতে আর হাঁটার শব্দ পাওয়া যায় না।
‘আ..বু..ল...।’ কুটিমিয়া দীর্ঘ উচ্চ স্বরে ডাকে।
কিন্তু আবুলের কোনো উত্তর আসে না। কুটিমিয়া আবার টর্চ মারে। আবুলের মাথা দেখা যায় না। ধানের গোছাও নড়াচড়া করে না। আবুল কত দূরে গেছে?
‘আ...বু...ল...। আবুল রে...।’ কুটিমিয়া লম্বা গলায় ডাকতে থাকে।
আবুল নিরুত্তর।
আবার সে ডাকে, ‘আ...বু...ল...’
হঠাৎ ফজলুর কথা মনে হতে না হতেই কুটিমিয়ার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। হাতের সবকিছু ফেলে উলটো ঘুরে সে দ্রুত নিশ্বাসে বাড়ির দিকে দৌড়াতে শুরু করে। সে দৌড়ায়—কাদা, ধানগাছ মাড়িয়ে সে দৌড়ায় আর গলার সর্বোচ্চ স্বরে চিৎকার দিয়ে ডাকে—‘বাজান...বা-জা-ন...ও বাজান...।’ তার ভয়ার্ত চিৎকার পুরো ঝিলের চারপাশে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। কাদাপানি কোনো কিছুর কথা তার মনে থাকে না। ধানের গোছায়, লতায় তার পা আটকে যায়, দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে গিয়ে আবার সে উঠে দৌড়াতে থাকে, গগণবিদারী শব্দে তার কণ্ঠে কেবলই ‘বাজান বাজান’ ডাক শোনা যেতে থাকে।
প্রায় দু-তিন শ গজ দূরে বাড়িতে ঘরের ভিতরে কুটিমিয়ার বাপজান ঘুমভাঙ্গা চিৎকার দিয়ে ওঠেন—‘তুই কুতায় রে বাজান? তর কী অইছে...?’ ঝড়ের বেগে বেরিয়ে খালপাড়ে এসেই তিনি পানিতে ঝাঁপ দেন, সাঁতরে এপাড়ে আসেন, দৌড়ে কুটিমিয়ার কাছে গিয়ে সাপটে ধরে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে খালপাড়ে এসে দাঁড়ান। দুজনের সর্বাঙ্গ তখন থরথর করে কাঁপছে।
মুহূর্তে সারাবাড়ির মানুষ ঘর ছেড়ে খালের পাড়ে চলে আসে। কুটিমিয়া তখন বাপজানের বুকে মিশে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছে—‘আমি ডরাইছি বাজান—আমারে তাড়াতাড়ি বাইত্তে নিয়া যাও।’
প্রর্বল বর্ষণে খাল ভরে গেছে, প্রচণ্ড স্রোত। কিন্তু আশ্চর্য, কুটিমিয়া এই খাল কীভাবে পার হয়ে এপাড়ে এসেছিল তা তার মনে পড়ে না।
তার ছোটো চাচা ওপাড়ে বাঁধা বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া কোষা নৌকা সেচছে ওদেরকে পার করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

ফজলুর জীবনেও এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু আশ্চর্য, ঘুণাক্ষরেও কুটিমিয়ার সেই ঘটনা মনে পড়ে নি।




ফজলু আর হামজু পাগলা একসাথে আড়িয়াল বিলে ঝাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরতো। মাছ ধরা তাদের পেশা ছিল। তাদের দুজনের একটা কোষা নৌকা ছিল। হামজু পাগলা বইঠা বাইতো, ফজলু কোষায় দাঁড়িয়ে জাল ফেলতো। ভোর রাতে তারা বাড়ি থেকে বের হতো। আধমাইল দূরে ফকির বাড়ির ঘাটে নৌকা বাঁধা থাকতো। হামজু পাগলাদের বাড়ি একটু দূরে ছিল। ফজলুদের বাড়ির কাছে এসে সে ফজলুকে ডাক দিত, ফজলু জাল নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলে দুজনে একত্রে হাঁটতে হাঁটতে ঘাটে যেতো।

এক ভোর রাতে হামজু এসে হাঁক দিল, ‘ও ফজলু, তাড়াতাড়ি আয় দেহি।’
ফজলু চোখ ডলে ঘর থেকে জাল নিয়ে বের হয়। বউ ঘরের দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়ে।
এর বহুক্ষণ পর হামজু পাগলার ডাকে ফজলুর বউয়ের ঘুম ভেঙ্গে যায়।
‘ফজলু, ও ফজলু...’
‘ও হামজু ভাই...,’ তড়িঘড়ি দরজা খুলে ফজলুর বউ শংকিত স্বরে বলে, ‘উনারে না নিয়া গেলা?’
‘কী কও তুমি?’ হামজুর কণ্ঠস্বরে ভয়মিশ্রিত বিস্ময়।
‘একবার না উনারে নিয়া গেলা?’ কাঁপা গলায় সে আবারো বলে।
‘কী কও তুমি? সর্বনাশ অই নাই তো ভাবীজান?’
বউয়ের কলজের পানি শুকিয়ে যায়। সে বলে, ‘তুমার ভাই তো সইত্য সইত্যই তুমার সাতে গেলো।’
ফজলু সত্যি সত্যিই গিয়েছিল, তবে হামজু নয়, অন্য কেউ তাকে ডেকে নিয়েছিল।

ফজলুর বউ আর হামজু পাগলার ভয়ার্ত চিৎকারে মুহূর্তে পাড়াপড়শিরা জড়ো হয়ে পড়ে, সারা বাড়ি, সারা গ্রাম, সম্ভাব্য সব জায়গা তন্ন তন্ন করে ফজলুকে খোঁজা হয়। সবার ধারণা হয় ফজলুর এতদিনকার শত্রু রমিজ মোল্লাই তাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে খুন করেছে, তারপর আড়িয়াল বিলের কচুরিপানার নীচে গায়েব করে দিয়েছে।
সবাই আড়িয়াল বিলের দিকে ধাবিত হয়, ফকির বাড়ির ঘাটে কোষা নৌকাটি নেই, ওটি কই গেলো? রমিজ মোল্লাই নিয়েছে।
আড়িয়াল বিলের ঠিক মোহনায় খালের ধারে ফজলুকে পাওয়া গেলো। খালের কিনারে রসি দিয়ে লগির সাথে কোষা নৌকাটি বাঁধা রয়েছে। ফজলু আর হামজু পাগলা প্রতিদিন মাছ ধরা শেষে এই জায়গায় এসে এভাবে নৌকা বেঁধে মহাজনদের অপেক্ষায় থাকতো।
লগি থেকে তিন হাত দূরে ফজলুর শরীর পানির নীচে উলটো করে চুবানো, পা দুটি সটান ওপর দিকে খাড়া হয়ে আছে। পায়ের তালু আর আঙ্গুলগুলো ধবধবে পরিষ্কার, একটুও কাদা লেগে নেই; পানিতে লুঙ্গির কোনা ভাসছে।
ফজলুর দেহ পানি থেকে ডাঙ্গায় তোলা হলো। মাথা থেকে বুক অব্দি কাদার ভিতর গাড়া ছিল। শরীরের কোথাও ধ্বস্তাধ্বস্তির চিহ্ন নেই, নখের একটা আঁচড়ও কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলো না। পাথরের একটা মূর্তিকে উলটো করে আলগোছে কাদায় পুঁতে দিলে যেমন হয়, মনে হলো ঠিক সেভাবে নরম করে ফজলুর মাথা থেকে বুক পর্যন্ত কাদায় গেঁথে দেয়া হয়েছিল।

কুটিমিয়ার অবস্থাও ফজলুর মতোই হতে পারতো। হয় নি, কারণ সবার বিশ্বাস, তার ওপর নিশ্চয়ই অলি-আউলাদের নেক দোয়া আর রহমত আছে। যে আবুল তাকে ডেকে এনেছিল, জানা গেলো প্রায় মাস খানেক আগে সে গোবিন্দপুরে তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গেছে। কুটিমিয়া নিজেই তাকে গুদারায় উঠিয়ে দিয়ে এসেছিল। আবুল বাড়িতে নেই বলে কুটিমিয়ার মনে কত দুঃখ ছিল, অথচ এই কথাটা তার একবারের জন্যও মনে পড়লো না—‘আবুল বাইত্তে নাই, এই রাইত্রে কে ডাকে?’

কুটিমিয়ার নানা একজন পরহেজগার লোক ছিলেন। মায়ের মুখে কুটিমিয়া তার নানার অনেক গল্প শুনেছে। গভীর রাতে নানা মসজিদে যেতেন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে। একেবারে ফজরের নামাজ শেষ করে আসতেন। এরকম এক গভীর রাতে নানা জিনকে নামাজ পড়িয়েছিলেন।
কুটিমিয়ার মায়ের জীবনে একবার একটা অদ্ভুত ও ভয়ানক ঘটনা ঘটেছিল। অনেক শৈশবে।
কুটিমিয়ার নানা তার মাকে ঘরের বাইরে থেকে নাম ধরে ডাকছেন, ‘রহিমন!’ রহিমন বিবি বাবার ডাক শুনে ঘর থেকে বের হয়। ঘর থেকে বেরিয়ে বাবাকে ডাকতে থাকে, ‘আব্বাজান, আফনে কুতায়?’ ‘এই তো সামনে।’ আব্বাজান জবাব দেন। রহিমন বিবি আরো এগিয়ে যায়। আবার ডাকে, ‘আব্বাজান, আফনে কুতায়?’ ‘এইতো আরেকটু সামনে।’ আব্বাজানের জবাব ভেসে আসে। রহিমন যতো এগিয়ে যায় তার বাবার কণ্ঠ ততো দূরে সরে যেতে থাকে।
এমন সময় রহিমন বিবির চাচি তার কণ্ঠ শুনতে পান। লন্ঠন হাতে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। রহিমনকে খুঁজে পাওয়া যায় বাড়ি থেকে বেশ দূরে গোরস্থানের কাছে। সেই সময় কুটিমিয়ার নানা তিনদিনের তাবলিগে মইতপুর গিয়েছিলেন। অথচ এই বিষয়টি রহিমন বিবির একদমই খেয়াল ছিল না।
মায়ের মুখে কুটিমিয়া কতবার শুনেছে এই কাহিনি! মা বলতো, ‘রাইত বিরাইতে কুনুদিন এক ডাকে বাইরে যাইবা না।’ অথচ কুটিমিয়া আবুলের ‘এক ডাক’ শুনেই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ধানক্ষেতে কইমাছ ধরার জন্য।

সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনাটি ঘটেছিল রহিমন বিবির গায়ে হলুদের রাতে। বাড়ি ভর্তি মানুষ গমগম করছে। সুর করে বিয়ের গান গাইছে। হঠাৎ রহিমন বিবির খোঁজ হয়। কিন্তু রহিমন বিবি নেই—সারা বাড়ি খুঁজে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তখন কেউ একজন খেয়াল করলো—মাঘ মাসের এই রাতে কে যেন পুকুরের পানিতে ঝপঝপ করে গোসল করছে। রহিমনের মা দৌড়ে পুকুর ঘাটে গিয়েই চিৎকার দিয়ে ওঠেন— ‘সবাই দেইক্যা যান—রহিমন বিবি পানিতে দাফাইতেছে। মুক দিয়া গোঙ্গাইতেছে। আফনেরা আহেন। আমার রহিমন মইরা যাইতেছে।’
কুটিমিয়ার নানাজান জানতেন, এ ছিল জিনদের কাজ। রহিমন বিবিকে জিনেরা ধরে নিয়ে পুকুরে চুবিয়ে মারতে চেয়েছিল।

সেই শৈশব-কৈশোর থেকে এসব ভূতপ্রেত আর জিনপরীদের ঘটনা কুটিমিয়ার জীবনে এত বেশি ঘটেছে যে এক সময় তা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনার মতোই হয়ে পড়ে।
যেখানেই ভূতপ্রেত আর জিনপরীদের গল্পের আসর বসতো, কুটিমিয়া সেখানে গিয়ে বসে পড়ে নিবিড় মনে গল্প শুনতো। ভয়ে তার শরীর জাড়কাটা দিয়ে উঠতো, তবু ওসব তার ভালো লাগতো। সে শুনেছে, রাতবিরাতে চলার পথে কোনো প্রাণীর সাথে দেখা হলে ওটি ভূত কিনা তা বোঝার একটা কৌশল আছে। ভূতের কোনো ছায়া থাকে না। অতএব, মানুষ হোক, আর শিয়াল, কুকুর, গরু, হাতি হোক, পাশ কেটে যাওয়ার সময় প্রথমেই দেখতে হবে মাটিতে ওদের ছায়া পড়েছে কিনা। কিন্তু মুশকিল হলো, অন্ধকার রাতে কীভাবে বুঝবে ওদের ছায়া আছে কী নেই?
আরো সে শুনেছে, পথ চলতে চলতে যদি কোনো অপরিচিত কণ্ঠ নাম ধরে ডেকে ওঠে, কখনোই প্রথম ডাকে সাড়া দিতে নেই—তিন ডাকের মাথায় জবাব দিতে হবে। ভূত কখনো একবারের বেশি ডাকে না। প্রথম ডাকে সাড়া দিলে আর রক্ষা নেই।

ভূতের শরীর বেজায় লম্বা, চিকন আর পাতলা, গলার ওপর থেকে মাথা কাটা থাকে, চোখ থাকে বুকের মাঝখানে, সারা শরীরে মাখানো থাকে জবজবে পিচ্ছিল জাতীয় পদার্থ। অতীতে অনেক সাহসী যুবক ভূতের সাথে কুস্তি লড়েছে। ভূত তাদের চিকন আর পিছল শরীর দিয়ে মানুষকে পেঁচিয়ে ফেলে, মানুষকে ঠেলেঠুলে আস্তে আস্তে পুকুর-বিল-খালের কাদার মধ্যে নিয়ে যায়, পা-ওপরে অবস্থায় মাথাসহ অর্ধেক শরীর কাদায় গেড়ে ফেলে। কখনো কখনো বুড়ো বটগাছ, ঝুপড়ি তেঁতুল কিংবা তালগাছের মাথায় নিয়ে ফেলে দেয়। সাহসীরা উলটো ভূতকে কব্জা করে ফেলে। সেই ভূত তখন মুক্তির জন্য অনেক কান্নাকাটি করে। বন্দি ভূতকে দিয়ে অনেক আশ্চর্য আর অসাধ্য কাজ সমাধা করা যায়।
ভূত সন্দেহ হলেই সর্বাগ্রে তাকে ‘মামা’ বলে ডেকে উঠতে হয়। ভূত তখন আর ভূত থাকে না, সত্যিকারের মামা হয়ে ভাগ্নেকে সারা পথ আগলে রেখে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে যায়।
অবশ্য অপরের কাছে যেসব গল্প শুনেছে, কুটিমিয়ার জীবনে তার কোনোটিই ঘটে নি, ঘটেছে অন্যরকম।

চলবে...

মন্তব্য ৯৪ টি রেটিং +১৫/-০

মন্তব্য (৯৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১:৩৮

ওমেরা বলেছেন: আমিও এরকম কয়েকটা গল্প আম্মুর কাছে শুনেছি সত্য কিনা জানিনা তখন খুব ভয় পেতাম।দিনেও একা রুমে থাকতে পারতাম না ।
চলবেই যখন আর একটু ছোট হলে ভালো হত ।

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১:৪৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পড়েই যেহেতু ফেললেন, আর ছোটো করলে কি কষ্ট লাঘব হবে? :)

অনেক ধন্যবাদ ওমেরা।

২| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১:৫৫

ওমেরা বলেছেন: না ,না ভাইয়া তা মিন করি নাই কষ্টও হয় নি সব টুকুই পড়েছি ।তবে ছোট হলে ভালো । ভয়ের গল্যেপ তো তাই ভয়ও লাগছিল আবার ছাড়তে পারছিলাম না ।

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১০:৫৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহাহাহা- ভালো বলেছেন, ভয়ের গল্প ছোটো হলেই ভালো, ভয় কম পাওয়া যায় :) এ পোস্টে একটা গল্পের সাথে আরেকটা গল্পের লিংক আছে, তাই অতি আগ্রহী পাঠককে আটকে না রেখে একবারেই দিয়ে দিয়েছি। এর পরের পর্ব আবার একটু অন্য ধাঁচের।

ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা রইল।

৩| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ২:৩৩

কল্পদ্রুম বলেছেন: নিশির ডাকে আসলেই যাওয়া উচিত নয়।ছোটবেলায় মামা বলতো 'মামা ভাইগ্না যেখানে আপদ নাই সেখানে।'নানী অবশ্য বলতো তোমরা নিজেরাই তো এক একজন আপদ।
ভূতকে মামা ডাকার বুদ্ধি মনে থাকবে।গল্পের আঞ্চলিক ভাষা কোন অঞ্চলের?

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:০৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার কমেন্টটা, আই মিন, নানীজানের এই কমেন্টটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে- "তোমরা নিজেরাই তো এক একজন আপদ।" মামা-ভাইগ্নারা মিলে কত যন্ত্রণা করতেন, নানীজানের এক টুকরো কথায়ই তা ফুটে উঠেছে। নানীজানের জন্য শুভ কামনা থাকলো।

'ভুত'কে মামা ডাকলেই সব আপদ থেকে মুহূর্তে মুক্তি মিলবে, ভূত যেন সত্যিকার মামা হয়েই ভাগ্নেকে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিবে, সব বিপদ থেকে রক্ষা করবে- এটা ছিল আমাদের শৈশবে ভূত বিষয়ক আলোচনার প্রধান বিষয়।

গল্পের আঞ্চলিক ভাষা হলো আমাদের ঢাকার দোহারের। দোহার-জয়পাড়া- নবাবগঞ্জ-শ্রীনগর- এসব এলাকার ভাষা। অবশ্য আঞ্চলিক ভাষা এমন যে, এক ঘরের ভাষা থেকে অন্য ঘরের ভাষায়ও পার্থক্য দেখা যায়। আমাদের এক ক্লাসমেট এ গল্প পড়ে বলেছিল- সে ভাষাটা বুঝতে পারছে না, অথচ সে আমাদের এলাকারই ছেলে, মাত্র ৩/৪ গ্রাম দূরে তাদের বাড়ি।

গল্প পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৪| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ২:৩৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আমি অফলাইনে গল্প পড়ে লগইন হয়েছি মন্তব্য করতে। গল্পটি গ্রাম্য এলাকার বাস্তব ঘটনা মনে হয়েছে। এমন কিছু ঘটনা গ্রাম গঞ্জে হয়ে থাকে। আরো মজার বিষয় হচ্ছে গল্পে সত্যতা আছে। আমাদের এলাকায় ৬০ এর দশকে একটি মৃত ইটা ফ্যাক্টোরী (ব্রিকফিল্ড) ছিলো। ও দিকে যারা একবার গেছে ভয় পেয়ে এসেছে।

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অফলাইনে পড়ে মন্তব্যের জন্য লগিন করায় অনেক ধন্যবাদ ঠাকুরমাহমুদ ভাই। গল্পে ঘুড়ির ঘটনাটা আমার নিজের জীবনের সত্য ঘটনা। গাবগাছ ও মাছ ধরার গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কাল্পনিক হলেও এ ধরনের গল্প বা কাহিনি নানাভাবে মানুষের মুখে শোনা যেত। ফজলুকে খালের পানিতে উলটো করে গেঁথে রাখার গল্পটা একটা শোনা গল্পের উপর ভিত্তি করে লেখা।

আমাদের সময়ে কিছুদিন পর পর কিস্‌সা বলার আসর বসতো বিভিন্ন বাড়িতে। কিসসা শেষে আনন্দ করে খাওয়া দাওয়া হতো- বিশেষ করে মিঠাইয়ের ক্ষির বা খিঁচুড়ি। তেমনি, মাঝে মাঝে ভূতের গল্প বলার আসরও বসতো। সেগুলো আসলে কাল্পনিক গল্প না, একেকজন ভূত দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতো। ওসব গল্প শুনতে শুনতে শরীর শিহরিত হয়ে উঠতো।

"আমাদের এলাকায় ৬০ এর দশকে একটি মৃত ইটা ফ্যাক্টোরী (ব্রিকফিল্ড) ছিলো।" - নাইমুল ইসলাম ভাই আমাকে একবার অবাক করে দিয়েছিলেন ৬২ সালে রেডিওতে গান শোনার কথা বলে। আপনিও অবাক করলেন ৬০-এর দশকের কথা উল্লেখ করে। নিজেকে এখন সত্যিই বালক মনে হচ্ছে :)

ওরকম ইটা ফ্যাক্টরির মতো ভূতের বাড়ি, ভূতের গলি (অলরেডি এক্সিস্টিং), জ্বিনের ঘর, গাবগাছ, বটগাছ, পোড়োবাড়ি, ইত্যাদির কথা আগে অনেক বেশি শোনা যেত। টেকনোলোজির কল্যাণে মানুষের বিচরণ ও গমন এখন অনেক দূর পৌঁছে গেছে, তাই ধীরে ধীরে সব রহস্যের দুয়ারও উন্মোচিত হয়ে গেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা অন্ধকারে ভূতের ভয় পায়, কিন্তু আমাদের ভূতের চেহারার সাথে ওদের ভূতের চেহারার মিল নাই :) ওদের ভূতগুলো হলো বিভিন্ন হরর মুভি বা অনলাইন গেইমসের ঘোস্ট-এর মতো :)

আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রিয় ঠাকুরমাহমুদ ভাই। ভালো থাকবেন।

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আরেকটা জিনিস অ্যাড করতে এলাম- কুটিমিয়ার নানার গল্পটা আমাদের পুরোনো এক প্রিয় ব্লগার ডেভিড-এর কমেন্ট থেকে নেয়া। আমার কোনো এক পোস্টে ডেভিড এটা শেয়ার করেছিলেন।

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৩৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ডেভিড-এর ব্লগে গিয়ে মর্মাহত হলাম। তিনি সবগুলো পোস্ট ড্রাফটে নিয়েছেন। আরো অবাক হলাম, তার সর্বশেষ কমেন্টটি ছিল আমারই এই সিরিজের এক পোস্টে - কুটিমিয়ার যাত্রা দেখা । কোথায় আছেন, কেমন আছেন, এটা জানার জন্য মন আনচান করছে।

৫| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ২:৪৩

মা.হাসান বলেছেন: কতদিন পরে কুটি মিয়ার কাহিনী পড়লাম!
আমি ভুতের যে বর্ণনা গুলো পেয়েছি সেখানে অবশ্য পিচ্ছিল গা এর বর্ণনা পাই নি। তবে সব ভুত এক রকম হতে হবে এমন কথা তো নেই।
জয়পাড়া জায়গাটা কোথায়? দোহারে?
শহরের শৈশবের চেয়ে গ্রামের শৈশব অনেক রোমাঞ্চকর ছিলো নিঃসন্দেহে। অলৌকিক গল্প কি ভাবে জন্ম নেয় তার ভালো বর্ননা দিয়েছেন।
লেখায় অনেক ভালো লাগা।

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৪৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমাদের এলাকার ভূতগুলো ছিল লিকলিকে লম্বা, সারা গা পিচ্ছিল, হয়ত তেল মাখতো। ওদের ধরা যেত না :) ঠিকই বলেছেন- সব ভূত একরকম হবে এমন কথা নেই :)

জয়পাড়া জায়গাটা হলো দোহারে। দোহারের রাজধানীই হলো জয়পাড়া। তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। ছোটোবেলায় আমাদের 'সমাজ বিজ্ঞান' বইয়ে 'জয়পাড়া'র নাম দেখে খুব গর্ববোধ করতাম, যে-গর্বের কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না

শহরের শৈশবের চেয়ে গ্রামের শৈশব অনেক রোমাঞ্চকর ছিলো নিঃসন্দেহে। ব্যাপারটা আপেক্ষিক। 'নদীর এপারে কহে ছাড়িয়া নিশ্বাসের' মতোই ব্যাপারটা। ছোটো বেলা ঢাকা গেলে ঢাকার পাকা রাস্তা, দালানকোঠা ইত্যাদি দেখে ভাবতাম- হায়, কত সুন্দর এই শহর! কোথাও কাদামাটি নাই, রাস্তাঘাট কত পরিষ্কার!! ঢাকা আসার জন্য মন ছটফট করতো। এখন দীর্ঘদিন গ্রাম ছেড়ে শহরে শহরে আছি, কিন্তু গ্রামের শৈশব ছাড়তেও পারছি না, ভুলতেও পারছি না। সবচাইতে কঠিন ক্রান্তিকালে মন ছুটে যায় সেই সোনালি শৈশবেই, কাদামাটি মাখা রাস্তায় ছোটাছুটি, ঝাঁপ দিয়ে পুকুরে নামা, গাছে গাছে চরে বেড়ানো- কত কিছু! মানুষের মনটাই খুব বিচিত্র।

কুটিমিয়া পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় মা.হাসান ভাই। শুভেচ্ছা রইল।

৬| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৩:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:


বাংলাদেশের কোথায়ও 'বাগ'এর মতো বুনো ফল ইত্যাদি গাছের জংগল আছে?

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৫৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্লেইন ল্যান্ডের কোথাও 'বাগ' কিংবা 'বাগ'এর মতো বুনো ফল ইত্যাদি গাছের জংগল আছে বলে আমার মনে হয় না। তবে, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ইত্যাদি অঞ্চলে যতটুকু দেখেছি, কিছুটা সম্ভাবনা আছে। এর বাইরে, পার্বত্য চট্টগ্রামে তো এসব জঙ্গল খুব কমন।

জনসংখ্যার বিস্তার, টেকনোলজির উন্নতি, ইত্যাদি কারণে আগের মতো ঘন জঙ্গল বা পতিত ভূমি থাকা প্রায় অসম্ভব। তবে, গল্পের প্রথম অংশে বর্ণিত 'বাগ'টা এখনো আছে, যদিও আগের মতো অত গা-শিউরে-ওঠার মতো না। চারদিকে বসতি এগিয়ে আসছে, গাছপালা কমে গেছে।

প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই।

৭| ০৬ ই জুন, ২০২০ ভোর ৫:০৮

নেওয়াজ আলি বলেছেন: গ্রামীণ জনপথের বাস্তব কাহিনী

০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৫৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই।

৮| ০৬ ই জুন, ২০২০ ভোর ৬:৪৯

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: পুরো একটি ভৌতিক সকাল গেল মনে হচ্ছে। আপনার সুদীর্ঘ পোস্ট খানি খুব দ্রুত পড়ে ও অনেক সময় গেল। বৃষ্টির সময় কই মাছ ধরার একটা ইচ্ছা আমার আছে। জ্বীনের সাক্ষাৎ পেলে সহজে ছাড়বো না। মানুষ ই এখন সবচেয়ে ভয়ংকর জীব।

০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৩৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহাহাহা- হাসতে বাধ্য হলাম আপনার কমেন্ট পড়ে - পুরো একটি ভৌতিক সকাল গেল মনে হচ্ছে। তবে আপনাকে অভিনন্দিত করছি এ সুবিশাল পোস্টটি পড়ে ফেলার জন্য। আমিও কম গর্ববোধ করছি না এটা নিয়ে।

বৃষ্টির সময়ে কই মাছ ধরার সুযোগ একবার আপনার জীবনে আসুক, এই কামনা থাকলো।

পোস্ট পড়া ও কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় কবি সেলিম আনোয়ার ভাই+

৯| ০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ৮:২১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



লেখাটি পাঠে বিমুগ্ধ ।

মনে হল যেন আমার বাল্য কালের জীবন গাথা সুন্দরভাবে উঠেএসেছে লেখাটিতে ।

আমার করুনাত্রান্তের দিনগুলিতে হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে মনে পড়ত বাল্যকালের অনেক কান্ড কির্তীর কথা্ ।
করুনাত্রান্ত কালের দিনগুলির ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ও সেসময়কার সচেতন অচেতন মনে জেগে উঠা কথামালা নিয়ে
একটি লেখার ফাকে সামুর পাতায় এসে দেখি আপনার লেখাটি ।

আমাদের দেশের বাড়ীতে নদীর তীর ঘেসে আপনার গল্পের মত একটি বেশ বড় জঙ্গল ছিল । সেখানে বিভিন্ন গাছের মধ্যে
শতবর্ষী একটি বিশালাকার গাবগাছ ছিল । সে গাছ ঘিরে অনেক জীবন্ত ভুতুরে কান্ড ঘটত । নদী তীরে ছিল স্মশান আর
জঙ্গলের পাশঘেশে ছিল ছোট এক বিল ।স্মশানঘাটে ভুতের কান্ড আর সন্ধা ও রাতে বনের ধারে শেওড়া তলায় মাছ ধরার কালে মাছ খেকো পেত্নির দেখাতো মিলত প্রায়ই । এ গল্পটি পাঠে মানসপটে জেগে উঠছে অনেক অনেক ভয়ংকর স্মৃতি কথা।

সুন্দর গল্পটি আবারো সময় করে একবার পড়তে হবে । প্রিয়তে তুলে রাখলাম।

শুভেচ্ছা রইল


০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৪৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি নিজের লেখার ফাঁকে এসে এ বিশাল পোস্টটি পড়ে বিস্তৃত একটা কমেন্ট লেখার জন্য। আল্লাহ্‌কে ধন্যবাদ, ক্রান্তিকাল পার করে আপনি আবার সুস্থ দেহে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।

মানুষের অতীতটা খুবই শক্তিশালী, বিশেষ করে বাল্যকালটা। এজন্যই মনে হয়, স্মৃতিরোমন্থনে সবার আগে বাল্যকালটাই উঠে আসে। শুধু তাই নয়, অসুখ-বিসুখে প্রলাপ বকার সময়ে, কিংবা ঘোরের মধ্যে মানুষ বার বার তার শৈশবে চলে যায়। সম্ভবত এ কারণেই, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আপনি বার বার ফিরে যেতেন শৈশবের কাণ্ডকীর্তিভরা দিনগুলোতে। আমাদের শৈশব আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যায়, সামনে ধাবিত করার জন্যই।

আপনাদের শৈশবের বাড়ির জঙ্গলের কথা পড়ে আমিও আরেকবার চলে গেলাম আমার এ গল্পে বর্ণিত শৈশবের বাগ ও অন্ধকারময় গাবগাছের কিনারে। এখনো ঝকঝকে, হাই রেজ্যুলেশনের মতোই পরিষ্কার সেই স্মৃতিগুলো। মনে হচ্ছে, আমি গাব গাছটার নীচে দাঁড়িয়ে উপরে তাকাচ্ছি, কোথায় কোন ফাঁকে একটা টসটসে পাকা গাব লুকিয়ে আছে, আর সেটা দেখতে পাওয়া মাত্রই হড়হড় করে ডাল বেয়ে উপরে উঠে যাব।

আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি প্রিয় এম এ আলী ভাই। আবারও ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা রইল।

১০| ০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ৯:২০

কৃষিজীবী বলেছেন: গল্পগুলো খুবই পরিচিত, নানি,দাদিদের মুখে বহুবার শুনেছি তাছাড়া জয় পাড়া হল,আড়িয়াল বিল,গোবিন্দপুর গুদারা এই জায়গাগুলো আমার নিজের এলাকায় । সবমিলিয়ে বলতে গেলে এক অন্যরকম ভালোলাগা

০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৫০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার বাড়ি দোহার উপজেলায়। লেখার পটভূমিও দোহারের বিভিন্ন অঞ্চল। আপনি ঐ এলাকার, এটা জেনে ভালো লাগলো।

গল্প পাঠ ও কমেন্টে অনেক ধন্যবাদ।

১১| ০৬ ই জুন, ২০২০ সকাল ১০:১৪

আমি সাজিদ বলেছেন: মুগ্ধপাঠ।

০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৫১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ 'আমি সাজিদ'। শুভেচ্ছা।

১২| ০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১:৩৯

মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

ছুডুকালে মামুর সাথে কুচি/বর্শা দিয়া শোলমাছ আর জাগুরমাছ (মাগুর) ধরার কথা মনে পড়তেছে।
রাতে যারা মাঝ ধরতে যায় তাদের সাথে ভূত জিন ইত্যাদির সাথে বিশ্বাসযোগ্য সংযোগ আছে।

লেখা নিয়ে মন্তব্য দিলে অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। কেমন আছেন আজকাল?
একটি পোস্টে আপনার একটি মজার মন্তব্য দেখে মনে মনে হাসলাম।

হ্যাপি কোয়ারেনটিন! সুস্থ থাকুন!

০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১:৪৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রথম পাতায় ভাসা ভাসা আপনার নামের মতো একটা নাম চোখে পড়লো, অন্য কেউ হবে মনে করে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলাম, কিন্তু আপনার নামটা আমার চোখে গেঁথে গিয়েছিল। এ পোস্টে আপনার কমেন্ট দেখে নিশ্চিত হলাম- না, ও নামটি প্রিয় মাঈনউদ্দিন মইনুল ভাইয়েরই ছিল। কেউ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে এমনটাই হয় বোধ হয়।

ভালো লাগলো প্রিয় ব্লগারকে অনেকদিন পর ব্লগে দেখে। এটা একটা দারুণ আবেগ ও আনন্দের বিষয়। আশা করি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন আল্লাহর রহমতে।

যারা রাত-বিরাতে চলে, তাদের সাথে সত্যিই ভূতপ্রেতের একটা সংযোগ সৃষ্টি হয়ে যায় :) ঘরে বসে থাকলে হয় না কেন? অবশ্য পশ্চিমা দেশে উন্নত দেশে হয় :)

কোন পোস্টে কী যে মজার মন্তব্য দেখলেন, সেটার জন্য তো এখন চিন্তায়ই পড়ে গেলাম :(

আপনার জন্যও শুভ কামনা থাকলো প্রিয় মইনুল ভাই। হ্যাপি ঘরেন্টাইন :)

১৩| ০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ২:০১

মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:


মেছোভুত বলে একটা ব্যাপার আছে না! তাছাড়া 'রাত' এবং 'মাছ' এসবের সাথে জিন থাকবে না, তা কি হয়? সারা বিকেল মাছ ধরে ছাকি (বাঁশের হাতওয়ালা ঝুড়ি) ভর্তি করে মাছ নিয়ে সন্ধাবেলায় বাড়ির ঘাটে ওঠার আগেই দেখলেন মাছ সব অর্ধেক হয়ে গেছে। ওই মাছ গেলো কই? তাছাড়া অন্ধকার হলেই ছাকির মাছ এতো নাড়াচাড়া করে কেন? সব মেছোভূতের কারবার! হেহেহে!


//কোন পোস্টে কী যে মজার মন্তব্য দেখলেন, সেটার জন্য তো এখন চিন্তায়ই পড়ে গেলাম// হাহাহা! চিন্তার বিষয় নেই। কয়েকজন ব্লগারের মধ্যে মানঅভিমান চলছে। এরকম এক পোস্টে আপনি মন্তব্য করেছেন।

০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ২:০৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মেছোভাত- হাহাহাহাহা। হ্যাঁ, ওসবই হলো মেছোভাতের কাজকারবার। গ্রামদেশে আমাদের ছোটোবেলায় সন্ধ্যাবেলায় মাছতরকারি কাটাকুটি নিষেধ ছিল নানা কারণে। ভূত-জ্বিনের আছর পড়ার সাথে মাছেরও বোধহয় নিবিড় সংযোগ আছে :)

কোন পোস্টে কী যে মজার মন্তব্য দেখলেন -- হেহেহেহে। এ বার ধরতে পারলাম ভালো করেই। নুরু ভাই আর রাজীব ভাই, দুজনেই আমার প্রিয় ব্লগার। তাই তাদের উপর, বিশেষ করে রাজীব ভাইয়ের উপর অভিমানটা একটু বেশি

আবার আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ মইনুল ভাই

১৪| ০৬ ই জুন, ২০২০ দুপুর ২:৪১

নতুন বলেছেন: অনেক দিন পরে গ্রামের মানুষের ঘটনা তাদের মতন করে পড়লাম।

আমার মনে হয় গ্রামে অনেক হত্যাকান্ড কে জীন, ভুত বা পিশাচ করেছে বলে চালিয়ে দেওয়া হতো।

আমার নানা খুবই সাহসী ছিলেন এবং তিনি রাতে নদীতে , বিলে, নদীর কুমে মাছ মেরেছেন, অনেক গল্প শুনেছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি অনেক জায়গাতে গিয়েছিলেন যেখানে মানুষ ভয়ে যেতো না।

কিন্তু তিনি নিজে কখনোই কোন অলৌকিক ঘটনার মুখমুখি হয়ন নাই। কেবল শুনেছেন।

তার একটা ঘটনা আছে যেটাতে তিনি খুবই ভয় পেয়েছিলেন সেটা একদিন লিখবো।

০৬ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৪১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:

আমার মনে হয় গ্রামে অনেক হত্যাকান্ড কে জীন, ভুত বা পিশাচ করেছে বলে চালিয়ে দেওয়া হতো। এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নাই। তখন আজকের মতো কোনো টেস্টিং ফ্যাসিলিটি ছিল না, শিক্ষিতের সংখ্যা ছিল কম, ভূতপ্রেতের নামে সবাই একবাক্যে বিশ্বাস করতো। খুনিরা এ বিশ্বাসের আড়ালে খুন খারাবি করে যেত।


কিন্তু তিনি নিজে কখনোই কোন অলৌকিক ঘটনার মুখমুখি হয়ন নাই। কেবল শুনেছেন। আমার ভূতের ভয় যে ছিল না, তা না। কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাকে অনেক সময় একাকী রাত বিরাতে এমন জায়গায় চলাচল করতে হয়েছে, যেখানে গা ছমছম করতো, একটু হলেই হয়ত চিৎকার দিয়ে উঠবো এমন অবস্থা হতো, কিন্তু, আমিও কোনোদিন কোনোকিছু দেখার সুযোগ পাই নি। একসময় এসব ভয়ডর মন থেকে একেবারেই উবে গেল। তখন আরো বেশি উৎসাহী হয়ে উঠলাম- আচ্ছা দেখা যাক, কোনো ভূতটুত শয়তানের বাবাকে পাওয়া যায় কিনা। আজও অপেক্ষায় থাকি

আপনার নানাজানের ঘটনার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ নতুন ভাই।

১৫| ০৬ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৩:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: গতকাল রাতেই পড়েছিলাম এবং ভয় ভয় লাগছিলো।
রাতে মন্তব্য করি নাই। কুটিমিয়া কে নিয়ে লেখা আগেও পড়েছি।
সহজ সরল ভাষায় সুন্দর লিখেছেন। বড় লেখা কিন্তু পড়তে বিরক্ত লাগে নি।

০৬ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৪৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হ্যাঁ, কুটিমিয়াকে লেখা গল্প আপনি আগেও পড়েছেন। আসলে, আপনি সবই পড়েন, যেটা একটা অসাধারণ গুণ এবং প্রতিভা।

আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা থাকলো প্রিয় ব্লগার নাম্বার ওয়ান রাজীব নুর ভাই।

১৬| ০৬ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৪:২০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




সোনাবীজ ভাই, আমার এক মন্তব্যের জন্য আপনি তিন তিনটি উত্তর দিয়েছেন দেখে আমি কৃতজ্ঞ ভাই। কুটিমিয়াকে নিয়ে আপনার লেখা গল্প আমি আগেও পড়েছি কিন্তু মন্তব্য করা হয়নি কারণ পুরাতন পোস্ট। - আপনাকে আবার পুরাতন পোস্টে ফিরে যেতে হবে তাই।

এখনকার বালক বালিকা সহ নারী পুরুষ আর তেমন ভয় পান না কারণ তারা এখন তেমন একটা একা থাকেনও না। নিঃসঙ্গ না। টিভি, সেলফোন, কম্পিউটারেও ব্যস্ত থাকেন। একটি যেমন তেমন ১৫-২০ বছরের ছেলেমেয়ের সাথেও মা সার্বক্ষনিক ন্যানির মতো লেগে থাকেন। কিন্তু আমাদের বেলায় এমন ছিলো না। টিনের ঘরের চালে রাতের বাতাশে যখন বাঁশঝাড়ের কোনো বাঁশ ঘষা লেগে ট-র-র-র-র-র-র-র-র করে শব্দ হতো তাতে আমরা ভয়ে আতকে উঠতাম। রিতিমতো কলিজা পানিশুন্য হয়ে যেতো।

আপনার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো।


০৬ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৪৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এখনকার বালক বালিকাদের ভূতের ভয় না পাওয়ার কারণগুলো সঠিকভাবেই উল্লেখ করেছেন। আমার কাছে আরো যেটা মনে হয়, জনবসতির কারণে বনজঙ্গল পরিষ্কার, কোথাও উজাড় হয়ে গেছে, গা ছিমছিম করা গাবগাছ, বটগাছ, বাঁশঝাড় কোথায় পাবেন? কবরস্থানগুলোও আধুনিক হয়েছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। বিদ্যুৎ চলে গেছে বহুদূর। আমরা ছোটোবেলায় বাঁশঝাড়ের নীচ দিয়ে বা ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে দিনের বেলায় চলাচলের সময়ই কড়কড় আওয়াজ শুনে চমকে উঠতাম। কিছু ভুতুড়ে পাখি, যেমন পেঁচা (তখন জানতাম না এগুলো পেঁচার ডাক) ইত্যাদি ডেকে উঠলেও শরীর কেঁপে উঠতো। আমরা এগুলো বাড়িতে, বন্ধুবান্ধবদের সাথে আলাপ করতাম। গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়তো। রাতের বেলা দূরে কোথাও কোনো অদুভুতুড়ে শব্দ শুনলেও ভয় হতো।

আমাদের বাচ্চারা আলোকিত শহরে বড়ো হয়েছে। গ্রামীণ জনপদের ভুতপেতনির গল্পের সাথে ওরা পরিচিত না। এসব ওদের আলোচনা করতেও দেখি না। ওদের ভুবন আলাদা।

আপনাকেও ধন্যবাদ প্রিয় ঠাকুর মাহমুদ ভাই দ্বিতীয়বার এসে সুন্দর আরেকটা কমেন্ট করে যাওয়ার জন্য। শুভেচ্ছা।

১৭| ০৬ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৭

প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: কুটিমিয়ার গল্পগুলো খুব পরিচিত, গাঁয়ে বড় হওয়া ছেলেপেলে এই কাহিনীগুলোর মাজেজা ভাল বুঝবে। বর্ণনা ধরে রেখেছিল পুরোটা সময়।

শুভেচ্ছা, প্রিয় সোনাবীজ।

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:০৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কুটিমিয়া সিরিজে অন্যান্য পোস্টেও আপনাকে পেয়েছি। আপনার উপস্থিতি আনন্দদায়ক ও প্রেরণাদীপ্ত।

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন, গ্রামে বেড়ে ওঠা মানুষ, যাদের কাছে জায়গাগুলো ও ঘটনাগুলো পরিচিত, তারা এই কাহিনির মাজেজা ভালো বুঝবে।

ব্লগে আপনাকে দেখে ভালো লাগছে। অনেক দিন পর বর্তমানে ব্লগের সময়টা একটু ভালো যাচ্ছে। আশা করি আপনি নিয়মিত হবেন।

আপনার জন্যও শুভেচ্ছা রইল প্রিয় গল্পকার। ভালো থাকবেন।

১৮| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: আমাকে এক হাস্যকর কারনে জেনারেল করা হয়েছে। আমার লেখা প্রথম পাতায় আসছে না। আজ দুই দিন হয়ে গেল।

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: রাজীব ভাই, মোটেও মন খারাপ করবেন না। আমার জানামতে এটা একটা অটোপ্রসেস, যার মাধ্যমে আপনি অটোমেটিক্যালি সেইফ হয়ে যাবেন। এই ব্লগের কারণেই আপনি সেইফ হবেন। এই ব্লগের আপনার মতো ব্লগারের প্রয়োজন, তাই আপনি থাকবেন। চিয়ার্স

১৯| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪৬

আবদুর রব শরীফ বলেছেন: ভূত সন্দেহ হলেই সর্বাগ্রে তাকে ‘মামা’ বলে ডেকে উঠতে হয়। একটা প্রবাদ তো ছিলো, মামা ভাগিনা যেখানে আপদ নেই সেখানে ৷ উল্টো হয় কেনো?

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রবাদটা ঠিকই আছে। ভূতকে মামা বলে ডেকে উঠলে ভূত হলো মামা, আপনি হলেন ভাগিনা। তো, মামা-ভাগিনা আপনারা দুজনে একসাথে থাকলে তো আর কোনো আপদ হবে না সেখানে :) ঘটনা এটাই :) কিন্তু, বাই চান্স আপনি মামা ডাকতে ভুলে গেলেন, ভূত সাহেব তখন আপনার ঘাড় মটকাতে কসুর করবেন না :)

২০| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:২৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: বাপরে কি ভুতুরে গা ছমছম কাহিনি ;)

এটা কি পুন পোষ্ট করেছেন।
আপনার এই লেখাটিই যেন আগে পড়েছিলাম। সামুতে না ফেসবুকে কনফিউজড।
বাট পড়েছি শতভাগ নিশ্চিত।

++++

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:৩২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: নিঃসন্দেহে এটা আপনি আগে পড়েছিলেন এবং সেখানেও আপনার একটা প্রাণবন্ত কমেন্ট ছিল। আপনাকে সবসময়ই পোস্টে পাই, এটা এক অনির্বচনীয় অনুভূতি। এজন্য অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা প্রিয় বিদ্রোহী।

শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা।

২১| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৫

অপু তানভীর বলেছেন: কুটি মিয়ার এই গল্প গুলো গ্রাম বাংলাতে খুবই পরিচিত । আমার এখনও মনে আছে যখন ছোট বেলাতে নানীবাড়িতে বেড়াতে আসতাম তখন সন্ধ্যা বেলাতে প্রায়ই গল্পের আসর বসতো মামাতো ভাইবোনদের সাথে । সেই সময়ে এই ভুতের গল্প শুনে প্রায়ই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতো । এখন আর এই গল্প নানী দাদী বাড়ি গিয়ে শোনা হয় না । এখনকার ছেলে মেয়েরা এই সব দিকে আগ্রহ নেই । আমাদের যেমনটা ছিল ।

এই ভুতের গল্পের আগ্রহ এখনও আমার আছে । বিশেষ মুখে মুখে ভুতের গল্প শোনার ব্যাপারে আগ্রহটা খুব বেশি। ইউটিউবে বেশ কিছু চ্যানেল পাওয়া যায় যেখানে নানান রকম ভুতের গল্প গুলো শোনা যায় । একেবারে সেই ছোট বেলায় মামা নানীরা যেভাবে আমাদের গল্প শোনাতো ঠিক সেই ভাবে । প্রতিদিন রাতে সেই গল্প শুনতে ঘুমিয়ে যাই ।

কুটি মিয়ার গল্প চলুক আরও । গল্পে ভাল লাগা রইলো । মুগ্ধ হয়ে পড়লাম ।

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ব্যাপক একটা কমেন্ট। উপরে কিছু কিছু রিপ্লাইয়ে আমি উল্লেখ করেছি, আমাদের ছোটোবেলায় ঘটা করেই মুরব্বীরা কিছুদিন পর পর ভূতের কাহিনি বলার আসর বসাতেন। খুব জমজমাট ছিল সেইসব আসর। জোছনা রাতে দুয়ারে বিছানা পেতে গোল হয়ে সবাই বসতো। আসর শেষে ধুমাইয়া খাওয়া দাওয়া। এখন সেগুলো নাই। তবে, আমি বাড়ি গেলে ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগ্নে-ভাগ্নিদের সাথে আড্ডায় বসলে এসব গল্প উঠে আসে। ওরা আমাদের মতো এতটা ওরিয়েন্টেড না।

আমার ছেলেমেয়েরা ভূত এফ এমসহ আরো কী কী যেন শোনে। একবার বড়ো ছেলে কোনো এক রেডিওতে যেয়ে ভূতের আড্ডা দিয়ে এলো। ওদের গল্পের ভূতগুলো আধুনিক ভূত :)

কমেন্টে ভালো লাগা। ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।

২২| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:৫৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই ,




কুটিমিয়ার অলৌকিক অভিজ্ঞতার বেশ কিছু গুঞ্জরণ গ্রামীন পটভূমিতে ধ্বনিত হয়েছে।
এটা সত্য, আমাদের গ্রামদেশের প্রায় প্রতিটি জনপদেই এরকম অসংখ্য কাহিনী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ভুতের গল্প বেশিটাই গাবগাছ নিয়ে , নাঁকি সুরের ভুতের গল্প আসে মাছকে ঘিরে আর জ্বীনেরা বেশির ভাগটাই গাছের মগডালে উঠিয়ে দেয় বা পুকুরে চুবিয়ে মারার চেষ্টা করে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বটম লাইনটি এরকমই।

" চলবে " বলেছেন, তো চলুক .............

ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:০৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কয়েকটা নতুন তথ্য যোগ করেছেন, যেগুলো আমার কোনো পর্বেই অন্তর্ভুক্ত নেই, যদিও কোনো কোনো পোস্টে কমেন্টের ঘরে উল্লেখ করেছি।

ছোটোবেলায় কিছুদিন পর পর কিছু ঘটনা ঘটতো। একবার আমার নানা বাড়ির রাখাল হারিয়ে গেল। দুদিন পর সে দূরের এক গ্রাম থেকে ফিরে এলো। কী হয়েছিল? সে বললো, জ্বিনে তাকে উড়াইয়া নিয়া অনেক দূরের এক গাছের মাথায় নামাইয়া দিয়া গেছিল। ঐ সময়ে আমরা এটা বিশ্বাস করতাম। বাড়ির রাখাল, কাজের মানুষ এরাই সাধারণত এ ধরনের জ্বিনের শিকার হতো। এখন বুঝতে পারি, কাজের চাপে তারা কিছুদিনের বিশ্রামের জন্য এই চালাকি করতো।

গাবগাছের সাথে আরো কিছু গাছ আছে, যেমন বিরাটকায় তেঁতুল গাছ, ঝাকড়া বটগাছ, বাঁশঝাড় ইত্যাদি। এসব জায়গায় ভূতেরা আরামে বউ-ছেলেপুলে নিয়ে বসবাস করতে পারে :) শিকার পেলেও খুব সহজেই কুপোকাত করে ফেলতে পারে

অনেক ধন্যবাদপ্রিয় আহমেদ জী এস ভাই। আপনিও ভালো থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন

২৩| ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:০১

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার মন্তব্যের আশা ভরসা পেলাম।
ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

দশ হাজার টাকায় সংসার চালানো সম্ভব না ভাই। জিনিস পত্রের অনেক দাম।

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনি আপনার মতো পোস্ট লিখতে থাকুন, ধুমাইয়া কমেন্ট করতে থাকুন। অচিরেই দেখতে পাবেন, আপনি মুক্ত বিহঙ্গ। আবারও রিকয়েস্ট করছি, এটা নিয়ে মন খারাপ করার একবিন্দু কারণ দেখি না। এতে আপনার কোনো আর্থিক জরিমানা নেই, পুলিশি ওয়ারেন্ট নেই, চিন্তা হবে কেন? :)

১০ হাজার টাকায় ১ মাস চালানো কঠিন, এবং কষ্ট হবে সেটা জানি। আমি হিসাব রাখছি, দেখি কী হয়।

পরীর জন্মদিনে শুভকামনা থাকলো।

২৪| ০৭ ই জুন, ২০২০ ভোর ৬:৪১

সোহানী বলেছেন: লিখাটি কি আগে একবার পড়েছিলাম? কেমন যেন পড়েছি পড়েছি মনে হচ্ছে।

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:১৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অবশ্যই লেখাটি আগেও আপনি পড়েছিলেন এবং ব্যাপক কমেন্টও করেছিলেন। সেজন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিবেন সোহানী আপু।

২৫| ০৭ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১:৫৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: সোহানী বলেছেন: লিখাটি কি আগে একবার পড়েছিলাম? কেমন যেন পড়েছি পড়েছি মনে হচ্ছে। ঠিক এই কথাটাই বলতে যাচ্ছিলাম, তবে আমি কিন্তু কনফিউজড না; নিশ্চিতভাবেই এই চমৎকার লেখাটা পড়েছি। তবে কোথায় মনে করতে পারছি না। কেথায় বলেন তো?

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:২৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মিস্টার মফিজ, আপনার কনফিডেন্সে আমি মুগ্ধ। আমিও নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি, এটা আপনি এর আগে অন্য কোথাও পড়েছেন। সেজন্য ধন্যবাদ নিন।

ভালো থাকবেন।

২৬| ০৭ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২১

করুণাধারা বলেছেন: এত লম্বা লেখা একবারে পড়ে ফেলে নিজেই আশ্চর্য হয়ে গেলাম। অবশ্য অবাক হবার কিছু নেই, যেভাবে গল্প বলে যাচ্ছিলেন, শেষ না করে ওঠা যাচ্ছিল না। খুব ভালো লাগলো। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এত লম্বা লেখা একবারে পড়ে ফেলে নিজেই আশ্চর্য হয়ে গেলাম। অবশ্য অবাক হবার কিছু নেই, যেভাবে গল্প বলে যাচ্ছিলেন, শেষ না করে ওঠা যাচ্ছিল না। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এমন কমপ্লিমেন্টে খুব খুশি হতেন। আমি হয়েছি আপ্লুত। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানবেন আপু। শুভেচ্ছা।

২৭| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:০৬

পদ্ম পুকুর বলেছেন: মাগো! সন্ধ্যার লগ্নে পড়তে গিয়েই তো নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো, ভাগ্যিস বেশি রাতে পড়ছি না...
লেখায় মনে হলো একটু আল মাহমুদের ছায়া পড়েছে। অসাধারণ এক কথায়।

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:২৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কমেন্টে খুব অনুপ্রাণিত বোধ করলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পদ্ম পুকুর

২৮| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:১৪

পদ্ম পুকুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: যাক, ব্যাপারটা খুব প্রেরণাদায়ক যে, গল্পটা পদ্ম পুকুর পড়ে ফেলেছেন। অনেক অনেক ধন্যবাদ।.... লকড ডাউনের সময়ে পার্টটাইম বুয়া হিসেবে ফুলটাইম কাজ করতে হওয়ায় ব্লগে ঢুকতে পারিনি নিয়মিত। ব্লগ পড়া হয়নি। এই জন্য আপনি আমাকে এমন কঠিনভাবে বলতে পারেন না.... আমিতো আপনার লেখা ভালোবেসেই পড়ি। আর এই ব্লগে যে কজন সত্যিকার ভালো লেখেন, তার মধ্যে আপনি প্রথমদিকেই আছেন, সে আমি পড়ি বা না পড়ি।

আর আল মাহমুদের বিষয়টা আসছে গ্রামীণ পটভূমীর বর্ণনার সাযূজ্যর কারণে। আপনারটা ছাড়াও আজকে আরও দুটো ভালো গল্প পড়লাম।

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রিয় পদ্ম পুকুর, আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমি সিরিয়াসলি আপনাকে থ্যাঙ্কস জানিয়েই রিপ্লাইটা দিয়েছিলাম। কিন্তু ওটা যে আপনাকে আহত করতে পারে আমার কল্পনায় সেটা আসে নি। আর এটা তো সত্য আপনি নিয়মিতই আমার ব্লগে আসেন, বরং আমিই মাঝেমধ্যে আপনার ব্লগে যাই। আমি আবারও লজ্জা ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

২৯| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:২৪

মিরোরডডল বলেছেন: ধুলো

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধুলো একটু বিচলিত

৩০| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩৩

পদ্ম পুকুর বলেছেন: ব্যাস হিসাব বরাবর! :)

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শোধবোধ :)

৩১| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩৯

মিরোরডডল বলেছেন: ধুলো বিচলিত কেনো?
কি হয়েছে?

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৪২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মিরোরডডল কি এ গানটা শুনেছেন/দেখেছেন ?

৩২| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৫০

মিরোরডডল বলেছেন: ধুলো কিন্তু ডলকে এখন আর ডুলু বলে না :(

নাহ ধুলো এটা শুনিনি ।
আচ্ছা এখন শুনি, কি হয়েছে ধুলোর মন খারাপ কেন ।
কি নিয়ে বিচলিত । আর এই গান কেন শুনছে ?

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:০৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মনে অভিমান জমে, ক্ষোভ বা দুঃখও জমে। কিছুক্ষণ মনকে চাপ দেয়, একসময় সেগুলো নিভেও যায়। ভয়ঙ্কর ব্যাপারটা ঘটে তখনই, যখন জমে থাকা অভিমান বা ক্ষোভের উপর ভারী একটা অভিমান বা ক্ষোভের ঘটনা ঘটে। তখন মন বিক্ষিপ্ত বা বিচলিত হতে পারে। এটাও আবার একসময় স্তিমিত হয়ে যায়।

সব অভিমান বলা যায় না, বলা ঠিকও না- চূড়ান্ত অনুসিদ্ধান্ত।

৩৩| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৫৫

মিরোরডডল বলেছেন: কুটিমিয়ার গল্পটা কি বেশী ভয়ের ?
তাহলে এখন রাতে পড়বো না ।

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এর পর একটা ছোটো গল্প দেয়া হবে। ডুলু সেটা পড়লেই ভালো।

ভূতের ভয়, সিনেমার ভয় কোনো ভয় না। এগুলোর স্থান হলো নিজের মাথা বা মন। লাই দিতে নেই।

৩৪| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:১২

মিরোরডডল বলেছেন: কিসের এতো অভিমান ধুলোর মনে ?
কি করলে ধুলোর এ অভিমান স্তিমিত হবে ।
আই নো ধুলো জাস্ট সেইড সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যায় তারপরও কি করলে এখনই সব ঠিক হয়ে যাবে ?
সামটাইমস কিন্তু বললে ভালো লাগে ।

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:১৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: গত কাল, তার আগের কাল, তার আগের কালেও কিছু অভিমান ছিল, আজ সেগুলো মনে নাই। আজ দুপুরে কিছু ক্ষোভ ছিল, সেগুলো এখন পানি। ধুলো এখন ঝিরঝিরে মনে ঘুমোতে যাবে।

৩৫| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:১৭

মিরোরডডল বলেছেন:



তুমি অভিমানে
যে পথে গেছো চলে
সে পথের ঠিকানা
জানিনা

ধুলোকে আমার অনেক অনেক প্রিয় একটি গান

০৮ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ভালো গান। ডুলুর দেয়া বেশিরভাগ গানই ধুলোর কাছে প্রথম। এটাও তাই।

৩৬| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:২২

মিরোরডডল বলেছেন: আমি জানি এটা মনের ভয় ।
তারপরও রাত তিনটার বেশী বাজে ।
এসময় ভুতের গল্প পড়লে বাকি রাত এটা মাথায় ঘুরবে ।
কিন্তু আবার পড়তেও ইচ্ছে করছে ।
আচ্ছা সকালে পড়বো ।

০৮ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এটা পড়ার সময় হবে না আর। অন্য একটা ফ্রেশ গল্প আসছে অল্প সময়ের মধ্যেই

৩৭| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:২৮

মিরোরডডল বলেছেন:



তিন দিনের জমানো অভিমান ???
আজও ছিল ?
কেমন করে গেলো ?
কেনই না এলো আবার কেনই বা চলে গেলো ?

এখন তো মনে হচ্ছে থাকলেই ভালো হতো
হা হা হা...... :)

০৮ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আজও একটা অভিমান হয়েছিল। ওটাও কেটে গেছে। মান-অভিমান পানির মতো, গায়ে লাগবে, একটু পর শুকিয়ে যাবে- এমন হতে হয়

৩৮| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:৩৬

মিরোরডডল বলেছেন: "ধুলো এখন ঝিরঝিরে মনে ঘুমোতে যাবে"

বাহ কি সুন্দর ! এইতো ধুলোর মন ভালো হয়ে গেছে ।
সো গুড টু নো ।

ফুরফুরে শুনেছি কিন্তু ঝিরঝিরে মনে এটা আজই প্রথম শুনলাম :)

০৮ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ঝিরিঝিরি বাতাস! ঝিরঝিরে বৃষ্টি। সব মিলিয়ে একটা উৎফুল্ল মনের কথাই বলতে চেয়েছি, তা ঝিরঝিরেই হোক, ফুরফুরেই হোক, নো ডিফারেন্স

৩৯| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১২:০৩

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: এই নিয়ে দুইবার আসলাম, পুরা শেষ না করেই চলে যাচ্ছি। আবার আসবো বলে।

০৮ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: দুইবার আসার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ সাহাদাত উদরাজী ভাই। শুভেচ্ছা রইল

৪০| ০৮ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:২২

মনিরা সুলতানা বলেছেন: এ ধরনের গল্প শোনার মজাই আলাদা !আপনার আঞ্চলিক শব্দের ভাণ্ডার তাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
ভালোলাগা ভাইয়া।

০৮ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপু।

সমস্যা হচ্ছে কী, অনেক শব্দই ভুলে গেছি। লেখাতে প্রয়োজন পড়লে ভাইবোন, বন্ধুবান্ধবদের কাছে জিজ্ঞাসা করে নিতে হয়।

ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা

৪১| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৩০

মিরোরডডল বলেছেন: পড়লাম ধুলো । প্রথমটা ভয় পাবার মতোই ।
ঘুড়িরটা একটুও ভয় লাগেনি । গ্রামের মানুষের সহজ সরল প্রশ্নগুলো মজা লেগেছে ।

কই মাছেরটা অনেক ভয়ের ।
রহিমন বিবিরটা মনে হয় এপিলেপ্সি ছিল ।
এই রোগী পানিতে নাকি এরকম করে ।

হুম আমরাও ছোটবেলায় শুনেছি ভুতের পা উল্টো থাকে এটা দিয়ে চেনা যায় ভুত কিনা ।
কি হাস্যকর :)

০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:১২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শেষ পর্যন্ত ডুলু এটা পড়ে ফেলেছে দেখে স্বস্তি পাচ্ছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ জমা হয়ে গেল ডুলুর জন্য।

ঘুড়ির কাহিনিটা সত্য, আমার জীবনের ঘটনা। সত্য ঘটনাটা আরো মজাদার, কিন্তু সেভাবে লিখতে পারি নি। আমি বড়ো হওয়ার পরও গ্রামের মানুষ আমাকে দেখিয়ে বলতো, ছোটোবেলায় ওকে ঘুড়িতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল :)

ভূতের অস্তিত্ব হলো মানুষের মনে। যে-যেভাবে ভূতকে কল্পনা করে, ভয়ের সময় তার চোখে ওরকম একটা ছায়া ভেসে ওঠে। বর্ণনাও করে ওভাবে।

বিভিন্ন গল্পে পড়েছি, চোরেরা শরীরে প্রচুর তেল মেখে বের হয়, ফলে শরীর থাকে পিচ্ছিল, ধরা পড়লে সহজেই ছুটে পালাতে পারে। অনেক সময় এই চোরেরাই হয়ত পিচ্ছিল শরীরসম্পন্ন ভূত হিসাবে কোনো পথচারীর সাথে সাক্ষাৎ বা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

৪২| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৩৭

মিরোরডডল বলেছেন: তিনদিনের পর আবার আজও ?
ধুলোর কি প্রতিদিন মান অভিমান পর্ব থাকে
কি নিয়ে হয় সচরাচর ?
জেনে রাখা ভালো ।

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ওটা আমার খুব প্রিয় ।
চোখে মুখে এই বৃষ্টির ছোঁয়ার অনুভূতিটা অসাধারণ !

০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:২৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
এটা লিখেছিলাম ২০০৬ বা ২০০৭-এর দিকে। মন এক বিচিত্র অনুভূতির নাম। খুব জটিল একটা বিষয়, যার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা দুঃসাধ্য

---

মন

মনটা যদি এমন হতো
সুখ বোঝে না, বোঝে না সে কষ্ট-ব্যথা
এই মনে কি ভালোবাসার জন্ম হতো?

এই মনটা নদী কেন? এই মনেতে জোয়ার-ভাটা কেন আসে?
মনটা কেন কষ্ট বোঝে? সুখও খোঁজে? মনের মতো কাউকে পেলে
মনটা কেন ভালোবাসে?

এই মনটা এমন কেন?
জানে না সে কখন কাকে কষ্ট দিল,
পাঁজরভাঙা ব্যথা দিল।
এই মনটা এমন কেন? এমন কেন?

এই মনটা পাথর হলে
কার কী এমন ক্ষতি হতো?
কারো কথায় সুখ না হতো, কষ্ট পেতাম না অন্তত।
এই মনটা পাথর হলে কিচ্ছু তোমার ক্ষতি হতো?

কেন তোমার মন হলো না আমার মতন খুব সাধারণ?
কেন তুমি সুখ বোঝো না? আর বোঝো না কাঁদে কেন আমার এ মন?

৪৩| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:২১

মিরোরডডল বলেছেন: সব অভিমান বলা যায় না, বলা ঠিকও না- চূড়ান্ত অনুসিদ্ধান্ত।[/sb

ধুলো অনুসিদ্ধান্ত মানে বুঝিনি :|

০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কোনো একটা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত থেকে যখন সহজেই অন্য সিদ্ধান্তে পৌঁছা যায়, সেটা হলো অনুসিদ্ধান্ত।

৪৪| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৩৪

মিরোরডডল বলেছেন: সিরিয়াসলি ? ধুলোর নিজের ঘটনা ?
ধুলোকে এখন ভয় লাগবে, ধুলোর সাথে জীন আছে :)
ঘটনা অবশ্যই মেমোরেবল কিন্তু ভয়ের না ।
আকাশে উড়ে যাওয়া এতো আনন্দের কথা :)

০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ঘুড়ি উড়ানোর তীব্র নেশা ছিল আমার। কোনো বাতাস ছিল না। অল্প একটু সুতায় ঘুড়ি বেঁধে একটু দৌড় দেই, ঘুড়ি উপরে উঠলেই সুতা ছেড়ে দিই হাত থেকে। ঘুড়ি একটু দূরে গিয়ে নীচে পড়ে যায়। এভাবে খেলা করছিলাম। ৪/৫ বারের মাথায় ঘুড়িটা আর নামলো না, উপরে উড়ে যেতে লাগলো। হায়, আমার এত আদরের ঘুড়িটা উড়ে যাচ্ছে? আমি আর ঘুড়িটাকে পাব না? আমার চিন্তা ছিল এটাই। ঘুড়ির জন্য দৌড়াতে লাগলাম। দু-একবার হয়ত পড়েও গিয়েছিলাম মাটিতে। যে মহিলার কথা বললাম, সে আমার ধারে কাছেও আসে নাই। কাঁধতে বাড়ি চলে গেলাম। বিকালেই (যতখানি মনে করতে পারি) ঐ মহিলা (সম্পর্কে নানি) আমাদের বাড়ি এসে এই গল্প ফাঁদলো- তুমার পুলারে তো আইজ ঘুড়িতে উড়াইয়া নিয়া গেছিল, আমি পা টাইন্ন্যা নামাইছি। আমি অবাক হই, আমার মা-বাবা ভয়ে কান্নাকাটির আয়োজন করে। আর আমিও ভ্যাবাচ্যাকা খাই, মহিলার মুখ রক্ষার জন্য তার কথায়ই সায় দিতে থাকি। ফলাফল, পরের অনেক বছর আমাকে ঘুড়ি উড়াইতে দেয় নাই

৪৫| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৫

মিরোরডডল বলেছেন: ওয়াও ! মন কবিতাটা দুর্দান্ত হয়েছে ।

"মন এক বিচিত্র অনুভূতির নাম। খুব জটিল একটা বিষয়, যার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা দুঃসাধ্য"
১০০% ট্রু

“অনেক অনেক ধন্যবাদ জমা হয়ে গেল ডুলুর জন্য”
জমা রাখার কি দরকার । দিয়ে দিলেই হয় :)

০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:০২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ডুলুকে অনেক অনেক ধন্যবাদ 'মন' একটা দুর্দান্ত কবিতা হয়েছে বলার জন্য। ধুলো খুব শান্তি পেয়েছে এমন প্রশংসায়।

৪৬| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৫৩

মিরোরডডল বলেছেন: এবার বোঝা গেলো আসলেই মজার ঘটনা :)

৪৭| ০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:১২

মিরোরডডল বলেছেন: ধুলোর নতুন লেখাটা পড়বো এখন ।

বাবাকে নিয়ে ফেব্রুয়ারীতে ধুলোর একটা পোষ্ট পড়েছিলাম । অলমোস্ট সেইম শিরোনামে লাস্ট ইয়ারে আমার একটা লেখা আছে ।
প্রায়ই ভাবি বলবো কিন্তু ভুলে যাই

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.