নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

কবি ও পাঠক

২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩১

কবিদের কাজ কবিরা করেন
কবিতা লেখেন তাই
ভেতরে হয়ত মানিক রতন
কিবা ধুলোবালিছাই

জহু্রি চেনেন জহর, তেমনি
সোনার পাঠক হলে
ধুলোবালিছাই ছড়ানো পথেও
মাটি ফুঁড়ে সোনা ফলে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

***

স্বরচিত কবিতাটির ছন্দ-বিশ্লেষণ

শুরুতেই সংক্ষেপে ছন্দের প্রকারভেদ জেনে নিই। ছন্দ মূলত ৩ প্রকার। এই ৩ প্রকার ছন্দের নাম ও মাত্রাসংখ্যা নিম্নরূপ :

১। স্বরবৃত্ত ছন্দ। এ ছন্দটি ছড়ায় খুব বেশি ব্যবহৃত হয় বলে এটাকে ছড়ার ছন্দও বলা হয়। এতে সবসময় ৪ মাত্রার মূল পর্ব থাকে। বদ্ধস্বর ও মুক্তস্বর উভয়েই ১ মাত্রা হিসাবে গোনা হয়।

স্বর বা অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তা বদ্ধস্বর, যেমন বন (বন্‌), মান (মান্‌), এবং অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে তা মুক্তস্বর, যেমন বাধা= ব্+আ=বা, ধ্+আ=ধা; পড়ো=প্+অ=প, ড়্+ও=ড়ো

স্বর বা অক্ষর হলো সহজ ভাষায় ইংরেজির সিলেবল (Syllable), যেমন, Yes-ter-day. এখানে তিনটা সিলেবল আছে, বাংলায় তিনটা স্বর বা অক্ষর বলা হয়।

২। মাত্রাবৃত্ত ছন্দ। মূল পর্ব ৪, ৫, ৬ বা ৭ মাত্রার হয়। এই ছন্দে বদ্ধস্বর ২ মাত্রা এবং মুক্তস্বর ১ মাত্রা হিসাবে গণনা করা হয়। অর্থাৎ, অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে ১ মাত্রা, আর অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে, এমনকি ‘য়’ থাকলেও, ২ মাত্রা ধরা হয়।

৩। অক্ষরবৃত্ত ছন্দ। মূল পর্ব ৮ বা ১০ মাত্রার হয়। মুক্তস্বর, অর্থাৎ, অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকলে ১ মাত্রা ধরা হয়। অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জন ধ্বনি আছে, এমন অক্ষর শব্দের শেষে থাকলে ২ মাত্রা, আর শব্দের শুরুতে বা মাঝে থাকলে ১ মাত্রা গোনা হয়।

সারাংশ

ক। স্বরবৃত্ত=মূল পর্ব ৪ মাত্রা।
খ। মাত্রাবৃত্ত=মূল পর্ব ৪, ৫, ৬ বা ৭ মাত্রা।
গ। অক্ষরবৃত্ত=মূল পর্ব ৮ বা ১০ মাত্রা।

***

আমার উপরের কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত। মূল পর্ব ৬ মাত্রার। ৩টা মূল পর্ব আছে, ২ মাত্রার একটা অতি-পর্ব আছে।

কবিদের কাজ
কবিরা করেন
কবিতা লেখেন
তাই

ক-বি-দের কাজ
ক-বি-রা ক-রেন
ক-বি-তা লে-খেন
তা-ই

ক-মুক্তস্বর-১ মাত্রা
বি-মুক্তস্বর-১ মাত্রা
দের-বদ্ধস্বর-২ মাত্রা
কাজ-বদ্ধস্বর-২ মাত্রা

রেন/খেন/লেন-বদ্ধস্বর-২ মাত্রা

উপরের কবিতায় ৬-৬-৬-২ মাত্রা করে আছে প্রতি চরণে।

ছন্দ সম্পর্কে আরো জানতে চাইলে পড়তে পারেন : বাংলা কবিতার ছন্দ - প্রাথমিক ধারণা

ছন্দ সম্পর্কে আমার গুরু বলেন : কবিতা লেখার জন্য ছন্দ জানার বা শেখার মোটেও দরকার নাই, যেটা দরকার তা হলো কবিতা কী তা জানা ও বোঝা।

জয় গুরু। পোস্টটি উৎসর্গ করলাম আমার গুরুকেই, যিনি বহুদিন ধরে এখানে নিদ্রাযাপন করছেন।

মন্তব্য ৪৮ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৪৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৪৬

শ্রাবণ আহমেদ বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষণ, তবে মাত্রাবৃত্তে তো মূলপর্ব চার মাত্রা হয় না। এটা কেবল ৫,৬ এবং ৭ মাত্রার হয়।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:১৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ শ্রাবণ আহমেদ। আপনার কমেন্ট থেকে বুঝে নিলাম ছন্দ সম্পর্কে আপনি বেশ ভালো জ্ঞান রাখেন। ছন্দবিশেষজ্ঞগণ ৪ মাত্রাসহ ৫,৬ ও ৭ মাত্রার মূল পর্ব নিয়ে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ গঠনের কথা বলে গেছেন। তবে, ৪ মাত্রার পর্বসম্পন্ন কবিতা হয়ত খুব কিমি। হবে। আপনার প্রশ্ন দেখেই আমি ৪ মাত্রার কিছু কবিতা খুঁজলাম। যা পেলাম, তার মধ্য থেকে রবীন্দ্রনাথের 'সহজ পাঠ দ্বিতীভ ভাগ' থেকে এ কবিতাটা দিলাম।



একদিন || রাতে আমি || স্বপ্ন দে||খিনু
“চেয়ে দেখো” || “চেয়ে দেখো” || বলে যেন || বিনু।
চেয়ে দেখি, ঠোকাঠুকি বরগা কড়িতে,
কলিকাতা চলিয়াছে নড়িতে নড়িতে।
ইঁটে-গড়া গণ্ডার বাড়িগুলো সোজা
চলিয়াছে দুদ্দাড় জানালা দরজা।
রাস্তা চলেচে যত অজগর সাপ,
পিঠে তার ট্রামগাড়ি পড়ে ধুপ্‌ ধাপ্‌।
দোকান বাজার সব নামে আর উঠে,
ছাদের গায়েতে ছাদ মরে মাথা কুটে।
হাওড়ার ব্রিজ চলে মস্ত সে বিছে,
হ্যারিসন্‌ রোড চলে তার পিছে পিছে।
মনুমেণ্টের দোল যেন ক্ষ্যাপা হাতি
শূন্যে দুলায়ে শুঁড় উঠিয়াছে মাতি।
আমাদের ইস্‌কুল ছোটে হন্‌হন্‌,
অঙ্কের বই ছোটে, ছোটে ব্যাকরণ।
ম্যাপগুলো দেয়ালেতে করে ছট্‌ফট্‌,
পাখি যেন মারিতেছে পাখার ঝাপট।
ঘণ্টা কেবলি দোলে ঢঙ্‌ ঢঙ্‌ বাজে—
যত কেন বেলা হোক তবু থামে না-যে।
লক্ষ লক্ষ লোক বলে, “থামো থামো”।
কোথা হতে কোথা যাবে এ কী পাগ্‌লামো।”
কলিকাতা শোনে না কো চলার খেয়ালে—
নৃত্যের নেশা তার স্তম্ভে দেয়ালে।
আমি মনে মনে ভাবি চিন্তা তো নাই,
কলিকাতা যাক নাকো সোজা বোম্বাই।
দিল্লি লাহোরে যাক, যাক না আগরা,
মাথায় পাগ‍্‌ড়ি দেবো, পায়েতে নাগ্‌রা।
কিম্বা সে যদি আজ বিলাতেই ছোটে
ইংরেজ হবে সবে বুট হ্যাট্‌ কোটে।
কিসের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল যেই
দেখি, কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই॥

---

অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা শ্রাবণ আহমেদ।

২| ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৫৯

নেওয়াজ আলি বলেছেন: শিক্ষণীয় পোষ্ট । আপনার গুরু মূল্যবান কথা বলেছেন । সত্যিই তাই

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:১৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার গুরুর কথাটি মূল্যায়ন করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই। শুভেচ্ছা।

৩| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:৫৪

ঢুকিচেপা বলেছেন: আপনার কাজ আপনি করেছেন
নিদ্রা গিয়াছেন গুরু
অযথা কেন টানাটানি তাকে
নিজেই করেন শুরু

লিঙ্কটার জন্য প্রিয়তে রাখলাম। মাঝে মাঝে পড়তে হবে।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:২৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহাহা। ভালো উপদেশ দিয়েছেন তো! গুরুকে নিয়া আর কত টানাটানি করবো, সময় এসেছে নিজেরে দিয়াই শুরু করার :)

ঢুকি খায় সিঙ্গারা
চেপা খায় ডালপুরি
জীবনটা বৃথা তার
যে না খায় ঝালমুড়ি


৪| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ ভোর ৪:৫৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:

করছেনটা কি! অনেকের কবিতা লেখাইতো বন্ধ হয়ে যাবে
ছন্দের বেড়াজালে আটকা পড়ে । শিখলাম অনেক।
যাবার বেলায় প্রিয়তে নিয়ে গেলাম ।
শুভেচ্ছা রইল

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হাহাহাহাহা। কোনো টেনশন নিয়েন না প্রিয় আলী ভাই :) পোস্টের নীচে এজন্যই অভয় বাণী যুক্ত করা হয়েছে- কবিতা লেখার জন্য ছন্দ শিখতে হবে, বা জানা থাকতে হবে- তা একদম ঠিক না। কবিতা লিখতে পারলেই হলো

শুভেচ্ছা রইল

৫| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৫২

বিএম বরকতউল্লাহ বলেছেন: সৃজনশীল কাজে কোন ধরাবাধা নিয়ম বা ছক আমার পছন্দ না।
আমার পছন্দ, আমি যা সৃষ্টি করেছি তা ভাল লাগছে কি না তাই আমার কাছে বড়।
নিয়ম-কানুন স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করে। আর যেখানে স্বাধীনতা স্বাধীন নয় সেখানে সৃজনশীলতা খুব একটা গতি পায় না।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: খুবই সুন্দর কথা বলেছেন প্রিয় বরকতউল্লাহ ভাই। তবে, আমরা কিন্তু নিজের অজান্তেই প্রচলিত ছক বা নিয়মগুলো অনুসরণ করে থাকি। এই যে আপনি এত সুন্দর সুন্দর ছড়া লেখেন, সবই কিন্তু নিখুঁত ছন্দোবদ্ধভাবে লেখা। এই নিয়ম বাদ দিয়ে এমন কোনো ছড়া লেখা কি সম্ভব যা এর আগে কেউ দেখেন নি বা পড়েন নি? সম্ভব না। যেমন, যে শিল্পী কোনোদিন সনোরডাই দেখেন নি, তার পক্ষে সনোরডাই'র ছবি আঁকা অসম্ভব। নিয়মগুলো জানা থাকলে তা ভেঙে নতুনতরো কিছু সৃষ্টি করা যায়।

কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা রইল।

৬| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:১৫

শায়মা বলেছেন: হা হা গুরুকে খুঁজে পেলাম ভাইয়া।

গুরু আর ঘুম থেকে জাগে না কেনো?

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শিস্যের উপর গুরুর খুব আস্থা। তাই তিনি আর জাগেন না

৭| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২৩

শায়মা বলেছেন: হা হা ভালোই তো শিস্যের হাতে সকল দায়ভার তুলে দিয়ে তিনি সুখে নিদ্রা যান......

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শিস্য কি ধন্যবাদ পাবার যোগ্য নহেন?

৮| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২৪

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সুন্দর।+

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় কবি সেলিম আনোয়ার ভাই+

৯| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: কবিতা বুঝিনা, ছন্দ বুঝিনা। মাত্রাবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত, স্বরবৃত্ত, সনেট, অষ্টক, ষষ্টক, হাইকু, ইকিরিমিকিরি কিছুই বুঝিনা, তবে এটুকু নিশ্চিত বুঝলাম যে নিজের নামের স্বার্থক ব্যখ্যা করেছেন আট লাইনে! পেতে পারো সোনাবীজ অথবা ধুলোবালিছাই!! হয় হেড নয় টেইল!! B:-/

আপনি জাতিসংঘের শান্তিমিশনে ছিলেন- চাঁদগাজী স্যারের এরকম একটা মন্তব্যে আপনার মৌনব্রত তাকে সত্য প্রমাণ করেছিলো। কামনা করি, সেক্ষেত্রে আপনি সেনাসদস্য হিসেবে ছিলেন না। না হলে এরকম দার্শনিক-কবি সৈনিক টিমে থাকলে দেখা যাবে যুদ্ধের সময় বন্দুক ফেলে রেখে কলম আর খাতা নিয়েই যুদ্ধক্ষেত্রে ছুঁটছে আর সুমনের সুরে শহীদ কাদরী আওড়াচ্ছে- ভয় নেই, এমন দিন এনে দেবো, দেখো সেনাবাহিনী বন্দুক নয়, গোলাপের তোড়া হাতে কুঁচকাওয়াজ করবে....##@৳#^ঁ%* =p~

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:৫০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
আপনার কমেন্ট আমাকে কিছু সার্চ করতে বাধ্য করেছে। খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেলাম ফেইসবুকে আনিসুল হকের একটা পোস্টে। ইউটিউবে গানটা পেয়েছি সারেগামা'র চ্যানেলে। মূল কবিতাটা শহীদ কাদরীর। সামান্য পরিবর্তন লক্ষ করলাম, তাৎক্ষণিক স্টাডিতে। কষ্ট পেলাম, সারেগামা'র চ্যানেলে লিরিসিস্ট হিসাবে কবীর সুমনের নামই আছে শুধু, শহীদ কাদরীর উল্লেখ নেই। একটা কমেন্টও করে এলাম সেখানে।

১০| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:২৮

শায়মা বলেছেন: হা হা পদ্মপুকুর ভাইয়ার প্রশ্নে কি শিস্য কবি আজও নীরব থাকিবেন? :P

ভাইয়া সেই কবিতাটা মনে পড়ে........

মিটিং টেবিলে ওগো বিদেশীনি.......


পদ্মভাইয়াকে শুনাও কবিতাটা.........

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:৫৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শহীদ কাদরীর কবিতাটা খুব ভাবাচ্ছে। জানি না ওটা কত সালে লেখা। ছোটো বেলায় একটা শ্লোগান ছিল - যুদ্ধ নয়, শান্তি। পরীক্ষায় এটা রচনা হিসাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আজকাল এই রচনা বাংলা পরীক্ষায় আসে না, বইতেও মনে হয় নাই। অর্থাৎ, শান্তির গুরুত্ব নাই এখন, যুদ্ধ বিগ্রহই ভালো লাগে।

কবিতাটা পড়ে মনে হলো- যুদ্ধ ক্ষেত্র বলতেই দাবদাহময় প্রান্তরের ছবি ভেসে ওঠে চোখে। এমনটা যদি হতো, বন্দুক উঁচিয়ে নয়, ফুলের তোড়া হাতে শত্রুরা একে অপরের দিকে এগিয়ে আসছে। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে যার যার তাবুতে ফিরে যাচ্ছে। তাহলে হয়ত পৃথিবীটা শান্তিতে ভরে উঠতো।

কিন্তু, যুদ্ধসৈনিক তো রাষ্ট্রের একটা যন্ত্র মাত্র, যারা হুকুমে চালিত হয়। রাষ্ট্রের কর্ণধাররা যদি একে অপরকে ফুল দিয়ে বরণ করতে না পারে, যুদ্ধ থামবে না।

১১| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:০৭

পদ্ম পুকুর বলেছেন: শহীদ কাদরীর অনুমতিক্রমেই গানে কিছুটা এদিক ওদিক হয়েছিলো বলেই শুনেছিলাম। তবে লিরিসিস্টি হিসেবে শুধু কবীর সুমনের নাম থাকাটা গর্হিত।

আমি তো ফেইসবুক ব্যবহার করি না, আনিসুল হকের পোস্টে কি পেলেন?

কনফারেন্স টেবিলের ওপাশে বসা মেয়েটি'তে কোনো কবিতা ছিলো কিনা মনে পড়ছে না @ শায়মা ম্যাডাম।

গতকাল ইউটিউবে ঘুড্ডি মুভিটার কিঞ্চিত অংশ দেখলাম। ওখানে রাইসুল ইসলাম আসাদের বন্ধুর একটা ডায়ালগে কোবতে শব্দটা আছে। শুনে বেশ মজা লাগলো। আমি ভেবেছিলাম কোবতে শব্দটা ব্লগের নিজস্ব আবিষ্কার।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এখানে একটা কমেন্ট করে এসেছি।

'ঘুড্ডি' আমি দেখেছি গত বছর দুয়েকের মধ্যে। আমি শিওর না, মনে হচ্ছে শুনেছিলাম শব্দটা এবং আপনার মতোই পুলকিত হয়েছিলুম।

অনুমতি নিয়ে কবিতা পরিমার্জন করে সুর করায় ক্ষতি নাই, যদি লিরিসিস্ট হিসাবে শহীদ কাদরীর নাম থাকে। কিন্তু ইউটিউবে শহীদ কাদরীর নামই উধাও করে দেয়া গর্হিত অপরাধ।
--

আনিসুল হকের স্টেটাস

--

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা--শহীদ কাদরী

ভয় নেই
আমি এমন ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী
গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে
মার্চপাস্ট করে চলে যাবে
এবং স্যালুট করবে
কেবল তোমাকে প্রিয়তমা।

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
বন-বাদাড় ডিঙ্গিয়ে
কাঁটা-তার, ব্যারিকেড পার হয়ে, অনেক রণাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে
আর্মার্ড-কারগুলো এসে দাঁড়াবে
ভায়োলিন বোঝাই করে
কেবল তোমার দোরগোড়ায় প্রিয়তমা।

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো-
বি-৫২ আর মিগ-২১গুলো
মাথার ওপর গোঁ-গোঁ করবে
ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
চকোলেট, টফি আর লজেন্সগুলো
প্যারাট্রুপারদের মতো ঝরে পড়বে
কেবল তোমার উঠোনে প্রিয়তমা।

ভয় নেই...আমি এমন ব্যবস্থা করবো
একজন কবি কমান্ড করবেন বঙ্গোপসাগরের সবগুলো রণতরী
এবং আসন্ন নির্বাচনে সমরমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
সবগুলো গণভোট পাবেন একজন প্রেমিক, প্রিয়তমা!

সংঘর্ষের সব সম্ভাবনা, ঠিক জেনো, শেষ হবে যাবে-
আমি এমন ব্যবস্থা করবো, একজন গায়ক
অনায়াসে বিরোধীদলের অধিনায়ক হয়ে যাবেন
সীমান্তের ট্রেঞ্চগুলোয় পাহারা দেবে সারাটা বৎসর
লাল নীল সোনালি মাছি-
ভালোবাসার চোরাচালান ছাড়া সবকিছু নিষিদ্ধ হয়ে যাবে, প্রিয়তমা।

ভয় নেই আমি এমন ব্যবস্থা করবো মুদ্রাস্ফীতি কমে গিয়ে বেড়ে যাবে
শিল্পোত্তীর্ণ কবিতার সংখ্যা প্রতিদিন
আমি এমন ব্যবস্থা করবো গণরোষের বদলে
গণচুম্বনের ভয়ে
হন্তারকের হাত থেকে পড়ে যাবে ছুরি, প্রিয়তমা।

ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
শীতের পার্কের ওপর বসন্তের সংগোপন আক্রমণের মতো
অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতে-বাজাতে বিপ্লবীরা দাঁড়াবে শহরে,

ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো
স্টেটব্যাংকে গিয়ে
গোলাপ কিম্বা চন্দ্রমল্লিকা ভাঙালে অন্তত চার লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে
একটি বেলফুল দিলে চারটি কার্ডিগান।
ভয় নেই, ভয় নেই
ভয় নেই,
আমি এমন ব্যবস্থা করবো
নৌ, বিমান আর পদাতিক বাহিনী
কেবল তোমাকেই চতুর্দিক থেকে ঘিরে-ঘিরে
নিশিদিন অভিবাদন করবে, প্রিয়তমা।

Now the Suman's version
মূল কবিতা শহীদ কাদরীর লেখা, আংশিক পরিবর্তনে সুর/কণ্ঠে কবীর সুমন।

তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা…প্রিয়তমা
ভয় নেই এমন দিন এনে দেব
দেখ সেনাবাহিনীর বন্দুক নয়, শুধু গোলাপের তোড়া হাতে
কুচকাওয়াজ করবে তোমার সামনে,
শুধু তোমাকেই তোমাকেই স্যালুট করবে তারা দিনরাত।।

ভয় নেই এমন দিন এনে দেব
বনবাদাড় ডিঙিয়ে, কাঁটাতার পেড়িয়ে,
ব্যারিকেড পেরিয়ে, সাঁজোয়া গাড়ির ঝাঁক আসবে,
বেহালা, গীটার, বাঁশি, হারমোনিকা নিয়ে
শুধু তোমারি তোমারি দোড়গোড়ায়, প্রিয়তমা।।

ভয় নেই এমন দিন এনে দেব
বোমারু জঙ্গী যত বিমানের ঝাঁক থেকে
বোমা নয়, গুলি নয়, চকলেট, টফি রাশি রাশি
প্যারাটুপারের মত ঝড়বে
শুধু তোমারি তোমারি উঠোন জুড়ে প্রিয়তমা।।

~~~ মূল কবিতা শহীদ কাদরীর লেখা, আংশিক পরিবর্তনে সুর/কণ্ঠে কবীর সুমন।

১২| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৪৫

রাজীব নুর বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই গতকাল রাতেই পড়েছি। খুব কঠিন পোষ্ট বলে মন্তব্য করি নাই।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ছন্দের ব্যাপারটা আমার কাছে অংকের ক্লাসের মতো লাগে। অংক অনেকের কাছে খুব মজার ও ইন্টারেস্টিং এবং সহজ সাবজেক্ট। তবে, ছন্দ মনে রাখা বা ভুলে যাওয়ায় কবিতা লেখায় কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না :)

১৩| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:০১

রাজীব নুর বলেছেন: ছন্দ পড়তে আরাম, মিলাতে কষ্ট। আমি পারি না।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এজন্যই শুধু পড়েই যান, মেলানোর কী দরকার? :)

১৪| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:১৫

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: ধুলো আর সোনা কুড়িয়ে নিলাম। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। :)

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:২৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: :) কুড়িয়ে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ সম্রাট দ্য বেস্ট। শুভেচ্ছা।

১৫| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৬

মা.হাসান বলেছেন: এক সময়ে ছন্দ লাগতো, মাত্রা লাগতো । এর পর এক যুগ আসলো যখন কাগজ কলম হলেই কবিতা লেখা যেতো। তার পর আসলো কি বোর্ডের যুগ। তার পর জিবোর্ডের যুগ। এখন কবিতা লিখতে ফেসবুক বা ব্লগের অ্যাকাউন্ট থাকলেই চলে।আপনার পোস্ট পড়ে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতার ক্লাসের কথা মনে পড়ে গেলো। যার নিয়মটা জানা আছে সে বোঝে কোথায় নিয়মটা ভাঙা যায়, কি ভাবে ভাঙা যায়।

৯০ এর দশকে সুমন যখন ফিতাতে গানটা প্রকাশ করেন তখন দিব্যি ক্যাসেটের কভারে লেখা ছিলো শহীদ কাদরীর কবিতা অবলম্বনে। অপকর্ম যা করার পরের দিকের লোকেরা করেছেন। ইউটিউবারদের মধ্যে কতজন শহীদ কাদরীর নাম জানেন তাও বলা মুশকিল। বর্তমান বিচারে শহীদ কাদরী সে রকম সেলিব্রেটি না যতটা সেফুদা বা মারজুক রাসেল।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সুন্দর একটা আলোচনা করেছেন। কবিতার বিবর্তনটা আসলে বেশ চোখে পড়ার মতো এবং খুব ইন্টারেস্টিংই। এই বিবর্তন হয়েছে বিষয়বস্তু ও ছন্দ বা ফর্ম সব ক্ষেত্রেই। তবে, একটা বিষয় স্পষ্ট যে, কবিতা বা ছন্দের যত বিবর্তনই হোক না কেন, একটা কবিতা পড়ামাত্রই পাঠক বুঝতে পারেন, এটা কবিতা, গদ্য নয়। তার মানে, কবিতার একটা ধরাবাঁধা ফর্ম বা ছক আছে। এক পৃষ্ঠা টানা গদ্য লিখে যদি আমি বলি- এই নিন, একটা ছড়া লিখে দিলাম, তাহলে পাঠক আমাকে পাগল বলবে। এজন্যই আমাকে জানতে হবে, কোনটা কবিতা বা ছড়া, আর কোনটা গদ্য। তেমনি, যাচ্ছেতাই ভাবে একটা কবিতা লিখে দিলেই সেটা পাঠকের দৃষ্টিতে পড়বে না, যদি তাতে কবিতার জন্য একটা ন্যূনতম মানদণ্ড না থাকে। নিয়ম না জেনেও লেখা যায়। তবে, নিয়মটা জানা থাকলে নিয়মটা রিভিউ করা যায়, ওটা ভেঙে নতুন নিয়মও বানানো যায়। নিয়ম ভেঙে নতুন নিয়ম করার জন্যই আসলে বর্তমান নিয়মটা জানা জরুরি।

যাক, শহীদ কাদরীর গানটা সম্পর্কে এখন নিশ্চিত হওয়া গেল। এখানে ইউটিউবাররা অবশ্য বিষয়টা তুলে ধরেছেন এবং প্রতিবাদ করেছেন।

বর্তমান বিচারে শহীদ কাদরী সে রকম সেলিব্রেটি না যতটা সেফুদা বা মারজুক রাসেল। শহীদ কাদরীর সেলিব্রেটি হওয়ার দরকার নেই। তিনি যাদের হৃদয়ে আছেন ও থাকবেন, তা সেফুদাদের ভাগ্যে জুটবে না।

বরাবরের মতোই সুন্দর একটা কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ মা হাসান ভাই।


১৬| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪২

পদ্ম পুকুর বলেছেন: মা.হাসান বলেছেন: ইউটিউবারদের মধ্যে কতজন শহীদ কাদরীর নাম জানেন তাও বলা মুশকিল। বর্তমান বিচারে শহীদ কাদরী সে রকম সেলিব্রেটি না যতটা সেফুদা বা মারজুক রাসেল।

আমার মনে হয়, মারজুক রাসেল অভিনয়ে না আসলেই বরং ভালো হতো। অভিনয়পূর্ব যুগে তাঁর যে সব কবিতা, গান, ওগুলোই তাঁকে প্রশংসিত করার জন্য যথেষ্ঠ ছিলো।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৩৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার মনে হয়, মারজুক রাসেল অভিনয়ে না আসলেই বরং ভালো হতো। অভিনয়পূর্ব যুগে তাঁর যে সব কবিতা, গান, ওগুলোই তাঁকে প্রশংসিত করার জন্য যথেষ্ঠ ছিলো। মারজুক রাসেলকে আমি প্রথম দেখি 'চড়ুইভাতি' নামক এক টেলিফিল্মে (ফারুকী/আনিসুল হক)। কেমন অগোছালো চেহারা, শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারে না, তোতলায়। কিন্তু ভালো লাগলো। এরপর দেখি ব্যাচলর ছবিতে। ভালো লাগলো। এরপর একটা অ্যাড দেখি, প্রেমিকার উপর রাগ ঝাড়ছে- তুই বিয়া করলি ক্যান? ভালো লাগলো। এরপর কেউ একজন বলে, ও কবিতাও লেখে। একদিন প্রথম আলোতে ছোটো একটা কবিতাও পড়লাম। বিশেষ কিছু না। পরে দেখলাম সে গানও লিখছে- দ্বিধা।

সে মাল্টি ট্যালেন্টেড। তবে, কেউ যখন লেখালেখিতে নাম করে ফেলেন, বা ভালো লেখক হিসাবে প্রচার পান, তখন তার অভিনেতা পরিচয়টা তাকে হালকা করে ফেলে। কে জানে, এই অভিনয়ের ফলেই হয়ত লেখালেখিতে তার উৎকর্ষ ঘটেছে।

রিসেন্টলি তার কিছু কার্যকলাপ তাকে বিতর্কিত করেছে। যেমন, বিরাট বইয়ের স্তূপের উপর পা ঝুলিয়ে বসে ছবি তোলা।

মারজুক রাসেলের আর কোনো লেখালেখি আমার পড়া হয় নি। তবে তার লেখালেখির প্রশংসা দেখা যায়।

সব মিলিয়ে তাকে আমার ভালো লাগে।

১৭| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:১২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: অনেক ভারী ভারী কথার পর আপনার গুরুর কথা শুনে একটু হাল্কা লাগলো। আমি কবিতার তেমন কিছু বুঝি না। তবে আমার মনে হয় যে কোন ভাষার ব্যাকরণ তৈরি হয় পরে। আগে ভাষা সৃষ্টি হয়। একটা ৩/৪ বছরের বাচ্চা ব্যাকরণ না জেনেই অনেক সঠিকভাবে কথা বলতে পারে। কথা বলার সময় অনেক ব্যাকরণগত ভুল আমরা করে থাকি। কিন্তু তার কারণে মনের ভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয় না। ব্যাকরণ জানলে আরও শুদ্ধ করে আমরা কথা বলতে পারতাম। স্বরলিপি দিয়ে গানকে পুরোপুরি লেখা যায় না, লেখার চেষ্টা করা হয় মাত্র। স্বরলিপি ছাড়াও অনেকে গান তুলতে পারেন। কিন্তু স্বরলিপি জানা থাকলে গানটি আরও নিখুঁত হয়। একইভাবে কবিতার নিয়মগুলি জানলে কবিতা আরও নিখুঁত হয়। তবে না জানলে যে কবিতা একদম হবে না ব্যাপারটা সেরকম না। কবিতার এই নিয়মগুলি কে/ কারা বানাল জানতে ইচ্ছে করছে। এই নিয়ম কি ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষার কবিতার ক্ষেত্রেও আছে?

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:০৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এই নিয়ম কি ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষার কবিতার ক্ষেত্রেও আছে? সনেট তো আমরা ইংরেজি ভাষা থেকেই নিয়েছি। ছোটোগল্পও বাংলা ভাষায় প্রথম লিখিত হয় নি, এর আগে অন্তত ইংরেজিতে ছোটো গল্পের প্রচলন ছিল।

প্রথম যে ব্যক্তিটি পাখির ডাকের সাথে মিল রেখে কিছু একটা লেখার চেষ্টা করলেন, তার নাম দিলেন 'কবিতা' (ধরুন)। এটা হয়ত আরো অনেকের ভালো লাগলো। তারাও তার মতো কবিতা লেখা শুরু করলেন। এমনও হতে পারে, এর আগে ঝড়ের তাণ্ডব দেখে, সমুদ্রের গর্জন শুনেও কেউ কেউ কিছু একটা লিখেছিলেন, কিন্তু সেগুলো কারো দৃষ্টিতে পড়ে নি, প্রচারও পায় নি (জাস্ট হাইপোথেসিস)। অথবা, অন্য কেউ কেউ এমন কিছু লেখালেখি শুরু করলেন যা কবিতার মতো না। এগুলোর কোনোটাকে হয়ত কেউ নাম দিলেন গল্প, কোনোটাকে প্রবন্ধ ইত্যাদি। এভাবে বহু বহু বছর পর দেখা গেল, কিছু কিছু লেখার প্যাটার্ন একই রকম। অর্থাৎ, সবগুলো লেখাকে প্যাটার্ন বা ভাব অনুযায়ী ক্যাটাগরাইজ করা হলো। ক্যাটাগরিগুলোর নাম কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ হয়ে গেল। ঐ নামকরণগুলো না করলেও হতো। হয়ত লেখালেখি এভাবেই চলতো। তাতে হতো কী? আপনার কোনো নাম না রাখা হলে যতটুকু সমস্যা হতো, এই লেখাগুলোর ক্ষেত্রেও তাই হতো। আমার এ কবিতাটির কোনো অভীধা থাকতো না আর কী।

এখন, আমরা কোনো লেখার জন্য কেন কিছু নিয়ম অনুসরণ করি? আসলে নিয়ম অনুসরণ করি না, মূল লেখাগুলোকে পড়ি। পড়তে পড়তেই বুঝে গেছি কোনটা কবিতা আর কোনটা গদ্য। এই যে কবিতা বা গল্পকে যে আলাদা করার কৌশল আমার রপ্ত হয়ে গেছে, আমি কিন্তু পড়ালেখা না করেও নিয়মটা জেনে গেছি। তেমনি, যে শিশুটি কথা বলতে শিখলো, সে কিন্তু অপরের মুখে শুনে শুনেই কথাগুলো বলছে। মা বলছে - 'ভাত খেয়ে যাও'। 'গোসল করে এসো।' শিশুটি শুনে শুনেই বুঝে গেছে কোথায় সাবজেক্ট, কোথায় ভার্ব্‌ আর কোথায় অবজেক্ট বসাতে হবে। সে মাকে বলবে না, 'খাব কিছু এখন না আমি', বরং বলবে - 'এখন আমি কিছু খাব না।' শুরুতে সে এই শব্দগুলো শুদ্ধভাবে বলতে পারে না। বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে তার উচ্চারণ ভালো হয়, শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি পায়। এভাবেই শিশু স্কুলে না যেয়েও ভাষা শেখার নিয়ম বা ব্যাকরণটা শিখে ফেলছে। সুতরাং, শিশু যে ব্যাকরণ না জেনেই মাতৃভাষা শিখে ফেলেছে ব্যাপারটা তা না। সে যে পরিবেশে যে ভাষায় বড়ো হচ্ছে, তার আহরিত ভাষা ওরকমই হবে। তাই চট্টগ্রামের শিশু ঢাকাইয়া কট্টিতে কথা কয় না, আর বাঙালি শিশু ঢাকায় বাঙালি পরিবারে বাস করে ইংরেজি বা ফ্রঞ্চ বলতে শেখে না।

এই নিয়মগুলো না থাকলেও হতো। তাহলে কী হতো? অনেক লেখাত ভিড়ে কিছু লেখা নিশ্চয়ই পাঠকপ্রিয়তা লাভ করতো। আমরা সেই সেরা লেখাগুলোর মতো করে লিখতে চাইতাম। সেরা লেখাগুলো কীভাবে লেখা হয়েছে? কেন ওগুলো সেরা হয়েছে, ওটা বিশ্লেষণ করতে গেলে তাতে কিছু নিয়মকানুন খুঁজে পাওয়া যেত। তো, ঐ নিয়মকানুনগুলোই হয়ত কোনো এক বিশ্লেষক বা গবেষক আজ থেকে বহু বহু বছর আগে ছক আকারে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ দেখা গেছে যে, সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে লেখার ফলেই কিছু লেখা সাধারণ লেখার চাইতে আলাদা মর্যাদা পায় বা উন্নত লেখা হিসাবে দাঁড়িয়ে যায়।

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে এই হলো নিয়মাবলি মেনে চলার হাইপোথেটিক্যাল আইডিয়া, যা বাস্তবসম্মত বলেই আমার মনে হয়।

আমার গুরুর কথায় আপনি হালকা বোধ করেছেন জেনে আমিও হাল্কা বোধ করিতেছি

১৮| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:২৬

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: ছন্দের বিস্তারিত পোস্টটা প্রায়ই পড়া হয়।আর সত্যি কথা বলতে গেলে কবিতার নিয়মটা জানা থাকলে ইচ্ছেমতো কাটাছেঁড়া করা যায়।ছন্দের নিয়ম মানার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।তবুও ছন্দের এই বিষয়গুলো কবির কবিতাকে পূর্ণতা দেয়।কবিকেও পূর্ণতা দেয়। এসব নিয়ম কবিতায় প্রয়োগ না করলাম,কিন্তু জেনে রাখতে তো দোষ নেই।
আপনার গুরুকে ফেইসবুকে দেখেছি আমি। তিনি চা-বিস্কুট খেয়ে দিব্যি সুখে আছেন।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৪৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার গুরুকে ফেইসবুকে দেখেছি আমি। তিনি চা-বিস্কুট খেয়ে দিব্যি সুখে আছেন। হাহাহাহাহাহা। এই লাইন পড়ে হাহাহাহা করেই হেসে উঠেছি :)

হ্যাঁ, আমিও তাই বলি, নিয়মটা জানা থাকলে ঐ বিষয়ে আত্মবিশ্বাস যেমন গাঢ় হয়, লেখাটাও অধিক সার্থক হওয়ার সম্ভাবনা জাগ্রত হয়। ১৫ বছর আগে আমার নিজের কিছু কবিতায় আমি বুঝতে পারছিলাম ছন্দপতন হয়েছে, কিন্তু ধরতে বা বুঝতে পারছিলাম না সমস্যাটা ঠিক কোনো জায়গায়। অথচ এখন সেই সমস্যা আমি সহজেই চিহ্নিত করতে পারি, সংশোধন করাও সহজ হয়ে যায়। আরেকটা বিষয় হলো, আমরা যে যত বড়াই-ই করি না কেন আমি নিয়ম মানি না, বা মানতে চাই না, আসলে সেটা সম্ভব না। এই নিয়ম না-মানার মধ্য দিয়েই আমি নিয়মের ভেতরে গড়াগড়া খাচ্ছি। নিয়ম ভঙ্গ করে সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে একটা ছড়া বা কবিতা কেমন হয়, আমার সেটা দেখতে খুব ইচ্ছে করে।

অংকেও কবিতা লেখা হইয়া গেছে :)


ভালো কথা, গুরু আপনার জন্য চা-নাস্তা পাঠিয়েছেন

১৯| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৫৮

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনার গুরুর উপহার শিরোধার্য।যদিও এই চা-নাস্তা মাথায় রাখবো না।তৃপ্তি করে খাবো।
ভুল ধরার জন্য হলেও সঠিকটা জানা জরুরি।

অংকের কবিতার লিংকটা রেখে দিলাম।ভালো করে পড়ে তারপর মন্তব্য করবো। এখন পড়া শুরু করলে রাতে ঘুম হবে না আর।

২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অংকের কবিতার লিংকটা রেখে দিলাম।ভালো করে পড়ে তারপর মন্তব্য করবো। এখন পড়া শুরু করলে রাতে ঘুম হবে না আর। আপনি যে বিরাট ধাঁধাপাগলা সেটা মনে পড়লো এখন। আগে মনে থাকলে ওটা দিতাম না। কারণ, ওটা সত্যিই আপনাত সময় খেয়ে ফেলবে। তাই সময় হাতে নিয়ে নিরিবিলি সময়ে ওটাতে মনোযোগ দিবেন।

আসলে ওটা খুব সিলি একটা জিনিস :)

২০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:১৩

শায়মা বলেছেন: কনফারেন্স টেবিলের ওপাশে বসা মেয়েটি'তে কোনো কবিতা ছিলো কিনা মনে পড়ছে না @ শায়মা ম্যাডাম।

পড়বেনা পড়বেনা মনে পড়বেনা ভাইয়া........

শিস্য হেরে গেছে তার স্মৃতি হারাইয়াছে।

গুরুর কাছে যাও। :)

২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:২১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শিষ্য তো ওটা দিতে চায় নাই :(

কিন্তু শিষ্য হেরে গেছে - এ কথায় শিষ্যের শরীরে রক্ত গরম হইয়া গেছে। শিষ্য কখনো হারতে পারে না, গুরু তাকে হারিবার কোনো শিক্ষা দেন নাইইইইইইই

২১| ২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:৫১

মা.হাসান বলেছেন: @সাড়ে চুয়াত্তর- সাহিত্যে গদ্য এক সময়ে অপাঙক্তেও ছিলো; সাহিত্যের গদ্য রূপ অনেক নতুন। গ্রিক-ল্যাটিন-ইংরেজি-সংস্কৃত সব ভাষাতেই বড় লেখকরা আগে ছন্দাকারে লিখতেন। আগে ছন্দের গ্রামার অনেক রিজিড ছিলো। পরে লেখকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, নিয়ম অনেক সহজ হয়েছে, নিয়ম না জেনেও লেখা সম্ভব হয়েছে।

ইংরেজি ভাষাতেও সিলেবল ভিত্তিক ছন্দ অনেক আগে থেকেই প্রচলিত। iambic rhyme বা metre শব্দ দুটি দিয়ে সার্চ করে দেখতে পারেন।

২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৪৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: মূল্যবান সংযোজনীর জন্য ধন্যবাদ মা হাসান ভাই। আমার মনে হয় পৃথিবীর সব ভাষাতেই গান আছে, গান থাকলে কবিতাও থাকবে। গান আর কবিতা থাকলে তাতে ছন্দের ক্লাস অবশ্যই থাকবে। ইংলিশ পোয়েমে Iambic pentameter একটা উল্লেখযোগ্য স্টাডি ম্যাটার।

২২| ২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১:১৩

শায়মা বলেছেন: হা হা এটাই পদ্মভাইয়ার প্রশ্নের উত্তর তাইনা ভাইয়ামনি????

২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৪৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: উত্তর হইছে? :)

২৩| ২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:১৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: মা হাসান ভাইকে ধন্যবাদ এই বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য। বিষয়গুলি জানা ছিল না। ওনার মন্তব্যের উত্তরে সোনাবীজ ভাইকেও ধন্যবাদ আরও নতুন কিছু যোগ করার জন্য। ব্লগে আসলে এমন অনেক কিছু জানা যায় যা অনেক খুজেও অন্যত্র পাওয়া যায় না। ব্লগে আসার এটা একটা কারণ। অনেক শিক্ষণীয় একটা পোস্ট ছিল এটা।

২৪| ৩০ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:৩১

আমি সাজিদ বলেছেন: সরাসরি প্রিয়তে। দারুন।

২৫| ৩১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫২

অধীতি বলেছেন: অনেক আগে পড়েছিলাম এখন দেখে ভালো লাগল।গুরুকে ভালবাসা।

২৬| ০১ লা নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:২৫

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: অংক কবিতাটা পড়ে নিলুম। দুই ভাগ। প্রথম ভাগে পুরুষ,পরের ভাগে নারী। বামপাশে বয়স আর ডানপাশে বয়স ভেদে জাগ্রত ঈশ্বরের সাধনা করার রুটিন।

"নরদেহে নারী আর নারীদেহে নর
মিলনে বসত করে জাগ্রত ঈশ্বর।"

"জাগ্রত ঈশ্বরের সাধনা করার রুটিন।" কথাটা এই দুই লাইন থেকে মেরে দিয়েছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.