নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গাজি সাকিব

গাজি সাকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

পিলারে ধাক্কাঃ ভারতীয় চক্রান্ত ?

১৫ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ২:১৫

মাত্র দুইমাসে ৫ বার পিলারে ফেরির ধাক্কা! প্রথমবার ধাক্কা লাগায় সবাই-ই ব্যাপারটি স্বাভাবিক নেয়। কিন্তু একে একে পাঁচবার ধাক্কা লাগা কতটা স্বাভাবিক! এটি কি আসলেই কোন দূর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র? হয়ত সেটা আমরা তদন্ত রিপোর্টে জানতে পারব, তবে আজ আমরা দেশজুড়ে আলোচিত সম্ভব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে তথ্য ভিত্তিক আলোচনা করব।

ভিডিও দেখুন- https://youtu.be/9ifgTCednwc

টেকনিক্যালি যদি আমরা দেখি সাধারণত একটা ফেরির মাপ হচ্ছে ৭-৮ মিটার। আর পদ্মাসেতুর পিলার একটি থেকে আরেকটির দুরুত্ব ১৭৬ মিটার। এত বৃহৎ জায়গা দিয়ে মাত্র ৭-৮ মিটারের ফেরি কিভাবে বারবার পিলারে গিয়ে আঘাত আনতে পারে! এই পয়েন্টটি আমরা আরেকটু পরে আরও ক্লিয়ার করব। এমতাবস্থায় সবচেয়ে বেশি যেদিকে আঙ্গুল উঠছে সেটি হচ্ছে ভারত। আসুন দেখি পদ্মা নিয়ে ভারতের সমস্যা কোথায়!

আমাদের প্রতিবেশি দুই পরাশক্তি ভারত এবং চীনের ভিতর চলছে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। আর উপমহাদেশে চায়নার অবস্থান জানান দেয়ার জন্য বাংলাদেশের মত জায়গা আর পদ্মার মত চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট থেকে বেটার কি..বা হতে। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই যুদ্ধে সহজগিতার কারণে ভারতের সাথে একটা আবেগীয় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব আবেগই একসময় ফিকে হয়ে আসে, হিসেব নিকেশ শুরু হয় বাস্তবতার নিরিখে। ভারতের সাথে তিস্তা চুক্তি, ফারাক্কা বাধ,সিমান্ত হত্যা থেকে শুরু করে অনেকগুলো ঝামেলার ইস্যু থাকা সত্তেও ভূরাজনৈতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ সম্পর্ক রাখতে বাধ্য। আর চিনের সাথে শুধুই বানিজ্যিক সম্পর্ক বলা যায়। এমতাবস্থায় একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে হাতছড়া করতে চায় না কোন পক্ষই। কোন একটি প্রজেক্ট এককভাবে কাউকে দিলে না খুশি হন না অন্য পক্ষ। বলা যায় একপ্রকার ব্যালেন্স করে চলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। স্বাধিনতা অবদান এবং ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ একপ্রকার ভারতের স্বাধীন পোষা পাখি টাইপ ভাবা শুরু করছিল। কিন্তু চায়নার ভাগ বসানোর ব্যাপারটায় ভারতের জন্য অনাকাক্ষিত বলা যায়। যার কারণে বাংলাদেশ নিয়ে দুই পক্ষেই একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যার নিকটতম উদাহরণ হচ্ছে ভ্যাকসিন। এমত অবস্থায় পদ্মার মত বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে এককভাবে চিনের অংশগ্রহণ কোনভাবেই ভারত খুশি হওয়ার কথা না। এটা খুবই স্পষ্ট পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট যেকোন ধরনের ক্ষতি-ই ভারতকে খুশি করবে। কারণ তাতে চীনের উপর প্রশ্ন উঠানোর সুজোগ পাবে।

গত ১৭ মাসে পদ্মা সেতুর জাজিরায় সংরক্ষিত এলাকা থেকে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক আটক করেছে সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে তারা কি উদ্দেশ্যে এসেছে তার কোন তথ্যই এখনও বের করতে পারে নি। এবং আপাতদৃষ্টিতে তাদের পাগল ধরা হচ্ছে। কিন্তু এসব সন্দেহভাজনের বেশভূষা, কথাবার্তা, আচার-আচরণে পাগলামির ভাব থাকলেও তাদের কাউকে পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের ছেঁড়া পোশাক, উসকোখুশকো চুল থাকলেও হাত ও পায়ের নখ পরিপাটি। আর প্রত্যেকেরই বাড়ি প্রায় হাজার মাইল দূরে। এত দূর থেকে ভারতীয় পাগলরা কিভাবে ঠিক পদ্মার সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে পারে,সেটা সম্ভাবত অনুমাণ করতে পারছেন। এরই ভিতর গত জুনে চীনা একজন প্রকৌশলী নিখোজ হন। এই সব ব্যাপার গুলো আশাকরি মেলাতে পারছেন।

পদ্মাসেতুর ক্ষতিতে ভারতের মুখে হাসি ফুটবে সেটা নিশ্চিত, কিন্তু সেতুর পিলারে ফেরি দিয়ে ধাক্কা কি ভারতের কাজ? সেতুর পিলারে ৪০০০ টন জাহাজও যদি আঘাত করে তবুও পিলারটি সগৌরবে দাড়িয়ে থাকতে পারবে এমন সক্ষমতা দিয়েই এটি বানানো হয়েছে। এখন ৬০০-৮০০ টনের ফেরি দিয়ে আঘাত করা কি কোন সফল অপারেশন হতে পারে? ভারত কি এতই বোকা! মানলাম প্রথমবার পরিক্ষামূলক অপারেশন ছিল। কিন্তু টানা ৫ বার বিশ্বের অন্যতম তুখোর গোয়েন্দা "র" এর কাজ এত কাঁচা হওয়াটা কি অস্বাভাবিক নয়?

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে আর কে করতে পারে! এর সম্ভাবনা খুজতে গেলে আরও নাম আসতে পারে যেমন, বিএনপি-জামায়াত, ফেরি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদেরকেও অনেকে কাঠ গড়ায় তুলতে চাচ্ছেন। তবে আমার মনে হয় না ভারত ছাড়া অন্য সম্ভাবনা গুলো ততটা শক্তিশালি।

এর বাইরে টেকনিক্যালি যদি আমরা খুজি তাহলে, এই শুক্রবার মাওয়া পয়েন্টে পানির গভীরতা ছিল পাঁচ দশমিক ৩৮ মিটার, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ রেকোর্ড । নদীতে চলতি বর্ষায় কারেন্ট (স্রোত) সেকেন্ডে দুই থেকে তিন মিটার। অর্থাৎ ঘন্টায় স্রোতের গতি সাত কিলোমিটারের বেশি। এ রুটে যেসব ফেরি চলে সেগুলোর সর্বোচ্চ গতি ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার। ভাটির দিকে আসার সময়, স্রোত ও নৌযানের গতি মিলিয়ে তা দাঁড়ায় ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার। এখন এত স্রোতের বিপরীতে সেতুর পিলার যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য, নদীর তলদেশ থেকে পানির উপরে থাকা পিলারের ক্যাপ বা ভিত ষড়ভূজ আকৃতির। এ আকৃতির কারণে সেগুলোকে কেটে স্রোত চলে যায়। পিলারে কোন ক্ষতি করতে পারে না। তবে এই আকৃতির কারণেই পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হয়ে স্রোতের গতি আরও বাড়ে ঠিক পিলারের ওখানে এবং পিলারের দিকে পানির তোড় বেশি থাকে, যার কারণে ঘূর্ণন সৃষ্টি হয়। ফলে দুর্বল ইঞ্জিনের ফেরিগুলো স্রোতের টানে পিলারের দিকে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে। তবে এর বাইরেও চালকের অদক্ষতার কারণও রেয়েছে।

তবে সেতু এলাকায় সেনাবাহিনীর টহল জোরদার সহ প্রতিটি ফেরিতে ২ জন করে সেনা সদস্যের উপস্থিতর মত উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়াও পদ্মায় চলিত প্রায় সবগুলো ফেরিই ফিটনেস বিহীন। সেইদিকটিও গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখলে এ ধরনের দূর্ঘটনা থেকে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মত বড় একটি সম্ভাবনাকে পুরো দেশেরসাথে জুড়ে দেয়া স্বপ্নের পদ্মাসতুকে নিরপদ রাখা সম্ভব। এরবাইরে আপানার মতামত বা আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান কমেন্টে।
আমাকে ফেসবুকে ফলো করুন - https://www.facebook.com/withGazisakib/
-Gazi Sakib

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.