নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বর্ষার ফুল চাঁদ ভালোবেসে হয়ে গেছে একাকার চাঁদের আলো জড়িয়ে সে যে গড়েছে অলংকার ।

কথার ফুলঝুরি!

ও আমার চাঁদের আলো, আজ ফাগুনের সন্ধ্যাকালে ধরা দিয়েছ যে আমার পাতায় পাতায় ডালে ডালে॥

কথার ফুলঝুরি! › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনের দুঃসময়ে নিজেকে নয়, করি বেঁচে থাকার অনিচ্ছাকে হত্যা । আর নয় আত্মহত্যা ।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৪



“আত্মহত্যা” শব্দটি শুনলে বা কোথাও লেখা দেখলেই বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠে । শব্দটির সাথে নিশ্চয় কাউকে আর নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই । প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গার খবরে আত্মহত্যা নামক এই হৃদয়স্পর্শী খবরের দেখা মিলে । যৌতূকের টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা, সম্ভ্রম হারিয়ে আত্মহত্যা, সংসারের অশান্তির কারনে আত্মহত্যা, সঙ্গীর প্রতারণার কারনে আত্মহত্যা আরও কত কি । সর্বশেষ যে খবরটি নিয়ে আলোচনা হল তা হল অরিত্রি অধিকারী আর ইদানীং ডাক্তার আকাশ ।

আমার নিজের জীবনের আত্মহত্যা বিষয়টির সাথে সর্বপ্রথম পরিচয় হয় স্কুল শেষ করে যখন সবেমাত্র কলেজে উঠলাম । আমার খুব প্রিয় এক বান্ধবী আমাদেরকে ছেড়ে চলে যায় ওপারে, আত্মহত্যা করে ।

ওর নাম ছিল হ্যাপি । দেখতে খুব সুন্দর, গায়ের রঙ ফর্সা, হাইট কম কিন্তু অনেক বড় বড় আর ঘন চুল ছিল ওর। যখন খোঁপা করতো তখন আগের দিনের নায়িকাদের মতো অনেক বড় একটা খোঁপা হত । ওর মা মারা গিয়েছিলো এক বছর আগে, ভাই বোনদের মধ্যে ও ছিল সবার ছোট । বোনদের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল আর ছিল একটি অবিবাহিত ভাই ও বাবা । মা মারা যাওয়ার পর বোনরা ওইভাবে আসা যাওয়া করতোনা তাই ও খুব একা হয়ে পরেছিল । বাবা চাচ্ছিল আরেকটি বিয়ে করতে কিন্তু বোনরা যেহেতু বিবাহিত ও আরও কিছু পারিবারিক সমস্যা এই নিয়ে ছিল ওর মানসিক অশান্তি । আর এসব নিয়ে পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরাও ওকে কথা শোনাতো । এমনিতেই কিছুদিন আগে মা হারিয়েছে, বাবা বোন ভাই থাকতেও তাদেরকে কাছে পায়নি তার উপর এসব অশান্তি সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত সে নিয়েছিল আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত ।

গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ও ।

সকালবেলা কলেজে যাওয়ার পরেই স্যার এর কাছে শুনলাম ওর মৃত্যুর কথা । আমার বান্ধবীদের অনেকে গিয়েছিলো ওর মরদেহ দেখতে কিন্তু আমার যাওয়ার সাহস হয়নি । যে বান্ধবীর সাথে দুইদিন আগেও তিন বান্ধবী মিলে রিকশায় যেতে যেতে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছিলাম আর সে কিনা করেছে আত্মহত্যা ? এ যে পুরোই অবিশ্বাস্য আমার কাছে, আর ওর জীবনে এমন কি ছিল, এত হাসি খুশী মেয়েটা ভেতরে কি এমন কষ্ট আর মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছিল যে বেঁচে থাকা ওর কাছে এত কঠিন মনে হয়েছিল যে মৃত্যুর পথই বেঁছে নিতে হল ।
যারা ওকে দেখতে গিয়েছিলো তাদের মুখে শুনেছি ওর বীভৎস চেহারার বর্ণনা । এত বড় বড় চুলগুলো সব পুড়ে এক জায়গায় জরো হয়ে গিয়েছিলো, আই ব্রো গুলোও ছিলনা একটাও, এত ফর্সা মেয়েটির মুখ হয়ে গিয়েছিলো কালো কুচকুচে । ওর একটি ছবি ছিল আমার কাছে। আমি প্রায়ই এক দৃষ্টিকে ওর মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম ।

মানুষ আত্মহত্যা কেন করে ? মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলে এখানে অনেকগুলো বিষয় আসবে তবে আমি যেহেতু কোন মনোবিজ্ঞানী নই আমি এক কথায় বলতে পারি জীবনের বিভিন্ন সমস্যার কারনে যখন বেঁচে থাকার চেয়ে মরে গিয়ে বেঁচে যাওয়াকেই বেশী সহজ বলে মনে হয় তখনই আমরা আত্মহত্যা করি, করি নিজেকে হত্যা ।

জীবনে দুঃখ কষ্ট থাকবেই । থাকবে ব্যর্থতা, হতাশা, অশান্তি, অপমান আর বিভিন্ন ধরনের মানসিক যন্ত্রণা । এ সকল মানসিক যন্ত্রণা, অশান্তির মধ্যে বেঁচে থাকা, টিকে থাকা আসলেই ভীষণ কঠিন । কখনো আপনার জীবনে বেঁচে থাকার কোন অবলম্বনই থাকবেনা, মানসিক যন্ত্রণা গুলো এত বেশী ভারী মনে হবে যে আর চলতেই পারবেন না। এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে বেঁচে থাকাটাকে অর্থহীন মনে হবে, এই অসহ্য যন্ত্রণার জীবন বয়ে বেড়ানো থেকে মরে যাওয়াটাই অনেক ভালো এমনটি মনে হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয় । অনেক চেষ্টা করার পরেও মনে হবে আর পারছেন না, মনে হবে মরে গেলেই শান্তি । জীবনের এই ধরনের মানসিক অবস্থার মধ্যেই আগে পরে কোন কিছু না ভেবে আমরা আত্মহত্যার মত একটি জঘন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি ।

আত্মহত্যা করে কষ্ট ও যন্ত্রণার জীবন থেকে নিজেকে মুক্তি দেওয়া অনেক সহজ কিন্তু জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা, মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা মেনে নিয়ে, যুদ্ধ করতে করতে জীবন কাটানো অনেক কঠিন । আপনার জন্য বেঁচে থাকা অনেক কঠিন কিন্তু আপনার আসে পাশেই আপনার মত কিংবা আপনার চেয়ে বেশী মানসিক যন্ত্রণা সৈহ্য করে যুদ্ধ করে সাহসিকতার সাথে জীবন কাটাচ্ছে এমন মানুষও থাকতে পারে তা হয়তো আপনার অজানা । তাদের কথা কেউ জানেনা কারন তারা আত্মহত্যা করেনি । আপনার আর তার মধ্যে পার্থক্য একটাই, আপনি হেরে গিয়ে একজন লুজার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন আর তিনি যুদ্ধ করে সাহসীর মত বেঁচে থেকে বিজয়ী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন । আত্মহত্যা করে আপনার এ জীবনে মুক্তি মিলবে কিন্তু পরকালে মিলবে সাঁজা আর তার আল্লাহ এর উপর ভরসা করে আল্লাহকে বিশ্বাস করে আল্লাহর পথ অনুসরন করে এ জীবনে ধৈর্য্য ধরে মিলবে ধৈর্য্যের পুরস্কার আর পরকালে শান্তি ।

একটি কথা মনে রাখবেন আমাদের জীবনে দুঃখ কষ্ট বিপদ এগুলো আল্লাহর তরফ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা । বিপদের সময়ে আমরা আল্লাহকে ডাকি কিনা, ধৈর্য রাখি কিনা, তার উপর ভরসা রাখি কিনা সেই পরীক্ষা । আর সেই পরীক্ষায় যিনি পাশ করবেন তার জন্য আল্লাহ অবশ্যই পুরস্কার স্বরূপ এমন কিছু রেখেছেন তা আমরা আল্লাহর বান্দা কল্পনাও করতে পারবোনা । শুধু দরকার সাহস আর ধৈর্য্যের সাথে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা আর বেশী বেশী সাহায্যের জন্য আল্লাহকে স্মরণ করা । তবেই মিলবে মুক্তি আর শান্তি। আত্মহত্যা কোন মুক্তি নয় বরং এটি এই ক্ষণস্থায়ী এক জীবন থেকে মুক্তি নিয়ে এক চিরস্থায়ী অভিশপ্ত জীবনে বন্দিত্ব ।

যারা আমার এই লেখাটি পড়ছেন আমি তাদেরকে পরামর্শ দিব নিচের লেখাগুলোও পড়তে ।

আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়, বরং একটি সমস্যা

আত্মহত্যার ভয়ংকর পরিণতি

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

আল্লাহ তার সেই বান্দাকেই বেশী পরীক্ষা করেন যাকে তিনি বেশী ভালোবাসেন । জীবনে বেশী সুখ পেয়ে আমরা আল্লাহ কে ভুলে যাই তখন আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর সাথে আমাদের নৈকট্য তৈরি করার জন্য তার সাথে তার প্রিয় বান্দার সম্পর্ক আরও গাড় করার জন্য তাকে সমস্যা দেন, বিপদ দেন যেন তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা বেশী বেশী আল্লাহকে ডাকি এবং এর মাধ্যমে যেন আল্লাহর সেই বান্দার সাথে তার সম্পর্ক আর গাড় হয় । তাই জীবনে সমস্যা ও বিপদ এক ধরনের আশীর্বাদ । জীবনে বিপদ আপদ সমস্যা আপনাকে আল্লাহর একজন খাঁটি ও প্রিয় বান্দায় পরিনত করবে যদি আপনি আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন বিশ্বাস রাখেন ধৈর্য্যধারন করেন আর বেশী বেশী আল্লাহকে ডাকেন ।

জীবন দিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হয়তো এ জীবনের কষ্টগুলো থেকে আপনার মুক্তি মিলবে কিন্তু পরকালে মুক্তি কিভাবে পাবেন ? এ জীবন তো ক্ষণস্থায়ী কিন্তু সেই জীবন তো চিরকালের ।

এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে একটু, না একটু না অনেক অনেক বেশী কষ্ট সৈহ্য করে লড়াই করে সাহসীর মত বেঁচে পরকালের শান্তি চান নাকি নাকি লুজার এর মতো জীবনটা দিয়ে দিবেন। এ জীবনে মুক্তি চান নাকি পরকালে মুক্তি ? ভেবে দেখুন প্লিজ ।
মা দশ মাস গর্ভে ধারন করে বাবা বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায় টাকা উপার্জন করে দুইজনে অনেক ভালোবেসে যে জীবনকে আগলে রেখেছেন সেই জীবন আপনি এক সেকেন্ডে চাইলেই পারেন শেষ করে দিতে, কিন্তু সেই জঘন্য কাজটি করার আগে আপনার বাবা মা এর মুখটা একবার হলেও কল্পনা করবেন, আপনার নিজের যদি সন্তান থাকে তাদের কথা ভাববেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্য যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের কথা ভাববেন আর এমন যদি হয় আপনার কেউ নেই ভালোবাসার তাহলে অন্তত নিজের কথাই ভাবুন যে আত্মহত্যা করার পরে মৃত্যুর পরে আপনার কি অবস্থা হবে ।

আত্মহত্যা যারা করে তারা লুজার আর যারা যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে তারাই সত্যিকারের ওইনার ।

(কিছুদিন আগে যখন অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যা নিয়ে খুব লেখালেখি হচ্ছিলো তখন লেখাটি অর্ধেক লিখেছিলাম এখন ইদানীং আবার সেই ডাক্তার আকাশের আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা লেখালেখি আরও কত কি । কয়দিন পর সব লেখা শেষ কিন্তু যে পরিবার তাঁর আপন জন হারিয়েছে তাদের দুঃখ কি আদৌ শেষ হবে ? তাই আমাদের কারও জীবনে যদি কখনো এমন অবস্থা তৈরি হয় আমরা যেন আর কিছু না হলেও অন্তত আত্মহত্যার পথ বেছে না নেই )

মন্তব্য ১৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

হাবিব স্যার বলেছেন: ধন্যবাদ আপু, সময় উপযোগী লেখার জন্য

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০২

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: আপবাকেও ধন্যবাদ ভাইয়া' লেখা পড়ে মন্তব্য করার জন্য।

শুভকামনা রইলো ভাইয়া।

২| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪২

নীল আকাশ বলেছেন: লেখা পড়ব পরে, আগে বলুন উধাও হয়েছিলেন কোথায়! মাঝে মাঝে সারা ব্লগে হ্যাজাক বাতি দিয়েও তো আপনাকে খুঁজে পাওয়া যায় না! ঘটনা কি?

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০৪

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: আগে লেখা পড়ে জানান কেমন লিখেছি তারপর বলবো :D

৩| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

আরোগ্য বলেছেন: চমৎকার একটি পোস্ট। অনেক ধন্যবাদ।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০৫

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: লেখা ভালো লাগায় অনুপ্রাণিত ভাইয়া!

ধন্যবাদ ও শুভকামনা রইলো।

৪| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৫৮

রাজীব নুর বলেছেন: আল্লাহ আমাদের পৃথিবীতে আরাম আয়েশ করতে পাঠান নি।
নানান ঝড় দুঃখ কষ্ট নিয়েই জীবন। এগুলো মেনে নিয়েই জীবন যাপন করেতে হয়।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০৬

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: আল্লাহ সবাইকে বিষয় গুলো অনুধাবন করার তৌফিক দান করুন।

৫| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:১৯

সাইন বোর্ড বলেছেন: ভাল বিষয়ের অবতারণা ।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩৮

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: হ্যা ভাইয়া, জীবনের দুঃসময়ে সাহস আর ধৈর্যই মুক্তি, আত্মহত্যা নয় । যারা আত্মহত্যা করলো তাদেরকে নিয়ে এটা ওটা না লিখে ভবিষ্যতে কেউ যেন আর অমনটি না করে তাঁর জন্যও লেখা উচিত ।

৬| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:৪৫

বলেছেন: অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দারুণ লেখা।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৪৯

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে তো অনেক লেখালেখি হয় কিন্তু এমন লেখাও তো লেখা উচিত ভাইয়া যেন ভবিষ্যতে কেউ এই জঘন্য পথে না যায় । আমরা আলোচনা সমালোচনা করতে পারি কিন্তু ভালো পথে মোটিভেট করতে পারি কম, জীবনে যার দরকার বেশী ।


লেখা ভালো লাগায় অনুপ্রানিত ভাইয়া ।

৭| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:০২

নীল আকাশ বলেছেন: শুভ সকাল,
নির্বোধরা বাস্তবতা কে ভয় পায় বা মুখোমুখি হতে পারে না দেখেই নিজেকে ধংশ করে দেয়। আত্মহত্যা ইসলাম জঘন্য পাপ।
আকাশ নামে ছাগল প্রজাতি ভুক্ত ছেলেকে নিয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না, তবে হ্যাপির ঘটনা পরে মন খারাপ হয়ে গেল!

আত্মহত্যা মানে নিজেকে ধ্বংস করা। নিজের আত্মাকে চরম যন্ত্রনা এবং কষ্ট দেয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো। আত্মহত্যার পিছনে ইবলিস শয়তানের মুখ্য ভূমিকা থাকে, মানুষকে জাহান্নামের মুখে ঠেলে দেয়াই শয়তানের কাজ।

সে জন্যই মহান আল্লাহ কুরআনের একাধিক স্থানে এই ইবলিস থেকে সাবধান করেছেন। ইসলামে আত্মহত্যা করা মহাপাপ এবং আত্মহত্যাকারী জাহান্নামী। মহান আল্লাহ মানুষকে মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন। মৃত্যুর ফায়সালা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। কিন্তু আত্মহত্যার মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর স্বাভাবিক মৃত্যুর ফায়সালা না মেনে হায়াতের ফায়সালাকে নিজের হাতে নিয়ে নিজেই নিজেকে হত্যা করে ফেলে। এ কারণে আত্মহত্যা মারাত্মক অপরাধ এবং জঘন্য কাজ। আল্লাহর দেয়া প্রাণ এবং হায়াত বিরাট নেয়ামত। দুনিয়ার জীবনে আত্মীয় স্বজন নিয়ে যেমন আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত ভোগ করার সুযোগ আছে পাশাপাশি জীবনেও এই হায়াতে জিন্দেগীতে নেক আমল করার মাধ্যমে মৃত্যুর পরে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভেরও আশা করা যায়। কিন্তু আত্ম হত্যার মাধ্যমে উভয় জিন্দেগী বরবাদ হয়ে যায়।

এ কারণেই হযরত মুহাম্মাদ (স.) নিজে আত্মহত্যাকারীর জানাজা পড়াননি।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,“আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে উহা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্য আমি তাকে অগ্নি˜গ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে উহা সহজ সাধ্য”।(সূরা আন-নিসা-২৯-৩০)।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হযরত মুহাম্মাদ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামে অনুরূপভাবে (পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে পড়ে) আত্মহত্যা করতেই থাকবে। এবং উহা হবে তার স্থায়ী বাসস্থান। যে ব্যক্তি বিষ পানে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ তার হাতে থাকবে, জাহান্নামে সে সর্বক্ষণ বিষপান করে আত্মহত্যা করতে থাকবে। আর উহা হবে তার স্থায়ী বাসিন্দা বাসস্থান। আর যে ব্যক্তি লৌহ জাতীয় অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে সে লৌহাস্ত্রই তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সে তার নিজ পেটে ঢুকাতে থাকবে, আর সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে। (সহীহ আল্-বুখারী ও মুসলিম শরীফ)।

অপর এক হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (স) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে, দোজখে সে নিজেই নিজেকে অনুরূপভাবে শাস্তি দিতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি বর্শাবিদ্ধ করে আত্মহত্যা করে, দোজখে সে অনুরূপ বর্শাবিদ্ধ করে নিজেকে শাস্তি দিতে থাকবে।’ (সহীহ বুখারী: ১২৮১)।

মহান আল্লাহ দুনিয়ার মানুষের একমাত্র হেদায়েতের গ্রন্থ আল কোরআনে আত্মহত্যাকারীকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, মানুষ যেন নিজেদেরকে নিজে হত্যা না করে, কারণ মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়ালু। এবং আত্মহত্যাকারীকে জালেম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের অধিবাসী হতে হবে এবং দুঃখজনকভাবে তাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে চিরকাল।

অনুরূপভাবে হাদীস শরীফেও মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (স.) আত্মহত্যাকারীর পরকালের ভয়াবহ শাস্তি সম্পর্কে বলেছেন, তাকে জাহান্নাম এর অধিবাসী হতে হবে এবং যেভাবে সে আত্মহত্যা করেছে, জাহান্নামেও চিরকাল ঐ শাস্তি ভোগ করতে হবে। সুতরাং বিশেষকরে মুসলমান ভাই বোনদেরকে এ রকম হটকারী এবং জঘন্য সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি। দুনিয়ার দুঃখজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং আখেরাতের ভয়াবহ আযাব থেকে বাঁচার জন্য ধৈর্যশীল হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি এবং আল্লাহর দরবারে সাহায্য কামনার আহবান জানাচ্ছি’ কারণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ধৈর্যশীলদেরকে পছন্দ করেন।

নিন, বড় করে মন্তব্য করলাম, এবার বলুন উধাও হয়ে গিয়েছিলেন কেন?
উত্তর শুনার পর শুভ কামনা জানাব!

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৮

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: সবার আগে ভাইয়াকে অনেক অনেক ধন্যবাদ একদম আমার মনের মত একটি মন্তব্য করার জন্য ।

মনের মত বলছি এই কারনে, আমি আমার লেখাটায় আত্মহত্যা নিয়ে এমন কিছু রেফারেন্স দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু এর জন্য যে কষ্টটা করতে হতো তা করতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না কিন্তু আত্মহত্যা নামের এই বিষয়টির পরিনাম যে কি ভয়ংকর তা বোঝানোর জন্য এই রেফারেন্স গুলো বাদও দেওয়া যাচ্ছিলো না তাই লেখার মাঝে ওই তিনটা লেখার লিঙ্ক দিয়ে দিয়েছি কারন ওইখানে ওই রেফারেন্স গুলো ছাড়াও আরও অনেক গুরত্বপূর্ণ কিছু আছে ।

আপনার মন্তব্যটি আমার লেখার অসম্পূর্ণ অংশটি পূরণ করে দিয়েছে ।

সবশেষে, আত্মহত্যা যে কি ধরনের জঘন্য একটি কাজ তা আল্লাহ সবাইকে বোঝার মত তৌফীক দেন । আমাদেরও উচিত এ বিষয়ে পড়াশোনা করে সবার মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া । আল্লাহ না করুক যদি কখনো কারও জীবনে এই ধরনের অবস্থা হয় সে যেন আর যাই হোক অন্তত আত্মহত্যা না করে, ইহকাল ও পরকালে আত্মহত্যার ভয়ানক পরিনাম সম্পর্কে জানে এবং বিপদ ও দুঃসময়ে আল্লাহকে ডাকে, তাঁর উপর ভরসা করে, ধৈর্য্য ধারন করে তবেই শান্তি এবং মুক্তি ।

@এবার বলুন উধাও হয়ে গিয়েছিলেন কেন?
উত্তর শুনার পর শুভ কামনা জানাব!
---- লেখালেখি সহ যে কোন সৃষ্টিশীল কাজকর্ম হচ্ছে সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার । লেখালেখিতে মন নেই তাই লিখছিনা, লেখা আসছেনা ভেতর থেকে । এই লেখাটি আগেই লেখা ছিল অনেকখানি । কাল ইচ্ছে হল তাই শেষ করলাম । তবে ব্লগে আপনাদের ভালোবাসা না চাইলেও অনেক সময় আমাকে বাধ্য করে ফিরে আসতে ।

কোন এক মাথামোটা কয়েকদিন আগে কবিতা ও কবিদের নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলো । খুবই মেজাজ খারাপ হয়েছিলো সেটি দেখে । ভেবেছিলাম একটি মন্তব্য করি কিন্তু এইসব মাথানস্ট মানুষের পোষ্টে মন্তব্য করে অযথা সময় নষ্ট করিনি । তবে তারপর আপনার যে পোস্টটি ছিল তা ছিল দারুন প্রশংসার দাবীদার ।

৮| ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৭

নীল আকাশ বলেছেন: আমার বোনটা মন খারাপ করল! এটা কোন কথা হলো! আমার সন্দেহ হয়েছিল দেখেই জানতে চাইছিলাম।

শুধু আপনার জন্যই এত কষ্ট করে এত বড় মন্তব্য করেছি। যতটুকু বাকি ছিল আপনার, আমি পুরণ করে দিয়েছি।

লেখালেখিতে মন নেই তাই লিখছিনা, লেখা আসছেনা ভেতর থেকে - যখন লেখা আসে না সেটা কে বলে writter's block. common symptom. এটা সবারই হয়। খুব হতাশ লাগে। তখন বেশি বেশি করে পড়বেন। ঠিক হয়ে যাবে।

এই মাথামোটাকে ইচ্ছা মতো ঝেড়েছি এখানে ব্লগে হিট হতে চান - গামলা ভর্তি মন্তব্য চান – নিন সহী তরীকা সমাহার! Click This Link
২য় তরীকাটা পড়ে আসুন। সবার শোধ একবারে নিয়ে নিয়েছি।

এই ব্লগ কারো নিজের সম্পত্তি নয়। আপনার যা ইচ্ছা লিখুন।

মন বেশী খারাপ থাকলে এই গল্পটা পরে আসুন মন ভালো হয়ে যাবে গল্প - ভুল সবই ভুল! Click This Link

আজকে একটা দারুন গল্প দিয়েছি। সময় পেলে পরে দেখবেন।

আর আলতু ফালতু লোকজনের কথা পাত্তা দেবেন না.........

ভালো থাকুন, সব সময়।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২০

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: আমার বোনটা মন খারাপ করল! এটা কোন কথা হলো! আমার সন্দেহ হয়েছিল দেখেই জানতে চাইছিলাম।[/sb--- হা হা ! বোনটার তো ব্যস্ততাও থাকতে পারতো :P তবে ভাইয়া যে বোনের খেয়াল করেছে জেনে খুশী লাগলো । যাই হোক মাঝে মাঝে হয়তো হারিয়ে যাবো তবে একেবারে হারিয়ে যাবো না কোনদিন, যতদিন বেঁচে আছি ।


@যখন লেখা আসে না সেটা কে বলে writter's block. common symptom. এটা সবারই হয়। খুব হতাশ লাগে। তখন বেশি বেশি করে পড়বেন। ঠিক হয়ে যাবে।--- পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া । লেখা আসছেনা কারন মন নেই লেখায়, ভালো লাগছেনা লিখতে, লেখা লিখতে পারছিনা ঠিক তা না ।
তবে সত্যি বলতে গল্পের বই পড়া হয়না অনেকদিন । সময় হয়না তা বলবো না তবে যতক্ষণ গল্পের বই পড়বো ততক্ষণ আমি অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করি, বিভিন্ন মোটিভেশনাল স্পিচ শুনি, জানার চেষ্টা করি এবং এগুলোই ভালো লাগে আমার ।

@আর আলতু ফালতু লোকজনের কথা পাত্তা দেবেন না.........-- হা হা ! এই স্টেজ পার করেই ব্লগে এসেছি । কে কি বললো আসলেই আই ডোন্ট কেয়ার । আমার যখন লিখতে মন চাইবে কেউ আমাকে দমাতে পারবেনা ।

ভাইয়ার জন্য অনেক শুভকামনা । রাতে বাসায় গিয়ে সময় করে অবশ্যই আপনার লেখা পড়বো ।


৯| ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:১৪

পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: ইয়েস! গট ইট।

১. কতা আপু কি ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাঁকা হয়ে গিয়েছে?
২. আমার ইস্কুল লাইফের জান্টু সুইসাইড করেছিল...:(

০৫ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: @ইয়েস! গট ইট। --- হ্যালো কাজিন :#) আবার কথার ফুলঝুরি ফুটবে ইনশা আল্লাহ :P


@১. কতা আপু কি ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাঁকা হয়ে গিয়েছে?---- আমিতো এমনিতেই ব্যাঁকা =p~


@২. আমার ইস্কুল লাইফের জান্টু সুইসাইড করেছিল.--- ইশ :| স্কুল B:-)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.