নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার ব্লগই আমার পরিচয় । । ।

কথার ফুলঝুরি!

ও আমার চাঁদের আলো, আজ ফাগুনের সন্ধ্যাকালে ধরা দিয়েছ যে আমার পাতায় পাতায় ডালে ডালে॥

কথার ফুলঝুরি! › বিস্তারিত পোস্টঃ

অভাব দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে কিন্তু ভালোবাসা যেন জানালা দিয়ে না পালায়

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ২:১৬


পোষ্ট এর প্রথম ছবিটি আজকের রাত ১,৫৫ তে বিডি জবস সাইট থেকে নেওয়া । ২৭ টি বিভাগে সর্বমোট চাকুরীর বিজ্ঞাপনের সংখ্যা মাত্র ৫৫৮ । আবার এর মধ্যে আসলেই কতগুলো একটিভ সেটাও একটি বিষয়।
স্বাভাবিক সময়ে শুধুমাত্র মার্কেটিং ও সেলস ডিপার্টমেন্ট এই দুইশ এর অধিক চাকুরী থাকতো । এই অবস্থায় অবশ্য এর চেয়ে বেশী কিছু আশা করাটাও যায়না।
কত মানুষ এরই মধ্যে চাকরী হারিয়েছে আর যারা অফিসিয়ালি কোন নোটিশ পায়নি তারা ভয়ে ভয়ে আছে অফিস খুললে কি হবে । বেতন তো অনেকেই পাবেন না আগামী মাসে। অফিসেরই বা কি দোষ তারতো বেতন দেওয়ার সামর্থ্য থাকা লাগবে ।

লকডাউন এ আছি পুরোপুরি দেড় মাসও হয়নি । আরও কতদিন থাকতে হবে কোন আইডিয়া নেই কারও । সবাই হয়তো মার্চ মাসের বেতন পেয়েছে তাই এপ্রিল মাসটা কোনোরকম কেটে যাচ্ছে কিন্তু মে মাসেতো ম্যাক্সিমাম মানুষ বেতন পাবেনা তারা কিভাবে চলবে পরের দিন গুলো? তাঁর উপর রোজা । ঈদে নতুন জামা কাপরের কথা বাদ দিলাম সেটা ছাড়াও চলবে কিন্তু রোজার মধ্যে কিছু অতিরিক্ত খাবার লাগে ।যেখানে প্রতিদিন খাবার মত পর্যাপ্ত খাবারের অভাব সেখানে রোজার জন্য বাড়তি কিছু তো অসম্ভব । অনেকে হয়তো রোজা পেয়েও খুশী কারন রোজার মধ্যে ভালো কিছু খেতে না পারলেও রোজা রেখে এক বেলা খাওয়ার খরচ কমবে অন্তত।
লকডাউন এ বাসায় থাকার কারনে সবার ক্ষুধা লাগে বার বার। কিন্তু সবাই কি ক্ষুধা লাগলেই খেতে পাচ্ছে ? অন্তত এক বাটি মুড়ি কিংবা কিছু ভাত ? আর বার বার খাওয়া তো দুরের কথা । ঘরে স্টক থাকলেও কেউ হয়তো চিন্তা করছে কম খাই শেষ হলে আবার পাবো কই তাঁর ঠিক নেই ।
আর যাদের আছে তারা খায় আবার ফেসবুকে আজকে এটা কালকে ওটা রান্না করা খাবারের ছবি। এই কাজ তাঁদের। লকডাউন তাঁদের জন্য উৎসব। আরও ৬ মাস কর্মহীন থাকলেও এদের কোন সমস্যা নেই । আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনুরোধ করবো তাঁদেরকে আর যাই করুন অন্তত নিজেদের খাবারের ছবি গুলো ফেসবুকে দিয়েন না । ফেসবুকে আপনার পরিচিতদের অনেকেই দেখবেন ভেতরে ভেতরে খাবারের কষ্ট করছে । লকডাউনে আপনার উৎসব দেখে তাঁদের দীর্ঘশ্বাস আর ক্ষুধার কষ্ট বাড়াবেন না প্লিজ ।
বাংলাদেশে এখন মোট জনগোষ্ঠীর বিশাল একটা অংশ হচ্ছে মধ্যবিত্ত । এদের মধ্যে বেশীরভাগ চাকুরীজীবী । অনেক পরিবার শুধুমাত্র কর্তার বেতনের টাকায় চলে । তাঁর মধ্যে বাসাভাড়া, সংসার খরচ আবার বাচ্চা থাকলে তাঁর পড়াশোনা ও যাতায়াত খরচ ।
লকডাউন উঠে গেলে চাকরী হারানো এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কি হবে । অনেকেরই গ্রামের বাড়ীতেও সেটেল হবার মত সুযোগ নেই । এক মাস দুই মাস তিন মাস কতদিন এর ওর সাহায্য নিয়ে চলবে ? আর এই শ্রেণীর মানুষ কারও কাছে সাহায্য চাইতেও পারেনা ।
করোনার ভয়ে সবার বাসায় কাজের বুয়া বাদ দিয়ে দিয়েছে। যারা পারবে পরবর্তী সময়ে আবার বুয়া রাখবে কিন্তু অনেক মানুষ আর রাখতে পারবেনা । সেখানেও ওইসব বুয়ার পরিবারে তাঁর রোজগার বন্ধ ।
গার্মেন্টস শ্রমিকের অনেকে চাকরী পাবেন না আর। হয়তো তারা অন্য কোন ছোট কাজ বের করে নিতে পারবেন । তাঁদের জন্য কাজ পাওয়া মধ্যবিত্তদের মত অতটা কঠিন না। কিন্তু ততদিন তারা কিভাবে বাচবেন ?
যারা রিকশা চালায়, দিন মজুর, শ্রমিক কিংবা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে জড়িত তারাও হয়তো যখন লকডাউন খুলবে কোন না কোন কাজ জোগাড় করে নিতে পারবেন । কিন্তু সেই পর্যন্ত বাচবেন তো তারা ? আর যাদের কাছে থেকে তাঁদের ইনকাম তাদেরই তো পকেটে টাকা থাকবেনা ।
এমন আরও কত পেশার মানুষ আছেন । কয়জনের কথা বলবো ?

সরকারী ত্রান ব্যক্তিগত উদ্যোগের ত্রান চোর বাটপাড়দের পাড়ি দিয়ে কয়জনের ঘরে সেটি পৌছাচ্ছে ? এইযে চোর বাটপাড় ভাইরা আপনাদেরকে বলছি, বেঁচে থাকলে চুরি করার আরও অনেক সুযোগ পাবেন । এই মহামারীর সময়ে অন্তত কিছুটা বিবেক বোধ জাগ্রত করুন নিজের ভেতরে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য এর ভাষায় বলি
----
হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক,
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো ।
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা,
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি ।
--------
আসলেই এখন আর কাব্য কবিতা ভালো লাগেনা । পূর্ণিমা চাঁদকে এখন ঝলসানো রুটিই মনে হয় । কবিতাকে দিয়েছি ছুটি ।

করোনা নিয়ে কারও মৃত্যু বা অন্যকিছু দেখে যতটুকু না কষ্ট লাগে তাঁর চেয়ে বেশী কষ্ট লাগে অভাবী আর না খেতে পাওয়া মানুষগুলোকে দেখলে ।



উপরের ছবিটি প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া । এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম ছবিটির দিকে ।
তিনি মিরপুরে যাবেন। কিন্তু রিকশা ভাড়া না থাকায় ফুটপাতে বসে ছিলেন। পরে একজন তাঁকে রিকশা ভাড়া করে দিলে তিনি গন্তব্য যেতে পারেন। এভাবেই যেন আমরা একে অপরের কাছে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেই ।

অভাব দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে কিন্তু ভালোবাসা যেন জানালা দিয়ে না পালায় । ভালোবাসা থাকুক অমলিন । ভালোবাসা দিয়ে বাধা থাকুক পরিবারের মানুষগুলো আর ভালোবেসে যার যতটুকু সম্ভব যেভাবে সম্ভব পরিচিত মানুষগুলোকে সাহায্য করুন আর যা হোক অন্তত না খেয়ে যেন কাউকে না থাকতে হয় । আপনার এ সাহায্যের বদলে দেখবেন সৃষ্টিকর্তাও আপনাকে কোন না কোন ভাবে সাহায্য করেছেন ।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ২:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি সমস্যার কিছুটা অনুমান করতে পেরেছেন। সরকারের কাছে, সবার জন্য কমপক্ষে ১/২ বছরের খাবার আছে। আপনি যেভাবে ভাবছেন, সেখানে সমাধান তেমন নেই; কারণ, আপনি রিসোর্স দেখছেন না। কিন্তু সমস্যাটা শেখ হাসিনা ভাবলে, উনি সমাধান করতে পারবেন, উনার কাছে রিসোর্স আছে।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৩১

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: ঠিক কথা , আমার ভাবনায় সমাধান নেই । এই ক্ষুদ্র জীবের সমাধান দেওয়ার সামর্থ্য বা সুযোগ নেই তাই আর অত বড় কিছু ভাবিওনি ।। তবে আমরা যে যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসলে সমাধান না হোক কিছু মানুষের অন্তত উপকার হবে হোক সেটা সংখ্যায় কম ।

আর রিসোর্স এর কথা বলছেন ? আপনার কি মনে হয় , রিসোর্স যদি থাকেও এবং প্রধানমন্ত্রী তা দিয়ে সমাধানের কথা ভাবেনও সেই রিসোর্স এর কি সুষম বণ্টন হবে ? হয়েছে আজ পর্যন্ত ? চোর দিয়ে তো দেশটা ভর্তি । তিমি মাছের মত পেট আর লোভ তাঁদের । এদের টপকিয়ে এই রিসোর্স কি আপনি আর আমি পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে মনে হয় আপনার ? তাই সরকারী রিসোর্স দিয়ে সমাধানের আশা করিনা ।

২| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১১:২৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আমাদের আর্থসামাজিক চিরাচরিত ধ্যান ধারণা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে নতুন ধরণের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবে সরকারের লোকজন পারবে না তারা কালক্ষেপণ করে পরিস্থিতি আরও খারাপ করবে। সাধারণ মানুষকে সংগঠিত হতে হবে নতুন অর্থনৈতিক পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য। বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের ত্রাণ বণ্টন অভিজ্ঞতা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সরকার করতে পারবে না। সমবায় সমিতি, NGO, ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান গুলোতে তরুন ও মেধাবীদের অংশ গ্রহণের মাধমে নতুন পদ্ধতিতে চিন্তা করতে হবে। এই কনসেপ্ট গুলি খারাপ না। কিন্তু আমরা এগুলি খারাপ ভাবে চালাচ্ছি। সরকারে মেধাবী লোক নেই। Typical আমলাদের মাথা থেকে ভালো কিছু বের হবে না। মানুষকে একতা বদ্ধ থাকতে হবে। তবে আর্থসামাজিক কারনে বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা অন্তর্নিহিত শক্তি আছে যেটা পশ্চিমা অর্থনীতির সূত্র দ্বারা ধরা যায় না। আতংক আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। ৭১ সাল আমাদের জন্য একটা ভালো অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:৪৬

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: সরকারের কাছে থেকে কোন সমাধান আমিও আশা করিনা । সরকার একা কোন ব্যক্তি বা সংগঠন নয় । এদের একেকজন একেক নীতির মানুষ । কেউ সাধু কেউ চোর ।

তবে আপনি যেটা বলেছেন সাধারন মানুষকে সংগঠিত হতে হবে এটা ঠিক আছে । সাধারন মানুষ ব্যক্তি উদ্যোগে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে আসলে হয়তো সম্ভব । কিন্তু সাধারনত এসব ক্ষেত্রে কথা লেখালেখি বা স্লোগান পর্যন্তই থাকে বাস্তবায়ন হয় খুব কম ।

৩| ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: দীর্ঘদিন বেকার আছি।
এখন আমার সব শয়ে গেছে।

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৩

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: "যে সহে সে রহে"

অনেক কিছুই সয়ে যায় শেষ পর্যন্ত । এই যেমন এখন আর করোনা শনাক্ত রোগী নিয়ে পেরেশান হইনা কারন এ যে এখন নিত্যদিনের কাহিনী ।

৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৩৩

মা.হাসান বলেছেন: এই পরিস্থিতিতে এমনকি অনলাইনে ফ্রিলান্সার হিসেবে কাজ করা অনেকেও বেকার হয়ে পড়েছে। এখন যদি বিডি জবসে সাড়ে পাঁচশতের উপরে চাকরি সত্যিই থাকে তবে আমার হিসেবে তা ভালো।

রোজার ঈদে কাপড়ের আশা ত্যাগ করুন। মৃত মানুষের কাফন জুটছে না। মাটি জুটছে এটা বড়।

লেখা পড়া শেষের পরের জীবনের শুরুটা সোনার চামচ নিয়ে জন্মানো ক্লাসের লোক জনের ছাড়া সবারই কষ্টে কাটে। অধিকাংশ লোকের ক্ষেত্রেই কয়েকবছরের মধ্যে স্ট্যাবিলিটি চলে আসে। ভরসা রাখুন।

২৪ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:২১

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: @এই পরিস্থিতিতে এমনকি অনলাইনে ফ্রিলান্সার হিসেবে কাজ করা অনেকেও বেকার হয়ে পড়েছে। এখন যদি বিডি জবসে সাড়ে পাঁচশতের উপরে চাকরি সত্যিই থাকে তবে আমার হিসেবে তা ভালো।-- খুবই স্বাভাবিক । পৃথিবীর সবকিছু একটা আরেকটার সাথে সম্পৃক্ত । পুরো পৃথিবীই তো থমকে আছে এখন । এই জন্য সঞ্চয় করা খুবই প্রয়োজন । ইনকাম যাই হোক কিছু অংশ সঞ্চয় করা উচিত যেন অসুখ বিসুখ বা যে কোন বিপদে তা কাজে লাগানো যায় । চাকরী চলে গেলেও যে সব মানুষের কিছুটা হলেও সঞ্চিত টাকা আছে তারা অন্তত দুই তিন মাস বা কেউ তাঁর চেয়ে বেশী টিকতে পারবে । সমস্যা হচ্ছে যারা দিনে আনে দিনে খায় বা মাসে আনে মাসে খায় এমন মানুষের।

@রোজার ঈদে কাপড়ের আশা ত্যাগ করুন। মৃত মানুষের কাফন জুটছে না। মাটি জুটছে এটা বড়-- ঈদের আনন্দ বা ঈদই যেখানে অনিশ্চিত সেখানে কাপড় দিয়ে কি হবে । আগে আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করে এই বিপদ যাক অনেক নতুন কাপড় পরা যাবে তখন ।

@লেখা পড়া শেষের পরের জীবনের শুরুটা সোনার চামচ নিয়ে জন্মানো ক্লাসের লোক জনের ছাড়া সবারই কষ্টে কাটে। অধিকাংশ লোকের ক্ষেত্রেই কয়েকবছরের মধ্যে স্ট্যাবিলিটি চলে আসে। ভরসা রাখুন
--- এখন তো আসলে লেখা পড়া শেষ করে চাকুরী পাওয়া সেই চিন্তা না চিন্তা হচ্ছে বেঁচে থাকা । তবে কোনকিছুই স্থায়ী নয় । এই পরিস্থিতিও স্টাবল হয়ে যাবে একদিন ইনশাআল্লাহ্‌ । আল্লাহ্‌ ভরসা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.