নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চলছে চলবে

হাসান কালবৈশাখী

আমি দুর্বার, আমি ভেঙ্গে করি সব চুরমার। আমি কালবৈশাখীর ঝড়! আমার ফেসবুকইডি www.facebook.com/norwstorm

হাসান কালবৈশাখী › বিস্তারিত পোস্টঃ

২০০৭ থেকে ২০২০ সালের আগষ্ট পর্যন্ত ৬০৪ জন গুম

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৪:৪০



মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) দাবি অনুযায়ী ২০০৭ থেকে ২০২০ সালের আগষ্ট পর্যন্ত ৬০৪ জন গুম বলা হচ্ছে।
যদিও এর ভেতর অনেককেই তত্তাবধায়ক আমলেই ক্রসফায়ার বা ক্রসফায়ার করে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল। বা ক্রসফায়ারের ভয়ে দেশত্যাগ করেছিল এর দায় বর্তমান সরকারের উপর চাপিয়ে দেয়া।

প্রতি বছর গুম দিবসে কিছু নারী শিশুকে নিয়ে আসা হয়, চোখের পানি ফেলা হয়।
বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুসারে গুমের ঢালাও অভিযোগগুলো দেখলাম বেশীরভাগই গুম হয় নি। ফিরে এসেছিল।
ফিরে আসলে সেটা আবার গুম হয় কিভাবে?

গুম কাকে বলে?
কাউকে ধরে নিয়ে মেরেফেলে লাশ লুকিয়ে ফেললে সেটাকে গুম বলা যায়।
যেমন চিলি মেক্সিকো গুয়েতেমালা কলাম্বিয়াতে বহু অর্গানাইজড ড্রাগ ডিলার, আর্মড রিবেল ও সন্ত্রাসি ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযানে ধরে নিয়ে মেরেফেলে লাশ নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছি. একটা হাড্ডিও খুজে পাওয়া যায় নি হাজার খানেক লোকের। সেসব হল গুম।





নিখোজের মাত্র ৩ দিন পর প্রথমে পুলিশের কাছে, এরপর জামিন। ফিরে আসা জাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা শাকিল উজ্জামান। উনি মুক্ত, ইউটিউব করে বেড়াচ্ছেন, উনি এখনো গুমের তালিকায়, প্রতিবছর ওনার ছবি নিয়ে কাঁদাকাটিও চলে।


যারা কথিত গুম হয়েছিলেন কিছুদিন পরই সুস্থভাবে ফেরত এসেছেন ৫৭ জন,
আর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল ৯৭ জন, জামিনও হয়ে যায় দ্রুত। অর্থাৎ আছে, গুম হয় নি।
আর কিছু নিখোজ অনেকেই পাওনাদারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে ফিরেও এসেছিল। সেটা পত্রিকায়ও এসেছিল।





একসময় দন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদেরকেও গুম বলা হচ্ছিল।
গতকাল জুলহাস হত্যা রায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত বর্খাস্ত মেজর জিয়া ২০১২ তে যখন জঙ্গিদলে যোগ দিতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালায়,
তখন খালেদা জিয়া এই জঙ্গি মেজর জিয়ার সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন। জিয়ার পলায়ন কে "গুম করা হয়েছে" বলেন। মেজর জিয়া ছিল প্রথমে হিজবুত তাহেরি, পরে নিউ জেএমবি, এরপর আনসারুল, এরপর ব্লগার হত্যা ও বিদেশী হত্যার পর ব্যাপক ভাবে 'আইএস' দাবী
তিনি এক ভাষনে বলেছিলেন সেনাবাহিনী থেকে অফিসার গুম করা হচ্ছে। একটি ইমেইল দেখিয়ে মেজর জিয়া ইমেইল বার্তায় বলেছিলেন, “তাকে সাভার রেখে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অপহরণ করেছে। তাকে চোখ বেঁধে অজানা স্থানে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিদেশি র গোয়েন্দা সংস্থা র সদস্যরাও সেখানে ছিল। (রর হাতে গ্রেফতার অবস্থায় মেইল করা যায়?)
বিএনপি জামাত যে জঙ্গি লালন-পালন করে এটিই তার স্পষ্ট প্রমান।

তবে সরকার কিছুই করে নি, আইনশৃক্ষলা বাহিনী ধোয়া তুলসি পাতা, এমন কোন দাবি আমি করছি না।
২০১৩-১৬ বছরটা ছিল বিদেশী হত্যা ব্লগার হত্যা ও হলিআর্টিজান গণহত্যার বছর।
২০১২ থকে ২০১৬ পর্যন্ত নব্য জেএমবি, আনসারুন্না সিরিয়াতে আইএস যেহাদে যোগ দিতে গিয়েছিল ৩০০০ এর মত বাংলাদেশী যুবক,
সিরিয়া গামি অনেক যুবক ও তরুন মহিলাও নিখোজ ছিল, ব্রিটিষ/বাংলাদেশী শামীমাকে নিয়ে অনেক উচ্ছাস ছিল। বাংলাদেশ সহ অনেকে দেশে থেকে জঙ্গিপনা করতে পলাতক বা তুর্কি ভিসা নিয়ে বা ইস্তাম্বুলে ট্রাঞ্জিট ভিসা নিয়ে, তুরষ্কে। খুব কাছেই সিরিয়া সীমান্ত।
এরা ইস্তামবুল সিরিয়ার উদ্দেস্যে বিমানে উঠার পর বিতর্ক এড়ানোর জন্য কিছু পরিবার থেকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে গুম করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল।

২০১৩-১৪ যুদ্ধাপরাধী সমর্থকদের ব্যাপক সহিংসতা সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অতি কঠোর অবস্থানে যেতে বলা হয়েছিল। তখন বেপরোয়া না হয়ে উপায়ও ছিলনা
২০১৬ জুলাই হলিআর্টিজান বিদেশী হত্যার পর সরকার আরো কঠোর অবস্থানে যায় সেই সময়ে কঠিন ভাবে জঙ্গি ক্রাকডাউন করে ব্যাবস্থা নিয়ে জঙ্গি হামলা শুন্যের কোঠায় নিয়ে আসে। তখন অনেক পিতামাতা নিখোজ পুত্রকে পলাতক বা গুম থেকে ডেকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছিল। পত্রিকায় দেখা যাচ্ছিল।


সবচেয়ে আশ্চর্য হচ্ছে লাদেন বা আইএস জঙ্গিদের মত ভিডিও বার্তা দেয়া, আগুন সন্ত্রাস হুমকি দেয়া সালাউদ্দিনকেও গুম তালিকায় রেখেছে আসক।
সালাউদ্দিন তো পলাতক গুমই ছিল, প্রতিদিন অজ্ঞাত স্থান থেকে (বিদেশ থেকেও হতে পারে) অবরোধ হরতালের অগ্নিসন্ত্রাস ঘোষনা দিত। পরে সব অগ্নিসন্ত্রাস ভেস্তে গিয়ে ঢাকা অনেকটা শান্ত হয়ে গেলে, বিএনপি নেতা মেজর সমসের মবিন চৌ রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষনা করল।
হটাত একদিন ভিডিও বার্তায় সালাউদ্দিন নিজেকে নিখোজ (গুম) ঘোষনা করে, বিএনপির তরফ থেকেও বলা হয়েছিল পুলিশ সালাউদ্দিন গুম করেছে। যে বহু আগে থেকে গা ঢাকা দিয়ে ভিডিও বার্তা মিডিয়ার অফিসে পাঠাচ্ছিল, তাকে পুলিশ গুম করে কেমনে?
আসলে উনি সিলেট সীমান্তে উলফা ও মেঘালয়ে থাকা শশুরবাড়ীর সহায়তায় শিলং শহরে পুলিশের কাছে আত্নসমর্পন করে, মিডিয়াকে বলে আমি জ্ঞান হারিয়েছিলাম জ্ঞ্যান ফিরে দেখি এখানে এসে গেছি। আর কিছু মনে নেই। (সরকার তো গাধা নিরাপদে শিলং শহরে পৌছে দিয়ে মিডিয়ার কাছে যা ইচ্ছে তা বলতে দিবে।)

এক শিবির নেতা পালিয়েছিল, গুম বলা হচ্ছিল। শাকা চৌ পুত্র হুকাও ৩ মাস গা ঢাকা দিয়ে গুমের গুজব ছড়িয়ে ছিল। পরে গোপনে ফিরে আসলেও এ নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করেনি।

আলোচিত ফরহাদ মাজহার তার নারীসংগির সাথে কয়েক দিন নিরাপদ জাপন করতে গফুর নামে বাসে টিকেট কেটে বাসে উঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন আমি একটি কালো মাইক্রবাসে, 'আমাকে এইমাত্র মাইক্রোবাসে চোখ বেধে নিয়ে যাচ্ছে' আমি গুম হয়ে গেছি!
সারা বাংলাদেশ সহ বিশ্ব মিডিয়া তোলপাড় হয়ে গেছিল।
ওনার নারী নিয়ে রাতযাপন হল। রাষ্ট্রকে, শেখ হাসিনাকেও একহাত দেখে নেয়া হলো।





ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে জনৈক পিনাকীভট্ট ফ্রান্সগামি বিমানে উঠে স্ট্যাটাস দিয়েছিলো 'আমি এইমাত্র আমার অফিস থেকে পুলিশ ডাকছে ধরে নিয়ে গেল, এরপর সোশাল মিডিয়ায় লাগাতার ৬ মাস গুমের গুজব।
কিন্তু এরপর ৬ মাস পর আবার নির্লজ্জের মত ফ্রান্সে উদয়।

একই ঘটনা বহুল আলোচিত ত্বহা গুম। গুম না বলে ঘুম বলাই ভাল। ৩য় বউয়ের খপ্পর থেকে বাচতে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে রংপুরে। গাইবান্ধা থেকে ঢাকার স্ত্রীকে বললেন আমি গাবতলি এসে গেছি! এক বন্ধু নিজের বাসায় বাজার করে খাওয়াদাওয়ার ব্যাবস্থা করে ৪ জনকে বাসায় রেখে, শহরে গুমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছিল।

গোপন ইনফরমারের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশের হাতে ত্বহা ধরা পরার পর তিনি বলেন মা এদের ৪ জনকে আশ্রয় দিয়েছে, আমাকে জানায় নি। মা বলেছিলেন ওরা আগেও আসতো। উলংগ মিথ্যাচারের জন্য লোকটি ফোন কম্পানির চাকুরিও হারিয়েছিল।

এদিকে তথাকথিত ত্বহা গুম নিয়ে ১সপ্তাহ হিউমেন রাইট ওয়াচ ও এমনিষ্টি সরকারকে নিন্দার ঝড় মুন্ডুপাত চালিয়ে গেছে, আর দেশের মানুষের ঘুম নষ্ট। ইচ্ছেকৃত পলাতক ত্বোহা ৪ অনুসারি নিয়ে ধরা খাওয়ার পরও আসক এখনো তাকে তালিকায় রেখেছে,
হিউমেন রাইট ওয়াচ ও এমনিষ্টিও এদের (ফরহাদমাজহার, পিনাকি ত্বহা, সালাউদ্দিনকে) গুমের তালিকায় রেখেছে।

আর ফিরে আসাদের বোবায় ধরলেও দোষ।
সিরিয়া থেকে পরাজিত হয়ে ফিরে বাসায় বসে চুপচাপ থাকা। কেউ নারীঘটিত কারনে ধরা খেয়ে লজ্জায় বাকরুদ্ধ হলে, তার দায়ও কি রাষ্ট্রকে নিতে হবে?
আর রিসেন্ট ইলিয়াস আলিদের গুমের গোমর এক বিএনপির শির্ষ নেতাই ফাঁস করে দিয়েছেন। এরপরও লজ্জা নেই এদের।

মন্তব্য ১৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৫:২৬

কামাল১৮ বলেছেন: হিসাবটা ২০০৭ সাল থেকে কেন?

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:১১

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০০৭ থেকে ২০২০ সালের আগষ্ট পর্যন্ত তালিকা করেছিল।
পত্রিকাতে সেভাবেই এসেছে।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:০৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
কোন বড় মাপের রাজনৈতিক নেতা গুম হন নি।
ফরহাদ মাজাহার, শাকা পুত্র হুকা ফিরে এসেছিল। আর ইলিয়াস আলীদের গুমের গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন এক শির্ষ বিএনপি নেতা।
যাদের কে গুমের অভিযোগ করা হচ্ছে এরা অতি সাধারণ সামান্য পর্যায়ের নেতা বা কর্মি দাবিদার বা সাধারন একজন।
এরা কেউ সরকারের জন্য হুমকি তো দুরের কথা, গুমের আগে কেউ চিনতোও না।
২০১৩-১৬ বছরটা ছিল জঙ্গি তান্ডোবের বছর। বিদেশী হত্যা ব্লগার হত্যা ও হলিআর্টিজান গণহত্যার বছর।
২০১২ থকে ২০১৬ পর্যন্ত নব্য জেএমবি, আনসারুন্নাতে যোগ দিতে অনেক যুবক নিখোজ ছিল। শুধু সিরিয়াতে আইএস যেহাদে যোগ দিতে গিয়েছিল ৩০০০ বা আরো বেশী সংখক বাংলাদেশী যুবক,
জঙ্গিপনা করতে প্রথমে তুর্কি ভিসা নিয়ে বা ইস্তাম্বুলে ট্রাঞ্জিট ভিসা নিয়ে, তুরষ্কে। খুব কাছেই সিরিয়া সীমান্ত।
এরা ইস্তামবুল হয়ে সিরিয়ার উদ্দেস্যে বিমানে উঠার পর বিতর্ক এড়ানোর জন্য অনেক পরিবার থেকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে গুম করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল। অনেক পরিবার জিডি পর্যন্ত করে রেখেছিল। বেচে থাকা অনেকেই ফিরে আসে। এসে জবান বন্দ। লজ্জায়?
সরকার কিছু বলেনি, হাতে নাতে ধরাখাওয়া প্রতারক ত্বোহাকেও কিছু বলেনি। লোকটি এখনো ওয়াজ করে বেড়াচ্ছে।

২| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৫:৪২

বিষন্ন পথিক বলেছেন: একটা বাচ্চার বাবার জন্য চোখের পানিকে আপনার কাছে সাজানো মনে হয়? গুম না নিখোজ এসব পরের ব্যাপার
আপানার পোষ্ট পড়ে সবসময় বিরাট চিন্তায় পড়ে যাই
দেশে থাকলে না হয় বেনিফিটের একটা ব্যাপার ছিলো, কিন্তু বিদেশে খেয়ে বাংলাদেশের সরকারের মোষ তাড়িয়ে (সরকারকে ডিফেন্ড করে) আপনার লাভ টা কি?

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আমার মনে হচ্ছে আপনি মোটেই পোষ্টটি পড়ে দেখেন নি।

জাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা শাকিল উজ্জামান।
উনি গুম হন নি, মারাও যান নি। জিবীত মুক্ত, ইউটিউব করে বেড়াচ্ছেন,
ওনাকে এখনো গুমের তালিকায় রেখে রাজনীতি করা হচ্ছে, প্রতি বছর ওনার ছবি নিয়ে কান্নাকাটি চলে।

উনি মাত্র ৩ দিন নিখোজ ছিলেন, এরপর পুলিশের হাতে, এরপর পরিমনির চেয়ে অনেক দ্রুত সময়ে মুক্ত হয়েছিলেন।
সুত্র প্রথম আলো পড়ুন

৩| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৭:৪৭

শেরজা তপন বলেছেন: গুম বা বিনা বিচারে হত্য সেটা যে দলের, ধর্মের বা মতের-ই হোক না কেন নিঃসন্দেহে এটা ভয়াবহ একটা বিষয়।

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:০৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
বেশীরভাগ গুমি গুম হয় নি। সুস্থ ও মুক্ত ভাবে বেচে আছে।
পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করে দিলাম।
সব গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন অনেকেই। ৯০-৯৯%

প্রতিটি ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে কিছু অভিন্ন ছক বা মিল লক্ষ করা যায়। অপহৃত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই মাইক্রবাসে উঠিয়ে কথিত অপহরণের দু তিন দিন পর ‘উদ্‌ভ্রান্ত’ অবস্থায় কোনো সড়কে হাটতে দেখা যায়। কিন্তু ফিরে আসার পর অনেকে কোনো কথা মনে করতে পারেন না। বাকিরা ফিরে এসে মুখে কুলুপ আঁটেন। আবার অনেকে গোপনে বাসায় ফিরে আসেন। বাসায়ও তারা পরে আর কোনো কথা বলেন না। সরকার মনে হয় প্রত্যেকের বাকযন্ত্র অপসারন করে ছেড়ে দেয়।

কথিত গুম বা নিখোঁজ চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার। গত বছর নভেম্বরের ঘটনা এটা। কিছুদিনের মধ্যেই গোপনে ফিরে আসেন কিন্তু সেদিন এক টকশো তে বলে কিভাবে কবে ফিরিলাম কিছুই মনে নেই, ফাজলামির সীমা থাকা দরকার।


সাবেক কূটনীতিক মারফ জামান নিখোঁজ হন ২০১৭র দিকে। ফিরে আসার পর তিনিও এ নিয়ে কিছু বলেননি। কারা তুলে নিয়েছেন, বা কোথায় ছিলেন কিছুই বলেননি তিনি। পরে বিদেশ থেকেও ঘুরে এসেছেন, কিছুই বলেন নি।

২০১৬, ১৫ অক্টোবর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে,
৩০ নভেম্বর পাবনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তানভির আহমেদ রংপুর থেকে পাবনা আসার পথে,
১ ডিসেম্বর তানভিরের বন্ধু ও একই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন পাবনার কলেজ ক্যাম্পাস থেকে
এবং একই দিনে বরিশালের চাকরিপ্রার্থী তরুণ মেহেদী হাসান হাওলাদার বনানী থেকে,
৬ ডিসেম্বর ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় রাকিবুল ইসলাম রকি লক্ষ্মীপুর থেকে নিখোঁজ হন।
এরা কেউ গুম হন নি, পুলিশও ধরেনি, ছেলেধরার হাতেও পড়েন নি। নিজেরাই ফোন বন্ধ রেখে ২-৩ দিনের ভেতর তাঁরা সবাই পরে ফিরে আসেন।
কিন্তু ব্যাপক গুমের গুজব ছিল, মিডিয়াতে।

চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদের বাবা নুরুল আলম, পাবনা মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর বাবা সুরুজ্জামান ও নুরুল আলম সরকার বলেন, সন্তান ফিরে আসাতেই তাঁরা সন্তুষ্ট। তাঁরা এ নিয়ে আর কিছু বলতে চান না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান,
পুস্তক প্রকাশক তানভীর ইয়াসিন করিম,
সাংবাদিক উৎপল দাস,
কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান,
আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা শামীম আহমেদ,
ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়ও নিখোঁজ হয়েছিলেন।
পরে ফিরে আসেন। কিন্তু ব্যাপক গুমের গুজব ছিল
এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার ফিরে আসার পর অনেককিছুই বললেও নিখোঁজের দিনগুলো নিয়ে কিছুই বলেন না।
এই শিক্ষক এখন বিদেশে শিক্ষকতা করছেন।

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনেরা প্রত্যেকে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁদের মাইক্রবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফিরে আসার পর নিখোঁজ ব্যক্তিরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বলেছেন, কিছু মনে নেই। এর বাইরে তাঁরা কেউ আর বিস্তারিত কিছু বলেননি।


৪| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:৩৮

ঢাবিয়ান বলেছেন: @ বিষন্ন পথিক , হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েতো আম্রিকা, কানাডায় যায় , মঙ্গল গ্রহেতো আর যায় না।

৫| ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:২০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: গুম,খুন, কিলিং কোনটাই সভ্য দেশের জন্য সুখকর নয় ।
আমরা ভুলতে বসেছি রাষ্ট্রর দ্বায়িত্ব আর নাগরিক অধিকার
দুটোই আজ বিপন্ন ।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:৪৭

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
গুম,খুন, বিচার বহির্ভুত কিলিং কোনটাই সভ্য দেশের জন্য সুখকর তো নয়ই গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তবে ভুয়া গুম,খুন, বিচার বহির্ভুত কিলিং অভিনয় করে কয়েক মাস জনগন ও রাষ্ট্রকে প্রতারনা করাটা আরো বড় অপরাধ।

৬| ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:০১

কুশন বলেছেন: গুম করে সরকার। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই গুম।

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২২

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
গুম করে সরকার। মানলাম।
যারা ভুয়া গুম হয়ে লুকিয়ে থেকে হঠাৎ উদয় হয়। তারা কি?

৭| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৪৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




হাসান কালবৈশাখী ভাই, আপনার গত পোস্টে আমি লিখেছিলাম উক্ত বিষয়ে আমি লিখবো। আজকে উক্ত বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছি এবং আপনাকে উৎসর্গ করে। পালাবে কোথায় আশা করি আপনাকে দেয়া কথা আমি রাখতে পেরেছি। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ২:৫৮

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ঠাকুরমাহমুদ ভাই। পড়লাম।

খুব গুরুত্বপুর্ন একটা বিষয় তুলে আনলেন।
মানুষের দুঃখ বেদনা দেশান্তরি হওয়া এসব গল্প হলেও সত্য গল্প।
নোয়াখালী থেকে একসময় অনেক লোক হুট করে নিখোজ হয়ে যেত। মানবপাচারকারীর যুগ তখনো শুরু হয় নি।
এরা বেশিরভাগ জাহাজে চাকুরি নিয়ে মাদ্রাজ রেংগুন এডেন, সিংহল(বর্তমান শৃলংকা) চলে যেত। অনেকে লন্ডন পর্যন্ত যেয়ে স্থায়ী হয়ে গেছিল। সবচেয়ে বেশী গেছে আসাম মেঘালয় অরুনাচলের দিকে।

তবে বর্তমান কালে সিরিয়া আফগান বাদে পৃথিবীর আর এভাবে কোথাও পালিয়ে থাকা সম্ভব না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক এনাইডি চালু হওয়ার পর।
আসাকরি 'পালাবে কোথায়' পর্বটি চালু রাখবেন।

৮| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৫৩

জ্যাকেল বলেছেন: ইনিয়ে বিনিয়ে আপনি আওয়ামীলীগ ভালো বলার চেস্টা করছেন কিন্তু কেন? স্পষ্টত দেখা যায় সরকারের উপরের লোকেরা একেকটা মার্ডারাস ফ্যামিলি, টাকা লুটকারি ও গণহত্যার মত জঘন্য অপরাধী। এদের বাঁচিয়ে কি লাভ? এরা তো আসলে আওয়ামীলীগের সুনাম ধংস করে ছাড়ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.