নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চলছে চলবে

হাসান কালবৈশাখী

আমি দুর্বার, আমি ভেঙ্গে করি সব চুরমার। আমি কালবৈশাখীর ঝড়! আমার ফেসবুকইডি www.facebook.com/norwstorm

হাসান কালবৈশাখী › বিস্তারিত পোস্টঃ

পাচার হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা।

১২ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৪৬




ডয়েচ ভেলে বাংলা ৬ আগষ্ট ২০২২ এ একটা চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছরে দেশের বাইরে পাচার হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। মিথ্যাই বলা যায়।
কারন ডয়েচ ভেলে বাংলা তাদের এই প্রচারনায় ব্যবহৃত ’গত দশ বছর' শব্দটি ব্যাবহার করেছে অর্থ্যাৎ ২০১৩- ২০২২ বলা হয়েছে।

অতচ মুল সংস্থাটির পেইজে গিয়ে দেখা গেল এই রিপোর্ট ৯ বছর আগের একটি পুরোনো রিপোর্ট।
২০০৬ থেকে ২০১৫ এই দশ বছরের। আর রিপোর্টটি ডয়েচ ভেলের দাবি অনুযায়ী শুধু বাংলাদেশের না। ১৪৮ টি দেশের, অর্থাৎ আমেরিকা ইউরোপ বাদে প্রায় সব দেশ। আমেরিকার মান সম্পন্ন সচ্ছতা না থাকাতে বাংলাদেশ সহ ১৪৮ টি দেশ চোর, তথা পৃথিবীর ৮০ ভাগ দেশ দেশের ব্যাংকিং ব্যাবস্থা অসচ্ছ চোর। (২০০৬ থেকে ২০১৫)
ডয়েচ ভেলে বাংলা অবস্য বলছে শুধু বাংলাদেশই ২০২২ এ চোর।
গ্লোবাল ফাইনানসিয়াল ইন্টিগ্রিটি সংস্থাটিও এমন আহামরি কেউ নয়, ২০০৬ এ জন্ম, ২০১৫র পর এই সংস্থাটি এরকম গবেষনা বা বড় এক্টিভিটি দেখা যায় না, দুএকটা লামছাম রিপোর্ট বাদে আর কিছু দেখা যায় না। বড়সর রিপোর্ট আর দেখা যায় নি

যেই সময়টা বিশ্বের ফাইনান্সিয়াল সংস্থা ও ব্যাঙ্কগুলোর কার্যক্রম পর্যাপ্ত ট্রান্সপ্যারেন্ট ছিলনা।
গ্লোবাল ফাইনানসিয়াল ইন্টিগ্রিটি সংস্থাটি রিসার্চ করে কর্পোরেট ট্রান্সপারেন্সি, মানি লন্ডারিং, কর ফাকি, ইত্যাদি নিয়ে গবেষনা করে। বিশ্বের কেনাকাটা এলসি, ওভার আন্ডার ইনভয়েসিং ইত্যাদি পর্যালচনা করে কম্পিউটার এনালাইসিস করে, অনুমান ভিত্তিক রিপোর্ট।
২০১৮ আইন করার পর চীন বাদে অন্যান্ন দেশে ওভার বা আন্ডার ইনভয়েসিং করে আমদানি রপ্তানি কেনাকাটা অসম্ভব। ইওরোপ বা সুইস ব্যাঙ্কে তো টোটালি অসম্ভব।

অর্থমন্ত্রী অবস্য বলেছেন
বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারে গ্লোবাল সংস্থাগুলো যে তথ্য দিয়ে থাকে, সেগুলো সঠিক নয়। এগুলোর কোনো যৌক্তিকতাও নেই। এ বিষয়ে তারা রিপোর্ট করেছে কিন্তু কখনো রিপোর্ট সমর্থক নথিপত্র দিতে পারেনি। অনুমানের ভিত্তিতে কথা বললে তো হবে না। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা টাকা পাচারের জন্য আইন করিনি। কেউ যাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা টাকা বিদেশে পাচার না করে, সে জন্যও দেশে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে দেশে বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার জনগোষ্ঠী এখন বৈধভাবে সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছেন। দেশেই টাকা বিনিয়োগ করছেন। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় এখন আর টাকা পাচার হয় না। বরং দেশেই বিনিয়োগ হয়। ’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, এর পরও অর্থপাচারের তদন্তে দেশে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে মামলা করে থাকে। ৬৯ জনের মত পাচারকারি দুদকের মামলার আওতায় আছে, এখন অনেকেই জেলে আছে। সরকার অর্থপাচার রোধে সব সময় তৎপর আছে বলেও বিবিসিকে বলেন।

আমার কথা হচ্ছে
বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার সম্পুর্ন অনুমান ভিত্তিক ভুয়া কথা, যার কোন প্রমান নেই, রেফারেন্স নেই।
বিশ্বে মোট টাকা পাচারের একটা অংশ অনুমান ভিত্তিক বাংলাদেশের বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশে থেকে সেভাবে টাকা পাচার হলে দেশের সম্পদ ৫০ গুন বৃদ্ধি পেত না, দেশের রিজার্ভ ৪ বিলিয়ন থেকে ৪৮ বিলিয়ন হোত না। বিএনপি আমলের মত স্থবির ৪ বিলিয়নই থাকতো।


ইদানিং সুইস ব্যাঙ্ক নিয়ে খুব কথা হছে।
সুইজারল্যান্ডের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাথালী শৌহার্ড প্রতারনামূলক একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তাহলো বাংলাদেশ সরকার সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা টাকার কোন তথ্য চায়নি।

প্রকৃত সত্য সুইস সরকার চাইলেও এটা দিতে পারবে না'
দিতে পারবে ব্যাঙ্কগুলো, তবে একাউন্ট হোল্ডারের অপরাধ প্রমান ছাড়া দিবে না প্রাইভেসি এবং ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কথা বলে কখনোই সেসব দেয়না। সেটাও সুনির্দিষ্ট নাম ধাম করফাঁকির প্রমান মামলার কাগজপত্র দেয়া হলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের ভাবখানা এমন বাংলাদেশ চাইলেই তারা পাচারকারির নামধাম দিয়ে দিতো!

রাষ্ট্রদুত এতই যদি সাধু হন তাহলে ঘোষনা দিয়ে বলুক, বাংলাদেশ চাইলেই তারা সব বাংলাদেশী পাচারকারিদের নাম তথ্য দেবে। আসল কথা বছরের পর বছর ধরে তারা এভাবে সারাবিশ্বের অসাধু অর্থে তাদের নিজেদের রিজার্ভ আর কালো অর্থের ব্যবসা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে রাখে।

পশ্চিমা বিশ্ব ২০০০ সালের দিকে বিশ্বব্যাপি ড্রাগ বিজনেস জঙ্গি সন্ত্রাসের ফান্ডিং বন্ধ করার জন্য গুরুতর সংগঠিত অপরাধ ও পুলিশ আইন 'অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং আইন ইত্যাদি ২০০০, ২০০১, ২০০৫ ও ২০১৮ চালু করার পর পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশ ও ব্যাঙ্ক গুলো এই সব আইনে স্বাক্ষর দিয়েছে। বর্তমানে জেনুইন ভাউচার, জেনুইন এলসি ইনভয়েস ভেরিফাই না হওয়া পর্যন্ত কোন বিদেশী ব্যাঙ্কে ১ পয়শা রাখাও সম্ভব নয়। সুইস ব্যাঙ্কেও সম্ভব নয়। ২০০২ ও ২০১০ এর পর সুইস রাষ্ট্রদুত অবস্য সেদিন বলেছেন সুইস ব্যাংক অন্যান্ন ইয়োরোপিয় ব্যাঙ্কের মত আন্তর্জাতিক সব আইন নিয়ম প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করে। সেখানে এখন আর কালো টাকা বা দুর্নীতির অর্থ রাখার কোনো ব্যাবস্থা নেই।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫০ গুন বড় হয়েছে, ইওরোপে ব্যাবসা অনেক বেড়েছে, সুইস ব্যাঙ্ক কানাডা বা ইওরোপিয় ব্যাঙ্কে কোটি কোটি টাকা ট্রাঞ্জেকশান হয়ে থাকলে সেটা জেনুইন ব্যবসায়ীদের টাকা। কারন রিসেন্ট কয়েক বছরে ইওরোপে ব্যাবসা বহুগুন বেড়েছে
বর্তমানে সুইস ব্যাঙ্কে আগের মত যাচ্ছেতাই ভাবে টাকা জমা রাখা যায় না। শুধু সুইস ব্যাঙ্ক না, পর্যাপ্ত সাপোর্টিং পেপার ছাড়া বিশ্বের কোন ব্যাঙ্কেই ইভেন বাংলাদেশের ব্যাঙ্কেও টাকার বস্তা জমা দিতে পারবেন না।

কারন পশ্চিমা বিশ্ব ২০০০ সালের দিকে বিশ্বব্যাপি জঙ্গি সন্ত্রাস দমনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়, তার ভেতর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অন্যতম। আইনগুলো হচ্ছে
আইনগুলো হচ্ছেঃ

সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০
সন্ত্রাস দমন, অপরাধ ও সুরক্ষা আইন ২০০১
প্রসিড'স অব ক্রাইম অ্যাক্ট ২০০২
গুরুতর সংগঠিত অপরাধ ও পুলিশ আইন ২০০৫
নিষেধাজ্ঞা এবং অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং আইন ২০০০ ও ২০১৮

বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সালে মানি লন্ডারিং আইন প্রণয়ন হয় যার নাম "মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ "।
কিন্তু পার্লামেন্টে উত্থাপিত হয় নি। পরবর্তীতে, ২০০৯ এ আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশ রহিত করে "মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২" নামে নতুন একটি আইন পাশ হয়। এটি পশ্চিমা বিশ্বের আইনের সাথে সংগতি রেখে ২৮টি সম্পৃক্ত অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ ও সম্পত্তি অর্জন বা স্থানান্তরের উদ্দেশে উল্লেখিত সম্পৃক্ত অপরাধ সংগঠন বা এর সাথে জড়িত কার্যক্রম মানিলন্ডারিং হিসেবে বিবেচিত হবে।


ছবি সুত্র - টেক শহর


তবে বাংলাদেশ বা বিশ্বে এখনও যে টাকা যে পাচার হয় না, সেটাও না।
বর্তমানে পাচার করা অবৈধ টাকা রাখা হয় বিভিন্ন দেশের কয়েকটি অফশোর ব্যাঙ্কে যারা মানি লন্ডারিং আইন স্বাক্ষর করে নি।
তবে রিসেন্টলি ২০১৬ তে দক্ষ ইনভেষ্টিগেটিভ সাংবাদিকরা সারা বিশ্বে যারা যারা অপকর্ম করেছে সব পাচারকারিদের নাম প্রকাশ করে দিয়েছে। লাখ লাখ পাচারকারির নাম ঠিকানা সব পরিচয় প্রকাশ করেছে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গ্লোবাল ফাইনানসিয়াল ইন্টিগ্রিটি সংস্থাটির রিপোর্ট প্রকাশিত হলে, আরেকটি ওয়াশিংটন ভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস’ চোর ধরার কাজ শুরু করে দেয়।
১১৭টি দেশের ৬ শতাধিক ইনভেষ্টিগেটিভ সাংবাদিক বছরব্যাপি আরো ১৪টি উৎস / ব্যাঙ্ক / ব্যাঙ্কের আইনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি থেকে চুরি/হ্যাকিং/ গোয়েন্দাগিরি করে টাকা পাচারের কোটির উপরে নথিপত্র ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে। এবং ২০১৬ তে পানামা পেপার্স, রিপোর্ট বের করে সারা পৃথিবীতে আলোড়ন শৃষ্টি করে।
২০১৬ তে পানামা পেপার্স, পরে ২০১৮তে প্যারাডাইস পেপারস ও ২০১৯এ প্যান্ডরা পেপার্স।
অর্থ পাচার করেছে প্রত্যেকের নাম পৃথিবীর সব দেশের লাখ লাখ পাচারকারিদের নাম ঠিকানা প্রকাশিত হয়েছে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস’ (আইসিআইজে) ২০১৬ তে ‘পানামা পেপারস’ নামে নথি প্রকাশ করে আলোড়ন শৃষ্টি করেছিল। কাজ এখনো চলছে।

জার্মান পত্রিকা সুচডয়েচে সাইটুংয় সহ ১১৭টি দেশের ৬ শতাধিক ইনভেষ্টিগেটিভ সাংবাদিক বছরব্যাপি আরো ১৪টি উৎস থেকে টাকা পাচারের কোটির উপরে নথিপত্র ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছেন। পৃথিবীর সব দেশের লাখ লাখ পাচারকারিদের নাম পাওয়া যায়।

এইসব তালিকায় বাংলাদেশী বেশকিছু জনের নাম পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, ছেলে তাফসির আউয়াল ও তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েক ডজন বাংলাদেশির নাম পাওয়া যায়। ১-২ জনের মত আওয়ামীলীগ ব্যাবসায়ী নেতা ও এম্পির নামও পাওয়া যায়।
বাংলাদেশী পাকিস্তানপন্থিদের নবী ইমরান খানের নামও উঠে এসেছে সেক্রেটারি কাম বান্ধবীর নামে টাকা রেখে। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান আল সৌদ, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের এক ছেলে এবং পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। নেওয়াজের ভাই শাহাবাজও আছে। কিছু পাকিস্তানি রাজনীতিবিদের নামও। নামে বেনামে আছে এরদোয়ান পুটিনের নামও। খুব সৎ বলে পরিচিত কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর নামও আছে।
হাসিনার নাম দূরে থাক এক-দুজন বাদে কোন বড় আওয়ামীলীগ নেতার বা নেতার কাছের মানুষের নাম নেই। কিন্তু বিএনপির বড় নেতারা আছে।
লন্ডনে তারেক জিয়ার যাবতীয় চোরাই অর্থ রাখা হত তালিকায় থাকা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার ছেলে তাবিথ আউয়ালের মাধ্যমে

এর আগে ২০১২-১৩ সালে সিংগাপুরের একটি ব্যাংকে তারেকের টাকা খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর একাউন্ট থেকে ২১ কোটি টাকা ফেরত আনে দুদক।

পাচারকারি বাংলাদেশি আওয়ামীলীগ বিএনপি যে যাই করুক প্রত্যেকের নামে মামলা করেছে দুদক,
যারা পলাতক নয় প্রত্যেকে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে দুদকে।
দুদক মোট ৬০ ব্যক্তির অর্থ পাচারের তথ্য চেয়ে ১৮টি দেশে চিঠি দিয়েছিলো। তার মধ্যে ৩০ জনের ব্যাপারে তথ্য পায়। তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যরাও আছেন। কিন্তু সেই তালিকা ধরে তদন্তের অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচেছনা। ১৮ টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ক্যানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, সিংগাপুর, আরব আমিরাত, অষ্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার নাম রয়েছে।

এজাবত পাচারকারি যাদের যাদের নাম এসেছে -

পানামা পেপারস প্যারাডাইস পেপারস ও প্যান্ডরা পেপার্স। কেলেঙ্কারিতে যেসব নাম ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের তারা হলেন,



ঢাকা থেকে অর্থ পাচারকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেন
আবদুল আওয়াল মিন্টু, (বিএনপির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান)।
নাসরিন ফাতেমা আওয়াল,
তাবিথ আওয়াল,
তাফসির আওয়াল,
তাজওয়ার মোঃ আওয়াল,
কাজী জাফরউল্লাহ (প্রাক্তন সাংসদ ২০০১ আওয়ামীলীগ)
স্ত্রী নীলুফার জাফরুল্লাহ
চৌধুরী ফয়সাল,
আহমেদ সমির,
ব্রুমার অ্যান্ড পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড,
মুসা বিন শমসের,
ফজলে এলাহী,
কে এইচ আসাদুল ইসলাম,
জুলফিকার আহমেদ,
ইমরান রহমান,
এরিক জনসন অ্যান্ড্রিস উইলসন ডব্লিউএমজি লিমিটেড,
ফারহান ইয়াকুবুর রহমান,
আমানুল্লাহ ছাগলা, পদ্মা টেক্সটাইল।
মাহতবা রহমান,
শাহনাজ হুদা রাজ্জাক।

চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ এ আওয়াল
মোহাম্মদ মালেক
এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে
তাজুল ইসলাম তাজুল
ফারুক পালওয়ান

প্রবাসীও আছে।

মুঘল ফরিদা, নিউইয়র্ক
শহীদ উল্লাহ, টেক্সাস। (পলাতক, তার ওস্তাদ মানব পাচারকারি সাইফুল্লা জেলে)
মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, মস্কো
মাহমুদ হোসেন, আয়ারল্যান্ড
গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেম। আয়ারল্যান্ড
মোহাম্মদ রেজাউল হক, মাল্টা

আরো বিভিন্ন নাম পাওয়া গেছে
কফিল এইচ এস মুয়িদ,
পেসিনা স্টেফানো,
রুডি বেঞ্জামিন,
ইউসুফ রায়হান রেজা,
ইশরাক আহমেদ,
নভেরা চৌধুরী,
ফরহাদ গণি,
মেহবুব চৌধুরী,
বিলকিস ফাতিমা জেসমিন,
রজার বার্ব,
আবুল বাসার,
জাইন ওমর,
বেনজির আহমেদ,
আফজালুর রহমান,
সুধীর মল্লিক,
জীবন কুমার সরকার,
নিজাম এম সেলিম,
মোকসেদুল ইসলাম,
মোতাজ্জেরুল ইসলাম
সেলিমুজ্জামান।
এদের মধ্যে আফজালুর রহমান ও মোতাজ্জেরুল ইসলামের নাম দুবার আছে বা ভিন্ন ব্যাক্তিও হতে পারে।

পরে কিছু নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া যায়।

নিহাদ কবির, ইন্দিরা রোড.
সাইদুল হুদা চৌধুরী,
ইসলাম মঞ্জুরুল, ওরিয়েন্টাল অ্যাগ্রি কেমিক্যাল কোম্পানি
মোহাম্মদ ভাই, গুলশান. (আজিজ মোহাম্মদ ভাই)
সাকিনা মিরালী, মুনরেকার সার্ভিসেস করপোরেশন
অনিতা রানী ভৌমিক, চকবাজার
ওয়াল্টার পোলাক, ফ্লিন্ট এন্টারপ্রাইজেস এসএ.আর্জেন্টিনার পাশাপাশি বাংলাদেশ
ডেনিয়েল আর্নেস্তো আইউবাত্তি। কুডেল লিমিটেড রাশিয়া ও বাংলাদেশ

শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম যা পাওয়া গেছে -

ইউনোকল বাংলাদেশ এক্সপ্লোরেশন লিমিটেড,
ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক সেভেন লিমিটেড,
ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক ফাইভ লিমিটেড,
ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টেন লিমিটেড,
ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লকস থার্টিন অ্যান্ড ফোর্টিন লিমিটেড,
ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টুয়েলভ লিমিটেড,
বার্লিংটন রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিমিটেড,
ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ-বারমুডা লিমিটেড,
টেরা বাংলাদেশ ফান্ড লিমিটেড,
আনিসুর রহমান অ্যান্ড কোং
ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড।
ইসলামিক সলিডারিটি শিপিং কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সাকা চৌ পরিবার)
বাংলাদেশ টেক্সটাইল এজেন্সিজ লিমিটেড।
বাংলাদেশ বিমান ইনকরপোরেশন, (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নয়)


তবে বাংলাদেশে দুদক ও বিচার বিভাগ থেমে নেই।
পাচারকারিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রমান করা দেশেই কঠিন, বিদেশেও কোন দেশ এখনো তেমন কাউকে শাস্তি দিতে পারেনি,
তবে দুদক ৬৯ জনকে দৌড়ের উপর রেখেছে। ভারতে একজনকে তথ্য দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে।



পানামা, প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসা ৬৯ বাংলাদেশির তথ্য হাইকোর্টে দাখিল
পানামা ও প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নাম আসা ৬৯ বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। The Business Standard
27 January, 2022, পরবর্তি রোববার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।


বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক হলফনামা আকারে হাইকোর্টে অর্থ পাচারে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামসহ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
আগামী রোববার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বিএফআইইউ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অর্থপাচারের বিষয়ে তারা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং অনুসন্ধান করে গত ৫ বছরে দুদক, সিআইডি, পুলিশ এনবিআরসহ অন্যান্য সংস্থাকে মোট ৪ হাজার ৫০৭ টি 'ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট' সরবরাহ করেছে। এগুলোর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৮৭ টি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৬৭ টি, ২০১৮-২০১৯ এ ৫৫৩টি, ২০১৭-১৮ এ ১ হাজার ১৯৭টি এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪০৩টি রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো এসব সংস্থার নেওয়া আইন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে।

আপডেট হবে। ধন্যবাদ।



মন্তব্য ২৯ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (২৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:২০

মোহাম্মদ গোফরান বলেছেন: অত্যন্ত তথ্যবহুল ও শ্রমসাধ্য পোস্টের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা ভালো লাগলো।

১২ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৫৫

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ধন্যবাদ গোফরান ভাই।
আজকাল মিডিয়াতে সঠিক সংবাদটি খুজে পাওয়া মুসকিল।
সবাই যার যার ধান্দায় নিজেদের এজেন্ডা প্রচার করে।

১৫ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১২:০৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
হাইকোর্টে সুয়োমোটোর প্রেক্ষিতে দুদক হাইকোর্টে সমস্ত নথি পত্র নিয়ে হাজির হয়। আজ রোববার। ১৪ আগস্ট ২০২২
দুদক আইনজীবিগন আদালতে দেখাতে সক্ষম হয় যে তারা সুইস ব্যাংক গুলোতে বিভিন্ন বাংলাদেশীদের জমাকৃত অর্থ সম্পর্কে জানতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে এবং সুইস কর্তৃপক্ষ এর প্রেক্ষিতে কোনো তথ্য দেয় নাই। একজনের তথ্য দিলেও আংশিক, কন্ডিশনাল।
এই বিষয়ে তারা আদালতে সব চিঠি-পত্র, ইমেইল ইত্যাদি হাজির করে।

অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধ, অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য বিএফআইইউ বিদেশি এফআইইউদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে, তবে বিশ্বব্যাপী এসব তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো ইএসডব্লিউ।

২০১৩ সালের জুলাইতে বাংলাদেশ ইএসডব্লিউর সদস্য হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত ৬৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রপার চ্যানেলে তথ্য চাওয়া হয়। ইএসডব্লিউর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে এ তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়, কিন্তু ২০১৪ সালে একজন ছাড়া আর কোন তথ্য দেয়া হয় নি।

আদালত বলেন, ‘তাঁর (রাষ্ট্রদূত) বক্তব্যে দেশে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের (রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক) বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে। অর্থ জমাকারীদের বিষয়ে আপনারা তথ্য চেয়েছেন। তারা দিচ্ছে না। দিলেও শর্ত সাপেক্ষে। আপনারা তথ্য চেয়েছেন ও পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন, পরিষ্কার করেছেন। মানুষ মূল্যায়ন করবে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব কথা বলেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সুইস রাষ্ট্রদূত কেন মিথ্যে বললেন এবং এই দেশের কিছু লোক কেন 'ওই' বিদেশী সাদা প্রানীটার তিন নাম্বার সন্তানের মত লাফালো?

২| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৩৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: বাংলাদেশের যারা রফতানি ব্যবসার সাথে জড়িত তারা সহজেই টাকা পাচার করতে পারে। এরা রফতানির কিছু টাকা দেশে আনেই না। ফলে টাকা পরোক্ষভাবে পাচার হয়ে যায়। এদের অনেক লিয়াজো অফিস থাকে বিদেশে। এগুলিকে ব্যবহার করে তারা এই কাজ করে থাকে। বায়ারকে বলে আপনি ১০% বাইরে আমার এজেন্টকে পেমেন্ট করবেন আর ৯০% কন্ট্রাক্ট, এলসি বা টিটির মাধ্যমে বাংলাদেশে পেমেন্ট করবেন।

টাকা পাচারের আরেকটা রাস্তা হোল ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া। বিশ্বের অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ট্রান্সফার প্রাইসিং এর মাধ্যমে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে থাকে। এই ধরণের কোম্পানির পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা থাকে। অনেক দেশে ট্যাক্স রেট বেশী থাকে। তারা ঐ দেশের ট্যাক্স ফাঁকির জন্য ওভার ইনভয়সিং ক'রে মাল আনে তাদের আরেক দেশের প্রতিষ্ঠান থেকে যেখানে ট্যাক্স হার কম। ফলে প্রথম দেশের কোম্পানির খরচ বেড়ে, মুনাফা কমে যায় এবং ট্যাক্স কম আসে। অপরপক্ষে দ্বিতীয় দেশের কোম্পানির আয় বেড়ে যায় এবং মুনাফাও বেড়ে যায়। কিন্তু যেহেতু দ্বিতীয় দেশে ট্যাক্স হার কম তাই মুনাফা বেশী হলেও ট্যাক্স তেমন বেশী আসে না। ফলে সার্বিক ভাবে ঐ গ্রুপ কোম্পানি ট্যাক্স ফাঁকি দিতে পারে। এই ফাঁকি প্রতিরোধের জন্য Transfer Pricing আইন আছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কোম্পানির অডিটর তাদের নিরীক্ষার সময় এগুলি চেক করে থাকেন এই সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক হিসাব মানের আলোকে (IFRS)। বাংলাদেশেও ভালো অডিট ফার্মগুলি বিদেশী কোম্পানিগুলির ট্রান্সফার প্রাইসিং চেক করে থাকে। তবে এগুলি ধরা খুব কঠিন কাজ। ফলে চুরিচামারি কম বেশী চলে।

১২ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৫২

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
একমত।
ওভার/আন্ডার ইনভয়সিং ইয়োরপ আমেরিকা কানাডা অষ্ট্রেলিয়াতে সম্ভব না হলেও চীন ইন্দোনেশীয়া মালয়েসিয়াতে হচ্ছে।
অনিয়ম হলেও এটাকে আমি খুব বড় অপরাধ মনে করি না, কারন নিজেদের অর্জিত টাকা। পরে ইম্পোর্টের একসময় ঠিকই ফিরে আসে।
তবে ট্যাক্স ফাঁকি গুরুতর অপরাধ।

৩| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:২৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ১। সুইস রাষ্ট্রদূত প্রতারণামূলক বক্তব্য দিল ভালো কথা, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার কি তথ্য চেয়েছে কখনও?
২। সুইস ব্যাঙ্কে যে ৮ হাজার কোটি টাকা আছে, এটা কাদের টাকা?
৩। কানাডায় অর্থ পাচারের ২৮টি ঘটনার তথ্য পেয়েছে সরকার, সেগুলোর ব্যাপারে সরকারের কোন পরিস্কার বক্তব্য নাই কেন?
৪। সুইস রাষ্ট্রদূতের প্রতারণামূলক (!!) বক্তব্যের মতো কানাডার বেগমপাড়া নিয়েও অনেক প্রতারণামূলক (!!) বক্তব্য আছে, সরকারের মন্ত্রীরা এই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে একেক রকমের বক্তব্য দিয়েছেন, কারন কি সর্ষের মধ্যে ভূত?
৫। সুইস সরকার তথ্য পাওয়ার সব রকমের উপায় আমাদের সরকারকে জানানোর পরও সরকার কেন কোন নির্দিষ্ট তথ্য চায় নাই?

ইতিহাস বর্ণনা না করে নম্বর ধরে ধরে সুনির্দিষ্ট উত্তর দেয়ার অনুরোধ রইলো। সময় নিয়ে একটু টানাটানির মধ্যে আছি, তারপরেও সময় পেলে বিস্তারিত কথা হবে।

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১২:২০

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
সরকার কি তথ্য চেয়েছে কখনও?

সরকার তথা বাংলদেশ ব্যাঙ্ক চেয়েছিল,
কিন্তু সন্দেহজনক একাউন্ট হোল্ডারদের নাম পরিচয়তো কেউ জানে না,
সুনির্দিষ্ট নাম ধাম করফাঁকির প্রমান মামলার কাগজপত্র দেয়া হলে অবস্যই দিত। কিন্তু কিছুই না দেয়াতে সংগত কারনেই কোন তথ্য দিতে পারেনি। বিরোধী দল বা সাংবাদিকদের কোন নাম জানা থা্কলে বলুক।

সুইস ব্যাঙ্কে যে ৮ হাজার কোটি টাকা আছে, এটা কাদের টাকা?

সেটা জেনুইন ব্যবসায়ীদের টাকা।
কারন রিসেন্ট কয়েক বছরে ইওরোপে ব্যাবসা বানিজ্জ বহুগুন বেড়েছে, রফতানি প্রবৃদ্ধি ৩০-৩৫% রিসেন্ট করোনা যুদ্ধ সত্তেও এই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫১%, পোশাক চামড়া তো আছেই, ফালতু ওয়াল্টনের জোড়াতালি দেয়া প্রডাক্ট প্রতিমাসে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার রফতানি হচ্ছে। এইসব ব্যাবসায়ীরা অনেকেই সুইস ব্যাঙ্ক ব্যাবহার করছে, সেসব ব্যাঙ্কে বাংলাদেশী ব্যাবসায়ীদের ট্রাঞ্জ্যাকশান দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধির ধারা অনুযায়ীই বাড়বে , এটাই স্বাভাবিক।
সুইজারল্যান্ডের ব্যাঙ্কগুলো ইউরোপের সবচেয়ে চালু জনপ্রীয় ব্যাঙ্ক, সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতিতে শুধু ব্যাঙ্কদের অবদানই ১০%
বর্তমানে ২০১২ ও ২০১৮ এর পর সুইস ব্যাঙ্কে আগের মত যাচ্ছেতাই ভাবে টাকা জমা রাখা যায় না। অবৈধ চোরা টাকা তো অসম্ভব। শুধু সুইস ব্যাঙ্ক না, পর্যাপ্ত সাপোর্টিং পেপার ছাড়া বিশ্বের কোন ব্যাঙ্কেই ইভেন বাংলাদেশের কোন ব্যাঙ্কেও ১ পয়শাও জমা দিতে পারবেন না।

কিন্তু সংগবদ্ধ অসৎ মিডিয়ার কারনে সঠিক সংবাদটি খুজে পাবেন না।
সবাই টাকা খেয়ে যার যার ধান্দায় নিজেদের এসাইন্ড এজেন্ডা প্রচার করে।

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১২:১৫

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
সুইস সরকার তথ্য পাওয়ার সব রকমের উপায় আমাদের সরকারকে জানানোর পরও সরকার কেন কোন নির্দিষ্ট তথ্য চায় নাই?

চায় নি বললে ভুল হবে, বহুবার চেয়েছে, পাচার নিয়ে যৌথ ভাবে কাজও করছে।

বাংলাদেশে এরশাদ সরকারের পতনের পর সুইস ব্যাংকে তার (এরশাদ) টাকা ফেরত আনার একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল৷ তখন তথ্য চেয়ে না পেয়ে এই কাজে ফায়ার ফক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বও দেয়া হয়৷ কিন্তু সেই টাকা ফেরতের কোনো খবর আর পাওয়া যায়নি৷
কারন ২০১৪ আগে তখন সুইস ব্যাংক গুলো ছিল চোরা টাকা রাখার ব্যাঙ্ক।
হাইলেসালাসি, শাহ, ইদিআমিন, ফ্রাঙ্কোরা চোরাই টাকা রাখতো সুইস ব্যাংক গুলো কোন তথ্য দিত না।


২০১৪ সালের পর বিভিন্ন মানি লন্ডারিং আইন সন্ত্রস দমন আইন কার্জকর ভাবে চালু হওয়ার পর থেকে সে কোনো দেশের নাগরিকদের কত অর্থ আছে, তার পরিমাণ প্রকাশ করছে৷ তাকে মামলাও মোববেলা করতে হচ্ছে৷ সুইস ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন এখনো গ্রাহকের গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও অপরাধে জড়িত গ্রাহকের তথ্য দিচ্ছে৷ ২০১৪ সালে কমন রিপোর্টিং ষ্ট্যান্ডার্ড (সিআরএস) গড়ে তোলে ১০০টি দেশ৷ তার আওতায় সদস্য দেশগুলো তার নাগরিকদের সব তথ্য সুইস ব্যাংক থেকে পায়।
বাংলাদেশও একটু আলাদাভাবে ২০১৪ সালে একটি উদ্যোগ নেয়৷ ওই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সুইজারল্যান্ডের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে সমঝোতা চুক্তি করার জন্য চিঠি দেয়।পরবর্তিতে বিএফআইইউ এডমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পায়৷ এডমন্ট গ্রুপ হলো সব দেশের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটগুলোর একটি জোট৷ যেই ফোরাম মানি লন্ডারিং অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ইনটেলিজেন্স নিয়ে কাজ করে৷ বাংলাদেশ সুনির্দিষ্ট ভাবে কারো একাউন্ট তথ্য চাইলে যে কোন ব্যাঙ্ক দিতে বাধ্য।
কয়েক বছর আগে হংকং এর একটি ব্যাঙ্ক থেকে গ্রেফতারকৃত এক ব্যাক্তির একাউন্ট ডিটেইল স্টেট্মেন্ট মামলার এভিডেন্স এনে দন্ড দেয়া সম্ভব হয়েছিল।
এর আগে সিঙ্গাপুর থেকে চোরাই টাকা ফেরত আনার উদাহরণও আছে৷

৪| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৩:৩১

গেঁয়ো ভূত বলেছেন:



অনেক তথ্যবহুল ও শ্রমসাধ্য পোস্ট, ভালো লেগেছে।

আমাদের সর্বকালের প্রধান সমস্যার জনক-জননী হলো দুর্নীতি। দুর্নীতির বিষবৃক্ষের মূলোৎপাটনের জন্য আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম করা উচিত। এই বিষবৃক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ডাক দেওয়ার জন্য কোনো রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, দেশপ্রেমিকের সন্ধান এই দুঃখিনী বাংলা মা আজো পায়নি। দুর্নীতি কমিয়ে আনা গেলে শুধু টাকা পাচার নয়, আরো হাজারো সমস্যা এমনিতেই নিঃশেষ হয়ে যেতো।

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:১৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আমাদের সর্বকালের প্রধান সমস্যার জনক-জননী হলো দুর্নীতি।
১০০% সত্য।

৫| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:২৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আরেকটা প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিলাম।

আপনার লেখায় ওয়াশিংটন ভিত্তিক গ্লোবাল ফাইনানসিয়াল ইন্টিগ্রিটি'র নাম এসেছে। এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপনার মুল্যায়ন কি? এরা কি ভুয়া, নাকি জেনুইন? এক কথায় উত্তর দিয়েন, তাইলে আমার আলাপ করতে সুবিধা হবে। :)

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:১৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ওয়াশিংটন ভিত্তিক গ্লোবাল ফাইনানসিয়াল ইন্টিগ্রিটি' একটি জেনুইন পেশাদার সংস্থা।
সংস্থাটি রিসার্চ করে কর্পোরেট ট্রান্সপারেন্সি, মানি লন্ডারিং, কর ফাকি, ইত্যাদি নিয়ে গবেষনা করে। বিশ্বের কেনাকাটা এলসি, ওভার আন্ডার ইনভয়েসিং ইত্যাদি সংগ্রহ করে পর্যালচনা করে কম্পিউটার এনালাইসিস করে,।
তবে দেশের কাছে ব্যাঙ্কের কাছে তথ্য চায় না, সফটওয়ার বা অন্য এজেন্সির সহায়তা নেয়। এদের রিপোর্টট বেশিরভাগই সঠিক।রিপোর্ট (২০০৬ থেকে ২০১৫) হলেও ২০০৬ এর রিপোর্ট ২০০৫ এর কার্যক্রম থেকেই সংগ্রহ হয়।

এই রিপোর্ট আসার পরই আরেকটি ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস’ পানামা পেপার নামে চোর ধরার কাজ শুরু করে দেয়।

৬| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:৫২

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
বিশ্বাস করেন, আমি একটা টাকাও পাচার করি নাই। B:-)

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১:২৫

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আমি হাল্কা কিছু করেছি।
আমেরিকা আসার সময় (২০১৫), এন্ডর্স বাদেই বেশ কয়েক হাজার ডলার পকেটে করে এনেছিলাম, আমার নিজের উপার্জিত টাকা।

৭| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৩৪

কামাল৮০ বলেছেন: মিডিয়া অনেক উল্টা পাল্টা বলে তার প্রয়োজনে।

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ৮:১৫

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
মিডিয়া অনেক সময় উল্টা পাল্টা বলে।
আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বাংলা বিভাগ একটু বেশী উলটা পালটা বলে অবস্যই পর্যাপ্ত হাদিয়ার মাধ্যমে।
উলংগ ভাবে মিথ্যাও বলে।

৮| ১২ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৩৬

শেরজা তপন বলেছেন: এটা লিখতে বেশ কষ্ট করেছেন বোঝা যায়।
বড় লেখাতো পড়ার সময় পেলাম না। পরে অবশ্যই পড়ব

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ৯:১৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
লেখা খুব একটা বড় না।
সবগুলো নাম দেয়াতে লেখাটি বড় দেখাচ্ছে।

৯| ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১২:৪৯

মৌফড়িং বলেছেন: অর্থ পাচার করা এখন কঠিন তবে অসম্ভব নয়।

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৫১

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:

অর্থ পাচার করাটা খুব একটা কঠিন না,
তবে চোরাই টাকাটা ব্যাঙ্কে রাখা অসম্ভব রকমের কঠিন।

১০| ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ২:৪৬

এস এম মামুন অর রশীদ বলেছেন: Click This Link

Automatic exchange of information (AEOI)
Swiss banks have been practising automatic exchange of information (AEOI) with their foreign counterparts since 2017. Find out how it works below.

What is AEOI?
AEOI is an international standard that governs how tax authorities in the participating countries exchange data relating to taxpayers’ cash and custody accounts. The goal is to ensure tax transparency between countries. The G20 and OECD member states, together with other key financial centres – over 100 countries and jurisdictions in total – have committed to implementing AEOI. The US, which has its own standard (FATCA), is the most significant exception.

How AEOI works
With AEOI, information regarding cash and custody accounts held by customers in country A with a financial institution in country B is first reported by this financial institution to the national tax authority of country B. The tax authority in country B then sends the information to the tax authority in country A, which compares it against the customers’ tax returns. The flow of information between AEOI partner states is thus based on reciprocity, creating a global information-sharing network. The video below explains in detail how the process works.

https://www.oecd.org/ctp/exchange-of-tax-information/CbC-MCAA-Signatories.pdf
https://www.oecd.org/tax/beps/country-by-country-exchange-relationships.htm

বাংলাদেশ এসব তথ্য আদান-প্রদানে এখনও signatory নয়।

১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:২০

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:

ইংরাজি খুব কম বুঝি, বাংলায় লেখেন।

বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ডের সাথে signatory হলে ভাল।
তবে তথ্য পেতে চুক্তি হওয়াটাও জরুরি নয়।
সুইস রাষ্ট্রদূতে বলেছেন তথ্য চাইলে অবস্যই দেয়া হবে, (তবে নাম ও প্রমান দিতে হবে)।
আসলে তো একটা চোরের নামও তো কেউ জানে না, আপনি জানেন?
শুধু হাওয়ার উপর দাবি করলে তো হবে না।

১১| ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ২:৫৬

এস এম মামুন অর রশীদ বলেছেন: Click This Link

আপনাকে আরেকটু গুছিয়ে ভুলভাল বলতে হবে। আপনার পারফরমেন্স খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে, হাসান সাহেব।

১২| ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ৯:৪৬

খাঁজা বাবা বলেছেন: বাংলাদেশ এখন বেহেস্ত, আপনি বিদেশে থাকলে এখনই দেশে চলে আসুন।
পরজন্মে কে কোথায় যায়গা পায় কে জানে। জন্নাত এখনই উপভোগ করি।

১৩| ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১২:১৯

জুল ভার্ন বলেছেন: হাসান কালবৈশাখী ভাই; আপনার পোস্টের শিরোনাম দেখে একটা ধন্যবাদ দিতে চেয়েছিলাম =p~

১৪ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১২:২৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:

জুল ভার্ন ভাই।
ধন্যবাদটা দিয়ে ফেলেন ভাই।

রিপোর্ট সময়কাল হিসেব করলে আওয়ামীলীগ আমলেই পাচার বেশী, পারসেন্টেজ হিসেবে -
আওয়ামীলীগ ৬০%
বিএনপি ২০%
তত্তাবধায়ক ২০%

১৪| ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:১৪

রানার ব্লগ বলেছেন: এই খবর গুলো আমাকে কষ্ট দেয় । হাজার হাজার লোক অর্থাভাবে চিকিৎসা খাদ্য বাসস্থান কিনতে পারছে না আর এরা লক্ষ কোটি টাকা পাচার করছে ।

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৭

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
জি সঠিক কথা।
পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে পাচারকারিদের নাম পাওয়া গেছে বাংলাদেশের ৯০ ব্যক্তি ও ৭ প্রতিষ্ঠানের।
এর মধ্যে পানামা পেপারসে নাম আসে ৬১ ব্যক্তি ও ৭ প্রতিষ্ঠানের। প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসে ২৯ ব্যক্তির।
প্যান্ডোরা পেপারসেও প্রায় অনুরুপ সংখক।
এই খবর গুলো আপনাকে আমাদেরকে কষ্ট দেয়ারই কথা।

১৫| ১৩ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:২৭

জ্যাকেল বলেছেন: পাচার হয়েছে, হচ্ছে, হবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ সম্পদই চুরি হচ্ছে সরাসরি শাসকদের ইচ্ছা মত। তাই চুরদের ব্যাপারে কোথাও তথ্য চাওয়ার দরকার পরছে না। এই চুরের বাচ্চা চুরদের কারণেই বাংলাদেশের মানুষ আজো ৩য় বিশ্বের কাতারে থাকতেছে। চুরি ডাকাতি ছিনতাই দিন দিন বাড়ছেই, কারণ মানুষ না খেয়ে কদ্দিন থাকবে?

(আপনার হেডলাইন ব্যতীত পোস্টের প্রচারণায় মিথ্যার দখল পাইতেছি)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.